তিনিই
মহান আল্লাহ
লেখক
মুহাম্মাদ
আব্দুর রাজ্জাক
ধর্মীয়
শিক্ষক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
মোবাইল
০১৭৩৫-৭৯১৩৮২
প্রকাশিকা
রোকেয়া
বেগম
প্রকাশকাল
কার্তিক
১৪২৬ বাংলা,
রবিউল আউয়াল ১৪৪১
হিজরী,
নভেম্বর ২০১৯ ঈসায়ী/ইংরেজি
গ্রন্থস্বত্ব
লেখক কর্তৃক
সংরক্ষিত
কম্পিউটার কম্পোজ
মুহাম্মাদ আব্দুর
রাজ্জাক (লেখক নিজে)
মূল্য
৬০ টাকা মাত্র
সূচীপত্র
বিষয়
পৃষ্ঠা নং
ভূমিকা------------------------------------------------------------------
০৪
স্বয়ং ‘আল্লাহ’ শব্দই প্রমাণ করে
তিনিই মহান আল্লাহ, এক, অদ্বিতীয়---------- ০৪
আল্লাহ একজন হওয়ার যুক্তি
---------------------------------------------
০৪
আল্লাহ তা‘আলার সিফাত বা গুণাবলী------------------------------------- ০৫
কুরআন সম্পর্কে অমুসলিম মনীষী-বিজ্ঞানীদের মন্তব্য ----------------------- ০৯
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ
--------------------------------------------------- ১০
নভোমণ্ডল-ভূমণ্ড সৃষ্টি, একটি গ্যাসীয় পিণ্ডরুপে
মহাবিশ্বের সূচনা -------- ১১
বিং ব্যাং বা
মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব -------------------------------------- ১১
খুঁটিবিহীন, ত্রুটিমুক্ত আকাশ কে
সৃষ্টি করলো ? ------------------------------- ১২
সৌরজগতের গ্রহ ১১টি (The Solar System) ----------------------------
১২
চাঁদ একটি আলোকিত উপগ্রহ
--------------------------------------------
১৩
মানব সৃষ্টির সূচনা
------------------------------------------------------ ১৩
ডারউনের বিবর্তন মতবাদের জবাব
-------------------------------------- ১৩
মানব সৃষ্টির ক্রমধারা
--------------------------------------------------- ১৪
আঙ্গুল ছাপের বিশেষত্ব ------------------------------------------------- ১৫
প্রতিটি প্রাণী পানি দ্বারা সৃষ্টি -------------------------------------------- ১৬
কে বৃষ্টি দ্বারা তামাম উদ্ভিদ উৎপন্ন করে ? ------------------------------- ১৬
রূহ বা আত্মা কি, এর নিয়ন্ত্রক কে ? ----------------------------------- ১৭
পক্ষীকুলকে কে মহাশূন্যে স্থির রেখেছেন? ------------------------------------ ১৭
কে মৌমাছিকে পাহাড়-গাছ-উঁচু চালে গৃহ নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন ? ----- ১৮
মধুতে যেসব উপাদান বিদ্যমান
------------------------------------------- ১৯
খাঁটি মধুর কিছু বৈশিষ্ট্য
-------------------------------------------------- ২০
আসমান-যমীনের মালিকনা কার? ----------------------------------------- ২০
কে রাতকে দিনের এবং দিনকে
রাতের মধ্যে দাখিল করেন? -------------- ২১
বিশ্বজগতের সবকিছুই কার
তাসবীহ পাঠ করে? -------------------------- ২১
কে রাতকে করেছেন আবরণ- ঘুম বিশ্রাম ও দিনকে জীবিকার
জন্য ?------- ২১
কে আসমান হতে বিশুদ্ধ পানি বর্ষণ করে? ------------------------------ ২১
বৃষ্টির পানি পান করা এবং নানাবিধ উপকারিতা জেনে নিন ------------------ ২২
কে সাগরবক্ষে মিষ্টি ও লোনা পানিকে পৃথক করে রেখেছেন? -------------- ২৩
কে শুধুই থাকবেন, বাকি সবাই ধ্বংস হবে? ----------------------------- ২৫
বিপদকালে একনিষ্ঠভাবে কাকে ডাকে? --------------------------------- ২৮
জগতের সকল প্রাণীর রিযিক কার দায়িত্বে ------------------------------- ২৯
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গভীর প্রেম-ভালবাসা কে
পয়দা করলেন? ---------------- ২৯
নানান ভাষা ও বৈচিত্র্য রং
কার দান?
---------------------------------- ৩০
কে আসমান-যমীনের সবকিছুই মানুষের উপকার্থে নিয়োজিত করেছেন? ----- ৩০
মানব জাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের-সম্মানের
আসনে অধিষ্ঠিত করলো কে? ---------- ৩১
কে সন্তান দান করে? --------------------------------------------------- ৩২
কে হাসায় ও কাঁদায় ? -------------------------------------------------- ৩২
মানুষের প্রাণ হরণ করেন কে? -------------------------------------------- ৩২
আল্লাহ তা‘আলার প্রশ্নঃ --------------------------------------------------- ৩২
মহান আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ
--------------------------------------------
৩৫
একটি কবিতা পেশ করছি যা আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব বহন করে
------------ ৩৭
বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব ---------------------
৩৮
নাস্তিকের যুক্তি খণ্ডন
------------------------------------------------------- ৩৯
পরিশেষ
----------------------------------------------------------------- ৪০
প্রথম কথা
সকল প্রশংসা সেই রব্বুলামীনের
জন্য যিনি প্রতিটি বালুকণারও স্রষ্টা। তারপর লাখো দরুদ ও সালাম প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের প্রতি তিনি বিশ্ববাসীকে করুনাময় প্রভুর পরিচয় পেশ করেছেন এবং মালিকের
সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক জুড়ে দিয়েছেন। বক্ষ্যমাণ এই ছোট্ট কিতাবে আমি সেই বিষয়ে আলোকপাত করবো আল্লাহ তা‘আলাপবিত্র কুরআনে কিছু দাবি (যেমন আসমান-যমীন, চাঁদ-সুরুজ, মানুষ অন্যান্য প্রাণী, সাগর –মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদি সৃষ্টির দাবি)-চ্যালেঞ্জ করেছেন, যার বিপরীতে অদ্যবধি পৃথিবীর
কেউ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেনি এবং তাঁর দাবির মত কেউ দাবি করতে পারে নাই; সুতরাং প্রমাণিত হলো তিনিই
মহান আল্লাহ। এই কিতাব দ্বারা যদি ঈমান
ছাড়া মানুষের ঈমান আনার সহায়ক এবং আল্লাহ ওয়ালার ব্যক্তির ঈমান তাজা করণে সাহায্য
করে, তবেই আমার লেখা সার্থক হবে বলে মনে করি।
স্বয়ং ‘আল্লাহ’ শব্দই প্রমাণ করে তিনিই মহান
আল্লাহ, এক, অদ্বিতীয়
আল্লাহ শব্দটি মানুষের প্রকৃতিতে অংকিত একটি নাম। সুতরাং এর
জন্য কোন দলীল প্রমাণে উপনীত হওয়ার প্রয়োজন হয় না। আল্লাহ শব্দটি সৃষ্টিকর্তার
ইসমে যাত বা সত্তাবাচক নাম। এ নামের দ্বিবচন বা বহুবচন
হয় না। অধিকাংশ ভাষাবিদ-আলেমদের মতে আল্লাহ শব্দটি
কোন বিশেষ ধাতু থেকে উদ্ভূত নয়। আরবি ভাষায় এর হুবহু
অর্থজ্ঞাপক কোন প্রতিশব্দ নেই। অন্য কোন ভাষায় আল্লাহ
শব্দের কোন অনুবাদও হয় না। সুতরাং খোদা, god বা ঈশ্বর কোনটাই আল্লাহ
শব্দের সম্যক পরিচয় বহন করে না। অতত্রব প্রমাণিত হলো স্বয়ং
আল্লাহ শব্দই প্রমাণ করে; তিনিই মহান আল্লাহ, এক, অদ্বিতীয়।
আল্লাহ একজন হওয়ার যুক্তি
আল্লাহ তা‘আলাএমন এক যুক্তি পেশ করেছেন যা বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছ- لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ
لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ
অর্থ: ‘যদি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য, একাধিক আল্লাহ বা উপাস্য থাকত, তবে উভয় জগৎ ধ্বংস হয়ে যেত, বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতো। অতত্রব, তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।’ সূরা আম্বিয়া-২২
مَا
اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَذَهَبَ
كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ
عَمَّا يَصِفُونَ অর্থ: ‘আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কোন ইলাহও নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ কত পবিত্র।’ সূরা মুমিনূন-৯১
স্বভাবগত ভাবেই প্রত্যেক ব্যক্তির রুচি-ইচ্ছা ভিন্নতা রয়েছে। সুতরাং একাধিক মাবুদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই ইচ্ছা ও কাজে বিরোধ ঘটত। (যেমন একজন বলতো পূর্ব দিকে সূর্য উঠাতে অন্যজন বলতো পশ্চিম দিকে উঠাতে) ফলে বিশৃংখলা এবং ধ্বংস অনিবার্য হত। যেহেতু ধ্বংস হয়নি সেহেতু বুঝা যায় যে, আল্লাহ, মাবুদ একজন-ই। সূত্র: তাফসীরে বয়ানুল কুরআন-৪৫৮
প্রশ্ন: যদি প্রশ্ন করা হয়, মাবুদগণ পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও তো ধ্বংসের সম্ভাবনা থাকে না। কাজেই একাধিক মাবুদের অস্তিত্ব সম্ভব।
উত্তর: এর জবাবে বলা হয় যে, পরামর্শের অধীনতা মানেই মুখাপেক্ষিতা। আর মুখাপেক্ষিতা সত্তা কখনোই আল্লাহ হতে পারে না। সূত্র: তাফসীরে বুরহানুল কুরআন-৪৫৮
আল্লাহ তা‘আলার সিফাত বা গুণাবলী
আল্লাহ তা‘আলাপবিত্র কুরআনে তাঁর নিজের গুণাবলী
পেশ/ঘোষণা করেছেন তার বিপরীতে এই
চ্যালেঞ্জ কেউ গ্রহণ করেনি বা অনুরুপ কেউ দাবি করেনি। সুতরাং প্রমাণিত হলো তিনিই
মহান আল্লাহ বৈ কি? ইমাম আবুল মনসুর
মাতুরীদীর মতে, আল্লাহ তা‘আলার সত্তাগত গুণ হল আটটি-
১. হায়াত : এটি আল্লাহ তা‘আলার একটি বিশেষ গুণ, যা অনাদি ও অনন্ত।
তিনি চিরঞ্জীব। তিনি সব সময় ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তিনি
নিজেই এরশাদ করেছেন-وَتَوَكَّلْ
عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ অর্থ: ‘আপনি সেই চিরঞ্জীবের ভরসা করুন, যার মৃত্যু নেই।’ সূরা ফুরকান-৫৮
পৃথিবী সৃষ্টিলগ্ন থেকে কেউ দাবি করেনি যে সে মরবে না, বরং আল্লাহ তা‘আলাবলেছেন-
كُلُّ
نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ(১) অর্থ: ‘প্রত্যেক প্রণীকে
আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু।’ (সূরা ইমরান-১৮৫) এ দাবি প্রমাণিত। (২) الَّذِي
خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ
الْعَزِيزُ الْغَفُورُ অর্থ:‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে
পরীক্ষা করেন কে তোমাদের মধ্যে আমলে শ্রেষ্ঠ?’ সূরা মুলক-০২
একমাত্র মহান মালিকই দাবি করেছেন তিনি চিরঞ্জীব। অতএব তিনিই মহান আল্লাহ।
اللَّهُ
لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ অর্থ:‘আল্লাহ হন, যিনি ব্যতীত অন্য কোন
উপাস্য নেই। তিনি নিজে জীবিত এবং অন্যান্যদের অধিষ্ঠিত রাখেন। তাঁকে না তন্দ্রা
স্পর্শ করে, না নিদ্রা।’ সূরা বাক্বারা-২৫৫
২. ইল্ম বা জ্ঞান :
মরুভূমির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালু কণা
হতে আরম্ভ করে সাগর- মহাসাগরের জলরাশির
প্রতিটি বিন্দুও তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। আল্লাহ তা‘আলাইরশাদ করেছেন-يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ
وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ وَاللَّهُ عَلِيمٌ
بِذَاتِ الصُّدُورِ (১) অর্থ:‘নভোমণ্ডলল ও ভূমণ্ডলে
যা আছে, তিনি তা জানেন। তিনি আরও জানেন তোমরা যা গোপনে কর
এবং যা প্রকাশ্যে কর। আল্লাহ অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।’ সূরা তাগাবুন-০৪
(২) وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
অর্থ: ‘আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।’ সূরা বাকারা-২৯
(৩) وَعِنْدَهُ
مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ
وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي
ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ অর্থ: ‘তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও
জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি
তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুষ্ক
দ্রব্য পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য
গ্রন্থে রয়েছে।’ সূরা আনআম-৫৯
আজ পর্যন্ত কেউ দাবি করেনি যে, সে সবকিছুই জানে। সুতরাং যিনি সব জানেন, তিনিই মহান আল্লাহ।
৩.ইরাদা বা ইচ্ছা :
আল্লাহ তা‘আলাই বিশ্বজগত সৃষ্টি
করেছেন। তিনি যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি কারো বাধ্য নন। পবিত্র
কুরআনে ইরশাদ করেন-
وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ ۗ (১) অর্থ:‘আপনার রব সৃষ্টি করেন, যা চান এবং পছন্দ
করেন।’ সূরা ক্বাসাস-৬৮
মানুষ বা যে কেউ যা চায় তাই করতে পারে না, যিনি পারেন, তিনিই মহান আল্লাহ।
إِنَّمَا
أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
(২) অর্থ: ‘তিনি যখন কোন কিছু
করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন
‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়।’ সূরা ইয়াসিন-৮২ মানুষ কোন কিছু তৈরী
করতে চাইলে প্রথমে উপকরণ সংগ্রহ করে, তারপর কারিগর ডাকে, অত:পর বেশ কিছুকাল কাজ
করার পর বাঞ্ছিত বস্তুটি তৈরী হয়। কিন্তু
আল্লাহ তা‘আলাযখন
কোন কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করেন, তখন এতসব সাত-পাঁচের প্রয়োজন হয় না। কাজেই যিনি শুধু বলে হও অমনিতেই হয়ে
যায়, তিনিই মহান আল্লাহ।
৪. কুদরত বা শক্তি :
এ বিশ্ব, এর গতি এবং স্থিতি, সবই তাঁর অসীম ক্বুদ্রত এবং শক্তিমত্তার
বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তা‘আলাএরশাদ করেন- (১)وَمَا
كَانَ اللَّهُ لِيُعْجِزَهُ مِنْ شَيْءٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ
إِنَّهُ كَانَ عَلِيمًا قَدِيرًا অর্থ: ‘এবং আল্লাহ এমন নন যে, তাঁর আয়ত্ব থেকে কোন
কিছু বের হতে পারে-আসমান সমূহ ও যমীনের
মধ্যে। নিশ্চয় তিনি জ্ঞানময় শক্তিমান।’ সূরা ফাতির-৪৪
(২)قُلِ
اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ
الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ
بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ অর্থ:‘বলুন, ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির
অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যাকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে
নাও আর যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর এবং যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে
রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।’ সূরা আলে ইমরান-২৬
এই ধরাধমে কেউ পূর্ণশক্তিমান নন, সুতরাং যিনি সর্বশক্তিমান
তিনিই মহান আল্লাহ।
৫. শ্রবণশক্তি: যেমন ইরশাদ হয়েছে-
(১)وَمَا
يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ
وَلَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ অর্থ:‘আর আপনার রবের নিকট থেকে কোন অণু পরিমাণ বস্তুও অগোচর নয়-পৃথিবীতে, না আসমানে এবং না তদপেক্ষা
ক্ষুদ্রতর, আর না তদপেক্ষা বৃহত্তর, কোন বস্তুই নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে
নেই।’ সূরা ইউনুস-৬১
(২)وَكَانَ
اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا অর্থ:‘আল্লাহ শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।’ সূরা নিসা-১৪৮
কেউ দাবি করেনি যে, তিনি মহাবিশ্বের সব
কিছু শুনতে পান। কি জোরে, কি আস্তে- সব আওয়াজই তিনি শুনতে
পান। মাটির নিচে পিপীলিকার পায়ের আওয়াজ হোক, সমুদ্রের পানির নিচের
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কীটের সঞ্চালন-ধ্বনি হোক; অতত্রব যিনি সব আওয়াজই শোনেন তিনি মহান আল্লাহ।
৬. দর্শন বা দেখা: আল্লাহ তায়লার বাণী- (১) অর্থ: ‘তোমরা যা কিছু কর না কেন, আল্লাহ সবকিছুই দেখেন।’ সূরা বাকারা-৯৬
(২) قُلِ
اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوا لَهُ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَبْصِرْ
بِهِ وَأَسْمِع অর্থ: ‘তাঁরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সমস্ত অদৃশ্য বিষয়; তিনি কতোই উত্তম দেখেন
ও কতোই উত্তম শুনেন।’ সূরা কাহাফ-২৬
মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী দূরে-অন্ধকারে-ক্ষুদ্র জিনিস দেখতে পারে না, যিনি দূরে-কাছে, আলো-আধাঁর, ছোট-বড় সব কিছুই তিনি সমানভাবে দেখেন, জানেন, তিনি সম্যক দ্রষ্টা, সব কিছুই তাঁর
গোচরীভূত, তিনি কত সুন্দর দ্রষ্টা। সুতরাং তিনিই মহান আল্লাহ।
৭. কালাম (বাণী): এ সম্পর্কে ইরশাদ
হচ্ছে-وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ
مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلَامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ
مَا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
অর্থ:‘এবং যদি পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে সবই কলম হয়ে যায়, আর সমুদ্র তার কালি হয়, এরপর আরো সাতটি
সমুদ্রসহ, তবুও আল্লাহর বাণীসমূহ শেষ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ সম্মান ও প্রজ্ঞাময়।’ সূরা লোক্বমান-২৭
সমস্ত আসমানী গ্রন্থ তাঁর কালাম বা বাণীরই বহিঃপ্রকাশ। কুরআন আল্লাহ্র কালাম (বাণী)। তা সৃষ্ট নয়; বরং চিরন্তন।
কুরআনুল কারীম যে চিরন্তন সত্য, আল্লাহর কালাম, মানব রচিত নয় এ
সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলাওপেন চ্যালেঞ্জ
করেছেন। যেমন তিনি বলেন-قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ
الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ
بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا অর্থ: “বলুন: যদি মানব ও জিন এই
কুরআনের অনুরুপ রচনা করে আনয়নের জন্যে জড়ো হয় এবং তারা পরস্পরকে সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর
অনুরুপ রচনা করে আনতে পারবে না।” সূরা বানী ইসরাঈল-৮৮
আবার চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়েছে, সম্পূন্ন গ্রন্থ নয়; কুরআনের মত দশটি সূরা
রচনা করে নিয়ে আসুক।أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ
فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ
مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ
অর্থ: “তারা বলে কি? কুরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরুপ
দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ
ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে।” সরা হুদ-১৩
আবারও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছে মাত্র একটি সূরা রচনা করে আনো।
وَإِنْ
كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ
مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ অর্থ: “এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার
প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের
সেসব সাহায্যকারীদেরকে
সঙ্গে নাও-এক আল্লাহ ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী
হয়ে থাকো।” সূরা বাকারা-২৩
প্রিয় সুহৃদয় পাঠক! আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত (১,৪৫০) বছর হয়ে গেল এ
ভূপৃষ্ঠে কুরআনের এই শাশ্বত চ্যালঞ্জের মোকাবেলায় কেউ আসেনি, বিশ্ববাসী ব্যর্থতার
পরিচয় দিয়েছে। সুতরাং প্রমাণিত হলো কুরআন মাজীদ মহাসত্য, যিনি অবতীর্ণ করেছেন, তিনিই মহান আল্লাহ।
কুরআন সম্পর্কে অমুসলিম মনীষী-বিজ্ঞানীদের মন্তব্য
(১) প্রখ্যাত ফরাসী
বিজ্ঞানী ও লেখক ড.মরিস বুকাইলী তার অধুনা প্রকাশিত The Bible,The Quran and Science,
1978, p-125 গ্রন্থে বলেন- ‘পরিশেষে এইসব প্রমাণ
দলিলের ভিত্তিতে আমাকে এই স্থির সিন্ধান্তে উপনীত হতে হয় যে, কুরআনে এমন একটা বক্তব্যও নাই-যে বক্তব্যকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিচারে খণ্ডন করা যেতে পারে। বস্তুত: বিশ্বসৃষ্টি সম্পর্কে
কুরআনের এই যে বর্ণনা, যা আজ থেকে প্রায়
চৌদ্দশ বছর আগে প্রকাশ পেয়েছিল, তাতে মানবীয় বর্ণনার
যাবতীয় দোষক্রটি, দুর্বলতা সম্পূর্ণভাবে
অনুপস্থিত। অর্থাৎ এ বর্ণনা স্বাভাবিকভবাবেই কোন মানুষের বর্ণনা হতে
পারে না।’
(২) শীর্ষস্থানীয় বৃটিশ বিজ্ঞানী ডা. আর্থার জে. এলিসন : শীর্ষস্থানীয় বৃটিশ বিজ্ঞানী,
লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের
প্রধান, কয়েকটি আন্তর্জাতিক
ইলেকট্রনিক্স কোম্পানীর উপদেষ্টা ডা. আর্থার জে. এলিসন বলেন— পবিত্র কুরআনে মানব সৃষ্টি সম্পর্কিত যে সব তথ্য বর্ণনা করা
হয়েছে, সে সব নিয়ে দীর্ঘকাল ‘প্যারাসাইকোলজিক্যাল’ গবেষণার ফলশ্রুতিতে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, কুরআন কোন মানুষের রচিত
গ্রন্থ নয় এবং এ মহাগ্রন্থে নির্দেশিত ধর্মমতই প্রকৃত সত্য ধর্ম ।’
(৩) জগত-খ্যাত ইতিহাসবেত্তা গীবান(Gibbob) বলেন-The creed of Muhammad (pbuh) is free from the suspicions of ambiguity,
and the quran is a glorious testimony to
the unity of God.” ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধর্মমত সব
সন্দেহের সংশয় থেকে মুক্ত এবং আল-কুরআন হচ্ছে স্রষ্টার একত্বের
এক উজ্জ্বল দলিল।’ সূত্র: কমপিউটার ও আলকুরআন, ইশায়াতে ইসলাম কুতুবখানা।
(৪) প্রফেসর ডা. লাওয়েন ভ্যাজিলীয়ারী (Prof. Dr. Lawen Vagilieri) : ইটালীর প্রফেসর ডা. লাওয়েন ভ্যাজিলীয়ারী ইসলাম
সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন। বইটি ১৯৫৮ ইং সনে পাকিস্তান হতে ইংরেজীতে
অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়। এই বইতে তিনি লিখেছেন— ‘কুরআন মুহাম্মদ (সা)-এর মনগড়া কোন কথা নয়। এটি
আল্লাহ পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি নাজিল করা প্রত্যাদেশ।’
৫. টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণতত্ত্বের প্রফেসর
ডা. কিথ মুর : ডা. মুরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কিত
কুরআনের বাণীকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?’
তাঁর জবাব ছিল— এটা একমাত্র ঐশ্বরিকভাবেই নাজিল হতে পারে। এ সব মানুষের
জানার সাধ্যের বাইরে।
(৬) রাশিয়ার
সাহিত্য ও কাব্য সমালোচক আলকভ ফেব্রী : কমিউনিষ্ট রাশিয়া কুরআনকে গ্রহণ করলে বহু উন্নতি লাভ করতে
সক্ষম হত-এতে সন্দেহ নেই। ধর্মহীন সমাজ স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ। কুরআনের মর্যাদা সাহিত্যিকদের
নিকট অনেক বেশী। কেননা, কুরআন অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের একটি সাহিত্য—একথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়। যদি বলা হয় যে, কুরআনই আধুনিক সাহিত্যের
জন্মদাতা, তবে মনে হয় ভুল হবে না।
(৭) শিখ ধর্মের নেতা গুরু নানক : তিনি বলেন, বেদ ও পুরানের যুগ চলে গেছে। এখন দুনিয়াকে পরিচালিত করার
জন্য কুরআনই একমাত্র গ্রন্থ।
(৮) ডাব্লিউ মন্টোগোমারী ওয়াট (W. Montgomery Watt) : কুরআন অলৌকিক বাণী। ইহা মুহাম্মদ (সা)-এর কথা হতে পারে না। (Life of Muhanumad at Meeca, by Mr W.
Montogomery Watt, P-52, 53, 57) (৯) প্রফেসর এলভি ভিজিলিয়েনের কুরআন সম্পর্কে মন্তব্য : কুরআন কখনো মুহাম্মদের নিজ মনের রচনা নয়। গ্রন্থটি আল্লাহ কর্তৃক তার
নিকট অবতীর্ণ হয়েছে। গ্রন্থটি পদ্ধতিতে নিখুঁত হওয়া ছাড়াও বক্তব্যের অনুকরণ
বহির্ভূত বলে প্রমাণিত। কুরআনের উৎস থাকতে পারে কেবল তাঁরই মধ্যে যার জ্ঞানের
অন্তর্ভুক্ত আরশ ও মাটিতে যা কিছু আছে সব কিছুর। (১০) জানফাস এই বলে কুরআন সম্পর্কে উক্তি করেছেন যে, ‘‘প্রাচীন আরবিতে অবতীর্ণ কুরআন অত্যন্ত মনোরম ও আকর্ষণীয়।
কুরআনের বাক্যবিন্যাস পদ্ধতি ও প্রকাশভঙ্গি খুবই মনোমুগ্ধকর। কুরআনের ক্ষুদ্র
ক্ষুদ্র বাক্যগুলোতে যে বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে, তা খুবই বিস্ময়কর। কুরআনের
গর্ব যারা অন্য কোনো ভাষায় যথাযথ প্রকাশ করা খুবই কঠিন।’’ গ্রন্থ : দি ইউসডম অব দি কুরআন
৮. তাকভীন (সৃষ্টিকর্ম): এ সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে-وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا
تَعْمَلُونَ (১) অর্থ: আল্লাহ্ তোমাদেরকে
সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের কর্মগুলোকেও। সূরা সাফ্ফাত-৯৬
(২)اللَّهُ
خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ অর্থ: আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর
কর্মবিধায়ক। সূরা যুমার-৬২
(৩)أَوَلَمْ يَرَوْا كَيْفَ
يُبْدِئُ اللَّهُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
অর্থ: ওরা কি লক্ষ করেনা, কিভাবে আল্লাহ
সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দান করেন, অতঃপর তা পুনরায় সৃষ্টি করেন? নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর
জন্য সহজ।’ সূরা আনকাবুত- ১৯
আসমান-যমীন, লাওহ-কলম, মানব-দানব, গাছপালা-তরুলতা, নদী-সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত, জীব-জন্তু-কীট প্রতঙ্গ –আমরা দু’চোখে দেখি বা না দেখি
সব কিছুই আল্লাহ তা‘আলাসৃষ্টি করেছেন এবং
আমাদের কর্মের স্রষ্টাও তিনি। নিম্নে কতিপয় সৃষ্টির
বর্ণনা দেয়া হলো:
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ: আল্লাহ তা‘আলাবলেন-وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا
لَمُوسِعُونَ অর্থ:‘আমি স্বীয়
ক্ষমতাবলে নভোমণ্ডলল বিনির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি(নিরন্তর) প্রসারণকারী।’ সূরা যারিয়াত-৪৭
১৯৩৭ সালে রেডিও টেলিস্কোপের (দূরদর্শন যন্ত্রের) আবিস্কারের পরই
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ প্রয়োজনীয় ডাটা-উপাত্ত প্রত্যক্ষ করা
গেছে এবং তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রত্যক্ষণের বাইরে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা উপস্থাপন করেছেন যাকে বলে Hubbel
control
তত্ত্ব। রেডিও টেলিস্কোপ সম্প্রতি এই প্রমাণ সরবরাহ করছে যে, এই মহাশূন্য প্রায় আলোর গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ধরণের মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্তান্ত সাম্প্রতিক জ্ঞান কিভাবে সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে কুরআন মাজীদে বর্ণিত হতে পারে। তা এ কথাই প্রমাণ করে যে, তিনিই মহান আল্লাহ ।
নভোমণ্ডল-ভূমণ্ড সৃষ্টি: একটি গ্যাসীয় পিণ্ডরুপে মহাবিশ্বের সূচনা:
ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى
السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ অর্থ: ‘তিনি মনোনিবেশ করলেন আসমানের(সৃষ্টির) প্রতি, যখন তা ছিল (কেবল) একটি ধুম্রকঞ্জু।’ সূরা ফুসসিলাত-১১ এই আয়াত নির্দেশ করে, গ্রন্থ-নক্ষত্র সমেত বিভিন্ন ছায়াপথ
গঠিত হওয়ার পূর্বে, সূচনালগ্নে মহাকাশ ছিল একটি ধুম্রুকুঞ্জ।( মহা বিস্ফোরণ) তত্ত্বের পরিমার্জিত রুপ, যার নাম---(স্ফীতি তত্ত্ব)। বর্তমানে জ্যোতির্বিদদের
কাছে অন্যান্য ছায়াপথগুলি মহাজাগতিক –বাষ্পকুণ্ডলী ঘনীভূত হওয়ার মাধ্যমে গঠিত হওয়ার ছবি রয়েছে। সাম্প্রতিককালে এই দুই আবিষ্কার কুরআন মাজিদের উপরোক্ত আয়াতের সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ। যা হোক লক্ষণীয় বিষয় হল, জ্যোতির্বিদরা যাকে – Mist বা ‘বাষ্প’ বলেছে, কুরআন মাজীদ তাকে বলেছে – Smoke বা ‘ধুম্র’। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না
যে, বাষ্প হল পানির একটি শীতল ও শান্ত উড়ন্ত ধারা বা স্প্রে। পক্ষান্তরে ধুম্র হল একটি
উষ্ণ বায়বীয় পিণ্ড যা কিছু উড়ন্ত অনুকণা ধারণ করে। সূত্র: আল কুরআনের ১৬০ মুযিজা ও রহস্য-ড.মাজহার কাজি
বিং ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বঃ
মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব
অনুসারে মহাবিশ্ব একটি অতি ঘন বিন্দুবৎ অবস্থা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
১৯৬৫ সনে উইলসন ও
পেনজিয়াস 30k-সমান সমান তাপমাত্রা
বিকিরণের যে মাইক্রো তরঙ্গ বিকিরণ পটভূমি(cosmic wave background radiation)আবিষ্কার করেন সে আবিষ্কার
থেকে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে মাইক্রো তরঙ্গ বিকিরণের উৎস হলো বা একটি আদি
অগ্নিবলের(primeval fireball) উৎক্ষিপ্ত অবশেষ। এ আবিষ্কারের ফলে উইলসন ও পেনজিয়াস নোবেল পুরস্কারে
ভূষিত হন। G. Lemaitre এ আদি অগ্নিবলের নাম
দিয়েছেন primeval Atom. অতত্রব, মহাবিশ্ব সৃষ্টির মহাবিস্ফোরণ(Big Bang)যাঁর কুন Be আদেশ দ্বারা সংগঠিত
হয়েছে তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী মহামহিম আল্লাহ রব্বুল আলামীন। ৭ম শতাব্দীতে অবতীর্ণ আল-কুরআনে মহাজগতে সৃষ্টির Big Bang
theory স্পষ্ট আয়াত দ্বারা বিবৃত হয়েছে। এ তত্ত্ব আবিষ্কারে বিজ্ঞানীদের ১৪০০ বছর সময় লেগেছে। Big Bang theory সম্পর্কে আল-কুরআন বলছে-
যেমন কুরআনুল মাজীদের বর্ণনা-أَوَلَمْ
يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا
فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا
يُؤْمِنُونَ অর্থ:“যারা অবিশ্বাসীরা কি লক্ষ্য করে দেখে না যে,
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে
দিলাম এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে, তবুও কি
তারা বিশ্বাস করবে না?” সূরা আম্বিয়া-৩০
এই তত্ত্ব মতে আজ থেকে প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে
এই মহাবিশ্ব একটি ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থা থেকে সৃষ্টি হয়েছিল বিজ্ঞানের মতে সৃষ্টির শুরুতে এই মহাবিশ্ব ক্ষুদ্র একক
বিন্দুর মত ছিল এবং কোন অন্তর্বস্তু ছিল না, অর্থাৎ সৃষ্টির শুরু হয়েছিল
শূন্যতা বা অনস্তিত্ব থেকে। সূত্র: আল-কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান-৩৬৭ পৃ.
খুঁটিবিহীন, ত্রুটিমুক্ত আকাশ কে
সৃষ্টি করলো:
বিল্ডিং যত বেশী তলাবিশিষ্ট পিলার ততই মজবুত হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলো এত সুবিশাল
আকাশ কোন স্তম্ভ ব্যতীত দাঁড়িয়ে আছে কোন শক্তিতে, এই মর্ত্যলোকে কেউ দাবি করলো না যে, আমি আকাশ নির্মাণ করেছি? কুরআন মাজীদের বাণী- خَلَقَ
السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا অর্থ: ‘তিনি খঁটি ব্যতীত আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ।’ সূরা লোকমান-১০
الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ
طِبَاقًا مَا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ
هَلْ تَرَى مِنْ فُطُورٍ () ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنْقَلِبْ
إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ অর্থ: “তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টি ফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি? অত:পর তুমি বার বার
তাকিয়ে দেখ-তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে
ফিরে আসবে।” সূরা মুলক, ৩-৪
কাজেই যিনি একমাত্র দাবি করলেন, তিনিই মহান আল্লাহ।
সৌরজগতের গ্রহ ১১টি (The Solar System):
ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের মোট ৯টি গ্রহ আবিস্কার করেছিলেন। সে গ্রহ গুলোর নাম
হচ্ছে: ১. বুধ ২.শুক্র ৩.পৃথিবী ৪.মঙ্গল ৫.বৃহস্পতি ৬.শনি ৭ ইউরেনাস ৮.নেপচুন ৯.প্লুটো। বর্তমান আমাদের সৌরজগতের আরো ২টি নতুন গ্রহের
সন্ধান পাওয়া গেছে। তার একটির নাম ভলকান অপরটি প্লানেট এক্স। ফলে বর্তমানে ১১টি গ্রহ পূর্ণ হয়েছে। অথচ সৌরজগতের ১১টি গ্রহ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে
১৪০০ বছর আগেই হযরত ইউসূফ আ. এর স্বপ্নের বর্ণনা
দিতে গিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। যেমন- إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي
رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي
سَاجِدِينَ অর্থ: স্মরণ করুন, যখন ইউসুফ আ. তাঁর পিতাকে বলল, বাবা আমি এক স্বপ্নে
১১টি গ্রহ, সূর্য এবং চাঁদকে দেখেছি। আরও দেখেছি ঐ সব আকাশী বস্তু আমার প্রতি অবনত হতে।’
সূরা ইউসুফ-০৪
সুতরাং যিনি নির্ভুল তথ্য দিয়েছেন, তিনি মহান আল্লাহ বৈ কি?
চাঁদ একটি আলোকিত উপগ্রহ :
মহাকাশ বিজ্ঞানীগনণ বলছেন-পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী
প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ, তার নিজস্ব কোন আলো নেই, সূর্য থেকে আলো গ্রহণ করে। আগের
সভ্যতাগুলোর ধারণা ছিল, চাঁদের নিজস্ব আলো আছে। কিন্তু বিজ্ঞান বর্তমানে আমাদেরকে
বলে যে, চাঁদের আলো হচ্ছে প্রতিফলিত
আলো। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-تَبَارَكَ
الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا
مُنِيرًا অর্থ:
“কল্যাণময় তিনি যিনি নভোমণ্ডললে রাশিচক্র সৃষ্টি করিয়াছেন
এবং তাতে রেখেছেন প্রদীপ (সূর্য) ও জ্যোতির্ময়চন্দ্র।” সূরা ফুরকান-৬১
এ মহাসত্যটি আল-কুরআন বিশ্ববাসীকে
আজ থেকে সাড়ে ১৪শ’ বছর আগে এ তথ্যদিয়েছেন। সুতরাং যিনি নির্ভুল তথ্য দিয়েছেন
তিনিই মহান আল্লাহ।
মানব সৃষ্টির সূচনা:
ডারউনের বিবর্তন মতবাদ: ১৮৫৯ সালে ডারউইন তার Origin of Species নামক গ্রন্থে প্রমাণ
করতে চেষ্টা করেন, মানুষ মূলত পশুরই
ক্রমবিবর্তিত একটি রুপ মাত্র যা হাজার হাজার বছরের ক্রমউন্নতি ও ক্রমবিবর্তনের
মাধ্যমে জীবানু বিশেষ (Amoeba) থেকে বানর, অত:পর বানর থেকে বানর থেকে মানবাকৃতিতে রুপান্তরিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন প্রজাতির পর্ব
পার হয়ে মানুষ অতি উন্নত প্রজাতির একটি প্রাণী হয়ে উঠেছে।
ডারউনের বিবর্তন মতবাদের জবাব: ডারউইন যে বিবর্তনের কথা বলেছেন, প্রকৃতিতে এমনটি কখনো
বাস্তবে দেখা যায়নি। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন প্রজাতির পর্ব পার
হয়ে মানুষ অতি উন্নত প্রজাতির একটি প্রাণী হয়ে উঠেছে, তার এমন বক্তব্যের
সমর্থনে বিগত দুইশ’ বছরে কোনো প্রমাণ
খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং বর্তমান সময়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি প্রাণীর রয়েছে
আলাদা আলাদা নকশা। সেই নকশায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, এটি প্রমাণিত সত্য।
কোনো হাইপোথিসিস নয়, কেবল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর শারীরিক আকার-অবয়বে কিছুটা পরিবর্তন আনা সম্ভব। যেমন গাধা ও ঘোড়ার ক্রস
ব্রিডিংয়ে খচ্চরের উদ্ভব সম্ভব। আবার কুমড়ো ও লাউয়ের ক্রস করে এ দুইয়ের কাছাকাছি
অন্য একটি ফল সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটি জেনেটিক সায়েন্স। এর মাধ্যমে পরিবর্তনের একটি
নির্দিষ্ট মাত্রা ও সীমা রয়েছে। মূলগত কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
মানব সৃষ্টি নিয়ে বিভিন্ন সময় যেসব গবেষণা হয়েছে; তা সুনির্দিষ্ট কোনো
বক্তব্য দাঁড় করাতে পারেনি। প্রতিটি চিন্তাই মানুষের নির্ধারিত সময়ের গণ্ডিতে
আবদ্ধ ছিল। কোনো কালেই নির্ভুল ভাবনা
করতে পারেনি মানুষ। তবে স্রষ্টা যেসব কথা
বলেছেন, তা নিশ্চিত করে বলেছেন। যেমন: আল্লাহ পাক বলেন-يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا
رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا
وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا (১) অর্থ: ‘হে মানব জাতি। তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর,যিনি তোমাদেরকে এক
ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তারঁ থেকে
তাঁর সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাঁদের দু’জনের থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী।’ সূরা আননিসা-০১
সেসব কথায় কোনো বিচ্যুতি দেখা
যাচ্ছে না। সাড়ে চৌদ্দ শ’বছর আগে মানুষকে লক্ষ্য করে স্রষ্টা যা যা বলেছেন, প্রকৃতিতে ঠিক তেমনভাবেই তা
বিরাজমান। এর কোনো ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না। সুতরাং তিনিই মহান আল্লাহ।
(২) অতত্রব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু
থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্থলিত
পানি থেকে। এটা নির্গত হয় (পুরুষের) মেরুদণ্ড ও (মেয়েদের) বক্ষপাজরের মধ্য থেকে। সূরা তারিক, ৫-৭
নবজাতক শিশুর গঠনে নানান
মতামত-বির্তক ছিল। অবশেষে weÁvbx wjD‡qb ûK 1773 mv‡j mvaviY Abyex¶Y hš¿
Avwe®‹vi K‡ib| 1775 mv‡jweÁvbx ¯ú¨vjvÄvwb (Spallanzani)
cÖgvY K‡ib, পুরুষের শুক্রাণু Ges gwnjvi wW¤^vby DfqwUB GKwU beRvZ wkïi MV‡b
mgvb f~wgKv iv‡L| we¯§‡qi e¨vcvi nj, KziAvb gvwR` GB Z_¨ উল্লেখ K‡i‡Q eû kZvãx c~‡e©|
মানব সৃষ্টির ক্রমধারা: এ সম্পর্কে রব্বুলামীন বলেন-وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ
سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ (12) ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ (13)
ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً
فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ
أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
অর্থ: “আমি তো মানুষকে সৃষ্টি
করিয়াছি মৃত্তিকার উপাদান হইতে, অতঃপর আমি উহাকে শুক্র বিন্দুরূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ আধাঁরে; পরে আমি শুক্রবিন্দুকে
পরিণত করি “আলাক”-এ, অতঃপর আলাককে পরিণত
করি পিণ্ডে এবং পিণ্ডকে পরিণত করি অস্থিপঞ্জরে; অতঃপর অস্থি-পঞ্জরকে ঢাকিয়া দেই গোশত দ্বারা; অবশেষে উহাকে গড়িয়া
তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ কত কল্যাণময়!” সূরা মু’মিনূন,১২-১৪ উপরোক্ত আয়াতে পাঁচটি ধাপের
বর্ণনা রয়েছে—
প্রথম ধাপ : নুৎফা (نُطْفَه) –বীর্য, দ্বিতীয় ধাপ : ‘আলাক্বা (عَلَق)–রক্তপিণ্ড, তৃতীয় ধাপ : মুদাগহ (مُضْغَه) –গোশতের খণ্ড বা পিণ্ড, চতুর্থ ধাপ : ‘আযাম (عَظَمَ) –হাড় পঞ্চম ধাপ : গোশত দিয়ে হাড়কে ঢেকে
দেওয়া।
ডঃ মরিস বুকাইলি আর ডঃ কিথ এল মুর, মাতৃগর্ভে মানব ভ্রুণ যে
পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পায় এবং কোরআন যে বিস্ময়কর ভাবে তার বর্ণনা দেয়, এই ধারণা জনসাধারণের কাছে
জনপ্রিয় করে তুলেছেন। দাবি করা হয় যে, যেহেতু মানব ভ্রূণের এই ধাপগুলো কেবলমাত্র গত শতকে আবিষ্কার
করা হয়েছে, তাই কোরআন শরীফ যে এই তথ্য
৬০০ খ্রীষ্টাব্দে উল্লেখ করেছে তা এক অলৌকিক বৈজ্ঞানিক বিস্ময়। অতত্রব প্রমাণিত
হলো তিনিই মহান আল্লাহ।
আঙ্গুল ছাপের বিশেষত্ব:
বিজ্ঞানীরা
আঙ্গুলের ছাপ ও হস্তরেখার রহস্য উন্মোচনে গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। কিছু
উন্মোচিত হয়েছেও, তবে তা
যৎসামান্য। সত্য বলতে কী, ষোড়শ শতকে বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত ফিঙ্গারপ্রিন্টের রহস্য
নিয়ে আজও গবেষণা থেমে নেই। ১৬৮৪ সালে
সর্বপ্রথম ইংলিশ ফিজিসিয়ান, উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং অনুবিক্ষণ যন্ত্রবিদ নিহোমিয়া গ্রিউ (১৬৪৭-১৭১২) বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকীতে হাতের তালু ও আঙ্গুলের ছাপ রহস্যের সংযোগসূত্রের ধারণা উত্থাপন করেন। অতঃপর ১৬৮৫ সালে
ডাচ ফিজিসিয়ান গোভার্ড বিডলো (১৬৪৯-১৭১৩) এবং
ইটালিয়ান বিজ্ঞানী মারসিলো বিডলো (১৬২৮-১৬৯৪) এনাটমির ওপর
বই প্রকাশ করে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ইউনিক গঠনের আলোচনা উত্থাপন করেন। ১৬৮৪ সালের
পূর্বে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পর্কে আর কোনও বিজ্ঞানীর আলোকপাতের কথা পাওয়া যায় না।
এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়। ১৮০০ সালের পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট আবারও জোরালোভাবে
বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই বিজ্ঞানীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ১৮৭৫ সালে জেন জিন্সেন, খুলনার সৈয়দ
মুহাম্মাদ কাজী আজিজুল হক। ব্রিটিশ কর্মকর্তা এওয়ার্ড হেনরি। এই হেনরি আজিজুল হকের
আবিষ্কার চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পবিত্র
কুরআনে আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে এবং ১৬০০ সালের প্রায় এক হাজার বছর আগে
ফিঙ্গারপ্রিন্টের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং
তিনিই মহান আল্লাহ।
কুরআনের বাণী, “মানুষ
কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করতে পারবো না? বরং আমি তার আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত
সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।” আল কিয়ামাহ,৩-৪
পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের আঙ্গুলের ছাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পৃথিবীর সৃষ্টির প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে শেষ মানুষ পর্যন্ত কোনও দুইজনের
আঙ্গুলের ছাপ একই রকম হবে না। আঙ্গুলের ছাপের রেখার গঠন হয় মাতৃগর্ভের প্রথম তিন
মাসে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধারণা অনুযায়ী এ আঙ্গুলের ছাপেই মানুষের সকল বৈশিষ্ট্য
লিপিবদ্ধ করা থাকে। আঙ্গুলের ছাপকে জিনের
সংরক্ষিত তথ্যের মনিটর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জিনের বিকল্প কাজ শুধু এই আঙ্গুলের
ছাপ দিয়েই করা সম্ভব।
তথ্য সহযোগিতায় ইসমাঈল হোসেন দিনাজী
কে বৃষ্টি দ্বারা তামাম উদ্ভিদ উৎপন্ন করে? وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً
فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَأَخْرَجْنَا مِنْهُ
خَضِرًا نُخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُتَرَاكِبًا وَمِنَ النَّخْلِ مِنْ طَلْعِهَا
قِنْوَانٌ دَانِيَةٌ وَجَنَّاتٍ مِنْ أَعْنَابٍ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ
مُشْتَبِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ انْظُرُوا إِلَى ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ
وَيَنْعِهِ إِنَّ فِي ذَلِكُمْ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
অর্থ: ‘তিনিই আকাশ থেকে বর্ষণ করেছেন। অত:পর আমি এর
দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছি, অত:পর আমি এ
থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে
যুগ্ম বীজ উপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার
পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ কর যখন সেগুলো
ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে
ঈমানদারদের জন্যে।’ সূরা আনআম-৯৯
সবগুলো একই পানি পেয়ে থাকে
অথচ খেতে একটি অপরটি হতে বহুগুণে উত্তম। এ জন্যই
আল্লাহ পাক বলেন: হে লোকেরা! এগুলো আল্লাহ ব্যাপক ক্ষমতা ও পূর্ণ নৈপুণ্যের পরিচয় বহন
করছে। ঈমানদার লোকেরাই এগুলো বুঝতে পারে এবং তারাই আল্লাহ ও রাসূল সল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সত্যতা স্বীকার করে থাকে। সূত্র: তাফসীরে
ইবনে কাসীর, অনুবাদ-ড.মুহাম্মাদ মুজীবুর রহমান
প্রতিটি
প্রাণী পানি দ্বারা সৃষ্টি: وَاللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَابَّةٍ مِنْ
مَاءٍ فَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَى بَطْنِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَى
رِجْلَيْنِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَى أَرْبَعٍ يَخْلُقُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ অর্থ: ‘আল্লাহ
সমস্ত জীব সৃষ্টি করেছেন পানি হতে, ওদের কতক
পেটে ভর দিয়ে চলে, কতক দুই
পায়ে চলে, এবং কতক চলে চার
পায়ে, আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, আল্লাহ
সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।’ সূরা নূর-৪৫
যিনি একই দ্বারা নানা
প্রকারের মাখলুক বা সৃষ্টজীব সৃষ্টি করেছেন। সাপ প্রভৃতি প্রাণীকে দেখা যায় যে, ওগুলো পেটের ভরে চলে। মানুষ ও পাখী দুই পায়ে চলে এবং
জন্তুগুলো চলে চার পায়ে। তিনি বড়ই ক্ষমতাবান। তিনি যা
চান তা হয় এবং যা চান না তা কখনো হয় না। কার এমন ব্যাপক ক্ষমতা ও আধিপত্য? তিনিই মহান আল্লাহ। সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর-১৮১
অনুবাদ-ড.মুহাম্মাদ
মুজীবুর রহমান
কে আমাদের জন্যে
চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করছেন?لَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ
الْأَنْعَامَ لِتَرْكَبُوا مِنْهَا وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ (79) وَلَكُمْ فِيهَا
مَنَافِعُ وَلِتَبْلُغُوا عَلَيْهَا حَاجَةً فِي صُدُورِكُمْ وَعَلَيْهَا وَعَلَى
الْفُلْكِ تُحْمَلُونَ (80) وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَأَيَّ آيَاتِ اللَّهِ
تُنْكِرُونَ অর্থ: ‘আল্লাহই
তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন,কতক আরোহণ
করার জন্যে এবং কতক তোমরা আহারও করে থাকো। এতে তোমাদের জন্যে রয়েছে প্রচুর উপকার, তোমরা যা প্রয়োজন বোধ কর, এটা দ্বারা
তা পূর্ণ করে থাকো এবং এদের উপর ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়। তিনি
তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কোন কোন নিয়ামত
অস্বীকার করবে।’ সূরা মুমিন,৭৯-৮১
উট, গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া
ইত্যাদিকে আল্লাহ তায়লা মানুষের বিভিন্ন প্রকারের উপকারের জন্যে সৃষ্টি করছেন। ওগুলো
সওয়ারীর কাজে লাগে এবং কতগুলোর দুধ-গোস্ত
খাওয়া হয়। এগুলোর পশমও বহু কাজে লাগে। এসব দ্বারা তিনি আমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী
দেখিয়ে থাকেন। দুনিয়া জুড়ে এবং ওর প্রান্তে প্রান্তে, জগতের অণু-পরমাণুর
মধ্যে এবং স্বয়ং আমাদের নিজেদের জীবনের মধ্যে আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত বিদ্যামান
রয়েছে। সঠিক কথা তো এটাই যে, অগণিত
নিয়ামত রাশির কোন একটিকেও কোন লোক প্রকৃত অর্থে অস্বীকার করতে পারে না। তথ্য
সূত্রঃ তাফসীরে ইবনে কাসীর-১৬তম খণ্ড, ৪৪৬পৃষ্ঠা
রূহ বা
আত্মা কী, এর
নিয়ন্ত্রক কে?
আরবিতে প্রাণকে বলা হয় রূহ।
রূহ নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা করেছেন।
যেমন-(১) জার্মান
রসায়ন বিজ্ঞানী বলেছেন, মানুষ, গাছপালা ও পশু-পাখির শরীর
থেকে বিশেষ এক প্রকার জ্যোতি বের হয়। (২) বৃটিশ
ডাক্তার ওয়াল্টার কিলনান রঞ্জিত কাঁচের
ভেতর দিয়ে লক্ষ্য করেন, মানুষের
দেহের চারপাশে ৬-৮ সে.মি. পরিমিত
স্থান জুড়ে একটি উজ্জল আলোর আভা মেঘের মত ভাসে। (৩) সোভিয়েত বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গুরভিচ আবিষ্কার করেন যে, জীবন্ত সব কিছু থেকে বিশেষ একটি শক্তি আলোর আকারে বের হয় যা
খালি চোখে দেখা যায় না। কিরলিন ফটোগ্রাফির মাধমে প্রাণী দেহের বিচ্ছুরিত এ আলোক
রশ্মির ছবি তোলা হয়। যার উৎস হচ্ছে রূহ বা প্রাণ। কুরআনুল কারীমের কথা-
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ
الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ
إِلَّا قَلِيلًا অর্থ: ‘ওরা আপনাকে ‘রূহ’সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে আপনি বলে দিন, রূহ হচ্ছে আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আসা একটি বিশেষ হুকুম। তবে
এ বিষয়ে তোমাদের খুব সামান্য জ্ঞান দান করা হয়েছে।’ সূরা বানী ইসরাঈল-৮৫ সূত্র: আলকুরআনের বিষয় ভিত্তিক আয়াত-মাওলানা
রফিকুল ইসলাম মাদানী।
সুপ্রিয় পাঠক! পৃথিবীর কেউ কি জীবের ভেতর প্রাণ সঞ্চার(রূহ দিতে) এবং প্রাণ
হরণ করার (মৃত্যু দেয়ার) আছে? দুনিয়ার সব বিজ্ঞানীরা মিলে একটি গাছের পাতা তৈরী করতে
সক্ষম কি? পারলে দেখাক তো? আল্লাহ তা‘আলাচ্যালেঞ্জ করেন-يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ
مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ
يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ
شَيْئًا অর্থ:
‘হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতত্রব তা
মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা
আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা একটি
মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা
সকলে একত্রিত হয়।’ সূরা হজ্জ-৭৩
যিনি পারেন, নিয়ন্ত্রণ
করেন, তিনি মহান আল্লাহ।
পক্ষীকুলকে কে মহাশূন্যে স্থির রেখেছেন? আল্লাহ তা‘আলাবলেন-
(১) أَلَمْ
يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ مُسَخَّرَاتٍ فِي جَوِّ السَّمَاءِ مَا يُمْسِكُهُنَّ
إِلَّا اللَّهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
অর্থ: ‘Zviv wK Do¿¹ cvLx‡K †`‡L bv? GMy‡jv AvKv‡ki A¿¹ix‡¶ AvÁvaxb i‡q‡Q| Bõ¡q Qvov †KD GMy‡jv‡K AvM‡j iv‡L bv| wbðqB G‡Z
wek¦vmx‡`i R‡b¨ wb`k©bejx i‡q‡Q| m~iv bvnvj- 79
(২)أَوَلَمْ
يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ مَا يُمْسِكُهُنَّ
إِلَّا الرَّحْمَنُ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ অর্থ: ‘তারা কি লক্ষ্য করে না, তাদের মাথার উপর উড়ন্ত পক্ষীকুলের প্রতি পাখা বিস্তারকারী ও পাখা সংকোচনকারী? রহমান আল্লাহ-ই তাদেরকে স্থির রাখেন তিনি সব-বিষয় দেখেন।’ সূরা মুলক-১৯
পাখি সৃষ্টি করে তাকে উড়ার শক্তি দিয়েছেন, তিনিই মহান আল্লাহ।
কে মৌমাছিকে পাহাড়-গাছ-উঁচু চালে গৃহ নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন? পবিত্র কুরআনের বর্ণনা-
وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى
النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا
يَعْرِشُونَ (68) ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ
ذُلُلًا يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ
لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ (69) অর্থ:‘আর আপনার প্রতিপালক মৌমাছির অন্তরে এ কথা উদয় করে নির্দেশ দিলেন যে, গৃহ নির্মাণ কর কতক পাহাড়, কতক গাছ, আর মানুষ যে সব উঁচু ঘর নির্মাণ করে তার কতকে। তারপর সব রকম ফল হতে খাও এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রংয়ের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের চিকিৎসা। নিশ্চয় এতে বড় নিদর্শন রয়েছে সেই সব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।’ সূরা নাহল, ৬৮-৬৯
এই দুর্বল সৃষ্ট জীবের ঘরটি দেখতে বিস্মিত হতে হয়। এটা কতই না মজবুত. কতই না সুন্দর এবং কতই না কারুকার্য খচিত। তাদের নির্মিত অধিকাংশ চাকে বিশ হাজার পর্যন্ত ঘর থাকে।
একটি ছোট্ট প্রাণীর
পেট থেকে কেমন সুস্বাদু, উপাদেয় এবং রোগ
নিরাময়ের পানীয় বের হয়। অথচ প্রাণীটি স্বয়ং বিষাক্ত। বিষের মধ্যে রোগ নিরাময়ের এ উপাদান
কোন সত্তা সৃষ্টি করলেন? তিনিই মহান আল্লাহ। মধুর মধ্যে যে রোগ
নিরাময় ও বিভিন্ন উপকার হয়, আধুনিক চিকিৎসা-পুষ্টি বিজ্ঞান স্বীকার করে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে অথচ ৬১০
খৃষ্টাব্দে এ নির্ভুল তথ্য কুরআনুল কারীমে বর্ণনা করেছেন, তিনি মহান আল্লাহ। রাসূলুল্লাহ (সা.) একে ‘খাইরুদ্দাওয়া’বা মহৌষধ বলেছেন।
আয়ুর্বেদ এবং ইউনানি চিকিৎসা শাস্ত্রেও মধুকে বলা হয় মহৌষধ। নিম্নে মধুর নানাবিধ
গুণাগুণ তুলে ধরা হলোঃ
১. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। রক্তনালি প্রসারণের
মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে ।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি কর।
৩. দাঁতকে পরিষ্কার ও শক্তিশালী করে।
৪. মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা, যা দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে।
৫. দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।
৬.অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ও কোষকে ফ্রি
রেডিকলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
৭. বার্ধক্য অনেক দেরিতে আসে।
৮. মধুর ক্যালিরি রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ
বাড়ায়, ফলে রক্তবর্ধক হয়।
৯. যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগে বিশেষ করে
মহিলারা, তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক।
১০. আন্ত্রিক রোগের উপকারী। মধুকে এককভাবে ব্যবহার
করলে পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগের উপকার পাওয়া যায়।
১১.আলসার ও গ্যাস্ট্রিক রোগের জন্য উপকারী।
১২. দুর্বল শিশুদের মুখের ভেতর পচনশীল ঘায়ের জন্য
খুবই উপকারী।
১৩. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ মধু স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের কলা সুদৃঢ় করে;
১৪. মধুতে স্টার্চ ডাইজেস্টি এনজাইমস এবং মিনারেলস
থাকায় চুল ও ত্বক ঠিক রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে;
১৫. মধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে;
১৬. ক্ষুধা, হজমশক্তি ও রুচি বৃদ্ধি
করে;
১৭. রক্ত পরিশোধন করে;
১৮. শরীর ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে;
১৯. জিহ্বার জড়তা দূর করে ও মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর
করে;
২০. বাতের ব্যথা উপশম করে ও মাথা ব্যথা দূর করে।
২১. শিশুদের দৈহিক গড়ন ও ওজন বৃদ্ধি করে;
২২. গলা ব্যথা, কাশি-হাঁপানি এবং ঠাণ্ডা জনিত রোগে বিশেষ উপকার করে;
২৩. শিশুদের প্রতিদিন অল্প পরিমাণ মধু খাওয়ার
অভ্যাস করলে তার ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি সহজে হয় না;
২৪. শারীরিক দুর্বলতা দূর করে
এবং শক্তি-সামর্থ্য দীর্ঘস্থায়ী করে;
২৫
ব্যায়ামকারীদের শক্তি বাড়ায়;
২৬. মধু খাওয়ার সাথে সাথে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি
করে, ফলে শরীর
হয়ে উঠে সুস্থ, সতেজ এবং
কর্মক্ষম।
২৭. হৃৎপিণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করতে মধু্।
২৮.যৌন দুর্বলতায় মধু বিশেষ করে ধাতু দুর্বল(ধ্বজভঙ্গ) রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
২৯. চুল ও রুপের চর্চায় মধুর কার্যকারিতা পরীক্ষিত।
মধুতে যেসব উপাদান বিদ্যমানঃ শুনতে খুব অবাক লাগলেও এটা সত্য যে, মধুতে প্রায় ৪৫টিও বেশি
খাদ্য উপাদান থাকে। সাধারণত পুষ্টি উপাদান হিসেবে ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে
৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ থাকে।
শুধু তাই নয় আরো থাকে ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ, ২২ শতাংশ অ্যামাইনো
এসিড এবং ১১ ভাগ এনকাইম। এতে সাধারণত কোন চর্বি ও প্রোটিন নেই। প্রতি ১০০ গ্রাম
মধুতে থাকে ২৮৮ গ্রাম ক্যালরি।
খাঁটি মধুর কিছু বৈশিষ্ট্যঃ মধুর অনেক কিছু
বৈশিষ্ট্য আসে। তবে খাঁটি মধুর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আসে তা হলোঃ
১। খাঁটি মধুতে কখনো কোন কটু গন্ধ থাকে না। ২। সব থেকে মজার কথা হল মানুষের
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কোনো বিষাক্ত উপাদান প্রাকৃতিক গাছে থাকলেও তার কোন প্রভাব মধুতে থাকে না। ৩। মধু সংরক্ষণে কোনো প্রকার
পৃজারভেটিভ জাতীয় উপাদান ব্যবহৃত হয় না। কারণ মধু নিজেই পৃজারভেটিভ গুণাগুণ
সম্পন্ন পুষ্টিতে ভরপুর একটি খাদ্য। ৪। খাঁটি মধু উৎপাদন, নিষ্কাশন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও বোতলজাতকরণের
সময় অন্য কোনো প্রকার পদার্থের সংমিশ্রণ প্রয়োজন হয় না। ৫। আপনি খাঁটি মধু পরীক্ষা করতে চাইলে একটা কাজ করতে পারেন। আপনি খাঁটি মধু পানির গ্লাসে ড্রপ আকারে ছেড়ে দিন খাঁটি মধু
হবে ড্রপ অবস্থায়ই গ্লাসের নিচে চলে যাবে।
অবশ্যই (মৌমাছি সৃষ্টিতে) এতে রয়েছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে অর্থাৎ হে মানব মণ্ডলী! মৌমাছির মত অতিদুর্বল শক্তিহীন প্রাণী তোমাদের জন্যে মধু ও মোম তৈরি করা, স্বাধীনভাবে বিচরণ করা, বাসস্থান ভুলে না যাওয়া এবং তাদের জীবন ব্যবস্থা মানুষের রাজনীতি ও শাসননীতির সাথে চমৎকার খাপ খায়। সমগ্র আইন-শৃঙ্খলা একটি বড় মাছির হাতে থাকে এবং সে-ই থাকে মৌমাছির কুলের শাসক। তাঁর অবাবনীয় ব্যবস্থা ও অলঙ্ঘনীয় আইন ও বিধিমালা দেখে মানব-বুদ্ধি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যায়।
সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর ১৩ তম খণ্ড, ১৯৩ পৃ., তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন,৭৪৮পৃ. মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ., তাফসীরে বুরহানুল কুরআন, ২য় খণ্ড, ২৫৫, উইকিপিডিয়া, কে এম খালেকুজ্জামান*ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব), মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, শিবগঞ্জ, বগুড়া, মৌমাছি পালন ও মধুর উপকারিতা, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বাংলাদেশ কৃষি মণ্ত্রণালয়।
আসমান-যমীনের মালিকনা কার? বাণী- أَلَمْ
تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا لَكُمْ مِنْ
دُونِ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ অর্থ: “তুমি কি জান না যে, আল্লাহর জন্যই নভোমণ্ডল-ভূমণ্ডলের
আধিপত্য? আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই।” সূরা
বাকারা-১০৭
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ
إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
فَانْفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ (33) فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا
تُكَذِّبَانِ অর্থ: “হে জিন ও মানবকুল! নভোমণ্ডলল-ভূমণ্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম
করতে পারবে না। অতত্রব, তোমরা উভয়ে
তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?” সূরা আর-রহমান, ৩৩-৩৪
কুরআন পাকের এই ঘোষণা সাড়ে
চৌদ্দশত বছর হয়ে গেল জীন-মানবকুলের
কেউ আসমান-জমিনের সীমানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দু:সাহস দেখালো না। সুতরাং যার কর্তৃত্বে আসমান-জমীন, তিনিই মহান
আল্লাহ।
কে রাতকে
দিনের এবং দিনকে রাতের মধ্যে দাখিল করেন?
ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ يُولِجُ
اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَأَنَّ اللَّهَ
سَمِيعٌ بَصِيرٌ অর্থ: ‘এটা এজন্য
যে, আল্লাহ তা‘আলার (শক্তি বিপুল। তিনি) রাতকে
দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে
প্রবিষ্ট করান।
আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু
দেখেন।’ সূরা হজ্জ-৬১
এক মওসুমে যেটা থাকে দিনের
অংশ অন্য মওসুমে সেটা রাত হয়। আবার এক মওসুমে যেটা রাতের অংশ অন্য মওসুমে সেটা
দিন।(তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন-মুফতি তকী
উসমানী দা.বা.) ফেরাউন-হামান-নমরুদ এর
গোষ্ঠি পারলে রাত দিনকে পরিবর্তন করে দেখাক? সুতরাং
যিনি পারেন, তিনি মহান আল্লাহ।
বিশ্বজগতের
সবকিছুই কার তাসবীহ পাঠ করে? নভোমণ্ডল
ও ভূমণ্ডলে সবাই যার তাসবীহ-গুণকীর্তন
করে; তিনিই মহান আল্লাহ। এ সম্পর্কে
কুরআন কারীমের ঘোষণা হলো- أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُسَبِّحُ
لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالطَّيْرُ صَافَّاتٍ كُلٌّ قَدْ عَلِمَ
صَلَاتَهُ وَتَسْبِيحَهُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ অর্থ: ‘তুমি কি দেখ না যে, আসমান-যমীনে যারা আছে, তারা এবং
উড়ন্ত পক্ষীকুল তাদের পাখা বিস্তার করত: আল্লাহর
পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকই তার যোগ্য
ইবাদত এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জানে। তারা যা যা করে আল্লাহ
সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।’ সূরা নূর-৪১
সূরা বনী ইসরাঈলে আল্লাহ তা‘আলাবলেছেন ইরশাদ করেছেন, বিশ্বজগতের
প্রতিটি বস্তু আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে। কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পার
না-৪৪। প্রত্যেক
জিনিসের তাসবীহ পদ্ধতি আলাদা। বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তু আপন-আপন পন্থায় আল্লাহ তা‘আলার
তাসবীহ আদায়ে রত আছে। দুনিয়ায় আমরা যে সকল বস্তুকে অনুভূতিহীন মনে করি, তাদের মধ্যে কিছু না কিছু অনুভূতি অবশ্যই আছে। এখন আধুনিক
বিজ্ঞানও একথা ক্রমশ স্বীকার করছে। সূত্র: তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন-মুফতি তকী
উসমানী দা.বা
কে রাতকে
করেছেন আবরণ- ঘুম
বিশ্রাম ও দিনকে জীবিকার জন্য?وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ
اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا অর্থ: ‘এবং তিনিই তোমাদের জন্যে
রাত্রিকে করেছেন আবরণ স্বরূপ, বিশ্রামের
জন্যে তোমাদের দিয়েছেন নিদ্রা এবং বাহিরে গমনের
জন্যে দিয়েছেন দিবস।’ সূরা ফুরকান-৪৭
রাত্রি আবরণ দ্বারা সব কিছুকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। যেমন তিনি অন্য
জায়গায় বলেন- অর্থাৎ ‘শপথ রজনীর, যখন সে আচ্ছন্ন করে’। সূরা লাইল -০১
বিশ্রামের জন্যে তোমাদের দিয়েছেন নিদ্রা অর্থাৎ দেহের বিশ্রামের জন্যে গতিশীলতা
বন্ধ করে দিয়েছেন। কেননা, দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলো দিনের বেলায় জীবিকা উপার্জনের জন্যে গতিশীল
থাকে বলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অত:পর যখন
রাত্রি আসে তখন গতিশীলতা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেহ আরাম পায়। আর এর ফলে ঘুম এসে যায়
এবং এতে একই সাথে দেহ ও আত্মা শান্তি ও বিশ্রাম করে। বান্দার জন্য এতসব করলেন
তিনিই মহান আল্লাহ। সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর
কে আসমান
হতে বিশুদ্ধ পানি বর্ষণ করে? وَهُوَ
الَّذِي أَرْسَلَ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ وَأَنْزَلْنَا مِنَ
السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا (48) لِنُحْيِيَ بِهِ بَلْدَةً مَيْتًا وَنُسْقِيَهُ
مِمَّا خَلَقْنَا أَنْعَامًا وَأَنَاسِيَّ كَثِيرًا (49) وَلَقَدْ صَرَّفْنَاهُ
بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوا فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا অর্থ: ‘তিনিই স্বীয় রহমত (অর্থাৎ
বৃষ্টি)-এর আগে সুসংবাদবাহী রূপে বায়ু প্রেরণ করেন এবং আমি আকাশ হতে
বিশুদ্ধ পানি বর্ষণ করি। যাদ্বারা আমি মৃত ভূ-খণ্ডকে
সঞ্জীবিত করি এবং আমার সৃষ্টির মধ্যে বহু জীব-জন্তু ও
মানুষকে তা পান করাই। আর আমি মানুষের কল্যাণার্থে তাকে (পানিকে) আবর্তমান করে, যাতে তারা
শিক্ষা গ্রহণ করে, কিন্তু
অধিকাংশ লোক শুধু অকৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করে। সূরা
ফুরকান, ৪৮-৫০
এটাও তাঁর পূর্ণ ও ব্যাপক
ক্ষমতার পরিচায়ক যে, তিনি মেঘের
(বৃষ্টির) আগমনের
সুসংবাদবাহী রূপে বায়ু প্রেরণ করেন। এরপরে ঘোষিত হচ্ছে: আর আমি আকাশ হতে বিশুদ্ধ-পবিত্র
পানি বর্ষণ করি। তহুর-এর অর্থ
হলো অতি পবিত্র এবং যা অন্য কিছুকেও পবিত্র করে থাকে। সাবিত আল বানানী রহ.বলেন: আমি একদা
বর্ষার দিনে আবুল আলিয়া রহ.-এর সঙ্গে
চলতে থাকি। ঐ সময় বসবার পথগুলো ময়লাযুক্ত থাকতো। তিনি নামায পড়লেন। তখন আমি তাঁকে
এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেন, আল্লাহ তা‘আলাবলেছেন: আমি আকাশ হতে বিশুদ্ধ পানি
বর্ষণ করি। সুতরাং আকাশ হতে বর্ষিত পানি এগুলোকে পবিত্র করেছে।
হযরত ইকরামা রহ.বলেন যে, যখনই
আল্লাহ তা‘আলাআকাশ থেকে বৃষ্টির ফোঁটা বর্ষণ করেন তখনই যমীনে উদ্ভিদের
জন্ম হয় অথবা সমুদ্রে মণিমুক্তা জন্ম হয়। অন্য কেউ বলেন যে, স্থলে গম ও সমুদ্রে মুক্তার সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের পানি
দ্বারা কোন উদ্ভিদ জন্মে না। সূত্র: তাফসীরে
ইবনে কাসীর
‘পানিকে আবর্তমান করে রাখা’-এর এক অর্থ,আল্লাহ তা‘আলামানুষের মধ্যে নিজ হেকমত
অনুযায়ী এক বিশেষ অনুপাত ও সঙ্গতি রক্ষা করে পানি বণ্টন করে থাকেন। সেই সঙ্গে এ
অর্থও হতে পারে যে, পানির মূল
উৎস হল সাগর। সেখানে আল্লাহ তা‘আলামেঘের মাধ্যামে তা উপরে
তুলে আনেন। এবং বরফ আকারে পাহাড়-পর্বতে জমা
করেন। তারপর সে পানি গলে গলে নদ-নদীতে
পরিণত হয়। নদীর প্রবাহিত জলধারা দ্বারা মানুষ তাদের প্রয়োজন সমাধা করে। ফলে স্বচ্ছ
ও পবিত্র পানি নষ্ট ও দূষিত হয়ে যায়। তারপর আবার তাদের পানি নদী-নালা হয়ে সাগরে পতিত হয় এবং সাগরের পবিত্র জলরাশির সাথে
মিশে তার সমস্ত ক্লেদ খতম হয়ে যায়। ফের পানি মেঘের মাধ্যমে উপর তুলে আনা হয়। সূত্র: তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন-৪৬১ পৃ.
বৃষ্টির পানি পান করা এবং নানাবিধ উপকারিতা জেনে নিন।
১) হজমশক্তি বাড়ায় বৃষ্টির পানিতে থাকে
অ্যালকালাইন pH যা অ্যাসিডিটি কমায়, হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
২) রাসায়নিকমুক্ত পানিট্যাপের পানি জীবাণুমুক্ত করতে ক্লোরিন
ব্যবহার করা হয়। আর ফ্লোরাইড আসে মাটির নিচ থেকে। বেশি মাত্রায় ক্লোরিন বা
ফ্লোরাইড পেটে গেলে গ্যাসট্রাইটিস,
মাথাব্যথার মতো সমস্যা বাড়ে। বৃষ্টির পানিতে ফ্লোরাইড বা
ক্লোরিন, কোনটিই থাকে না।
৩) ক্যান্সার বিরোধীবৃষ্টির পানিতে থাকা অ্যালকালাইন pH ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখে
দেয়। ক্যান্সার রোগীদেরে ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে
বৃষ্টির জল।
৪) পাকস্থলীর সমস্যা দূর করে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২
থেকে ৩ চামচ বৃষ্টির পানি খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি বা আলসার থাকলে তা ওষুধের
কাজ করে।
৫) বৃষ্টির পানি সুন্দর চুল করে কোনও মিনারেলস না থাকায়, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত কোমল।
এই
পানিতে মাথা ধুতে পারলে শ্যাম্পু বা সাবানের চেয়েও ভাল কাজ
দেয়।
৬) ত্বকের পক্ষে উপকারীসুন্দর সুস্থ ত্বক পেতে হলে, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত উপযোগী। সুগন্ধি সাবানে থাকে
অ্যাসিডিক pH যা ত্বককে রুক্ষ ও প্রাণহীন
করে দেয়। বৃষ্টির পানিতে সেসবের বালাই নেই। ৭) জ্বালা ও ব্যাকটেরিয়া নাশকবৃষ্টির পানি কোষে জমে থাকা খারাপ
ব্যাকটেরিয়াকে সাফ করে দেয়। ত্বকের জ্বালাও দূর হয়।
৮) বৃষ্টির পানিতে কোন প্রকার দূষিত পদার্থ থাকে না বিধায় বৃষ্টির পানি সম্পূর্ণ
বিশুদ্ধ।
৯) বৃষ্টির পানিতে ক্ষার
থাকে না বিধায় সাবান বা ডিটারজেন্টের চেয়ে অনেক ভালো ও সুন্দর কাজ করে। তাই
বৃষ্টির পানি দিয়ে কাপড় ধুলে কাপড়ের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
১০) বৃষ্টির পানি দিয়ে
গৃহস্থালীর বিভিন্ন তৈজসপত্র ধুলে এদের উজ্জ্বলতা বাড়ে। নতুনের মত চকচক করে।
১১) বৃষ্টির পানি পশুপাখি, কীটপতঙ্গের জন্য ও বিশেষ
উপকারী। এসব প্রাণী ও বৃষ্টির পানি খেতে পছন্দ করে।
১২) বৃষ্টির পানি মুখের
ব্রনের জন্য উপকারী, তাই প্রতিদিন বৃষ্টির পানি দিয়ে মুখ ধুলে ব্রন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৃষ্টি দেখে আর ঘরে বসে থাকা নয়। প্রাণ ভরে ভিজুন। বৃষ্টির পানি পান করুন। তবে ঠান্ডা যেন না লাগে
সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, শিরোনাম .কম
কে
সাগরবক্ষে মিষ্টি ও লোনা পানিকে পৃথক করে রেখেছেন? কুরআনুল
মাজীদের দু’টি জায়গায় পানির একটি বিশেষ নীতি প্রকৃতির বর্ণনা করা
হয়েছে। বলা হচ্ছে-(১) وَهُوَ
الَّذِي مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ هَذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ وَهَذَا مِلْحٌ أُجَاجٌ
وَجَعَلَ بَيْنَهُمَا بَرْزَخًا وَحِجْرًا مَحْجُورًا অর্থ: ‘তিনিই দুই সমুদ্রকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেছেন, যার একটি মিষ্টি, তৃপ্তিকর
এবং একটি লোনা, অত্যন্ত
খর। উভয়ের মাঝখানে রেখে দিয়েছেন এক আড়াল ও এমন প্রতিবন্ধক, যা (দুটির) কোনটি অতিক্রম করতে পারে না।’ সূরা
ফুরকান-৫৩
(২)مَرَجَالْبَحْرَيْنِيَلْتَقِيَان-بَيْنَهُمَابَرْزَخٌلَايَبْغِيَانِ “তিনি
প্রবাহিত করেন দুই দরিয়া যারা পরষ্পর মিলিত হয়, কিন্তু
ওদের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরাল যা ওরা অতিক্রম করতে পারে না।” সূরা রহমান, ১৯-২০
নদ-নদী ও সাগরের সঙ্গমস্থলে এ রকম দৃশ্য সকলেরই চোখে পড়ে। দুই
রকম পানির
স্রোতধারা পাশাপাশি ছুটে চলে, অথচ একটি আরেকটির সাথে মিশ্রিত হয় না। রোম
সাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে দেখা যায় একটির
পানি অপরটি অপেক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আবার জিব্রাল্টার প্রণালী যেখানে ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর মিলিত হয়
সেখানেও একই চিত্র! আবার আলাস্কা উপসাগরের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে দুই ধরনের পানির
স্রোতরেখা। এক স্রোতরেখার পানির সঙ্গে আরেক পানি মেশে না। (প্রশান্ত
মহাসাগরের শাখা হচ্ছে আলাস্কা উপসাগর।) অর্থাৎ দু’পাশের পানি সম্পূর্ণ আলাদা!
এভাবে আরো অনেক
উদাহারণ বিদ্যমান। গুগোলে Two
color river
নামে page-এ এসব পিকচার একত্রিত করা হয়েছে। দূর-দূরান্ত তাদের বৈশিষ্ট্য আলাদাভাবে
চোখে পড়ে। এটাই সেই বিস্ময়কর প্রতিবন্ধক, যা উভয়ের কোনটিকে অন্যটির
সীমানা ভেদ করতে দেয় না। কার ক্ষমতাবলে এভাবে প্রবাহিত হচ্ছে, তিনি আর কে ? তিনিই মহান আল্লাহ।
উপরোক্ত আয়াতগুলোতে পানির যে বহিঃপ্রকাশের
উল্লেখ করা হয়েছে তা প্রাচীনতম যুগ থেকে মানুষের জানা থাকলেও এই ঘটনা প্রকৃতির কোন
নিয়মের অধীনে ঘটে চলছে তার কারণ অতি সম্প্রতি জানা গেছে। আধুনিক পরীক্ষা দ্বারা
প্রমাণিত হয়েছে যে, তরল পদার্থের মধ্যে পৃষ্ঠ প্রসারণ (Surface
Tension)-এর একটি
বিশেষ নিয়ম রয়েছে এবং এই নিয়মই উভয় প্রকার পানিকে পৃথক রাখে। উক্ত আয়াতদ্বয়ে যে
বরযাখ বা অন্তরাল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত পৃষ্ঠ
প্রসারণ (Surface Tension)-এর দিকেই
ইংগিত করছে। যার মহা কুদরতে পৃথক আছেন, তিনিই মহান
আল্লাহ। সূত্র: তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন-৪৬১ পৃ. মাকতাবুল আশরাফ, ড. ওয়াহীদুদ্দীন
খান, আধুনিক চিন্তাধারা বনাম ধর্ম, পৃ. ১৫৯।
কে শুধুই থাকবেন, বাকি সবাই ধ্বংস হবে? পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে কেউ দাবি করেনি যে, আমি চিরকাল থাকবো, আমার লয় নাই ক্ষয় নাই। বরং
বিজ্ঞানীরা বলছে- বিজ্ঞানীদের গবেষণায় পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার প্রাকৃতিক কিছু কারণ .. সুপার
আগ্নেয়গিরিঃ
সুপার আগ্নেয়গিরি জেগে উঠলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। সারা পৃথিবী জুড়ে রয়েছে শতশত আগ্নেয়গিরি তাদের
মধ্যে রয়েছে কিছু সুপ্ত ও কিছু জীবন্ত আগ্নেয়গিরি এদের সংখ্যা প্রায় ৫০০। এই আগ্নেয়গিরির ভেতরে মোট ৪টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যাদের ভেতরে রয়েছে পৃথিবীকে
ধ্বংস করে দেওয়ার মতন ক্ষমতা। আর এই চারটি আগ্নেয়গিরিকেই ডাকা হয় সুপার আগ্নেয়গিরি
নামে।এই চারটি বিশেষ আগ্নেয়গিরির নাম হচ্ছে- আমেরিকার ইয়োলোস্টাইন, ইন্দোনেশিয়ার লেক টোবা, নিউজিল্যান্ডের টাউপো
ও জাপানের অ্যায়রা কালডেরা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড়
আগ্নেয়গিরি হলো আমেরিকার ইয়েলোস্টোন । এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সুপার আগ্নেয়গিরি। আর এগুলি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, এই চার আগ্নেয়গিরির
কোনো একটা উদগীরণ করলেও সেটি প্রায় ২০০০ মিলিয়ন সালফিউরিক এসিড বের করে দেবে যাতে
কেবল পৃথিবী একা নয়, ঢাকা পড়বে সূর্যও! উল্কা বিস্ফোরণঃ
সাধারণত মহাকাশে বিভিন্ন ধুমকেতুর ধ্বংসাবশেষ থেকে উল্কা বিস্ফোরণ সৃষ্টি হয়। পূর্বে এই
পৃথিবীতে বাস করতো বিশাল আকার ডাইনোসরেরা। আর তাদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে দায়ী করা হয় একটি
উল্কাকে। মনে করা হয় পৃথিবী থেকে ৬ মাইল দূর দিয়ে যাওয়ার সময় তার উল্কা বর্ষণ, পৃথিবীতে বসবাসকারী
সমস্ত প্রাণীকে মেরে ফেলেছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা যদি মানুষ এবং এই পৃথিবী ধ্বংস
হয়ে যায় তাহলে তার কারণও হবে একটি উল্কা। সূর্যরশ্মি ঝড়ঃ বৈজ্ঞানিকরা বলছেন সূর্যরশ্মি
আমাদের গ্রহে খুব দ্রুত এসে উপস্থিত হয় এবং ছড়িয়ে দেয় আলো আর উষ্ণতা। তবে সেটা
একটু পাল্টে যায় ঠিক ১১ বছর পরপর। প্রত্যেক ১১ বছর অন্তর সূর্যের জীবনে আসে সোলার
ম্যাক্স, তখন সূর্য থেকে নিরগাত হয় সবচাইতে শক্তিশালী এক রশ্মি। আর খুব দ্রুত সেটা এসে
আঘাত হানে পৃথিবীতে। সূর্যের উপস্থিতি
পৃথিবীর টিকে
থাকবার জন্যে প্রচণ্ড দরকার। গাছপালা, মানুষ, পশু-পাখি, এমনকি নদ-নদী ও সমুদ্রসহ জলের সমস্ত উৎসের ঠিকঠাক টিকে থাকবার জন্য
আমাদের দরকার এই সূর্য। বিজ্ঞানীদের মতে, যদি এমন ভাবে চলতে
থাকে তাহলে পৃথিবীতে প্রাণকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম মাধ্যম এই সূর্যই একদিন হয়ে উঠতে
পারে পৃথিবীর ধ্বংসের কারণ। ভূ-গর্ভস্থ গ্যাসঃ
সাগরগুলো নিরীহ ও সুন্দর দেখালেও এর নিচে লুকিয়ে রয়েছে পৃথিবী ধ্বংসের আরও
একটি সম্ভাব্য কারন, বিজ্ঞানীদের কথানুসারে সাগরগুলির একদম গভীরে রয়েছে
ক্ল্যাথরেটস নামের একটি স্তর যেখানটায় জমা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস।
এমনিতে এই গ্যাস সাগরের তলাতেই চাপা পরে থাকে তবে দিনকে দিন যে হারে গ্রীন হাউজ
এফেক্ট কাজ করছে তাতে বৈজ্ঞানিকরা আশঙ্কা করছে হঠাৎ করেই হয়তো একদিন জলের নীচ থেকে
বেরিয়ে বোমার মতন বিস্ফোরিত হবে এই মিথেনের স্তর। আর তখনই প্রচণ্ড শক্তিশালী কোনো
বোমার আঘাতের মতন তছনছ হয়ে যাবে পৃথিবী। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া মুক্তবিশ্ব
কোষ http://headntails.net/
বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ ও কসমোলজিস্ট স্টিফেন হকিং মৃত্যুর আর আগেই তা ভবিষ্যদ্বাণী
করেছিলেন। নিজের জীবদ্দশায়
বারবার সেকথা জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ধ্বংসের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। আর বেশিদিন নেই। বিপর্যয়ে ধ্বংস হয়ে
যাবে পৃথিবী। তিনি ৬টি কারণ উল্লেখ
করেছেন তার ধারণামতে-
১) উল্কাপাত: আর ৬০০ বছরের মধ্যেই আমরা, পৃথিবীবাসীরা মারা যাব। উল্কাপাত ঘটবে বিশ্বজুড়ে। লাল হয়ে জ্বলবে গ্রহ।
নভেম্বরে বেজিংয়ে Tencent WE Summit-এ একথা বলেছিলেন
স্টিফেন হকিং৷ তিনি বলেছিলেন ২৬০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা দাঁড়াবে কানায় কানায়৷ ফলে
বৈদ্যুতের খরচ পৃথিবীকে লাল গোলায় পরিণত করবে৷
২) রাজত্ব করবে রোবটরা: মানব সভ্যতার দিন শেষ
হবে। পৃথিবীজুড়ে রাজত্ব
করবে রোবটরা৷ একটি সাক্ষাৎকারে প্রফেসর হকিং একথা বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন, মানুষের জায়গা নেবে
মানুষেরই হাতে তৈরি রোবটরা। মানুষ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করতে চায়। কিন্তু একদিনই এরই
হাতের পুতুল বয়ে যাবে মানুষ।
৩) পারমাণবিক শক্তি মানুষের আক্রমণ: অভিব্যক্তির কুপ্রভাব
আর কয়েক বছরের মধ্যেই টের পাবে মানুষ। পারমাণবিক শক্তি নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন একে অপরকে
আক্রমণ করতে চায়। হানাহানি শুরু হয়ে
গিয়েছে। এর শেষ পৃথিবীর ধ্বংস। সেখানে প্রযুক্তি
একটি বড় অস্ত্র। সেই অস্ত্রগুলির মধ্যে
সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তি। পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার এটি অন্যতম কারণ হতে পারে। ৪) অন্য বাসস্থান খুঁজবে মানুষ: আর ১০০ বছর। তার মধ্যেই অন্য বাসস্থান খুঁজবে মানুষ।
যদি না খোঁজে, তাহলে আবহাওয়ার পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি সহ একাধিক কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে
মানব সমাজ।
৫) ডোনাল্ড ট্রাম্প : মে মাসে(২০১৯) ডোনাল্ট ট্রাম্প
বলেছিলেন তিনি প্যারিসে ক্লাইমেন্ট চেঞ্জের চুক্তিতে সই করবে না। এই নিয়েই হকিং
বলেছিলন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব উষ্ণায়নতে ত্বরান্বিত
করবে। পৃথিবী শুক্রগ্রহে পরিণত হবে। উষ্ণতা আড়াইশো ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলবে। আকাশ থেকে
বর্ষিত হবে সালফিউরিক অ্যাসিড। ৬) নতুন আইডিয়া হতে পারে ধ্বংসের কারণ: নতুন আইডিয়া সব সময়ই স্বাগত। কিন্তু এমন কিছু আইডিয়া আসতে
চলেছে যা পৃথিবীর ধ্বংসের কারণ হতে পারে। বলেছিলেন স্টিফেন হকিং সময় যত এগোবে বিজ্ঞান
ও প্রযুক্তি তত উন্নত হবে। ফলে পারমাণবিক
যুদ্ধ, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ানড ভাইরাস
বাড়বে। আর তার ফলে ধ্বংস হত পারে পৃথিবী। সুপ্রিয় পাঠক! বিজ্ঞানীরা পৃথিবী ধ্বংসের যেসব কারণ গুলো উল্লেখ
করেছেন, তা তাদের ধারণা বা গবেষণামাত্র যে, উল্লেখিত কারণে পৃথিবী
ক্ষতিগ্রস্থ বা ধ্বংস হতে পারে। আসল কথা হলো- যাঁর ‘কুন’ আদেশ দ্বারা
মহাবিশ্বের সৃষ্টি আবার তাঁরই আদেশে পৃথিবী তথা মহাবিশ্ব ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। যেমন
কুরআনুল কারীমের বর্ণনা- ْإِنْ كَانَتْ
إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ অর্থ: ‘এটা হবে এক মহাবিস্ফোরণ। অতপর তারা সবাই আমার সমীপে উপস্থিত হবে।’ সূরা ইয়াসীন-৫৩
Closed Big bang বা Closed Universe তত্ত্বে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে Closed হওয়ার পর এমন এক শক্তিধর সত্তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠবে, যিনি মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ শক্তি দ্বারা সমগ্র সৃষ্টি জগতকে
ধারণ করে রেখেছিলেন। তাহরে এ মহা শক্তিধর সত্তা কে? তিনিই মহান
আল্লাহ। সূত্র: খুতবা-১৫১ পৃ., বাংলাদেশ
সেনাবাহিনী
সুতরাং প্রমাণিত হলো কেউ বা
কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়, একমাত্র
মহান সত্তা তিনিই দাবি করেছেন যে তিনি অবশিষ্ট থাকবেন, অতত্রব তিনিই মহান আল্লাহ। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী-كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ (26)
وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ অর্থ:‘ভূ-পৃষ্ঠে
যত কিছু আছে সবই নশ্বর, অবিনশ্বর শুধু তোমার প্রতিপালকের সত্তা, যিনি মহিমময়, মহানুভব।’ সূরা রহমান,২৬-২৭ রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: কবি লাবীদ
একটি চরম সত্য কথা বলেছেঃ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই বাতিল অসার। সুতরাং যিনি
চিরস্থায়ী ও সদা বিরাজমান। তিনিই
মহান আল্লাহ।
বিপদকালে
একনিষ্ঠভাবে কাকে ডাকে? (১)فَإِذَا
رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا
نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ অর্থ: ‘ তারা যখন নৌকায় চড়ে, তখন তারা
আল্লাহকে এভাবে ডাকে যে, তাদের
সম্পূর্ণ বিশ্বাস একনিষ্ঠভাবে তাঁরই উপর থাকে। তারপর তাদেরকে উদ্ধার করে যখন স্থলে
নিয়ে আসেন, অমনি তারা শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়ে।’ সূরা আনকাবুত-৬৫
(২) وَإِذَا
مَسَّكُمُ الضُّرُّ فِي الْبَحْرِ ضَلَّ مَنْ تَدْعُونَ إِلَّا إِيَّاهُ فَلَمَّا
نَجَّاكُمْ إِلَى الْبَرِّ أَعْرَضْتُمْ وَكَانَ الْإِنْسَانُ كَفُورًا অর্থ: ‘সমুদ্রে যখন তোমাদেরকে কষ্ট ও
বিপদাপদ স্পর্শ করে তখন যাদেরকে ডাকতে তাদের সবকে ভুলে গিয়ে একমাত্র তাঁকেই ডেকে
থাকো, অতঃপর যখন তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়ে স্থলভাগে নিয়ে আসেন
তখন তোমরা তাঁর থেকে বিমুখ হয়ে যাও।’ সূরা ইসরা-৬৭
(৩)وَمَا
بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ
تَجْأَرُونَ (53) ثُمَّ إِذَا كَشَفَ الضُّرَّ عَنْكُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْكُمْ
بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ (
অর্থ: ‘তোমাদের কাছে যে সমস্ত নেয়ামত আছে। অতঃপর তোমরা যখন দঃখে-কষ্টে পতিত হও তখন তাঁরই নিকট কান্নাকাটি কর। এরপর যখন আল্লাহ
তোমাদের কষ্ট দুরীভূত করে দেন, তখনেই
তোমদের একদল স্বীয় পালনকর্তার সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করতে থাকে।’ সূরা নাহল-৫৩
মানুষ যখন বিপদাপদে পতিত হয়
মুক্তির জাগতিক উপায়-উপকরণ না
থাকলে কায়োমনবাক্যে-অন্তরের
অন্তরস্থল থেকে যে মহান সত্তাকে ডাকে, তিনিই মহান
আল্লাহ। সেসময় কোন ব্যক্তি কোন মূর্তি-দেব-দেবীকে
স্মরণ করে না, ডাকে না । তখন সাহায্যের জন্য কেবল আল্লাহ তা‘আলাকেই ডাকে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার রহমতে যখন প্রাণ নিয়ে তীরে পৌঁছতে সক্ষম হত, তখন তাঁকে ছেড়ে আবার সেই প্রতিমাদের পূজায়ই লিপ্ত হয়।
জগতের সকল প্রাণীর রিযিক কার
দায়িত্বে: একটি পরিবাবের জীবিকার দায়িত্ব থাকে পরিবার প্রধানের ওপর।
বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা, রাষ্ট্র অনেক লোকেরও ভরণ-পোষণ করে থাকে। ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী’ জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংক্রান্ত শাখা। এ সংস্থাটি প্রতি
বছর ৭৫টি দেশে ৮ কোটি লোককে খাদ্য সহায়তা দান করে। (তথ্য সূত্রঃ উইকিপিডিয়া) মানুষের নিয়ন্ত্রণের যেসব
পশু-পাখি-সরীসৃপ প্রভৃতি প্রানী আছে, তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার ওপর। (প্রকৃতপক্ষে সবার কাছে
পরোক্ষভাবে আল্লাহই রিযিক পৌঁছায়) কিন্তু এর বাহিরে স্থলে-জলে অগণিত পশু-পাখি-কিটপতঙ্গ ও মানবকুলের রিযিকের
গুরুদায়িত্ব পৃথিবীর কেউ নিয়েছে কি? যিনি এ গুরুভার নিয়েছেন তিনিই মহান আল্লাহ। যেমন কুরআনুল
কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا
وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُبِينٍ ‘আর ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কোন এমন প্রাণী নেই যে, তার রিযক আল্লাহর যিম্মায় না রয়েছে,আর তিনি প্রত্যেকের দীর্ঘ অবস্থানের স্থান এবং অল্প
অবস্থানের স্থানকে জানেন; সবই কিতাবে মুবীনে (লাওহে মাহফুযে) রয়েছে।’ সূরা হুদ-৬
ছোট-বড় স্থলভাবে অবস্থানকারী এবং জলভাবে অবস্থানকারী সমস্ত
মাথলুকের জীবিকা তাঁরই যিম্মায় রয়েছে। তিনিই ওগুলির চলা-ফেরা, আসা-যাওয়া, স্থির থাকা, মৃত্যুর স্থান, গর্ভাশয়ের
মধ্যে অবস্থানের স্থান ইত্যাদি সম্পর্কে পূর্ণভাবে অবহিত রয়েছেন। সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর ১২তম খণ্ড; ২২পৃষ্ঠা
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গভীর প্রেম-ভালবাসা কে পয়দা করলেন? وَمِنْ
آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا
وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ
يَتَفَكَّرُونَ অর্থ: ‘তাঁর এক নিদর্শন এই যে,
তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই
মধ্য স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা
তাদের কাছে গিয়ে শান্তি লাভ কর এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি
করেছেন। নিশ্চয়ই এর ভেতর নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্যে, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।’ সূরা রূম-২১
বিবাহের পর তাদের মধ্যে এমন
গভীর বন্ধন ও ভালবাসা গড়ে ওঠে যে, তারা অতীত
জীবনকে ভুলে সম্পূর্ণ একে অন্যের হয়ে যায়। হঠাৎ করেই
তাদের মধ্যে এমন এক প্রেম-প্রীতি
সৃষ্টি হয়ে যায় যে, এখন আর
একজন অন্যজন ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না । এটাই
কুদরতের সেই নিদর্শন, যার প্রতি
দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, তিনিই মহান
আল্লাহ। সূত্র: তাফসীরে
তাওযীহুল কুরআন-৫৭৯ পৃ. মাকতাবুল আশরাফ
নানান ভাষা
ও বৈচিত্র্য রং কার দান?
وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ
وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ
لَآيَاتٍ لِلْعَالِمِينَ অর্থ: ‘এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজন
এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন আছে
জ্ঞানবানদের জন্য।’ সূরা রূম-২২
পৃথিবীর ভাষার সংখ্যা কত সঠিকভাবে বলা দুষ্কর। তবে জাতিসংঘের এক
পরিসংখ্যানে বিশ্বের ভাষা ৭০০০ বলা হয়েছে । এগুলো বিশ্ব প্রতিপালকের মহাশক্তির
নিদর্শন নয় কি? ভাষার
বিভিন্নতার পরে আসে রঙ-এর
পার্থক্য । এগুলো নিঃসন্দেহে এক ব্যাপক ক্ষমতার বিকাশ ও অসীম শক্তির নিদর্শন।
কে আসমান-যমীনের সবকিছুই মানুষের উপকার্থে নিয়োজিত করেছেন?
পবিত্র কুরআনের বাণী- أَلَمْ
تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ
وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً وَمِنَ النَّاسِ مَنْ
بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ- অর্থ: ‘তোমরা কি দেখো না যে, আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তোমাদের
কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অনুগ্রহ
সম্পূর্ণ করেছেন? মানুষের
মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে, তাদের না আছে পথ-নির্দেশক
আর না আছে কোন দীপ্তিমান কিতাব।’ সূরা লুকমান-২০
প্রকাশ্য নেয়ামত বলতে সেসব নেয়ামতকেই বোঝায়, যা মানুষ তার পঞ্চেন্দ্রিয়ের সাহায্যে অনুধাবন করতে পারে। যেমন, মনোরম
আকৃতি, মানুষের সুঠাম ও সংবদ্ধ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
প্রত্যেক অংগ এমন সুসামঞ্জস্যপূর্ণে তৈরী করা যেন তা মানুষের কাজে সর্বাধিক সহায়কও
বটে। অনুরূপভাবে জীবিকা, ধন্-সম্পদ, গ্রহ-উপগ্রহ-তারকারাজি, সাগর-নদী, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা-তরুলতা ইত্যাদি। আর গোপনীয় নেয়ামত সেগুলো , যা মানুষের হৃদয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত-যথা ঈমান, আল্লাহ
পাকের পরিচয় লাভ এবং জ্ঞান-বুদ্ধি, সচ্চরিত্র, পাপসমূহ গোপন করা ও অপরাধসমূহের কারণে ত্বরিৎ শাস্তি আরোপিত
না হওয়া ইত্যাদি। যিনি এতোগুলো নেয়ামত দান করেছেন, তাঁর
সত্তার উপর সবারই ঈমান আনয়ন করা একান্তভাবে উচিত ছিল। কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় এই যে, এখনো বহু লোক আল্লাহ তা‘আলার
ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতে রয়েছে। এর পিছনে তাদের অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা ছাড়া আর কোন
দলীল ও যুক্তি-প্রমাণ
নেই। সূত্রঃ তাফসীরে ইবনে কাসীর-৬৯০পৃ., তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন-১০৫৯ পৃ.
মানব
জাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের-সম্মানের
আসনে অধিষ্ঠিত করলো কে? وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ
وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ
وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا (70) الاسراء
অর্থ: নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের জন্য বাহন দান
করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে
অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। সূরা বানি ইসরাঈল-৭০
‘আদম-সন্তানদেরকে
ইজ্জত-সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। উল্লেখ যে, মানুষকে যে ইজ্জত-সম্মান
দেয়া হয়েছে তা দু’প্রকার (ক) দৈহিক (খ) রূহানী বা আত্মিক। দৈহিক কারামত বা সম্মান হলোঃ (১) আহসানি
তাকবীম বা সর্বোত্তম কাঠামোতে তাকে সৃষ্টি করেছেন। (২) সুষম দেহ ও অঙ্গসৌষ্ঠব। (৩) মনের ভাব প্রকাশের জন্য ভাষা। (৪) কলমের
সাহায্যে লেখা শিক্ষা দিয়েছেন। (৫) হাতের অঙ্গুলি দ্বারা আহার করা মানুষের বিশেষ গুণ। মানুষ ব্যতীত সব জন্তু মুখে আহার্য গ্রহণ করে। (৬) বিভিন্ন
প্রকার আবিষ্কার, উদ্ভাবন ও
শিল্প-দ্রব্য প্রস্তুত করণের জন্য তার প্রতি এলহাম করেছেন। (৭) পুরুষদের
দাড়ি এবং নারীদেরকে মাথার কেশ দ্বারা সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছেন। (৮) বিভিন্ন জিনিসের সংমিশ্রণে খাদ্যবস্তুকে সুস্বাদু করাও
মানুষের কাজ। অন্যান্য সব প্রাণী একক বস্তু আহার করে।
রূহানী বা আত্মিক সম্মানঃ (১) রূহ দান
করা। (২) তাদেরকে
উর্ধ্বে জগতে আলাসতু বি-রব্বিকুম (আমি কি তোমাদের রব নই) –এর খেতাবে ভূষিত করা। (৩) রূহ জগতের
সেই অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য নবী-রাসূল ও
কিতাব প্রেরণ করা। (৪) মানুষের মধ্যে ভাল-মহৎ গুণ
পয়দা করা। যেমন-দয়া-রহমত, স্নেহ-মমতা, দান-খয়রাত, প্রেম-ভালবাসা ইত্যাদি। (৫) মানুষের মধ্যে যাঁরা সাধরণ ঈমানদার ও সৎকর্মী যেমন আওলিয়া-দরবেশ, তাঁরা
সাধারণত ফেরেশতাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু বিশেষ শ্রেণীর ফেরেশতাঃ যেমন জিবরাঈল, মিকাঈল প্রমুখ, তাঁরা
সাধারণ সৎকর্মী মুমিনদের চাইতে শ্রেষ্ঠ। বিশেষ শ্রেণীর মুমিন, যেমন নবী-রাসূল, তাঁরা বিশেষ শ্রেণীর ফেরেশতাদের চাইতেও শ্রেষ্ঠ।
যেহেতু আল্লাহ তা‘আলাই মানুষকে ইজ্জত-সম্মানে
ভূষিত করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্বে মণ্ডিত করেছেন, তাই এর
দাবী এই যে, জান-প্রাণ দিয়ে
এই সম্মান দানকারীর শোকর আদায় করা এবং শিরক ও না-শোকরী থেকে
দূরে থাকা উচিত। সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, তাফসীরে
মাযহারী, তাফসীরে বুরহানুল করআন-৩১৪ পৃ.২য় খণ্ড, মাআরিফুল
কুরআন ইদ্রীসী।
বিস্তারিত দেখুন-লেখকের ‘মহান আল্লাহর নিকট মানবজাতির মর্যাদা’।
কে সন্তান
দান করে? পৃথিবীতে কেউ শুধু কন্যা সন্তান, কেউ শুধু পুত্র সন্তান, কেউ উভয়টার
অধিকারী আবার কেউ সন্তানহীন। মানুষ তার ইচ্ছামত সন্তানের অধিকারী হতে পারে না, পারত তাহলে কেউ নিঃসন্তান থাকতো না। অতত্রব যার
ইচ্ছামত সন্তান দান করে বা করেন না, তিনি মহান
আল্লাহ। যেমন কুরআনের বাণী- لِلَّهِ
مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ
إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ (49) أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا
وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَنْ يَشَاءُ عَقِيمًا إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ অর্থ: “আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। তিনি যা
ইচ্ছা তা-ই করেন।
তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।
অথবা দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই। যাকে ইচ্ছা তাকে দান করে দেন বন্ধ্যা, তিনি সবজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।” সূরা শুরা,৪৯-৫০
কে হাসায় ও
কাঁদায়? মানবজাতির মধ্যে আনন্দ ও শোক এবং এর পরিণতিতে হাসি-কান্না। গভীর দৃষ্টিতে দেখলে বোঝা যায় যে, কারও আনন্দ অথবা শোক এবং হাসি-কান্না স্বয়ং তার কিংবা অন্য কারও করায়ত্ব নয়। এগুলো এক
মহাশক্তিধর সত্তার পক্ষ থেকে। তিনিই কারণ
সৃষ্টি করেন এবং তিনিই কারণাদিকে ক্রিয়াশক্তি দান করেন। যিনি ইচ্ছা কলে মুহূর্তের
মধ্যে ক্রন্দনকারীদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন এবং হাস্যরতদেরকে এক মিনিটের মধ্যে
কাঁদিয়ে দিতে পারেন। তিনিই মহান আল্লাহ। যেমন তিনি
বলেন- وَأَنَّهُ
هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى অর্থ: ‘এবং তিনিই হাসান ও কাঁদান।’ সূরা আন-নাজম-৪৩ সূত্রঃ
তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন-১৩১০ পৃ.
মানুষের
প্রাণ হরণ করেন কে? পৃথিবীতে
আজ সূর্য কেউ দাবি করেনি যে, সে মৃত্যু
দান করেন। সুতরাং যিনি প্রাণ হরণ করেন, তিনিই মহান
আল্লাহ। যেমন আল্লাহ তা‘আলাবাণী-اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ
مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى
عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى إِنَّ فِي
ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ অর্থ: ‘আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার
নিদ্রাকালে। অতপর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ
ছাড়েন না এবং অন্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল
লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।’ সূরা যুমার-৪২
আল্লাহ তা‘আলার প্রশ্নঃ
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ
فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ (১)অর্থ: ‘যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী
সৃষ্টি করেছেন এবং চন্দ্র-সূর্য
নিয়ন্ত্রণ করছেন? তারা
অবশ্যই বলবেঃ আল্লাহ! তাহলে তারা
কোথায় ফিরে যাচ্ছে?’সূরা আনকাবুত-৬১
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ نَزَّلَ
مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا
لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ (২)অর্থ: ‘যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ ভূমি মৃত হবার পর আকাশ হতে
বারি বর্ষণ করে কে ওকে সঞ্জীবিত করে? তারা
অবশ্যই বলবেঃ আল্লাহ! বলঃ
প্রশংসা আল্লাহরই। কিন্তু তাদের অধিকাংশ এটা অনুভব করে না।’ সূরা আনকাবুত-৬৩
তারা যখন স্বীকার করছে আল্লাহ
তা‘আলাই এসব করছেন, তখন এর
স্বাভাবিক দাবি ছিল,তারা কেবল
তাঁরই ইবাদত করবে, তাঁরই
অনুগত থাকবে, অন্য কারও নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের কি হল যে, এই যুক্তিসঙ্গত দাবি অগ্রাহ্য করে তারা শিরকী
কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে? সূত্র: তাফসীরে
তাওযীহুল কুরআন-৫৭৯ পৃ. মাকতাবুল আশরাফ
(৩)قُلْ
مَنْ ذَا الَّذِي يَعْصِمُكُمْ مِنَ اللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوءًا أَوْ
أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً وَلَا يَجِدُونَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا
وَلَا نَصِيرًا অর্থ: ‘বলঃ কে তোমাদেরকে আল্লাহ হতে
রক্ষা করবে যদি তিনি তোমাদের অমঙ্গল ইচ্ছা করেন অথবা তোমদের প্রতি অনুকম্পার ইচ্ছা? তারা আল্লাহ ব্যতীত নিজেদের কোন অভিভাবক ও
সাহায্যকারী পাবে না।’ সূরা আহযাব-১৭
(৪) قُلْ
مَنْ ذَا الَّذِي يَعْصِمُكُمْ مِنَ اللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوءًا أَوْ
أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً وَلَا يَجِدُونَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا
وَلَا نَصِيرًا অর্থ: ‘তুমি জিজ্ঞেস কর, কে রুযী
দান দান করে তোমাদেরকে আসমান থেকে ও যমীন থেকে কিংবা কে তোমাদের কান ও চোখের মালিক? ----------? কে করেন কর্ম সম্পাদনের ব্যবস্থাপনা? তখন তারা বলে উঠবে, আল্লাহ! তখন তুমি বলো, তারপরেও ভয়
করছ না? অতত্রব, এ আল্লাহই
তোমাদের পালনকর্তা। আর সত্য প্রকাশের পরে কী রয়েছে গোমরাহী ছাড়া-সুতরাং কোথায় ঘুরছ?’ সূরা ইউনুস, ৩১-৩২
(৫) قُلْ
هَلْ مِنْ شُرَكَائِكُمْ مَنْ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ قُلِ اللَّهُ
يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ অর্থ: ‘(হে নবী) তুমি বল-তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে প্রথমবারও সৃষ্টি
করে, আবার পুনর্বারও সৃষ্টি করে। তুমি বলে দাও, আল্লাহই প্রথমবার সৃষ্টি করেন তারপর পুনর্বার তিনিই সৃষ্টি
করবেন। অতত্রব (সত্য হতে) তোমরা কোথায় ফিরে যাচ্ছ?’ সূরা ইউনুস-৩৪
(৬)أَفَرَأَيْتُمْ
مَا تُمْنُونَ (58) أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ অর্থ: ‘আচ্ছা বলতো দেখি, নারীর গর্ভে
যে বীর্য বিন্দু পৌছিয়ে থাক? তাকে
তোমরাই মানুষ বানাও, নাকি আমি
মানুষ বানায়।’ সূরা ওয়াকিয়া, ৫৮-৫৯
(৭) قُلْ
أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ
الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِضِيَاءٍ أَفَلَا
تَسْمَعُونَ قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ
جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ
إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ أَفَلَا
تُبْصِرُونَ (72) وَمِنْ رَحْمَتِهِ جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ
لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
অর্থ: ‘বলুন, ভেবে দেখতো, আল্লাহ যদি
রাত্রিকে কেয়ামত সূর্য স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ
ব্যতীত এমন কোন উপাস্য কে আছে, যে
তোমাদেরকে আলোক দান করতে পারে? তোমরা কি
তবুও কর্ণপাত করবে না? বলুন, ভেবে দেখতো, আল্লাহ যদি
দিনকে কেয়ামত সূর্য স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ
ব্যতীত এমন কোন উপাস্য কে আছে, যে
তোমাদেরকে রাত্রি দান করতে পারে? তোমরা কি তবুও কর্ণপাত করবে না? তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্য রাত ও দিন করেছেন,------------এবং যতে তোমরা কৃজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ সূরা কসাস,৭১-৭৩
যিনি নিজ অনুগ্রহে দিবস ও
রজনী দু’টোরই ব্যবস্থা রেখেছেন, তিনিই
মহান আল্লাহ।
(৮) أَفَرَأَيْتُمْ
مَا تَحْرُثُونَ (63) أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ
অর্থ: ‘আচ্ছা, বলতো দেখি, যমীনে যে বীজ তোমরা বপন করে থাক, তাকে তোমরাই অঙ্গুরিত কর, নাকি আমি
অঙ্গুরিত করি?’ সূরা ওয়াকিয়া, ৬৩-৬৪
(৯)لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ
اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ قُلْ فَمَنْ يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ
شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَنْ يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ
وَأُمَّهُ وَمَنْ فِي
الْأَرْضِ جَمِيعًا وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا
يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ অর্থ: ‘নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলে, মসীহ ইবনে মরিয়মই আল্লাহ। আপনি জিজ্ঞেস করুন, যদি তাই হয়, তবে বল যদি
আল্লাহ মসীহ ইবনে মরিয়ম, তারঁর জননী
এবং ভূমণ্ডলে যারা আছে, তাদের
সবাইকে ধ্বংস করতে চান, তবে এমন
কারও সাধ্য আছে কি যে আল্লাহর কাছ থেকে বিন্দুমাত্রও বাঁচাতে পারবে।’ সূরা মায়েদা-১৭
(১০) قُلْ
أَتَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا
وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ অর্থ: ‘বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুর এবাদত কর। যে তোমাদের
অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না? অথচ আল্লাহ
সব শুনেন ও জানেন।’ সূরা মায়েদা-৭৬
(১১) قُلْ
أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ أَوْ أَتَتْكُمُ السَّاعَةُ
أَغَيْرَ اللَّهِ تَدْعُونَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ অর্থ: ‘বলুন! বলতো দেখি
তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি পতিত হয় কিংবা তোমাদের কাছে কিয়ামত এসে যায়, তবে তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’ সূরা আনআম-৪০
(১২)قُلْ
أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخَذَ اللَّهُ سَمْعَكُمْ وَأَبْصَارَكُمْ وَخَتَمَ عَلَى
قُلُوبِكُمْ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِهِ انْظُرْ كَيْفَ
نُصَرِّفُ الْآيَاتِ ثُمَّ هُمْ يَصْدِفُونَ অর্থ: ‘আপনি বলুন! বল তো দেখি, যদি আল্লাহ তোমাদের কান ও চোখ নিয়ে যায় এবং তোমাদের অন্তরে
মোহর এঁটে দেন, তবে তোমাদের আল্লাহ ব্যতীত এমন উপস্য কে আছে, যে তোমাদের এগুলো এনে দেবে? দেখ, আমি কিভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে
নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি তথাপি তারা বিমুখ হচ্ছে।’ সূরা আনআম-৪৬
(১৩) قُلْ لَوْ
كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ
سَبِيلًا অর্থ:“বলুনঃ তাদের কথামত যদি তাঁর সাথে অন্যান্য উপাস্য থাকত; তবে তারা আরশের মালিক সূর্য পৌঁছার পথ অন্বেষণ করত।” সূরা ইসরা-৪২
(১৪)أَمِ
اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ هَذَا ذِكْرُ مَنْ
مَعِيَ وَذِكْرُ مَنْ قَبْلِي بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ فَهُمْ مُعْرِضُونَ অর্থ: ‘তারা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছে? বলুন, তোমরা
তোমাদের প্রমাণ আন। --------------- বরং তাদের অধিকাংশই সত্য জানে না; অতত্রব তারা টালবাহানা করে।’ সূরা
আম্বিয়া-২৪
(১৫ قُلْ
لِمَنِ الْأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُون- سَيَقُولُونَ لِلَّهِ
قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ অর্থ: ‘বলুন পৃথিবী এবং পৃথিবীতে যারা আছে, তারা কার? যদি তোমরা
জান, তবে বল। এখন তারা বলবেঃ সবই আল্লাহর। বলুন, তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?’ সূরা মুমিনূন, ৮৪-৮৫
(১৬) قُلْ
سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ অর্থ: ‘বলুন, পৃথিবী
পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণতি কি হয়েছে।’ সূরা নামল-৬৯
(১৭) وَلَئِنْ
سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ
الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ অর্থ: ‘আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, নভোমণ্ডলল ও ভূমণ্ডল কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।’ সূরা লুকমান-২৫
(১৮)وَكَمْ
أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ أَوْ
تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا অর্থ: ‘তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি। আপনি কি
তাদের কাহারও সাড়া পান, অথবা তাদের
ক্ষীণতম আওয়ায ও শুনতে পান।’ সূরা মরিয়ম- ৯৮
(১৯)أَفَلَا
يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ - وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ
رُفِعَتْ - وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ-) وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ অর্থ: ‘তারা কি উটের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের
প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে
উচ্চ করা হয়েছে? এবং
পাহাড়ের দিকে যে, তা কিভাবে
স্থাপন করা হয়েছে? এবং
পৃথিবীর দিকে যে, তা কিভাবে
সমতল বিছানো হয়েছে?’ সূরা গশিয়াহ, ১৭-২০
(২০)
قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ
كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
(88) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ (89)
অর্থ: ‘বলুনঃ
তোমাদের জানা থাকলে
বল, কার হাতে সব
বস্তুর কর্তৃত্ব, যিনি
রক্ষা করেন এবং
যার কবল থেকে
কেউ রক্ষা করতে
পারে না। এখন তারা
বলবেঃ আল্লাহর। বলুনঃ তাহলে
কোথা থেকে তোমাদেরকে
জাদু করা হচ্ছে’? সূরা মুমিনুন, ৮৮-৮৯
মহান আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ : এমন সত্তার ব্যাপারে
কিভাবে প্রমাণ চাওয়া সমীচীন, যাঁর অস্তিত্বই প্রতিটি
বস্তুর অস্তিত্বের প্রমাণ! তিনিই মহান। যদি আমরা
প্রতিপালকের অস্তিত্বের প্রমাণ অনুসন্ধান করি তবে নিচের বিষয়গুলো আমাদের সামনে চলে
আসে-
প্রকৃতিগত প্রমাণ: মাখলুক স্বভাবগতভাবেই স্রষ্টার উপর ঈমান রাখে। যার
কলব ও মস্তিষ্ক থেকে আল্লাহ তা‘আলাএই প্রকৃতিকে বিলোপ
না করে দিবেন সে তার সৃষ্টিগত প্রকৃতি থেকে হটবে না। ফিতরাত বা প্রকৃতি আল্লাহর
অস্তিত্বের ব্যাপারে প্রমাণ বহন করে এর শ্রেষ্ঠ দলীল হচ্ছে রাসূল সা.-এর এই হাদীস-‘প্রত্যেক শিশুই ফিতরাত
বা প্রাকৃতিক চেতনা নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদী, নাসারা ও অগ্নিপূজারী
বানায়। যেমন জীব-জন্তুরা নিখুঁত পশুই
জন্ম দেয়। তোমরা এর মাঝে কি কোন খুঁত দেখ!’ বুখারী। সুতরাং সুস্থ প্রকৃতি আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয়। আর যাকে শয়তান
গ্রাস করে নিয়েছে, তার কাছে এটি অস্পষ্ট থাকে এবং সে আল্লাহর
অস্তিত্বের প্রমাণ দাবি করে। অথচ কোন বিপদাপদে পতিত হলেই সে আসমান মুখী হয়ে যায়।
কারণ, সৃষ্টিগত প্রকৃতিই তাকে সেদিকে টেনে নেয়। যুক্তিনির্ভর দলীল: আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে এমন কিছু দলীল-প্রমাণ এবং শক্তিশালী যুক্তি পেশ করা হচ্ছে নাস্তিক ছাড়া যা
কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। যেমন-
১- প্রতিটি সৃষ্টিরই স্রষ্টা রয়েছেন, কারণ সৃষ্টি মানেই স্রষ্টার মুখাপেক্ষী। অথচ এসব সৃষ্টি নিজেদের মাধ্যমে
নিজেরা অস্তিত্বপূর্ণ হওয়া অসম্ভব। আর যখন এই সৃষ্টিসমূহের আপনা আপনিই
অস্তিত্বপূর্ণ হওয়া অসম্ভব এবং আকস্মিকভাবে তার অস্তিত্বও যখন অযৌক্তিক, তাই স্পষ্ট হয়ে গেলো যে সৃষ্টিসমূহের
অস্তিত্বদানকারী একজন রয়েছেন। তিনি হলেন মহান আল্লাহ। আর এই
যুক্তিভিত্তিক দলীল এবং সুস্পষ্ট প্রমাণটি মহান আল্লাহ তা'আলাও উল্লেখ করেছেন-أَمْ
خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ অর্থ:‘তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা?’ সূরা আত-তূর- ৩৫ অর্থাৎ মাখলুক স্রষ্টাবিহীন সৃষ্টি হয়নি। আর তারা নিজেরাও নিজেদেরকে
সৃষ্টি করেনি। সুতরাং স্পষ্ট হয়ে গেলো যে তাদের স্রষ্টা হলেন মহামহিম সুমহান
আল্লাহ তা'আলা।
২- সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর
সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহও তাঁর অস্তিত্বের সাক্ষী।
আল্লাহ তা‘আলাবলেন:
قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا تُغْنِي الْآيَاتُ وَالنُّذُرُ عَنْ قَوْمٍ لَا
يُؤْمِنُون অর্থ: ‘তাহলে আপনি বলে দিন, চেয়ে দেখ তো আসমানসমুহে ও
যমীনে কী রয়েছে।’ সূরা: ইউনুস-১০১ কেননা নভোমণ্ডলল এবং
ভূমণ্ডলের মাঝে দৃষ্টিপাত করলেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে আল্লাহ তা‘আলাই স্রষ্টা। এবং
তাঁর প্রভুত্বের ব্যাপারে বিশ্বাস দৃঢ় হয়। প্রাচীন আরবের জনৈক বেদুইন এ-প্রশ্নের উত্তর খোঁজেছেন এ-ধরনের প্রকৃতিনির্ভর যুক্তিবাদের সারল্যে। তিনি বললেন, উটের বর্জ্য উটের
অস্তিত্বের প্রমাণ। গাধার বর্জ্য গাধার অস্তিত্বের দলিল। পদচিহ্ন, হেঁটে যাওয়ার প্রমাণ। অতঃপর, কক্ষপথসম্পন্ন আকাশ, পথঘাটবিশিষ্ট জমিন, তরঙ্গসর্বস্ব সাগর প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার অস্তিত্বের
প্রমাণ না হওয়ার কোনো কারণ নেই। তথ্যসূত্র: আস সায়াদাহ আল
আবাদিয়াহ ফিশ শারিয়াহ আল ইসলামিয়াহ : ৪২ তাহলে সুউচ্চ আসমান, সুপ্রসস্ত জমিন এবং উত্তাল সমুদ্র কেন সর্বশ্রোতা
এবং সর্বদর্শীর অস্তিত্বের প্রমাণ করবে না? ৩- বিশ্ব সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর চিত্র/ছবি/নাম: বিশ্ব সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ তা‘আলাও তাঁর পয়গম্বরে
নাম সম্বলিত অসংখ্যা চিত্র আমরা দেখি। যেমন-গাছে, মাছে, পাতায়, গোস্তে,ঝিনুকে ইত্যাদিতে। Google images-এ সার্চ করলে এসব
চিত্র/ছবি দেখতে পারবেন।
যারা বিভিন্ন খোদায় বিশ্বাসী তাদের কাছে প্রশ্ন, আপনার প্রভুর নামে প্রাকৃতিক-ভাবে এরকম নাম পাওয়া যায় না কেন? অতত্রব যাঁর নাম পাওয়া যায়, তিনিই মহান আল্লাহ। তিনিই সত্য বাকি সব মিথ্যা, বাতিল ও ভ্রান্ত।
শরঈ দলীল: সব শরীয়ত সৃষ্টিকর্তার
অস্তিত্ব, তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও রহমতের পরিপূর্ণতার প্রমাণ বহন করে। কেননা
এই বিধানাবলীর একজন বিধায়ক অবশ্যই আছেন। আর সেই বিধায়ক হলেন মহামহিম আল্লাহ তা‘আলা। আল্লাহ তা‘আলাইরশাদ করেছেন:يَا
أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ
قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (21) الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا
وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ
الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
অর্থ:‘হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার
এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের
পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন------। যে পবিত্রসত্তা -----। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য
কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুত: এসব তোমরা জান।’ সূরা: আল-বাক্বারাহ, ২১- ২২ সব আসমানী কিতাবেই এ
ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে।
ইন্দ্রিয়গত দলীল: পুত-পবিত্র, সুমহান আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্বের ব্যাপারে সুস্পষ্ট, উৎকৃষ্ট, অনুভব ও অনুধাবনযোগ্য
প্রকাশ্য দলীল প্রত্যেক দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তির কাছেই বিদ্যমান আছে। যেমন: ১- দোয়া কবুল হওয়া: মানুষ আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকে এবং বলে- হে আল্লাহ! আমাকে অমুক বস্তুটি দান
করুন। অত:পর সে যে ব্যাপারে দু’আ করে, সে ব্যাপারে তার ডাকে
সাড়া মেলে। আর মানুষের অন্তর কেবল আল্লাহকেই ডাকে। এটিই প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি। আর অতীত যুগ ও বর্তমান যুগের এমন অনেক দৃষ্টান্ত আমরা শুনি যাদের
ডাকে আল্লাহ সাড়া দিয়েছেন। এটা আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে উপলব্ধিমূলক প্রমাণ। নাস্তিকতা মূলত: বোধশক্তির দুর্বলতা এবং চিন্তাশক্তির ভারসাম্যহীনতা
ছাড়া আর কিছু নয়। ২- জীবনের রহস্যের প্রতি মাখলুকের পথনির্দেশ লাভও আল্লাহর অস্তিত্বশীলতার প্রমাণঃ মানুষকে জন্মের সময় স্বীয় মাতার স্তন থেকে
দুগ্ধপানের দিকে পথনির্দেশ করে কে? আর কে হুদহুদ পাখিকে
পথনির্দেশ করে? যার ফলে সে জমিনের তলদেশে অবস্থিত পানির সন্ধান দিতে
পারে যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ দেখে না? নিশ্চয়ই তিনি মহান
আল্লাহ। আল্লাহ তা‘আলাবলেন:قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَى كُلَّ
شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَى অর্থ:‘মূসা বললেন: আমাদের পালনকর্তা তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার
যোগ্য আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।’ সূরা: তাহা- ৫০
৩- আল্লাহ তা‘আলার যে সকল
নিদর্শনাবলী দিয়ে নবী রাসূলদের প্রেরণ করেছেন সেগুলোও আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ
বহন করেঃ সেগুলোকে বলা হয়
মুজেযা বা অলৌকিক বিষয়। এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ স্বীয় নবী রাসূলদের দাবির যথার্থতা
প্রমাণ করেছেন। আর প্রত্যেক রাসূলকেই স্বীয় গোত্রের নিকট যখন প্রেরণ করেছেন মু’জিযা দিয়ে, যা প্রমাণ করে নবীগণের
আনীত তাওহীদের সত্যতা। নাস্তিকতা বোধশক্তির দুর্বলতা, চিন্তাশক্তির
ভারসাম্যহীনতা, অন্তরের অন্ধকারচ্ছন্নতা এবং জীবনের জন্য ধ্বংসের
নামান্তর। (৪) মহাবিশ্বের অতিসূক্ষ্ম
সমন্বয়পূর্ণতা: মহাবিশ্ব তথা সৌরজগৎ, মহাকাশ, চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী, গাছপালা ইত্যাদি প্রত্যেকটা
জিনিস একটা শুধু সূক্ষ্ম নয় বরং অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণ বিধান দ্বারা
পরিচালিত। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব
যদি এক ইঞ্চিও বেশী বা কম হত তাহলে এই পৃথিবী বসবাসের উপযোগী হত না । বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ যদি একটু কম বা বেশী হত তাহেলও মানুষের অস্তিত্ব
টিকে থাকতে পারতনা । অর্থাৎ আমরা যদি আমাদের চারপাশে প্রকৃতির দিকে তাকাই তাহলে
দেখতে পাই সবকিছু একটা অতিসূক্ষ্ম সুশৃঙ্খল সমন্বয়পূর্ণ বিধানের মধ্যে আবর্তিত। সূত্র: আস্তিকতা-নাস্তিকতা, ইসলাম, ইসলাম-বৈরীতা, বাংলাদেশ, মুহাম্মদ হাসান
একটি কবিতা পেশ করছি যা
আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব বহন করে।
খোকার প্রশ্ন?
লেখক-সি এম সালাহ
উদ্দীন অনেকের মতে
বিভাবতী সেন
আচ্ছা মাগো বল দেখি, রাত্রি কেন কলো ?
সূযি মামা কোথায় থেকে, পেলেন এমন আলো ?
ফুলগুলি সব নানান রঙ্গের, কেমন করে হয় ?
পাতাগুলি সবুজ কেন, ফুলের মত নয় ?
চিনি কেন মিষ্টি এত, তেতুল কেন টক ?
দুধ কেন মা এমন সাদা, মরিচ কেন জ্বাল ?
কোকিল কেন কালো এমন, ফরসা কেন বক ?
আমগুলো সব পাকলে পরে, কেন মা হয় লাল?
পশুপাখি কয়না কথা, মানুষ কেন কয়?
বল বল এসব মাগো, কেমন করে হয়?
মা হেসে কয় , সোনার খোকা আছে রহমান।
যা কিছু সব তিনিই করেন হয়, সবই তাঁহার দান।
বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব:
(১) এডগার মিশেল (চাঁদে ষষ্ঠ বিচরণকারী) বলেন- ‘মানুষ যদি এ মহাবিশ্ব ও এর
ভিতরে যা কিছু আছে তা নিয়ে একটু চিন্তা করে এবং গভীরভাবে গবেষণা করে তবে সে
দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে, এ বিশ্ব অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে সুবিন্যস্ত করে সৃষ্টি করা হয়েছে। একজন প্রজ্ঞাময়, সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞানী
ইলাহ তা সৃষ্টি করেছেন, তিনি একে উত্তমরূপে সুপরিমিতভাবে বানিয়েছেন।’
(২) রবার্ট মরিস পেইজ(প্রকৃতিবিদ) বলেন- “আমরা যে ইলাহের অস্তিত্ব মানি
বস্তু জগতের সাথে তার কোন সম্বন্ধ নেই। আমাদের সীমিত অনুভব শক্তি তাকে পূর্ণভাবে
বুঝতে সক্ষম নয়। তাই প্রকৃতি বিজ্ঞানের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা
করা অনর্থক। কারণ, তার ব্যাপ্তি প্রকৃতির সীমিত পরিধির বাইরে বিস্তৃত। আল্লাহর অস্তিত্বের
বিশ্বাস হল এমন একটি বিশেষ ব্যাপার যা মানুষের অনুভবে ও হৃদয়ে অংকুরিত হয়ে
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিসরে বেড়ে উঠে।”
(৩) পল মর্ডেন (কেমব্রিজ
বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক) বলেন -
“আমি যখন মহা শূন্যের
কিছু নতুন ছবি দেখলাম তখন আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, আমি চিৎকার করে
বলেছিলাম, হায় আল্লাহ! কাজ সম্পূর্ণ সফল।
আমার জীবনের শপথ, ব্যাপারটা খুবই চমৎকার!!”
(৪) গেষ্টন ব্যারেট (অক্সফোর্ড
বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষক) বলেন-
“স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা
শিশুদের বিবেক তাদেরকে তাড়িত করে কোন সৃষ্টি কর্তা ও ইলাহের উপর ঈমান আনতে, বিবর্তনবাদের উপর নয়, যা মানব বুদ্ধির জন্য
অস্বাভাবিক,
দুর্গ্রাহ ও দুর্বোধ্য। “
(৫) জন ক্লিভল্যাণ্ড কোথ্র্যান (ডোলাথ ভার্সিটির প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক) বলেন-“কোন বিবেকবান “কি কল্পনা করবে বা বিশ্বাস
করবে যে, বিবেক ও প্রজ্ঞা বাদে পদার্থ
আকস্মিকতার মাধ্যমে নিজেই নিজের অস্তিত্ব দান করেছে?!
(৬) ডেবোরা পটার (আমেরিকান সাংবাদিক) বলেন-“ইসলামই হল আল্লাহ তা‘আলার বিধান, আমাদের
চার পাশে প্রকৃতির মাঝে তা আমরা দেখতে পাই। একমাত্র আল্লাহর নির্দেশে পাহাড় সমুদ্র
গ্রহ নক্ষত্র বিচরণ করে এবং নিজ কক্ষ পথে সঠিক ভাবে পরিচালিত হয়। এগুলো তাদের
সৃষ্টি কর্তা আল্লাহর নির্দেশের অধীন। এমনিভাবে এই জগতের প্রতিটি অনু এমনকি জড়
বস্তুও এ নিয়মের অধীন। ব্যতিক্রম শুধু মানুষ। কারণ আল্লাহ তা‘আলাতাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দান করেছেন। তাই ইচ্ছা করলে
সে আল্লাহর বিধানে চলতে পারে, ইচ্ছা করলে নিজে নিজের বিধান রচনা করবে এবং নিজের
পছন্দের দীনের উপর চলতে পারে। দুঃখের বিষয় হল, অধিকাংশ ক্ষেত্রে
মানুষ দ্বিতীয় পথটি গ্রহণ করেছে।” (৭) গ্লেন জন (প্রথম আমেরিকান মহাকাশচারী) বলেন-“এ ধরনের সৃষ্টি দেখেও তুমি আল্লাহর উপর ঈমান আনবে না
এটা অসম্ভব! এ সৃষ্টি তো আমার
ঈমানকে আরো মজবুত করেছে। আমি এ চিত্রের আরো কিছু বিবরণ চাই।” (৮) এন্থনি ফ্লিও, ব্রিটিশ দার্শনিক বলেন- “আমি মনে করি ডিএনএ তে
বিদ্যমান এই বহুমাত্রিক মৌলিক উপাদানকে একটি সুবিন্যস্ত পরিসরে সাজানোর পিছনে
অবশ্যই একজন বুদ্ধিমান সত্ত্বার অস্তিত্ব রয়েছে। এ বহুমাত্রিক জটিল বিন্যাস আমাকে এ সিদ্ধান্তে
উপনীত করেছে যে, অবশ্যই তা এক
বুদ্ধিমান সত্ত্বার কাজ।”
নাস্তিকের যুক্তি খণ্ডন:
তিনিই মহান আল্লাহ
মুহাম্মাদ আব্দুর
রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন