তাকবীরে তাশরীক'— বছর ঘুরে
কুরবানীর মাসে তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার জপমালা : মন ভরে হৃদয়ের গভীর থেকে
বারবার পড়তে থাকুন ৷ (চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে এ তাকবীরের নেপথ্যে )
★الله أكبر الله أكبر لااله إلا
الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد★
('আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া
লিল্লাহিল হামদ’)
বছর ঘুরে ত্যাগের মহান বারতা নিয়ে
মুসলিম সমাজে আসে ঈদ,কুরবানী,তাকবীর ধ্বনি,পশুর কেনাকাটা কুরবানীর প্রস্তুতি ৷শিশু, আবাল- বৃদ্ধ, ধনী ও গরীব সবার মাঝে সমহারে আনন্দ ভাগাভাগির চরম মহোৎসবই হলো পবিত্র ঈদুল
আযহা তথা কুরবানীর ঈদ ৷ওদিকে নূর-নবীজীর দেশে আল্লাহর মেহমানরূপী হাজী সাহেবানদের
হজ্জ্ব-প্রস্তুতি হৃদয়ে জান্নাতী দোলা দিয়ে ফেরে ৷ কাবার পিয়াসী কবি নজরুল কত
সুন্দরই না গেয়েছেন -"চোখে আমার কাবার ছবি বক্ষে মুহাম্মাদ রাসূল"----৷
★হাজ্জ্ব,কুরবানী,ঈদ,তাকবীরে তাশরীক এর সাথে মিশে আছে খলীলুল্লাহ্
ইব্রাহীম (আ), যবীহুল্লাহ্ ইসমাঈল(আ),হাবীবুল্লাহ্ মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামের প্রেম —যাদের স্মরণ না হলে নামায দরূদ পূর্ণ হয়না ৷ তাইতো বলি
"কত হজ্জ্ব হইলো,কত কুরবানী আইলো গেলো; নবী মুস্তফার আদর্শ, ইসমাঈলের সেই
আদব ,ইব্রাহীমের সেই ত্যাগের পরাকাষ্ঠার সামান্য ছোঁয়া কী আছে
আমাদের মাঝে"-----(? )
★আরবি মাসগুলোর মাঝে যিলহজ সম্মানিত একটি মাস।
এই মাসের মধ্যেই রয়েছে ইসলামের ফরয রুকন হজ। এছাড়াও এই মাসের প্রথম দশকে রয়েছে
ঈদুল আজহা, কোরবানি, তাকবীরে
তাশরীকসহ প্রভৃতি আমল। বস্তুত এই মাসের ইবাদত-বন্দেগী আমল ও ফযিলত এই মাসকে
গুরুত্ববহ করে তুলেছে৷
তাকবীরে তাশরীক এর
মহাত্ন্য ও নবীদের স্মৃতি:
তাকবীর শব্দটি আরবি। তাকবির অর্থ- শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা করা। অপরদিকে তাশরিক
শব্দটিও আরবী,যার অর্থ হলো- 'সূর্যের আলোতে গোশত শুকানো'।প্রাচীন কালে আরবরা
তাদের
কোরবানির মাংস ঈদের তিন দিন পর্যন্ত রোদে দিয়ে শুকাতো, এজন্য এ দিনগুলো আইয়ামে তাশরিক বা 'মাংস শুকানোর দিন' বলা হয়।
√ ইসলামি
শরিয়তের পরিভাষায়, তাকবিরে তাশরিক হলো- নির্দিষ্ট দিনগুলোতে
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পুরুষরা উচ্চস্বরে আর মহিলারা নিম্নস্বরে ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’- বাক্য বলাকে
তাকবীরে তাশরীক বলা হয় ৷
তাকবীরে তাশরীকঃ
الله أكبر الله أكبر لااله إلا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
তাকবীরে তাশরীকের ইতিহাস:
********
আল্লাহর খলীল (প্রিয়ভাজন বন্ধু) মুসলিম মিল্লাতের জনক
সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম (আঃ) যখন তাঁর পুত্র সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে
কোরবানী করার জন্য মাটিতে শুয়ে তাঁর গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন, ঠিক এমনই মূহুর্তে আল্লাহ তা’য়ালা ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আঃ)
কে নির্দেশ দিলেন, একটি জান্নাতী দুম্বা নিয়ে দ্রুত হযরত ইবরাহীম
(আঃ) এর কাছে পোঁছার জন্য৷ হযরত জিবরাইল (আঃ) খুব দ্রুত
আসছিলেন৷
কিন্তু দূর থেকেই দেখতে পেলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পুত্রের গলায় ছুরি
চালাতে উদ্যত, ঠিক তখনই হযরত জিবরাইল (আঃ) আশংকা করলেন যে, তিনি পৌঁছার পূর্বেই বুঝি ইসমাইল(আঃ)
কুরবানী হয়ে যায়—অথচ তা তো মাবুদের ইচ্ছা নয় ৷ তাই তিনি ঘাবড়ে গিয়ে
উচ্চস্বরে জাবালে আবু কুবাইস পাহাড়ের চুড়ায়(সাফা পাহাড় যার অংশ বিশেষ) দাঁড়িয়ে
সিগন্যাল দিয়ে বলে উঠলেনঃ
الله أكبر، الله أكبر
হযরত জিবরাইল (আঃ) এর তাকবীর পাঠ শুনে হযরত ইবরাহীম (আঃ) বলে উঠলেনঃ
لا إله إلاالله والله أكبر
আর পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর তাকবীর শুনে এবং পাশে দুম্বা জবাই হতে দেখে শিশু
হযরত ইসমাঈল (আঃ) বলে উঠলেনঃ
الله اكبر ولله الحمد
এ মহান তিন ব্যক্তিত্বের জবান নিঃসৃত মধুময় শব্দগুলোকে একত্রিত করে তাঁদের স্মৃতিকে স্মরণ করত আল্লাহর মহত্ব ঘোষনায় প্রিয় নবীজীর উম্মাতে মুহাম্মাদীর জন্য নিয়ম করা হলো তাকবীরে তাশরিক এর -যা কেবল যিলহাজ্ব মাসেই পড়া হয় ৷উল্লেখ্য, এ মহত্ব ঘোষণার বাণী অন্য সময়ে আদবভরেমসজিদে,কর্মশালায়,প্রতিষ্ঠানে,বাজারে, শয়নে স্বপনে পড়া জায়েজ বরং সওয়াবের কাজ ৷
তাকবীরে তাশরীকের হুকুম:
যিলহজ মাসের ৯তারিখ ফজর থেকে ১৩তারিখ আসর পর্যন্ত ৫দিনে মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয
নামাযের পর একবার করে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করাট ওয়াজিব ৷ অন্তত একবার পড়া ওয়াযিব,তিনবার পড়া মুস্তাহাব ৷(সকল ফিকহের কিতাব ,হাদিসের বর্ণনা)
অর্থাৎ প্রত্যেক বালিগ পুরুষ-মহিলা, মুকিম-মুসাফির, গ্রামবাসী-শহরবাসী, জামাতে নামায
আদায়কারী কিংবা একাকী নামায আদায়কারী প্রত্যেকের উপর একবার করে তাকবীরে তাশরীক পাঠ
করা ওয়াজিব৷বিনা কারনে তরক করা গুনাহ৷ (ফতোয়ায়ে আলমগীরী)
★ প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর জামাতে কিংবা একাকী
পুরুষ নামাযী উচ্চস্বরে একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব, মতান্তরে সুন্নত এবং মহিলাগণ আস্তে বলবে যাতে নিজে
শুনে। (শামী ও তাহতাবী)
★ ইমাম সালামের পর তাকবীর বলা ভুলে ছেড়ে দিলে
তৎক্ষণাত মুক্তাদীগণের উপর উচ্চস্বরে লোকমার মত করে স্মরণ করানো ওয়াজিব। (রদ্দুল
মুহতার)
★ যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সম্পূর্ণ নামাজ পায় নি
কিংবা পরে শরীক হয়েছে এমন মাসবুকের জন্য বাকি নামাজ আদায় করার পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব।
★ নফল, বিতর ও
জানাজার নামাজের পর তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব নয়। ঈদের নামাজের পর তাকবীর পাঠ
করার ব্যাপারে ফকিহগণের মধ্যে মতানৈক্য থাকলেও পড়ার ব্যাপারে বেশিরভাগই মতামত
দিয়েছেন ,এর উপরই মাসয়ালা ৷(রদ্দুল মুখতার)
** আল্লাহ্ সকলকে প্রেম ভালোবাসা সহকারে বুঝে দরদভরে তাকবীর
পাঠ সহ কুরবানীর ফজীলত লাভে ধন্য করুন,জীবনে একটিবার
হলেও নবী ইব্রাহীম,ইসমাঈল, মা
হাযেরার(আলাইহিমুসসালাম) স্মৃতিচিহ্ন এবং সর্বোপরি আমার নবী মুস্তফার শান দেখে
আসার তাওফীক নসীব করুন ৷আ মীন, বি ফাদ্বলিল্লাহিল
আজীম,অ বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল আম্বিয়াই অল মুরসালীন ৷৷
[দোয়াকামনায়: মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুছ আলী,জাতিসংঘ মিশন,সুদান,আফ্রিকা ]
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন