জিজ্ঞাসা-১৪০: ক। ইমামের পিছনে কে দাঁড়াবে/হকদার কে?
মাওলানা আখতার
হোসেন যশোর থেকে-
উত্তর। আলহামদুলিল্লাহ এ বিষয়ে আমার শ্রদ্ধেয় বড়ভাই শাহজাহান দা.বা. জবাব
দিয়েছেন। সমমত পোষণ করে, আমি তার সাথে একটু যুক্ত করতে চাই।
(১). ইমামের পিছনে ঐ ব্যক্তিই দাঁড়ানো উচিত। যিনি জ্ঞানী-বুদ্ধিমান। দলীল-
রাসূল (ﷺ) বলেন,
لِيَلِني
مِنْكُمْ أُولُوا الأحْلاَمِ وَالنُّهَى، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ
الَّذِينَ يَلُونَهُمْ». رواه مسلم
আর তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত ও বুদ্ধিমান, তারাই যেন আমার নিকটে (প্রথম কাতারে
আমার পেছনে) থাকে। অতঃপর যারা বয়স ও বুদ্ধিতে তাদের নিকটবর্তী তারা। অতঃপর তাদের যারা
নিকটবর্তী তারা। মুসলিম-৪৩২
সেই লোকদেরকে আমার নিকটবর্তী দাঁড়ানো উচিৎ, যারা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান লোক। অতঃপর তারা
যারা তাদের চেয়ে কম জ্ঞানের। অতঃপর তারা যারা তাদের থেকে কম জ্ঞানের। আর তোমরা
বাজারের ফালতু কথা (হৈচৈ) থেকে দূরে থাক। (মুসলিম,
আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ,
সুনান, তিরমিযী, সুনান,
মিশকাত-১০৮৯
(২) যিনি
ইমামকে ভুল সংশোধন করে দিতে পারেন। দলীল:
নবী (ﷺ) একদা নামায পড়ান এবং সেই
নামাযে কিরাআতের সময় তাঁর জটিলতা সৃষ্টি হয়, নামায শেষে তিনি উবাই বিন কাআব (রাযিঃ) কে
বললেনঃ তুমি আমাদের সাথে নামাযে ছিলে? সে বললঃ হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাহলে তোমাকে কি নিষেধ করলো? (অর্থাৎ স্মরণ করিয়ে দিতে
কিসে বাধা দিল?) আবু দাঊদ, নামায
অধ্যায়, অনুচ্ছেদঃ ইমামকে লোকমা দেওয়া
(৩) ইমাম
নামায পড়াতে পড়াতে কোন কারণে নামায ছাড়তে বাধ্য হলে তাঁদের কেউ জামাআতের বাকী কাজ
সম্পন্ন করতে পারেন। দলীল:
২৩ হিজরিতে রোম নিবাসী অগ্নিপূজক বংশোদ্ভূত আবু
লুলু ফিরোজ নামক ঘাতক দুইদিকে ধারাল খঞ্জর দ্বারা ওমর (রা.)-কে ফজরের নামাজের ইমামতি চলাকালে আঘাত করে। দিনটি ছিল বুধবার। বছরের জিলহজ মাসের বাকি ছিল মাত্র
চারদিন। তাঁকে সে তিনটি/ছয়টি আঘাত করেছিল। তন্মধ্যে একটি ছিল নাভীর নিচে। তিনি দণ্ডয়মান অবস্থা থেকে ঢলে পড়েন। হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ইমামতির জন্যে তাঁর স্থলে দাঁড়ালেন। সূত্র: বুখারী-৩৭০০; আল-বিদায়া ওয়ান
নিহায়া-৭ম খণ্ড;২৫০পৃষ্ঠা, হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.), ই.ফা.
একদা নামায পড়তে পড়তে হযরত আলী (রা.)-এর নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে তিনি
একজনকে তার হাত ধরে আগে বাড়িয়ে দিয়ে নিজে বেরিয়ে এলেন। সুনান সাঈদ বিন মানসূর, ফিকহুস সুন্নাহ্ উর্দু ১৫৬পৃ:
উপরোক্ত কয়েকটি হাদিস দ্বারা ইশারাতুন নস প্রমাণিত হয় জ্ঞানী, আলেম, হাফেজ,
কারী সাহেবগণ ইমামের পিছনে দাড়ানা উচিত। বলা বাহুল্য, সাধারণ
মূর্খ মানুষদের ইমামের সরাসরি পশ্চাতে দাঁড়ানো উচিৎ নয়। জ্ঞানী (আলেম-হাফেয-কারী)
মানুষদের জন্য ইমামের পার্শ্ববর্তী জায়গা ছেড়ে রাখা উচিৎ।
প্রশ্ন: খ। মুয়াজ্জিন কি ইমামের পিছনে দাঁড়াবে?
উত্তর: খ। প্রিয় পাঠক! আমরা উপরে
প্রমাণ করেছি যে, ইমামের পিছনে দাঁড়ানো ঐ ব্যক্তিই অধিক
হকদার; যিনি ইমামের সমস্যার কারণে বাকি নামাজ সমাপ্ত করার
জ্ঞান রাখেন। সুতরাং মুয়াজ্জিনের উক্ত গুণাবলি বিদ্যমান থাকলে, তিনি ইমামের পিছনে (বরাবর) দাঁড়াবে। সাধারণত অনেক মসজিদে ইমামির যোগত্য দেখেই
মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেওয়া হয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন