জিজ্ঞাসা-১৫২: যাত্রা পথে
গাড়িতে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি কি?
এবং
গাড়িতে আদায় করা নামাজ যেহেতু পূর্ণাঙ্গরূপে রুকু সিজদা করা সম্ভব হয় না তাই বসায়
পৌঁছে আবার সেই নামাজ আদায় করতে হয় কিনা?
রেফারেন্সসহ
জানালে উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ!
মাওলানা আব্দুর রহমান সাভার থেকে--
জবাব: জাযাকাল্লাহু
খয়র মুহতারাম আব্দুর রহমান সাহেবকে যিনি অতি অতিজরুরি একটি মাসয়ালা জিজ্ঞেস করার
জন্য।
প্রথমে আপনার দায়িত্ব হলো,
গন্তব্য স্থলে গিয়ে অথবা যেখানে বিরতি দিবে সেখানে যদি ওয়াক্তের মধ্যেই নামাজ আদায়
করা যায় তাহলে গাড়িতে নামাজ আদায় করবেন না। আর তা না
হলে গাড়িতে আদায় করবেন। নামাজ আদায় করার
পদ্ধতি হলো নিম্নরূপ:
Ø চলন্ত
লঞ্চ, জাহাজ, ট্রেন ও বিমানে ফরয নামায
সম্ভব হলে কেবলামূখী হয়ে দাঁড়িয়ে রুকু সিজদাসহ আদায় করবে। দাঁড়ানো যদি কষ্টকর হয়
তাহলে বসে স্বাভাবিক রুকু-সিজদা করে নামায আদায় করবে। এভাবে নামায আদায় করতে পারলে
পরবর্তীতে তা পুনরায় পড়তে হবে না।
Ø
আর যদি কেবলামুখী হয়ে রুকু-সিজদার সাথে নামায
আদায় করা সম্ভব না হয় তাহলে যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামায পড়ে নিবে। এক্ষেত্রে
স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে সতর্কতামূলক ঐ ফরয নামায পরবর্তীতে আবার পড়ে নিবে।
Ø উল্লেখ্য
যে যদি সেজদাহ করা সম্ভব হয়, তাহলে ইশারা করে নামাজ পড়া
জায়েয হবেনা। ফাতাওয়ায়ে বায়্যিনাত ২/৩২৪
Ø
Ø মরান
বিন হুসাইন (রা.) বলেন, আমার অর্শ রোগ ছিল। আমি (কিভাবে নামায পড়ব তা) আল্লাহর রসূল ((ﷺ)) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়। না
পারলে বসে পড়। তাও না পারলে পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়। বুখারী, আবূদাঊদ,
সুনান, আহমাদ, মুসনাদ,
মিশকাত ১২৪৮
উক্ত হাদিসে দাড়িয়ে না পারলে বসে, বসে না পারলে ইশারায় আদায় করার
কথা বলা হয়েছে। চলন্ত গাড়িতে অপরাগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
Ø কিবলামুখি
হতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। যদি গাড়ি কিবলামুখ থেকে অন্যদিকে ঘুরে যায় তবে নামাযে
থাকা অবস্থায় কিবলামুখি ঘুরে যাবে। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে
যেদিকে মুখ হয়, সেদিকে ফিরেই নামায শেষ করবে। কিন্তু ইচ্ছে
থাকা সত্বেও কিবলামুখি হয়ে নামায আদায় করতে না পারলে এই নামায পরে কাযা করতে
হবে। কিবলামুখি ফিরে নামায আদায় করতে পারলে পরে তা আদায় করার কোন প্রয়োজন নেই।
দুররুল মুখতার-২/৪৯১; ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/১৪৪
فى الفتاوى الهندية- ولو ترك تحويل
وجهة الى القبلة
وهو قادر عليه
لا يجزيه (الفتاوى الهندية –كتاب الصلاة ،الباب الخمس العشر
فى صلاة المسافر-1/144)
و رد المحتار– وإن لم يكن
طرف العجلة على
الدابة جاز ) لو
واقفة لتعليلهم بأنها
كالسرير (رد المحتار-كتاب الصلاة، باب
الوتر والنوافل -2/491
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে আছে
فى الفتاوى الهندية- ولو ترك تحويل وجهة الى القبلة وهو قادر عليه لا يجزيه (الفتاوى الهندية –كتاب الصلاة ،الباب الخمس العشر فى صلاة المسافر-1/144)
যার সারমর্ম হলো যদি কিবলার দিক হয়ে নামাজ পড়া সম্ভবপর হওয়া
সত্ত্বেও কিবলার দিক না হয়,তাহলে নামাজ হবেনা।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন