ইসলামের দৃষ্টিতে কৃতজ্ঞতা/শুকরিয়া প্রকাশের ভাষা
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সব কিছুই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কারও দ্বারা যে কোনো উপকার সাধিত হলে, তার শুকরিয়া/কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষাও আমাদের প্রিয় নবি (ﷺ) শিক্ষা দিয়েছেন। নিম্নে তা তুলে ধরে হলো:
হাদিস নং-০১
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ لمْ يشْكُر النَّاسَ لَمْ يشْكُر الله» (رواه الترمذي
অর্থ: হজরত আবু হুরাইরা (রা.) নবি (ﷺ)
থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যে
ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও আদায় করে
না। তাখরিজ: জামে
তিরমিজি-৪৮১১
হাদিস নং-০২
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন,. রাসূলুল্লাহ
(ﷺ বলেছেন, কেউ যদি তোমাদের সাথে
কৃতজ্ঞতার আচরণ করে তাহলে তোমরাও তার সাথে কৃতজ্ঞতার আচরণ কর। (তাকে কিছু হাদিয়া
দাও।) যদি কিছু দিতে না পার অন্তত তার জন্য দুআ কর। যাতে সে বুঝতে পারে যে, তুমি তার
প্রতি কৃতজ্ঞ। তাখরিজ: সুনানে আবু দাউদ
; আল আদাবুল
মুফরাদ, বুখারী-২১৬
হাদিস নং-৩
أسامة بن زيد عن النبي صلى الله
عليه و سلم أنه قال من صنع إليه معروف فقال لفاعله جزاك الله خيرا فقد أبلغ في
الثناء رواه الترمذي والنسائي وابن حبان في صحيحه অর্থ: হযরত উসামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ বলেন, তোমার প্রতি যদি কেউ কৃতজ্ঞতার
আচরণ করে তখন যদি তুমি তাকে জাযাকাল্লাহ খাইরান (আল্লাহ তোমাকে উত্তম বিনিময় দান
করুন) বল তাহলেই তুমি তার যথাযোগ্য প্রশংসা করলে। তাখরিজ: জামে
তিরমিযী-২০৩৫; সহীহ ইবনে হিববান-৩৪১৩
হাদিস নং-৪
وَعَن أَبي الدَّردَاءِ أَنَّ رسُول اللَّه ﷺ كانَ يقُولُ: دَعْوةُ المرءِ المُسْلِمِ لأَخيهِ بِظَهْرِ الغَيْبِ مُسْتَجَابةٌ، عِنْد رأْسِهِ ملَكٌ مُوكَّلٌ كلَّمَا دَعَا لأَخِيهِ بخيرٍ قَال المَلَكُ المُوكَّلُ بِهِ: آمِينَ، ولَكَ بمِثْلٍ رواه مسلم. অর্থ: আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল (ﷺ) বলেছেন
: কোন মুসলিম তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোআ করলে তা কবুল করা হয় এবং তার মাথার
কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই সে ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোআ
করে তখন সে নিযুক্ত ফেরেশতা বলে, আমিন অর্থাৎ হে আল্লাহ! কবুল করুন এবং
তোমার জন্য অনুরূপ। (তোমার ভাইয়ের জন্য যা
চাইলে আল্লাহ তোমাকেও তাই দান করুন)। তাখরিজ : মুসলিম-২৭৩৩; সুনানুল কুবরা লিল
কুবরা লিল-বায়হাকি-৬৪৩১
হাদিসের বাস্তবতা: উপরোক্ত
চারটি হাদিস শরিফ দ্বারা চারটি (কমপক্ষে) শিক্ষা পাওয়া যায়।
হাদিস নং-০১, মানুষের
কৃতজ্ঞতা আদায় করা, আল্লাহর
কৃতজ্ঞতারই নামান্তর।
হাদিস নং-০২, আল-বুরহানে অনেকে জিজ্ঞাসা
করেন, তার জবাব অনেকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সুতরাং কাঙক্ষিত জবাব না পেলেও। জবাব দাতার
জন্য দুআ করা উচিত। তাছাড়া যাদেরই ( যেকোনো
উপকার) ফায়দা হয়, তাদেরও দুআ করা উচিত। (মাশাল্লাহ অনেকে আমল করছেন;
অনেকে আবার খেয়াল করছেন না।)
হাদিস নং-০৩, মুসলিম/আলেম
হিসেবে দুআর ভাষা ধন্যবাদ, শুকরান, Thank ইত্যাদির পরিবর্তে প্রিয় নবির (ﷺ)
মুখসৃত বাণী ‘জাযাকাল্লাহু খয়রান’ বলাই
উচিত। ( তবে যারা
আরবি/দ্বীনি বুঝে না, তাদের জন্য দুটাই
অর্থাৎ জাযাকাল্লাহু খয়রান + ধন্যবাদ উল্লেখ করাই শ্রেয়।)
হাদিস নং- ০৪, অপর ভাইয়ের জন্য দুআ করলে নিজরই লাভ।
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন