|
জিজ্ঞাসা-১৩৩: |
হাফেজ মাওলানা মতিউর রহমান বরিশাল থেকে--
উত্তর। ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার প্রশ্নের আলোকে সম্মানিত ভাই আব্দুর রহমান
সাহেব কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। তাতে
আমরা দেখতে পাচ্ছি রাসূল (ﷺ) উক্ত দুআ পড়েছেন। কিন্তু আমরা এখন কি করবো? দেখুন, শুধু
এ বিষয়ে নয় অনেক মাসয়ালার ক্ষেত্রে একাধিক
হাদিসে রয়েছে। (যেমন-
عَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ كَبَّرَ ثُمَّ يَقُولُ « سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ
اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) যখন রাতে নামাযে দাড়াতেন, তখন তাকবীরে তাহরীমার পড়তেন-
সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা, ওয়াতাবারাসমুকা ওয়া
তাআলা জাদ্দুকা ওয়ালা ইলাহা গায়রুকা। সুনানে আবু দাউদ-৭৭৫,৭৭৬,সুনানে ইবনে মাজাহ-৮০৪, সুনানে
বায়হাকী কুবর-২১৭৭
সমস্ত হাদিস একত্র করার পর ফুকাহায়ে
কেরামগণ একটা সমাধান দেন, তারই নাম হলো ফাতওয়া। এখন আমরা দেখবো এ বিষয়ে মহামান্য ইমামগণ ও পরবর্তী
ফুকাহায়ে কেরামগণ এ বিষয়ে কি সমাধান দিয়েছেন।
চার ইমামের কোন ইমাম এটাকে জায়নামাজের দুআ বা সানা হিসেবে সাব্যস্ত করেনি।
অর্থাৎ এ পড়াকে মুস্তাহাব বা সুন্নাত বলেনি। সুতরাং হাদিসই পেয়েই আমল করা বা
সুন্নাহ সাব্যস্ত করা নিরাপদ রাস্তা নয়।
প্রশ্ন। ক। আমার মনে হয় আকাবীরগন যেহেতু এটার আমল জারি করেছেন
সেহেতু দলীল অবস্যই আছে হয়ত আমাদের জ্ঞানের
সীমাবদ্ধতার কারণে দলীল খুজে পাচ্ছিনা।
উত্তর। ক। আকাবীরগণ এটা আমল জারি করেছেন,
এ কথা সঠিক নয়। আমরা যাদের অনুসরণ করি তাদের কেহ এটাকে মুস্তাহাব বা
সুন্নাহ বলেননি। (নির্ভরযোগ্য কোন কিতাবে জায়নামাজের দুআ
বলতে কিছু নেই। আমরাও ছো্ট বেলায় আম পারায় পড়েছি, ফিকহের
কিতাবে পায়নি) যদি বলে থাকেন কারও জানা থাকলে জানালে আকিদা
শুধরে নিব ইনশাল্লাহ।
প্রশ্ন। খ। এটা
দলীল হলে বাকী দোয়া গুলো শেখানো হয়নি বা হচ্ছেনা কেন?
উত্তর। খ। ফার্মিসিতে অনেক ওষধ আছে বটে; কিন্তু ব্যবহার-মাত্রা-ডোজ-প্রয়োগ বিজ্ঞ ডাক্তার ব্যতিত বিপদজনক। ঠিক তেমনি অনেক হাদিস
আছে বটে; কিন্তু কোনটি আমলযোগ্য এটি ফুকাহায়ে কেরামগণ ভাল
জানে। এ বিষয়ে যেমন ইমাম তিরমিজি রহমতুল্লাহি বলেছেন الفقهاء و هم اعلم يعني الحديث অর্থাৎ ফুকাহায়ে কেরাম হাদিসের অর্থ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত।তিরমিজি-৩/৩১৫পৃ.
প্রশ্ন্। গ। নামাযে তাকবীরে তাহরীমা
বলার যদি কেউ প ইন্নি ওয়াজজাহতু -----
পড়ে তার হুকুম কি?
উত্তর। গ। যদি
কেহ নামাজে তাকবীরে তাহরীমার পর ইন্নি
ওয়াজজাহতু ----- পড়ে তা তাহলে তার নামায হয়ে যাবে, কোন সমস্যা নেই। ফাতওয়া শামী-২/৫৬৭, সালাত অধ্যায়
উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি আব্দুর রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন