জিজ্ঞাসা-১২৫৮০: অমুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাহায্য করা জায়েজ কি?
জিজ্ঞাসা-১২৫৮০:
আসসালামু আলাইকুম ।
কয়েকজন হিন্দু তাদের প্রতিবেশি একজন মুসলিেমর কাছে শ্মশানের কাজের জন্য দুই বস্তা সিমেন্ট চায়লো। এমতাবস্থায় কোনো কিছু কি দেয়া যাবে?
তারিখ: ০৫/০৫/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা আতিকুল্লাহ ফিরোজ, খোলাহাটি, দিনাজপুর থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, মানুষ হিসাবে এবং প্রতিবেশী হিসেবে মুসলিম ও অমুসলিম সবাইকে সাহায্য করা ইসলামের শিক্ষা। মানুষের উপকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন। যেমন,
فعن ابن عمر- رضي الله عنهما- أن رجلا جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله أي الناس أحب إلى الله؟ وأي الأعمال أحب إلى الله - عز وجل -؟ فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم -: أحب الناس إلى الله أنفعهم،
অর্থ: ইবনে ওমর রা.থেকে - যে এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, কোন লোক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়? আর কোন কাজগুলো আমি আল্লাহর কাছে পছন্দ করি - তিনি পবিত্র -? আল্লাহর রসূল - আল্লাহর দোয়া ও সালাম - বলেছেন: মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি যে তাদের উপকার করে। তাখরিজ: তাবারানি -১২/৪৫৩, হাদিস নং -১৩৬৪৬; ইবনে আসাকির -৬৪/১৭
দ্বিতীয় কথা হলো, সাহায্য করার ব্যাপারে ইসলামের মূলনীতি হলো তাকওয়া এবং খোদাভীতি কাজে, নাফরমানি পাপ কাজে নয়। দলিল:
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। সূরা মায়েদা-০২
হানাফির প্রখ্যাত ইমাম আবু হাফস আল কাবির এর মতে–
“যদি কোনো ব্যক্তি পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদত করে, অতঃপর সে যদি মুশরিকদের উৎসবের সময় সেই দিনকে সম্মান প্রদর্শনপূর্বক কোন মুশরিককে অথবা তাদের উৎসবে কিছু উপহার/অর্থ দেয়, তবে সে কুফরি করেছে এবং নিজের সমস্ত আমল ধ্বংস করেছে।” সূত্র:দুররুল মুখতার: ৬/৭৪৫- টিকা দ্রষ্টব্য।
সারকথা হলো, অমুসলিমদের ভাত-কাপড়, ঘরবাড়ি নির্মানের বা চিকিৎসার জন্য দান করা যাবে কিন্তু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান /উৎসবের জন্য মোটেও না।
সুতরাং আপনার প্রশ্নের আলোকে, কয়েকজন হিন্দু তাদের প্রতিবেশি একজন মুসলিেমর কাছে শ্মশানের কাজের জন্য দুই বস্তা সিমেন্ট চায়লে।এমতাবস্থায় কোনো কিছু দেয়া যাবে না। কৌশলে এড়িয়ে যেতে হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
জিজ্ঞাসা-১২৫৮১: গর্ভপাত বাচ্চার জানাযা,দাফন-কাফন লাগবে কি?
জিজ্ঞাসা-১২৫৮১:
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, আমার কাছে একজন অফিসার জানতে চেয়েছেন যে, তার স্ত্রীর ৫ মাসের বাচ্চা পেটে মারা গিয়েছে। এখন সিজার করতে হবে। এখন জানার বিষয় হলো, ঐ শিশুর জানাযা, দাফন - কাফনের বিধান কি এবং উক্ত মহিলার নামাজ-রোজার বিধান কি?
তারিখ: ০৭/০৫/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, যশোর থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো,
قال ابن قدامة (رحمه الله): "إذا مات الولد حياً فلا خلاف بين العلماء في اغتسله". قال الإمام أحمد بن حنبل (رحمه الله): "إذا مات المولو তয়د بعد أربعة أشهر في بطن أمه جنازة" (مغني المجلد 4 ص 497).
অর্থ: ইবনু কুদামা রহ. বলেন, ‘সন্তান যদি জীবিত জন্ম হওয়ার পরই মারা যায় তাহলে তার গোসল জানাযা দেয়ার ব্যাপারে আলেমদের মাঝে কোন মতভেদ নেই’। ( কিন্তু মৃত্যু সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে জানাযার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। ) সূত্র: (মুগনী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৯৭)
وأما من مات في بطن أمّه،
وسقط ميتًا؛ فإن في مشروعية الصلاة عليه خلافًا بين الفقهاء، ولو بلغ أربعة أشهر، ولا حرج في الأخذ بأحد أقوالهم،
যে তার মায়ের গর্ভে মারা গিয়েছিল, এবং মৃত অবস্থায় পড়েছিল; তার উপর নামায পড়ার বৈধতা সম্পর্কে মতভেদ আছে, যদিও সে চার মাস পৌছে যায়।
ذَهَبَ الْحَنَفِيَّةُ إِلَى أَنَّهُ إِذَا انْفَصَل الْجَنِينُ مَيِّتًا، وَلَمْ يَسْتَهِلّ بَعْدَ الْوِلاَدَةِ؛ فَإِنَّهُ يُغَسَّل، وَيُسَمَّى، وَيُدْرَجُ فِي خِرْقَةٍ، وَيُدْفَنُ، وَلاَ يُصَلَّى عَلَيْهِ...
وَعِنْدَ الْمَالِكِيَّةِ: قَال الدَّرْدِيرُ: لاَ يُغَسَّل سِقْطٌ لَمْ يَسْتَهِلّ صَارِخًا، وَلَوْ تَحَرَّكَ؛ إِذِ الْحَرَكَةُ لاَ تَدُل عَلَى الْحَيَاةِ... وَيُغَسَّل دَمُ السِّقْطِ، وَيُلَفُّ بِخِرْقَةٍ، وَيُوَارَى وُجُوبًا فِي التَّكْفِينِ، وَالدَّفْنِ ...
وَعِنْدَ الشَّافِعِيَّةِ: إِذَا اسْتَهَلّ الْجَنِينُ، أَوْ تَحَرَّكَ، ثُمَّ مَاتَ؛ غُسِّل، وَصُلِّيَ عَلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يَسْتَهِلّ، وَلَمْ يَتَحَرَّكْ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ؛ كُفِّنَ بِخِرْقَةٍ، وَدُفِنَ.
وَعِنْدَ الْحَنَابِلَةِ: يَقُول ابْنُ قُدَامَةَ: إِذَا أَكْمَل السِّقْطُ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ، أَوْ بَانَ فِيهِ خَلْقُ إِنْسَانٍ؛ غُسِّل، وَصُلِّيَ عَلَيْهِ، وَلَوْ لَمْ يَسْتَهِلّ، وَيُسْتَحَبُّ تَسْمِيَتُهُ
অর্থাৎ জমহুর তথা ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফিয়ি রহ এর মতে, শিশু যদি জীবিত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে, তাহলে তার জানাযা, দাফন -কাফন ও নাম রাখবে। আর মৃত হলে জানাযা লাগবে না, বয়স তাই হোক না কেন।
পক্ষান্তরে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, ‘বাচ্চা মায়ের গর্ভে চার মাস অবস্থানের পর নষ্ট হলে তার জানাযা পড়া যাবে’। সূত্র: আলফিকহু মাউসুআ, ফিকহুল ইবাদাত, জানাযা-৪৫৯৪৪২( ফতোয়া নং) ; মুগনী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৯৭
প্রশ্ন: ক। তিন ইমামের দলিল কি?
উত্তর: ক। মৃত শিশুকে জানাযা ছাড়াই দাফন করতে হবে। দলিল নিম্নরূপ:
হাদিস নং -০১
عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الطِّفْلُ لاَ يُصَلَّى عَلَيْهِ، وَلاَ يَرِثُ، وَلاَ يُورَثُ حَتَّى يَسْتَهِلَّ
হযরত জাবের রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শিশুর উপর জানাযা পড়া হবে না, তার থেকে কেউ মিরাছ পাবে না এবং তাকেও মিরাছ দেয়া হবে না। তবে যদি জন্মের পর কাঁদে তথা জীবিত জন্ম নেয়।(তাহলে তার জানাযা পড়তে হবে এবং মিরাছ পাবে) । তাখরিজ: সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১০৩২
হাদিস/আসার নং -০২
عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: «لَا يُوَرَّثُ الْمَوْلُودُ حَتَّى يَسْتَهِلَّ، وَلَا يُصَلَّى عَلَيْهِ حَتَّى يَسْتَهِلَّ، فَإِذَا اسْتَهَلَّ، صُلِّيَ عَلَيْهِ وَوُرِّثَ،
ইবরাহীম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, না কাঁদলে জন্ম নেয়া নবজাতক মিরাছ পাবে না। এবং তার জানাযাও পড়া হবে না যদি না কাদে। তবে যদি কাদে তাহলে তার জানাযা পড়া হবে এবং মিরাছ পাবে। তাখরিজ: সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৩১৭৪
প্রশ্ন: খ: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ এর দলিল কি?
উত্তর: খ। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ এর দলিল নিম্নরূপ:
أقام ابن عمر (رضي الله عنه) جنازة ابن ابنته الذي سقط (شرح الكبير ، المجلد 2 ، ص 337)
ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মেয়ের ছেলের জানাযা পড়েছিলেন, যা পড়ে গিয়েছিল । সূত্র: শারহুল কাবীর, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৩৭
প্রশ্ন: গ। মিসক্যারিজ বা গর্ভপাত/ডিএনসি নারীর সালাতের হুকুম কি?
উত্তর: গ। বাচ্চাটি যদি পূর্ণাঙ্গ মানবাকৃতি হয় অর্থাৎ ৮১ দিন হয়,
কারণ ৮১ দিন পর শিশুর শরীরের গঠন সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়। তবে তার আগে যদি মিসক্যারিজ/গর্ভপাত হয়ে যায় এবং ব্লিডিং হয় তাহলে তাহলে তা নিফাস হিসেবে ধরা যাবে না। ৮১ দিনের আগে মিসক্যারিজ হয়ে গেলে নামাজ ও রোজা সব সময়ের মতোই আদায় করতে হবে। আর নাফিসের সর্বোচ্চ সীমা ৪০ দিন। দলিল:
أخبرنا جعفر بن عون أنا إسماعيل بن مسلم، عن الحسن عن عثمان بن أبي العاص، قال: وقت النفساء أربعين يوما، فإن طهرت وإلا فلا تجاوزه حتى تصلي.
‘‘উসমান ইবনে আবুল আস রাযিআল্লাহু আনহু বলেন, নেফাসগ্রস্ত মহিলাদের সময়সীমা চল্লিশ দিন। তবে যদি এর আগেই পবিত্র হয়ে যায়, (তাহলে পবিত্রতার বিধান শুরু হয়ে যাবে।) অন্যথায় চল্লিশ দিন পর নামায শুরু করতে বিলম্ব করবে না।’’ সুনানে দারেমি-১/২২৯
সারকথা হলো, আপনার প্রশ্নের আলোকে, সিজার করা মৃত প্রসব হওয়া সন্তানকে গোসল দিবে এবং কাফন দিবে এবং কবরস্থ করবে। তবে জানাযা পড়তে হবে না।
এবং উক্ত মহিলার ব্লাড নিফাস হিসেবে গণ্য হবে। তাই নিফাস চলাকালীন নামাজ- রোজা লাগবেনা এবং সহবাস করতে পারবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৮: অফারের পণ্য কিনা/ ক্রয় করা কি জায়েজ?
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৮:
السلام عليكم ورحمه الله وبركاته
আমার জানার বিষয় হল, বিভিন্ন এক্সক্লুসিভ সপে কেউ যদি দুই হাজার টাকার বাজার করে (মালামাল ক্রয় করে) তাহলে কর্তৃপক্ষ একটি লটারি প্রদান করে ঐ লটারিতে ফ্রিজ, টিভি, ওয়াশিং মেশিন এসি, ভ্রমণ টিকেট ইত্যাদি অফার থাকে। ঐ লটারি অথবা লটারিতে প্রাপ্য এই জিনিস গ্রহণ করা কি বৈধ হবে? মেহেরবানী করে জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।
তারিখ: ০৪/০৫/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা ফারুক হুসাইন, সিলেট থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো,
فالهدايا الترويجية التي تقدمها المحلات التجارية مع سلعها لترغيب الزبائن في الشراء مما اختلف العلماء المعاصرون فيها بين المجيز لها والمانع منها، والراجح عندنا جوزاها وفقا لضوابط معينة؛ ومنها: أن يشتري المشتري ما به حاجة إليه، وأن يشتريه بمثل ثمنه في السوق دون زيادة.
অর্থাৎ ক্রেতাদেরকে কেনার জন্য প্রলুব্ধ করার জন্য বাণিজ্যিক দোকানগুলি তাদের পণ্যগুলির সাথে দেওয়া প্রচারমূলক উপহারগুলি, যার মধ্যে সমসাময়িক ওলামারা কোনটি জায়েজ এবং কোনটি হারাম এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সঠিকটি হল যে সেগুলি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ অনুসারে অনুমোদিত৷ তাদের মধ্যে: যে ক্রেতা তার যা প্রয়োজন তা কেনেন এবং তিনি তা বৃদ্ধি ছাড়াই বাজারে একই দামে কেনেন। ফিকহুল মুআমালাত, জাওয়ায়িযুল মাহাল্লাতিল তিজারিয়া-১২৪৩৬৯
ফিকহি হানাফির মতে,
নিম্নোক্ত শর্তগুলো পাওয়া গেলে অফারের পণ্য কেনা জায়েজ।
এক. পণ্য যথাযোগ্য মূল্যে ক্রয় করতে হবে। যদি পুরস্কারের কারণে বিক্রেতা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে, তাহলে বৈধ হবে না।
দুই. লটারি ভেজাল পণ্য প্রচারের মাধ্যম হতে পারবে না। কেননা ভেজাল পণ্যের মাধ্যমে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ হারাম।
তিন. ক্রেতা শুধু লটারি জেতার আশায় পণ্য ক্রয় করতে পারবেন না। সূত্র: হেদায়া: ৪/৫৭২; আল-বাহরুর রায়েক: ৮/৩৭১
সারকথা হলো, আপনার প্রশ্নের আলোকে,
বিভিন্ন এক্সক্লুসিভ সপে কেউ যদি দুই হাজার টাকার বাজার করে (মালামাল ক্রয় করে) তাহলে কর্তৃপক্ষ একটি লটারি প্রদান করে ঐ লটারিতে ফ্রিজ, টিভি, ওয়াশিং মেশিন এসি, ভ্রমণ টিকেট ইত্যাদি অফার থাকে।
সুতরাং সেই অফারটিতে উক্ত তিন শর্ত পাওয়া গেলে পণ্য ক্রয় করা এবং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত পুরস্কার বৈধ হবে। পক্ষান্তরে উক্ত শর্তগুলো পূর্ণ না হলে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, উক্ত লটারি ও এর মাধ্যমে প্রাপ্ত পুরস্কার জায়েজ হবে না।
শেষ কথা হলো, অফারটি একতরফা হতে হবে। অর্থাৎ শুধু বিক্রেতার পক্ষ থেকে দেওয়ার ঘোষণা থাকবে। ক্রেতার পক্ষ থেকে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্ত থাকবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৯: গিবাতের ক্ষতির/ভয়াবহতার হাদিস?
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৯:
আসসালামু আসসালামু আলাইকুম
কেয়ামতের দিন উন্মুক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির আমলনামা তার হাতে দেয়া হবে, তখন সে তাতে এমন কিছু সব দেখতে পাবে যা সে করেনি তখন সে প্রশ্ন করবে হে আমার রব এই সৎকর্মগুলো তো আমি করিনি ।তখন আল্লাহ বলবেন লোকেরা তোমার নামে যে গীবত করেছিল তার বিনিময়ে এই সব আমি তোমার আমলনামায় লিখে দিয়েছি।
অপরদিকে অন্য এক বান্দাকে কেয়ামতের দিন তার আমলনামা উন্মুক্ত অবস্থায় প্রদান করা হবে। তখন সে বলবে, হে আমার প্রভু। অমুক অমুক দিন কি আমি সওয়াবের কিছু করেছিলাম না ?সেগুলো তো আমি আমার আমলনামায় দেখছি না ।এর কারণ কি? তখন তাকে বলা হবে তুমি মানুষের যে গীবত করতে সে কারণেই তোমার আমলনামা থেকে তা মুছে ফেলাহয়েছে ................ আরবি ইবারত ও হাদীস নম্বর প্রয়োজন।
তারিখ: ০৫/০৫/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ফরিদপুর থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, আপনার প্রশ্নের আলোকে হাদিসটির ইবারত উল্লেখ করা হলো:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْعَبْدَ لَيُعْطَى كِتَابَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْشُورًا، فَيُرِيهِ فِيهِ حَسَنَاتٍ لَمْ يَعْمَلْهَا فَيَقُولُ رَبِّ، لَمْ أَعْمَلْ هَذِهِ الْحَسَنَاتِ فَيَقُولُ إِنَّهَا كُتِبَتْ بِاغْتِيَابِ النَّاسِ إِيَّاكَ وَإِنَّ الْعَبْدَ لَيُعْطَى كِتَابَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْشُورًا، فَيَقُولُ رَبِّ، أَعْمَلُ حَسَنَةً يَوْمَ كَذَا وَكَذَا؟ فَيُقَالُ لَهُ مُحِيَتْ عَنْكَ بِاغْتِيَابِكَ النَّاسَ
(حَدِيْثُ قُدْسِيُّ : ٣٥٧ ، مُسَاوِئُ الْأَخْلَاقِ لِلْخَرَائِطِىْ : ١٩١)
আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, কিয়ামতের দিন উম্মুক্ত অবস্থায়
এক বান্দার হাতে তার আমলনামা প্রদান করা হবে। তখন সে তাতে এমন কিছু সাওয়াব দেখতে পাবে যা সে নিজে ‘আমল করেনি। তখন সে প্রশ্ন রাখবে; হে আমার প্রভু! এ সৎ কর্মগুলো তো আমি ‘আমল করিনি! আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, লোকেরা তোমার নামে যে ‘গিবত’ করেছিল তার বিনিময়েই এ সাওয়াব আমি তোমার আমলনামায় লিখে দিয়েছি।
অপর এক বান্দার কিয়ামতের দিন তার ‘আমলনামা উম্মুক্ত অবস্থায় প্রদান করা হবে। সে বলবে, হে আমার প্রভু! অমুক অমুক দিন কি আমি সাওয়াবের কিছু কাজ করেছিলাম না? (সেগুলো তো আমি আমার ‘আমলনামায় দেখছি না, এর কারণ কি?) তাকে বলা হবে; তুমি মানুষের যে ‘গিবত’ করতে, তার কারণেই তোমার ‘আমলনামা থেকে তা মুছে ফেলা হয়েছে”।
(হাদিসে কুদসী, হা/ ৩৫৭; মুসাবিউল আখলাক লিল-খারাইতি, হা/ ১৯১)
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মাওলানা মিজানুর রহমান, ফেনী।
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৭: তারাকা দেখলে এক বছরের খাদ্য জমা করার হাদিস কি সহিহ?
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৭:
আসসালামুয়ালাইকুম। আকাশে বিশেষ কোনো তারকা দেখা গেলে এক বছরের খাদ্য জমা করে রাখার কথা কি কোন হাদীস এ আছে? থাকলে দয়া করে হাদীস টি জানাবেন।
তারিখ: ০৪/০৫/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা কামরুল ইসলাম, যশোর থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, আপনার প্রশ্নের বর্ণনা কাছাকাছি হাদিস নিম্নরূপ:
13 - إذا رأيتُم عمودًا أحمرَ مِنْ قِبَلِ المشرِقِ فِي شهرِ رمضانَ فادَّخِروا طعامَ سنتِكُمْ ، فإِنَّها سنةُ جوعِ
الراوي : عبادة بن الصامت | المحدث : الألباني | المصدر : ضعيف الجامع
الصفحة أو الرقم : 514 | خلاصة حكم المحدث : ضعيف | أحاديث مشابهة
অর্থাৎ রমজানের সময় যদি তোমরা উদয়াচল হতে দণ্ড সদৃশ লালিমার আভা দেখতে পাও, তাহলে তোমরা সেই বছরের খাদ্য সঞ্চয় করে রেখো। কেননা সেটি হবে দুর্ভিক্ষের বছর। তাখরিজ: তাবারানি, মুজামুল আওসাত-৩৭১
নোট: শায়েখ আলবানি রহ. হাদিসটির সনদ জয়িফ বলেছেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৫: চিকিৎসার জন্য জাকাতের টাকা দেওয়া জায়েয?
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৫:
আসসালামু আলাইকুম।
এক ব্যক্তির ১০ থেকে১২ লাখ টাকা নগদ আছে আর ১০ থেকে১২ লাখ টাকার সম্পদ আছে কিন্তু সে ক্যন্সার রোগে আক্রান্ত সকল টাকা ও সম্পদ ব্যয় করেও হচ্ছেনা তাকে যাকাত দেওয়া যাবে কিনা
তারিখ: ০৪/০৫/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা জামাল টাঙ্গাইল থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, এ বিষয়ে আলহামদুলিল্লাহ ইতোমধ্যে আলবুরহানে জিজ্ঞাসা -২৫৫ শিরোনামে "খ" নং কলামে মাসয়ালাটি আলোচিত হয়েছে। পুনরায় শেয়ার করা হলো;
https://al-burhaan.blogspot.com/2022/08/blog-post_24.html
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৬: স্বামী জেলে বন্দী থাকলে তালাক চাওয়া জায়েজ?
জিজ্ঞাসা-১২৫৭৬
আসসালামুয়ালাইকুম। কোনো অল্প বয়স্কা নারীর স্বামী প্রবাসে কারাগারে থাকে আর দশ বছরের জেল অথবা ফাঁসির রায় হয় (কার্যকর হবে কি না অনিশ্চিত) তাহলে ওই নারীর হুকুম কি এই নারীর যেহেতু স্বামী বেঁচে আছে তাদের বিচ্ছেদ হয়নি আবার দেখাশোনার কোনো মাহরুম পুরুষ নেই। সেই নারীর জন্য হুকুম কি হবে? চাই।
তারিখ: ০৪/০৫/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা শাহজাহান শেখ কুমিল্লা থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, স্বামীর কারাদণ্ড হলে, স্বামীর পক্ষ থেকে ভরণপোষণের ব্যবস্থা না থাকলে তালাক চাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ আর ভরণপোষণের ব্যবস্থা থাকলে মতভেদ রয়েছে। তবে চূড়ান্ত কথা তালাক চাইতে পারবে।
إما أن يكون الزوج لم يترك لها ما تنفق به أو أن يكون ترك لها ذلك، فإن كانت الأولى فإنها مخيرة بين فراقه وبين الصبر عليه وانتظار خلاصه.
قال ابن قدامة في المغني: وجملته أن الرجل إذا منع امرأته النفقة لعسرته وعدم ما ينفقه فالمرأة مخيرة بين الصبر عليه وبين فراقه.... 8/162.
وإن كان ترك لها ما تنفق به، فقد اختلف أهل العلم في جواز التفريق لطول الغيبة وفي عدم جوازه، ومبنى أقوالهم في ذلك هو: هل استدامة الوطء هي حق للزوجة مثلما هي حق للزوج أم لا؟
فذهب جمهور العلماء إلى أن دوام الوطء إنما هو حق للزوج فقط، وأما الزوجة فحقها فيه ينقضي بالمرة الواحدة، ما لم يتركه الزوج إضراراً بها، وذهب المالكية ومن والاهم إلى أن استدامة الوطء حق لكل واحد من الزوجين، وعليه فأيما تضرر حصل للزوجة من عدم الوطء كان موجباً لها أن ترفع أمرها إلى القضاء وتطلب التفريق إن شاءت.
ولعل القول الأخير أولى بالصواب، قال في المغني: .... ولأن النكاح شرع لمصلحة الزوجين ودفع الضرر عنهما، وهو مفض إلى دفع ضرر الشهوة عن المرأة كإفضائه إلى دفع ذلك عن الرجل، فيجب تعليله بذلك، ويكون النكاح حقاً لهما جميعاً، ولأنه لو لم يكن لها فيه حق لما وجب استئذانها في العزل.... 7/231.
অর্থাৎ যদি একজন মহিলার স্বামীকে কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়, তার দুটি পরিস্থিতি রয়েছে:
০১.হয় স্বামী তার সাথে ব্যয় করার জন্য কিছু রেখে যাননি,
০২. অথবা তিনি তাকে তা দিয়েই রেখে গেছেন।
যদি এটি প্রথম হয়, তবে তার কাছে তাকে ছেড়ে যাওয়া এবং তার সাথে ধৈর্য্য ধারণ করা এবং তার পরিত্রাণের জন্য অপেক্ষা করার মধ্যে একটি বিকল্প রয়েছে।
ইবনে কুদামাহ আল-মুগনি গ্রন্থে বলেছেন: এর সমষ্টি এই যে, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর কষ্ট এবং ব্যয় করার মতো অর্থের অভাবের কারণে তার স্ত্রীর জন্য ব্যয় করতে অস্বীকার করে, তবে মহিলার কাছে তার সাথে ধৈর্য ধরা বা তাকে ছেড়ে যাওয়ার মধ্যে একটি পছন্দ রয়েছে। সূত্র: কিতাবুল মুগনি- 8/162
এবং যদি সে তার সাথে ব্যয় করার জন্য কিছু রেখে যায়, তবে আলেমগণ অনুপস্থিতির দৈর্ঘ্যের কারণে বিচ্ছেদের অনুমতি এবং এর অগ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে মতভেদ করেছেন এবং তাদের বক্তব্যের ভিত্তি হল: সহবাসের ধারাবাহিকতা কি স্ত্রীর অধিকার? এটা স্বামীর অধিকার কি না?
জমহুর উলামার মতে, চিরস্থায়ী সহবাস শুধুমাত্র স্বামীর জন্য একটি অধিকার, এবং স্ত্রীর জন্য তার অধিকার একবারেই শেষ হয়ে যায়, যতক্ষণ না স্বামী তার ক্ষতি করার জন্য তাকে ছেড়ে না দেয়। তাকে তার মামলাটি বিচার বিভাগে নিয়ে যেতে এবং সে চাইলে বিচ্ছেদ চাইতে পারে।
সম্ভবত শেষ কথাটি আরও সঠিক, তিনি আল-মুগনিতে বলেছেন: .... এবং কারণ বিবাহ স্বামী-স্ত্রীর উপকারের জন্য এবং তাদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য নির্ধারিত হয়েছিল এবং এটি লালসার ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য সহায়ক। নারীর পক্ষ থেকে, ঠিক যেমন এটি পুরুষের কাছ থেকে এটিকে প্রতিহত করার দিকে পরিচালিত করে, তবে এটি অবশ্যই তার দ্বারা ন্যায়সঙ্গত হতে হবে, এবং বিবাহ তাদের উভয়ের জন্য একটি অধিকার, এবং কারণ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করার সময় তার এটির অধিকার ছিল না। তাকে বরখাস্ত করার অনুমতি। সূত্র: কিতাবুল মুগনি -৭/২৩১
প্রশ্নঃ ক। স্বামী বন্দী থাকায় বন্দী বা রিমান্ড বন্দীর স্ত্রীর কি তালাকের অনুরোধ করার অধিকার আছে?
উত্তর: ক । না.. পাঠ্যের উপর প্রসারিত করা জায়েজ নয় এবং এটি একটি চূড়ান্ত রায়ের অস্তিত্বকে শর্ত দেয়, অর্থাৎ রায় হওয়ার আগে তালাক চাওয়া জায়েজ নেই।
প্রশ্ন: খ। একজন নারীর স্বামী বন্দী থাকলে তালাক চাওয়া জায়েজ আছে?
উত্তর: খ। نعم ، يجوز للمرأة إذا حُبس زوجها ، وتضررت بترك المعاشرة الزوجية ، أو بترك النفقة أن تطلب الطلاق .
جاء في " الموسوعة الفقهية " ( 29 / 66 ، 67 ) :
অর্থাৎ হ্যাঁ, একজন মহিলার জন্য জায়েজ, যদি তার স্বামী বন্দী হয় এবং সে বৈবাহিক সম্পর্ক ত্যাগ করে বা ভরণপোষণ ত্যাগ করে, তালাক চাওয়া। সূত্র: আল-মাওসুআহ আল ফিকহিয়্যাহ (29/66, 67)
প্রশ্ন: গ। প্রশ্নে বর্ণিত মহিলার এখন করণীয় কি?
উত্তর: গ। যদি ধৈর্য ধারণ করে,ব্যভিচারের লিপ্ত হওয়ার ভয় না থাকে, তাহলে প্রাপ্ত স্বামীর জন্য অপেক্ষা করবে। আর যদি ধৈর্য ধারণ করতে না পারে এবং ভরণপোষণের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে তালাক চাইতে পারবে।
আর যদি ফাঁসির আদেশ হয়, তাহলে তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তালাক চাওয়া জায়েজ নেই।
প্রশ্ন: ঘ। উক্ত মহিলার তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের পদ্ধতি কি?
উত্তর: ঘ। ঐ মহিলার সামনে বন্দী স্বামী থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। যথা:
ক. খুল’ বা ‘খুলা’ তালাক,
খ. মুবারাত এবং
গ. আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ।
ক. খুলা তালাক:
১। স্ত্রী স্বামীকে তালাক দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে থাকেন,
২। স্বামী ওই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে থাকেন।
৩। স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সময় স্বামী বিনিময়ে স্ত্রীর কাছ থেকে প্রতিদান নিয়ে থাকেন এবং স্ত্রী তা দিয়ে থাকেন বা দিতে সম্মত হন।
তাছাড়া বিয়ের কাবিননামার ১৮ ও ১৯ নম্বর দুটি কলাম রয়েছে। সেখানে বলা আছে যে, স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পন করেছে কি-না এবং স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করেছে কি-না। সেখানে যদি স্ত্রীর ঘরটিতে হ্যাঁ থাকে এবং স্বামীর স্বজ্ঞানে অনুমতি থাকে, তাহলে তিনি সহজেই তার স্বামীকে তালাক দিতে পারবেন। এ তালাককে তালাক-ই-তাওফিজ বলে।
খ মুবারাত:
মুবারাত হলো পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদ। এ ধরনের বিবাহ বিচ্ছেদের বেলায় উভয়ই বিবাহ বিচ্ছেদে সম্মত হয় বলে কাউকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া লাগে না। ( জেল থেকে তালাক নামা পাঠিয়ে দিবে)
গ. আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ:
স্ত্রী যদি তালাক-ই-তৌফিজ ও খুলার মাধ্যমে বিয়েবিচ্ছেদ ঘটাতে ব্যর্থ হন এবং বিয়েবিচ্ছেদ হওয়া একান্ত প্রয়োজন মনে করেন তাহলে তাকে ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিয়েবিচ্ছেদ আইনে বর্ণিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে (ধারা ২)। সেই আইনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কোন কোন কারণে একজন স্ত্রী আদালতে বিয়েবিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবেন।
অর্থাৎ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশী কারাদণ্ড হলে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবেন।
সারকথা হলো, উক্ত নারী যদি ধৈর্য ধারণ করে থাকতে না পারে, উপরোক্ত তিনটি পদ্ধতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটনানোর পর ইদ্দত পালন করে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক