জিজ্ঞাসা-১৫৩: আসসালামু
আলাইকুম। ইমাম ক্বে্রাত পড়ার সময় ভুলে গেলে মুক্তাদী পিছন থেকে স্নরন করিয়ে দেয়া
জায়েয আছে কি? থাকলে দলীল প্রয়োজন?
হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ নূরুল হক সাউথ সুদান
থেকে---
উত্তর : ওয়ালাইকুমুস সালাম
রহমাতুল্লাহ। হ্যাঁ, শুধু জায়েজ নয়, এটা মুসল্লির দায়িত্ব। রাসূল জ্ঞানী-
বুদ্ধিমান লোককে রাসূল (ﷺ) নামাজে তার কাছাকাছি থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। দলীল:
হাদিস নং-০১
নবী (ﷺ) একদা
নামায পড়ান এবং সেই নামাযে কিরাআতের সময় তাঁর জটিলতা সৃষ্টি হয়, নামায শেষে তিনি উবাই বিন কাআব
(রাযি.) কে বললেন, তুমি আমাদের সাথে নামাযে ছিলে? সে বললঃ হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বললেনঃ
তাহলে তোমাকে কি নিষেধ করলো? (অর্থাৎ স্মরণ করিয়ে দিতে কিসে বাধা দিল?) আবু দাঊদ, নামায অধ্যায়, অনুচ্ছেদঃ
ইমামকে লোকমা দেওয়া
হাদিস নং-০২
لِيَلِني مِنْكُمْ أُولُوا الأحْلاَمِ وَالنُّهَى، ثُمَّ الَّذِينَ
يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ». رواه مسلم
“আর তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত ও বুদ্ধিমান, তারাই যেন আমার নিকটে (প্রথম কাতারে আমার পেছনে) থাকে। অতঃপর যারা বয়স ও বুদ্ধিতে
তাদের নিকটবর্তী তারা। অতঃপর তাদের যারা নিকটবর্তী তারা।’’ (মুসলিম
৪৩২)
হাদিস নং-০৩
ফতহুল কদীরে উল্লেখ রয়েছে, নবী করিম (দঃ) নামাজের কেরাতে একটি বাক্য ছেড়ে দিলেন, যখন নামাজ শেষ করলেন তখন ফরমারেন তোমাদের মাঝে উবাই উপস্থিত নাই? তিনি জবাব দিলেন কেন নয়? তখন রসুল (দঃ) এরশাদ করলেন যে তুমি লোকমা কেন দাও নাই? তখন হযরত উবাই বিন কাব (রা.) আরজ করলেন আমি ধারনা করেছি হয়ত সে অংশ মনসুখ বা রহিত হয়ে গেছে যা আপনি পাঠ করেন নাই। তখন নবী করিম (দঃ) বললেন যদি মনসুখ হয়ে যেত তাহলে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই তা বলতাম। (ফতহুল কাদির ১ম খন্ড ৩৪৮ পৃ, ভিন্ন শব্দে আবু দাউদ ১৬৪ পৃ)
হাদিস নং-০৪
হযরত সামুরা বিন জুনদুব (রা.) রেওয়ায়েত করেন, নবী
করিম (ﷺ) আমাদেরকে
নির্দেশ দিয়েছেন যে আমরা যেন ইমামের ভুল ধরিয়ে দিই (মুসতাদরক হাকেম ২৭০ পৃ)
আছার নং-০১
ইমাম হাকেম (রহঃ) মুসতদরক এ হযরত আবু আবদুর রহমান (রা.) হতে
রেওয়ায়েত করেন হযরত আলী কাররামালল্লাহু ওয়াজহাহু ফরমায়েছেন যখন ইমাম তোমাদের কাছ
থেকে লুকমা চাই তখন তাঁকে লোকমা দেয়া সুন্নত। আবু আবদুর রহমানকে প্রশ্ন করা হল
লোকমা চাওয়ার মানে কি? জবাব তিনি বললেন অর্থ্যাৎ যখন সে ইমাম কিছু ছেড়ে দেয়।(মুসতাদরহক হাকেম ১ম
খন্ড ২৭০পৃষ্ঠা)
আছার নং-০২
হযরত উমর (রা.) এর ব্যাপারে বর্নিত আছে যে তিনি মাগরিবের
নামাজে ছিলেন সুরা ফাতেহা পাঠ করার পর এর পরে পড়ার জন্য সুরা মনে পড়ছিল না তখন
হযরত নাফে (রা.) ইজা যুলজিলাতিল এর লুকমা
দিলেন তখন তিনি সে সুরাটি তেলাওয়াত আরম্ভ করলেন। (বাদায়েউস সানায়ে ১ম খন্ড ২৩৬ পৃ)
নোট: উসূলে হাদিসের পরিভায়ায় সাহাবা
ও তাবেয়িদের কথা-কর্ম-অনুমতিকে আছার
বলে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন