|
আল-বুরহানের নীতিমালা |
ভূমিকা: আল –বুরহানের উদ্দেশ্য
ও লক্ষ্য ঠিক রাখার জন্য এবং কিছু
অভিযোগের ভিত্তিতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা
অতীব জরুরী। অভিযোগটি হলো এই, অতিরিক্ত ম্যাসেজ/অপ্রয়োজনীয় ম্যাসেজ যা সকলের নিকট
বিরক্তির কারণ। তাই অতিরিক্ত ম্যাসেজ রোধকল্পে এবং আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক অটুট
রাখার নিমিত্তে কিছু বিধি-নিষেধ নিম্নে দেওয়া হলো:-
১। মাসয়ালা-মাসায়েল অর্থাৎ সওয়াল-জবাব,
প্রশ্ন-উত্তর এবং পেশাগত সহযোগিতা ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তিরগত
মতামত-চিন্তা, কোন বক্তার বক্তব্য,
কোন ইসলামি ব্যক্তিত্বের
চিন্তা-চেতনা লেখা, অডিও, ভিডিও, পোস্ট/শেয়ার/প্রশ্ন করা যাবে না।
উল্লেখ্য যে, আমাদের মাসয়ালাগুলো যেহেতু ওয়েবসাইটে স্থাপন করা হয়, তাই সরাসরি কেউ গ্রুপে জবাব দিবে না। এডমিনের কাছে পাঠালে, এডমিন সেটাকে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে।
২। ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ও ঈদের শুভেচ্ছাসহ
সকল শুভেচ্ছা বিনিময করা যাবে না।
৩। অপরকে সম্মান দিয়ে কথা বলা এবং কারও সম্মানে আঘাত লাগে এমন কথা বলা যাবে
না।
৪। রাষ্ট্র বিরোধী এবং রাজনৈতিক আলোচনা করা যাবে না।
৫। পরমত সহিঞ্চুতা থাকতে হবে ও বিতর্ক এড়িয়ে চলা।
৬। জানার জন্য প্রশ্ন করা, ঠেকানো/বিব্রত করার জন্য প্রশ্ন করা যাবে না। যথাসম্ভব সহজভাবে মাসয়ালার জবাব
দেওয়া, (হুবহু কপি ও
পেস্ট না করা, কারণ
এতে কাঙখিত সমাধান খুজে পেতে কষ্ট হয়) পেঁচানো ও জটিলতা
পরিহার করা।
৭। যে মাসয়ালা সম্পর্কে জ্ঞান নেই; সে বিষয়ে জবাব না
দেওয়া। প্রমাণিত মাসয়ালাই কেবল উপস্থাপন করা
যাবে। কোনো মাসয়ালা সম্পর্কে কেউ জবাব দিলে, ঐ একই দালায়েল দ্বারা জবাব দেওয়া যাবে না, তবে সম্পূরক আলোচনা করা যাবে অর্থাৎ যেটা
পূর্বের জবাবদাতার লিখনিতে আসেনি, বাট বিষয়টি উপস্থাপন করলে সবার উপকার হবে বলে মনে হয়।
৮। কোনো কোনো মাসয়ালায় হানিফি ইমামদের মধ্যেও দ্বিমত বা দুটি মত রয়েছে যা
সবগুলোই সঠিক, এটা পরিস্কারভাবে বলে দেওয়া, যাতে উম্মতের আমল করতে সহজ হয়।
৯। মাসয়ালার সমাধান/জবাব দলিল ভিত্তিক হতে হবে। তবে কমন
মাসায়ালার ক্ষেত্রে না হলেও চলবে। কিন্তু প্রশ্নকর্তা এতে সন্তুষ্ট না হলে,
দলিল অবশ্যই দিতে হবে।
১০। উপরোক্ত বিধি-নিষেধ কোন সদস্য দ্বারা ব্যত্যয় ঘটলে
দু-একবার সর্তক করার পরও পুনরায় করলে, তাকে
সদস্য থেকে রিমুভ করা হবে।
আলহামদুলিল্লাহ আল-বুরহানের মাধ্যমে অনেকেও উপকৃত হচ্ছে বলে, বহু সদস্য আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছে,
এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে আল-বুরহানের মুরুব্বিদের পরামর্শে এ্যাডমিন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে,
মাসয়ালা-মাসায়েল অর্থাৎ সওয়াল-জবাব, প্রশ্ন-উত্তর এবং পেশাগত সহযোগিতা ছাড়া
অন্য কোন ব্যক্তিগত মতামত-চিন্তা, কোন
বক্তার বক্তব্য, কোন ইসলামি ব্যক্তিত্বের চিন্তা-চেতনা লেখা, প্রবন্ধ,আরি্টকেল, অডিও, ভিডিও,
পোস্ট/শেয়ার/প্রশ্ন করা যাবে না। (এটি
নীতিমালার ০১ নং
কলাম)
কোন মুসলিম বিশেষ করে আলেম সমাজ
দ্বীনের কোন শাখাই অস্বীকার করে না; সম্ভবও না। আমরা বলতে চাচ্ছি যে, সব
ফায়দা এক সাথে নিতে গেলে, আল-বুরহানের উদ্দেশ্য-লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভবনাই বেশি, তাই
আমরা দুটি ফায়দার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।
|
আল-বুরহানের নীতিমালা |
ভূমিকা: আল –বুরহানের উদ্দেশ্য
ও লক্ষ্য ঠিক রাখার জন্য এবং কিছু
অভিযোগের ভিত্তিতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা
অতীব জরুরী। অভিযোগটি হলো এই, অতিরিক্ত ম্যাসেজ/অপ্রয়োজনীয় ম্যাসেজ যা সকলের নিকট
বিরক্তির কারণ। তাই অতিরিক্ত ম্যাসেজ রোধকল্পে এবং আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক অটুট
রাখার নিমিত্তে কিছু বিধি-নিষেধ নিম্নে দেওয়া হলো:-
১। মাসয়ালা-মাসায়েল অর্থাৎ সওয়াল-জবাব,
প্রশ্ন-উত্তর এবং পেশাগত সহযোগিতা ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তিরগত
মতামত-চিন্তা, কোন বক্তার বক্তব্য,
কোন ইসলামি ব্যক্তিত্বের
চিন্তা-চেতনা
লেখা, অডিও, ভিডিও, পোস্ট/শেয়ার/প্রশ্ন করা যাবে না।
উল্লেখ্য যে, আমাদের মাসয়ালাগুলো যেহেতু ওয়েবসাইটে স্থাপন করা হয়, তাই সরাসরি কেউ গ্রুপে জবাব দিবে না। এডমিনের কাছে পাঠালে, এডমিন সেটাকে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে।
২। ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ও ঈদের শুভেচ্ছাসহ
সকল শুভেচ্ছা বিনিময করা যাবে না।
৩। অপরকে সম্মান দিয়ে কথা বলা এবং কারও সম্মানে আঘাত লাগে এমন কথা বলা যাবে
না।
৪। রাষ্ট্র বিরোধী এবং রাজনৈতিক আলোচনা করা যাবে না।
৫। পরমত সহিঞ্চুতা থাকতে হবে ও বিতর্ক এড়িয়ে চলা।
৬। জানার জন্য প্রশ্ন করা, ঠেকানো/বিব্রত করার জন্য প্রশ্ন করা যাবে না। যথাসম্ভব সহজভাবে মাসয়ালার জবাব
দেওয়া, (হুবহু কপি ও
পেস্ট না করা, কারণ
এতে কাঙখিত সমাধান খুজে পেতে কষ্ট হয়) পেঁচানো ও জটিলতা
পরিহার করা।
৭। যে মাসয়ালা সম্পর্কে জ্ঞান নেই; সে বিষয়ে জবাব না
দেওয়া। প্রমাণিত মাসয়ালাই কেবল উপস্থাপন করা
যাবে। কোনো মাসয়ালা সম্পর্কে কেউ জবাব দিলে, ঐ একই দালায়েল দ্বারা জবাব দেওয়া যাবে না, তবে সম্পূরক আলোচনা করা যাবে অর্থাৎ যেটা
পূর্বের জবাবদাতার লিখনিতে আসেনি, বাট বিষয়টি উপস্থাপন করলে সবার উপকার হবে বলে মনে হয়।
৮। কোনো কোনো মাসয়ালায় হানিফি ইমামদের মধ্যেও দ্বিমত বা দুটি মত রয়েছে যা
সবগুলোই সঠিক, এটা পরিস্কারভাবে বলে দেওয়া, যাতে উম্মতের আমল করতে সহজ হয়।
৯। মাসয়ালার সমাধান/জবাব দলিল ভিত্তিক হতে হবে। তবে কমন
মাসায়ালার ক্ষেত্রে না হলেও চলবে। কিন্তু প্রশ্নকর্তা এতে সন্তুষ্ট না হলে,
দলিল অবশ্যই দিতে হবে।
১০। উপরোক্ত বিধি-নিষেধ কোন সদস্য দ্বারা ব্যত্যয় ঘটলে
দু-একবার সর্তক করার পরও পুনরায় করলে, তাকে
সদস্য থেকে রিমুভ করা হবে।
আলহামদুলিল্লাহ আল-বুরহানের মাধ্যমে অনেকেও উপকৃত হচ্ছে বলে, বহু সদস্য আমাকে ব্যক্তিগতভাবে
জানিয়েছে, এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে আল-বুরহানের মুরুব্বিদের
পরামর্শে এ্যাডমিন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে,
মাসয়ালা-মাসায়েল অর্থাৎ সওয়াল-জবাব, প্রশ্ন-উত্তর এবং পেশাগত সহযোগিতা ছাড়া
অন্য কোন ব্যক্তিগত মতামত-চিন্তা, কোন
বক্তার বক্তব্য, কোন ইসলামি ব্যক্তিত্বের চিন্তা-চেতনা লেখা, প্রবন্ধ,আরি্টকেল, অডিও, ভিডিও,
পোস্ট/শেয়ার/প্রশ্ন করা যাবে না। (এটি
নীতিমালার ০১ নং
কলাম)
কোন মুসলিম বিশেষ করে আলেম সমাজ
দ্বীনের কোন শাখাই অস্বীকার করে না; সম্ভবও না। আমরা বলতে চাচ্ছি যে, সব
ফায়দা এক সাথে নিতে গেলে, আল-বুরহানের
উদ্দেশ্য-লক্ষ্য
ব্যাহত হওয়ার সম্ভবনাই বেশি,
তাই আমরা দুটি ফায়দার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।
উপরোক্ত বিধি-নিষেধ কোন সদস্য দ্বারা ব্যত্যয় ঘটলে দু-একবার
সর্তক করার পরও পুনরায় করলে, তাকে সদস্য থেকে রিমুভ করা হবে।
|
জাযাকাল্লাহু
খয়রান |
|
|
হাদিস নং-০১
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ لمْ يشْكُر النَّاسَ لَمْ يشْكُر الله» (رواه الترمذي
অর্থ: হজরত আবু হুরাইরা (রা.) নবি (ﷺ)
থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যে
ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও আদায় করে
না। তাখরিজ: জামে
তিরমিজি-৪৮১১
হাদিস নং-০২
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন,. রাসূলুল্লাহ
(ﷺ বলেছেন, কেউ যদি তোমাদের সাথে
কৃতজ্ঞতার আচরণ করে তাহলে তোমরাও তার সাথে কৃতজ্ঞতার আচরণ কর। (তাকে কিছু হাদিয়া
দাও।) যদি কিছু দিতে না পার অন্তত তার জন্য দুআ কর। যাতে সে বুঝতে পারে যে, তুমি তার
প্রতি কৃতজ্ঞ। তাখরিজ: সুনানে আবু দাউদ
; আল আদাবুল
মুফরাদ, বুখারী-২১৬
হাদিস নং-৩
أسامة بن زيد عن النبي صلى الله
عليه و سلم أنه قال من صنع إليه معروف فقال لفاعله جزاك الله خيرا فقد أبلغ في
الثناء رواه الترمذي والنسائي وابن حبان في صحيحه অর্থ: হযরত উসামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ বলেন, তোমার প্রতি যদি কেউ কৃতজ্ঞতার
আচরণ করে তখন যদি তুমি তাকে জাযাকাল্লাহ খাইরান (আল্লাহ তোমাকে উত্তম বিনিময় দান
করুন) বল তাহলেই তুমি তার যথাযোগ্য প্রশংসা করলে। তাখরিজ: জামে
তিরমিযী-২০৩৫; সহীহ ইবনে হিববান-৩৪১৩
হাদিস নং-৪
وَعَن أَبي الدَّردَاءِ أَنَّ رسُول اللَّه ﷺ كانَ يقُولُ: دَعْوةُ المرءِ المُسْلِمِ لأَخيهِ بِظَهْرِ الغَيْبِ مُسْتَجَابةٌ، عِنْد رأْسِهِ ملَكٌ مُوكَّلٌ كلَّمَا دَعَا لأَخِيهِ بخيرٍ قَال المَلَكُ المُوكَّلُ بِهِ: آمِينَ، ولَكَ بمِثْلٍ رواه مسلم. অর্থ: আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল (ﷺ) বলেছেন
: কোন মুসলিম তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোআ করলে তা কবুল করা হয় এবং তার মাথার
কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই সে ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোআ
করে তখন সে নিযুক্ত ফেরেশতা বলে, আমিন অর্থাৎ হে আল্লাহ! কবুল করুন এবং
তোমার জন্য অনুরূপ। (তোমার ভাইয়ের জন্য যা
চাইলে আল্লাহ তোমাকেও তাই দান করুন)। তাখরিজ : মুসলিম-২৭৩৩; সুনানুল কুবরা লিল
কুবরা লিল-বায়হাকি-৬৪৩১
হাদিসের বাস্তবতা: উপরোক্ত
চারটি হাদিস শরিফ দ্বারা চারটি (কমপক্ষে) শিক্ষা পাওয়া যায়।
হাদিস নং-০১, মানুষের
কৃতজ্ঞতা আদায় করা, আল্লাহর
কৃতজ্ঞতারই নামান্তর।
হাদিস নং-০২, আল-বুরহানে অনেকে জিজ্ঞাসা
করেন, তার জবাব অনেকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সুতরাং কাঙক্ষিত জবাব না পেলেও। জবাব দাতার
জন্য দুআ করা উচিত। তাছাড়া যাদেরই ( যেকোনো
উপকার) ফায়দা হয়, তাদেরও দুআ করা উচিত। (মাশাল্লাহ অনেকে আমল করছেন;
অনেকে আবার খেয়াল করছেন না।)
হাদিস নং-০৩, মুসলিম/আলেম
হিসেবে দুআর ভাষা ধন্যবাদ, শুকরান, Thank ইত্যাদির পরিবর্তে প্রিয় নবির (ﷺ)
মুখসৃত বাণী ‘জাযাকাল্লাহু খয়রান’ বলাই
উচিত। ( তবে যারা
আরবি/দ্বীনি বুঝে না, তাদের জন্য দুটাই
অর্থাৎ জাযাকাল্লাহু খয়রান + ধন্যবাদ উল্লেখ করাই শ্রেয়।)
হাদিস নং- ০৪, অপর ভাইয়ের জন্য দুআ করলে নিজরই লাভ।
ধন্যবাদ এর পরিবর্তে
প্রিয় নবির মুখসৃত বাণী জাযাকাল্লাহু খয়রান বলাই শ্রেয় নয় কি?
|
আল-বুরহানের
উদ্দেশ্য |
|
|
আলহামদুলিল্লাহ
আল বুরহান এর সকল সদস্য কমবেশি সবাই দ্বীনের জ্ঞান রাখেন। একটি জরুরি বিষয় সকল সদস্যকে
স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সেটা হল কোরআন-হাদিসের বিধানগুলি দুইভাবে বর্ণনায় এসেছে প্রথম প্রকার الصريح ছরিহ অর্থাৎ সুস্পষ্ট বিধান দ্বিতীয় নম্বর হলো
الكناية কিনায়া অর্থাৎ অস্পষ্ট বা ইঙ্গিতবহ। শরীয়তের যেসব
বিধান সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে সে বিষয়ে কোন আলেমের দ্বিমত নেই যেমন পাঁচ ওয়াক্ত
নামাজ,মাহে রমজানের
রোজা,হজ,জাকাত,সুদ-ঘুষ
ইত্যাদি মৌলিক বিষয় কোন মতভেদ নেই। কিন্তু যেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা নেই অথবা দ্বিমুখী
বর্ণনা, বিপরীতমুখী বর্ণনা অথবা একই বিষয়ে একাধিক বর্ণনা পাওয়া
যায় (যেমন- হাত কোথায় বাধবো, বুকের উপর না নিচে, নাভির নিচে না উপরে,আমিন আস্তে না জোরে,শবে কদর কবে ইত্যাদি) সেসব বিষয়ে আলেম তথা ফুকাহাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়।
বর্তমান জমানায় সবচেয়ে বড় সমস্যা-ফেতনা হলো আমরা কোন একটি বিষয়ে একটি হাদিস বা
আয়াত পেয়ে গেলেই আমরা আমল করা শুরু করি বা লাফালাফি করি এটা ঠিক না। আমি যে একটি
হাদিস জানি বা একটি আয়াত জানি এর বিপরীতে অন্য নস থাকতে পারে কিংবা উক্ত আয়াত-হাদীস
মানসুখ হতে পারে সুতরাং এসব ক্ষেত্রে আমাদের কোরআন এবং হাদিসের পরস্পরের সমন্বয়ের
পরে যে সমাধান, তার নামই হল ফতোয়া বা মাসয়ালা সুতরাং আমরা কিনায়ার
ক্ষেত্রে সরাসরি কোরআন হাদীসের উপর আমল করব না, যদি সরাসরি কোরআন
হাদীসের উপর আমল করতে চায়, তাহলে আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পথভ্রষ্ট
হয়ে যাব।
সুতরাং
কুরআন-হাদিসের যে সব বিষেয়ে একাধিক /বিপরীতমুখী
বর্ণনা রয়েছে, সেব বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া, নিজেরা তা থেকে বুঝা
বিপদজ্জক। কেননা আমরা হাদিসের নাসেখ-মানসুখের জ্ঞান রাখি না, উসূলুদ্দিন, উসূলে ফিকাহর জ্ঞান নগণ্য। হাদিস শরিফ হলো ওষধ-এর মত আর ফুকাহায়ে কেরাম হলো
ডাক্তারের ন্যায়। যেমন, বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, الفقهاء و هم اعلم يعني الحديث অর্থাৎ ফুকাহায়ে কেরাম হাদিসের অর্থ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। সূত্রঃ জামে তিরমিজি-৩/৩১৫পৃ. সুতরাং ওষধের প্রয়োগ-মাত্রা-ডোস যেমন ডাক্তার ছাড়া
নিরাপদ নয়, তেমনি হাদিসের মাফহুম-মাসয়ালা এস্তেমবাদ ফকিহ ছাড়া পথভ্রষ্ট।
আমাদের
মধ্যে কম লোকই দ্বীনের গভীর জ্ঞান রাখে, ফতোয়া দেওয়ার মত ক্ষমতা
নগণ্য, তবে এতটুকু করা যেতে পারে প্রমাণিত ফতোয়া আমরা কেবল উপস্থাপন
করতে পারি। আল বুরহানের মাধ্যমে সমস্ত মাসয়ালার সমাধান সম্ভব নয়, বিজ্ঞ মুফতি সাহেবের নিকট থেকে জেনে নিতে হবে। সবার উপকারার্থে কয়েকটি ইফতা বিভাগের নাম্বার দিচ্ছি- ০১৭১১-৯৬১৩৭৪,বাদ আসর
থেকে ইশা পর্যন্ত মোবাইল
: 01923-295995 ; ০১৭১১-৯৬১৩৭৪
নোট: আমরা/আমি
কোন ফতোয়া নিজের পক্ষ থেকে বলি না, বলা জায়েজ ও নেই। আমি শুধু
ফুকাহায়ের মতের সপক্ষে নস উপস্থাপন করা চেষ্টা করি, (যেখানে
সম্ভব) যাতে ভাইদের (আমাদের) মনে প্রশান্তি আসে যে, আমাদের দলিল আছে।
কুরআন-হাদিসের
যে সব বিষেয়ে একাধিক /বিপরীতমুখী বর্ণনা রয়েছে, সেব বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া,
নিজেরা তা থেকে বুঝা বিপদজ্জক। কেননা আমরা হাদিসের নাসেখ-মানসুখের জ্ঞান
রাখি না, উসূলুদ্দিন, উসূলে ফিকাহর জ্ঞান
নগণ্য। হাদিস শরিফ হলো ওষধ-এর মত আর ফুকাহায়ে
কেরাম হলো ডাক্তারের ন্যায়। যেমন, বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, الفقهاء و هم اعلم يعني الحديث অর্থাৎ ফুকাহায়ে কেরাম হাদিসের অর্থ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। সূত্রঃ জামে তিরমিজি-৩/৩১৫পৃ. সুতরাং ওষধের প্রয়োগ-মাত্রা-ডোস যেমন ডাক্তার ছাড়া
নিরাপদ নয়, তেমনি হাদিসের মাফহুম-মাসয়ালা এস্তেমবাদ ফকিহ ছাড়া পথভ্রষ্ট। কুরআন দ্বারা হাদিস নাসেখের উদাহরণ:
وَقُومُواْ لِلّهِ قَانِتِينَ
অর্থ : আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সঙ্গে দাঁড়াও। (আয়াত-২৩৮)।
শানে
নুযুল : হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর যুগে আমরা
নামাজের মধ্যেও কথাবার্তা বলতাম। তখন উক্ত আয়াত নাজিল হয়। এর দ্বারা আমাদের চুপ
থাকতে নির্দেশ দেয়া হলো। সুত্র: তাফসিরে ইবনে কাসির
দ্বিতীয়
হিজরি হতে চার মাজহাব চলে আসছে। এ বিষয়ে
আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের সিদ্ধান্ত হলো চারটা হক। যে কোন ব্যক্তি যে কোন একজনের
অনুসরণ করতে পারবে। চার মাজহাবের ওপর এজমা হয়ে গেছে। কোন মাজহাবের সুযোগ নেই। যদি সুযোগ থাকে তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত হাজরো
মাজহবের পয়দা হবে। উল্লেখ্য যে, এটি শরিয়তের কোন বিধান নয়, ফুকাহায়ে
কেরাম শৃংখলার জন্য এরুপ করেছেন।
[9:56
AM, 4/18/2022] Abu Ahmad Abdur Razzak: সকল সদস্যকে মনযোগ সহকারে পড়ার
অনুরোধ রইল
|
এতকাফ সুন্নাত হওয়ার |
উত্তর: ১। আল্লাহ বলেছেন:“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য
রাসূলুল্লাহ ((ﷺ))
এর মাঝে আছে উত্তম আদর্শ। তাদের জন্যযারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং
আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।”[৩৩ আল-আহযাব : ২১] ইবনে কাছীর
রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
“এই মহান আয়াতটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিওয়া সাল্লাম এরপ্রতিটি কথা, কাজ ও প্রতিটি
মুহূর্ত অনুসরণের ব্যাপারে একটি মহান মূলনীতি।”(তাফসীরে ইবনে
কাসীর-৩/৭৫৬)
২। আমরা জানি, রসূলের যুগে শরেীয়তের বিধান ভাগ ছিল না(ফরজ,ওয়াজিব,সুন্নাতে
মুয়াক্কাদা-জায়েদা, নফল ও মুস্তাহাব
ইত্যাদি) পরবর্তীতে ফুকাহায়ে কেরামগণ এই ভাগটা করেছেন
গুরুত্বের উপর। যেমন যে কাজ রসূল নিয়মিত করতেন, সেটাকে
সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আর যেটা নিয়মিত করতে না সেটাকে সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা বা
জায়েদা বলা হয়। উদাহরণ ফজরের দুরাকাত সুন্নাত, যহরের ছয়
রাকাত সুন্নাত, মাগরিবের দুরাকাত এবং ঈশার পর রাকাত এগুলো
নবীজি সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মত আদায় করতেন কিন্তু আছরের পূর্বে এবং
ঈশার পূর্বে চার রাকাত সুন্নাত নিয়মিত পড়তেন না (তাই এইগুলো সুন্নতে
গয়রে মুয়াক্কাদা)।
৩। এখন আমরা দেখবো এতেকাফ নবীজি সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম নিয়মত করতেন কী না ? হাদিসের দলিল: এ সংক্রান্ত অনেক হাদিস
রয়েছে। যেমন আয়েশা (রা.) এর হাদিস: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রমযান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। তাঁর
মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন।”[সহিহ বুখারী
(২০২৬) ও সহিহ মুসলিম (১১৭২)]
৪। সুন্নাত বিষয়ে আলেমদের
ইজমা : ইবনুল মুনযির তাঁর ‘আল-ইজমা’ নামক গ্রন্থে (পৃষ্ঠা-৫৩) বলেন: আলেমগণ
ইজমা করেছেন যে, ইতিকাফ সুন্নত; ফরয
নয়। তবে কেউ যদি মানত করে নিজের উপর ফরয করে নেয় তাহলে ফরয হয়। ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা।রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সুন্নত নিয়মিত পালন করতেন।
ইজমা: একাধিক আলেম ইতিকাফ শরয়ি বিধান হওয়ার পক্ষে ইজমা
উদ্ধৃত করেছেন; যেমন- ইমাম নববী, ইবনে কুদামা [দেখুন: আল-মাজমু
(৬/৪০৪), আল-মুগনি (৪/৪৫৬), শারহুল
উমদা (২/৭১১)।
৫। আলেমদের উক্তি : ইবনে শিহাব যুহ্রী বলেন:“এটি খুবই আশ্চর্যজক যেমুসলমানেরাইতিকাফকরছে না। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম মদিনাতে আসার পর থেকে আল্লাহ তাঁকে মৃত্যুদান করা পর্যন্ত তিনি ইতিকাফ
বাদ দেননি।
৬। ফুকাহায়ে কেরামগণ মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে এটাকে কিফায়া করেছেন- না হলে সবার করা লাগতো। (উসূলে ফিকহের পরিভাষায় তাকে ইসতিহাসান বলে) G cÖm‡½ Bgvg KyiZyex in. [1214-1273 wLª.]
e‡jb: ʈة eyw×we‡ePbvm¤úbœ e¨w³M‡Yi g‡a¨ G e¨vcv‡i †Kvb gZcv_©K¨
†bB †h, bexivm~jM‡Yi AvbxZ kixqv‡Zi D‡Ïk¨ n‡”Q, m„wói BnKvjxb I ciKvjxb Kj¨vY
mvab Kiv (Al-Qurtubī 2003, 2/6)|
Bgvg
kvwZex in. [1320-1388wLª.] e‡jb: weavb`vZv (Avjvn& ZvAvjv) gvbeKj¨vY‡K
we‡ePbv K‡iB kixqvZ (Bmjvgx wewaweavb) cÖYqb K‡i‡Qb Ges G e¨vcv‡i mK‡jB GKgZ ((Al-Shātibī 1997, 1/221)|
রমজানের শেষ দশকে পুরুষের জন্য জামাতে নামায হয় এমন মসজিদে
ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুআক্কাদা আলা কিফায়া।
যদি এক এলাকার কেউ ইতিকাফ আদায় না করে, তাহলে পুরো এলাকাবাসী গোনাহগার
হবে। (দুররে মুখতার: ২/৪৪০)
والاعتكاف المطلوب شرعا على ثلاثة اقسام….. وسنة كفاية مؤكدة فى العشر الأخير من رمضان الخ (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-382، هداية-1\229، الفتاوى الهندية-1\211، رد المحتار-3\430
|
কাযা নামাজ আগে, না
ওয়াক্ত আগে |
প্রশ্ন। মাগরিবের
জামাত শুরু হয়েছে , এখন আছরের নামাজ ( কাযা হয়েছে) আগে পড়বে না জামাতে শরীক হবে। (নুরুল হক ভাইয়ের
প্রশ্নের আলোকে)
উত্তর। হাদীসের দলীল : ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যকতার ব্যাপারে
স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও
সাহাবীদের আমল পাওয়া যায়।
عن عبد الله بن مسعود قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم
فحبسنا عن صلاة الظهر والعصر والمغرب والعشاء فاشتد ذلك علي فقلت في نفسي نحن مع
رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي سبيل الله فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم
بلالا فأقام فصلى بنا الظهر ثم أقام فصلى بنا العصر ثم أقام فصلى بنا المغرب ثم
أقام فصلى بنا العشاء ثم طاف علينا فقال ما على الأرض عصابة يذكرون الله عز وجل
غيركم وقتها (رواه النسائي، رقم621)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। যোহর,
আসর, মাগরিব, ইশা এই চার
ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা হতে আমরা বাঁধাপ্রাপ্ত হলাম। এটা আমার নিকট কষ্টদায়ক হলো।
মনে মনে ভাবলাম আমরা তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থেকে
আল্লাহর পথে জিহাদ করছি (এরপরও কি আমাদের এরূপ দুর্ভাগ্য?) তারপর
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
বিলাল (রা.) কে ইকামত দিতে আদেশ করলেন। ইকামত বললে আমাদের নিয়ে যোহরের সালাত আদায়
করলেন। আবার ইকামত বললে আসরের নামাজ আদায় করলেন। আবার ইকামত বললে মাগরিবের নামাজ
আদায় করলেন। পুনরায় ইকামত বললে ইশার নামাজ আদায় করলেন। তারপর আমাদের উদ্দেশ্যে
বলতে লাগলেনঃ ভূ-পৃষ্ঠে তোমাদের ছাড়া এমন কোন জামাত নেই যারা আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ
করে। (নাসায়ী শরীফ;৬২১ নং হাদীস)
عن أبي سعيد عن قال شغلنا المشركون يوم الخندق عن صلاة الظهر حتى
غربت الشمس وذلك قبل أن ينزل في القتال ما نزل فأنزل الله عز وجل {وكفى الله المؤمنين القتال} فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بلالا فأقام لصلاة الظهر فصلاها
كما كان يصليها لوقتها ثم أقام للعصر فصلاها كما كان يصليها في وقتها ثم أذن
للمغرب فصلاها كما كان يصليها في وقتها (رواه النسائي، رقم 660)
হযরত আবু সাইদ রা. হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধে মুশরিকরা আমাদের যোহরের নামাজ থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া
পর্যন্ত বিরত বিরত রেখেছিল। সেটা যুদ্ধের সময় সালাতুল খওফ সম্পর্কিত আযাত অবতীর্ণ
হবার আগের ঘটনা। তারপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যুদ্ধে
মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট”। (সূরা আহযাব,আয়াতঃ ২৫)
তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
বিলাল রা.কে ইকামত
দেয়ার আদেশ করেন। তিনি যোহরের সালাতের ইকামত দেন, রাসূলুল্লাহ
(ﷺ) নামাজের আসল ওয়াক্তে আদায় করার মত যোহরের
কাযা নামাজ আদায় করেন। পরে আসরের জন্য ইকামত বলা হয়। নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন নামাজের আসল ওয়াক্তের মত আসরের কাযা
নামাজ আদায় করেন। তারপর মাগরিবের আযান দেয়া হয় এবং তা নির্ধারিত সময়ে আদায় করার মত
আদায় করেন। (নাসায়ী শরিফ;৬৬০ নং হাদীস)
হাদীসের বহু প্রসিদ্ধ কিতাবে এ
ঘটনার উল্লেখ আছে। এই হাদীসে রাসূল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবায়ে কেরামের নামাজ ছুটে যাবার পর তারা সকলে ধারাবাহিক
ভাবে ছুটে যাওয়া নামাজ পড়েছেন। ২য় হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যাচ্ছে সূর্য ডুবার পরও
পূর্বের কাযা নামাজ পড়ে এরপর মাগরিবের নামাজ পড়েছেন। এই হাদীস থেকেই গবেষক
মুজতাহিদ ইমামগণ ছুটে যাওয়া নামাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক, একথা
বলে থাকেন।
হানাফী, মালেকী
ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের নিকটই নামাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা
আবশ্যক।
في الموسوعة الفقهية الكويتية
(11/ 164 (الترتيب في قضاء الفوائت: جمهور الفقهاء من الحنفية والمالكية والحنابلة
قالوا بوجوب الترتيب بين الصلوات الفائتة، وبينها وبين الصلاة الوقتية إذا اتسع
الوقت. فمن فاتته صلاة أو صلوات وهو في وقت أخرى، فعليه أن يبدأ بقضاء الفوائت
مرتبة،
কাযা নামাজ বলতে ইসলামে
কিছুই না থাকলে রাসূলুল্লাল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবাগণ (রাযি.) কেন কাযা নামাজ আদায় করলেন? তাদের
সকলের আমলও কী ইসলামের কোন বিষয় হিসেবে গণ্য হবেনা? আল
ইসতিযকার ১/৩০২-৩০৩আদ্দুর রুল মুখতার ২/৫২৩ ও ২/৫২৫-৫২৭; আল
মাওসূয়াতুল ফিকহিয়্যা কুয়েতিয়া ১১/১৬৪;
ফাতাওয়া
তাতারখানিয়্যা ২/৪৪০-৪৪৫
ফিকহি দলীল:
কোন ব্যক্তির যিম্মায় যদি ৬ ওয়াক্ত নামাযের কম কাযা হয়, তাহলে
উক্ত ব্যক্তিকে ফিক্বহী পরিভাষায় “সাহেবে
তারতীব” তথা
এরকম ব্যক্তি বলা হয়, যার উপর সিরিয়াল ঠিক রাখা
আবশ্যক হয়। অর্থাৎ যে নামায আগে কাযা হয়েছে,
তা
আগে আদায় করা আবশ্যক, পরেরটা পরে। সেই হিসেবে
কাযা নামায আদায় করার আগেই যদি অন্য নামাযের সময় হয়ে যায় তাহলে প্রথমে কাযা
আদায় করা আবশ্যক। তারপর বর্তমান আসা নামায আদায় করবে।
আর
যদি ৬ ওয়াক্ত থেকে বেশি নামায কাযা হয়ে থাকে। তাহলে তারতীব বা সিরিয়াল রক্ষা করা জরুরী নয়।
সুতরাং সে কাযা আদায় না করেই নতুন আসা ওয়াক্তি নামায পড়তে পারবে। ফাতওয়ায়ে-২/৫২৩-৫২৭ ২. ফাতওয়ায়ে
আলমগীরী-১/১২১ বাদায়েউস সানায়ে’-১/৫৬০-৫৬ فى رد المحتار-الترتيب بين الفروض الخمسة والوتر أداء وقضاء لازم ) يفوت الجواز بفوته
للخبر المشهور من نام عن صلاة……. ( إلا ) استثناء من اللزوم فلا يلزم
الترتيب …… (
أو فاتت ست اعتقادية ) لدخولها في حد التكرار المقتضي للحرج ( بخروج وقت السادسة ) على
الأصح ولو متفرقة)رد المحتار-كتاب الصلاة، باب شروط الصلاة، -2/523-527)
|
বন্ধক |
|
|
ইবনে আবেদীন শামী রাহ,বন্ধক পদ্ধতির বৈধতা সম্পর্কে বলেন,
[ كِتَابُ الرَّهْنِ] هُوَ مَشْرُوعٌ، لِقَوْلِهِ تَعَالَى - {فَرِهَانٌ مَقْبُوضَةٌ} [ البقرة:
283] - وَبِمَا رُوِيَ «أَنَّهُ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ
وَالسَّلَامُ - اشْتَرَى مِنْ يَهُودِيٍّ
طَعَامًا وَرَهَنَهُ بِهِ دِرْعَهُ» وَانْعَقَدَ عَلَيْهِ الْإِجْمَاعُ.
ভাবার্থঃ-বন্ধক পদ্ধতি কোরআনে কারীমের সূরা বাকারার ২৮৮নং
আয়ত দ্বারা প্রমাণিত এবং নবীজী (ﷺ)
কর্তৃক নিজ বর্মকে বন্ধক রাখা দ্বারাও প্রমাণিত হয়।সর্বোপরি বৈধতার উপর উলমায়ে
কেরামদের ইজমা বা ঐক্যমত ও রয়েছে।(রদ্দুল মুহতার-৬/৪৭৭)
বন্ধক সম্পর্কে হাদীস : حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ،
حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ وَلَقَدْ رَهَنَ
النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دِرْعَهُ بِشَعِيرٍ، وَمَشَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ
صلى الله عليه وسلم بِخُبْزِ شَعِيرٍ وَإِهَالَةٍ سَنِخَةٍ، وَلَقَدْ سَمِعْتُهُ
يَقُولُ
" مَا أَصْبَحَ لآلِ مُحَمَّدٍ صلى
الله عليه وسلم إِلاَّ صَاعٌ، وَلاَ أَمْسَى ". وَإِنَّهُمْ لَتِسْعَةُ أَبْيَاتٍ
অর্থ: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যবের বিনিময়ে তাঁর বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।
আমি একবার নবী (ﷺ)
এর খিদমতে যবের রুটি এবং দুর্গন্ধ যুক্ত চর্বি নিয়ে গেলাম, তখন তাঁকে বলতে শুনলাম,
মুহাম্মাদ(ﷺ)
এর পরিবার পরিজনের কাছে কোন সকাল বা সন্ধায় এক সা’ এর অতিরিক্ত (কোন খাদ্য)
দ্রব্য থাকে না। (আনাস (রা.) বলেন) সে সময়ে তারা মোট নয় ঘর (নয় পরিবার)
ছিলেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ২৩৪৩, আন্তর্জাতিক
নাম্বারঃ ২৫০৮
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه
وسلم اشْتَرَى مِنْ يَهُودِيٍّ طَعَامًا إِلَى أَجَلٍ وَرَهَنَهُ دِرْعَهُ.
‘আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) জনৈক ইয়াহুদীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে
খাদ্যশষ্য খরিদ করেন এবং নিজের বর্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নাম্বারঃ ২৩৪৪, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৫০৯
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله
عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ " الرَّهْنُ يُرْكَبُ بِنَفَقَتِهِ، وَيُشْرَبُ لَبَنُ الدَّرِّ إِذَا
كَانَ مَرْهُونًا ".
আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, বন্ধকী প্রাণীর উপর তার খরচ পরিমাণ আরোহণ
করা যাবে। তদ্রুপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে (খরচ পরিমাণ) তার দুধ পান করা যাবে। ইসলামিক
ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ২৩৪৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৫১১
قَالَ مُغِيرَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ تُرْكَبُ الضَّالَّةُ بِقَدْرِ
عَلَفِهَا، وَتُحْلَبُ بِقَدْرِ عَلَفِهَا، وَالرَّهْنُ مِثْلُهُ
মুগীরা (রহ.) ইবরাহীম (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, হারিয়ে যাওয়া প্রাণী যে পাবে
সে তার ঘাসের (ও অন্যান্য প্রয়জনীয়) খরচ পরিমাণ আরোহণ করতে পারবে, এবং ঘাসের খরচ পরিমাণ দুধ দোহন করতে পারবে। বন্ধকী প্রানীর ব্যাপারটিও
অনুরূপ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ
صلى الله عليه وسلم.
" الرَّهْنُ يُرْكَبُ بِنَفَقَتِهِ
إِذَا كَانَ مَرْهُونًا، وَلَبَنُ الدَّرِّ يُشْرَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ
مَرْهُونًا، وَعَلَى الَّذِي يَرْكَبُ وَيَشْرَبُ النَّفَقَةُ
আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বাহনর পশু বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে
তাতে আরোহণ করা যাবে। তদ্রুপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে দুধ পান
করা যাবে। (মোট কথা) আরোহণকারী এবং দুধ পানকারীকেই খরচ বহন করতে হবে। ইসলামিক
ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ২৩৪৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৫১২
عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ ـ رضى الله عنه مَنْ
حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ، يَسْتَحِقُّ بِهَا مَالاً وَهْوَ فِيهَا فَاجِرٌ، لَقِيَ
اللَّهَ وَهْوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَ ذَلِكَ (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ
ثَمَنًا قَلِيلاً)
فَقَرَأَ إِلَى (عَذَابٌ أَلِيمٌ).ثُمَّ إِنَّ الأَشْعَثَ بْنَ قَيْسٍ خَرَجَ إِلَيْنَا فَقَالَ مَا
يُحَدِّثُكُمْ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ فَحَدَّثْنَاهُ قَالَ فَقَالَ
صَدَقَ لَفِيَّ وَاللَّهِ أُنْزِلَتْ، كَانَتْ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ خُصُومَةٌ
فِي بِئْرٍ فَاخْتَصَمْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " شَاهِدُكَ أَوْ يَمِينُهُ ". قُلْتُ إِنَّهُ إِذًا يَحْلِفُ وَلاَ يُبَالِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ يَسْتَحِقُّ بِهَا مَالاً هُوَ فِيهَا
فَاجِرٌ، لَقِيَ اللَّهَ وَهْوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ ". فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَ ذَلِكَ، ثُمَّ اقْتَرَأَ هَذِهِ
الآيَةَ (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ
بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً) إِلَى (وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ).
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহ.) ... আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’উদ) (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি
বলেন, মিথ্যা কসম করে যে ব্যাক্তি অর্থ-সম্পদ হস্তগত করে সে
(কিয়ামতের দিন) আল্লাহ সাথে সাক্ষাত করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ
তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তারপর আল্লাহ তা’আলা (নবী (ﷺ) এর) উক্ত বাণী সমর্থন করে আয়াত নাযিল
করলেন: “নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাতে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুচ্ছ
মূল্যে বিক্রয় করে মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে। (৩ঃ ৭৭) (রাবী বলেন) পরে আশ’আস ইবনু কাযস (রা.) আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আবূ আবদুর রহমান (ইবনু মাসউ’দ) তোমাদের কি হাদীস
শোনালেন (রাবী বলেন), আমরা তাকে হাদীসটি শোনালে তিন বললেন,
তিনি নির্ভুল হাদীস শুনিয়েছেন। আমাকে কেন্দ্র করেই তো আয়াতটি নাযিল
হয়েছিলো। কুয়া (এর মালিকানা) নিয়ে আমার সাথে এক লোকের ঝগড়া চলছিলো। পরে আমরা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
বললেন, যে
ব্যাক্তি মিথ্যা হলফ করে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করবে, সে
(কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ
তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তিন (আশআস) বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা এর সমর্থনে আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর তিনি (আশআস) এই আয়াত إِنَّ
الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً) إِلَى (وَلَهُمْ
عَذَابٌ أَلِيمٌ তিলাওয়াত করলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ২৩৫০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৫১৫ –
২৫১৬
ঋণ দেওয়ার ফলে কোন প্রকার উপকার গ্রহণ করা.- সুদের প্রবেশপথ বন্ধ করার
লক্ষ্যে নবী করীম (ﷺ) মুসলমানদের
উপর সেই সমস্ত মুনাফা ও উপকার গ্রহণকেও হারাম ঘোষণা করেছেন, যা ঋণ দেওয়ার ফলে ঋণগ্রহীতার
নিকট পেশ করা হয়ে থাকে।
যেমন কোন উপহার-উপঢৌকন অথবা বিনা মজুরীতে ঋণদাতার কোন কাজ
করে দেওয়া প্রভৃতি (যদিও ঋণগ্রহীতা এ সবের মাধ্যমে উপকারের বিনিময়ে প্রত্যুপকার করতে
চায়, তবুও
ঋণদাতার জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ নয়।) হাদীস শরীফে প্রিয় নবী (ﷺ) বলেন,
إذا أقرض أحدكم قرضاً فأهدى إليه أو حمله على الدابة فلا يركبه ولا
يقبلها إلا أن يكون جرى بينه وبينه قبل ذلك.
অর্থাৎ, ‘‘যখন তোমাদের মধ্যে কেউ (কাউকে) ঋণ দেয়।
অতঃপর (ঋণগ্রহীতার তরফ থেকে) তাকে কোন উপঢৌকন দেওয়া হয় অথবা তাকে (ঋণগ্রহীতা নিজের
গাড়ি বা) সওয়ারীতে চড়িয়ে কোথাও পৌঁছিয়ে দিতে চায়, তবে সে যেন
তার সওয়ারীতে না চড়ে এবং তার উপঢৌকনও গ্রহণ না করে। তবে হ্যাঁ, যদি এরূপ সদ্ব্যবহার (উপঢৌকন আদান-প্রদান ঋণ দেওয়ার) পূর্ব থেকেই জারী
থাকে তবে (তার পরে) অনুরূপ কিছু গ্রহণ করায় দোষ নেই।’’ মুসনাদে
আহমদ ১/৩৯৫, ৪২৪, ইবনে মাজাহ ২২৭৯,
বাইহাকী, মিশকাত ২৮২৭ নং)
উক্ত হাদীসে নবী করীম (ﷺ)
সেই মুনাফা ও উপকার গ্রহণ করতেও নিষেধ করেছেন যা ঋণ দেওয়ার কারণেই ঋণগ্রহীতা
ঋণদাতার জন্য নিবেদন করতে চায়।
|
এ ১৫
টির ক্ষতির উদ্ভাবক হলেন-ফয়জুল আল আমীন |
এ ১৫ টির ক্ষতির উদ্ভাবক হলেন-ফয়জুল আল আমীন {ফয়জুল আল আমীন- এক লেখক। পুরো
নাম- সৈয়দ মুহম্মদ ফয়জুল আল আমীন। প্রবন্ধ-নিবন্ধ, কলাম,
সাহিত্য সমালোচনা, গল্প, গবেষণা, কবিতা, ছড়াসহ
সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় যার সুদীপ্ত বিচরণ। ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে তাঁর গুরু হলেন
বাবা। আর সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে প্রকৃতি। ইসলাম ধর্মের নানা দিক ও বিষয় নিয়ে
সুদীর্ঘ গবেষণা করেছেন ফয়জুল আল আমীন।}
সুতরাং বুঝতে পারছেন এটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য ।
|
কাতার ফাকা রাখা |
|
প্রশ্ন। মাওলানা তারেক মুনাওয়ার এর বয়ানে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি পায়ের সাথে পা মিলে
দাঁড়াবে আল্লাহ জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মান করবেন। কথাটুকু কতটুকু সহিহ?
মুহতারাম আবুল কালাম ৫৫ এমপি যশোর সেনানিবাস প্রশ্নের আলোকে?
উত্তর:
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ
رَسُوْلُ اللهِ مَنْ سَدَّ فُرْجَةً فِىْ صَفَّ رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً
وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ.
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ((ﷺ)) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাতারের মাঝে ফাঁক
বন্ধ করে দাঁড়াবে, এর বিনিময়ে আললাহ তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি
করে দিবেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৫৭৯৫; মুছান্নাফ
ইবনে আবী শায়বাহ হা/৩৮২
উপরোক্ত হাদিসে পায়ের সাথে পা লাগানোর কথা বলা হয়নি, যেন ফাকা না থাকে, সে কথা বলা হয়েছে। তবে আহলে হাদিস ভাইয়েরা এটাকে পায়ের সাথে পা লাগানোর
ব্যাখ্যা করে। নিম্নে আরও দুটি উল্লেখ করা হলো:
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالْأَعْنَاقِ
فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ
كَأَنَّهَا الْحَذَفُ»
. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ (সালাতে) তোমাদের কাতারগুলো মিলেমিশে দাঁড়াবে এবং
কাতারগুলোও কাছাকাছি (প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে) বাঁধবে। নিজেদের কাঁধ মিলিয়ে
রাখবে। কসম ওই জাতে পাকের যাঁর হাতে আমার জীবন! আমি শায়ত্বনকে তোমাদের (সালাতের)
সারির ফাঁকে ঢুকতে দেখি যেন তা হিজাযী ছোট কালো বকরী। সহীহ : আবূ দাঊদ ৬৬৭, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৫৪৫, ইবনু হিব্বান ৬৩৩৯, সহীহ আত্ তারগীব ৪৯৪
সূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ
করলেনঃ তোমরা তোমাদের সালাতের কাতারগুলোকে সোজা রাখো, কাঁধকে সমান করো, ভাইদের হাতের সাথে হাত নরম করে রাখো। কাতারের মাঝে খালি স্থান ছাড়বে না। তা না হলে শায়ত্বন
(শয়তান) তোমাদের মাঝে হিজাযী ছোট কালো ছাগলের মতো ঢুকে পড়বে। অর্থাৎ ভেড়ার ছোট বাচ্চা। আহমাদ ২২২৬৩
হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বুখারীতে বর্ণিত হাদীসের
ব্যাখ্যায় ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন
المراد بذلك المبالغة فى تعديل الصف وسد خلله (فتح البارى-2/211
অর্থাৎ এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হল-কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে
গুরুত্ব বুঝানো, আর কাতারের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা। {ফাতহুল বারী-২/২১১}
|
কাবলাল জুমুআ |
|
জিজ্ঞাসা-১০৬: কবলাল জুমাআর চার রাকাত সুন্নাতের কোন দলিল আছে কি?
|
|
সম্মানিত ভাই ধর্ম শিক্ষক আল-আমিন ডিভ হেডকোয়ার্টার বগুড়া-এর প্রশ্নের
আলোকে-
উত্তর:
ক্বাবলাল জুমআ সুন্নত সম্পর্কে স্পষ্ট মারফূ হাদীস:
১। সুনানে ইবনে মাজায় (কিতাবুল জুমা, বাবুস সালাহ কাবলাল জুমা-র
অধীনে) হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে :
عن بقية، عن مبشر بن عبيد، عن حجاج بن أرطاة، عن عطية العوفي، عن ابن عباس قال كان النبي صلىالله عليه وسلم يركع قبل الجمعة أربعا لا يفصل في شيء منهن.
বাকিয়্যাহ মুবাশশির ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে আরতাত থেকে,
তিনি আতিয়্যা আল আওফী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ
ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, ‘নবী (ﷺ) জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন। মাঝে (সালামের দ্বারা) আলাদা করতেন
না, (অর্থাৎ
আত্তাহিয়্যাতু পড়ে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন)। সুনানে ইবনে মাজাহ,
হাদীস : ১১২৯
হাফেয আবু যুরআ ইরাকী (৮২৬ হিজরী) তরহুত তাছরীব
গ্রন্থে ( খ. ৩, পৃ. ৩৬) লেখেন-
والمتن المذكور رواه أبو الحسن الخِلَعي في فوائده بإسناد جيد من طريق أبي إسحاق عن عاصم بن ضمرة عنعلي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم.
সুতরাং এ বিষয়ের প্রথম মারফূ হাদীস যার সনদ নির্ভরযোগ্য।
২। আবুল হাসান আল খিলায়ীর
সনদের সমর্থন ঐ রেওয়ায়েত দ্বারাও হয়, যা তবারানী ‘‘আলমুজামুল
আওসাত’’ কিতাবে এবং আবু সায়ীদ ইবনুল আরাবী তাঁর ‘‘আলমু’জাম’’ কিতাবে বর্ণনা
করেছেন। বর্ণনাটি এই-
محمد بن عبد الرحمن السَّهْمي، حدثنا حُصَيْن بن عبد الرحمن السُّلَمِي، عن أبي إسحاق، عن عاصم بنضَمْرة، عن علي قال : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي قبل الجمعة أربعا، وبعدها أربعا، يجعلالتسليمَ في آخرهن
মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাহমী বর্ণনা করেন, আমাদেরকে হুসাইন ইবনে আব্দুর
রহমান আসসুলামী বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক (সাবীয়ী)
থেকে, তিনি আসিম ইবনে দমরা থেকে, তিনি
আলী রা. থেকে, যে ‘‘আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জুমার আগে চার রাকাত এবং জুমার পরে চার
রাকাত পড়তেন এবং সর্বশেষ রাকাতে সালাম ফেরাতেন।’’-আলমুজামুল আওসাত, তবারানী খ. ২, পৃ. ৩৬৮ আলমু’জাম
আবু সায়ীদ ইবনুল আরাবী-লিসানুল মীযান খ. ৭, পৃ. ২৭৮,
৫ : ২৪২)
সনদের মান : সনদের সকল রাবী পরিচিত ও প্রসিদ্ধ এবং উত্তম
স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও নির্ভরযোগ্য। ‘‘আলজরহু ওয়াত তা’দীলে’’
(খ. ৩ কিসত : ২ পৃ. ৩২৬)
৩। আব্দুল্লাহ ইবনুস সাইব রা.
বর্ণনা করেছেন-
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي أربعا بعد أن تزول الشمس، قبل الظهر، وقال : إنها ساعةتُفْتَح فيها أبواب السماء، فأحب أن يصعد لي فيها عمل صالح.
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সূর্য
ঢলার পর যোহরের আগে চার রাকাত নামায পড়তেন। এবং বললেন ‘এই সময় (সূর্য ঢলার পর)
আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয়। আমি চাই, এ সময় আমার কোনো নেক
আমল ওপরে যাক।-আশ শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ, তিরমিযী,
হাদীস : ২৯৫; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৪৮২; মুসনাদে আহমদ খ. ৬, পৃ. ৪১১, হাদীস : ১৫৩৯৬
ইমাম তিরমিযীর মতে, হাদীসটি ‘হাসান’।
এ হাদীসে সূর্য ঢলার পর চার রাকাত নামাযের কথা এসেছে। এটিই
জুমার দিন ‘কাবলাল জুমা’, অন্যান্য দিন ‘কাবলায
যোহর’। যেহেতু ছয়দিন তা কাবলায
যোহর তাই একে বলা হয়েছে ‘কাবলায যোহর’। নতুবা এ নামাযের যে হিকমত বর্ণনা করা হয়েছে (অর্থাৎ সূর্য
ঢলার সময় আসমানের দরজা খোলা হয়, এ কারণে এ সময় কোনো নেক আমল পাঠানো উচিৎ’)
তা তো জুমার দিনেও আছে। জুমার দিনও তো সূর্য ঢলে এবং আসমানের দরজা
খোলে। সুতরাং ঐ দিন চার রাকাত রহিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পরবর্তী হাদীস থেকে
বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়।
আছার তথা সাহাবা-তাবেয়ীদের আমল দ্বারা প্রমাণিত
১. জাবালা ইবনে সুহাইম রাহ. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে
বর্ণনা করেন, ‘তিনি জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন। মাঝে সালাম ফেরাতেন না।’
عن جَبَلة بن سُحَيْم، عن عبد الله بن عمر أنه كان يصلي قبل الجمعة أربعا لا يفصل بينهن بسلام، ثم بعدالجمعة ركعتين ثم أربعا.
-শরহু মাআনিল আছার, তহাবী
পৃ. ১৬৪-১৬৫
আল্লামা নীমাভী রাহ. ‘‘আছারুস সুনান’’ পৃ.
৩০২-এ এর সনদকে সহীহ বলেছেন। ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. ‘‘ফাতহুল
বারী শরহু সহীহিল বুখারী’’ গ্রন্থে (৫/৫৩৯) একে প্রমাণ
হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম ইবনে রজব রাহ. সহীহ বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থে এই হাদীসের আলোচনায় লেখেন-
وظاهر هذا يدل على رفع جميع ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم : صلاته قبل الجمعة وبعدها في بيته، فإناسم الإشارة يتناول كل ما قبله مما قرب وبعد، صرح به غير واحد من الفقهاء والأصوليين.
وهذا فيما وضع للإشارة إلى البعيد أظهر، مثل لفظة ذلك، فإن تخصيص القريب بها دون البعيد يخالفوضعها لغة.
আহলে ইলম বুঝতে পারছেন, এখানে ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. ঐ ব্যক্তিদের
বক্তব্য খন্ডন করছেন যারা বলেছেন যে, সুনানে আবু দাউদের
উপরোক্ত হাদীস দ্বারা শুধু ‘বা’দাল
জুমা’ (জুমার পরের নামায) মারফূ হওয়া প্রমাণিত হয়, কাবলাল জুমা নয়। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা ‘যাদুল মাআদ’
ও ‘ফতহুল বারী, ইবনে
হাজার’-এর আলোচনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে যায়।
যাক, এ তো ছিল একটি প্রাসঙ্গিক কথা। আমি কাবলাল জুমা চার রাকাত সুন্নত সম্পর্কে
আছার উল্লেখ করছিলাম। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর আছর উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয়
আছর এই-
২. আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, ‘তিনি জুমার দিন নিজ ঘরে চার
রাকাত পড়তেন। এরপর মসজিদে আসতেন এবং জুমার আগে আর কোনো নামায পড়তেন না, জুমার পরেও না।’
عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه كان يصلي يوم الجمعة في بيته أربع ركعات، ثم يأتي المسجد فلا يصليقبلها ولا بعدها.
এই আছরটি মুহাদ্দিস হার্ব ইবনে ইসমাঈল আলকিরমানী (২৮০হি.)
তাঁর কিতাবে সনদসহ বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে রজব রাহ. বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থে
(৫/৫৮০) তা দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, এ বর্ণনায় জুমার পরে কোনো নামায না-পড়ার
অর্থ হবে মসজিদে না পড়া।
৩. সাফিয়া রাহ. বলেন, তিনি (উম্মুল মুমিনীন) সফিয়্যাহ রা.কে
দেখেছেন, জুমার জন্য ইমাম আসার আগে চার রাকাত পড়েছেন। এরপর
ইমামের সাথে দুই রাকাত জুমা আদায় করেছেন।
عن صافية قالت : رأيت صفية بنت حُيَيّ رضي الله عنها : صلَّت أربع ركعات قبل خروج الإمام للجمعة، ثمصلت الجمعة مع الإمام ركعتين.
তবাকাতে ইবনে সাদ ; নসবুর রায়াহ ২/২০৭; ফাতহুল বারী, ইবনে রজব ৫/৫৩৯
নারীদের উপর জুমা ফরয নয়, তাঁরা ঘরে যোহর পড়ে থাকেন।
তবে কখনো যদি জুমা পড়েন তবে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। ঐ অবস্থায়ও তাদের জুমার আগে
চার রাকাত পড়া উচিত, যেমনটা সাফিয়্যাহ রা.-এর আমল থেকে
জানা গেল।
৪. আবু ওবায়দা রাহ. বর্ণনা করেন, (আববাজান) আব্দুল্লাহ
ইবনে মাসউদ রা. জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন।
عن أبي عُبَيْدة، عن عبد الله قال : كان يصلي قبل الجمعة أربعا.
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা খন্ড ৪, পৃ. ১১৪ (৫৪০২)
তাবেয়ী ক্বাতাদা রাহ.ও একথাই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.
জুমার আগে চার রাকাত পড়তেন, জুমার পরেও চার রাকাত পড়তেন।
أن ابن مسعود كان يصلي قبل الجمعة أربع ركعات وبعدها أربع ركعات.
-মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক খন্ড ৩, পৃ. ২৪৭ (৫৫২৪)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু নিজে চার রাকাত পড়তেন এমন নয়, তিনি অন্যদেরও চার রাকাত কাবলাল জুমা পড়ার আদেশ দিতেন।
তাঁর বিশিষ্ট শাগরিদ আবু আব্দুর রহমান আসসুলামী রাহ.-এর
বর্ণনা : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমার আগে চার রাকাত এবং জুমার পরে
চার রাকাত পড়ার আদেশ করতেন। পরে যখন আলী রা. আগমন করলেন তখন তিনি আমাদেরকে জুমার
পরে প্রথমে দুই রাকাত এরপর চার রাকাত পড়ার আদেশ করেন।
كان عبد الله يأمر أن نُصَلِّي قَبْلَ الجُمْعة أربعا، وبعدها أربعا، حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتينثم أربعا.
-মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক খন্ড ৩, পৃ. ২৪৭ (৫৫২৫)
নফল নামাযের বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া যায়, আদেশ দেওয়া যায় না। আদেশ
করার অর্থ, এই নামায অন্তত সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যেমন পরের চার রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
এ বর্ণনার সনদ সহীহ ও মুত্তাছিল।
এ শুধু উপরোক্ত চার, পাঁচজন সাহাবীরই আমল নয়, খাইরুল কুরূনে সাহাবা-তাবেয়ীনের সাধারণ আমল এটিই ছিল। দু’টি বর্ণনা লক্ষ করুন :
৫. তাবেয়ী আমর ইবনে সায়ীদ ইবনুল আস রাহ. (৭০হি.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে দেখতাম, জুমার দিন সূর্য যখন ঢলে যেত তখন
তাঁরা দাড়িয়ে যেতেন এবং চার রাকাত পড়তেন।’
كنت أرى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإذا زالت الشمس يوم الجمعة، قاموا فصلوا أربعا.
এ আছরটি ইমাম আবু বকর আল-আছরাম রাহ. (২৭৩হি.) তাঁর কিতাবে
বর্ণনা করেছেন।
আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর ঐ চার রাকাতের আদেশ দেওয়া
এবং খলীফায়ে রাশেদের তাঁর সাথে একমত থাকা, বলাই বাহুল্য, নিছক
ইজতিহাদের ভিত্তিতে হতে পারে না। এ কারণে তাঁর এই হুকুম মারফূ হুকমী হাদীসের
অন্তর্ভুক্ত।
|
তারাবীহ নামাজের পর দুআ প্রসঙ্গে |
|
|
প্রশ্ন। মুহতারাম ফরিদুজ্জামান ২৩ আইরি বরিশাল সেনানিবাস (মাহেরে ইংলিশ যা আরটি জাতির জন্য
গর্ব) ভাইদের প্রশ্নের আলোকে?
উত্তর । ১। তারাবীহ নামাযের প্রতি চার রাকাত পর নির্দিষ্ট কোন দুআ দরূদ
পড়ার কথা বিশুদ্ধ সূত্রে হাদীসে বর্ণিত হয়নি।
২। নির্দিষ্ট কোন একটি কাজকে আবশ্যকীয় মনে করার কোন সুযোগ নেই।
সুযোগ নেই নির্দিষ্ট কোন দুআকে জরুরী মনে করা
৩। যেহেতু যেকোন দুআ ও দরূদ এ সময়ে পড়া যায়। সেই হিসেবে কিছু
কিছু ফুক্বাহায়ে কেরাম এ সময়
سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ
وَالْعَظَمَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ
الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ، لَا إلَهَ إلَّا
اللَّهُ نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، نَسْأَلُك الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِك مِنْ النَّارِ
হামদ ও দুআটি পড়তে বলেছেন।
এটা জরুরী,বা সুন্নত-মুস্তাহাব হিসেবে পড়তে বলেননি।
বরং এসময় চুপ করে থাকার চেয়ে দুআ দরূদ, জিকির আজকার করা
উচিত। সেই হিসেবে তারা একটি চমৎকার আল্লাহর হামদ এবং দুআর শব্দময় উক্ত বাক্যগুলো
পড়তে বলেছেন।
এটি পড়া যায়। কিন্তু সুন্নত-মুস্তাহাব বা জরুরী মনে করা
যাবে না। না পড়লেও কোন সমস্যা নেই। দলিল নিম্নে দেওয়া হলো
واما سننها: وَمِنْهَا أَنَّ الْإِمَامَ
كُلَّمَا صَلَّى تَرْوِيحَةً قَعَدَ بَيْنَ التَّرْوِيحَتَيْنِ قَدْرَ تَرْوِيحَةٍ
يُسَبِّحُ، وَيُهَلِّلُ وَيُكَبِّرُ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – وَيَدْعُو وَيَنْتَظِرُ أَيْضًا بَعْدَ الْخَامِسَةِ قَدْرَ
تَرْوِيحَةٍ؛ لِأَنَّهُ مُتَوَارَثٌ مِنْ السَّلَفِ (بدائع الصنائع، كتاب الصلاة، فصل فى سننها والتراويح-1/648(
وهذا الانتظار مستحب لعادة اهل الحرمين، فان عادة اهل مكة ان يطوفوا
بعد كل اربع اسبوعا ويصلون ركعتى الطواف، وعادة اهل المدينة ان يصلوا اربع ركعات،
وقد روى البيهقى باسناد صحيح انهم كانو يقومون على عهد عمر يعنى بين كل ترويحتين،
فثبت من عادة اهل الحرمين الفصل بين كل تريحتين، ومقدار ذلك الفصل وهو مقدار
ترويحة فكان مستحبا لان ما رآه المؤمنون حسنا فهو عند الله حسن، (حلبى كبير، كتاب الصلاة، صلاة التراويح-350، 404(
(يَجْلِسُ) نَدْبًا (بَيْنَ كُلِّ أَرْبَعَةٍ بِقَدْرِهَا وَكَذَا بَيْنَ الْخَامِسَةِ
وَالْوِتْرِ) وَيُخَيَّرُونَ بَيْنَ تَسْبِيحٍ
وَقِرَاءَةٍ وَسُكُوتٍ وَصَلَاةٍ فُرَادَى،
قَالَ الْقُهُسْتَانِيُّ: فَيُقَالُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ «سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ
وَالْعَظَمَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ
الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ، لَا إلَهَ إلَّا
اللَّهُ نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، نَسْأَلُك الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِك مِنْ النَّارِ» كَمَا فِي مَنْهَجِ الْعِبَادِ. (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر والنوافل، مبحث صلاة التراويح-2/496-497، زكريا
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া)
|
মুয়ানাকার বিধান |
|
|
জিজ্ঞাসা-১০৭: মুয়ানাকার বিধান কি?
মুহতারাম সাইফুল ভাইয়ের প্রশ্নের আলোকে ?
উত্তর। ১। মুয়ানাকার বিধান : মুয়ানাকা : দীর্ঘদিন পর একে অন্যের সঙ্গে
সাক্ষাৎ হলে পরস্পরে মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করা সুন্নাত। কেউ সফর থেকে এলে দীর্ঘদিন
পর দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ায় সাহাবায়ে-কেরাম মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করতেন। হজরত আয়েশা
(রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত যায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) যখন মদিনায়
এলেন তখন নবী (সা.) আমার ঘরে ছিলেন। যায়েদ (রা.) তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমার ঘরে
এলেন এবং দরজায় টোকা দিলেন। রাসুল (সা.) নিজের কাপড় সামলাতে সামলাতে উঠে গেলেন এবং
যায়েদের সঙ্গে কোলাকুলি করলেন এবং আদর করলেন।’ (তিরমিজি :
২৭৩২)। হজরত শাবিহ (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে-কেরাম পরস্পরে
সাক্ষাতে মুসাফাহা করতেন আর দূরের সফর থেকে ফিরে এলে কোলাকুলি করতেন।’ (মুসন্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ২৬২৩৪)
কিন্তু এছাড়া অন্য সময় মুআনাকা বা কোলাকুলি করা সুন্নাত নয়।
যদি সুন্নাত মনে না করে, ঐ সময় ছাড়াও মুআনাকা করে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আর যদি সুন্নাত মনে করে
করে, তাহলে বিদআত বলে গণ্য হবে। -[ফাতাওয়ায়ে উসমানী,
(মুফতী তাকী উসমানী), ১/১০৩]
২। তিনবার করার বিধান :
কুলাকুলি মূলত একবার করার কথা পাওয়া যায়। তিনবারের কোন
বিধান নেই। কিন্তু আমাদের সমাজের প্রচলন হিসেবে এমনটি করা হয়ে থাকে। এটি সুন্নত
নয়।
عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَدِمَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ الْمَدِينَةَ , وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِي , فَأَتَاهُ , فَقَرَعَ الْبَابَ , فَقَامَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
عُرْيَانًا , وَاللهِ مَا رَأَيْتُهُ
عُرْيَانًا قَبْلَهُ ,فَاعْتَنَقَهُ وَقَبَّلَهُ “
হযরত
আয়শা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত জায়েদ বিন হারেসা রা.
মদীনায় এলেন। তখন রাসূল (ﷺ)
আমার গৃহে ছিলেন। হযরত জায়েদ এসে রাসূল (ﷺ) এর দরজায় কড়া নাড়লেন। রাসূল (ﷺ) তখন বেরিয়ে গেলেন খালি গায়েই। আল্লাহর কসম আমি এর আগে কখনো রাসূল
(ﷺ) কে খালি গায়ে দেখিনি। তারপর তিনি তার সাথে
মুআনাকা করলেন এবং তাকে চুমু খেলেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস
নং-৬৯০৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস
নং-২৭৩২, শরহুস সুন্নাহ, হাদীস
নং-৩৩২৭}
عانقة وعناقا التزمه فادنى عنقه
من عنقه من عنقه (لسان العرب-10/272
او يعاقنه اى يجعل كل منهما دية
فى عنق الاخر الخ (سكب الأنهر، كتاب الكراهية، فصل فى النظر-4/204
|
বাকিতে বেশি মূল্যে ক্রয়
করার বিধান |
|
|
|
|
জিজ্ঞাসা-১০৮:
বাকিতে বেশি মূল্যে ক্রয় করার বিধান? ধরুন, কোনো বস্তুর বর্তমান মূল্য ধরুন ১০০টাকা কেজি।
বাকি কেনায় তার মূল্য যদি বিক্রে তা১২০ টাকা করে ধরেন। তাহলে তা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?
প্লিজ কারো জানা
থাকলে দলীলসহ জানালে উপকৃত হতাম।
হাফেজ মাওলানা রজিব উদ্দিন ঢাকা থেকে-
উত্তর। হ্যাঁ, নগদ
মূল্যের তুলনায় বাকিতে (বা কিস্তিতে) বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি দাম নেওয়া জায়েয আছে। তবে এক্ষেত্রে
বাকির মেয়াদ এবং পণ্যের মূল্য চুক্তির সময়ই নির্ধারণ করে নিতে হবে। আর পণ্য নগদে
হস্তান্তর করতে হবে। উভয়টি বাকি রাখা যাবে না। এছাড়া কিস্তি আদায়ে বিলম্ব হলে
চুক্তির সময় যে মূল্য ধার্য করা হয়েছিল তার চেয়ে দাম বাড়িয়ে নেওয়া জায়েয
হবে না।
হযরত শুবা ইবনুল হাজ্জাজ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
আমি হাকাম ইবনে উতাইবা এবং হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমকে এক ক্রেতা
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, সে অন্যের থেকে পণ্য ক্রয় করে
আর বিক্রেতা তাকে বলে যে, নগদ মূল্যে কিনলে এত টাকা আর
বাকিতে কিনলে এত টাকা। (এতে কোনো অসুবিধা আছে কি?) তারা
উভয়ে বললেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে যদি (মজলিস
ত্যাগ করার পূর্বে) কোনো একটি (মূল্য) চূড়ান্ত করে নেয় তাহলে এতে কোনো অসুবিধা
নেই।
দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২০৮৩৬; জামে তিরমিযী ১/১৪৭; মাবসূত ১৩/৮; রদ্দুল মুহতার ৫/১৪২; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা ১/৭-৮
|
কুরবানীর /পশুকে জবাহ করার সময় কেবলা করা সুন্নাত |
|
। |
জিজ্ঞাসা-১১০: আস্সালামু আলাইকুম। মুহতারাম, গরু জবাই করার সময় মাথা দক্ষিণ দিকে রাখা বিষয়ে দলীল প্রয়োজন। জাযাকাল্লাহু
খাইর।
সম্মানিত ভাই আরটি আনওয়ারুল আম্বিয়া কুমিল্লা থেকে-
উত্তর। পশুকে জবাই করার সময় কিবলা বা কাবার দিকে মুখ
সুন্নাত। যেহেতু বাংলাদেশীদের কিবলা পশ্চিম দিকে। তাই সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি হল, পশুকে দক্ষিণ দিকে মাথা ও উত্তর দিকে পা
দিয়ে শুয়াবে। তারপর মাথা ও পা’ কে পশ্চিম দিকে কাৎ করবে।
এভাবে কুরবানী করবে। দলিল:
قال
فى حاشية ابى داود: واستحباب وضع الرجل على صفحة عنق الأضحية
الأيمن واتفقوا على ان اضجاعها يكون على الجانب الأيسر فيضع رجله على الجانب
الأيمن ليكون اسهل على الذابح فى أخذ السكين باليمين وامساك رأسها بيده اليسار (سنن
ابى داؤد، كتاب الضحايا، باب ما يستحب من الضحايا-2\386)
واخذ
الكبش، فأضجعه على اليسار، وهو الظهار، لأنه أيسر فى الذبح (بذل
المجهود، كتاب الضحايا، باب ما يستحب فى الضحايا-5\70)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
উশর |
জিজ্ঞেসা-১১১: একজন ব্যক্তি
৩০০ শতকের মত জমি লীজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছে। এখানে তার খরচ ব্যতীত নীট মুনাফা হয়েছে
২লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা। বৃষ্টি বা খালবিল থেক সেচের পানি দেওয়া হয়নি। প্রশ্ন হলো-
১। (জমি লীজ নেওয়া) এর উপর উশর আসবে কি না?
২। এই টাকা কি হাওলানে হাওল হওয়ার প্রয়োজন আছে কি না?
৩। কত পার্সেন্ট দিতে হবে?
৪। না কি যাকাত দিতে হবে?
বিষয়টি অতীব জরুরী মুহাক্কিক উলামাগণের নিকট দলিলসহ সমাধান চাচ্ছি,,,
সমুন
সাহেব বান্দরবান থেকে-
উত্তর। ইতিমধ্যে উশরের বিষয়ে
সম্মানিত শায়েখ আব্দুল কাউয়ুম ভাই বিস্তারিত প্রবন্ধ গ্রুপে শেয়ার করেছেন ও
আমি একটি লেখা শেয়ার করেছি । (যাইহোক, ধান,
চাল, গম,ভুট্টা, খেজুর, বাদাম, যব, মশুরি, সিমের বিচি, ছোলা
ইত্যাদি কিংবা আম, জাম, কাঁঠাল,
কলা, পেয়ারা, আনারস,
লিচু, নারিকেল, তরমুজ,
সুপারি ইত্যাদি কিংবা শশা, গাজর, মুলো, শালগম, ক্ষিরা, লাউ, কুমড়ো, কদু, করল্লা, বেগুন, পুঁই শাক,
পালং শাক, আলু ইত্যাদির উপরও যাকাত ( উশর) ফরয
হয়।
ফসলের যাকাতের নির্দেশ দিয়েছে কুরআনুল কারিম। (দ্রষ্টব্য সূরা আল বাকারা – ২৬৭, সূরা
আল আনআম – ১৪১- বিস্তারিত- আল জামিউ লি আহকামিল কুরআন,
ইমাম কুরতুবী, খণ্ড- ২, পৃষ্ঠা
২০৮- ২১২, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা- ৬৪- ৭৩ সহ
অন্যান্য তাফসির গ্রন্থ)
১। জমি লীজ নেওয়া এর উপর উশর আসবে কি না ? হ্যাঁ আসবে।
২,৩,ও ৪ প্রশ্নের উত্তর। উনার উচিত ছিল উক্ত মালের উশর দেওয়া। আপনি উনার নীট মুনাফা ২লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।
প্রথম কথা হলো ২ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা
ব্যতিত যদি উনার আর কোন টাকা না থাকে তাহলে এই টাকা এক বছর তার মালিকনায় থাকতে হবে,তারপর যাকাত ফরজ হবে। আর যদি পূর্বেই তিনি সাহেবে নিসাব হয়ে থাকে এবং তা
একবছর পূর্ণ হয়, তাহলে ২ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা তার সাথে
যুক্ত করে যাকাত দিতে হবে। উল্লেখ্য যে ২ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা এক্ষেত্রে এক বছর
পূর্ণ হতে হবে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৬৮৭২
[আমার যা ছিল তাই লিখলাম আরও বিস্তারিত বিজ্ঞ মুফতির কাছ থেকে জেনে নেওয়ার জন্য
পরামর্শ/অনুরোধ করছি]
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)
|
ঈদের নামাজের তাকবির কয়টি ? |
|
জিজ্ঞাসা-১১২: ঈদের নামাজের তাকবির কয়টি ? ৬ তাকবির কি সহিহ দ্বারা প্রমাণিত?
ঊত্তর। এটি একটি ইজতাহিদী মাসয়ালা। এ নিয়ে সাহাবায়ে
কেরাম, তাবেয়ী ও
পরবর্তী ইমামদের মধ্যে মতানৈক্য আছে এবং এ মাসয়ালায় ১০টিরও অধিক মতামত রয়েছে।
মালেকী ও হাম্বলি মাযহাবের আলেমগণ বলেন: ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে তাকবীর সংখ্যা ৬টি এবং
দ্বিতীয় রাকাতে ৫টি। এটি মদিনার সাত ফকীহ, উমর ইবনে আব্দুল আযিয, যুহরী ও মুযানি থেকে বর্ণিত আছে। আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা’ (১৩/২০৯)
বুঝা যাচ্ছে- প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমাকে তারা সপ্তম তাকবীর হিসেবে গণ্য
করেন এবং দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর তাকবীরকে তারা বর্ণিত পাঁচটি তাকবীরের
অতিরিক্ত তাকবীর হিসেবে গণ্য করেন।
আর হানাফী মাযহাবের অভিমত ও এক বর্ণনা মতে ইমাম আহমাদের মত হচ্ছে: দুই ঈদের নামাযে
অতিরিক্ত ৬ তাকবীর দিতে হবে। প্রথম রাকাতে ৩ তাকবীর, দ্বিতীয় রাকাতে ৩ তাকবীর। এটি
ইবনে মাসউদ (রা.), আবু মুসা আশআরী (রা.), হুযাইফাতুল ইয়ামান (রা.), উকবা বিন আমের (রা.),
ইবনে যুবায়ের (রা.), আবু মাসউদ আল-বদরী (রা.),
হাসান বসরী (রহ.), মুহাম্মদ বিন সিরিন (রহ.),
ছাওরী (রহ.), কুফার আলেমগণ ও এক বর্ণনা মতে
ইবনে আব্বাস (রা.) এর অভিমত।
শাফেয়ি মাযহাবের আলেমগণ বলেন: প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর ৭টি এবং দ্বিতীয় রাকাতে
৫টি।
ঈদের নামাযের অতিরিক্ত ৬ তাকবীর সংক্রান্ত
সহিস হাদিস। দুঈদের নমাযে অতিরিক্ত ৬ তাকবীর ওয়াজিব হওয়ার বিধান
সম্পূর্ণ হাদীস সম্মত। মারফু এবং মাওকুফ উভয় প্রকারের হাদীস দ্বারা তা প্রমাণিত। এ
ব্যাপারে সহীহ-শুদ্ধ হাদীস গ্রন্থাদিতে বহু হাদীস পাওয়া যায়। উদাহরণ স্বরূপ কয়েকটি
হাদীস নিম্নে পেশ করছি।
১নং হাদীস:
أن القاسم ابا عبد الرحمن حدثه قال حدثني بعض اصحاب رسول الله صلي
الله عليه وسلم قال صلي بنا النبي صلي الله عليه وسلم يوم عيد فكبر اربعاً واربعاً
ثم اقبل علينا بوجهه حين انصرف فقال لا تنسوا كتكبير الجنائز واشار باصابعه وقبض
ابهامه ـ فهذا حديث حسن الاسناد ـ
নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থ তাহাবী শরীফের বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে যে, আবু আব্দুর রহমান বলেন,
আমাকে কতিপয় সাহাবা রাযি. বলেছেন যে, হযরত
রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিয়ে ঈদের নামায পড়ে ছিলেন। তাতে তিনি চার চার তাকবীর
বলেন। অত:পর নামায শেষে হুযুর (সা.) আমাদের কে লক্ষ্য করে বললেন, ভুলে যেও না, ঈদের নামাযের তাকবীর জানাযার নামাযের
তাকবীরের অনুরূপ। সাথে সাথে হুযুর (সা.) বৃদ্ধাঙ্গুলী মুষ্ঠিবদ্ধ করে অবশিষ্ট চার
আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করে দেখালেন (তাহাবী শরীফ, ২/৪০০পৃ । বর্ণিত হাদীসের সনদকে ইমাম তাহাবী রহ. হাসান
বলেছেন। আর হাসান হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে সহীহ হাদীসের মত (তাদরীবুর রাবী, ১/৯৬ পৃ । বর্ণিত হাদীসে দু’ রাকাতে চার চার তাকবীর বলা
হয়েছে। এদ্বারা বুঝা যায় মোট আট তাকবীর। যথা: প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা সহ চার
তাকবীর আর দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবীর সহ চার তাকবীর। অর্থাৎ দুটি আসল ৬টি
অতিরিক্ত বলা যেতে পারে।
২নং হাদীস:
أن سعيد بن العاص سأل أبا موسي الاشعري وحذيفة بن اليمان كيف كان
رسول الله صلي الله عليه وسلم يكبر في الاضحي والفطر فقال ابو موسي كان يكبر اربعا
تكبيرة علي الجنائز فقال حذيفة صدق فقال ابو موسي كذلك كنت اكبر في البصرة ـ
বিশুদ্ধ হাদীসগ্রন্থ আবু দাউদ শরীফের এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, সাঈদ ইবনে আস রাযি. একদা আবু
মূসা আশয়ারী ও হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান রাযি. কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে কিভাবে তাকবীর বলতেন?
জবাবে আবু মূসা রাযি. বললেন জানাযার নামাযের মত প্রতি রাকাতে চার
চার তাকবীর বলতেন। হুযায়ফা রাযি. সমর্থন করে বললেন আবু মূসা সত্য বলেছে। আবু মূসা
রাযি. বললেন আমিও বসরা দেশে এভাবেই তাকবীর বলতাম (আবু দাউদ, ১/১৬৩
পৃ:; মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, ৪/২১৩
পৃ ।
উভয় হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাযের তাকবীর প্রতি রাকাতে চার চার করে
সর্ব মোট আট বলেছেন। অর্থাৎ দু’টি আসল ৬টি অতিরিক্ত। প্রশ্ন হতে পারে, হাদীসে
তো তাকবীরে তাহরীমা ও রুকুর তাকবীরের কথা উল্লেখ নেই? তার
জবাবে বলতে চাই যে, হুযুর (সা.) ঈদের তাকবীরকে জানাযার
তাকবীরের সাথে তুলনা করেছেন। তা থেকে বুঝা যায় যে, যেমন
জানাযার ৪ তাকবীরের মধ্যে প্রথম তাকবীরে তাহরীমা অপর ৩টি অতিরিক্ত তদ্রুপ ঈদের
নামারের চার চার তাকবীরের মধ্যে ও একটি আসল অপর ৩টি অতিরিক্ত। এটা কোন মনগড়া
ব্যাখ্যা নয় বরং বহু মাওকুফ হাদীস দ্বারা প্রমানিত সত্য। একথা বলার আর অপেক্ষা
রাখে না যে, হাদীসে মাওকুফ যদি ইজতেহাদী বিষয় না হয় এবং
কুরআনের কোন আয়াত বা হাদীসে মারফুর সাথে সাংঘর্ষিক না হয় তখন হাদীসে মারফুর মত
শরীয়তের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ যোগ্য হবে (জফরুল আমানী, ১/১৯০
পৃ ।
হাদিস নং-০৩
أن إبن مسعود رضـ كان يكبر في العيدين تسعا اربع قبل القرأة ثم يكبر
فيركع وفي الثانية يقرأ فاذا فرغ كبر اربعاً ثم ركع ـ
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে ঈদের নামাযের নিয়ম প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তিনি ঈদের নামাযে ৯টি তাকবীর
বলতেন। ৪টি কেরাতের পূর্বে। অর্থাৎ তাকবীরে তাহরীমা সহ ৪টি। অত:পর কেরাত পড়ে
তাকবীর বলে রুকু করতেন। দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর ৪টি তাকবীর বলতেন এবং চতুর্থ
তাকবীরের সাথে রুকু করতেন (তিরমিজী শরীফ, ১/১২০ পৃ:; ই’লাউস সুনান, ৮/১০৬ পৃ:;
তাহাবী শরীফ, রায়াহ, ২/৪০১
পৃ: মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৪/২১৬পৃ. নাসবুর রায়াহ,
২/২২২ পৃ.)।
০৪ নং হাদীস:
أن القاسم ابا عبد الرحمن حدثه قال حدثني بعض اصحاب رسول الله صلي
الله عليه وسلم قال صلي بنا النبي صلي الله عليه وسلم يوم عيد فكبر اربعاً واربعاً
ثم اقبل علينا بوجهه حين انصرف فقال لا تنسوا كتكبير الجنائز واشار باصابعه وقبض
ابهامه ـ فهذا حديث حسن الاسناد ـ
নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থ তাহাবী শরীফের বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে যে, আবু আব্দুর রহমান বলেন,
আমাকে কতিপয় সাহাবা রাযি. বলেছেন যে, হযরত
রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিয়ে ঈদের নামায পড়ে ছিলেন। তাতে তিনি চার চার তাকবীর
বলেন। অত:পর নামায শেষে হুযুর (সা.) আমাদের কে লক্ষ্য করে বললেন, ভুলে যেও না, ঈদের নামাযের তাকবীর জানাযার নামাযের
তাকবীরের অনুরূপ। সাথে সাথে হুযুর (সা.) বৃদ্ধাঙ্গুলী মুষ্ঠিবদ্ধ করে অবশিষ্ট চার
আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করে দেখালেন (তাহাবী শরীফ, ২/৪০০পৃ । বর্ণিত হাদীসের সনদকে ইমাম তাহাবী রহ. হাসান
বলেছেন। আর হাসান হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে সহীহ হাদীসের মত (তাদরীবুর রাবী, ১/৯৬ পৃ । বর্ণিত হাদীসে দু’ রাকাতে চার চার তাকবীর বলা
হয়েছে। এদ্বারা বুঝা যায় মোট আট তাকবীর। যথা: প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা সহ চার
তাকবীর আর দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবীর সহ চার তাকবীর। অর্থাৎ দুটি আসল ৬টি
অতিরিক্ত বলা যেতে পারে।
৫ নং হাদীস:
أن سعيد بن العاص سأل أبا موسي الاشعري وحذيفة بن اليمان كيف كان
رسول الله صلي الله عليه وسلم يكبر في الاضحي والفطر فقال ابو موسي كان يكبر اربعا
تكبيرة علي الجنائز فقال حذيفة صدق فقال ابو موسي كذلك كنت اكبر في البصرة ـ
বিশুদ্ধ হাদীসগ্রন্থ আবু দাউদ শরীফের এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, সাঈদ ইবনে আস রাযি. একদা আবু
মূসা আশয়ারী ও হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান রাযি. কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে কিভাবে তাকবীর বলতেন?
জবাবে আবু মূসা রাযি. বললেন জানাযার নামাযের মত প্রতি রাকাতে চার
চার তাকবীর বলতেন (তাকবিরে তাহরিমা ১টি ও দ্বিতীয় রাকাতে
রুকুর তাকবির একটি)। হুযায়ফা রাযি. সমর্থন করে বললেন আবু মূসা সত্য বলেছে। আবু
মূসা রাযি. বললেন আমিও বসরা দেশে এভাবেই তাকবীর বলতাম (আবু দাউদ, ১/১৬৩ পৃ:; মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, ৪/২১৩ পৃ ।
ছয় তাকবীরের সাথে ঈদের নামাযের এই নিয়মটি হযরত ইবনে মাসউদ ব্যতীত হযরত ওমর, হুযায়ফ, আবু
মূসা আশয়ারী, আনাস, জাবির, আবু মাসউদ আনসারী, ইবনে আব্বাস ও আব্দুল্লাহ ইবনে
জুবায়ের (রাযি.) প্রমুখ সাহাবায়ে কেরাম থেকেও বর্ণিত আছে (মুসান্নাফে ইবনে আবি
শায়বা, ৪/২১৪-২১৯ পৃ:; তাহাবী শরীফ,
২/৪০০ পৃ ।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
|
|
জিজ্ঞাসা-১১৩: ইদের খুৎবায় তাকবীর কতবার থাকতে হবে? উভয় ইদের ইদের খুৎবাতেই কি তাকবীর
থাকবে জানাতে অনুরোধ থাকল।
সম্মানিত ভাই আখতার হোসেন ২৭ ফিল্ড
যশোর থেকে-
উত্তর। ঈদের নামাযের প্রথম খুতবার শুরুতে নয়বার ও দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে
সাতবার ধারাবাহিকভাবে‘আল্লাহু আকবার’ বলা মুস্তাহাব। এটি বিশিষ্ট
তাবেয়ী হযরত উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ রাহ. থেকে বর্ণিত
আছে। আর খুতবাহ শেষে ১৪ বার তাকবীর বলার কথা হাদীস বা আছারে পাওয়া যায়নি। ফিকহের কোনো কোনো কিতাবে এভাবে ১৪বার তাকবীর বলার কথা উল্লেখ আছে। তবে
উভয় ঈদের খুতবায়ই ব্যাপকভাবে বেশি বেশি তাকবীর বলা সাহাবী ও তাবেয়ীদের আছার
দ্বারা প্রমাণিত।
দলিল: মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/২৯০; সুনানে বাইহাকী ৩/২৯৯;
মাআরিফাতুস সুনান ওয়াল আছার ৩/৪৯; আলআওসাত ৪/৩২৮;
কিতাবুল উ্মম,শাফেয়ী ১/২৭৩; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৩/২৭৭; আলবয়ান ওয়াততাহসীল
১/৩০০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬২; ইলাউস
সুনান ৮/১৬১-১৬২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৫
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
শুধু
অনুবাদ পড়লে কি তেলাওয়াতে সিজদা ওয়াজিব হবে? |
|
|
জিজ্ঞাসা-১১৪: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। কেউ যদি কোরআনের
আরবি না পড়ে শুধু বাংলা অনুবাদ পড়ে তাহলে কি তাকে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে????
(আমাদের সম্মানিত দ্বীনি আবুল
কালাম ৫৫এমপি যশোর প্রশ্নের আলোকে)
উত্তর। শরীয়তের বিধান হলো কুরআনের তরজমা, তাফসীর
পড়া বা তা শোনার দ্বারা সেজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হয়না।
সুরা ইউসুফ এর ০২ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
অনুবাদঃ আমি আরবী ভাষায় কুরআন নাজিল করেছি,যাতে করে তোমরা বুঝতে পারো।
সুতরাং আরবী যবান ব্যাতিত অন্য যবানে কুরআন পড়া হলে সেটাকে কুরআনের তরজমা বা
তাফসির বলা হবে, কুরআন বলা হবেনা।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
عن ابن عمرؓ قال انما السجدۃ علی من سمعہا۔(المصنف لابن
ابي شیبہ ۳؍۳۹۰ رقم : ۴۲۵۲)
হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সেজদাহ ঐ ব্যাক্তির
উপর ওয়াজিব হবে যে উহা শুনেছে। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা-৩/৩৯০, হাদিস নং ২২৫২
,
رد المحتار"
5 / 429:
باب سجود التلاوة من إضافة الحكم إلى سببه ( يجب ) بسبب (
تلاوة آية ) أي أكثرها مع حرف السجدة۔۔۔ ( بشرط سماعها ) فالسبب التلاوة وإن لم يوجد السماع ، كتلاوة الأصم والسماع شرط في حق
غير التالي ولو بالفارسية إذا أخبر ( أو )
بشرط ( الائتمام ) أي الاقتداء (
بمن تلاها ) فإنه سبب لوجوبها أيضا ، إن لم يسمعها ولم يحضرها
للمتابعة۔
সারমর্মঃ সেজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হলো তাহা তিলাওয়াত করা,,। রদ্দুল মুখতার-৫/৪২৯
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
|
জিজ্ঞাসা-১১৫: আসসালামু
আলাইকুম। আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় আঙ্গুল দ্বারা ইশাকরার বিষয় বিস্তারিত জানাবেন?
আমাদের সম্মানিত দ্বীনি আবুল কালাম ৫৫এমপি যশোর প্রশ্নের আলোকে)
উত্তর। ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আত্তাহিয়্যাতু পড়ার শেষের দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা রাসূল (ﷺ) থেকে প্রমাণিত। তাই এ আমলটি সুন্নত। সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে কেবল
আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা প্রমাণিত। আঙ্গুল নাড়ানো নয়। যারা আঙ্গুল নাড়ানোর কথা বলেন, তাদের বক্তব্যটি বিশুদ্ধ নয়।
عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ
قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا قَعَدَ يَدْعُو وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ
الْيُمْنَى وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ
السَّبَّابَةِ وَوَضَعَ إِبْهَامَهُ عَلَى إِصْبَعِهِ الْوُسْطَى وَيُلْقِمُ كَفَّهُ الْيُسْرَى
رُكْبَتَهُ
হযরত আমের আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূল (ﷺ) যখন তাশাহুদ
পড়ার জন্য বসতেন, তখন ডান হাতখানা ডান উরুর উপর এবং বাঁ হাতখানা বাঁ উরুর উপর রাখতেন। আর
শাহাদত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে সংযুক্ত করতেন এবং
বাঁ হাতের তালু [বাঁ] হাঁটুর রাখতেন। {সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং-১৩৩৬, সহীহ ইবনে হিব্বান-৫/২৭০}
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا جَلَسَ فِى الصَّلاَةِ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى
رُكْبَتَيْهِ وَرَفَعَ إِصْبَعَهُ الْيُمْنَى الَّتِى تَلِى الإِبْهَامَ فَدَعَا
بِهَا وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى بَاسِطُهَا عَلَيْهَا
হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ)
নামায পড়ার সময় যখন বসতেন বৈঠক করতেন] তখন হাত দুইখানা দ্ইু হাঁটুর উপর রাখতেন। আর
ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববতী [শাহাদাত] আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করতেন এবং বাঁ
হাত বাঁ হাঁটুর উপর ছড়িয়ে রাখতেন। {সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং-১৩৩৭}
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا قَعَدَ فِى التَّشَهُّدِ وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى
رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى
وَعَقَدَ ثَلاَثَةً وَخَمْسِينَ وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ
হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ)
যখন তাশাহুদের জন্য বসতেন, তখন বাম হাতকে রাখতেন বাম হাঁটুর উপর এবং ডান হাতখানা ডান হাঁটুর উপর
রাখতেন। আর [হাতের তালু ও আঙ্গুলসমূহ গুটিয়ে আরবী] তিপ্পান্ন সংখ্যার মত করে
শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। {সহীহ মুসলিম,হাদীস নং-১৩৩৮}
উল্লেখিত হাদীসমূহে শুধুমাত্র আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করার কথা এসেছে। আঙ্গুল নাড়ানোর কথা আসেনি। কিন্তু আঙ্গুল নাড়বে
কি না? এ ব্যাপারে
কোন স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অন্য হাদীসে তাও স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে।
যেমন-
عن عبد الله بن الزبير أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يشير بأصبعه إذا دعا ولا يحركها
হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) যখন তাশাহুদ পড়তেন, তখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন, কিন্তু আঙ্গুল নাড়াতেই থাকতেন না। {সুনানে নাসায়ী
কুবরা, হাদীস নং-১১৯৩, সুনানে আবু দাউদ,
হাদীস নং-৯৮৯, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-১৫৯৪}
হাদীসটি সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের মন্তব্য
১-
ইমাম আব দাউদ উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করার পর কোন মন্তব্য করেননি। আর
মুহাদ্দিসদের কাছে এটি প্রসিদ্ধ যে, ইমাম আবু দাউদ কোন হাদীস বর্ণনা করার পর
তার ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করার মানেই হল, উক্ত হাদীসটি
তার কাছে সহীহ।
২
ইমাম নববী রহ. বলেন- হাদীসটির সনদ সহীহ। {আলখুলাসা-১/৪২৮, আলমাজমূ-৩/৪৫৪}
৩
মুহাদ্দিস আব্দুল হক শিবলী রহ. বলেন- হাদীসটির সনদ সহীহ। {আলআহকামুস সুগরা-২৪৯}
৪
ইবনে দাকীকুল ঈদ রহ. বলেন- কতিপয় মুহাদ্দিসদের বক্তব্য অনুপাতে হাদীসটি সহীহ। {আলইলমাম ফি বিআহাদীসিল
আহকাম-১/১৭৫}
৫
আল্লামা ইবনুল মুলাক্কিন রহ. বলেন- হাদীসটি সহীহ। {খুলাসাতুল বদরুল মুনীর-১/১৩৯,
আলবাদরুল মুনীর-৪/১১, তুহফাতুল মুহতাজ-১/৩২৩}
৬
শায়েখ হায়সামী রহ. বলেন- সনদের রাবীগণ সিক্বা। {মাযমাউজ জাওয়ায়িদ-২/১৪৩}
৭
ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন- হাদীসটি হাসান। {তাখরীজে মিশকাতুল মাসাবীহ-১/৪১১}
উক্ত সহীহ হাদীস দ্বারা একথা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে, রাসূল (ﷺ) তাশাহুদের সময় শুধুমাত্র আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন, আঙ্গুল নাড়াতেই থাকতেন না।
তবে অপর একটি হাদীসের বাহ্যিক শব্দ দ্বারা ধারণা হয় যে, রাসূল (ﷺ) আঙ্গুল নাড়াতে থাকতেন। হাদীসটি ওয়ায়েল বিন হুজুর রা. থেকে
বর্ণিত। হাদীসটির শব্দ হল-
ثم رفع أصبعه فرأيته يحركها
তারপর তিনি আঙ্গুল উঠালেন, তারপর আমি দেখলাম তিনি তা নাড়াচ্ছেন। {সুনানে
নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১১৯১, সুনানে
দারেমী, হাদীস নং-১৩৫৭}
হাদীসটি সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের মন্তব্য
আল্লামা ওয়াদেয়ী রহ. বলেন, বাহ্যিকভাবে বুঝা যায় হাদীসটি হাসান। কিন্তু তাতে শাজ শব্দ
আছে। সেটি হল আঙ্গুল নাড়ানোর বিষয়টি। {আহাদীসে মুআল্লাহ-৩৮৯}
তবে অন্যান্য মুহাদ্দিসীনে কেরাম, যেমন ইবনে হাজার আসকালানী, ইমাম নববী রহ., ইবনুল মুলাক্কিন রহ. প্রমুখ
মুহাদ্দিসগণ হাদীসটির সনদকে সহীহ বলেছেন।
দুই হাদীসের মাঝে বৈপরীত্বের সমাধান কি?
আল্লামা ইমাম বায়হাকী রহ. উভয় হাদীসের বাহ্যিক এ বৈপরীত্ব নিরসন করে বলেন,
فيحتمل أن يكون المراد بالتحريك الإشارة بها لا تكرير تحريكها فيكون
موافقا لرواية بن الزبير والله تعالى أعلم
আঙ্গুল নাড়াতে থাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ইশারা করা। আঙ্গুল নাড়াতেই থাকা উদ্দেশ্য
নয়। এ অর্থ নিলে এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রা. এর বর্ণনার সাথে মিলে যায়। {সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-২৬১৫}
ইমাম বায়হাকী রহ. যে সমাধান দিয়েছেন এটিই এ দুই হাদীসের মাঝের বাহ্যিক
বৈপরীত্ব নিরসনের প্রকৃত সমাধান। অর্থাৎ ওয়ায়েল বিন হুজুর রা. এর হাদীস দ্বারা যে
বুঝা যাচ্ছে যে, আঙ্গুল নাড়াতে ছিলেন। এর মানে হল, আঙ্গুল দিয়ে ইশারা
করতে ছিলেন। নাড়াতেই ছিলেন উদ্দেশ্য নয়। এ ব্যাখ্যা নিলে ওয়াইল বিন হুজুর রা. এর
হাদীস এবং আব্দুল্লা বিন জুবায়ের রা. থেকে বর্ণিত হাদীস একই অর্থবোধক হয়ে যায়,
কোন বৈপরীত্ব আর বাকি থাকে না।{বাজলুল
মাযহুদ-২/১২৭}
স্বাভাবিক যুক্তিও একথা বলে যে, তাশাহুদের সময় বসে বসে আঙ্গুল নাড়াতে থাকবে
না। কারণ এটি নামাযের খুশু খুজুর খেলাফ। তাছাড়া এভাবে আঙ্গুল নাড়াতে থাকলে পাশের
জনের নামাযে মনযোগের মাঝে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তাই একটি সুষ্পষ্ট সহীহ হাদীসের উপর
আমল ছেড়ে দিয়ে একটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্য হাদীসের উপর আন্দাজের উপর আমল করে আঙ্গুল
নাড়াতেই থাকা কোন বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। সূত্র: আহলে হক মিড়িয়া
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
|
নাভির নীচে হাত বাধা |
জিজ্ঞাসা-১১৬: নামাজে হাত নাভীর নীচে বাধা/ রাখা সুন্নাত। দলীল
দিন, প্রিয় বুরহান।
উত্তর:
হাদিস নং-০১
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন,
رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت
السرة. أخرجه ابن أبي شيبة قال: حدثنا وكيع عن موسى بن عمير عن علقمة بن وائل عن أبيه
وإسناده صحيح. قال الحافظ قاسم بن قطلوبغا في
تخريج أحاديث الاختيار شرح المختار : هذا سند جيد وقال الشيخ أبو الطيب السندي في شرحه على الترمذي : هذا حديث قوي من حيث السند وقال الشيخ عابد السندي في
طوالع الأنوار:
رجاله كلهم ثقات أثبات اهـ
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে
নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নিচে রাখতে দেখেছি। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৯।
হাফেজ কাসিম ইবনে কুতলূবুগা র., তিরমিযী শরীফের ভাষ্যকার আবুত্ তায়্যিব সিন্ধী
র. ও আল্লামা আবেদ সিন্ধী র. প্রমুখ হাদীসটিকে মজবুত ও শক্তিশালী বলেছেন। এর সনদ এরূপ:
ইবনে আবী শায়বা র. বর্ণনা করেছেন ওয়াকী’ থেকে, তিনি মূসা ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আলকামার সূত্র্রে হযরত
ওয়াইল রা. থেকে। এই সনদে কোন দুর্বল রাবী নেই।
হাদিস নং-০২
السُّنَّةُ
وَضْعُ الْكَفِّ عَلَى
الْكَفِّ فِى الصَّلاَةِ
تَحْتَ السُّرَّةِ. أخرجه
أبو داود (في
رواية ابن الأعرابي
وابن داسة) ٧٥٦
وأحمد ١/١١٠
(٨٧٥) وابن أبي
شيبة (٣٩٦٦) والدارقطني
١/٢٨٦ والضياء
في المختارة ٢/٧٧٢ وفيه عبد
الرحمن بن إسحاق
الواسطي وهو ضعيف.
ولكن يشهد له
الحديث السابق.
অর্থ: নামাজে সুন্নত হলো (এক হাতের) তালু (অন্য হাতের) তালুর উপর রেখে নাভির নিচে
রাখা। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৬; মুসনাদে আহমদ ১খ, ১১০ পৃ, হাদীস নং ৮৭৫; মুসান্নাফে
ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬৬; দারাকুতনী,
১খ, ২৮৬পৃ; যিয়া ফিল মুখতারা,
২খ, ৭৭২পৃ।
এর সনদে আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক রয়েছেন। তিনি দুর্বল। তবে প্রথম হাদীসটি এর সমর্থন
করছে।
হাদিস নং-০৩
أَخْذُ الأَكُفِّ عَلَى الأَكُفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ. أخرجه أبو داود (٧٥٨)
وفيه عبد الرحمن المذكور.
অর্থ: নামাযে হাতের তালু অপর তালুর উপর রেখে নাভির নিচে রাখতে হবে। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৮। এতেও পূর্বোক্ত
আব্দুর রহমান রয়েছেন।
উত্তর দিচ্ছেন, মাওলানা জালাল উদ্দিন (ঢাকা)
|
জিজ্ঞাসা-১১৭: ফিকহি বোর্ড ইমামে আজম রহ. এর সদস্যদের নাম জানতে চাই? |
উত্তর: ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ফিকহী বোর্ড ও আবু হানীফা রাহঃ এর ফতোয়া
বোর্ডের সদস্য-তালিকা
|
আবু হানীফা রাহঃ এর ফতোয়া বোর্ডের সদস্য-তালিকা |
ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ফতোয়া বোর্ড গঠন করেন ইমামে আজম আবু হানীফা
রাহিমাহুল্লাহ। নতুন কোন মাস'আলা-জিজ্ঞাসা সামনে এলে এই মাস'আলাটি
ফতোয়া বোর্ডে উপস্থাপন করা হতো। ফতোয়া বোর্ডের সদস্য ছিলেন, মোট ৪০ জন ইমাম, যারা ফিকাহ শাস্ত্রে মুজতাহিদ
ছিলেন!
ফতোয়া বোর্ডের ৪০ জন সদস্য মাস'আলাটি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করতেন।
সর্বশেষ, ইমামে আজম আবু হানীফা রাহঃ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
দিতেন এবং তিঁনি তার ছাত্রদেরকে লিপিবদ্ধ করে রাখতে আদেশ করতেন।
এভাবে হানাফী মাজহাবের প্রতিটা মাস'আলা ইমামে আজম ও তাঁর মহামান্য ফতোয়া
বোর্ডের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ হয়েছে। পরবর্তীতে, সে'সব মাস'আলাকে ইমামে আজম
রাহঃ এর নিকটতম ও ঘনিষ্ঠ ছাত্র ইমামে মোহাম্মাদ বিন হাসান আশ-শায়বানী
রাহিমাহুল্লাহ " জাহিরুর রেওয়ায়াহ " নামক
গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। যা মোট ছ'টি কিতাবে সন্নিবেশিত ছিলো।
সেগুলা হচ্ছে
-
১. মাবসূত
২. জিয়াদাত
৩. জামিউস সাগীর
৪. জামিউল কাবীর
৫. সিয়ারে সাগীর
৬. সিয়ারে কাবীর
এই ছ'টি কিতাব থেকে মূলত হানাফী মাজহাবের বিস্তার লাভ করে এবং এরই মাধ্যমে
পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ১৩০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হানাফী মাজহাব,আজও অক্ষুন্ন ও সুরক্ষিত রয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ
! আসুন, এক নজরে জেনে নিই
ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত ফিকহী বোর্ডের সৌভাগ্যবান সেই চল্লিশজন
সদস্য কারা ছিলেন
-
ফিকহী বোর্ডের আমির ছিলেন ইমামে আজম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ -
বোর্ডের সদস্যবৃন্দ
-
1- الإمام زفر بن هذيل المتوفى سنة ( 158) هــ
2- الإمام مالك بن مغول المتوفى سنة ( 159) هــ
3-الإمام داؤد الطائي المتوفى سنة ( 160) هــ
4-الإمام مندل بن علي المتوفى سنة ( 168) هـ
5- الإمام نضر بن عبد الكريم المتوفى سنة ( 169)هـ
6- عمرو بن ميمون المتوفى سنة ( 171)هـ
7- الإمام حبان بن علي المتوفى سنة ( 172)هـ
8- الإمام أبو عصمة المتوفى سنة ( 173) هـ
9- الإمام زهير بن معاوية المتوفى سنة ( 173)هـ
10- الإمام قاسم بن معين المتوفى سنة ( 175)هـ
11- الإمام حماد بن أبي حنيفة المتوفى سنة ( 176) هـ
12-الإمام هياج بن بسطام المتوفى سنة ( 177)هـ
13- الإمام شريك بن عبد الله المتوفى سنة ( 178)هـ
14-الإمام عافية بن يزيد المتوفى سنة ( 180)هـ
15- الإمام عبد الله بن المبارك المتوفى سنة ( 181)هـ
16- الإمام أبو يوسف القاضي المتوفى سنة ( 182)هـ
17- الإمام
محمد بن نوح المتوفى سنة ( 182)هـ
18 الإمام هشيم بن بشر السلمي المتوفى سنة ( 183)هـ
19- الإمام أبو سعيد يحيى بن كريا المتوفى سنة (184)هـ
20 الإمام فضيل بن عياض المتوفى سنة ( 187)هـ
21- الإمام أسد بن عمرو المتوفى سنة ( 188)هـ
22- الإمام محمد بن الحسن الشيباني المتوفى ( 189)هـ
23- الإمام علي بن المسهر المتوفى سنة ( 189)هـ
24-الإمام يوسف بن خالد المتوفى سنة ( 189)هـ
25- الإمام عبد الله بن ادريس المتوفى سنة ( 192)هـ
26 - الإمام فضل بن موسى المتوفى سنة ( 192)هـ
27- الإمام علي بن طبيان المتوفى سنة ( 192)هـ
28- الإمام حفص بن غياث المتوى سنة ( 194)هـ
29 - الإمام وكيع بن الجراح المتوفى سنة ( 197)هـ
30 - الإمام هشام بن يوسف المتوفى سنة ( 197)هـ
31- الإمام يحيى بن سعيد القطان المتوفى سنة ( 198)هـ
32- الإمام شعيب بن إسحق المتوفى سنة ( 198)هـ
33- الإمام أبو حفص بن عبد الرحمن المتوفى سنة (199)هـ
34- الإمام أبو مطيع البلخي المتوفى سنة (199)هـ
35- الإمام خالد بن سلمان المتوفى سنة ( 199)هـ
36- الإمام عبد الحميد المتوفى سنة ( 203)هـ
37 - الإمام حسن بن زياد اللؤلؤي المتوفى سنة ( 204)هـ
38- الإمام أبو عاصم النبيل المتوفى سنة ( 212) هـ
39- الإمام مكي بن إبراهيم المتوفى سنة (215)هـ
40- الإمام حماد بن دليل. (217)
তথ্যসূত্র
-
الخيرات الحسان (ص:
72)
ومناقب الموفق (2/ 133)
ومناقب الكردري (1/ 49)
والجواهر المضيئة (1/ 140)
والفوائد البهية (ص: 295)
وهداية الساري (1/ 549)
সংকলনে, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক
|
দুই ঈদের দিন ঈদের নামাযের আগে নফল নামায পড়া মাকরূহ |
|
|
জিজ্ঞাসা-১১৮: ঈদের দিন
সূর্য ওঠার পর থেকেই ঈদের জামাতের পূর্বে ঐ দিনের ফজরের কাজা,দুখুলুল মাসজিদ,ইশরাক বা নফল সালাত আদায়ের হুকুম।
(সম্মানিত ভাই আব্দুল্লাহ আল
মাহফুজ সিগন্যাল সেন্টার যশোর সেনানিবাস- এর প্রশ্নের আলোকে)
উত্তর। দুই ঈদের দিন ঈদের নামাযের আগে নফল নামায পড়া মাকরূহ। কারণ তা রাসূল (ﷺ) থেকে প্রমাণিত। সেই সাথে ঈদের নামায শেষে ঈদগাহে
নফল নামায পড়াও মাকরূহ। কিন্তু ঈদগাহ থেকে চলে আসার পর অন্যত্র নফল পড়া যাবে। কিন্তু
ঈদগাহে পড়া মাকরূহ। সূত্র: হেদায়া-১/১১৮, শরহে নুকায়া-১/১২৮, কাবীরী-৫৬৬
এসবই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ النَّبِيَّ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «صَلَّى يَوْمَ العِيدِ رَكْعَتَيْنِ، لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلاَ
بَعْدَهَا،
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ) ঈদের দিন দুই রাকাত [ঈদের নামায] নামায পড়লেন, যার আগে বা পরে কোন [নফল] নামায
পড়েননি। তাখরিজ-বুখারী-৫৮৮৩
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: «كَرِهَ الصَّلاَةَ قَبْلَ العِيدِ»
হযরত ইবনে আব্বাস রা. ঈদের আগে [নফল] নামায পড়াকে মাকরূহ মনে করতেন। বুখারী-১/১৩৫
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ، «لَا يُصَلِّي قَبْلَ الْعِيدِ
شَيْئًا، فَإِذَا رَجَعَ إِلَى مَنْزِلِهِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ঈদের
নামাযের আগে কোন [নফল] নামায পড়তেন না। যখন নামায থেকে ফারিগ হয়ে ঘরে চলে আসতেন তখন
দুই রাকাত [নফল] নামায পড়তেন। সুনানে ইবনে মাজাহ-১২৯৩, সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী-৬২২৮
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
|
|
জিজ্ঞাসা-১১৯: একই ব্যক্তির দুইবার ইমামতি করা জায়েজ আছে কি?
উত্তর: হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রা. রাসূল (ﷺ)এর পিছনে সালাত আদায় করে, আরেক স্থানে গিয়ে নামায পড়াতেন।
উক্ত হাদীসটি পেশ করে কিছু ভাইরা না বুঝে এক ইমামের একাধিক সালাতের ইমাম হবার স্বপক্ষে
দলীল পেশ করতে চান। আমরা প্রথমে উক্ত হাদীসটি দেখে নিব। তারপর এ হাদীস দিয়ে দলীল পেশ
করা শুদ্ধ হবে কি না? তাও বুঝে নিবো ইনশাআল্লাহ।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ: «أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، كَانَ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَرْجِعُ، فَيَؤُمُّ قَوْمَهُ»
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় মুয়াজ বিন জাবাল রা. রাসূল
(ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করতেন, তারপর ফিরে গিয়ে তার কওমের ইমামতী
করতেন। বুখারী, হাদীস নং-৭০০
বুখারীর হাদীসে মুয়াজ রা. যে নামায নবীজীর পিছনে পড়তেন, ঠিক সেই নামাযটির ইমামতীই আবার
গিয়ে করতেন কি না? তা পরিস্কার আসেনি।কিন্তু অন্যান্য কিতাবে
তা এসেছে।
এখানে বিষয় হল, এটি মুয়াজ রা. এর একটি ব্যক্তিগত আমল ছিল। এতে রাসূল (ﷺ) সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন নাকি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন? আরেকটি বিস্তারিত হাদীস দেখলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।
عَنْ مُعَاذِ بْنِ رِفَاعَةَ الزُّرَقِيُّ: أَنَّ رَجُلًا، مِنْ بَنِي سَلِمَةَ يُقَالُ لَهُ
سَلِيمٌ أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَقَالَ: إِنَّا نَظَلُّ فِي أَعْمَالِنَا , فَنَأْتِي حِينَ نُمْسِي , فَنُصَلِّي فَيَأْتِي مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ , فَيُنَادَى بِالصَّلَاةِ , فَنَأْتِيهِ فَيُطَوِّلُ عَلَيْنَا. فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ: «يَا مُعَاذُ لَا تَكُنْ
فَتَّانًا , إِمَّا أَنْ تُصَلِّيَ مَعِي , وَإِمَّا أَنْ تُخَفِّفَ عَنْ قَوْمِكَ»
হযরত মুয়াজ বিন রিফাআ যুরকী রা. থেকে বর্ণিত। বনী সালামার এক ব্যক্তি যার নাম ছিল
সালীম। তিনি রাসূল (ﷺ)
এর কাছে আসলেন। এসে বললেন, আমরা কাজকর্মে ব্যস্ত থাকি। সন্ধ্যায়
ফিরে এসে সালাত আদায় করি। তখন মুয়াজ বিন জাবাল আসে। এসে সালাতের জন্য আহবান করে। তখন
আমরা নামায পড়তে আসি। তখন মুয়াজ নামায অনেক দীর্ঘায়িত করে। [ফলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়,
এ অভিযোগ শুনে] তখন নবীজী (ﷺ) বললেন, হে মুয়াজ! ফিতনা সৃষ্টিকারী হইয়োনা, তুমি হয়তো আমার সাথে
নামায পড়ো, অথবা তোমার কওমের সাথে সংক্ষেপে সালাত পড়। তাখরিজ:
তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২৩৬২, আল-মু’জামুল কাবীর
লিততাবরানী, হাদীস নং-৬৩৯১
এ হাদীসে ঘটনাটির মোটামুটি পূর্ণ বিবরণ
পাওয়া যাচ্ছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, নবীজী (ﷺ) মুয়াজ রা. কে বলছেন, তুমি হয়তো আমার সাথে নামায পড়,
অথবা কওমের সাথে গিয়ে সংক্ষেপে নামায পড়াও।
যা পরিস্কার বুঝাচ্ছে, এক সালাতের ইমামতী দুইবার করা যায় না। যদি যেত, তাহলে
নবীজী বলতেন, আমার পিছনে সালাত পড়ে গিয়ে, কওমের সাথে সংক্ষেপে নামায পড়ো। কিন্তু নবীজী তা না বলে, জানিয়েছেন, হয়তো, আমার সাথে পড়ো,
নতুবা তাদের সাথে পড়।
এ হাদীস পরিস্কার প্রমাণ করে, এক সালাত একবার আদায়ের পর, সেটির ইমামতী
আবার করা যায় না।
সুতরাং বুঝা গেল, হযরত মুয়াজ রা. এর একটি ব্যক্তিগত আমল, যার উপর নবীজী
(ﷺ) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, সেটি উপস্থাপন করে এক সালাতের
একাধিক জামাতের ইমামতীর বৈধতার পক্ষে দলীল পেশ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
উত্তর দিচ্ছেন, মাওলানা জালাল উদ্দিন (ঢাকা)
|
কাজের লোকের ফিতরা মালিকের আদায়করা আবশ্যক কিনা জানতে চাই? |
|
জিজ্ঞাসা-১২০: কাজের লোকের ফিতরা মালিকের আদায়করা
আবশ্যক কিনা জানতে চাই? |
হাফেজ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ রামু,কক্সবাজার থেকে-
উত্তর: না, কাজের লোকের
বা বাড়ির কর্মচারীর জন্য মালিকের ফিতরা দিতে হবে না। হাদীস শরীফে যে গোলাম এর পক্ষ
থেকে ফিতরার কথ বলা হয়েছে। তা প্রচলিত কর্মচারী বা কাজের লোক গোলামের অন্তর্ভুক্ত
নয়। সূত্র বুখারী-১৫০৩;মুসলিম-৯৮৬ মিশকাতুল মাসাবিহ-১৮১৫
[সাদাকায়ে ফিতর নিজের পক্ষ থেকে এবং পিতা হলে নাবালেগ সন্তানদের পক্ষ থেকে
দেয়া ওয়াজিব। বালেগ সন্তান, স্ত্রী, স্বামী,
চাকর-চাকরানী, মাতা পিতা প্রমুখের পক্ষ থেকে দেয়া
ওয়াজিব নয়। তবে একান্নভুক্ত পরিবার হলে বালেগ সন্তান, মাতা-পিতা
ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে ফিতরা দেয়া মুস্তাহাব। সূত্র: তাতারখানিয়া ২/৩১৯, আলমগীরী ১/১৯২,
শামী ৩/৩১৪
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
ঈদের খুতবা শুনা কি? চুপ থাকা
প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১২২: ঈদের নামাজের
খুৎবা শুনা ওয়াজীব নাকি সুন্নাহ বা খুৎবা না শুনে চলেগেলে সে গুনাহগার হবে না?
সম্মানিত ভাই আরটি আবুল কালাম আজাদ ৫৫ এমপি যশোর সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে)
উত্তর। ক. ঈদের খুতবা চলাকালীন উপস্থিত
লোকদের জন্য সম্পূর্ণ চুপ থেকে খুতবা শোনা ওয়াজিব। হযরত আবদুল্লাহ
ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
وَجَبَ الْإِنْصَاتُ فِي أَرْبَعَةِ مَوَاطِنَ: الْجُمُعَةِ،وَالْفِطْرِ،وَالْأَضْحَى،
وَالِاسْتِسْقَاءِ.
চারটি স্থানে চুপ থাকা ওয়াজিব ; জুমা, ঈদুল ফিতর,
ঈদুল আযহা এবং ইসতিসকার খুতবার সময়। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক-৫৬৪২
খ. ঈদের খুতবা দেওয়া জুমাআর খুতবা মত ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নাত। (তবে উভয় খুতবা শোনা
ওয়াজিব) সুতরাং যারা ঈদের খুৎবা না শুনে চলে
যাবে তাদের গোনাহ না হলেও তারা ঈদের গুরুত্বপূর্ণ দু‘আ ও ফযীলত
থেকে বঞ্চিত হবে।
সূত্র: -আলমাবসূত, সারাখসী ২/৩৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৯;
রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৫
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
মহরে ফাতেমির পরিমাণ কত বর্তমান বাজারে |
|
জিজ্ঞাসা-১২৩: মহরে ফাতেমির পরিমাণ কত বর্তমান
বাজারে?
উত্তর: মোহরে ফাতেমির পরিমাণ পাঁচ শ দিরহাম তথা ১৩১.২৫ ভরি (এক কেজি ৫৩০.৯০০ গ্রাম)
খাঁটি রুপা অথবা এর বাজারমূল্য। সতর্কতামূলক ১৫০ তোলা খাঁটি রুপার কথা বলা হয়ে থাকে।
(মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস : ২৭৪২; ফতোয়ায়ে
মাহমুদিয়া : ৩/২১৫; ফতোয়ায়ে রহিমিয়া : ৮/২৩১)
১৫০ ভরি রৌপ্য
[আজকের বাজারে মহরে ফাতিমির সমমূল্য হলো,১৫০*১৫১৬=২২৭৪০০
টাকা
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
জিজ্ঞাসা-১২৪: কালো খেজাব ব্যবহার করার শরয়ী বিধান কী?
কোনো ইমাম সাহেব যদি ব্যবহার করেন তাহলে তার পেছনে ইকতিদার বিধান কী
হবে?
উত্তর: বয়সের কারণে চুল-দাড়ি পেকে গেলে কালো খেযাব ব্যবহার করা নাজায়েয। হাদীসে এ
ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হযরত জাবের রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের
দিন আবু কুহাফাকে নিয়ে আসা হল। তার চুল ছাগামা উদ্ভিদের ন্যায় (একেবারে) সাদা ছিল।
তখন নবী কারীম (ﷺ) বলেন-
غَيِّرُوا هَذَا بِشَيْءٍ، وَاجْتَنِبُوا السّوَادَ.
এটাকে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করে দাও। তবে কালো রং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকো।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০২
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন-
يَكُونُ قَوْمٌ يَخْضِبُونَ فِي آخِرِ الزّمَانِ بِالسّوَادِ،
كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ، لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنّةِ.
শেষ যামানায় কিছু লোক কবুতরের পেটের (কালো রঙের) ন্যায় কালো খেযাব ব্যবহার করবে।
তারা (কিয়ামতের দিন) জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে
না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২১২)
আর হাদীসে যে কালো খেযাব ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে তার মূল কারণ এতে অন্যদের
সামনে বয়স গোপন করা হয়। যাতে ধোঁকার বিষয়টি থাকে। ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, নিষিদ্ধ কালো খেযাব হচ্ছে,
যে খেযাব দ্বারা ধোঁকা দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে। যেমন বৃদ্ধা মহিলা চুলে
কালো খেযাব ব্যবহার করে স্বামীকে ধোঁকা দিল, এমনিভাবে বৃদ্ধ লোক
কালো খেযাব ব্যবহার করে স্ত্রীকে ধোঁকা দিল। কারণ এটি সুস্পষ্ট প্রতারণা। (যাদুল মাআদ
৪/৩৬৮)
তবে কারো যদি অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণে বয়সের আগেই চুল পেকে যায় তাহলে তার
জন্য কোনো কোনো ফকীহের মতে কালো খেযাব ব্যবহার করার অবকাশ রয়েছে। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী যুহরী
রাহ. বলেন-
كُنّا نُخَضِّبُ بِالسّوَادِ إِذْ كَانَ الْوَجْهُ جَدِيدًا فَلَمّا
نَغَضّ الْوَجْهَ وَالْأَسْنَانَ تَرَكْنَاهُ.
যখন আমাদের চেহারা সতেজ ছিল তখন আমরা কালো খেযাব ব্যবহার করতাম। কিন্তু যখন চেহারায়
ভাঁজ পড়ে গেল এবং দাঁত নড়বড়ে হল তখন কালো খেযাব ব্যবহার করা ছেড়ে দিয়েছি। (ফাতহুল বারী
১০/৩৬৭)
অবশ্য যুবক অবস্থায় দাড়ি-চুল পেকে গেলে কালো খেজাব ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও হাদীসে
যেহেতু সরাসরি কালো খেযাব ব্যবহার করতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে তাই একেবারে কালো খেযাব ব্যবহার
না করে তাতে সামান্য হলেও অন্য রং মিশ্রিত করে নেওয়া উচিত।
আর কোনো ইমাম যদি কালো খেযাব ব্যবহার করে থাকেন তাহলে সেক্ষেত্রে কেনো ওজর আছে
কি না, তাঁর বয়স কত-
এসব বিষয় জানার পরই তার পিছনে ইকতিদার মাসআলা বলা যাবে। কিন্তু ঘটনা যাই হোক,
ইমামগণ যেহেতু সমাজের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব তাই তাঁদের উচিত এমন বিষয়
থেকে বিরত থাকা।
-উমদাতুল কারী ২১/৫১; ফয়যুল কাদীর ১/৩৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৮৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৯;
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/২১৪; আদ্দুররুল মুখতার
৬/৪২২; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৭/১৭০
|
দাড়ি বিহীন ইমামের ইমামতি |
|
জিজ্ঞাসা-১৩১: আসসালামুয়ালাইকুম,একজন ভালো কুরআন পড়তে পারে বাট মুখে দাড়ি নাই ,অপর
জনের মুখে দাড়ি সুন্নাতি জামা কিন্ত কুরআন ভালো পড়তে পারে না এমতাবস্থায় ইমামতির
হকদার কে? সমাধান চাই।
সম্মানিত ভাই মাওলানা আখতারুজ্জান ঢাকা থেকে
উত্তর: যিনি কোরআন জানেন কারন সহিহ পড়া নামাজ
শুদ্ধ হওয়ার শর্ত কিন্ত দাড়ি শর্ত নয়৷
এতটুকু উত্তর দিয়েছেন হাফেজ মাওলানা আজিজুর রহমান
যিনি কোরান শুদ্ধ পড়তে পারেন, এই দু'জনের মধ্যে তিনি
অবশ্যই হকদার। কিন্তু দাড়ি না রাখার কারণে নামাজ মাকরুহ হবে,কোন ব্যক্তি দাড়ি না রাখলে শরীয়তের দৃষ্টিতে সে ফাসেক। ফাসেকের পিছনে মাকরুহসহ
নামাজ আদায় হবে। বিস্তারিত দেখুন দুররুল মুখতার- ৯/৫৮৩;রদ্দুল
মুখতার-১/৩৪৫ সুনানে দারে কুতনি-১/১৭৫০
উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)
|
দাড়ি রাখা ওয়াজিব |
|
জিজ্ঞাসা-১২১: দাড়ি কাটা যে কবীরাহ গুনাহ তার
দলীল কী? |
মাহবুব ঠিকানা জানা যায়নি
উত্তর। প্রখ্যাত আলেম সম্মানিত জালাল
উদ্দীনের ভাইয়ের সাথে মতমত পোষণ করে সম্পূক উত্তর দিচ্ছি।
দাড়ি রাখার হুকুম কি? এক মুষ্ঠি দাড়ি রাখা ওয়াজিব। বেতর, দুই
ঈদের নামাজ যেমন ওয়াজিব। এ বিষয়ে আলেমদের কোন দ্বিমত নাই। অবশ্য দুএকজন বিছিন্ন মত
দিয়েছেন তা উম্মতের কাছে পরিত্যাজ্য।
নিম্নে দলিল পেশ করা হলো।
কুরআনুল কারিম দ্বারা দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ
الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ
الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ অর্থ: তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মের
উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই
আল্লাহর প্রকৃতি যার উপর মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল-সঠিক ধর্ম। কিন্তু
অধিকাংশ মানুষ জানে না। সূরা রূম-৩০
কাজেই যারা দাড়ি কামায় তারা আল্লাহর সৃষ্টি ও প্রকৃতিতে বিকৃত করে যা হারাম।
(২) أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ
اقْتَدِهْ قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَى
لِلْعَالَمِينَ অর্থ: তাঁরা সে সব মানব (নবি-রাসূল) যাদেরকে আল্লাহ তাআলা
হেদায়েত দান করেছেন, কাজেই তাদের পথই তোমরা অনুসরণ কর। সূরা আনয়াম-৯০
দাড়ি রাখা এক লাখ চব্বিশ হাজার (এ রকম-বেশি
আল্লাহ ভাল জানে) নবি-রাসূলের সম্মিলিত বা ঐক্যমতের সুন্নাত (এ সম্পর্কে ৪নং
হাদিস দেখুন)। তাঁদের মুবারক-পবিত্র জামাতের অনুসরণ করতে উক্ত আয়াতে নির্দেশ
দেয়া হয়েছে।
হাদিসে নববি দ্বারা দলিল:
(১) انْهَكُوا الشَّوَارِبَ،
وَأَعْفُوا اللِّحَى» অর্থ: আব্দুল্লাহ
ইবনে
উমর রা.থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
বলেছেন, তোমরা গোঁফ বেশী ছোট রাখবে এবং
দাড়ি বড় রাখবে। বুখারি-৫৪৬৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
(২) خَالِفُوا المُشْرِكِينَ: وَفِّرُوا اللِّحَى، وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ
অর্থ: তোমরা মুশরিকের বিপরীত কর,
দাড়ি লম্বা কর এবং গোঁফকে কর ছোট। বুখারি; মুসলিম-২৫৯ ই.ফা.; মুসনাদে আহমদ-২১২৫২
(৩) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
বলেছেন
«وفروا اللحى «
অর্থ: দাড়ি বাড়াও (লম্বা-ঘন কর)। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪৬২; সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং ২১০৩।
সুপ্রিয় ভাইগণ। উপরোক্ত
তিনটি হাদিসে আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মাদ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাড়ির লম্বা করতে আমরের সীগা ব্যবহার করেছেন
অর্থাৎ নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করা অবশ্য কর্তব্য/ওয়াজিব। তার দলিল হল পবিত্র
কুরআনের এ আয়াতগুলো- (১) وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ
فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا অর্থ: রসূল তোমাদেরকে যা দেন; তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন; তা থেকে বিরত থাক।
সূরা হাশর-০৭
(২) لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ
حَسَنَةٌ অর্থ: নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাঝে আছে উত্তম আদর্শ। তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল
প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।[৩৩ আল-আহযাব : ২১] ইবনে কাসির রহ.
বলেছেন: এই মহান আয়াতটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতিটি কথা, কাজ ও প্রতিটি মুহূর্ত
অনুসরণের ব্যাপারে একটি মহান মূলনীতি। তাফসীরে ইবনে কাসির-৩/৭৫৬
(৩) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا
الرَّسُولَ অর্থ: হে
ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর এবং নির্দেশ
মান্য কর রসূলের। সূরা নিসা-৫৯
(৪) দাড়ি রাখা আর মোচ কাটা শুধু অমুসলিমদের বিরোধিতাই
নয় বরং এটা ফিতরাত বা স্বভাবজাত কাজও। যেমন,
«عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ،
وَالسِّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَظْفَارِ، وَغَسْلُ
الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ " قَالَ زَكَرِيَّا: قَالَ مُصْعَبٌ: وَنَسِيتُ الْعَاشِرَةَ إِلَّا أَنْ تَكُونَ الْمَضْمَضَةَ زَادَ
قُتَيْبَةُ، قَالَ وَكِيعٌ:
" انْتِقَاصُ
الْمَاءِ: يَعْنِي الِاسْتِنْجَاءَ ».
অর্থ: দশটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: মোচ কাটা, দাড়ি
লম্বা রাখা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি
দেওয়া, নখ কাটা, চামড়ার ভাঁজের
জায়গাগুলো ধৌত করা, বগলের নিচের চুল তুলে ফেলা, নাভীর নিচের চুল মুণ্ডানো, (হাম্মাম বা বাথরুমের
প্রয়োজন পূরণের পর) পানি দ্বারা পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। বর্ণনাকারী বলেন, দশম বিষয়টি আমি ভুলে গেছি, যদি না তা হয় কুলি করা। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬১।
(৫) আমর ইবন শুয়াইব তার বাবা থেকে, আর তার বাবা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ
(ﷺ) বলেছেন,
«لَيْسَ مِنَّا مَنْ [ص:57] تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا، لَا تَشَبَّهُوا بِاليَهُودِ وَلَا
بِالنَّصَارَى....
যে অন্য সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য বা মিল রেখে চলে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়, তোমরা ইয়াহূদী ও নাসারাদের সাথে সাদৃশ্য রেখো না। (চাল-চলন,
বেশ-ভূষায় তাদের অনুকরণ করো না)। তিরমিযী, হাদীস
নং ২৬৯৫,
এ
প্রসঙ্গে বোখারী শরিফের প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেছেন, তৎকালে মোশরেক-মজুসীরা দাড়ি ছেঁটে-কেটে ছোট করে রাখত। তাদের
কেহ কেহ সম্পূর্ণ কামিয়ে ফেলত। সুতরাং
দাড়ি সম্পূর্ণ কামিয়ে ফেলা যে রূপ ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী, তদ্রূপ কেঁটে-ছেটে বিশেষ পরিমাণ হতে ছোট করে ফেলা ও ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী। সূত্র: বোখারি শরিফ -৬ষ্ঠখণ্ড: ২৫০ পৃ.আল্লামা আজিজুল
হক রহ.
ইজমা দ্বারা দলিল: হাফেয আল্লামা আবু মুহাম্মদ আলি ইবন হাযম (মৃত: ৪৫৬ হি.) বলেন,
اتفق العلماء على أن قص الشارب وإعفاء اللحية
فرض.
সমস্ত আলেম একমত যে, মোচ কাটা এবং দাড়ি রাখা ফরয (ওয়াজিব)।
শেখ আলী মাহফুয আল আযহারী বলেন, ৪ মাযহাবের আলেমগণ একমত যে, দাড়িকে ঘন রাখা ওয়াজিব, শেভ করা হারাম। প্রসিদ্ধ চার
মাযহাবের ফিকহবিদগণও দাড়ি ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব ও কেটে ফেলা বা শেভ করাকে হারাম বলে
মত প্রকাশ করেছেন।যেমন-
হানাফী মাযহাব:
হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ র্দুরে মুখতারে (২য় খণ্ড/৪৫৯ পৃঃ) বলা
হয়েছে, পুরুষের
জন্য দাড়ি কর্তন করা নিহায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে যে,
দাড়ি এক মুষ্টির বেশী হলে তা কেটে ফেলা ওয়াজিব। কিন্তু এর চাইতে
বেশী কর্তন করা হারাম। যেমনটি পশ্চিমা দেশের লোকেরা এবং খোঁজা পুরুষেরা করে তা কেউ বৈধ বলেননি।
আর দাড়ি সম্পূর্ণটাই কেটে চেঁছে ফেলা হিন্দুস্থানের ইয়াহুদি ও কাফের-মুশরেকদের
কাজ।”মালেকী মাযহাব মতে দাড়ি কাটা হারাম। (আল আদাভি আলা শারহে কিফায়াতুত্ তালেব
রাব্বানি ৮ম খণ্ড ৮৯ পৃঃ)
মালেকী মাযহাব:
১. মালেকী মাযহাব মতেও দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম। অনুরূপভাবে ছুরত বিগড়ে যাওয়া মত
ছেটে ফেলাও হারাম।
২. মালেকী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ ইমাম আবুল আব্বাস কুরতুবী আল-মালেকী সহীহ
মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থ আলমুফহিম এ লিখেন দাড়ি মুণ্ডানো ও উপড়ানো কোনোটাই বৈধ
নয়।
৩. মালেকী মাযহাব মতে দাড়ি কাটা হারাম। (আল আদাভী আলা শারহে কিফায়াতুত্ তালেব
রাব্বানী ৮ম খণ্ড, ৮৯ পৃ.)
শাফেঈ মাযহাব:
ইমাম শাফেঈ (রহ.) তাঁর প্রখ্যাত গ্রন্থ ‘আলউম্ম’ উল্লেখ করেছেন যে, দাড়ি কর্তন করা হারাম। শাফেঈ
মাযহাবের আলেম আযরাঈ বলেন, সঠিক কথা হচ্ছে কোন কারণ ছাড়া
সম্পূর্ণ দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম। হাওয়াশি শারওয়ানি ৯ম
খণ্ড ৩৭৬ পৃ.
হাম্বলী মাযহাব:
১. শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবন তাইমিয়্যা রহ. বলেন, দাড়ি মুণ্ডানো বা শেভ করা
হারাম।
২. ইমাম আহমদ ইবন হাম্বলের মাযহাবের আলেমগণও দাড়ি শেভ করাকে হারাম বলেছেন।
দালায়েলুল আ-সার।
কিয়াস দ্বারা দলিল: ইবন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ،
وَالمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ»
অর্থ: যেসব পুরুষ নারীর সাথে এবং যেসব নারী পুরুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বেশ-ভূষা
গ্রহণ করে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত হওয়ার বদ-দোআ
করেছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৮৫; আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৪০৯৮; তিরমিযী,
হাদীস নং ২৭৮৪; নাসাঈ, হাদীস
নং ১৯০৪।
প্রিয় বন্ধুগণ! দাড়ি মুণ্ডানোর দ্বারা মহিলাদের সাদৃশ্য নয়?
দাড়ি সম্পর্কে আলেমদের মতামত: দাড়ি বিখ্যাত আলেমদের মতামত নিম্নে তুলে ধরা হল-
(১) ইমাম ইবন আবদিল বার্র রহ. (মৃত: ৪৬৩ হি.) তার
তামহীদ কিতাবে বলেন,
يحرم حلق اللحية ولا يفعله إلا المخنثون من الرجال يعني بذلك
المتشبهين بالنساء
দড়ি শেভ করা হারাম। আর এ কাজটি মুখান্নাচ বা নারীর বেশ ধারণকারীই করে, কোনো পুরুষের কাজ নয় এটি।
৩- ইমাম কুরতুবী (রহ.) (মৃত: ৬৭১ হি.) বলেন, দাড়ি শেভ করা বা উঠিয়ে ফেলা বা
কাট-চাট করে ষ্টাইল করে রাখা নাজায়েয। দাড়ি রাখা, বাড়িয়ে ও
ঘন করে রাখা ফরয। দাড়ি শেভকারী তার এ গোনাহকে সবার সামনে প্রকাশ করে, যা অতি কঠিন হারাম কাজ। সহীহ বুখারীর হাদীসে রয়েছে, রাসূল
(ﷺ) বলেন,
«كُلُّ أُمَّتِي مُعَافًى إِلَّا
المُجَاهِرِينَ،».
আমার উম্মতের সবাইকে আল্লাহর রহমতে মাফ করা হবে, তবে তারা ব্যতীত যারা গোনাহ ও
নাফরমানীকে সকলের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায়......। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৬৯।
৪- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যা রহ. (মৃত: ৭২৮ হি.) বলেন, দাড়ি শেভ করা হারাম।
৫- আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান আল মালেকী রহ. বলেন, আলেমরা একমত যে, দাড়ি শেভ করা অঙ্গবিকৃতি করার মতো হারাম কাজ।
৬- সৌদী আরবের সামাহাতুশ শাইখ আল্লামা শায়খ ইবন বায (রহ.) (মৃত: ১৪২০ হি.)
বলেন, দাড়িকে
সংরক্ষণ করা, পরিপূর্ণ, ঘণ রাখা ও ছেড়ে
দেওয়া ফরয। এই ফরযের প্রতি অবহেলা করা জায়েয নয়। আর দাড়ি মুণ্ডানো (শেভ করা) ও ছোট
করা হারাম।
৭- শাইখ ইবন উসাইমীন রহ. (মৃত: ১৪২১ হি.) বলেন, দাড়ি রাখা ওয়াজিব, তা শেভ করা হারাম (কবীরা গুনাহ)।
৮- আলেমে দীন হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. তাঁর বিখ্যাত ইসলাহুর
রুসুম গ্রন্থে লিখেছেন যে সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম শরীফের হাদীসে উল্লেখ
রয়েছে-আফুল লূহা ওয়া আহ্ফুস্ শাওয়ারেব যার অর্থ: তোমরা দাড়ি বড় কর ও মোচ ছোট কর। রাসূল
(ﷺ) করেছেন
ছিগায়ে আমর দ্বারা অর্থাৎ হুকুমবাচক ক্রিয়াপদ দ্বারা। আর আমর (আদেশ) হাকীকাতান (মূলত)
ওয়াজিবের জন্য ব্যবহার হয়।
দাড়ি কি খাটো না লম্বা এ বিষয়ে কুরআনিক দলিল: অনেক ভাই বলে রাসূল (ﷺ) দাড়ি
রাখতে বলেছেন, সুতরাং রাখলেই চলবে; লম্বা করা প্রয়োজন নেই। তাদের
জবাবে এ আয়াতে পেশ করছি- মহান আল্লাহ নবী হারূন আলাইহিস
সালামের প্রসঙ্গ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, যখন হারূন আলাইহিস
সালাম তার ভাই মূসা আলাইহিস সালামকে বলেন,
﴿قَالَ يَبۡنَؤُمَّ لَا تَأۡخُذۡ بِلِحۡيَتِي وَلَا بِرَأۡسِيٓۖ
إِنِّي خَشِيتُ أَن تَقُولَ فَرَّقۡتَ بَيۡنَ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَلَمۡ
تَرۡقُبۡ قَوۡلِي ﴾ [طه
হারূন বললেন: হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি ও চুল ধরবেন না। আমি আশংকা করেছিলাম যে, আপনি বলবেন: তুমি বনী ইসরাঈলদের
মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো ও আমার কথা শোনায় যত্নবান হও নি। সূরা তহা- ৯৪
জ্ঞা নবান ব্যক্তির কাছে প্রশ্ন। ইনসাফের সাথের বলুন দাড়ি যদি লম্বা না হতেন, হজরত মুসা আ. হারুন আ. কে টান দিলেন কি করে? সুতরাং এ আয়াত প্রমানিত হলো নবি-রসূলদের দাড়ি লম্বা ছিল। যুগ যুগ ধরে এ আমলই চলে আসছে।
দাড়ি কি পরিমাণ লম্বা রাখা উচিত বা ওয়াজিব: এক মুষ্ঠি দাড়ি রাখা ওয়াজিব।
হজরত ইবনে ওমর রা. যখন হজ করতেন, তখন নিজ দাড়িকে হাতের মুঠার মধ্যে
ধরে একমুষ্ঠি চেয়ে বাড়তি অংশ কেটে ফেলতেন। বুখারি
২য় খণ্ড, ৮৭৫ পৃষ্ঠা। এরূপ আমল হজরত ওমর রা. এবং আবু হুরাইরা রা. হতেও বর্ণিত আছে। ফাতহুল বারি -১০/২৮৮
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার দাড়ি মুঠ করে ধরতেন। এরপর এক মুষ্ঠির
অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন। মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবা ১৩/১১২, হাদীস নং ২৫৯৯২, ২৫৯৯৯।
আল্লামা শামিরহ. লিখেছেন- অর্থাৎ
যেভাবে কিছু মাগরেবের (স্পেন,মরক্কো)
বাসিন্দা ও হিজড়া লোকেরা এক মুষ্ঠির চেয়ে খাট করে দাড়ি
কেটে ফেলে, কোন ইমামের (আলেম)
মতেই তা জায়েজ নাই। সূত্র: ফতোয়ায়ে শামি ২য়
খণ্ড; ১২২ পৃষ্ঠা।
অনেকে দাড়ি বেশি লম্বা করে, এটা ঠিক নয়। কারণ ইহুদিরা এখন লম্বা দাড়ি রাখে। আর হজরত ইবনে ওমর রা. এর চেয়ে
আমরা বেশি সুন্নাতে অনুসারী নয়। তিনিই যখন এক মুষ্ঠির বাড়তি অংশ কেটে ফেলেছেন তথন
আমাদের কি করণীয় ?
বিস্তারিত দেখুন- নায়লুল হাজাহ শরহে সুনানে ইবনেব মাজাহ-৩১৪ পৃষ্ঠা,
মাআরেফে আবরার-১৪০ পৃষ্ঠা, দাড়ি কা ওজুব দাড়ি রাখার আবশ্যকীয়তা
উপসংহার:
মুমিন!
তুমি কি চাও না যে
তোমার মুখচ্ছবিটি হোক ঠিক ঐ রকম
যে রকম ছিল তোমার প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মাদ
(ﷺ) এর মুখচ্ছবি ।
সূত্রঃ “মুসলিম জীবন সাফল্যে চল্লিশ(৪০)হাদিস”-১৬২-১৬৫ পৃ.
লেখক :
মাওলানা মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব)
|
ঈদের দিন জুমআর নামায পড়তে হয় না? |
জিজ্ঞাসা-১৩২: মুহতারাম, নিচের প্রশ্নের
কুরআন ও হাদীসের দলীল-সূত্র সহ দিলে একটি ফেতনা থেকে রেহাই পাওয়া যেত।
কোন এক শুক্রবার ঈদের দিন ছিল ঈদের নামাজের পর খুতবায় নবীজি (দঃ) বলেছেন, “তোমাদের যাদের ইচ্ছা হয় জুমা নামাজ
পরতে পার ইচ্ছা না হলে ছেড়ে দিতে পার” অর্থাৎ ঐ ঈদের নামাজের কারণে জুমা পড়তে হবে না – এ রকম কোন হাদীস আছে কিনা, থাকলে উহার হুকুম সহ জানাতে
বিশেষ অনুরোধ করছি।
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আবু দাউদসহ কিছু হাদীসের কিতাবে একথা আছে যে, রাসূল (ﷺ) ঈদের নামাযের পর জুমআর নামায পড়াকে ইচ্ছাধীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
কিন্তু তিনি নিজে ঈদের নামাযের পর জুমআর নামায পড়েননি একথা কোন হাদীসে আসেনি।
ফুক্বাহায়ে কেরাম রাসূল (ﷺ) এর
ঈদের দিন জুমআর নামায ইচ্ছাধীন হওয়ার সুযোগ দেয়ার ব্যাখ্যায় বলেন যে, মূলত ঈদের দিন গ্রামাঞ্চল থেকে
লোকজন মদীনায় এসে রাসূল (ﷺ) এর
সাথে ঈদের নামাযে শরীক হতো, রাসূল (ﷺ) মূলত তাদের বলেছেন
যে, তোমাদের ইচ্ছে,
জুমআর নামায পড়েও গ্রামে ফিরতে পার, কিংবা এর
আগেও ফিরতে পার। কারণ গ্রামে জুমআর নামায পড়া জায়েজ নেই। এ কারণে রাসূল (ﷺ) এ সুযোগ তাদের জন্য দিয়েছেন। এটা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যদি
সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতো, তাহলে রাসূল (ﷺ) নিজে
জুমআ পড়তেন না। অথচ জুমআর নামায আবশ্যক হবার পর থেকে জুমআর দিন রাসূল (ﷺ) জুমআর নামায পড়েননি এমন কোন বর্ণনা কোথাও নেই। তাই ঈদের দিনও জুমআর
নামায পড়া আবশ্যক।
তাহলে বুঝা গেল, উক্ত হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হল, এমন গ্রামের মুসল্লি
যে গ্রামে জুমআর নামায আবশ্যক নয়। কিন্তু তারা ঈদের নামায পড়ার জন্য শহরে এল। তাদের
জন্য রাসূল (ﷺ) উক্ত নির্দেশনাটি
দিয়েছেন। শহরবাসী তথা যেখানে জুমআ পড়া আবশ্যক সে এলাকার জন্য উক্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য
নয়।
দ্রষ্টব্য
ফাতওয়া শামী-২/১৬৬; বাদায়েউস সানায়ে-১/২৭৫ ;
মুশকিলুল আসার লিত তাহাবী-২/৫২
জুমআর নামায আদায় করা ফরজ। পবিত্র কুরআনের সুষ্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে তা প্রমাণিত।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن
يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ
ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ [٦٢:٩
মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান হয়, তখন তোমরা আল্লাহর
স্মরণের পানে ত্বরা কর, এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে
উত্তম যদি তোমরা বুঝ। {সূরা জুমআ-৯)
তাই ঈদের দিনও তা আদায় করতে হবে। কোন সহীহ হাদীস দিয়ে একথাটি প্রমাণিত নয় যে, রাসূল (ﷺ) ঈদের দিন জুমআর নামায পড়েন নি।
والله اعلم بالصواب
সূত্র: আহলে হক মিডিয়া থেকে সংকলিত
|
জায়নামাজের দুআ কি বিদআত? |
|
জিজ্ঞাসা-১৩৩: |
সন্মানিত ধর্মীয় শিক্ষকবৃন্দ! আস্সালামু
আলাইকুম। নামাজ শুরু করার পূর্বে জায়নামাজের দোয়া যা আমরা শিখেছি ছোটবেলায় এটা কি হাদীস
দ্বারা প্রমাণিত?
হাফেজ মাওলানা মতিউর রহমান বরিশালথেকে--
উত্তর। ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার প্রশ্নের আলোকে সম্মানিত ভাই আব্দুর রহমান
সাহেব কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। তাতে
আমরা দেখতে পাচ্ছি রাসূল (ﷺ) উক্ত দুআ পড়েছেন। কিন্তু আমরা এখন কি করবো? দেখুন, শুধু
এ বিষয়ে নয় অনেক মাসয়ালার ক্ষেত্রে একাধিক
হাদিসে রয়েছে। (যেমন-
عَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ كَبَّرَ ثُمَّ يَقُولُ « سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ
اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) যখন রাতে নামাযে দাড়াতেন, তখন তাকবীরে তাহরীমার পড়তেন-
সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা, ওয়াতাবারাসমুকা ওয়া
তাআলা জাদ্দুকা ওয়ালা ইলাহা গায়রুকা। সুনানে আবু দাউদ-৭৭৫,৭৭৬,সুনানে ইবনে মাজাহ-৮০৪, সুনানে
বায়হাকী কুবর-২১৭৭
সমস্ত হাদিস একত্র করার পর ফুকাহায়ে
কেরামগণ একটা সমাধান দেন, তারই নাম হলো ফাতওয়া। এখন আমরা দেখবো এ বিষয়ে মহামান্য ইমামগণ ও পরবর্তী
ফুকাহায়ে কেরামগণ এ বিষয়ে কি সমাধান দিয়েছেন।
চার ইমামের কোন ইমাম এটাকে জায়নামাজের দুআ বা সানা হিসেবে সাব্যস্ত করেনি।
অর্থাৎ এ পড়াকে মুস্তাহাব বা সুন্নাত বলেনি। সুতরাং হাদিসই পেয়েই আমল করা বা
সুন্নাহ সাব্যস্ত করা নিরাপদ রাস্তা নয়।
প্রশ্ন। ক। আমার মনে হয় আকাবীরগন যেহেতু এটার আমল জারি করেছেন
সেহেতু দলীল অবস্যই আছে হয়ত আমাদের জ্ঞানের
সীমাবদ্ধতার কারণে দলীল খুজে পাচ্ছিনা।
উত্তর। ক। আকাবীরগণ এটা আমল জারি করেছেন,
এ কথা সঠিক নয়। আমরা যাদের অনুসরণ করি তাদের কেহ এটাকে মুস্তাহাব বা
সুন্নাহ বলেননি। (নির্ভরযোগ্য কোন কিতাবে জায়নামাজের দুআ
বলতে কিছু নেই। আমরাও ছো্ট বেলায় আম পারায় পড়েছি, ফিকহের
কিতাবে পায়নি) যদি বলে থাকেন কারও জানা থাকলে জানালে আকিদা
শুধরে নিব ইনশাল্লাহ।
প্রশ্ন। খ। এটা
দলীল হলে বাকী দোয়া গুলো শেখানো হয়নি বা হচ্ছেনা কেন?
উত্তর। খ। ফার্মিসিতে অনেক ওষধ আছে বটে; কিন্তু ব্যবহার-মাত্রা-ডোজ-প্রয়োগ বিজ্ঞ ডাক্তার ব্যতিত বিপদজনক। ঠিক তেমনি অনেক হাদিস
আছে বটে; কিন্তু কোনটি আমলযোগ্য এটি ফুকাহায়ে কেরামগণ ভাল
জানে। এ বিষয়ে যেমন ইমাম তিরমিজি রহমতুল্লাহি বলেছেন الفقهاء و هم اعلم يعني الحديث অর্থাৎ ফুকাহায়ে কেরাম হাদিসের অর্থ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত।তিরমিজি-৩/৩১৫পৃ.
প্রশ্ন্। গ। নামাযে তাকবীরে তাহরীমা
বলার যদি কেউ প ইন্নি ওয়াজজাহতু -----
পড়ে তার হুকুম কি?
উত্তর। গ। যদি
কেহ নামাজে তাকবীরে তাহরীমার পর ইন্নি
ওয়াজজাহতু ----- পড়ে তা তাহলে তার নামায হয়ে যাবে, কোন সমস্যা নেই। ফাতওয়া শামী-২/৫৬৭, সালাত অধ্যায়
|
|
ফরজ সালাতের পর সম্মলিত মোনাজাত
🎙️আল্লামা মোবারকপুরী রাহঃ
📖
কিতাবঃ তুহফাতুল আহওয়াযী- ২/১৬৮, ১৭৩পৃ.
আহলে হাদিস উলামাগণ এই বিষয়ে ২ দল। মুবারকপুরী রাহঃ এর মতে প্রাধান্যযোগ্য হচ্ছে
জায়েজ
اعلم أن علماء أهل الحديث قد اختلفوا في هذا الزمان في أن الإمام إذا
انصرف من الصلاة المكتوبة هل يجوز له أن يدعو رافعا يديه ويؤمن من خلفه من
المأمومين رافعي أيديهم ، فقال بعضهم بالجواز ، وقال بعضهم بعدم جوازه ظنا منهم
أنه بدعة ، قالوا :
إن ذلك لم يثبت عن رسول الله صلى
الله عليه وسلم بسند صحيح بل هو أمر محدث ، وكل محدث بدعة ، وأما القائلون بالجواز
فاستدلوا بخمسة أحاديث .
জেনে রাখো, আহলে হাদিস উলামাগণ এই যামানায় ফরজ সালাত থেকে ফারেগ হবার পর ইমাম সাহেব দুহাত
তুলে দোয়া মোনাজাত করা আর মুক্তাদিগণ দুহাত তুলে পিছন থেকে আমিন আমিন বলা জায়েজ হবার
বিষয়ে মতানৈক্য করেছেন।
কেউ কেউ নাজায়েজ বলেছেন এই ধারণা করে যে, এটি বেদআত। তারা বলেন, এই বিষয়ে রাসুল (ﷺ) থেকে
সহিহ সনদে কোন কিছু বর্ণিত হয় নি। বরং এটি নবআবিস্কৃত। আর প্রত্যেক নবআবিস্কৃত জিনিস
বেদআত।
তাদের কেউ কেউ জায়েজ বলেছেন। তারা ৫টি হাদিস দারা দলিল পেশ করেন। (সংক্ষিপ্তভাবে
একটি দিলাম)
الحديث الثاني : حديث عبد الله بن الزبير ، ذكر السيوطي في رسالته فض الوعاء عن محمد
بن يحيى الأسلمي ، قال :
رأيت عبد الله بن الزبير ورأى
رجلا رافعا يديه قبل أن يفرغ من صلاته فلما فرغ منها قال : إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يرفع يديه حتى
يفرغ من صلاته قال رجاله ثقات .
قلت
: وذكره الحافظ الهيثمي في مجمع
الزوائد وقال رواه الطبراني وترجم له فقال محمد بن يحيى الأسلمي عن عبد الله بن
الزبير ورجاله ثقات ، انتهى .
আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রা. এর হাদিস, ইমাম সুয়ুতী রাহঃ তার গ্রন্থ 'ফাদ্দুল ওয়াআ'তে মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আল-আসলামী থেকে
বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন,
আমি আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রা. কে দেখেছি তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে নামাজ থেকে ফারেগ হবার আগেই
দুহাত তুলে মোনাজাত করছেন। যখন দোয়া থেকে ফারেগ হলেন তখন সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের
রা. বলেন, রাসুল (ﷺ) নামাজের
পর ছাড়া দুই হাত তুলে দোয়া করতেন না।
আমি (মুবারকপুরী) বলছি,
এই হাদিসটি ইমাম হায়ছামী মাজমাউয যাওয়ায়েদ গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন, ইমাম তাবরানী হাদিসটি রেওয়াত করেছেন।
অতঃপর তিনি বলেছেন,
মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আল-আসলামী আব্দুল্লাহ
বিন জুবায়ের রা. থেকে ও বাকি সকল রাবীগণ ছিকাহ/নির্ভরযোগ্য।
المباركفوري أيضا: قلت :
القول الراجح عندي أن رفع اليدين
في الدعاء بعد الصلاة جائز لو فعله أحد لا بأس عليه إن شاء الله تعالى ، والله
تعالى أعلم
আমি মুবারকপুরী বলছিঃ
আমার নিকট প্রাধান্যযোগ্য বক্তব্য হচ্ছে, নামাজের পর দুহাত তুলে মোনাজাত করা জায়েজ। কেউ
যদি তা করে তাহলে কোন অসুবিধা নেই ইংশা আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহু আ'লাম
সংকলনে, মাওলানা আবু সাঈদ মো: শাহিন
|
মেহরাব কি মসজিদের অন্তর্ভুক্ত |
জিজ্ঞাসা-১৩৪: মেহরাব
কি মসজিদের অন্তর্ভুক্ত ?
উত্তর। ক। হ্যা, শায়েখ আপনার জানা সঠিক, যখন ইমাম দাড়াবে তখন কমপক্ষে পা টুকু মেহরাবেরর বাহিরে রাখবে। তাহলে আর কোন প্রশ্ন থাকে না । এটাই উত্তম পন্থা। সূত্র: মাসায়েলে
ইমামত, ইমাম দাড়ানো অধ্যায়।
খ।
محراب (মিহরাব) শব্দটি اسم الة واحد مقعال (মিফআলুন) –এর ওজন, শাব্দিক অর্থ
হলো- , অস্রাগার, অস্র রাখার স্হান,
যন্ত্রাংশ রাখার স্হান। নবী (ﷺ)এর যুগে মেহরাব ছিল, তবে তা সেজদা দেওয়ার জন্য ছিল না । যুদ্ধের
যন্ত্রাংশ রাখার জন্য ছিল। সাহাবায়ে কেরাম গন নামাজ আদায় করার আগে যুদ্ধের তরবারি,
বল্লম, তীর, ইত্যাদি
একটা নির্দিষ্ট স্থান মেহরাবে রাখতেন যেন সালাত আদায় করে তারাতারি এগুলো নিয়ে
যুদ্ধে শামিল হতে পারে। সুতরাং বলা যায় মূল মসজিদের দেয়ালের বাহিরে বর্ধিত অংশ মেহরাব।
প্রশ্ন। বর্তমান যুগে বা বাংলাদেশের মেহরাব মসজিদের অন্তুভুক্ত কিনা?
উত্তর: এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন,
বর্তমান সময়ের মেহরাব মসজিদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং ইমাম তার ভেতর নামাজ আদায় করতে পারবে এবং এতেকাফকারী মেহরাবে যেতে
পারবে। এ কারণে নামাজ এবং এতেকাফ নষ্ট হবে না। -শরহুল
মুনইয়া ৩৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৬; রদ্দুল
মুহতার ১/৬৪৬
** মসজিদের সামনে অতিরিক্ত অংশ টা কে মেহরাব বলে।
** মেহরাব অর্থ হল, অস্রাগার, অস্র
রাখার স্হান, যন্ত্রাংশ রাখার স্হান।
** নবী (ﷺ) এর যুগে
মেহরাব ছিল, তবে তা সেজদা দেওয়ার জন্য ছিল না । যুদ্ধের যন্ত্রাংশ রাখার জন্য ছিল।
সাহাবায়ে কেরাম গন নামাজ আদায় করার আগে যুদ্ধের তরবারি, বল্লম, তীর,
ইত্যাদি একটা নির্দিষ্ট স্থান মেহরাবে রাখতেন যেন সালাত আদায় করে
তারাতারি এগুলো নিয়ে যুদ্ধে শামিল হতে পারে।
তাই বর্তমান যুগে যুদ্ধ ও নাই ইহার প্রয়োজন ও নাই। মেহরাব মসজিদের অংশ নহে।
শরীয়তের মাসআলা মতে, মেহরাবে যদি আপনি সমস্ত শরীর ঢুকাইয়া যদি নামাজ পড়েন আপনার সেই নামাজ কবুল
হবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
মৃত্যু ব্যক্তির ফিদিয়া |
জিজ্ঞাসা-১৩৫: আসসালামুয়ালাইকুম। একদম মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যুর পূর্বে ৬/৭ বছর
কোন নামাজ, রোজা কিছু করতে পারে নাই, তার অসীয়তের 1/3 (এক তৃতীয়াংশ) এর পূর্ণ সম্পদ ফিদীয়া দিয়ে দিলেই কি সমষ্টিগতভাবে সব আদায়
হয়ে যাবে? নাকি ওয়ারিশদের অংশ থেকে ও অতিরিক্ত দিন,
সময় ইত্যাদি হিসাব করে আরো আদায় করা উচিত? (সম্মানিত
ভাই আব্দুর রহমানের প্রশ্নের আলোকে)।
উত্তর। ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
একটি গুরুত্ব মাসয়ালা প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে জাযাকাল্লাহু খাইর।
মাসয়ালাটি বুঝার সুবিধার্থে কয়েকটি ভাগে ভাগ করছি।
প্রশ্ন: ক। ফিদিয়া কোন ব্যক্তির জন্য দিতে হয়?
উত্তর: ক।
নামাজের ফিদিয়া: কোন ব্যক্তি যদি ইশারাও নামাজ আদায় করতে না
পারেন, তাহলে তার নামাজ পড়া লাগবে না। সুতরাং এ অবস্থায় তার পক্ষে ফিদিয়া দেওয়া লাগবে
না। দলীল:
عن عمران بن حصين رضي الله عنهما قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((صلِّ قائمًا، فإن لم تستطع فقاعدًا، فإن لم تستطع فعلى
جنب
رواه البخاري في أبواب تقصير الصلاة، باب إذا لم يُطِقْ قاعدًا 1/ 376 (1066)
হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অশ্ব রোগ ছিল, তাই এ অবস্থায় কিভাবে নামাজ আদায়
করবো তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি
বললেন, দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় কর, যদি না
পার তবে বসে কর, তাও যদি না পার তাহলে এক পার্শ্বের উপর আদায়
কর। (বুখারি ১/৩৭৬)
,
যে ব্যক্তি ইশারায় রুকু-সিজদা করবে, সে রুকু থেকে সিজদাতে সামান্য বেশি ঝুঁকবে।
অন্যথায় নামাজ সহিহ হবে না। (তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৭৬)
,
শুধুমাত্র মাথা দিয়ে ইশারা করলেও তা রুকু-সিজদার স্থলাভিষিক্ত বলে বিবেচিত
হবে। ইশারা কেবল চোখ বা অন্তরে করলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। (সুনানে কুবরা, হাদিস নং: ৩৭১৯)
অসুস্থ ব্যক্তি মাথার মাধ্যমে ইশারা করতে অক্ষম হলে, তার অবস্থা বিবেচনা করা হবে।
তখন দেখতে হবে, এভাবে তিনি কতক্ষণ থাকেন। পাঁচ ওয়াক্ত শেষ
হওয়ার পর যদি অবস্থার উন্নতি ঘটে, তাহলে ওই সব নামাজ মাথা
দিয়ে ইশারা করে কাজা করে নেবে। আর যদি এর চেয়ে বেশি সময় পার হওয়ার পরও উন্নতি না
হয়, তবে ওই সব নামাজ তার দায়িত্বে আর থাকবে না। অর্থাৎ এগুলো
আদায় করা লাগবে না। (মুআত্তা মুহাম্মদ, হাদিস নং: ২৭৮, দারা
কুতনি, হাদিস নং: ১৮৮৩)
,
"إن تعذر الإیماء برأسه أخرت
الصلاة فلا سقط عنه؛ بل یقضیها إذا قدر علیها، ولوکانت أکثر من صلاة یوم ولیلة
إذا کان مضیقًا وهو الصحیح، کما في الهدایة. وفي الخانیة:
الأصح أنه لایقضي أکثر من یوم
ولیلة کالمغمیٰ علیه، وهو ظاهر الروایة، وهذا اختیار فخر الإسلام، وشیخ الإسلام. وفي الخلاصة: وهو المختار؛ لأن مجرد العقل لایکفي لتوجه الخطاب. وفي التنویر: وعلیه الفتویٰ، ولایومئ بعینیه ولابحاجبیه ولابقلبه؛ لما روینا، وفیه
خلاف زفر". (مجمع الأنهر، کتاب الصلاة، باب
صلاة المریض، دار الکتب العلمیة بیروت ۱/۲۲۹)
সারমর্মঃ
যদি এক দিন এক রাতের নামাজ থেকেও বেশি সময় ধরে এমন হয়, তাহলে তার আর কাজা আদায় করতে হবেনা।
"قال بعضهم: إن زاد عجزه علی یوم ولیلة لایلزمه القضاء، وإن کان دون
ذلك یلزمه کما في الإغماء، وهو الأصح، والفتوی علیه". (الفتاوى الهندیة، کتاب الصلاة، الباب الرابع عشر في صلاة
المریض، (۱/۱۹۷)
সারমর্মঃ
যদি এক দিন এক রাতের নামাজ থেকেও বেশি সময় ধরে এই ওযর (ইশারা করেও
নামাজ আদায় করতে অক্ষম) হয়, তাহলে তার আর কাজা আদায় করতে হবে
না।
প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তি যদি এই সময়ে
যদি সে ইশারা করেও নামাজ পড়ার শক্তি না রেখে থাকে, তাহলে তার ফিদিয়াহ দিতে হবেনা।
আর যদি তার ইশারা করে নামাজ পড়ার শক্তি ছিলো বলে জানা যায়, তাহলে
সেই কয়দিনের নামাজের ফিদিয়াহ দিতে হবে।
রোজার ফিদিয়া:
আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ
لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ *
أَيَّاماً مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ
كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ
وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ
خَيْراً فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ
تَعْلَمُونَ ) البقرة/183-184.
“হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে,
যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা
তাকওয়া অবলম্বন কর। নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে,
কিংবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্যান্য দিনে সংখ্যা
পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য
ফিদিয়া তথা একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা। অতএব যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত
সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর হবে। আর সিয়াম পালন
তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। সূরা বাক্বারাহ,
২: ১৮৩-১৮৪
ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন যে তিনি
বলেছেন: এ আয়াতটি মানসুখ (রহিত)নয়, বরং আয়াতটি অতি বৃদ্ধ নর ও নারীর ক্ষেত্রে
প্রযোজ্য- যারা রোযা পালনে অক্ষম। তারা প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে
খাওয়াবেন। বুখারি-৪৫০৫
প্রশ্ন: খ। ফিদিয়ার পরিমাণ?
উত্তর: খ। রোজার মত নামাজের ফিদিয়া কুরআন-হাদিসে আসেনি, তবে (রোজার
ফিদিয়া) কুরআন
মাজিদে ইরশাদ হয়েছে,
وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ
আর যাদের রোযা রাখার সামর্থ্য নেই তারা একজন মিসকীনের খানা সমপরিমাণ ফিদিয়া
দিবে। সূরা বাকারা-১৮৪
এ আয়াতের উপর কিয়াস করে ওলামায়ে
আহনাফ একই পরিমাণ বলেছেন, বিতরসহ (মোট ৬ ওয়াক্ত একদিনে)
প্রতি ওয়াক্ত নামায হিসেব করে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য পৌনে দুই সের গম বা আটা অথবা
এর বাজার মূল্য গরীব মিসকিনকে মালিক বানিয়ে দান করে দিতে হবে। অথবা প্রতি ওয়াক্তের
বদলে একজন গরীবকে দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়াতে হবে। যা সদকায়ে ফিতির এর
টাকা পরিমাণ হয়। সূত্র: ফতাওয়া শামী-২/৭২; মারাক্বিল ফালাহ-১/১৬৯ হবে।
(وَلَوْ مَاتَ وَعَلَيْهِ
صَلَوَاتٌ فَائِتَةٌ وَأَوْصَى بِالْكَفَّارَةِ يُعْطَى لِكُلِّ صَلَاةٍ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ) كَالْفِطْرَةِ (وَكَذَا حُكْمُ الْوِتْرِ) وَالصَّوْمِ، وَإِنَّمَا يُعْطِي (مِنْ ثُلُثِ مَالِهِ) (الدر المختار-2/72
সহজ কথায়, প্রতিটি নামায ও রোজার জন্য
সদকায়ে ফিতির পরিমাণ টাকা গরীবকে দান করে দিতে হবে।
প্রশ্ন: গ। তার অসীয়তের 1/3 (এক তৃতীয়াংশ) এর পূর্ণ সম্পদ ফিদীয়া
দিয়ে দিলেই কি সমষ্টিগতভাবে সব আদায় হয়ে যাবে? নাকি ওয়ারিশদের
অংশ থেকে ও অতিরিক্ত দিন, সময় ইত্যাদি হিসাব করে আরো আদায় করা
উচিত?
উত্তর: গ। ফিদিয়া আদায়ের পদ্ধতি হলো প্রথমে উক্ত ব্যক্তির কাজা নামাজ ও রোজা
হিসেব করবে, তারপর ফিদিয়া দিবে। যদি অসীয়তের 1/3 (এক তৃতীয়াংশ) এর পূর্ণ সম্পদ দিয়েও
ফিদিয়া আদায় না হয়, তাহলে ওয়ারিশদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ-এর বেশি সম্পদ দ্বারা ব্যয় করতে বাধ্য নয়।
দলিল:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আল্লাহ তোমাদের মৃত্যুর সময়
নিজেদের সম্পদের এক তৃতীয়াংশ তোমাদের উপর দাক্ষিণ্য করেছেন যেন তোমরা এর দ্বারা
নেক আমল বাড়াতে পার। সুনানে ইবনে মাজাহ-২৭০৯ হাদিসটির সনদ হাসান
তবে বালেগ ওয়ারিশগণ যদি সেচ্ছায় আদায়
করে, তাহলে জায়েজ
ও উত্তম। সূত্র: দুররুল
মুখতার-২/৯-১০০
প্রশ্ন: ঘ। মৃত্যু ব্যক্তির জন্য ওয়ারিশগণণের উপর কি ফিদিয়া দেওয়া ওয়াজিব?
উত্তর: ঘ। যদি মৃত ব্যক্তি তার সম্পদ থেকে
তার নামাযের কাফফারা আদায়ের জন্য অসিয়ত করে যায়, আর তার
নিজের মালও ছিল। তাহলে তার এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কাফফারা আদায় করতে হবে। আর যদি
তার কোন সম্পদ না থাকে, বা সে মাল রেখে গেছে কিন্তু কোন
কাফফারা আদায়ের অসিয়ত করে যায়নি। তাহলে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাফফারা আদায় করা
আত্মীয়দের উপর জরুরী নয়। তবে স্বজনদের কাফফারা আদায় করে দেয়াই উত্তম। এর দ্বারা
মৃত ব্যক্তি শান্তি পায়। দুররুল মুখতার-২/৯৫-১০০
وَأَمَّا إذَا لَمْ يُوصِ فَتَطَوَّعَ بِهَا
الْوَارِثُ فَقَدْ قَالَ مُحَمَّدٌ فِي الزِّيَادَاتِ إنَّهُ يُجْزِيهِ إنْ شَاءَ
اللَّهُ تَعَالَى، (رد المحتار-2/95-100)
والله اعلم بالصواب
|
জিজ্ঞাসা-১৩৭: বহু বিবাহ এবং অনুমতি ব্যতিত বিবাহের অপকারিতা। এই বিষয়ে জানালে উপকার হত।
উত্তর: ওয়ালাইকুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লহ।
ক। বহু বিবাহ:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَآ أَحَلَّ
ٱللَّهُ لَكَۖ تَبۡتَغِي مَرۡضَاتَ أَزۡوَٰجِكَۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ অর্থ: হে নবী! আল্লাহ্ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন
আপনি তা নিষিদ্ধ করছেন কেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সস্তুষ্টি
চাচ্ছেন [১]; আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম
দয়ালু। সূরা তাহরীম-০১
সুতরাং আল্লাহ তাআলা যা হালাল করেছেন, তা হারাম করার দুঃসাহস কারও নেই।
চারটি বিবাহ করার দলীল:
"বিবাহ কর নারীদের মধ্য হতে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই ,তিন আথবা চারটি। আর যদি আশঙ্কা কর যে (স্ত্রীদের
মাঝে) সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে (মাত্র) একটি (বিবাহ কর)। সুরা নিসা-০৩
এই আয়াতে বোঝা যাচ্ছে যে কোনো মুসলমান ইচ্ছা করলে একের অধিক বিয়ে
(চারের বেশি নয়) করতে পারে।
একাধিক বিবাহের শর্ত:
আলোচ্য আয়াতে একাধিক অর্থাৎ চারজন
স্ত্রী গ্রহণ করার সুযোগ অবশ্য দেয়া হয়েছে, অন্যদিকে এই চার পর্যন্ত কথাটি আরোপ করে
তার উর্ধ্ব সংখ্যক কোন স্ত্রী গ্রহণ করতে পারবে না বরং তা হবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ-
তাও ব্যক্ত করে দিয়েছে। ইসলাম পূর্ব যুগে কারও কারও দশটি পর্যন্ত স্ত্রী থাকত। ইসলাম এটাকে চারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে।
কায়েস ইবন হারেস বলেন, আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন আমার স্ত্রী সংখ্যা ছিল আট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর কাছে আসলে তিনি আমাকে বললেন, এর মধ্য থেকে চারটি গ্রহণ করে নাও। [ইবন মাজাহ: ১৯৫২, ১৯৫৩]
পবিত্র কুরআনে চারজন স্ত্রীর কথা বৈধ
ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাথে সাথে এও বলে দেয়া হয়েছে যে, যদি তোমরা তাদের মধ্যে সমতা
বিধান তথা ন্যায় বিচার করতে না পার, তাহলে এক স্ত্রীর উপরই
নির্ভর কর। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, একাধিক বিয়ে ঠিক তখনই বৈধ
হতে পারে, যখন শরীআত মোতাবেক সবার সাথে সমান আচরণ করা হবে;
তাদের সবার অধিকার সমভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এ ব্যাপারে অপারগ হলে এক
স্ত্রীর উপরই নির্ভর করতে হবে এবং এটাই ইসলামের নির্দেশ। রাসূল (ﷺ)একাধিক স্ত্রীর বেলায় সবার সাথে পরিপূর্ণ সমতার ব্যবহার করার
ব্যাপারে বিশেষ তাকিদ দিয়েছেন এবং যারা এর খেলাফ করবে, তাদের জন্য কঠিন শাস্তির খবর
দিয়েছেন। নিজের ব্যবহারিক জীবনেও তিনি
এ ব্যাপারে সর্বোত্তম আদর্শ স্থাপন করে দেখিয়েছেন। এমনকি তিনি এমন বিষয়েও
সমতাপূর্ণ আদর্শ স্থাপন করেছেন যে ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন ছিল না। এক হাদীসে রাসূল (ﷺ)এরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তির দুই স্ত্রী রয়েছে, সে যদি এদের মধ্যে ব্যবহারের
ক্ষেত্রে পূর্ণ সমতা ও ইনসাফ করতে না পারে, তবে কিয়ামতের
ময়দানে সে এমনভাবে উঠবে যে, তার শরীরের এক পার্শ্ব অবশ হয়ে
থাকবে। [আবু দাউদঃ ২১৩৩, তিরমিযীঃ ১১৪১, ইবন মাজাহঃ ১৯৬৯, আহমাদঃ ২/৪৭১]
এ সূরার ১২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, কোন এক স্ত্রীর প্রতি যদি তোমার আন্তরিক
আকর্ষণ বেশী হয়ে যায়, তবে সেটা তোমার সাধ্যায়ত্ব ব্যাপার
নয় বটে, কিন্তু এ ক্ষেত্রেও অন্যজনের প্রতি পরিপূর্ণ
উপেক্ষা প্রদর্শন করা জায়েয হবে না। সূরা আন-নিসার এ আয়াতে ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার
করতে না পারার আশংকার ক্ষেত্রে এক বিয়েতেই তৃপ্ত থাকার নির্দেশ এবং পরবর্তী
আয়াতে “তোমরা কোন অবস্থাতেই একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা
রক্ষা করতে পারবে না” এ দু'আয়াতের
মধ্যে সমস্বয় হচ্ছে, এখানে মানুষের সাধ্যায়ত্ব ব্যাপারে
স্ত্রীদের মধ্যে সমতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় আয়াতে যা মানুষের
সাধ্যের বাইরে অর্থাৎ আন্তরিক আকর্ষণের ব্যাপারে সমতা রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে
মন্তব্য করা হয়েছে। সুতরাং দুটি আয়াতের মর্মে যেমন কোন বৈপরীত্ব নেই, তেমনি এ আয়াতের দ্বারা একাধিক বিবাহের অবৈধতাও প্রমাণিত হয় না। যদি আমরা এ আয়াতের শানে-নুযুলের দিকে দৃষ্টিপাত
করি তাহলে ব্যাপারটা আরো স্পষ্ট হয়ে যায়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলছেন, একটি ইয়াতীম মেয়ে এক
ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে ছিল। লোকটি সে ইয়াতীম মেয়েটির সাথে সম্পদে অংশীদারও ছিল।
সে তাকে তার সৌন্দর্য ও সম্পদের জন্য ভালবাসত। কিন্তু সে তাকে ইনসাফপূর্ণ মাহর
দিতে রাযী হচ্ছিল না। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করে
মাহর দানের ক্ষেত্রে ইনসাফপূর্ণ ব্যবস্থা কায়েম করার নির্দেশ দেন। ইয়াতীম হলেই
তার মাহর কম হয়ে যাবে, এমনটি যেন না হয় সেদিকে গুরুত্বের
সাথে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দান করা হয়। [বুখারীঃ ২৪৯৪, ৪৫৭৪,
৫০৯২, মুসলিমঃ ৩০১৮]
)এতে দুটি শব্দ রয়েছে। একটি أَدْنَىٰ এটি دُنُوٌ ধাতু থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ হয় নিকটতর। দ্বিতীয়
শব্দটি হচ্ছেঃ لَا تَعُولُوا যা عال শব্দ হতে উৎপন্ন, অর্থ ঝুঁকে পড়া। এখানে শব্দটি
অসংগতভাবে ঝুঁকে পড়া এবং দাম্পত্য জীবনে নির্যাতনের পথ অবলম্বন করা অর্থে ব্যবহৃত
করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, এ আয়াতে তোমাদের যা বলা হল যে,
সমতা বজায় রাখতে না পারার আশংকা থাকলে এক স্ত্রী নিয়েই
সংসারযাত্রা নির্বাহ কর কিংবা শরীআতসম্মত ক্রীতদাসী নিয়ে সংসার কর; এটা এমন এক পথ যা অবলম্বন করলে তোমরা যুলুম থেকে বেঁচে থাকতে পারবে।
বাড়াবাড়ি বা সীমালংঘনের সম্ভাবনাও দূর হবে। تَعُولُوا শব্দের দ্বিতীয় আরেকটি অর্থ হতে পারে মিসকীন
হয়ে যাওয়া। এর সপক্ষে সূরা আত-তাওবার ২৮ নং আয়াতে عَيْلَةً শব্দটি এসেছে। সেখানে শব্দটির অর্থ করা হয়েছে
দারিদ্রতা। ইমাম শাফেয়ী বলেন, এর অর্থ, যাতে তোমাদের পরিবারের সংখ্যা
বৃদ্ধি না পায়। [তাফসিরে ফাতহুল কাদীর]
"তোমরা যতই আগ্রহ রাখো না কেন, তোমাদের স্ত্রীদের
প্রতি সমান ব্যবহার করতে কখনো সক্ষম হবে না। সুরা নিসা-১২৭
উপরের দুটি আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ইসলামে চারটি বিবাহ
করা বৈধ কিন্তু একটি বিবাহ করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে এবং বহু বিবাহে ভীতি প্রদর্শন
করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন,
.তোমরা এক জনের প্রতি সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পর না ও অপরকে (অপর
স্ত্রীকে) ঝুলন্ত অবস্তায় রেখে দিও না ।
সুরা নিসা ০৩:১২৭
এ ব্যপারে নবী মুহাম্মদ (স:) বলেন,
"যে ব্যক্তির দুই জন স্ত্রী আছে,
কিন্তু তার মধ্যে এক জনের দিকে ঝুঁকে
যায়, এরূপ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন অর্ধদেহ ধসা অবস্থায়
উপস্থিত হবে।"
আহমেদ ২/৩৪৭; আসবে সুনান; হাকিম ২/১৮৬) ইবনে হিব্বান ৪১৯
নোট: সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বিধান করতে না পারে ,
তাহলে তার জন্য একাধিক বিবাহ জায়েজ নয়। আল্লাহ বিধান না মানার
কারণে (তাছাড়া)
বর্তমান সময়ে কয়েকটি অপকারিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে-
১। হত্যা-খুন-খারাপি
২। ঝগড়া-ফ্যাসাদ
৩। মামলা-মোকাদ্দামা
৪। মারামারি-কাটাকাটি
৫। অপমান-অপদস্থ ইত্যাদি।
খ। অনুমতি ব্যতিত বিবাহের শরয়ি বিধান:
ওলামায়ে আহনাফের মতে বালেগা নারীর বিবাহের জন্য অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন নেই
। দলীল-
হাদীস নং-০১
عَنْ عَبْدِ اللهِ
بْنِ عَبَّاسٍ؛ أَنَّ
رَسُولَ اللهِ صلى
الله عليه وسلم،
قَالَ: «الْأَيِّمُ أَحَقُّ
بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا.
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, মেয়ে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে
অভিভাবকের চেয়ে অধিক হকদার। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৮৮৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং-১৪২১)
হাদীস নং-০২
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ
بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ
قَالَ: ” جَاءَتِ
امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ
اللَّهِ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ:
يَا رَسُولَ اللَّهِ،
إِنَّ أَبِي وَنِعْمَ
الْأَبُ هُوَ، خَطَبَنِي
إِلَيْهِ عَمُّ وَلَدِي
فَرَدَّهُ، وَأَنْكَحَنِي رَجُلًا
وَأَنَا كَارِهَةٌ. فَبَعَثَ
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
إِلَى أَبِيهَا، فَسَأَلَهُ
عَنْ قَوْلِهَا، فَقَالَ:
صَدَقَتْ، أَنْكَحْتُهَا وَلَمْ
آلُهَا خَيْرًا. فَقَالَ
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
«لَا نِكَاحَ لَكِ،
اذْهَبِي فَانْكِحِي مَنْ
شِئْتِ
হযরত সালামা বিনতে আব্দুর রহমান রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদা এক মেয়ে রাসূল (ﷺ) এর কাছে এল। এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা! কতইনা উত্তম
পিতা! আমার চাচাত ভাই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল আর তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। আর এমন
এক ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাইছেন যাকে আমি অপছন্দ করি। এ ব্যাপারে রাসূল (ﷺ) তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলে পিতা বলে, মেয়েটি সত্যই বলেছে। আমি তাকে
এমন পাত্রের সাথে বিয়ে দিচ্ছি যার পরিবার ভাল নয়। তখন রাসূল (ﷺ) মেয়েটিকে বললেন, “এ বিয়ে হবে না, তুমি যাও, যাকে ইচ্ছে
বিয়ে করে নাও”। {মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,
হাদীস নং-১০৩০৪, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,
হাদীস নং-১৫৯৫৩}
হাদীস নং-০৩
حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، حَدَّثَنَا
جَرِيرٌ، عَنْ أَيُّوبَ،
عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ
ابْنِ عَبَّاسٍ: ”
أَنَّ جَارِيَةً بِكْرًا
أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ،
فَذَكَرَتْ أَنَّ أَبَاهَا
زَوَّجَهَا وَهِيَ كَارِهَةٌ
فَخَيَّرَهَا النَّبِيُّ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ”
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। কুমারী মেয়ে রাসূল (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, আমার পিতা আমার অপছন্দ সত্বেও
বিয়ে দিয়েছে, তখন রাসূল (ﷺ) সে মেয়েকে অধিকার দিলেন, [যাকে ইচ্ছে বিয়ে করতে পারে বা
এ বিয়ে রাখতেও পারে]। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস
নং-২৪৬৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস
নং-১৮৭৫}
অপকারিতা: ইদানিং দেখা যাচ্ছে- মোবাইল, ই-মেল, ফেসবুক, ইন্টারনেট-এর মাধ্যামে সম্পর্ক হয়ে ছেলে-মেয়ে ইচ্ছামত বিবাহ-অবৈধ সম্পর্ক গড়ছে কিন্তু অধিকাংশ এ অবৈধ সম্পর্ক, বিবাহ
টিকছে না; ফলে বাবা-মার কাছেই ফিরে আসতে
হয়। বিবেকবান তরুণ-তরুণীরা! এক
মাস/এক বছর/দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক কি
পিতা-মাতার সঙ্গে ১৮/২০ বছরের সম্পর্কের
চেয়ে দামি? এ রকম বহু ঘটনা সমাজে ঘটেছে যে, না দেখে প্রেম করে অনেক প্রতারণার শিকার হচ্ছে। ছেলে বলে আমি ব্যাংকে চাকরি করি, দোকানের মালিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,
অবিবাহিত ইত্যাদি পরে জানা গেল কিছুই না, বিবাহিত
কয়েক সন্তানের জনক। তখন
শুধু হায় হায় করে। আর কি লাভ? ভাবা উচিত ছিল আগে, আমি
কার হাত ধরে যাচ্ছি, এর পরিনাম কি? প্রেমের
ফাঁদে পড়ে মানুষ পাচার হচ্ছে, আটকিয়ে টাকা দাবি করছে,
জীবন পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। নরসিংদিতে কলেজ ছাত্রের ৬ টুকরা করে হত্যা তার জাজ্বল্যমান প্রমাণ বহন করে।
প্রিয় মুসলিম ভাই-বোনেরা! অতীতের গ্লানি মুছে সামনে পবিত্র জীবনের শপথ
নেয়। মনে রাখবেন! অবৈধ প্রেম-ভালবাসা করলে
শাস্তি পেতে হবে। আর পিতা-মাত কখনও সন্তানের অমঙ্গল চায় না। সূত্র: মুসলিম জীবন সাফল্যে চল্লিশ(৪০)হাদিস-১০৭ পৃ.
লেখক :
মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব)
ধর্মীয় শিক্ষক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
|
জুমআর সানী আজান কোন জায়গায় দিতে হবে? |
জিজ্ঞাসা- ১৩৯: একটি জরুরী
প্রশ্ন, জুমআর সানী আজান
কোন জায়গায় দিতে হবে? ইমাম সাহেবের সামনে/নিকটে? না দরজার সামনে/নিকটে?
অনেক মসজিদে যে জুমআর সানী আজান দেখি যে তাহারা দরজার সামনে/নিকটে দেন।
(যারা দরজার নিকটে/সামনে আজান দেন তারা দলিল হিসেবে বলেন আবু দাউদ শরীফে নাকি হাদীস
আছে?) এখন জানার বিষয় হলো কোন পদ্ধতি সঠিক?? আর উক্ত হাদীসের সত্যতা কতটুকু?
ক্বোরআন ও হাদীস দ্বারা বিস্তারিত
জানালে অনেক উপকৃত হবো।
মাওলানা আখতার হোসেন যশোর থেকে-
উত্তর:
প্রথমে জেনে রাখতে হবে যে, জুমআর সানী আজান নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জমানা,
এবং আবূ বকর রা. এবং উমর রা. এর জমানায় ছিল না।
সেই সময় জুমআর আজান একটি ছিল। যা খুতবার আগে ইমামের সামনে দরজায় দাঁড়িয়ে দেয়া হতো।
যেমনটি আবূ দাউদের হাদীসে বর্ণিত হয়েছেঃ-
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ كَانَ يُؤَذَّنُ بَيْنَ يَدَىْ
رَسُولِ اللهِ صلي الله عليه وسلم إِذَا جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ
الْجُمُعَةِ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ
আস-সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমু‘আহর দিন যখন মিম্বারের উপর বসতেন তখন তাঁর সামনে
মাসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে আযান দেয়া হতো। আবূ বাকর ও ‘উমার (রা.)
এর সামনেও অনুরূপ করা হতো। [আবূ দাউদ, হাদীস নং-১০৮৮]
কিন্তু যখন হযরতে উসমান রা. এর আমল থেকে জুমআর সানী আজান চালু হয়, তখন থেকে জুমআর সানী আজান ইমামের সামনে মিম্বরের
নিকট দেয়া শুরু হয়।
সুতরাং সানী আজান মানলে তা মিম্বরের কাছে, ইমামের সামনে দেয়াই সুন্নাহ সম্মত।
তবে জেনে রাখতে হবে যে,জুমআর সানী আজান মিম্বরের সামনে, দরজার কাছে,
মসজিদের ভিতরে, বারান্দায়, মসজিদের যেকোন স্থানেই দেয়া জায়েজ আছে।
যেহেতু দরজার সামনে দেয়াও জায়েজ আছে। সুতরাং এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। তবে
সুন্নাহ সম্মত আমল মিম্বরের সামনেই দেয়া। অন্যত্র দিলেও সমস্যা নেই।
وإذا صعد الإمام المنبر جلس وأذن المؤذن بين يدى المنبر بذلك جرى
التوارث (هداية-1/151، مجمع الأنهر-1/171، ملتقى الأبحر-1/171)
ويؤذن ثانيا بين يديه أى الخطيب
فى رد المحتار، أى على سبيل السنية كما يظهر من كلامهم (رد المحتار-3/98)
إن التأذين عند الخطبة محله عند الإمام وبذلك جرى التوارث على ما قال
صاحب الهداية، قلت فبطل بذلك قول من زعم أن التأذين عند الخطبة فى المسجد بدعة (حاشية آثار السنن-2/95، العرف الشذى على هامش الترمذى-1/116)
وكذا فى الهندية-1/149، جديد-1/210، كبيرى، كتاب الصلاة، فصل فى
صلاة الجمعة-520، 561، البحر الرائق-2/274، مراقى الفلاح-515)
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
|
ক।
ইমামের পিছনে কে দাঁড়াবে/হকদার কে |
জিজ্ঞাসা-১৪০: ক। ইমামের পিছনে কে দাঁড়াবে/হকদার
কে?
মাওলানা আখতার হোসেন যশোর থেকে-
জবাব: আলহামদুলিল্লাহ এ বিষয়ে আমার শ্রদ্ধেয়
বড়ভাই শাহজাহান দা.বা. জবাব দিয়েছেন। সমমত
পোষণ করে, আমি তার সাথে একটু যুক্ত করতে চাই।
(১). ইমামের
পিছনে ঐ ব্যক্তিই দাঁড়ানো উচিত।
যিনি জ্ঞানী-বুদ্ধিমান। দলীল-
রাসূল (ﷺ) বলেন,
لِيَلِني مِنْكُمْ أُولُوا الأحْلاَمِ وَالنُّهَى، ثُمَّ الَّذِينَ
يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ». رواه مسلم
আর তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত ও বুদ্ধিমান, তারাই যেন আমার নিকটে (প্রথম কাতারে
আমার পেছনে) থাকে। অতঃপর যারা বয়স ও বুদ্ধিতে তাদের নিকটবর্তী তারা। অতঃপর তাদের যারা
নিকটবর্তী তারা। মুসলিম-৪৩২
সেই লোকদেরকে আমার নিকটবর্তী দাঁড়ানো উচিৎ, যারা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান লোক। অতঃপর তারা
যারা তাদের চেয়ে কম জ্ঞানের। অতঃপর তারা যারা তাদের থেকে কম জ্ঞানের। আর তোমরা
বাজারের ফালতু কথা (হৈচৈ) থেকে দূরে থাক। (মুসলিম,
আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ,
সুনান, তিরমিযী, সুনান,
মিশকাত-১০৮৯
(২) যিনি
ইমামকে ভুল সংশোধন করে দিতে পারেন। দলীল:
নবী (ﷺ) একদা নামায
পড়ান এবং সেই নামাযে কিরাআতের সময় তাঁর জটিলতা সৃষ্টি হয়, নামায শেষে তিনি উবাই বিন কাআব
(রাযিঃ) কে বললেনঃ তুমি আমাদের সাথে নামাযে ছিলে? সে বললঃ
হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাহলে
তোমাকে কি নিষেধ করলো? (অর্থাৎ স্মরণ করিয়ে দিতে কিসে বাধা দিল?) আবু দাঊদ,
নামায অধ্যায়, অনুচ্ছেদঃ ইমামকে লোকমা দেওয়া
(৩) ইমাম
নামায পড়াতে পড়াতে কোন কারণে নামায ছাড়তে বাধ্য হলে তাঁদের কেউ জামাআতের বাকী কাজ
সম্পন্ন করতে পারেন। দলীল:
২৩ হিজরিতে রোম নিবাসী অগ্নিপূজক বংশোদ্ভূত আবু
লুলু ফিরোজ নামক ঘাতক দুইদিকে ধারাল খঞ্জর দ্বারা ওমর (রা.)-কে ফজরের নামাজের ইমামতি চলাকালে আঘাত করে। দিনটি ছিল বুধবার। বছরের জিলহজ মাসের বাকি ছিল মাত্র
চারদিন। তাঁকে সে তিনটি/ছয়টি আঘাত করেছিল। তন্মধ্যে একটি ছিল নাভীর নিচে। তিনি দণ্ডয়মান অবস্থা থেকে ঢলে পড়েন। হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ইমামতির জন্যে তাঁর স্থলে দাঁড়ালেন। সূত্র: বুখারী-৩৭০০; আল-বিদায়া ওয়ান
নিহায়া-৭ম খণ্ড;২৫০পৃষ্ঠা, হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.), ই.ফা.
একদা নামায পড়তে পড়তে হযরত আলী (রা.)-এর নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে তিনি
একজনকে তার হাত ধরে আগে বাড়িয়ে দিয়ে নিজে বেরিয়ে এলেন। সুনান সাঈদ বিন মানসূর, ফিকহুস সুন্নাহ্ উর্দু ১৫৬পৃ:
উপরোক্ত কয়েকটি হাদিস দ্বারা ইশারাতুন নস প্রমাণিত হয় জ্ঞানী, আলেম, হাফেজ,
কারী সাহেবগণ ইমামের পিছনে দাড়ানা উচিত। বলা বাহুল্য, সাধারণ
মূর্খ মানুষদের ইমামের সরাসরি পশ্চাতে দাঁড়ানো উচিৎ নয়। জ্ঞানী (আলেম-হাফেয-কারী)
মানুষদের জন্য ইমামের পার্শ্ববর্তী জায়গা ছেড়ে রাখা উচিৎ।
প্রশ্ন: খ। মুয়াজ্জিন কি ইমামের পিছনে দাঁড়াবে?
উত্তর: খ। প্রিয় পাঠক! আমরা উপরে
প্রমাণ করেছি যে, ইমামের পিছনে দাঁড়ানো ঐ ব্যক্তিই অধিক
হকদার; যিনি ইমামের সমস্যার কারণে বাকি নামাজ সমাপ্ত করার
জ্ঞান রাখেন। সুতরাং মুয়াজ্জিনের উক্ত গুণাবলি বিদ্যমান থাকলে, তিনি ইমামের পিছনে (বরাবর) দাঁড়াবে। সাধারণত অনেক মসজিদে ইমামির যোগত্য দেখেই
মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেওয়া হয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
খেলা-খুলার জন্য দুআ করা জায়েজ ? |
জিজ্ঞাসা-১৪১: খেলা-খুলার জন্য দুআ করা
জায়েজ ?
জবাব: খেলাধুলায় জায়েজ না নাজাজের শর্ত:
ইসলাম নির্দিষ্ট কোনো খেলাধুলাকে জায়েজ বা নাজায়েজ বলে নাই; বরং তিনটি শর্তের সঙ্গে জায়েজ-নাজায়েজের
সম্পর্ক। তা হলো, (১) শারীরিক উপকার সাধন (২) ইসলামি শরিয়াতের
কোনো বিধান লঙ্ঘন না হওয়া (৩) আর্থিক ক্ষতিসাধন না হওয়া। এ তিনটি শর্ত যে খেলার মাঝে
পাওয়া যাবে তা জায়েজ, আর পাওয়া না গেলে জায়েজ নয়।
যেসব শর্তে খেলাধুলা জায়েজ:
এর ওপর ভিত্তি করে ইসলামি ফকিহরা আরো কিছু বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ফাতোয়া তুলে ধরেছেন।
যেকোনো ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হওয়ার জন্য তাতে নিম্নোক্ত শর্তগুলো উপস্থিত থাকতে
হবে-
(১) ধর্মীয় জরুরি কর্তব্য পালন থেকে উদাসীন না করা:
কোনো খেলা বৈধ হতে হলে তার মধ্যে এ বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে যে তার নেশার ঘোর যেন মহান
আল্লাহর কোনো ফরজ বিধান পালনের কথা দিব্যি ভুলিয়ে না দেয়। খেলার ছলে যেন ফরজ ছুটে না
যায়। যেমন কোনো ফরজ নামাজের সময় খে…
[6:49
AM, 5/16/2022] RT Shajahan: ক্রিকেট খেলার বিধান
যে কোনো ধরনের খেলা নিম্ন প্রদত্ত শর্তসাপেক্ষে জায়েজ আছে।১. খেলার একমাত্র শরীর
চর্চা ও মানসিক প্রফুল্লতার উদ্দেশ্যে হওয়া। ২. খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ না করা।
৩. খেলায় জুয়া না থাকা। জয়ী পক্ষকে পরাজিত পক্ষ হতে কোন ধরনের অর্থ প্রদানের শর্ত করা।
৪. শরয়ী সতরের সীমারেখা লংঘন না করা। ৫. শারীরিক ক্ষতি বা অঙ্গহানির আশঙ্কা না থাকা
উল্লিখিত শর্তাবলী পাওয়া না গেলে কোনো খেলাই জায়েজ নেই। আর বর্তমানে প্রচলিত ক্রিকেট
খেলায় উপরোক্ত শর্তসমূহ পাওয়া গেলে তা জায়েজ হবে। (আল-মাওসূয়াতল ফিক্বহিয়্যা-৩৫/২৬৮, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া- ২৯/২৬৯)
খেলায় জয়লাভের জন্য দুয়া করার বিধান
বর্তমান ক্রিকেট বা ফুটবল খেলায় একাধিক শরীয়ত বিরোধী কাজ থাকায় তা নাজায়েজ। আর
শরীয়তে নাজায়েজ কাজের প্রার্থনা করাও নাজায়েজ। তাই খেলায় কোনো এক পক্ষ জেতার দুয়া করাও
নাজায়েজ হবে।(ফাতাওয়া শামী-৯/৫৬৫, আল-মাওসূয়াতল ফিক্বহিয়্যা-২/২৬৫)
নেট থেকে সংগ্রহিত, মাওলানা শাহজাহান
|
নবীরা কি কবরে জীবিত |
|
জিজ্ঞাসা-১৪২: নবীরা কি কবরে জীবিত? এ বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের
বিশুদ্ধ আক্বীদা কি?
মাওলানা আব্দুর রহমান বগুড়া থেকে---
প্রশ্ন: ক। নবীরা কি
কবরে জীবিত?
জবাব: ক। হ্যাঁ, নবিরা কবরে জীবিত।
কুরআনুল কারিম থেকে দলীল:
(১) আল্লাহর পথে যারা নিহত (শহীদ) হয়, তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে
পারো না। সূরা বাকারা, আয়াত নং ১৫৪
(২) “যারা
আল্লাহর পথে নিহত (শহীদ) হয়েছে, তোমরা তাদেরকে মৃত জ্ঞান
করো না। বরং তারা জীবিত; তাদের রব-প্রতিপালকের নিকট থেকে
তারা রিযিকপ্রাপ্ত হয়। সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৬৯
উপরোক্ত দুটি আয়াত থেকে ইশারাতুন নস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নবিরা কবরে জীবিত কেননা, নবিরা শহীদদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
হাদিস থেকে দলিল:
(১) হযরত
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ)
ইরশাদ করেছেন-
3425
– حَدَّثَنَا
أَبُو الْجَهْمِ الْأَزْرَقُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي
بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا الْمُسْتَلِمُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ ثَابِتٍ
الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي
قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ
[حكم حسين سليم أسد] : إسناده صحيح
হযরত আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, নবীগণ তাদের কবরে জীবিত। তারা সেখানে নামায পড়েন। মুসনাদে আবী
ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫
মুহাদ্দিসীনদের ঐক্যমত্বে এ হাদীসটি সহীহ।
(২) হযরত
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত আরো একটি পরিস্কার হাদীসও এর প্রমাণবাহী।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:
” أَتَيْتُ – وَفِي رِوَايَةِ هَدَّابٍ: مَرَرْتُ – عَلَى مُوسَى لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ،
وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ “
হযরত আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, আমি মেরাজের রাতে কাসীবে আহমার স্থান অতিক্রমকালে দেখতে পাই
হযরত মুসা আঃ তার কবরে নামায পড়ছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং-২৩৭৫
(৩) ) হযরত
আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ইরশাদ করেন-
مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِي سَمِعْتُهُ، وَمَنْ صَلَّى
عَلَيّ َنَائِيًا مِنْهُ أُبْلِغْتُه.
যে আমার কবরের পাশে আমার উপর সালাত পেশ করে আমি তা শুনি। এবং যে দূরে থেকে
আমার উপর দরূদ পড়ে তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়।
কিতাবুস সওয়াব, আবু হাইয়ান ইবনু আবিশ শায়খ ইছফাহানী, ফাতহুল
বারী ৬/৬০৫, আল-কাওলুল বাদী পৃ. ১৬০
(৪) হযরত আউস
ইবনে আউস রা. বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ইরশাদ করেন-
إِنَّ مِن ْأَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ
آدَمُ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ، فَأَكْثِرُوا
عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ" قَالَ: قَالُوا:
يَارَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْف
َتُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ؟ يَقُولُونَ: بَلِيتَ، فَقَالَ: "إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ".
‘তোমাদের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি হল জুমার দিন। এ দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে
সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিনেই শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া
হবে, আর এ দিনেই সকল প্রাণী মৃত্যুবরণ করবে। সুতরাং এ
দিনে তোমরা আমার উপর বেশি করে ছালাত ও সালাম পাঠাও। তোমাদের ছালাত আমার কাছে পেশ
করা হবে। সাহাবাগণ বললেন, আমাদের ছালাত আপনার কাছে
কীভাবে পেশ করা হবে, তখন যে আপনি (মাটির সাথে মিশে)
ক্ষয়প্রাপ্ত (নিঃশেষিত) হয়ে যাবেন? নবী (ﷺ)বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মাটির জন্য নবীগণের দেহ খাওয়াকে হারাম করে দিয়েছেন। ড. মুছতাফা আজমী
(সহীহ ইবনে খুযাইমার টীকা হাদীস ১৭৩৩)
প্রশ্ন: খ। এ বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের
বিশুদ্ধ আক্বীদা কি?
উত্তর: খ। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সর্বসম্মত ঐক্যমত্বের
বিষয় হল নবীগণ কবরে জীবিত আছেন। মৃত্যুর পর সকল নবীদের কবরে পুনরায় বিশেষ জীবন দান করা হয়েছে। ইমাম
বাইহাকী রাহ. তাঁর ‘আল ই‘তিকাদ’ গ্রন্থে বলেন-
والأنبياء عليهم الصلاة والسلام بعدما قبضوا ردت إليهم أرواحهم، فهم
أحياء عند ربهم كالشهداء.
“সকল নবীর রূহ কবজ করার পর তা আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁরা
শহীদদের ন্যায় তাদের রবের কাছে জীবিত”। -আল ইতিকাদ পৃ.৪১৫ দারুল ফযীলাহ রিয়াদ; আত-তালখীছুল হাবীর ২/২৫৪; আল বাদরুল মুনীর
৫/২৯২
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন,
وقد تمسك به من أنكر الحياة في القبر، وأجيب عن أهل السنة المثبتين
لذلك بأن المراد نفي الموت اللازم من الذي أثبته عمر بقوله: "وليبعثه الله في الدنيا ليقطع أيدي القائلين بموته" وليس فيه تعرض لما يقع في البرزخ، وأحسن من هذا الجواب
أن يقال: إن حياته صلى الله عليه وسلم في
القبر لا يعقبها موت بل يستمر حيا، والأنبياء أحياء في قبورهم، ولعل هذا هو الحكمة
في تعريف الموتتين حيث قال :لا يذيقك الله الموتتين أي المعروفتين المشهورتين الواقعتين لكل أحد
غير الأنبياء. (فتح الباري، باب لو كنت متخذا
خليلا لتخذت أبا بكر خليلا)
“যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরে জীবিত থাকাকে অস্বীকার
করে তারা হযরত আবু বকর রা.-এর এ বক্তব্য দিয়ে দলিল পেশ করতে চায়-‘আল্লাহ আপনাকে দুইবার মৃত্যু দিবেন না’। আর আহলুস সুন্নাহ- যারা নবীর কবরে জীবিত থাকায় বিশ্বাস
রাখেন, এদের পক্ষ থেকে এর জবাব দেয়া হয়েছে যে, হযরত আবু বকর রা.-এর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল উমর রা.-এর ভুল ধারণার খণ্ডন
করা। উমর রা. বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা নবীজীকে আবার দুনিয়াতে
জীবিত করবেন ...। এ
কথার মধ্যে বারযাখে কী হবে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। অবশ্য হযরত আবু বকর রা.-এর এ
কথার সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হল, কবরে নবীজী (ﷺ)যে
জীবন পেয়েছেন তারপর আর কোনো মৃত্যু আসবে না। বরং তিনি বরাবরই কবরে জীবিত থাকবেন, আর নবীগণ কবরে জীবিত।
...।-ফাতহুল বারী, আবু বকরের
ফযীলত অধ্যায় ৭/৩৩
প্রশ্ন: গ। নবিরা কি দুনিয়ার জীবনের/মানুষের
মত জীবিত?
উত্তর: গ। কবরে নবীজীর জীবন কিছু কিছু বিষয়ে দুনিয়ার
জীবনের সাথে সাদৃশ্য রাখে। তবে সকল বিষয়ে তাঁদের কবরের জীবন দুনিয়ার জীবনের মত
নয়। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা
(১) নির্ধারিত মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার মাধ্যমে সকল
নবীগণের দুনিয়ার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
(২) মৃত্যুর পর তাঁরা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক
বিশেষ জীবন লাভ করেছেন। তাই তাঁরা কবরে জীবিত। তাঁদের কবরের জীবনের ধরণ বিষয়ে
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর বিশ্বাস হল:
(ক) আলমে বারযাখে সাধারণ মুমিনের জীবনের চেয়ে
শহীদদের জীবন পূর্ণাঙ্গ। আর শহীদের জীবন থেকে নবীদের জীবন আরো পূর্ণাঙ্গ ও
উন্নততর।
(খ) দুনিয়ার জীবনের সাথে তাঁদের কবরের জীবনের কিছু
কিছু বিষয়ে সাদৃশ্য রয়েছে।(১) যেমন কবরে তাঁদের দেহ মোবারক সুসংরক্ষিত রয়েছে।
তাঁরা কবরে নামায আদায় করেন। যারা কবরের নিকট গিয়ে ছালাত ও সালাম পেশ করে তাঁরা
তা সরাসরি শুনেন এবং যারা দূর থেকে সালাম পাঠান তা ফেরেশতা তাদের কাছে (কবরে)
পৌঁছে দেন এবং তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রিযিক প্রাপ্ত হন।
(গ) কবরের জীবনের ধরণ সম্পর্কে যে বিষয়গুলো কুরআন-সুন্নাহয়
পাওয়া যায় না সে বিষয়ে নিরবতা অবলম্বন করি।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
তাশাহুদে আঙুল নাড়ানো প্রসঙ্গ |
জিজ্ঞাসা-১৪৩: নামাজে
আত্তাহিয়াতু পড়ার সময় আংগুল একবার উঠানোর দলিল কি জানাবেন আর যারা সবসময় উঠায় তাদের
দলিল কতটা মজবুত তাও জানতে চাই।
মাওলানা আশরাফুল আলম সুদান থেকে----
প্রশ্ন: ক। নামাজে আত্তাহিয়াতু পড়ার সময় আংগুল একবার উঠানোর দলিল কি জানাবেন?
উত্তর: ক। আত্তাহিয়াতু পড়ার সময় আংগুল একবার
উঠানোর দলিল:
হাদিস নং-০১
عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ
عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ
-صلى الله عليه وسلم- إِذَا قَعَدَ يَدْعُو وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ
الْيُمْنَى وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ
السَّبَّابَةِ وَوَضَعَ إِبْهَامَهُ عَلَى إِصْبَعِهِ الْوُسْطَى وَيُلْقِمُ كَفَّهُ الْيُسْرَى
رُكْبَتَهُ
হযরত আমের আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূল (ﷺ) যখন তাশাহুদ
পড়ার জন্য বসতেন, তখন ডান হাতখানা ডান উরুর উপর এবং বাঁ হাতখানা বাঁ উরুর উপর রাখতেন। আর
শাহাদত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে
সংযুক্ত করতেন এবং বাঁ হাতের তালু [বাঁ] হাঁটুর রাখতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৩৩৬, সহীহ ইবনে হিব্বান-৫/২৭০
হাদিস নং-০২
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا جَلَسَ فِى الصَّلاَةِ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى
رُكْبَتَيْهِ وَرَفَعَ إِصْبَعَهُ الْيُمْنَى الَّتِى تَلِى الإِبْهَامَ فَدَعَا
بِهَا وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى بَاسِطُهَا عَلَيْهَا
হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ)
নামায পড়ার সময় যখন বসতেন বৈঠক করতেন] তখন হাত দুইখানা দ্ইু হাঁটুর উপর রাখতেন। আর
ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববতী [শাহাদাত] আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করতেন এবং বাঁ
হাত বাঁ হাঁটুর উপর ছড়িয়ে রাখতেন। {সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং-১৩৩৭}
হাদিস নং-০৩
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا قَعَدَ فِى التَّشَهُّدِ وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى
رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى
وَعَقَدَ ثَلاَثَةً وَخَمْسِينَ وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ
হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ)
যখন তাশাহুদের জন্য বসতেন, তখন বাম হাতকে রাখতেন বাম হাঁটুর উপর এবং ডান হাতখানা ডান হাঁটুর উপর
রাখতেন। আর [হাতের তালু ও আঙ্গুলসমূহ গুটিয়ে আরবী] তিপ্পান্ন সংখ্যার মত করে
শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। {সহীহ মুসলিম,হাদীস নং-১৩৩৮}
উল্লেখিত হাদীসমূহে শুধুমাত্র আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করার কথা এসেছে। আঙ্গুল
নাড়ানোর কথা আসেনি। কিন্তু আঙ্গুল নাড়বে কি না? এ ব্যাপারে কোন স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অন্য
হাদীসে তাও স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। যেমন-
হাদিস নং-০৪
عن عبد الله بن الزبير أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يشير بأصبعه إذا دعا ولا يحركها
হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) যখন তাশাহুদ পড়তেন, তখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন, কিন্তু আঙ্গুল নাড়াতেই থাকতেন না। {সুনানে নাসায়ী
কুবরা, হাদীস নং-১১৯৩, সুনানে আবু দাউদ,
হাদীস নং-৯৮৯, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-১৫৯৪}
ইবনে হাজার আসকালানী রহ. ;ইমাম নববী রহ. আল্লামা
ইবনুল মুলাক্কিন রহ. প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বলেন- হাদীসটির সনদ সহীহ। {আলখুলাসা-১/৪২৮, আলমাজমূ-৩/৪৫৪}
উক্ত সহীহ হাদীস দ্বারা একথা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে, রাসূল (ﷺ) তাশাহুদের সময় শুধুমাত্র আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন, আঙ্গুল নাড়াতেই থাকতেন না।
প্রশ্ন: খ। আর যারা সবসময় উঠায় তাদের দলিল কতটা
মজবুত তাও জানতে চাই।
উত্তর: খ। আর যারা সবসময় উঠায় তাদের দলীল:
তবে অপর একটি হাদীসের
বাহ্যিক শব্দ দ্বারা ধারণা হয় যে, রাসূল (ﷺ) আঙ্গুল নাড়াতে থাকতেন। হাদীসটি ওয়ায়েল বিন
হুজুর রা. থেকে বর্ণিত। হাদীসটির শব্দ হল-
ثم رفع أصبعه فرأيته يحركها
তারপর তিনি আঙ্গুল উঠালেন, তারপর আমি দেখলাম তিনি তা
নাড়াচ্ছেন। {সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস
নং-১১৯১, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৩৫৭}
হাদীসটি সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের মন্তব্য
আল্লামা ওয়াদেয়ী রহ. বলেন, বাহ্যিকভাবে বুঝা যায় হাদীসটি
হাসান। কিন্তু তাতে শাজ শব্দ আছে। সেটি হল আঙ্গুল নাড়ানোর বিষয়টি। {আহাদীসে মুআল্লাহ-৩৮৯}
উল্লেখ যে, আঙুল নাড়ানোর শুধু এই
একটি হাদিসও পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: গ। দুই হাদীসের মাঝে বৈপরীত্বের
সমাধান কি?
উত্তর: গ। আল্লামা ইমাম বায়হাকী রহ. উভয় হাদীসের বাহ্যিক এ বৈপরীত্ব নিরসন করে বলেন,
فيحتمل أن يكون المراد بالتحريك الإشارة بها لا تكرير تحريكها فيكون
موافقا لرواية بن الزبير والله تعالى أعلم
আঙ্গুল নাড়াতে থাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ইশারা করা। আঙ্গুল নাড়াতেই
থাকা উদ্দেশ্য নয়। এ অর্থ নিলে এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রা. এর বর্ণনার
সাথে মিলে যায়। {সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-২৬১৫}
ইমাম বায়হাকী রহ. যে সমাধান দিয়েছেন এটিই এ দুই হাদীসের
মাঝের বাহ্যিক বৈপরীত্ব নিরসনের প্রকৃত সমাধান। অর্থাৎ ওয়ায়েল বিন হুজুর রা. এর
হাদীস দ্বারা যে বুঝা যাচ্ছে যে, আঙ্গুল নাড়াতে ছিলেন। এর মানে হল, আঙ্গুল
দিয়ে ইশারা করতে ছিলেন। নাড়াতেই ছিলেন উদ্দেশ্য নয়। এ ব্যাখ্যা নিলে ওয়াইল বিন
হুজুর রা. এর হাদীস এবং আব্দুল্লা বিন জুবায়ের রা. থেকে বর্ণিত হাদীস একই অর্থবোধক
হয়ে যায়, কোন বৈপরীত্ব আর বাকি থাকে না।{বাজলুল মাযহুদ-২/১২৭}
স্বাভাবিক যুক্তিও একথা বলে যে, তাশাহুদের সময় বসে বসে আঙ্গুল
নাড়াতে থাকবে না। কারণ এটি নামাযের খুশু খুজুর খেলাফ। তাছাড়া এভাবে আঙ্গুল নাড়াতে
থাকলে পাশের জনের নামাযে মনযোগের মাঝে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তাই একটি সুষ্পষ্ট সহীহ
হাদীসের উপর আমল ছেড়ে দিয়ে একটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্য হাদীসের উপর আন্দাজের উপর আমল
করে আঙ্গুল নাড়াতেই থাকা কোন বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
প্রশ্ন: ঘ। এ বিষয়ে আলেমদের মতামত কি?
উত্তর: ঘ। আঙুল না নাড়ানোর পক্ষে-
Ø শাফিঈদের
মতে, ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙ্গুল দিয়ে একবার ইশারা করতে হবে।
Ø আর
হাম্বালীদের মতেঃ যখন আল্লাহর নাম উচ্চারণ হবে তখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করবে, কিন্তু তা নাড়াবে না। দেখুন,
ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৭০, আইনী তুহফা
Ø ইমাম
নাববী বলেন, তাশাহহুদের ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় ইশারা করতে হবে।
Ø সুবুলুস
সালাম প্রণেতা বলেন, বায়হাক্বীর বর্ণনানুসারে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় এরূপ করতে হবে।
Ø আল্লামা ত্বীবী ইবনু ‘উমার বর্ণিত একটি হাদীসের বরাত দিয়ে বলেন, ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় ইশারা করতে হবে, যাতে কথায় ও কাজে তাওহীদের সামঞ্জস্য হয়ে যায়।
Ø মোল্লা
‘আলী ক্বারী হানফী বলেন, হানাফী মতে ‘লা ইলাহা’ বলার সময় তর্জনী আঙ্গুল তুলতে হবে এবং ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় তা রেখে দিতে হবে। দেখুন, তুহফাতুল আহওয়াযী ১/২৪২
Ø শায়খ
সালিহ আল-উসাইমিন (রহ) বলেছেন, তর্জনী আঙ্গুল নাড়ানো শুধুমাত্র দু‘আর সময় হবে। পুরো তাশাহহুদে নয়। যেমনটি হাদীসে
এসেছে, তিনি তা
নাড়াতেন ও দু‘আ করতেন।- (ফাতহুর রব্বানী-৩/১৪৭,
সানাদ হাসান)
আঙুল নাড়ানোর পক্ষে-
Ø মালিকীদের
মতেঃ আত্তাহিয়্যাতুর শুরু থেকে সালাম পর্যন্ত আঙ্গুলটিকে ডানে ও বামে নাড়াতে হবে।
(দেখুন, ফিক্বহুস
সুন্নাহ ১/১৭০, আইনী তুহফা)
Ø শায়খ আবদুল আযীয বিন বায (রহ.) বলেন,
মুসল্লীর জন্য সুন্নাত হচ্ছে তাশাহহুদের সময় ডান হাতের অঙ্গুলিগুলো মুষ্ঠিবদ্ধ
করবে এবং দুআকালে তাওহীদের ইশারা স্বরূপ তর্জনী অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে ও
হালকাভাবে নাড়াবে। (দেখুন, ফাতাওয়াহ শায়খ বিন বায, ১১/১৮৫)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
৪৯
ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
|
আসহাবে উখদুদ দ্বারা কারা উদ্দেশ্য |
|
আসহাবে
উখদুদ দ্বারা কারা উদ্দেশ্য |
জিজ্ঞাসা-১৪৪: اصحاب الاخدود দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? (সম্মানিত ভাই হাফেজ মাও.
মাসুমবিল্লাহ সাহেবের প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: আসহাবুল উখদুদ বা গর্তওয়ালাদের
কাহিনী সম্পর্কে অনেক বর্ণনা বিদ্যমান। এর মধ্যে আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে
বর্ণিত ঘটনাটি এখানে তুলে ধরা হল-রসূল (ﷺ)এর আগমনের সত্তর বছর পূর্বে ইয়েমেনের নাজরানে ‘ইউসুফ যুনওয়াস’ নামক এক জালিম বাদশাহ ছিল। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে তামের’ নামক বালক ও তার সঙ্গে ঈমানদাদেরকে আগুনে
নিক্ষেপ কালে যে সমস্ত লোক উল্লাস করেছিল তারা এবং উক্ত বাদশাহকে আসহাবে উখদুদ
বুঝানো হয়েছে। বিস্তারিত দেখুন- তাফসিরে কাবির; রূহুল মাআনি; তাফসিরে জালালাইন-৭ম খণ্ড;৪১৫
পৃ.ইসলামিয়া
কুতুবখানা তাফসিরে মাজহারি; তাফসিরে আআরেফুল কুরআন-১৪৪৬ পৃ.সংক্ষিপ্ত-মাওলানা মুহিউদ্দীন
খান (রহ.); আল-বিদায়া
ওয়ান নিহায়া, ২য় খণ্ড;২৫১পৃষ্ঠা,ই.ফা.
সূত্র: মহান আল্লাহর নিকট একজন মুমিন-মুসলমানের
মর্যাদা-মূল্য
লেখক
মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর
রাজ্জাক
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব)
ধর্ম শিক্ষক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
|
ভাত খাবার সময় বাম হাতে পানি পান করা যাবে
কিনা? |
জিজ্ঞাসা-১৪৫: খাবার গ্রহণের সময় বাম হাত দ্বারা গ্লাস ধরে ডান
হাতের সাপোর্ট দিয়ে পানি পান করা যাবে কি?
মাওলানা সাইফুল
ইসলাম ও মাওলানা আব্দুর রহমান সিলেট
উত্তর: জাযাকাল্লাহু খয়র
মুহতারাম আব্দুর রহমান সাহেবকে যিনি অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি মাসয়ালা জিজ্ঞেস করার
জন্য। যা আমাদের (প্রায়) সবারই জানা
দরকার ছিল। আল্লাহ তাআলা উনাকে এলেমে-আমলে বরকত দান
করুন।
প্রথম কথা হলো- ডানহাতে পানাহার করা সুন্নাহ; এতে কোনো সন্দেহ নেই। দলিল:
عَنْ عَبْدِ
اللَّهِ بْنِ عُمَرَ،
أَنَّ النَّبِيَّ صلى
الله عليه وسلمقَالَ
لاَ يَأْكُلْ أَحَدُكُمْ
بِشِمَالِهِ وَلاَ يَشْرَبْ
بِشِمَالِهِ فَإِنَّالشَّيْطَانَ يَأْكُلُ
بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ
অর্থ: হজরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন বাম হাতে আহার
না করে এবং বাম হাতে পান না করে; কেননা শয়তান বাম হাতে আহার করে
ও পান করে। জামে তিরমিজি-১৯১২. পানাহার
অধ্যায়
উপরোক্ত হাদিসে বাম
হাতে খেতে নিষেধ করা হয়েছে। এমন প্রশ্ন হলো ডান হাতে যদি সমস্যা হয় অর্থাৎ ডান হাত
ভেঙ্গে যায়, কারও যদি ডান না থাকে, তাহলে সে কি করবে? এর জবাব হলো (তাকে পানাহার করানোর মত কোন লোক
না থাকে) সে তখন বাম হাতে পানাহার করবে।
কুরআন থেকে দলীল:
আয়াত নং-০১
لَا یُکَلِّفُ اللّٰهُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا ؕ لَهَا
অর্থ: আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে তার
সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সূরা বাকারা-২৮৬
আয়াত নং-০২
وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ
فَإِنَّهُ مِنِّي إِلاَّ مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ
আর যে, লোক তার স্বাদ গ্রহণ করলো না, নিশ্চয়ই
সে আমার লোক। কিন্তু যে লোক হাতের আঁজলা ভরে সামান্য খেয়ে নেবে তার দোষ অবশ্য
তেমন গুরুতর হবে না। সূরা বাকারা-২৪৯
ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘গারফাতুন’ অর্থ এক হাত দ্বারা পান করা। আর ‘গুরফাতুন’ অর্থ দুই হাত দ্বারা পান করা। আয়াতে যেহেতু গুরফাতুন রয়েছে তাই আমরা বলতে
পারি যে, বাদশাহ তালুতের অনুসারীগণ যার মধ্যে দাউদ আলাইহিস
সালামও ছিলেন- দুই হাতে পানি পান করে ছিলেন। এসব দলিল থেকে প্রমাণ হয় যে, প্রয়োজন হলে দুই হাতে পান করা
বৈধ। যেমন বড় পাত্র, অথবা কলসি, অথবা
বালতী থেকে সরাসরি দুই হাতে পান করা। অথবা ডান হাতে সমস্যা হলে বাম হাতের সাহায্য
নিয়ে দুই হাতে পান করা বৈধ। কারণ শয়তান দুহাতে পান করে না। সূত্র: তাফসিরে কুরতুবি-১ম খণ্ড
হাদিস দ্বারা দলিল:
পানি পান করার সময় ডান হাতে গ্লাস ধরে বাম হাতে নিচে সাপর্ট
দিলে তো তাকে বাম হাতে পান করা বলা চলে না, অর্থাৎ সে দুহাত ব্যবহার করলো, আর যা নবী (ﷺ) দ্বারা দুহাতে পানাহারের বিষয় প্রমাণিত। দলিল:
হাদিস নং-০১
ইব্ন আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (ﷺ) অবস্থায়
যমযমে রাখা বালতি দ্বারা (দু হাত দ্বারা ধরে) যমযমের পানি পান করেছেন। মুসলিম-৩৭৮৪
হাদিস নং-০২
আব্দুর রহমান ইব্ন আবু ওমর নিজ দাদীর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার
কাছে আগমন করেন, তখন বাড়িতে ঝুলন্ত [চামড়ার তৈরি] পানির মশক ছিল, তিনি
দণ্ডায়মান অবস্থায় পান করেন (মশকটি দুহাত দ্বারা ধরেছেন),
অতঃপর আমি তার মুখ দেয়ার জায়গা কেটে সংরক্ষণ করি। তিরমিজি-১৮৯২; ইবনে মাজাহ-৩৪২৩
হাদিস নং-০৩
জাবের রাদিয়াল্লাহু
আনহু থেকে বর্ণিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাত্র
তলব করলেন, তিনি তা উভয় হাতের ওপরে রাখলেন ও পান করলেন, যেন
মানুষেরা দেখে তিনি সিয়াম অবস্থায় নেই। মুসনাদে আহমদ-১৪২৩৪
তাছাড়া ডান হাতে গ্লাস ধরলে, গ্লাস ময়লাযুক্ত হয়ে যাবে,
পরে ভেঙ্গে যেতে পারে। অন্য লোকের
সামনে গ্লাস ময়লা করা অরুচি কর।
আলেমদের মত: প্রয়োজন
হলে বাম হাতের সাহায্য নেওয়া যাবে অথবা ডান হাত ব্যবহারে অক্ষম হলে বাম হাতেও
পানাহার করা যাবে। শরহে মুসলিম, ইমাম নববী ২ খণ্ড; ১৭২পৃ.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
০১৭৩৫-৭৯১৩৮২, ০১৮৮৭৭০১৬৫৬
|
জীবিত-মৃত্য ব্যক্তির জন্য ঈসালে
সওয়াব প্রসঙ্গ |
জিজ্ঞাসা-১৪৬: 1- ইছালে সাওয়াব কি শুধু মৃত
ব্যক্তিদের জন্য না জীবিত ব্যক্তিদের জন্য করা যায় ?
2- "আমরা যা কিছু আমল করলাম এর সাওয়াব রাসূল সা এর রওজা মোবারক
এ পৌঁছে দিন। সকল মুমিন মুমিনাতের রূহে এর সাওয়াব পৌঁছে দিন ", এভাবে বলার বিধান কী ? ভিত্তি কী?
হাফেজ মাও. সাজ্জাদ হোসেন ৫০৭ ডিওসি বগুড়া থেকে---
প্রশ্ন: ক। ইছালে সাওয়াব কি শুধু মৃত ব্যক্তিদের
জন্য না জীবিত ব্যক্তিদের জন্য করা যায় ?
উত্তর: ক। প্রথমে আমরা ঈসালে সওয়াব অর্থ
জেনে নিই।
‘ঈসালে
সওয়াব ফারসী শব্দ। আরবীতে হবে ঈসালুস সাওয়াব (তবে এ ক্ষেত্রে
আরবীতে অন্য শব্দ বেশি ব্যবহৃত হয় যেমন ইহদাউস সাওয়াব)। এর আভিধানিক অর্থ হল সওয়াব পৌঁছানো। পরিভাষায়
ঈসালে সওয়াব হল কোনো নেক আমল করে এর সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে দান করা।
হ্যাঁ, ঈসালে সাওয়াব জীবিত ও
মৃত উভয়ের জন্যই করা যায়।
কুরআন থেকে দলীল:
আয়াত নং-০১
وَ الَّذِیْنَ جَآءُوْ مِنْۢ بَعْدِهِمْ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا
اغْفِرْ لَنَا وَ لِاِخْوَانِنَا الَّذِیْنَ سَبَقُوْنَا بِالْاِیْمَانِ وَ لَا
تَجْعَلْ فِیْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا رَبَّنَاۤ اِنَّكَ
رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ۠ .
এবং (ফাই-এর সম্পদ তাদেরও প্রাপ্য আছে ) যারা তাদের (অর্থাৎ
মুহাজির ও আনসারদের) পরে এসেছে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা করুন
আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে
ঈমানদারদের প্রতি কোনো হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। হে
আমাদের প্রতিপালক! আপনি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু। সূরা হাশর-১০
এখানে পূববর্তী মুমিনদের জন্য (যাতে জীবিত ও মৃত সকলই আছেন)
দুআ করার প্রশংসা করা হয়েছে। দুআ যদি তাদের জন্য উপকারী না হয়, তবে এ প্রশংসার কী অর্থ
থাকে?
হাফেয সাখাবী রহ. (৯০২হি.) বলেন, এখানে পূর্ববর্তীদের জন্য
দুআ করায় তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। বোঝা গেল যে, দুআ
উপকারে আসে। কুররাতুল আইন পৃ. ১২৩
আয়াত নং-০২
رَبَّنَا اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ یَوْمَ
یَقُوْمُ الْحِسَابُ.
হে আমার প্রতিপালক! যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল ঈমানদারকে ক্ষমা করুন। সূরা
ইবরাহীম-৪১
আয়াত নং-০৩
رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِمَنْ دَخَلَ بَیْتِیَ
مُؤْمِنًا وَّ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ وَ لَا تَزِدِ الظّٰلِمِیْنَ اِلَّا تَبَارًا۠.
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার
পিতা-মাতাকেও এবং যে ঈমান অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করেছে আর সমস্ত মুমিন পুরুষ ও
মুমিন নারীকেও। সূরা নূহ-২৮
আয়াত নং-০৪
فَاعْلَمْ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَ اسْتَغْفِرْ
لِذَنْۢبِكَ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ وَ اللهُ یَعْلَمُ
مُتَقَلَّبَكُمْ وَ مَثْوٰىكُمْ.
জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং ক্ষমাপ্রার্থনা কর নিজ
ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য এবং মুসলিম নর-নারীদের জন্যও। সূরা
মুহাম্মদ-১৯
এ দুআগুলোতে জীবিত-মৃতের পার্থক্য ছাড়া সাধারণ মুমিনদের জন্য
দুআ করা হয়েছে।
খ।
একটি প্রশ্ন:
কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে
وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ
إِلَّا مَا سَعَىٰ٩]
এবং মানুষ তাই পায়,যা সে করে। সূরা নজম-৩৯
এ আয়াত দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, ব্যক্তি যা করে
কেবল এর সওয়াবই সে পাবে। একজনের সওয়াবের কাজ অন্যের জন্য কোন কাজে আসবে না।
খ। উত্তর/জবাব:
আয়াত বুঝতে হবে সালফে সালেহীনের বুঝ অনুপাতে। নতুবা তা মনগড়া,
আমরা বিভ্রান্ত হবো। উক্ত আয়াতের দ্বারা উদ্দেশ্য কারা?
আল্লামা কুরতুবী রহ. তাফসীরে কুরতুবীতে লিখেনঃ
وَقَالَ الرَّبِيعُ بْنُ أَنَسٍ: (وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسانِ إِلَّا مَا سَعى) يَعْنِي الْكَافِرَ وَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَلَهُ مَا
سَعَى وَمَا سَعَى لَهُ غَيْرُهُ. قُلْتُ:
وَكَثِيرٌ مِنَ الْأَحَادِيثِ
يَدُلُّ عَلَى هَذَا الْقَوْلِ، وَأَنَّ المؤمن يصل إليه ثَوَابِ الْعَمَلِ
الصَّالِحِ مِنْ غَيْرِهِ،
রবী বিন আনাস বলেন, “এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে কথার দ্বারা উদ্দেশ্য
হল কাফের।
অর্থাৎ কাফেররা যা করে শুধু এতটুকুই সে পাবে। কিন্তু মুমিনরা সে যা
করে তার সওয়াবও পায়, আবার অন্যের কৃত সওয়াব ও পায়।
আমি [ইমাম কুরতুবী] বলি, অনেক হাদীস এ বিষয়টির
প্রমাণ বহন করে। নিশ্চয় মুমিনের জন্য অন্যের কৃত নেক আমলের সওয়াবও পৌঁছে। তাফসীরে
কুরতুবী-১৭/১১৪।
হাদিস থেকে দলীল:
হাদিস নং-০১
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ
اللَّهِ، قَالَ:
شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَضْحَى بِالْمُصَلَّى، فَلَمَّا قَضَى
خُطْبَتَهُ نَزَلَ مِنْ مِنْبَرِهِ وأُتِيَ بِكَبْشٍ فَذَبَحَهُ رَسُولُ اللَّهِ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ، وَقَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، هَذَا عَنِّي،
وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি প্রিয় নাবী রাসূলুন কারিম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর সাথে ঈদুল আযহায় নামাযে শরীক
ছিলাম। যখন খুতবা শেষ হল। তখন তিনি মিম্বর থেকে নামলেন। তারপর তার কাছে একটি ভেড়া
আনা হল। তারপর তিনি তা জবাই করলে নিজ হাতে। জবাইকালে বললেন, বিসমিল্লাহি
আল্লাহু আকবার, এটি আমার এবং আমার ঐ উম্মতীর পক্ষ থেকে যারা
কুরবানী করতে পারেনি।
আবু দাউদ, হাদীস নং-২৮১০
এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো জীবিত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াব
করা যায়, অর্থাৎ সওয়াব গিফট করা যায়।
হাদিস নং-০২
জানাযা নামাজের মধ্যেই জীবিত-মৃত সবার জন্য দয়া করা হয়েছে।
اللهم اغفر لحينا وميتنا، وشاهدنا وغائبنا، وصغيرنا وكبيرنا، وذكرنا
وأنثانا، اللهم من أحييته منا فأحيه على الإسلام، ومن توفيته منا فتوفه على
الإيمان.
ইয়া আল্লাহ, আপনি আমাদের জীবিত-মৃতদের মাফ করুন।
আমাদের উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড়, পুরুষ ও নারী সকলকে মাফ করুন। ইয়া আল্লাহ, আপনি
আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখুন আর যাকে মৃত্যু দেন
তাকে ঈমানের উপর মৃত্যু দিন। মুসনাদে আহমদ-৮৮০৯
হাদিস নং-০৩
কবর জিয়ারতকালে দুআ
السلام على أهل الديار من
المؤمنين والمسلمين، ويرحم الله المستقدمين منا والمستأخرين، وإنا إن شاء الله بكم
للاحقون.
এই কবরস্থানের বাসিন্দা মুসলিম-মুমিনদের প্রতি শান্তি
বর্ষিত হোক। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। ইনশাআল্লাহ
আমরাও আপনাদের সাথে মিলিত হব। সহীহ মুসলিম-৯৭৪
উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, দুআ জীবিত ও মৃত সকলের
জন্য কল্যাণকর।
গ। একটি
সংশয়/প্রশ্ন/ডাউট:
উপরোক্ত আয়াত ও
হাদিসগুলোতে দুআর কথা বলা হয়েছে। আমলের কথা বলা হয়নি?
গ। সমাধান/ জবাব:
ঈসালে সওয়াবের
কয়েকটি পদ্ধতি মধ্যে একটি হচ্ছে দুআ।
এক হাদীসে প্রিয় নাবী রাসূলুন কারিম (صلى الله عليه و آله وسلم) ব্যাখ্যা করেনঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ
النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ
إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ:
إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ،
أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। প্রিয় নাবী রাসূলুন কারিম (صلى الله عليه و آله وسلم) ইরশাদ করেন, ব্যক্তি যখন মারা যায়, তখন তার নেক আমল করার পথ
রুদ্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি পথ ছাড়া। একটি হল, সদকায়ে জারিয়া,
দ্বিতীয় হল ইলম, যদ্বারা মানুষ উপকার পায়,
এবং তৃতীয় হল, নেক সন্তানের দুআ।
মুসনাদে আহমাদ-নং-৮৮৪৪,; সুনানে আবু দাউদ-২৮৮০;
মুসলিম-১৬৩১
এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো দুআ মৃত্য ব্যক্তির কাছে পৌছে।
দ্বিতীয়ত জবাব হলো, দু্আ নিজেই একটি স্বতন্ত্র
ইবাদত ও আমল। দলীল:
হাদীস শরীফে এসেছে,
إِنَّ الدُّعَاءَ هُوَ الْعِبَادَةُ. وفي الباب عن أنس عند الترمذي الدُّعَاءُ مُخُّ العِبَادَةِ وهو حسن
في الشواهد.
দুআই ইবাদত। অন্য বর্ণনায় এসেছে, দুআ হলো
ইবাদতের মগজ। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১৮৩৫২
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
৪৯
ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
প্রশ্ন: ঘ। কোন আমল করার পর তা বখশে/ঈসালে
সওয়াব/সওয়া রেসানি
না করলে ঐ আমল কাংখিত ব্যক্তি পাবে
কিনা?
উত্তর: ঘ। জবাব হলো যার জন্য কোন আমল করা
হয় তার তা পৌঁছে যায়, এর জন্য আলাদা কোন দুআর প্রয়োজন হয় না।
দলীল:
হাদিস নং-০১
আবু হুরাইরা (রা)
বলেছেন, রাসূলুল্লাহ
ﷺ বলেছেন :
مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِيْ سَمِعْتُهُ، وَمَنْ صَلَّى
عَلَيَّ مِنْ بَعِيْدٍ أُعْلِمْتُهُ
কেউ আমার কবরের কাছে থেকে আমার উপর দরুদ পাঠ করলে আমি শুনতে
পাই। আর যদি কেউ দূর থেকে আমার উপর দরুদ পাঠ করে তাহলে আমাকে জানান হয়। বাইহাকী, হায়াতুল আম্বিয়া ১০৩-১০৫ পৃ.
সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী ১৫৪ পৃ.
হাদিস নং-০২
আম্মার বিন ইয়াসির
(রা)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ
থেকে বর্ণিত:
إِنَّ اللهَ وَكَّلَ بِقَبْرِيْ مَلَكاً أَعْطَاهُ أَسْمَاعَ
الْخَلاَئِقِ، فَلاَ يُصَلِّي عَلَيَّ أَحَدٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلاَّ
أَبْلَغَنِيْ بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيْهِ: هَذاَ فُلاَنُ بْنُ فُلاَنٍ قَدْ صَلَّى عَلَيْكَ
আল্লাহ আমার কবরে একজন ফিরিশতা নিয়োগ করছেন, যাকে তিনি সকল সৃষ্টির
শ্রবণশক্তি প্রদান করেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত যখনই কোনো ব্যক্তি
আমার উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করবে তখনই ঐ ফিরিশতা সালাত পাঠকারীর নাম ও তাঁর পিতার
নাম উল্লেখ করে আমাকে তাঁর সালাত পৌঁছে দিয়ে বলবে : অমুকের ছেলে অমুক আপনার উপর
সালাত প্রেরণ করেছে। মুনযিরী, আত-তারগীব ২/৩৮৮; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ১০/১৬২; সাখাবী, আল-কাওলুল বাদী, পৃ.
উপরোক্ত দুটি হাদিস দ্বারা জানা গেল ফিরিশতাগণ সে সালাত ও
সালাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর
কবর মুবারাকে পৌঁছিয়ে দেবেন, সওয়াব রেসানি কথা বলা হয়নি।
হাদিস নং-০৩
عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ مَالِكِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلَمَةَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَبَقِيَ مِنْ بِرِّ أَبَوَيَّ
شَيْءٌ أَبَرُّهُمَا بِهِ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِمَا؟ قَالَ: «نَعَمْ، الصَّلَاةُ عَلَيْهِمَا،
وَالِاسْتِغْفَارُ لَهُمَا، وَإِيفَاءٌ بِعُهُودِهِمَا مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِمَا،
وَإِكْرَامُ صَدِيقِهِمَا، وَصِلَةُ الرَّحِمِ الَّتِي لَا تُوصَلُ إِلَّا بِهِمَا»
হযরত আবূ সাঈদ আসসায়েদী রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদা রাসূল (ﷺ) এর কাছে ছিলাম। এমতাবস্থায় বনী সালামা
গোত্রের একজন ব্যক্তি আসল। লোকটি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা মাতার
ইন্তেকালের পর তাদের জন্য কোন নেক কাজ করার কি সুযোগ আছে? নবীজী
(ﷺ) ইরশাদ করলেন, তাদের জন্য নামায পড়ে [ঈসালে
সওয়াব কর] তাদের জন্য ইস্তিগফার কর। তাদের অঙ্গিকার ওয়াদাগুলো পূর্ণ কর। তাদের
সম্পর্কিত আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখ। তাদের বন্ধুদের সাথে ভাল ব্যবহার
কর। সনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৬৬৪, সুনানে
আবু দাউদ, হাদীস নং-৫১৪২
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হলো মৃত্য ব্যক্তির পক্ষে কোনো আমল তার
কাছে পৌঁছে এবং এত তার ফায়দা হয় সওয়াব রেসানি ছাড়াই।
প্রশ্ন। ঙ। আমরা যা কিছু আমল করলাম এর সাওয়াব
রাসূল সা এর রওজা মোবারক এ পৌঁছে দিন। সকল মুমিন মুমিনাতের রূহে এর সাওয়াব পৌঁছে দিন
", এভাবে বলার বিধান কী ? ভিত্তি কী?
উত্তর: ঙ। হ্যাঁ, এভাবে বলা জায়েয
আছে। ফুকাহায়ে কেরাম এটা জায়েয বলেছেন। যেমন,
(১) ইমাম ইবনে কুদামা রাহ. তিলাওয়াতের সওয়াব রেসানির বৈধতার দলীল আলোচনা করতে
গিয়ে বলেন,
وأنه إجماع المسلمين، فإنهم في كل عصر ومصر يجتمعون ويقرؤون القرآن،
ويهدون ثوابه إلى موتاهم، من غير نكير.
এতে মুসলমানদের ইজমা আছে। প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক শহরে তারা
সমবেত হয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে সওয়াব রেসানি করেছে। এতে কেউ কোনো আপত্তি করেনি।
-আলমুগনী ৩/৫২২
(২) শাফেয়ী ফকীহদের মধ্যেও ফকীহের মত এটাই যে, কুরআন
তিলাওয়াতের ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। বিশেষত যদি আল্লাহর কাছে এই দুআ করা হয় যে,
তিনি যেন এই সওয়াব মাইয়িতের কাছে পৌঁছে দেন। যাদের মধ্যে ইবনে আবী
আসরূন রাহ. (৫৮৫হি.), ইবনে আবিদ দাম রাহ. (৬৪২হি.), ইবনুস সালাহ রাহ. (৬৪৩হি.), তাকীউদ্দীন সুবকী রাহ.
(৭৫৬হি.), ইবনুল মুলাক্কীন রাহ. (৮০৪হি.), যাকারিয়া আনসারী রাহ. (৯২৬হি.) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
(৩) ইমাম ইবনুস সালাহ রাহ.-এর কাছে জানতে
চাওয়া হয়েছিল, কুরআন পড়ে পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজন কিংবা
সাধারণ মুসলমানকে সওয়াব পৌঁছানো যাবে কি না? উত্তরে তিনি
বলেছেন, এতে ফকীহদের মতভেদ আছে। তবে অধিকাংশ মানুষ তা জায়েয
মনে করে। এক্ষেত্রে এই দুআ করা উচিত যে, হে আল্লাহ, আপনি এর সওয়াব অমুককে পৌঁছে দিন।
-ফাতাওয়া ইবনুস সালাহ ১/১৯৩
বোঝা গেল যে, সকল ইবাদতের হুকুম একই এবং এখানে প্রশস্ততা
আছে। -মাজমূউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েলে ইবনে উসায়মীন ১৭/২৬২
(৪) আল্লামা মনজুর নুমানি (রহ.) –এর সংকলিত ‘আলফিয়াতু হাদিস’ গ্রন্থে শেষের দিকে তিনি একটি হাদিস উদ্ধৃতি দিয়েছেন যার
সারমর্ম হলো এই, দুআয় যত মুসলমানের জন্য দুআ করা যাবে (সওয়াব রেসানি)
তত পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে।
নোট: কিতাবটি বাসায় থাকায় আরবি ইবারত ও হুবুহু অর্থ দিতে পারলাম না।
সুতরাং উপরোক্ত সব আলোচনার দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, আমরা বলি হে আল্লাহ! এর সাওয়াব রাসূল সা এর রওজা মোবারক এ পৌঁছে দিন। সকল মুমিন মুমিনাতের রূহে
এর সাওয়াব পৌঁছে দিন। এভাবে বলা জায়েজ। মুমিনদের জন্য দুআর ব্যাপারে উৎসাহিত করতে
মহান আল্লাহ নবিদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, ( নবী কারীম ﷺ- কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে)
فَاعْلَمْ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَ اسْتَغْفِرْ
لِذَنْۢبِكَ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ وَ اللهُ یَعْلَمُ
مُتَقَلَّبَكُمْ وَ مَثْوٰىكُمْ.
জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং ক্ষমা প্রার্থনা কর
নিজ ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য এবং মুসলিম নর-নারীদের জন্যও। সূরা মুহাম্মদ-১৯
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
০১৭৩৫-৭৯১৩৮২, ০১৮৮৭৭০১৬৫৬
|
মসজিদের জিনিস অন্যাত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৪৭: ক। মসজিদের জিনিষ মসজিদের বাহিরে অন্য কাজে ব্যাবহার করা যাবে
কি?
(সম্মানিত আখতার ভাইয়ের প্রশ্নের আলোকে, ২৭ ফিল্ড আর্টিলারি যশোর
সেনানিবাস)
জবাব: ক।
মসজিদে দানকৃত মালামাল, জায়গা-জমি, আসবাবপত্র
ইত্যাদি পুরাতন কিংবা নতুন, ব্যবহৃত কিংবা অব্যবহৃত কোন কিছু
সাধারণের জন্য ব্যবহার করা কোন অবস্থাতেই জায়েয নেই। এমনকি এক মসজিদের যাবতীয়
আসবাবপত্র অন্য মসজিদে ব্যবহার করা জায়েয নেই। একটি মসজিদে বদনা প্রয়োজনের তুলনায়
বেশি আছে, অন্য মসজিদে একটিও নেই, তবুও
এক মসজিদের বদনা অন্য মসজিদে দেয়ার বা ব্যবহারের অনুমতি নেই। মসজিদের আমদানী বা
দান অন্য কোন ওয়াক্ফে/খাতে খরচ করা হারাম, যদিও উক্ত মসজিদের
প্রয়োজন না হয়। তবে মসজিদে ব্যবহৃত বা মসজিদের জন্য দানকৃত যে কোন মালামাল ও আসবাব
অব্যবহৃত থাকার দারুন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা হলে বিশেষ প্রয়োজনে বিক্রয় করতে
পারবে। আর উক্ত অর্থ মসজিদ ফান্ডে জমা হবে। এক্ষেত্রে মসজিদে ব্যবহৃত উক্ত
জিনিসপত্র/মালামাল সমূহের যথাযথ ও পবিত্র স্থানে ব্যবহার করবে। এমন কোন স্থানে
ব্যবহার করবে না যার দরুন মসজিদের মালামাল/জিনিসপত্রের বেহুরমতি বা অসম্মান হয়। দুররে
মুখতার, রাদ্দুল মোহতার, ফাতওয়া-এ
আফ্রিকা এবং ফাতওয়া-এ রযভীয়্যাহ্, খন্ড-৬, পৃষ্ঠা ৩৮৪
প্রশ্ন। খ।
মসজিদের জন্য বা অন্য কোন স্থানের জন্য যে কোন ওয়াক্ফ বা
দান ওয়াক্ফকারীর বা দানকারীর শর্ত মোতাবেক ব্যবহার করা হবে।
ওয়াকফ করার পর সেই ওয়াকফকৃত জায়গার মালিক কে হবে?
উত্তর: খ।
এ সম্পর্কে ফুকাহায়ে কেরামগণের কিছুটা মতবিরোধ মূলক আলোচনা
থাকলেও পরবর্তী সময়ের ফকিহগণ নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন-
وَعِنْدَهُمَا حَبْسُ الْعَيْنِ عَلَى حُكْمِ مِلْكِ اللَّهِ
تَعَالَى عَلَى وَجْهٍ تَعُودُ مَنْفَعَتُهُ إلَى الْعِبَادِ فَيَلْزَمُ وَلَا يُبَاعُ
وَلَا يُوهَبُ وَلَا يُورَثُ كَذَا فِي الْهِدَايَةِ وَفِي الْعُيُونِ
وَالْيَتِيمَةِ إنَّ الْفَتْوَى عَلَى قَوْلِهِمَا كَذَا فِي شَرْحِ أَبِي
الْمَكَارِمِ لِلنُّقَايَةِ
ইমাম আবু ইউসুফ রাহ ও ইমাম মুহাম্মদ রাহ এর মতে ওয়াকফকৃত
জিনিষ মালিকের মালিকানা থেকে বের হয়ে আল্লাহর মালিকানায় এমন পদ্ধতিতে চলে যাবে যে, ওয়াকফকৃত জিনিষ থেকে মাখলুকাত
ফায়দা অর্জন করবে।
উক্ত ওয়াকফকৃত জিনিষকে বিক্রি করা যাবে না,কাউকে হাদিয়্যা ও দেয়া যাবে না,এবং তার ওয়ারিছও কেউ হবে না।
উক্ত মতামতের উপরই পরবর্তী হানাফি ফকিহগণ ফাতাওয়া দিয়েছেন।
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া-২/৩৫)
ওয়াকফ করার পর উক্ত ওয়াকফ সম্পর্কে ওয়াকফকারী যদি শরীয়ত
সমর্থিত কোনো শর্ত করে তাহলে তা গ্রহণযোগ্য।
এ সম্পর্কে ইবনে আবেদীন শামী রাহ বলেন-
ﻓَﺈِﻥَّ
ﺷَﺮَاﺋِﻂَ اﻟْﻮَاﻗِﻒِ
ﻣُﻌْﺘَﺒَﺮَﺓٌ ﺇﺫَا ﻟَﻢْ
ﺗُﺨَﺎﻟِﻒْ اﻟﺸَّﺮْﻉَ ﻭَﻫُﻮَ ﻣَﺎﻟِﻚٌ، ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﻥْ ﻳَﺠْﻌَﻞَ ﻣَﺎﻟَﻪُ ﺣَﻴْﺚُ ﺷَﺎءَ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻣَﻌْﺼِﻴَﺔ
শরীয়ত বিরোধী না হলে ওয়াকফ কারীর শর্তসমূহ গ্রহণযোগ্য,কেননা সে তো উক্ত মালেক মালিক
ছিলো,তাই গোনাহের সম্ভাবনা না থাকলে সে তার মালকে যেখানে
ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা সেখানেই রাখতে পারবে।
প্রামান্য গ্রন্থাবলী
১. ফাতওয়ায়ে শামী-৬/৫৪৮-৫৫০
২. ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-২/৪৫৮-৪৫৯
৩. ফাতওয়ায়ে বাযযাযিয়্যাহ আলা হামিশীল হিন্দীয়া-৬/২৭০-২৭১
৪. তাবয়ীনুল হাকায়েক-৪/২৭২-২৭৩
৫. মাসায়েলে মসজিদ-১৮০
والله
اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
সন্তানদের আমাল পিতা-মাতাকে
দেখানো হয় |
জিজ্ঞাসা-১৪৮: সন্তান দের ভালো কিংবা মন্দ আমল মৃত
পিতা-মাতা কে কবরে দেখানো হয় এ ব্যাপারে এথেন্টিক তথ্যর জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
(সম্মানিত বড় ভাই
অনুসন্ধানী আলেম মুহতারাম আখতারুজ্জামান দা.বা. এর প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: হ্যাঁ, কথাটির অস্তিত্ব
রয়েছে। দলীল:
وروى الحكيم
الترمذي في نوادر الأصول: وَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ
وَسَلَّمَ: «تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الإثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ عَلَى
اللهِ تَعَالَى، وَتُعْرَضُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ وَعَلَى الْآبَاءِ
وَالأُمَّهَاتِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَيَفْرَحُونَ بِحَسَنَاتِهِمْ، وَتَزْدَادُ
وُجُوهُهُمْ بَيَاضَاً وَإِشْرَاقَاً؛ فَاتَّقُوا اللهَ وَلَا تُؤْذُوا
مَوْتَاكُمْ»
অর্থাৎ জুমাআর রাতে সকল নবী-আম্বিয়াদের কাছে তাদের জাতির
এবং পিতা-মাতার কাছে (কবরে) সন্তানদের আমল দেখানো হয়। সূত্র: কানজুল আমাল-৪৫৪৯৩; নাওয়াদিরুল উসূল-২১৩ পৃ.;
শরহুস সুদুর-২৭৫
নোট: মুহাদ্দিসে কেরাম হাদিসটির সনদ দুর্বল বলেছেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
ইউনিটের পক্ষে কুরবানি করা জায়েজ হবে কি? |
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
জিজ্ঞাসা-১৪৯: ইউনিটের নামে বা ইউনিটের কোন ব্যক্তির নামে যদি ইউনিটের
ফান্ড থেকে কুরবানী করা হয় তা বৈধ হবে কিনা? এ ব্যাপারে
বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হব। এ বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল জুমুয়ার নামাজের
সময় সিওকে ব্রিফ করতে হবে।
(সম্মানিত ভাই শহীদুল ইসলামের প্রশ্নের আলোকে ১৪ইবি যশোর থেকে)
জবাব: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু। {ইতিপূর্বে আমার স্নেহের
ছোট ভাই আব্দুর রহমান সাহেব সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছেন। আমি তার সঙ্গে একমত পোষণ করে,
একটু তাফসিলান জবাব দিচ্ছি} আপনার প্রশ্নকে
সহজে বুঝার জন্য কয়েকটিভাবে ভাগ করছি। সামনে কুরবানি আসছে অনেকের উপকার হবে বলে
আশা করি।
প্রশ্ন: ক। প্রথমে জানবো, কুরবানি কার
ওপর ওয়াজিব।
উত্তর: ক। ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ
সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে যেসব মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ
মস্তিষ্ক, মুকিম ব্যক্তির কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে
অর্থাৎ স্বীয় হাজাতে আসলিয়্যাহ (পানাহার, বাসস্থান, উপার্জনের উপকরণ ইত্যাদি) ছাড়া অতিরিক্ত এ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়,
যা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের মূল্যের সমপরিমাণ (টাকার অংকে আনুমানিক আজকে ১,৫১৬*৫২.৫= ৭৯,৫৯০ হাজার টাকা ) হয়, সে ব্যক্তির ওপর কোরবানি করা
ওয়াজিব। আলমগিরী, ৫ম খন্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা;
আল হিদায়া, ১ম খন্ড, ৯৬
পৃষ্ঠা
প্রশ্ন: খ। কোন সংস্থা/সংঘ/সংগঠন/কোম্পানি/প্রতিষ্ঠানের ওপর কুরবানি করা কি ওয়াজিব/জরুরি এবং
তাদের পক্ষে কুরবানি সহিহ হবে কি?
উত্তর: খ। কোন সংস্থা/সংঘ/সংগঠন/কোম্পানি ওপর কুরবানি করা কি ওয়াজিব/জরুরি নয়।
কুরআন দ্বারা দলীল: .
﴿فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ﴾
তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও পশু কুরবানি
করো। সূরা কাউসার-০২
এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার রসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো সংস্থাকে নির্দেশ দেননি।
হাদিস দ্বারা দলীল:
আবু হুরাইরা (রা.) হতে
বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
«مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ
يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا»
যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না সে যেন
আমাদের ঈদগাহের ধারেকাছেও না আসে। আহমাদ, আলমুসনাদ-১৬/৪৬৬; ইবনু মাজাহ, আসসুনান-৩১২৩
এ হাদিস শরীফে মান তথা ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে; কোনো সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়নি।
আছার থেকে দলীল: কোনো
ব্যাটয়িন/ইউনিট তথা সেনাবাহিনী, পুলিশ,
বিজিবি, কোম্পানি ইত্যাদি একটি ছোট সংস্থা আর
রাষ্ট্র হলো বড় সংস্থা। ৬৩২ খৃ. থেকে ৬৬১ খৃ. পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ বছর খোলাফায়ে রাশেদার যুগ ছিল, এ
সময় বায়তুল মালে তথা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অনেক টাকা পয়সা ছিল, উনারা কি ইসলামি রাষ্ট্রের পক্ষে কুরবানি করেছেন। এমন কোন নজির কেউ কি
দেখাতে পারবে?
নবীজি (ﷺ) ফরমান-
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِيْ
وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ -তোমাদের উপর আমার সুন্নাত তথা
তরিকা-পন্থা-সিরাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফায়ে রাশেদাগণের সুন্নাত আঁকড়ে ধরা
আবশ্যক। আবু দাউদ- ৪৬০৭, জামিউত তিরমিযী- ২৬৭৬
তাছাড়া প্রিয় নবি (ﷺ) মদিনার রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তিনি কি বায়তুল মাল থেকে
কুরবানি করেছেন। বরং তিনি নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছেন। দলীল:
(১) হজরত ইবনে ওমর রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ১০ বছর মদিনায় অবস্থান করেছেন। মদিনায়
অবস্থানকালীন প্রত্যেক বছরেই কুরবানি করেছেন। মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি
(২) হযরত আলী রা.কে আদেশ করেছেন যেন তাঁর
পক্ষ থেকে কুরবানী করা হয়। হযরত আলী রা. প্রতি বছর নিজের কুরবানীর সঙ্গে
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
এর পক্ষ থেকেও কুরবানী করতেন। -মুসনাদে আহমদ হাদীস ৮৪৩, ১২৭৮, আবু
দাউদ হাদীস ২৭৮৭
সুতরাং উপরোক্ত
আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো কুরবানি ব্যক্তির ওয়াজিব, কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের
ওপর নয়। অত্রতব কোনো প্রতিষ্ঠান/সংস্থার পক্ষে কুরবানি করলে
সহিহ হবে না।
فتجب علي حر مسلم مقيم)بمصري او قريه او بادية عيني.فلا تجب علي حاجة مسافر موسر يسار الفكرة عن نفسه لا عن طفله علي
الظواهر الفتاوي الشامي ٩.البداءع الصناءع
সূত্র: নানে আবু দাউদ ২৭৮৮ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১২৪ হাদীস৷ আল মুহীতুল
বুরহানী ৮/৪৫৫ পৃষ্ঠা৷
প্রশ্ন: গ। অন্যের পক্ষ হতে অনুমতি ব্যতীত কুরবানি করলে
তা আদায় হবে কি না?
উত্তর : গ। কারো পক্ষ হতে তার বিনা
অনুমতিতে কুরবানি করলে যদি ওই ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তবে তার
কুরবানি আদায় হবে না। আর যদি ওয়াজিব না হয়ে থাকে তবে কুরবানি হয়ে যাবে। কাজিখান-৩/৩৫২,
আলমগিরি-৫/৩০২, মাহমুদিয়া-১৭/৩২২
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড
রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
|
চেয়ারে বসে নামাজ প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৫০: আস সালামু আলাইকুম। আমার নামঃ আরিফুর রাহমান। আমার
একটা বিষয় সম্পর্কে জানার ছিল।এক ব্যক্তি দাঁড়াতে পারেন, কিন্তু
বসতে পারেন না। রুকু পর্যন্ত ঝুঁকতে পারেন,
কিন্তু
বসে সেজদা আদায় করতে পারেন না। তিনি কিভাবে নামায আদায় করবেন ?
জানালে উপকৃত হব…
জাযাকুমুল্লাহ।
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
উক্ত ব্যক্তি চেয়ারে বসে নামায আদায় করবেন। ইমাম যখন কিরাত পড়েন, তখন
তিনি দাড়িয়ে থাকবেন, আর যখন রুকু সেজদা দেবার সময় হবে, তখন
চেয়ারে বসে ইশারা করে রুকু সেজদা করবেন। এক্ষেত্রে রুকুতে ঝুঁকার তুলনায় সেজদার সময়
বেশি ঝুঁকবে।
وإن عجز عن القيام وقدر على القعود، فإنه يصلى المكتوبة قاعدا بركوع
وسجود ولا يجزيه غير ذلك،
(تاتارخانية-2/667
‘ফাতহুল কাদীর’
খ. ১
পৃ. ৪৬০,‘আননাহরুলফায়েক খ. ১ পৃ. ৩৩৭ এবং ‘ইলাউস সুনান খ. ৭ পৃ. ২০৩
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
|
বিড়াল বিক্রি করা কি জায়েজ |
জিজ্ঞাসা-১৫১: একজন মানুষের ব্যাপারে জানতে পারলাম, তিনি
বিদেশী জাতের বিড়াল পোষেন এবং তা নাকি খুব ভাল দামে বিক্রি করেন। এই বিড়াল বিক্রির
টাকা হালাল হবে কি?
(সম্মানিত বড় ভাই আর টি মোঃ আব্দুল
মজিদ, ২ ফিল্ড রেজিঃ যশোর সেনানিবাস, প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের
মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যেমন,
ক। প্রথম মত: এ দলে হলো আহলে হাদিস ও ইবনে
তাইমিয়া (রহ.) মতে বিড়াল বিতক্রি করা
জায়েজ নেই। দলীল-
عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرًا عَنْ ثَمَنِ
الْكَلْبِ، وَالسِّنَّوْرِ، قَالَ زَجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ
ذَلِكَ আবূ যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি
জাবির (রাযিঃ) এর নিকট কুকুর ও বিড়ালের মূল্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) এ
ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন। মুসলিম-3907
আরেকটি হাদিস:
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ
اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ
وَالسِّنَّوْرِ .
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) কুকুর ও বিড়ালের বিক্রয় মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ
করেছেন। সুনানে আবু দাউদ-৩৪৭৯
খ। দ্বিতীয়মত: ওলামায়ে
আহনাফ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুর,শিকারি কুকুর বিক্রয় জায়েজ এর উপর কিয়াস করে বলেন, তেমনি
ভাবে বিড়াল বিক্রয় করা জায়েজ।
প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত-শিকারি
কুকুর বিক্রয় জায়েজ তার দলীল:
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ
عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ
اقْتَنٰى كَلْبًا إِلاَّ كَلْبَ مَاشِيَةٍ أَوْ ضَارِيًا نَقَصَ مِنْ عَمَلِه„ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি পশু রক্ষাকারী কিংবা শিকারী কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পালে,
তার আমাল থেকে প্রতিদিন দুকীরাত পরিমাণ সাওয়াব কমে যায়। বুখারি- ৫৪৮২; ইসলামিক
ফাউন্ডেশন- ৪৯৭৪
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : مَنْ اقْتَنَى كَلْبًا لَيْسَ بِكَلْبِ صَيْدٍ وَلا
مَاشِيَةٍ وَلا أَرْضٍ فَإِنَّهُ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ قِيرَاطَانِ كُلَّ يَوْمٍ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু
অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পালে ঐ ব্যক্তির প্রত্যেকদিন
দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়।সহীহ মুসলিম ১৫৭৫ জামে তিরমিযী ১৪৮৭
,
عن جابر رضی اللہ عنہ أن النبي صلی اللہ علیہ وسلم نہی عن أکل الہرّة
وأکل ثمنہا (مشکاة: ۳۶۱)
قال في
المرقاة أکل لحم الہرّة حرام بلا خلاف وأما بیعہا وأکل ثمنہا فلیس بحرام بل ہو
مکروہ (مرقاة)
সারমর্মঃ উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে বিড়ালের গোশত
খাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।
তবে সেটা বিক্রয় করা,তার মূল্য খাওয়া হারাম নয়।
বরং মাকরুহ।
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار)
(5/ 68):
’’لكن في الخانية: بيع الكلب المعلم عندنا جائز، وكذا السنور، وسباع الوحش
والطير جائز معلماً أو غير معلم‘‘.
الفتاوى الهندية (3/ 114):
সারমর্মঃপ্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুর,শিকারি কুকুর বিক্রয় করা জায়েজ। তেমনি ভাবে বিড়াল বিক্রয় করা জায়েজ।
’’بيع الكلب المعلم عندنا جائز،
وكذلك بيع السنور وسباع الوحش والطي جائز عندنا معلماً كان أو لم يكن، كذا في
فتاوى قاضي خان‘‘.
الفتاوى الهندية (3/ 114):
’’وبيع الكلب غير المعلم يجوز إذا
كان قابلاً للتعليم وإلا فلا، وهو الصحيح، كذا في جواهر الأخلاطي‘‘
সারমর্মঃ
প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুর,শিকারি কুকুর বিক্রয় করা আমাদের
নিকটে জায়েজ। তেমনি ভাবে বিড়াল বিক্রয় করা জায়েজ। সূত্র: ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-৩/১১৪;
দুররুল মুখতার-৫/৬৮
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
গাড়িতে নামাজ পড়ার বিধান বা পদ্ধতি |
জিজ্ঞাসা-১৫২: যাত্রা পথে গাড়িতে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি কি? এবং
গাড়িতে আদায় করা নামাজ যেহেতু পূর্ণাঙ্গরূপে রুকু সিজদা করা সম্ভব হয় না তাই বসায়
পৌঁছে আবার সেই নামাজ আদায় করতে হয় কিনা?
রেফারেন্সসহ
জানালে উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ!
জবাব: জাযাকাল্লাহু খয়র
মুহতারাম আব্দুর রহমান সাহেবকে যিনি অতি অতিজরুরি একটি মাসয়ালা জিজ্ঞেস করার জন্য।
প্রথমে আপনার দায়িত্ব হলো,
গন্তব্য স্থলে গিয়ে অথবা যেখানে বিরতি দিবে সেখানে যদি ওয়াক্তের মধ্যেই নামাজ আদায়
করা যায় তাহলে গাড়িতে নামাজ আদায় করবেন না। আর তা না
হলে গাড়িতে আদায় করবেন। নামাজ আদায় করার
পদ্ধতি হলো নিম্নরূপ:
Ø চলন্ত
লঞ্চ, জাহাজ, ট্রেন ও বিমানে ফরয নামায
সম্ভব হলে কেবলামূখী হয়ে দাঁড়িয়ে রুকু সিজদাসহ আদায় করবে। দাঁড়ানো যদি কষ্টকর হয়
তাহলে বসে স্বাভাবিক রুকু-সিজদা করে নামায আদায় করবে। এভাবে নামায আদায় করতে পারলে
পরবর্তীতে তা পুনরায় পড়তে হবে না।
Ø
আর যদি কেবলামুখী হয়ে রুকু-সিজদার সাথে নামায
আদায় করা সম্ভব না হয় তাহলে যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামায পড়ে নিবে। এক্ষেত্রে
স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে সতর্কতামূলক ঐ ফরয নামায পরবর্তীতে আবার পড়ে নিবে।
Ø উল্লেখ্য
যে যদি সেজদাহ করা সম্ভব হয়, তাহলে ইশারা করে নামাজ পড়া
জায়েয হবেনা। ফাতাওয়ায়ে বায়্যিনাত ২/৩২৪
Ø
Ø মরান
বিন হুসাইন (রা.) বলেন, আমার অর্শ রোগ ছিল। আমি (কিভাবে নামায পড়ব তা) আল্লাহর রসূল ((ﷺ)) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়। না
পারলে বসে পড়। তাও না পারলে পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়। বুখারী, আবূদাঊদ,
সুনান, আহমাদ, মুসনাদ,
মিশকাত ১২৪৮
উক্ত হাদিসে দাড়িয়ে না পারলে বসে, বসে না পারলে ইশারায় আদায় করার
কথা বলা হয়েছে। চলন্ত গাড়িতে অপরাগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
Ø কিবলামুখি
হতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। যদি গাড়ি কিবলামুখ থেকে অন্যদিকে ঘুরে যায় তবে নামাযে
থাকা অবস্থায় কিবলামুখি ঘুরে যাবে। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে
যেদিকে মুখ হয়, সেদিকে ফিরেই নামায শেষ করবে। কিন্তু ইচ্ছে
থাকা সত্বেও কিবলামুখি হয়ে নামায আদায় করতে না পারলে এই নামায পরে কাযা করতে
হবে। কিবলামুখি ফিরে নামায আদায় করতে পারলে পরে তা আদায় করার কোন প্রয়োজন নেই।
দুররুল মুখতার-২/৪৯১; ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/১৪৪
فى الفتاوى الهندية- ولو ترك تحويل
وجهة الى القبلة
وهو قادر عليه
لا يجزيه (الفتاوى الهندية –كتاب الصلاة ،الباب الخمس العشر
فى صلاة المسافر-1/144)
و رد المحتار– وإن لم يكن
طرف العجلة على
الدابة جاز ) لو
واقفة لتعليلهم بأنها
كالسرير (رد المحتار-كتاب الصلاة، باب
الوتر والنوافل -2/491
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে আছে
فى الفتاوى الهندية- ولو ترك تحويل وجهة الى القبلة وهو قادر عليه لا يجزيه (الفتاوى الهندية –كتاب الصلاة ،الباب الخمس العشر فى صلاة المسافر-1/144)
যার সারমর্ম হলো যদি কিবলার দিক হয়ে নামাজ পড়া সম্ভবপর হওয়া
সত্ত্বেও কিবলার দিক না হয়,তাহলে নামাজ হবেনা।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
জিজ্ঞাসা-১৫৩: আসসালামু আলাইকুম। ইমাম ক্বে্রাত পড়ার সময় ভুলে
গেলে মুক্তাদী পিছন থেকে স্নরন করিয়ে দেয়া জায়েয আছে কি? থাকলে
দলীল প্রয়োজন?
হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ নূরুল হক সাউথ সুদান থেকে---
উত্তর : ওয়ালাইকুমুস সালাম
রহমাতুল্লাহ। হ্যাঁ, শুধু জায়েজ নয়, এটা মুসল্লির দায়িত্ব। রাসূল জ্ঞানী-
বুদ্ধিমান লোককে রাসূল (ﷺ) নামাজে তার কাছাকাছি থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। দলীল:
হাদিস নং-০১
নবী (ﷺ) একদা
নামায পড়ান এবং সেই নামাযে কিরাআতের সময় তাঁর জটিলতা সৃষ্টি হয়, নামায শেষে তিনি উবাই বিন কাআব
(রাযি.) কে বললেন, তুমি আমাদের সাথে নামাযে ছিলে? সে বললঃ হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বললেনঃ
তাহলে তোমাকে কি নিষেধ করলো? (অর্থাৎ স্মরণ করিয়ে দিতে কিসে বাধা দিল?) আবু দাঊদ, নামায অধ্যায়, অনুচ্ছেদঃ
ইমামকে লোকমা দেওয়া
হাদিস নং-০২
لِيَلِني مِنْكُمْ أُولُوا الأحْلاَمِ وَالنُّهَى، ثُمَّ الَّذِينَ
يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ». رواه مسلم
“আর তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত ও বুদ্ধিমান, তারাই যেন আমার নিকটে (প্রথম কাতারে আমার পেছনে) থাকে। অতঃপর যারা বয়স ও বুদ্ধিতে
তাদের নিকটবর্তী তারা। অতঃপর তাদের যারা নিকটবর্তী তারা।’’ (মুসলিম
৪৩২)
হাদিস নং-০৩
ফতহুল কদীরে উল্লেখ রয়েছে, নবী করিম (দঃ) নামাজের কেরাতে
একটি বাক্য ছেড়ে দিলেন, যখন নামাজ শেষ করলেন তখন ফরমারেন
তোমাদের মাঝে উবাই উপস্থিত নাই? তিনি জবাব দিলেন কেন নয়?
তখন রসুল (দঃ) এরশাদ করলেন যে তুমি লোকমা কেন দাও নাই? তখন হযরত উবাই বিন কাব (রা.) আরজ করলেন আমি ধারনা করেছি হয়ত সে অংশ মনসুখ
বা রহিত হয়ে গেছে যা আপনি পাঠ করেন নাই। তখন নবী করিম (দঃ) বললেন যদি মনসুখ হয়ে
যেত তাহলে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই তা বলতাম। (ফতহুল কাদির ১ম খন্ড ৩৪৮ পৃ, ভিন্ন শব্দে আবু দাউদ ১৬৪ পৃ)
হাদিস নং-০৪
হযরত সামুরা বিন জুনদুব (রা.) রেওয়ায়েত করেন, নবী
করিম (ﷺ) আমাদেরকে
নির্দেশ দিয়েছেন যে আমরা যেন ইমামের ভুল ধরিয়ে দিই (মুসতাদরক হাকেম ২৭০ পৃ)
আছার নং-০১
ইমাম হাকেম (রহঃ) মুসতদরক এ হযরত আবু আবদুর রহমান (রা.) হতে
রেওয়ায়েত করেন হযরত আলী কাররামালল্লাহু ওয়াজহাহু ফরমায়েছেন যখন ইমাম তোমাদের কাছ
থেকে লুকমা চাই তখন তাঁকে লোকমা দেয়া সুন্নত। আবু আবদুর রহমানকে প্রশ্ন করা হল
লোকমা চাওয়ার মানে কি? জবাব তিনি বললেন অর্থ্যাৎ যখন সে ইমাম কিছু ছেড়ে দেয়।(মুসতাদরহক হাকেম ১ম
খন্ড ২৭০পৃষ্ঠা)
আছার নং-০২
হযরত উমর (রা.) এর ব্যাপারে বর্নিত আছে যে তিনি মাগরিবের
নামাজে ছিলেন সুরা ফাতেহা পাঠ করার পর এর পরে পড়ার জন্য সুরা মনে পড়ছিল না তখন
হযরত নাফে (রা.) ইজা যুলজিলাতিল এর লুকমা
দিলেন তখন তিনি সে সুরাটি তেলাওয়াত আরম্ভ করলেন। (বাদায়েউস সানায়ে ১ম খন্ড ২৩৬ পৃ)
নোট: উসূলে হাদিসের পরিভায়ায় সাহাবা
ও তাবেয়িদের কথা-কর্ম-অনুমতিকে আছার
বলে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
জিজ্ঞাসা-১৫৪: বিবাহযোগ্য কন্যা থাকলে তাকে আগে বিবাহ দিতে হবে তারপর হজ্জে গমন করতে হবে।
এ মর্মে সরাসরি কোনো হাদীস কারো জানা থাকলে জানাবেন প্লিজ।
( সম্মানিত ভাই আরটি মোঃ রজিব উদ্দিন, ৫ আরই
ব্যাটা: পোস্তগোলা সেনানিবাস,১৪ স্বতন্ত্র ইন্জিনিয়ার ব্রিগেড,
প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: আল্লাহ তাআলা রহম
করুন আমার ভাই হাফেজ মাও. রজিব উদ্দিনের প্রতি, যিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা জিজ্ঞেস করেছেন। বিবাহযোগ্য কন্যা থাকলে তাকে
আগে বিবাহ দিতে হবে তারপর হজ্জে গমন করতে হবে। এ মর্মে কোন সহিহ তো দূরের কথা জয়িফ/জাল হাদিস নেই? সমাজের যে কথাগুলো কুসংস্কার প্রচলিত আছে, তার মধ্যে
একটি হলো এটা। তবে ইসলামি শরীয়তে উক্ত
দুটি বিষয়ে জোর তাগিদ দিয়েছেন।
Ø হজ দ্রুত/জলদি
আদায় করার দলীল:
হাদিস নং-০১
রাসূলুল্লাহ
(ﷺ) বলেছেন,
«تَعَجَّلُوا إِلَى الْحَجِّ - يَعْنِي : الْفَرِيضَةَ - فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لاَ يَدْرِي مَا يَعْرِضُ لَهُ».
তোমরা বিলম্ব না করে ফরয হজ আদায় কর। কারণ তোমাদের কেউ জানে
না, কী বিপদাপদ
তার সামনে আসবে। মুসনাদে আহমদ : ৭৬৮২; ইবন মাজাহ্ : ৩৮৮২
হাদিস নং-০২
ইবনে আববাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে
কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
من أراد الحج فليتعجل، فإنه قد يمرض المريض وتضل الضالة وتعرض الحاجة.
যে ব্যক্তি হজ্ব করার ইচ্ছে করে, সে যেনতাড়াতাড়ি তা আদায় করে
নেয়। কারণ যেকোনো সময় সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বাবাহনের ব্যবস্থাও না থাকতে
পারে অথবাঅন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতেপারে।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৮৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৮৮৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৭৩২; সুনানে দারিমী, হাদীস
: ১৭৮৪; মুসতাদরাকে হাকেম-১৬৮৭;
তবারানী- ৭৩৮
হাদিস নং-০৩
لِيَمُتْ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا- يَقُولُهَا ثَلَاثَ مَرَّات-ٍ رَجُلٌ مَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ وَوَجَدَ لِذَلِكَ سَعَةً .
অর্থ: ইহূদী হয়ে মারা যাক বা খ্রিস্টান হয়ে -তিনি কথাটি তিনবার
বললেন- সেই ব্যক্তি যে আর্থিক স্বচ্ছলতা সত্ত্বেও হজ না করে মারা গেল। বাইহাকী :
৪/৩৩৪
হাদিস নং-০৪
উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন,
لَقَدْ
هَمَمْتُ أَنْ أَبْعَثَ
رِجَالًا إلَى هَذِهِ
الْأَمْصَارِ فَيَنْظُرُوا كُلَّ
مَنْ لَهُ جَدَةٌ
وَلَمْ يَحُجَّ فَيَضْرِبُوا
عَلَيْهِ الْجِزْيَةَ مَا
هُمْ بِمُسْلِمِينَ مَا
هُمْ بِمُسْلِمِينَ.
‘আমার ইচ্ছা হয়, এসব শহরে আমি লোক প্রেরণ করি, তারা যেন দেখে কে
সামর্থবান হওয়ার পরও হজ করেনি। অতপর তারা তার ওপর জিযিয়া। আরোপ করবে। কারণ, তারা মুসলিম নয়, তারা মুসলিম নয়। ইবন হাজার, আত-তালখীসুল হাবীর :
২/২২৩
হাদিস নং-০৫
হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তায়ালা হজ না করার পরিণতি
সম্পর্কে বলেছেন, যে বান্দাকে আমি দৈহিক সুস্থতা দিয়েছি এবং
আর্থিক প্রাচুর্য দান করেছি, অতঃপর (গড়িমসি করে) তার পাঁচ
বছর অতিবাহিত হয়ে যায় অথচ আমার দিকে (হজব্রত পালন করতে) আগমন করে না, সে অবশ্যই বঞ্চিত। ইবনে হিব্বান: ৩৭০৩
Ø ইমামদের
মতামত:
হজ ইমাম আবু হানিফা,
মালেক, আহমদ, শাফেয়ি
মাজহাবের কোনো ইমাম এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
আদায় করা আবশ্যক।
Ø তাড়াতাড়ি
কন্যাকে বিবাহ দেওয়ার দলীল:
হাদিস নং-০১
عن على بن ابى طالب رضى الله عنه
انّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له يا على ثلاث لاتؤخرها الصلوة اذا انت
والجنازة اذا حضرت والايّم اذا وجدت لها كفوًا ـ
অর্থঃ হযরত আলী রা. সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আলী রা. কে লক্ষ্য করে বলেন, হে আলী! ৩টি জিনিসের ক্ষেত্রে
বিলম্ব করবে না। ১. নামাযের যখন সময় আসবে তখন নামায আদায় করা থেকে দেরি করবে না।
২. মৃত ব্যক্তির জানাযা যখন উপস্থিত হবে তখন কাফন-দাফন সম্পন্ন করতে দেরি করবে না।
৩. কোন অবিবাহিতা মেয়ের জন্য যখন কোন উপযুক্ত পাত্র পাবে তখন তাকে পাত্রস্থ করা
থেকে বিলম্ব করবে না। তিরমিযী শরীফ, খ: ১, পৃ: ২০৬
হাদিস নং-০২
রাসূল সা. বলেছেন,
তোমাদের নিকট যদি এমন পাত্র বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার
দ্বীনদারী ও চরিত্র তোমাদের নিকট পছন্দসই, তবে তার সাথে তোমাদের কন্যাদের বিবাহ
দিয়ে দাও। যদি তোমরা এরূপ না কর (দ্বীনদার ও চরিত্রবান পাত্রকে প্রত্যাখ্যান কর
এবং তাদের সাথে কন্যাদের বিবাহ না দাও) তবে এর কারণে পৃথিবীতে অনেক বড় ফেতনা-ফাসাদ
সৃষ্টি হবে। তিরমিযী-বিবাহ অধ্যায়
Ø উভয় প্রকার হাদিসের সমন্বয় :
উপরোক্ত দুটি বিষয়ে আমরা হাদিস দেখলাম যে, হজ ফরয হলে দ্রুত আদায় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, কেননা
মানুষের বিপদ-মৃত্যু কোন সময় আসে কেউ জানে না। আবার কন্যাকে
প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাকে তাড়াতাড়ি বিবাহ দেওয়াও নির্দেশ রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো কন্যার বিবাহ হতে যদি দেরি হয় ( যেমন, উপযুক্ত পাত্র
না পাওয়া, আর্থিক সমস্যা ইত্যাদি কারণে), তাহলে কি হজ আদায় করতে দেরি করবে?
এর জবাব হলো, মেয়েকে বিবাহ দিতে অবশ্যই
চেষ্টা করবে। হজ যখনও ফরজ হবে, তখনই আদায় করবে। মেয়ের
বিবাহের অপেক্ষা করবে না।
فى رد المحتار- المسألة منقولة عن أبي حنيفة في تقديم الحج على التزوج ، والتفصيل
المذكور ذكره صاحب الهداية في التجنيس ، وذكرها في الهداية مطلقة ، واستشهد بها
على أن الحج على الفور عنده ومقتضاه تقديم الحج على التزوج ، وإن كان واجبا عند
التوقان (رد المحتار على الدر المختار-كتاب الحج، قبيل مطلب فى قولهم يقدم حق العبد على حق
الشرع-2/462
যার সারমর্ম হলো হজ্ব কে বিবাহের উপর মুকাদ্দম করতে হবে।
ফাতওয়ায়ে শামী-২/৪৬২,ফাতহুল কাদীর-২/৪১১,ফাতওয়া
তাতারখানিয়া-২/৪৩৭,ফাতওয়া মাহমুদিয়া-১৫/৩৫৭
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
কুরআন তেলাওয়াত শেষে সদাকাল্লাহুল আজিম বলা
প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৫৫: কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের পর ''সাদাকাল্লাহুল
আজীম''' বলা যাবে কিনা দলীল সহ জানানোর অনুরোধ করছি।
মাওলানা মো:
আখতার
হোসেন, যশোর
থেকে----
জবাব: প্রথম কথা হলো, পবিত্র কুরআন মাজীদ শুরু করতে তা’উস ও তাসমিয়া (আয়ুজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ) পড়তে হবে এ কুরআন-হাদিস নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু
তেলাওয়াত শেষে কি পড়বে তা সুস্পষ্ট বলা হয়নি।
সুতরাং কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের পর ''সাদাকাল্লাহুল
আজীম''' বলা জরুরি/ সুন্নাত/মুস্তাহাব মনে করা বিদআত।
যেহেতু তা নস দ্বারা প্রমাণিত নয়। দলীল:
নবী
(ﷺ) বলেন:
((مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا
هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ )). رواه البخاري و مسلم و قال صلى الله عليه وسلم ((مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ
رَدٌّ )). رواه مسلم.
অর্থ: যে আমাদের দীনে নতুন কিছু সৃষ্টি করল,
যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিত্যক্ত।
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন: যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার উপর আমাদের দীন নেই, তা পরিত্যক্ত।
সূত্র: বুখারি-মুসলিম;
লাজনায়ে দায়েমা: খ.৪, পৃ.১১৮
প্রশ্ন: কেউ যদি ''সাদাকাল্লাহুল আজীম''' জরুরি মনে না পড়ে, তাহলে কি বিদআত?
উত্তর: না, কেউ যদি ''সাদাকাল্লাহুল
আজীম''' জরুরি বা সুন্নাহ কিংবা মুস্তাহাব মনে না পড়ে, তাহলে জায়েজ এবং বিদআত হবে না।
আমাদের বড়দের থেকে ''সাদাকাল্লাহুল
আজীম'' বলা অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেমন,
হাফেয ইবনুল জাযারি রহ. ‘আন-নাশর’ কিতাবে বলেন: আমার কতক শায়েখকে দেখেছি,
তারা কুরআন খতম করে বলতেন ( তখন-''সাদাকাল্লাহুল
আজীম'' বলতেন):
صدق الله العظيم وبلغ رسوله
الكريم، وهذا تنزيل من رب العالمين، ربنا آمنا بما أنزلت واتبعنا الرسول فاكتبنا
مع الشاهدين.
ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ তার তাফসীরে বলেন: হাকিম তিরমিযি আবু
আব্দুল্লাহ ‘নাওয়াদিরুল উসুল’ কিতাবে বলেন: কুরআনুল কারিমকে
সম্মান প্রদর্শনের একটি দিক হচ্ছে, তিলাওয়াত শেষে আল্লাহকে
সত্যারোপ করা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে আমাদের নিকট দীন পৌঁছিয়েছেন তার সাক্ষ্য প্রদান করা; কুরআন হক এ কথারও সাক্ষ্য
প্রদান করা, যেমন বলা:
صدقت رب وبلغت رسلك، ونحن على
ذلك من الشاهدين، اللهم اجعلنا من شهداء الحق، القائمين بالقسط، ثم يدعو بدعوات.
এ থেকে আমাদের ধারণা চতুর্থ হিজরিতে এ বাক্যটির প্রচলন ঘটেছে,
কারণ তিরমিযি আলহাকিম চতুর্থ শতাব্দির আলেম ছিলেন, তবে তার পূর্বেও এর প্রচলন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন।
সূত্র: ‘নাওয়াদিরুল উসুল’- ইমাম হাকিম তিরমিযি রহ.; হাফেয ইবনুল জাযারি রহ. এর ‘আন-নাশর’
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)
|
বুটের ওপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৫৬: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার একটি প্রশ্ন
: বোট জুতা যেটা সামরিক লোকেরা পরে। তার উপর মাসের করা করা জায়েজ কি না? উত্তর
দিয়ে বাধিত করবেন।
সম্মানিত ভাই আরটি জুনাইদ ( কক্সবাজার) , ২৭ আরই
ব্যাটালিয়ন, শেখ রাসেল সেনানিবাস, জাজিরা, শরীয়তপুর, এর প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া
রহমাতুল্লাহ। আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম বিনিময় দান করুন, আমাদের
সামরিক জীবনের রিলেটিফ একটি প্রশ্ন করার জন্য। আপনার প্রশ্নকে সহজভাবে বুঝার জন্য
কয়েকটি ভাবে ভাগ করেছি:-
প্রশ্ন: ক। চামড়ার মুজা ব্যতিত
অন্য যে কোন মোজা বা জুতোর মাসেহ করতে শর্ত আছে কি?
উত্তর: ক। মুষ্টিমেয় দু-চার আলেম (ইবনে মুনযির ও ইবনে তাইমিয়া ও বর্তমানে
তাদের অনুসারী ) ব্যতিত জমহুর ওলামায়ে কেরাম চামড়ার মুজা
ব্যতিত অন্য যে কোন মোজা বা জুতোর মাসেহ করতে শর্তারোপ করেছেন। মোজায় নিম্নোক্ত
শর্তগুলো পাওয়া গেলে তার উপর মাসেহ জায়েয হবে। শর্তগুলো হচ্ছে :
ক) মোজা এমন মোটা ও পুরু হওয়া যে, জুতা ছাড়া শুধু মোজা পায়ে দিয়ে
তিন মাইল পর্যন্ত হাঁটা যায়। এতে মোজা ফেটে যায় না এবং নষ্টও হয় না। খ) পায়ের সাথে
কোনো জিনিস দ্বারা বাঁধা ছাড়াই তা লেগে থাকে এবং তা পরিধান করে হাঁটা যায়।
গ) মোজা এমন মোটা যে, তা পানি চোষে না এবং তা ভেদ করে পানি পা
পর্যন্ত পৌঁছায় না।
ঘ) তা পরিধান করার পর মোজার উপর থেকে ভিতরের অংশ দেখা যায়
না। সচরাচর ব্যবহৃত সুতা বা পশমের মোজায় যেহেতু এসব শর্ত পাওয়া যায় না তাই এর উপর
মাসেহ জায়েয হবে না। হেদায়া কিতাবুত
তহারাত-১/৬১; বাদাইস সানায়ে-১/১০১
ولا
يجوز المسح على الجوربين عند أبي
حنيفة إلا أن
يكونا مجلدين أو
منعلين وقالا يجوز
إذا كانا ثخينين
لا يشفان “(هداية، كتاب الطهارة،
باب المسح على
الخفين-1/61)
وفى
البدائع- وَأَمَّا الْمَسْحُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ، فَإِنْ
كَانَا مُجَلَّدَيْنِ، أَوْ
مُنَعَّلَيْنِ، يُجْزِيهِ بِلَا
خِلَافٍ عِنْدَ أَصْحَابِنَا
وَإِنْ لَمْ يَكُونَا
مُجَلَّدَيْنِ، وَلَا مُنَعَّلَيْنِ، فَإِنْ
كَانَا رَقِيقَيْنِ يَشِفَّانِ
الْمَاءَ، لَا يَجُوزُ
الْمَسْحُ عَلَيْهِمَا بِالْإِجْمَاعِ، وَإِنْ
كَانَا ثَخِينَيْنِ لَا
يَجُوزُ عِنْدَ أَبِي
حَنِيفَةَ وَعِنْدَ أَبِي
يُوسُفَ، وَمُحَمَّدٍ يَجُوزُ.(بدائع الصنائع-1/101
প্রশ্ন: খ। জুতার উপর কি মাসেহ জায়েজ ?
উত্তর: খ। উপরোক্ত শর্তাবলি পাওয়া গেলে জুতোর উপর মাসেহ
জায়েজ। যদি কোন জুতা পায়ের টাখনু পর্যন্ত
ঢেকে রাখে তাহলে সে জুতার উপর মাসেহ করা জায়েয আছে। কেননা সেটা চামড়ার মোজার
সমতুল্য।
তবে, পায়ের যতটুকু স্থান ধৌত করা ফরয জুতা যদি ততটুকু স্থান আচ্ছাদিত না করে,
সে স্থানটুকু হচ্ছে- পায়ের টাখনুসহ সম্পূর্ণ পায়ের পাতাদ্বয়;
সেক্ষেত্রে জমহুর আলেমের মতে, মাসেহ করা জায়েয
হবে না। দেখুন: আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা আল-কুয়েতিয়্যা-৩৭/২৬৪
জামে তিরমিযী ১/১৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৮৩; আলবাহরুর রায়েক ১/১৮২; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৬৯;
আলমুহীতুল বুরহানী ১/৩৪৩-৩৪৪; ফাতহুল কাদীর
১/১৩৮; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ১২০; মাজমাউল
আনহুর ১/৭৫; আননাহরুল ফায়েক ১/১২৩
এ সম্পর্কে হাদিস:
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ
تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ،
وَالنَّعْلَيْنِ
মুগীরা বিন শোবা (রা.) বর্ণিত হাদীস: নিশ্চয় রাসূল (ﷺ)
একবার ওযূ করলেন এবং জাওরাব ও দু জুতার উপর মাসাহ করলেন।
আবু দাউদ-১৫৯, তিরমিযী-৯৯, আহমদ -৪/২৫২
প্রশ্ন: গ। মাসেহ পর মোজা বা জুতো খুললে
কি মাসেহ বাতিল হবে?
উত্তর: গ। হ্যাঁ, মাসেহ পর মোজা বা জুতো খুললে
কি মাসেহ বাতিল হবে। দলীল:
সফওয়ান বিন আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিত,
كَانَ يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفَرًا أَوْ مُسَافِرِينَ أَنْ لَا
نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ، إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ،
وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍগ্ধ
অর্থাৎ: ‘আমরা যখন সফরে থাকতাম, তখন রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে জানাবাতের অপবিত্রতা ছাড়া তিন দিন ও তিন রাত আমাদের
মোজা না খুলতে নির্দেশ দিতেন। তবে পেশাব-পায়খানা ও ঘুমের কারণে কোন সমস্যা হত না।
সুতরাং, বুঝা গেল, নিমেণর কারণগুলো সংঘটিত হলে
মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ হবে না-
১। জানাবাত ও এ জাতীয় বিষয় যা গোসল ওয়াজিব করে। যেমন হায়েয
ও নিফাস থেকে পবিত্রতা অর্জন।
২। মাসাহ এর সময়সীমা শেষ হলে।
৩। মোজা খুলে ফেললে এবং মোজা পরিধানের পূর্বেই পবিত্রতা
নষ্ট হলে। সূত্র: ইখতিলাফুল উলামা (৩১ পৃ.) আল-আওসাত্ব (১/৪৫৮)।
প্রশ্ন: ঘ। সেনাবাহিনীর বুটের ওপর মাসেহ
জায়েজ কি না?
উত্তর: ঘ। আমার জানা নেই, তাহকিক নেই, উপরোক্ত শর্তাবলি সেনাবাহিনীর জুতো আছে কি না? সৈনিকদের
জিজ্ঞেস করলে , বাস্তবতা জানা যাবে। তবে সতর্কতা হলো বুট
জুতোর ওপর মাসেহ করলে জুতো পড়েই সালাত আদায় করতে হবে, আর
খুললে মাসেহ ভঙ্গ হবে আর দেখতে হবে জুতোর তলায় কোন নাপাকি আছে কিনা?
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
রমজান মাসের জাহান্নামের দরজা বন্ধ,মারা গেলে
জান্নাতির ব্যাখ্যা |
জিজ্ঞাসা-১৫৭: জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ দ্বারা
কি বুঝানো হয়েছে? আযাব বন্ধ থাকে না নতুন করে কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করে না? আর রমজান
মাসে মারা গেলে জান্নাতী এর ব্যাখ্যা কি ?
(সম্মানিত ভাই আরটি সাজ্জাদ হোসেন,৫০৬
ডিওসি, বগুড়া সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: জাযাকাল্লাহু খয়রান আমার ভাই
সাজ্জাদ হোসেনকে, তিনি একটি খুবই জরুরি একটি এলমি সওয়াল করেছেন, কথায়
আছে, সওয়াল (বুঝা) জ্ঞানের অর্ধেক। আপনার প্রশ্নকে সহজভাবে বুঝার জন্য কয়েকটি ভাবে ভাগ করেছি:-
প্রশ্ন: ক। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে?
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِذا دخل شهر رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ
وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ)বলেছেনঃ মাহে রমাযান (রমজান) শুরু হলে
আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া
হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়। অন্য এক
বর্ণনায় আছে, রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। বুখারী ১৮৯৯, ৩২৭৭, মুসলিম
১০৭৯, নাসায়ী ২০৯৯, ২০৯৭, ২১০২, আহমাদ ৭৭৮০, মুসান্নাফ
আবদুর রাযযাক ৭৩৮৪, ৭৭৮১, ৯২০৪,
শুআবূল ঈমান ৩৩২৬, সহীহ ইবনু হিববান ৩৪৩১।
মুহাদ্দিসিনে কেরাম এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া এবং
জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে-
০১.
জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকার অর্থ হলো জাহান্নামেন কর্ম
থেকে বেঁচে থাকা সহজ। নফস-শয়তানকে দমন করা রমজানে সহজতর
হয়।
০২.
বাক্যটি হয়তো হাকিকি (বাস্তব) অর্থেই ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ
তাআলা ফেরেশতাদের জন্য রমযান মাস প্রবেশের আলামত এবং এর পবিত্রতার প্রতি সম্মান
প্রদর্শনের আলামত হিসেবে, রমজানে জান্নাতের দরজা খুলে দেন আর
জাহান্নামে দরজা বন্ধ করে দেন।
০৩.
আবার কথাটি রূপক অর্থেও হতে পারে। রূপক অর্থে হলে জান্নাতের দরজা
খুলে দেওয়ার অর্থ হবে, বেশি বেশি সওয়াব লিখে দেওয়া আর
জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হবে বেশি বেশি ক্ষমা করা। এই অর্থটি সুদৃঢ়
হয়ে যায় অন্য বর্ণনার মাধ্যমে, যেই বর্ণনায় এসেছে, فتحت أبواب الرحمة (রহমতের দরজা খুলে
দেওয়া হয়)
০৪.
অথবা রূপক অর্থ এও হতে পারে যে- এই মাসে আল্লাহ তাআলা
বান্দার জন্য যেসকল নেক কাজের তৌফিক দেন, যেমন রোজা, কিয়ামুল
লাইল ও অন্যান্য কেন কাজ; পাশাপাশি আল্লাহকর্তৃক নিষিদ্ধ যে
সব কাজ থেকে বিরত থাকার তৌফিক দেন, এগুলোই জান্নাতের দরজা
খুলে দেওয়া এবং জাহান্নামের দরজা বন্দ করে দেওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য। কেননা এই নেক
কাজগুলো করা আর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকাই তো জান্নাতে প্রবেশ করা এবং জাহান্নাম
থেকে মুক্তির কারণ। সূত্র: ইকমালুল মুলিম, ফাতহুল বারি : ৪/৫
প্রশ্ন: খ। আযাব বন্ধ থাকে না নতুন করে কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করে না? আর রমজান
মাসে মারা গেলে জান্নাতী এর ব্যাখ্যা কি ?
উত্তর: খ। আমরা প্রথমে উভয় প্রকারের দলীল জানবো, তারপর পর্যালোচনা করবো।
কবরের আজাবের দলীল:
কুরআনের বানী-
আল্লাহ
তাআলা ফেরাউনের সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেন فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ
مَا مَكَرُوا وَحَاقَ بِآَلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ. النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا
وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آَلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ. ‘ তাদের সকাল-সন্ধ্যা জাহান্নামের
সামনে উপস্থিত করা হয়। যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন
বলা হবে, তোমরা ফেরাউনের সম্প্রদায়কে কঠিন শাস্তির মধ্যে
ঢুকিয়ে দাও। সুরা : মুমিন (গাফির), আয়াত : ৪৬
অন্য আয়াতে এসেছে,
অচিরেই
আমি (আল্লাহ) তাদের দুইবার আজাব দেব। তারপর তাদের নিয়ে যাওয়া হবে ভয়াবহ আজাবের
দিকে। সুরা তাওবা-১০১
হাদিসের বানী
আনাস রা. হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন,
الْعَبْدُ إِذَا وُضِعَ فِي
قَبْرِهِ وَتُوُلِّيَ وَذَهَبَ أَصْحَابُهُ حَتَّى إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ
نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَأَقْعَدَاهُ فَيَقُولاَنِ لَهُ مَا كُنْتَ
تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللهِ
وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنْ النَّارِ أَبْدَلَكَ اللهُ
بِهِ مَقْعَدًا مِنْ الْجَنَّةِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَيَرَاهُمَا
جَمِيعًا وَأَمَّا الْكَافِرُ أَوْ الْمُنَافِقُ فَيَقُولُ لاَ أَدْرِي كُنْتُ
أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فَيُقَالُ لاَ دَرَيْتَ وَلاَ تَلَيْتَ ثُمَّ
يُضْرَبُ بِمِطْرَقَةٍ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ
صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ إِلاَّ الثَّقَلَيْنِ
“বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তাকে পেছনে রেখে তার সাথীরা
চলে যায় (এতটুকু দূরে যে,) তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে
পায়। এমন সময় তার নিকট দু’জন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে দেন।
অতঃপর তাঁরা প্রশ্ন করেন: এই ব্যক্তি মুহাম্মদ ((ﷺ))! তাঁর সম্পর্কে তুমি কী বলতে?
তখন সে বলবে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি
আল্লাহ্র বান্দা এবং তাঁর রাসূল।
তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানের জায়গাটি দেখে
নাও, যার পরিবর্তে আল্লাহ তা‘আলা তোমার
জন্য জান্নাতে একটি স্থান নির্ধারিত করেছেন।
নাবী (ﷺ)
বলেন: তখন সে দু’টি স্থান একই সময় দেখতে পাবে।
আর কাফির বা মুনাফিক বলবে: আমি জানি না। অন্য লোকেরা যা বলত
আমিও তাই বলতাম।
তখন তাকে বলা হবে: না তুমি নিজে জেনেছ, না
কুরআন পড়ে শিখেছ।
অতঃপর তার দু’ কানের মাঝখানে লোহার মুগুর দিয়ে এমন জোরে
আঘাত করা হবে, যাতে সে চিৎকার করে উঠবে। তার আশেপাশের সবাই
তা শুনতে পাবে মানুষ ও জিন ছাড়া।
বুখারী-১৩৩৮-সহিহ মুসলিম-২৮৭০, ইসলামিক
ফাউন্ডেশন: ১২৫৭
নবি কারিম (ﷺ) বলতেন- اللَّهُمَّ إنِّي أعُوذُ
بِكَ مِنَ العَجْزِ والكَسَلِ والجُبْنِ والبُخْلِ والهَرَمِ وعَذابِ القَبْرِ
হে আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে আশ্রয়
প্রার্থনা করি ব্যর্থতা, অলসতা, ভীরুতা,
কৃপণতা, বার্ধক্য ও কবরের আজাব থেকে। সহিহ মুসলিম-৬৩৬৭
রমজান/শুক্রবারে মৃত্যুবরণ করলে আজাব মাফের দলীল:
হাদিস নং-০১
ইমাম রজব হাম্বলি তার কিতাব ‘আহলুল কুবুর ওয়া আহওয়ালু আহলিহা ইলান নুশুর’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-
روى باسناد ضعيف عن انس بن مالك
ان عذاب القبر يرفع عن الموتي في شهر رمضان
আনাস (রা.) থেকে দুর্বল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রমজন মাসে মৃত ব্যক্তি থেকে
কবরের আজব উঠিয়ে নেওয়া হয়। (আহলুল কুবুর ওয়া আহওয়ালু আহলিহা
ইলান নুশুর, পৃষ্ঠা : ১০৫
হাদিসটির সনদ সম্পর্কে মতামত:
ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) উপরিউক্ত রেওয়ায়েতের কোনো সনদ
উল্লেখ করেননি; আবার হাদিসটি কোন কিতাবের তাও উল্লেখ করেননি; অথচ এর
পরক্ষণেই তিনি জুমার দিনে মৃত্যু-সংক্রান্ত হাদিসটি মুসনাদে আহমদ এবং সুনানে
তিরমিজির উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। এটি যদি হাদিসের কোনো কিতাবে থাকতো তাহলে
অবশ্যই এর সূত্র উল্লেখ করতেন।
আকিদা শাস্ত্রের বিশিষ্ট ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে
সালেম ইবনে সুলায়মান আস সাফারিনি (রহ.) ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.)-এর পূর্বোক্ত কথা
অর্থাৎ রমজানে কবরের আজাব মাফ হয়ে যায় উপরিউক্ত বক্তব্য এবং কালাম শাস্ত্রের ইমাম
নাসাফি (রহ.)-এর এ জাতীয় একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন-
‘এটা তো ধারণামাত্র, যার স্বপক্ষে কোনো দলিল
নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর হাদিসের সামান্য স্বাদও আস্বাদন করেছে,
সে এধরনের হাদিসের দিকে কর্ণপাত করবে না। কেননা ইবনে রজব (রহ.) তো
দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে, কবরের আজাব রমজান মাসব্যাপী উঠিয়ে
নেওয়া হয়; অথচ জানা কথা হাদিসটি জয়িফ। এই ধরনের বড় বিষয়ে
(আকিদার বিষয়ে) জয়িফ হাদিসের ওপর নির্ভর করা হয় না। আল-বুহুরুজ জাখিরাহ : ১/২৪৬
হাদিস সং-০২
হযরত ইবনে মাসউদ
রা. থেকে বর্ণিত হাদিস-
من وافق موته عند انقضاء رمضان
دخل الجنة
রমজান সমাপ্তির সময়ে যার মৃত্যু সংঘটিত হয় সে জান্নাতে প্রবেশ
করবে। আবু নুআইম আসফাহানি, হিলইয়াতুল আওলিয়া : ৫/২৩
হাদিসটি সনদের মান:
হাদিসের একজন বর্ণনা হচ্ছেন, নাসর
ইবনে হাম্মাদ। তিনি নিতান্তই দুর্বল। এমনকি ইয়াহইয়া ইবনে মুঈন (রহ.) তাকে
মিথ্যাবাদী বলেছেন। আর আবুল ফাতাহ আজদি (রহ.) বলেন, সে একটি
হাদিস জাল করেছে।
হাদিস নং-০৩
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. সূত্রে বর্ণিত হয়েছে
যে, নবীজী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
مَا مِنْ مُسْلِمٍ
يَمُوتُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
أَوْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ
إِلَّا وَقَاهُ اللهُ
فِتْنَةَ الْقَبْرِ
যেকোনো মুসলমান জুমুআর দিনে অথবা রাতে মৃত্যু বরণ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফিৎনা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন।-মুসনাদে আহমদ: 11/147; তিরমিযি, হাদিস 1074
হাদিসটির সনদের মান: ইমাম তিরমিজি রহ. হাদিসটির সনদ গরিব।
البَرَكةُ مع أكابِرِكم
الراوي
: عبدالله بن عباس |
المحدث : السفاريني الحنبلي | المصدر
: شرح كتاب الشهاب |
الصفحة أو الرقم
: 48 | خلاصة
حكم المحدث
: إسناده صحيح |
التخريج : أخرجه ابن حبان
(559)، والطبراني في
((المعجم الأوسط)) (8991)،
وابن عدي في
((الكامل في الضعفاء))
(2/77)
হাদিস নং-০৪
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোনো মুসলমান জুমার দিন কিংবা
রাতে মৃত্যুবরণ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে নিরাপদ রাখেন।'
মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, বাইহাকি,
মিশকাত
হাদিসটির ব্যাখ্যায় এসেছে, এখানে ফেতনা দ্বারা কবরের
মুনকার-নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদের কথা বোঝানো হয়েছে।
উভয় প্রকার দলীলের সমন্বয়:
১. গুনাহগারের জন্য কবরের আজাবের বিষয়টি কোরআন হাদিসের অকাট্য দলিল দ্বারা
প্রমাণিত ( আল্লামা ইবনে কায়য়্যুম রহ. বলেন,
কবরে আজাব-সুখ সম্পর্কে ৫০ মুতাওয়াতির হাদিস
রয়েছে)। পক্ষান্তরে রমজানে মারা
গেলে আজাব মাফ তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নয়।
আর হাজারো অপরাধ করে জুমা-রমজানে মারা গেলেই মুক্তি পাবে কুরআন-হাদিস
বিরোধী। মুক্তির কথা ঈমান ও আমলের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেমন,
‘সময়ের কসম! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তারা ছাড়া যারা
ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে।’ সুরা আসর : আয়াত ১-২
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে এবং সৎ
কাজ করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্য আছে ফেরদাউস বেহেশত। সেখানে
তারা চিরস্থায়ী হবে; ওই স্থানের পরিবর্তে তারা অন্য স্থানে
স্থানান্তরিত হওয়াও কামনা করবে না।’ সুরা কাহফ : আয়াত
১০৭-১০৮
২. কেউ হয়তো বলতে পারেন, হাদিস দুর্বল হলে কী সমস্যা, দুর্বল হাদিস তো আমলের
ফজিলতের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। না, এটি আকিদা; এটি ফাজায়েলের বিষয় নয়। আর আকিদার ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিস কখনোই গ্রহণযোগ্য
হতে পারে না।
৩. আলী কারী রহ. তাঁর ‘মিনাহুর রওদিল আযহার ফি শরহে
ফিকহুল আকবার (পৃ. ২৯৫-২৯৬) এ একথাটিই বলেছেন। তিনি
বলেন-
ثبت في الجملة
ان من مات
يوم الجمعة او
ليلة الجمعة يرفع
العذاب عنه الا
أنه لا يعود
اليه الي يوم
القيامة فلا اعرف
له اصلا
‘‘জুমার দিনে বা জুমার রাতে যে মারা যাবে তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, এটা মোটামুটি প্রমাণিত। তবে
কিয়ামত পর্যন্ত আর (আজাব) ফিরে আসবে না একথার কোন ভিত্তি আমার জানা নেই।’’ মিনাহুর রওদিল আজহার ফি শরহে ফিকহুল আকবার :
২৯৫-২৯৬
৪. শিরক
ব্যতিত অন্য যেকোনো আল্লাহ বান্দাকে মাফ করতে পারেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন
বলেন, إِنَّ
اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا
دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ নিশ্চই
আল্লাহ শিরক ক্ষমা করবেন না এবং শিরক ছাড়া অন্য অপরাধের মধ্যে যেগুলো চান ক্ষমা
করবেন। -সূরা নিসা- ৪৮
সুতরাং প্রমাণিত হলো
রমজানে মারা গেলেই নাজাত পাবে, এ কথা সহিহ নয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
দুনিয়াবি উদ্দেশ্য কুরআন খতম জায়েজ কি |
|
জিজ্ঞাসা-১৫৮;
আসসালামু আলাইকুম। দুনায়াবী
কোন উদ্দোশ্য হাসিলের জন্য কোরআন খতম করা যাবে কি???????
( সম্মানিত ভাই আরটি, আবুল কালাম আজাদ, ৫৫ এমপি, যশোর, এর
প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: জাযাকাল্লাহ খয়র আমার সম্মানিত ভাইকে, যিনি এমন একটি প্রশ্ন করেছেন যা অনেক
উপকারি হয়েছে, কারণ
আল-বুরহানের পক্ষ থেকে
আমাদের আপগ্রেড-এর
জন্য কুরআন খতমের ব্যবস্থার ইচ্ছা আছে। যাই হোক, সেই সংশয় আগেই দূর হলো। হয়তো সেই সময়
অনেকে নাজায়েজ বলত। আপনার প্রশ্নকে সহজভাবে বুঝার জন্য কয়েকটি ভাবে ভাগ করেছি:-
প্রশ্ন: ক। নেক
আমলের অসিলায় দিয়ে দুআ করা কি জায়েজ?
উত্তর: ক। আল্লাহর
তাআলার রহমত আকৃষ্ট করার অন্যতম মাধ্যম হল নেক; নেক আমলের ওসীলা জায়েজ, এতে
কোন সন্দেহ নেই। এটা সর্বসম্মত মতানুসারে জায়েজ।
দলীল:
عَنْ أَبيْ عَبدِ الرَّحمَانِ
عَبدِ اللهِ بنِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنهما قَالَ : سمعتُ
رسولَ الله ﷺ يقول انطَلَقَ ثَلاثَةُ نَفَرٍ مِمَّنْ كَانَ
قَبْلَكُمْ حَتَّى آوَاهُمُ المَبيتُ إِلى غَارٍ فَدَخلُوهُ فانْحَدرَتْ صَخْرَةٌ
مِنَ الجَبَلِ فَسَدَّتْ عَلَيْهِمُ الغَارَ فَقَالُوْا : إِنَّهُ
لاَ يُنْجِيكُمْ مِنْ هذِهِ الصَّخْرَةِ إِلاَّ أنْ تَدْعُوا اللهَ بصَالِحِ
أعْمَالِكُمْ قَالَ رجلٌ مِنْهُمْ : اَللّٰهُمَّ كَانَ لِي أَبَوانِ
شَيْخَانِ كبيرانِ وكُنْتُ لا أغْبِقُ قَبْلَهُمَا أهْلاً ولاَ مالاً فَنَأَى بِي
طَلَب الشَّجَرِ يَوْماً فلم أَرِحْ عَلَيْهمَا حَتَّى نَامَا فَحَلَبْتُ لَهُمَا
غَبُوقَهُمَا فَوَجَدْتُهُما نَائِمَينِ فَكَرِهْتُ أنْ أُوقِظَهُمَا وَأَنْ
أغْبِقَ قَبْلَهُمَا أهْلاً أو مالاً فَلَبَثْتُ - والْقَدَحُ عَلَى يَدِي - أنتَظِرُ
اسْتِيقَاظَهُما حَتَّى بَرِقَ الفَجْرُ والصِّبْيَةُ يَتَضَاغَوْنَ عَندَ
قَدَميَّ فاسْتَيْقَظَا فَشَرِبا غَبُوقَهُما اَللّٰهُمَّ إنْ كُنْتُ فَعَلْتُ
ذلِكَ ابِتِغَاء وَجْهِكَ فَفَرِّجْ عَنا مَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ هذِهِ الصَّخْرَةِ
فانْفَرَجَتْ شَيْئاً لا يَسْتَطيعُونَ الخُروجَ مِنْهُ قَالَ الآخر : اَللّٰهُمَّ
إنَّهُ كانَتْ لِيَ ابْنَةُ عَمّ كَانَتْ أَحَبَّ النّاسِ إليَّ - وفي
رواية :
كُنْتُ
أُحِبُّها كأَشَدِّ مَا يُحِبُّ الرِّجَالُ النساءَ - فأَرَدْتُهَا
عَلَى نَفْسِهَا فامْتَنَعَتْ منِّي حَتَّى أَلَمَّتْ بها سَنَةٌ مِنَ السِّنِينَ
فَجَاءتْنِي فَأَعْطَيْتُهَا عِشْرِينَ وَمئةَ دينَارٍ عَلَى أنْ تُخَلِّيَ بَيْني
وَبَيْنَ نَفْسِهَا فَفعَلَتْ حَتَّى إِذَا قَدَرْتُ عَلَيْهَا - وفي
رواية :
فَلَمَّا
قَعَدْتُ بَينَ رِجْلَيْهَا قالتْ : اتَّقِ اللهَ وَلاَ تَفُضَّ
الخَاتَمَ إلاّ بِحَقِّهِ فَانصَرَفْتُ عَنهَا وَهيَ أَحَبُّ النَّاسِ إليَّ
وَتَرَكْتُ الذَّهَبَ الَّذِي أعْطَيتُها اَللّٰهُمَّ إنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذلِكَ
ابْتِغاءَ وَجْهِكَ فافْرُجْ عَنا مَا نَحْنُ فيهِ فانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ
غَيْرَ أَنَّهُمْ لا يَسْتَطِيعُونَ الخُرُوجَ مِنْهَا وَقَالَ الثَّالِثُ : اَللّٰهُمَّ
اسْتَأْجَرْتُ أُجَرَاءَ وأَعْطَيْتُهُمْ أجْرَهُمْ غيرَ رَجُل واحدٍ تَرَكَ
الَّذِي لَهُ وَذَهبَ فَثمَّرْتُ أجْرَهُ حَتَّى كَثُرَتْ مِنهُ الأمْوَالُ
فَجَاءنِي بَعدَ حِينٍ فَقالَ : يَا عبدَ اللهِ أَدِّ إِلَيَّ
أجْرِي فَقُلْتُ: كُلُّ مَا تَرَى مِنْ أجْرِكَ: مِنَ
الإبلِ وَالبَقَرِ والْغَنَمِ والرَّقيقِ فقالَ : يَا عبدَ اللهِ لاَ
تَسْتَهْزِىءْ بِي! فَقُلْتُ : لاَ أسْتَهْزِئ بِكَ فَأَخَذَهُ
كُلَّهُ فاسْتَاقَهُ فَلَمْ يتْرُكْ مِنهُ شَيئاً الَّلهُمَّ إنْ كُنتُ فَعَلْتُ
ذلِكَ ابِتِغَاءَ وَجْهِكَ فافْرُجْ عَنا مَا نَحنُ فِيهِ فانْفَرَجَتِ
الصَّخْرَةُ فَخَرَجُوا يَمْشُونَ مُتَّفَقٌ عليهِ
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন
উমার (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে
বলতে শুনেছি যে, তোমাদের পূর্বে (বনী ইসরাঈলের যুগে) তিন
ব্যক্তি একদা সফরে বের হল। চলতে চলতে রাত এসে গেল। সুতরাং তারা রাত কাটানোর জন্য
একটি পর্বত-গুহায় প্রবেশ করল। অল্পক্ষণ পরেই একটা বড় পাথর উপর থেকে গড়িয়ে নীচে এসে
গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। এ দেখে তারা বলল যে, এহেন বিপদ থেকে
বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে এই যে, তোমরা তোমাদের নেক
আমলসমূহকে অসীলা বানিয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ কর।’ সুতরাং তারা স্ব স্ব আমলের অসীলায় (আল্লাহর কাছে) দু‘আ করতে লাগল।
তাদের মধ্যে একজন বলল, হে
আল্লাহ! তুমি জান যে, আমার অত্যন্ত বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিল এবং
(এও জান যে,) আমি সন্ধ্যা বেলায় সবার আগে তাদেরকে দুধ পান
করাতাম। তাদের পূর্বে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও কৃতদাস-দাসী কাউকে
পান করাতাম না। একদিন আমি গাছের খোঁজে দূরে চলে গেলাম এবং বাড়ী ফিরে দেখতে পেলাম
যে পিতা-মাতা ঘুমিয়ে গেছে। আমি সন্ধ্যার দুধ দহন করে তাদের কাছে উপস্থিত হয়ে দেখলাম,
তারা ঘুমিয়ে আছে। আমি তাদেরকে জাগানো পছন্দ করলাম না এবং এও পছন্দ
করলাম না যে, তাদের পূর্বে সন্তান-সন্ততি এবং কৃতদাস-দাসীকে
দুধ পান করাই। তাই আমি দুধের বাটি নিয়ে তাদের ঘুম থেকে জাগার অপেক্ষায় তাদের শিয়রে
দাঁড়িয়ে থাকলাম। অথচ শিশুরা ক্ষুধার তাড়নায় আমার পায়ের কাছে চেঁচামেচি করছিল।
এভাবে ফজর উদয় হয়ে গেল এবং তারা জেগে উঠল। তারপর তারা নৈশদুধ পান করল। হে আল্লাহ!
আমি যদি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি বিধানের জন্য করে থাকি, তাহলে
পাথরের কারণে আমরা যে গুহায় বন্দী হয়ে আছি এ থেকে তুমি আমাদেরকে উদ্ধার কর। এই দু‘আর ফলস্বরূপ পাথর একটু সরে গেল। কিন্তু তাতে তারা বের হতে সক্ষম ছিল না।
দ্বিতীয়-জন দু‘আ করল,
হে আল্লাহ! আমার একটি চাচাতো বোন ছিল। সে আমার নিকট সকল মানুষের
চেয়ে প্রিয়তমা ছিল। (অন্য বর্ণনা অনুযায়ী) আমি তাকে এত বেশী ভালবাসতাম, যত বেশী ভালবাসা পুরুষরা নারীদেরকে বাসতে পারে। একবার আমি তার সঙ্গে যৌন
মিলন করার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু সে অস্বীকার করল। পরিশেষে সে যখন এক দুর্ভিক্ষের
কবলে পড়ল, তখন সে আমার কাছে এল। আমি তাকে এই শর্তে ১২০ দিনার
(স্বর্ণমুদ্রা) দিলাম, যেন সে আমার সঙ্গে যৌন-মিলন করে।
সুতরাং সে (অভাবের তাড়নায়) রাজী হয়ে গেল। অতঃপর যখন আমি তাকে আয়ত্তে পেলাম। (অন্য
বর্ণনা অনুযায়ী) যখন আমি তার দু’পায়ের মাঝে বসলাম, তখন সে বলল, তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং অবৈধভাবে (বিনা
বিবাহে) আমার সতীচ্ছদ নষ্ট করো না। সুতরাং আমি তার কাছ থেকে দূরে সরে গেলাম;
যদিও সে আমার একান্ত প্রিয়তমা ছিল এবং যে স্বর্ণমুদ্রা আমি তাকে
দিয়েছিলাম তাও পরিত্যাগ করলাম। হে আল্লাহ! যদি আমি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টির জন্য
করে থাকি, তাহলে তুমি আমাদের উপর পতিত মুসীবতকে দূরীভূত কর।’’
সুতরাং পাথর আরো কিছুটা সরে গেল। কিন্তু তাতে তারা বের হতে সক্ষম
ছিল না।
তৃতীয়জন দু‘আ করল,
হে আল্লাহ! আমি কিছু লোককে মজুর রেখেছিলাম। (কাজ সুসম্পন্ন হলে) আমি
তাদের সকলকে মজুরী দিয়ে দিলাম। কিন্তু তাদের মধ্যে একজন মজুরী না নিয়ে চলে গেল।
আমি তার মজুরীর টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করলাম। (কিছুদিন পর) তা থেকে প্রচুর অর্থ জমে
গেল। কিছুকাল পর একদিন সে এসে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি
আমার মজুরী দিয়ে দাও। আমি বললাম, এসব উঁট, গাভী, ছাগল এবং গোলাম (আদি) যা তুমি দেখছ তা সবই
তোমার মজুরীর ফল। সে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার
সঙ্গে উপহাস করবে না। আমি বললাম, আমি তোমার সঙ্গে উপহাস
করিনি (সত্য ঘটনাই বর্ণনা করছি)। সুতরাং আমার কথা শুনে সে তার সমস্ত মাল নিয়ে চলে
গেল এবং কিছুই ছেড়ে গেল না। হে আল্লাহ! যদি আমি এ কাজ একমাত্র তোমার সন্তুষ্টি
লাভের জন্য করে থাকি, তাহলে যে বিপদে আমরা পড়েছি তা তুমি
দূরীভূত কর। এর ফলে পাথর সম্পূর্ণ সরে গেল এবং সকলেই (গুহা থেকে) বের হয়ে চলতে
লাগল। বুখারী ২২৭২ মুসলিম ২৭৪৩
এ হাদিস দ্বারা
প্রমাণিত হলো নেক আমলের ওসিলায় দিয়ে দুআ করলে দুআ কবুল হওয়া সম্ববনা বেশি।
প্রশ্ন: খ। কুরআন
তেলাওয়াত নেক আমল কিনা?
উত্তর: খ। কোরআন
তিলাওয়াতকে সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রসূল (ﷺ)। যেমন তিনি বলেন,
أفضلُ عبادةِ أمَّتي تلاوةُ القرآنِ الراوي:أنس بن مالك والنعمان بن بشير المحدث:العراقي المصدر:تخريج الإحياء الجزء أو الصفحة:1/363
অর্থাৎ আমার উম্মতের
শ্রেষ্ঠ ইবাদত হল কুরআন তেলাওয়াত। বাইহাকি-১/৩৬৩
অপর
হাদিসে এসেছে ‘কোরআন
তিলাওয়াত শ্রেষ্ঠ ইবাদত। তোমরা কোরআন তিলাওয়াত কর, কারণ কিয়ামতের দিন
কোরআন পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে।’ সহিহ মুসলিম
প্রশ্ন: গ। কুরআন
তেলাওয়াত করার পর দুআ করা জায়েজ আছে?
উত্তর: গ। হ্যাঁ, জায়েজ
আছে। কুরআন তেলাওয়াত করার পর রসূল (ﷺ) দুআ
করতে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। দলীল:
مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فليسأل
الله بِهِ فَإِنَّهُ سَيَجِيءُ أَقوام يقرؤون الْقُرْآنَ يَسْأَلُونَ بِهِ
النَّاسَ
অর্থ: যে ব্যক্তি কুরআন
পড়ে সে যেন বিনিময়ে আল্লাহর কাছে কিছু চায়। খুব তাড়াতাড়ি এমন কিছু লোকের আগমন ঘটবে
যারা কুরআন পড়ে বিনিময়ে মানুষের কাছে হাত পাতবে। তিরমিযী হাদীস নং- ২৯১৭, ইবনু
আবী শায়বাহ হাদীস নং- ৩০০০২, আহমাদ হাদীস নং- ১৯৮৮৫৷ আলবানী
রাহ. এর সনদ হাসান বলেছেন৷
প্রশ্ন: ঘ। দুনিয়াবি
কাজে (যেমন, চিকিৎসা, নেক উদ্দেশ্য
হাসিল) কুরআন ব্যবহার করা জায়েজ কি?
উত্তর: ঘ। হ্যাঁ, দুনায়াবী কোন উদ্দোশ্য হাসিলের জন্য কোরআন খতম/তেলাওয়াত জায়েজ আছে। দলীল:
সহীহ বোখারীতে ইবনে
আব্বাস রাযি থেকে বর্ণিত,
হাদীসের শেষাংশে বর্ণিত
فَقَالُوا: يَا
رَسُولَ اللَّهِ، أَخَذَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ
عَلَيْهِ أَجْرًاكِتَابُ اللَّهِ»
সাহাবায়ে কেরামের একাংশ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
কে জিজ্ঞাসা করলেন,হে রাসূলুল্লাহ! আমাদের দলের কিছু লোক কুরআন
দ্বারা চিকিৎসা করে বিনিময় গ্রহণ করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
প্রতি উত্তরে বললেন, 'তোমরা যে সব বিনিময় গ্রহণ করো এর মধ্যে
বিনিময় গ্রহণের সবচেয়ে বেশী উপযোগী হল কুরআনে কারীম' সহীহ
বোখারী-৫৭৩৭,সহীহ মুসলিম-২২০১
সুতরাং প্রমাণিত হলো
দুনিয়াবি উদ্দেশ্য কুরআন তেলাওয়াত/খতম জায়েজ।
উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)
|
মসজিদের বারান্দায়
নামাজ পড়া কি জায়েজ? |
|
|
আসসালামু আলাইকুম,
জিজ্ঞাসা-১৫৯: মসজিদের ভিতরে প্রচন্ড গরম হলে
মসজিদের বারান্দায় ফরজ নামাজের জামায়াত করা যাবে কি?
( সম্মানিত ভাই আরটি মোঃ জালাল উদ্দিন, ৯ সিগন্যাল
ব্যাটালিয়ন,
সাভার সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: ওয়লাইকুমুস সালাম ওয়া
রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ। যদি মসজিদের বারান্দাও মসজিদে হিসেবে নির্মিত হয়ে
থাকে। তাহলে সেটি মসজিদের হুকুমেই থাকবে। তাই বারান্দায় নামায পড়া মসজিদে নামায
পড়ার হুকুমেই হবে। সেই হিসেবে প্রয়োজনে বারান্দায় জামাত পড়লেও মসজিদের জামাত
হিসেবে ধর্তব্য হবে। দলীল:
رَجُلٌ لَهُ سَاحَةٌ لَا
بِنَاءَ فِيهَا أَمَرَ قَوْمًا أَنْ يُصَلُّونَ فِيهَا بِجَمَاعَةٍ فَهَذَا عَلَى
ثَلَاثَةِ أَوْجُهٍ: أَحَدُهَا إمَّا أَنْ أَمَرَهُمْ
بِالصَّلَاةِ فِيهَا أَبَدًا نَصًّا، بِأَنْ قَالَ: صَلُّوا
فِيهَا أَبَدًا. أَوْ أَمَرَهُمْ بِالصَّلَاةِ مُطْلَقًا
وَنَوَى الْأَبَدَ. فَفِي هَذَيْنِ الْوَجْهَيْنِ صَارَتْ
السَّاحَةُ مَسْجِدًا لَوْ مَاتَ لَا يُورَثُ عَنْهُ، (الفتاوى
الهندية، كتاب الوقف، الباب الحادى عشر فى المسجد-2/455، خانية على الهندية-3/290)
অর্থ: মসজিদের
সাথে যুক্ত বর্ধিতাংশকে বারান্দা বলা হলেও মূলত তা মসজিদের অংশবিশেষ এবং তাতে
মসজিদের আদব-ইহতেরামের সকল হুকুমই প্রযোজ্য হবে। তাই ইতিকাফকারীগণও সেখানে যেতে
পারবেন। তবে নির্মাণের সময়ই যদি কর্তৃপক্ষ তা মসজিদের অন্তর্ভুক্ত না করে তবে
সেক্ষেত্রে ঐ বর্ধিতাংশ মসজিদের অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং মসজিদের হুকুমও তাতে
প্রযোজ্য হবে না।
উল্লেখ্য, আমাদের
দেশের মসজিদগুলোতে যে বারান্দা থাকে তা সাধারণত মসজিদের অন্তর্ভুক্তই হয়ে থাকে।
কারণ, নির্মাণকারীগণ তা মসজিদের বাহিরের জায়গা হিসাবে
নির্মাণ করেন না।
সূত্র: ফাতাওয়া
খানিয়া ১/৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৫; আলবাহরুর
রায়েক ১/৩৬৩; রদ্দুল মুহতার ১/৫৮৫ {ইফতা
বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)থেকে সংকলিত}
উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)
০১৭৩৫-৭৯১৩৮২, ০১৮৮৭৭০১৬৫৬
|
ফজরের সুন্নাত ফরজের পরে আদায় করা প্রসঙ্গে |
আসসালামু আলাইকুম,
জিজ্ঞাসা-১৬০: ফযরের সুন্নত জামাতের আগে না পড়তে পারলে, কখন
পড়া যেতে পারে? বিষয়টি দালিলিকভাবে স্পষ্ট করা দরকার।
সম্মানিত ভাই প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব আরটি আবু বকর, 4বীর
মোমেনশাহী সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলেকে
জবাব: ওয়লাইকুমুস সালাম ওয়া
রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ। জাযাকাল্লাহ খয়র আমার স্নেহের ভাইকে তিনি এমন একটি
গুরুত্বপূর্ণ সওয়াল করেছেন, (যা আমার মনের কামনা ছিল যে, এ সংক্রান্ত প্রশ্ন আসুক) যা আমাদের সমাজে মহামারি
রূপ ধারণ করেছেন। আপনার প্রশ্নকে সহজে বুঝার জন্য কয়েকটিভাবে ভাগ করে
উপস্থাপন করছি:
প্রশ্ন: ক। জামাত/ফজরের
জামাত শুরু হলে সুন্নাত পড়া যাবে কি?
উত্তর: ক। ফজরের জামাত শুরু হলে সুন্নাত
পড়া যাবে কি না এ সম্পর্কে দুটি মত পাওয়া যায়।
প্রথম মত:
আহলে হাদিসের মতে
কোনো ওয়াক্তে জামাত শুরু হলে সুন্নাত পড়া যাবে না। তাদের দলীল:
হাদিস শরিফে এসেছে
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا
المكتوبة
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যখন নামায (জামাত) শুরু হয়, তখন ফরজ নামায ছাড়া আর কোন নামায নেই। সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৪২১
দ্বিতীয় মত:
জমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে, ফজর সুন্নাত ব্যতিত কোন
ওয়াক্তেই জামাত শুরু হলে সুন্নাত পড়া যাবে
না। অর্থাৎ শুধু মাত্র ফজরের সুন্নাত ব্যতিক্রম। তাদের দলীল:
হাদিস নং-০১
عن عائشة رضي الله عنها قالت: لم يكن النبي صلى الله عليه و سلم على شيء من النوافل أشد منه تعاهدا
على ركعتي الفجر
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এর মত কোন নফল
নামাযকে এত হিফাযত ও গুরুত্ব প্রদানকারী ছিলেন না। বুখারী-১১১৬, সহীহ
ইবনে হিব্বান-২৪৬৩
হাদিস নং-০২
عن عائشة عن النبى -صلى الله عليه وسلم- قال «
ركعتا الفجر خير من الدنيا وما
فيها
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ দুনিয়া ও তাতে যা কিছু আছে
তা থেকে ফজরের দুই রাকাত উত্তম। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭২১, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১৬৫০, সহীহ
ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১১০৭
হাদিস নং-০৩
عن أبى هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : لا تتركوا ركعتي الفجر ولو طردتكم الخيل
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের
পশ্চাদ্ধাবন করলেও তোমরা ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] ছেড়ো না। তাহাবী শরীফ-১৬৪৭, সুনানে আবু দাউদ-১২৬০, সুনানে বায়হাকী কুবরা-৪২৫৭, মুসনাদে আহমাদ-৯২৫৩
হাদিস নং-০৪
আবু হুরায়রা রা.
থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
বলেছেন-
لا تدعوهما، وإن طردتكم الخيل.
তোমরা এই দুই রাকাত কখনো ত্যাগ করো না, শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস
১২৫৮
সম্মানিত পাঠক, আমরা উপরোক্ত সহিহ হাদিসগুলো দ্বারা ফজরের সুন্নাতের গুরুত্ব
উপলদ্ধি করলাম। এরকম তাকীদ আর কোন সুন্নত নামাযের ক্ষেত্রে রাসূল (ﷺ) করেননি। আমরা সবাই জানি যে, প্রতিটি বস্তু তার ঠিক সময়ে আদায় করাই
উক্ত ইবাদতের দাবি। ফজরের দুই রাকাত আদায়ের সময় হল ফজরের ফরজ পড়ার আগে পরে না,
যদি পরে আদায় করতে হয়।
এ ক্ষেত্রে আমাদের
করণীয় হলো বড় বড় সাহাবিরা কি আমল করেছেন। যেহেতু তারা রসূলের সোহবতে ছিলেন, হাদিস শুনেছেন,আমর করেছেন। সাহাবিদের এক বিশাল জামাত ফরজের জামাত শুরু হওয়ার পরও সুন্নাত
পরেছেন। তাদের মধ্যে হলেন, ফক্বীহ সাহাবাগণের অন্যতম হযরত
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ
বিন আব্বাস রাঃ, হযরত আবু দারদা রাঃ, রাসূল
(ﷺ) এর একনিষ্ট
ভক্ত ও প্রতিটি কাজের একনিষ্ট অনুসারী হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ । দলীল:
আসার নং-০১
عبد الله بن أبى موسى عن أبيه : حين دعاهم سعيد بن العاص دعا أبا موسى وحذيفة وعبد الله بن مسعود رضي
الله عنهم قبل أن يصلى الغداة ثم خرجوا من عنده وقد أقيمت الصلاة فجلس عبد الله
الى أسطوانة من المسجد فصلى الركعتين ثم دخل في الصلاة فهذا عبد الله قد فعل هذا
ومعه حذيفة وأبو موسى لا ينكران ذلك عليه فدل ذلك على موافقتهما إياه (شرح معانى الأثار، كتاب الصلاة، باب الرجل يدخل المسجد
والإمام في صلاة الفجر ولم يكن ركع أيركع أو لا يركع، رقم الحديث- 2037
আব্দুল্লাহ বিন মুসা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা সাঈদ বিন মুসা হযরত আবু
মুসা আশআরী রাঃ, হযরত হুযায়ফা রাঃ এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন
মাসউদ রাঃ কে ডাকলেন ফজরের নামাযের আগে। তারপর তারা বের হলেন তার [সাঈদ বিন মুসা
রাঃ] নিকট থেকে এমতাবস্থায় যে, [ফজরের] নামায দাঁড়িয়ে
গেছে। তখন আব্দুল্লাহ মসজিদের এক স্তম্ভের কাছে বসে গেলেন। তারপর দুই রাকাত [ফজরের
সুন্নাত] নামায পড়লেন। তারপর নামাযে [ফরজের জামাতে] শরীক হলেন। আব্দুল্লাহ বিন
মাসউদ রাঃ একাজটি করলেন। সাথে ছিলেন হুযায়ফা ও আবু মুসা রাঃ। কিন্তু তাদের কেউ
এটা বারন করেননি। সুতরাং এটি প্রমাণ বহন করে যে, তারাও এতে
রাজি ছিলেন। তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৩৭
আসার নং-০২
عن أبى إسحاق عن عبد الله بن أبى موسى عن عبد الله : انه دخل المسجد والإمام في الصلاة فصلى ركعتي الفجر (رقم الحديث-2038)
আব্দুল্লাহ বিন আবী মুসা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা
করেন যে, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, ইমাম
সাহেব ছিলেন নামাযে, তখন তিনি [আগে] ফজরের দুই রাকাত
[সুন্নত] পড়লেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস
নং-২০৩৮}
আসার নং-০৩
عن أبى مجلز قال : دخلت المسجد في صلاة الغداة مع بن عمر وابن عباس رضي الله عنهم
والإمام يصلى فأما بن عمر رضي الله عنهما فدخل في الصف وأما بن عباس رضي الله
عنهما فصلى ركعتين ثم دخل مع الإمام (رقم الحديث-3029
আবী মিজলাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ফজরের নামাযে একদা
ইবনে ওমর রাঃ, ইবনে আব্বাস রাঃ এর সাথে মসজিদে প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব নামায পড়াচ্ছিল। তখন ইবনে ওমর রাঃ কাতারে শামিল হয়ে গেলেন।
আর ইবনে আব্বাস রাঃ দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন। তারপর ইমামের সাথে নামাযে শরীক
হলেন। শরহু মাআনিল আসার, হাদীস নং-৩০২৯
عن أبى عثمان الأنصاري قال : جاء عبد الله بن عباس والإمام في صلاة الغداة ولم يكن صلى الركعتين
فصلى عبد الله بن عباس رضي الله عنهما الركعتين خلف الإمام ثم دخل معهم وقد روى عن
بن عمر مثل ذلك
আবু উসমান আলআনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ বিন
আব্বাস এমতাবস্থায় এলেন যে, ইমাম সাহেব ফজরের নামায পড়াচ্ছিলেন। আর তিনি ফজরের [সুন্নত]
দুই রাকাত পড়েননি। তাই আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন
ইমামের পিছনে। তারপর তিনি ইমামের সাথে শরীক হলেন। ইবনে ওমর রাঃ এর ব্যাপারেও এমনি
বর্ণিত। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৪০}
আসার নাং-০৪
نافعا يقول :
أيقظت بن عمر رضي الله عنهما
لصلاة الفجر وقد أقيمت الصلاة فقام فصلى الركعتين
হযরত নাফে বলেনঃ আমি ইবনে ওমর রাঃ কে ফজরের নামাযের জন্য
জাগালাম এমতাবস্থায় যে, ফজরের নামায জামাত দাঁড়িয়ে গেছে। তখন তিনি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত]
পড়লেন। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস
নং-২০৪২}
আসার নং-০৫
عن أبى الدرداء : أنه كان يدخل المسجد والناس صفوف في صلاة الفجر فيصلى ركعتين في
ناحية المسجد ثم يدخل مع القوم في الصلاة
আবু দারদা থেকে বর্ণিত। তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন
এমতাবস্থায় যে, লোকেরা ফজরের নামাযের কাতারে ছিল, [তথা নামায শুরু
করে দিয়েছে] তখন তিনি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন মসজিদের কিনারায়,তারপর লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলেন। {তাহাবী শরীফ,
হাদীস নং-২০৪৪}
আসার নং-০৬
عن أبى عثمان النهدي قال : كنا نأتي عمر بن الخطاب رضي الله عنه قبل أن نصلى ركعتين قبل الصبح
وهو في الصلاة فنصلى ركعتين في آخر المسجد ثم ندخل مع القوم في صلاتهم
আবু উসমান আননাহদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা ওমর বিন খাত্তাব রাঃ এর
কাছে এলাম ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত পড়ার আগে। তখন তিনি নামাযরত ছিলেন। তখন আমরা
মসজিদের শেষ মাথায় ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লাম। তারপর লোকদের সাথে নামাযে
শরীক হলাম। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস
নং-২০৪৬}
আসার নং-০৭
الشعبي يقول :
كان مسروق يجىء الى القوم وهم في
الصلاة ولم يكن ركع ركعتي الفجر فيصلى ركعتين في المسجد ثم يدخل مع القوم في
صلاتهم
শাবী থেকে বর্ণিত। মাসরূক লোকদের কাছে এমন সময় এলেন যখন
তারা নামায পড়ছিল। তিনি সে সময় ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়েন নি। তাই তিনি
মসজিদে দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন,তারপর লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলেন। তাহাবী
শরীফ-২০৪৮
আসার নং-০৮
يزيد بن إبراهيم عن الحسن : أنه كان يقول إذا دخلت المسجد ولم تصل ركعتي الفجر فصلهما وان كان
الإمام يصلى ثم ادخل مع الإمام
ইয়াযিদ বিন ইবরাহীম হাসান [বসরী রহঃ} থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন
যে, তুমি যদি এমতাবস্থায় মসজিদে প্রবেশ কর যে, তুমি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়নি, তাহলে তা পড়
যদিও ইমাম নামায পড়াচ্ছে। তারপর ইমামের সাথে শরীক হও। তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৫০
আসার নং-০৯
উবায়েদ ইবনে হাসান থেকে বর্ণিত, আমি (আবদুর রহমান) ইবনে মাকিল
রাহ.-কে দেখেছি, তিনি (মসজিদের) দরজায় ফজরের দুই রাকাত
(সুন্নত) পড়েছেন। -প্রাগুক্ত, বর্ণনা ৬৪৮৭
حدثنا وكيع، عن مسعر، عن عبيد بن الحسن، قال: رأيت ابن معقل صلى الركعتين قبل الفجر في السدة.
এছাড়া ইকরিমা ও ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. থেকেও মসজিদের ভেতরে
ফজরের সুন্নত পড়ার কথা প্রমাণিত। ইমাম ইবনে বাত্তাল রাহ. (৪৪৯হি.) তাঁর সহীহ
বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (২/২৮৬) উমর রা.-এর আমলও অনুরূপ ছিল বলে উল্লেখ করেছেন।
আর মসজিদের বাইরে পড়া আরো প্রমাণিত আতা ইবনে আবী রাবাহ ও হাম্মাদ ইবনে আবী
সুলায়মান রাহ. থেকে।
সুপ্রিয় পাঠক! যাদের মাধ্যমে আমরা দ্বীন-হাদিস পেলাম, তাদের বুঝ নিরাপদ না আমাদের বুঝ নিরাপদ?
বিকেরে কাছে প্রশ্ন থাকল? এখন অনেকে প্রশ্ন
করতে পারেন যে, আমরা হাদিস থাকতে সাহাবি-তাবেয়িদেরকে কেন অনুসরণ করবো, প্রিয় ভাই, আপনার কি এই হাদিস চোখে পড়েনি যে,
খুলাফা-সাহাবা-তাবেয়িদেরকে
আল্লাহর রসূল অনুসরণ করতে বলেছেন।
অত্রতব, প্রমাণিত হলো শুধু ফজরের বেলায় জামাত শুরু হলেও সুন্নাত পড়া
যাবে।
প্রশ্ন: খ। কোন সময় জামাতে শরিক হব?
উত্তর: খ। ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, ফজরের দুই রাকাত সুন্নত জামাত শুরু হলেও পড়ে নিতে হবে যদি জামাত এক রাকাত
পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি সম্ভাবনা না
থাকে, তাহলে সুন্নত বাদ দিয়ে ফরজ পড়ে নিবে। হেদায়া
গ্রন্থকার ইমাম মারগিনানী (৫৯৩হি.) রাহ. বলেন,
(ومن انتهى إلى الإمام في صلاة الفجر وهو لم يصل ركعتي الفجر، إن خشي
أن تفوته ركعة ويدرك الأخرى، يصلي ركعتي الفجر عند باب المسجد، ثم يدخل)، لأنه أمكنه الجمع بين الفضيلتين،
(وإن خشي فوتهما دخل مع الإمام)، لأن ثواب الجماعة أعظم والوعيد
بالترك ألزم، ...والتقييد بالأداء عند باب المسجد يدل على الكراهة في
المسجد إذا كان الإمام في الصلاة، والأفضل في عامة السنن والنوافل المنزل، هو
المروي عن النبي عليه الصلاة والسلام.
অর্থাৎ, যে মসজিদে
গিয়ে দেখে, ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেছে কিন্তু তার সুন্নত পড়া
হয়নি, যদি তার মনে হয় যে, সুন্নত পড়লে
জামাতের এক রাকাত ছুটে গেলেও আরেক রাকাত পাওয়া যাবে, তাহলে
মসজিদের দরজায় সুন্নত পড়ে নিবে। তারপর জামাতে শরীক হবে। কারণ এখানে উভয় ফযীলতের
(ফজরের সুন্নতের ফযীলত ও জামাতের ফযীলত) মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে। আর যদি মনে
হয় যে, উভয় রাকাত ছুটে যাবে তাহলে জামাতে শরীক হয়ে যাবে।
কারণ জামাতের মর্যাদা বেশি এবং তা পরিত্যাগ করার ব্যাপারে সতর্কবাণী এসেছে।
প্রশ্ন: গ। ফজরের সুন্নাত কখন আদায় করবে,
যা আগে পড়া হয়নি?
উত্তর: গ। উপরোক্ত ছুরতেও যখন ফরজের সুন্নাত আদায় করা
সম্ভব হবে না, তখন সুন্নাতটি সূর্যোদয়ের পরে আদায় করবে। দলীল:
হাদিস নং-০১
فى
موطا مالك- وحدثني
عن مالك أنه
بلغه أن عبدالله
بن عمرفاتته ركعتاالفجرفقضاهمابعدأنطلعت الشمس(
موطا مالك النداءللصلاة،باب ماجاءفي
ركعتي الفجر،رقم-422
অনুবাদ-হযরত ইমাম মালেক রহ: বলেন, আমি জেনেছি যে, আবদুল্লাহ বিন ওমর রা: এর ফজরের দুই রাকাআত ছুটে গিয়েছিল। তিনি তা
সূর্যোদয়ের পর আদায় করেন। মুয়াত্তা মালিক-৪৫
হাদিস নং-০২
وفى
جامع الترمذى- عن
أبي هريرة قال
: قال رسول الله
صلى الله عليه
وسلم من لم
يصل ركعتي الفجرفليصلهمابعدماتطلع الشمس
(جامع الترمذى-أبواب
الصلاةعن رسول الله
صلى الله عليه
وسلم، باب ماجاءفي
إعادتهمابعدطلوع الشمس،رقم-423)
অনুবাদ-হযরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত যে, নবীজি সা: বলেন-যে ফজরের দুই
রাকআত সুন্নত (সময়মতো) পড়ল না সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা আদায় করে। জামে তিরমিজী-৪২৩
হাদিস নং-০৩
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা: বলেন-আমি নবীজি (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, ফজরের নামাযের পর সূর্য উদিত
হওয়া পর্যন্ত কোন নামায নেই, এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া
পর্যন্ত কোন নামায নেই। সহীহ বুখারী-১/৮২
হাদিস নং-০৪
আমর বিন আবাসা আস সুলামী রা: বলেন-আমি বললাম-হে আল্লাহর
নবী! আপনি আমাকে নামায সম্পর্কে শিক্ষা দিন, রাসুলুল্লাহ সা: বললেন-ফজরের নামায আদায়
করবে। তারপর সূর্য পূর্বাকাশে উঁচু হওয়া পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা
সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যখানে উদিত হয়, এবং সে সময়
কাফেররা সূর্যকে সিজদা করে। সহীহ মুসলিম-১/২৭৬
ফজরের ফরজের পর সুন্নাত আদায়ের দলীল:
কায়েস রা: বলেন-রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মসজিদে) তাশরীফ আনলেন। আমি তাঁর সঙ্গে ফজরের নামায পড়লাম। নামায শেষে
প্রস্থানের সময় তিনি দেখলেন, আমি নামায পড়ছি। তিনি তখন
বললেন-কায়েস! তুমি দুই নামায একসাথে পড়ছো কেন? আমি বললাম আমার
ফজরের দুই রাকআত (সুন্নত) পড়া হয়নি। তখন নবী (ﷺ) فلا اذن তাহলে
অসুবিধা নেই/তবুও অনুমতি নেই।
এই হাদিসের জবাব :
আমরা ভালো করে খেয়াল করলে বুঝব যে, উক্ত হাদিস দিয়ে দলিল দেয়া
শুদ্ধ হবেনা দুটি কারণে। যথা-
১. উক্ত হাদিসের ” فلا اذن “শব্দটি দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট নয়। এর অর্থ দু’টি হতে পারে তথা-ক. কোন অসুবিধা নেই। খ. তারপরও অনুমতি নেই। সুতরাং যেহেতো
স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছেনা নবীজির শব্দ দ্বারা কী উদ্দেশ্য তাই এটিকে দলিল ছাড়া মেনে
নেবার কোন যুক্তি নেই। অন্যদিকে নিষিদ্ধতার হাদিস স্পষ্ট বুঝাচ্ছে যে, এ সময় নামায পড়া জায়েজ নয়, এবং এর কাযা করবে সূর্য
উদিত হবার পর, যেমন পূর্বে বর্ণিত বুখারী মুসলিম ও মুয়াত্তা
মালিক ও তিরমিজী শরীফের হাদিস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়।
২.উক্ত হাদিসটি মুরসাল তথা এর সূত্র নিরবচ্ছিন্ন নয়। যেমন
ইমাম তিরমিজী রহ: এই হাদিস বর্ণনা করার পর উক্ত হাদিসের ব্যাপারে মন্তব্য করেন-وإنمايروى هذاالحديث مرسلا…….وإسنادهذاالحديث ليس بمتصل
অনুবাদ-বর্ণাটি মুরসাল, এর সনদ মুত্তাসিল(নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে) নয়।
কেননা মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম কায়েস থেকে শোনেননি।
প্রশ্ন: ঘ। সুন্নাত/ফজরের সুন্নাত
কোথায় আদায় করবে?
উত্তর: ঘ। জামাতের কাতারে সুন্নাত পড়া
মাকরুহ। তাই কাতার থেকে বিচ্ছিন্ন এক জায়গায় সুন্নাত আদায় করবে। কিফায়াতুল মুফতী ৪/৫৫১
عن أبي سلمة بن عبد
الرحمن أنه قال: سمع قوم الإقامة فقاموا يصلون، فخرج عليهم رسول الله
صلى الله عليه و سلم فقال: أصلاتان معا؟ أصلاتان معا؟ وذلك في صلاة الصبح في
الركعتين اللتين قبل الصبح.
আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, কিছু সাহাবী ইকামত শুনে (ফজরের
সুন্নত) নামায পড়তে দাঁড়ালেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
তাঁদের মধ্যে আগমন করলেন। বললেন, দুই নামায এক
সাথে? দুই নামায এক সাথে? -মুয়াত্তা
মালেক ১/৯৮
উক্ত হাদিসের ভিত্তিতে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, একই জায়গায় ফরয ও সুন্নত নামাযের মিশ্রণ হয়ে যায়, এতে জামাতের গুরুত্ব কমে যায়,
জামাতের মধ্যে বিশৃংখলা দেখা দেয়, ইমামের
বিরোধিতা হয়, তাই জামাতের কাতারে সুন্নাত পড়া নিষেধ। বিদায়াতুল
মুজতাহিদ ১/২৫৮
والله
اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
বদলি হজ প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৬১:
১.সৌদিতে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশে
অবস্থানরত কোন ব্যক্তির বদলি হজ্জ আদায় করেন তাহলে তা কি যথেষ্ট হবে? হজ্জ আদায়কারীকে কি পূর্ণ হজ্জ প্যাকেজের খরচ দিতে হবে?
২. এক ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্বে ওসিয়ত করে গেলেন
তার ফরজ হজ্জ যেন আদায় করা হয়। তার ওয়ারিশদের মধ্যে দুইজন নাবালেগ রয়েছে এবং তিনি
স্থাবর সম্পদ ব্যতীত কিছু রেখে যাননি। এক্ষেত্রে করণীয় কী?
৩. এ বছর সৌদি সরকার 65 বছরের উর্ধ্বের প্রবীণদের হজ্জ করার সুযোগ দিচ্ছে না। তাঁরা কি বদলি হজ্জ করাবেন, নাকি অন্য কোন পদ্ধতি অনুসরণ করবেন?
( সম্মানিত, আমার পরম শ্রদ্ধেয় বড়
ভাই!
আরটি নূরুল আমীন, ৪৫ ফিল্ড এম্বুলেন্স, শহীদ মাহবুব সেনানিবাস খোলাহাটী, দিনাজপুর –এর প্রশ্নের আলোকে)
জবাব:
প্রশ্ন: ১। সৌদিতে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশে অবস্থানরত কোন ব্যক্তির বদলি হজ্জ
আদায় করেন তাহলে তা কি যথেষ্ট হবে? হজ্জ আদায়কারীকে
কি পূর্ণ হজ্জ প্যাকেজের খরচ দিতে হবে?
উত্তর: ১। প্রথমে দেখতে হবে, প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তি নিজেই হজ করতে সক্ষম কি না, যদি সক্ষম হয়, তাহলে বদলী হজ করালে এর দ্বারা তার ফরয হজ্ব আদায় হবে
না।-হিদায়া ১/২৯৬; আলবাহরুল আমীক ৪/২২৩৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৪
দ্বিতীয়ত, বদলী
হজ্বের জন্য নিজ দেশ থেকেই কাউকে পাঠাতে হবে। নিজ দেশ থেকে কাউকে পাঠানোর সামর্থ্য
থাকা সত্ত্বেও অন্য দেশে অবস্থানরত কাউকে দিয়ে বদলী হজ্ব করানো হলে প্রেরণকারীর
ফরয হজ্ব আদায় হবে না। এক্ষেত্রে নিজ দেশ থেকে পুনরায় বদলী হজ্ব করাতে
হবে।-মানাসিক ৪৪০; গুনইয়াতুন নাসিক ৩২৯; রদ্দুল মুহতার ২/৬০৫
সুতরাং সৌদি আরবে
অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশে অবস্থানকারী কারও পক্ষ থেকে বদলি হজ আদায় করতে
পারবে না।
নোট: উক্ত ব্যক্তি (সৌদি আরবে অবস্থানরত) সম্পর্কে আরও জেনে নেওয়ার জন্য কোন বিজ্ঞ মুফতি বা ইফতা বিভাগে যোগযোগ করার
অনুরোধ রইল। (উপকারার্থে আল মারকাযুদ দাওয়া ঢাকা এর ইফতা বিভাগের নাম্বার দিচ্ছি-
০১৭১১-৯৬১৩৭৪)
তৃতীয়ত কথা হলো, যার পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করা হচ্ছে হজ্বের অধিকাংশ খরচ তাকেই বহন করতে হবে।
যদি কেউ সম্পূর্ণ নিজের খরচে কারো পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করে তাহলে এর দ্বারা
প্রেরণকারীর ফরয হজ্ব আদায় হবে না। তবে প্রেরিত ব্যক্তি কিছু খরচ নিজের পক্ষ থেকে
বহন করলে অসুবিধা নেই।
হযরত আলী রা. অতিশয় বৃদ্ধ লোকের সম্পর্কে
বলেছেন, সে কাউকে তার পক্ষ থেকে হজ্বে পাঠাবে এবং
হজ্বের খরচ বহন করবে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/৫৯৯; সুনানে
বায়হাকী ৫/২৬; মানাসিক ৪৩৮; আদ্দুররুল
মুখতার ২/৬০০
আর সে
শুধু হজ্বের খরচ নিতে পারবে। অতিরিক্ত কিছুই নিতে পারবে না।-আলবাহরুল আমীক ৪/২২৬৯;
মানাসিক ৪৩৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০০
চতুর্থত, হানাফি
মাজহাব অনুযায়ী যে ব্যক্তি এখনো নিজের হজ করেনি, সে-ও কারো
পক্ষ থেকে বদলি হজ করতে পারবে, তবে মাকরুহ হবে। (আপকে
মাসায়েল : ৪/৬৯)
প্রশ্ন: ২। এক ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্বে
ওসিয়ত করে গেলেন তার ফরজ হজ্জ যেন আদায় করা হয়। তার ওয়ারিশদের মধ্যে দুইজন নাবালেগ
রয়েছে এবং তিনি স্থাবর সম্পদ ব্যতীত কিছু রেখে যাননি। এক্ষেত্রে করণীয় কী?
উত্তর:
২। মৃত ব্যক্তি তার পক্ষ
থেকে বদলী হজ্বের অসিয়ত করে গেলে নিয়ম হল, তার
কোনো ঋণ থাকলে প্রথমে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা। এরপর অবশিষ্ট
সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে বদলী হজ্বের অসিয়ত কার্যকর করা। এক তৃতীয়াংশ সম্পদ
দ্বারা মৃতের আবাসস্থল থেকে হজ্বের জন্য পাঠানো সম্ভব হলে তার এলাকা থেকেই কাউকে
পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশ থেকে কাউকে দিয়ে হজ্ব করালে মৃতের অসিয়ত ও
ফরয হজ্ব আদায় হবে না। কিন্তু এক তৃতীয়াংশ সম্পদ
দ্বারা যদি মৃতের এলাকা থেকে হজ্ব করানো সম্ভব না হয় তাহলে ঐ টাকা দিয়ে যেখান
থেকে হজ্ব করানো যায় সেখান থেকেই করাবে। অবশ্য ওয়ারিশগণ চাইলে নিজ সম্পদ থেকে
কিছু দিয়ে মৃতের এলাকা থেকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারবে।
তবে সতর্কতা হলো, ওয়ারিশগণ তাই উক্ত সম্পদ দ্বারা বদলী হজ্ব করাতে হলে সকল ওয়ারিশের
স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি থাকতে হবে। খ) ওয়ারিশদের কেউ যদি নাবালেগ হয় কিংবা কোনো
ওয়ারিশের যদি সম্মতি না থাকে তাহলে তার অংশ থেকে বদলী হজ্বের জন্য কিছুই নেওয়া
যাবে না। মানাসিক ৪৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৯৯; গুনইয়াতুন
নাসিক ৩২২, ৩২৮
ব্যাখ্যা, মৃত্যু
ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর, নগদ টাকা-পয়সা, ব্যাংক-ব্যালেন্স,
পাওয়া টাকা সবই তার রেখে যাওয় সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে ।
প্রশ্ন: ৩। এ বছর সৌদি সরকার 65 বছরের উর্ধ্বের প্রবীণদের হজ্জ করার সুযোগ দিচ্ছে না। তাঁরা কি বদলি হজ্জ করাবেন, নাকি অন্য কোন পদ্ধতি অনুসরণ করবেন?
উত্তর: ৩। প্রথম কথা হলো বদলি হজ ঐ ব্যক্তি করাত
পারবে, যে অক্ষম। আবার হজ্ব আদায়ে অক্ষমতার ওজর দুই ধরনের
হতে পারে : ক) যা দূর হওয়ার সম্ভাবনা আছে। খ) স্বাভাবিক অবস্থায় যা দূর হওয়ার
সম্ভাবনা নেই।
যে ওজর দূর হওয়ার সম্ভাবনা আছে যেমন অসুস্থ, সরকারি বিধি নিষেধ, পাগল বা কারাবন্দি
হওয়া; স্বামী বা মাহরাম পুরুষের ব্যবস্থা না থাকা ইত্যাদি
ক্ষেত্রে বদলী হজ্ব জায়েয হওয়ার জন্য শর্ত হল, ওজরটি
মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী হতে হবে। সুতরাং এ ধরনের ওজরে বদলী হজ্ব করানোর পর যদি ঐ
ওজর অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয় তাহলে তার ফরয হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে
বদলী হজ্ব করানোর পর মৃত্যুর আগে ওজর দূর হয়ে গেলে ঐ হজ্বটি নফল হয়ে যাবে এবং
তাকে নিজের ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে।
আর দ্বিতীয় প্রকারের ওজর, অর্থাৎ যা দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই, যেমন
অন্ধ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া। এক্ষেত্রে বদলী হজ্ব জায়েয হওয়ার জন্য তা মৃত্যু
পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া শর্ত নয়। অর্থাৎ এ জাতীয় ওজরের কারণে অন্যের দ্বারা বদলী
হজ্ব করানোর পর আল্লাহ তাআলার খাছ কুদরতে যদি দৃষ্টিশক্তি বা চলৎশক্তি ফিরে পায়
তাহলে তাকে পুনরায় ফরয হজ্ব করতে হবে না। পূর্বের বদলী হজ্বের মাধ্যমে তার ফরয
হজ্ব আদায় হয়ে গেছে।-আলবাহরুর রায়েক ৩/৬১; রদ্দুল মুহতার
২/৫৯৯; গুনইয়াতুন নাসিক ৩২১; যুবদাতুল
মানাসিক ৪৪৮
সুতরাং ৬৫ বৎসরের বিধি-নিষেধ তো অস্থায়ী, সরকার শুধু এ বছরের
জন্য, (করোনা, কোটা সীমিত)। তাকে বুঝে-শুনে বদলি হজ করাতে হবে।
والله
اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া), বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব)
৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট
আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
|
চেয়ারে বসে নামাজ
পড়ার বিধান |
|
|
জিজ্ঞাসা-১৬২: একজন অসুস্থ ব্যক্তি কোমরে সমস্যার কারণে উঠতে বসতে এবং রুকু সিজদা দিতে সমস্যা
হয়। এরুপ ব্যক্তির চেয়ারে বসে নামাজ আদায়ের বিধান কি?
মাওলানা ইব্রাহীম খোলাহাটি, দিনাজপুর থেকে—
উত্তর: চেয়ারে নামাজ আদায়, হাটহাজারীর ফাত্ওয়া
بسم الله الرحمن
الرحيم
চেয়ারে বসে নামায আদায়- মূলনীতি ও কিছু বিধান
ইসলাম শাশ্বত, সত্য, স্বভাবজাত ও বাস্তববাদী ধর্ম। ইসলামের প্রতিটি বিধান
অত্যন্ত যৌক্তিক ও বাস্তবমুখী।
চির সুন্দর,সহজ-সরল ও সর্বোপযোগী।
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে, নামাজ।
আল্লাহপাক যা নবীজী (সা.) কে মেরাজের রাতে পুরস্কার
হিসেবে দিয়েছিলেন। নামাজ মহান প্রভুর দরবারে দীনতা, নিয়ামতরাজির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তাঁর শাহী দরবারে বান্দার নানাবিদ চাহিদা পূরণের
মিনতি জানানোর মাধ্যম।
ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। তাই
ঈমানের পরে, সকল ইবাদতের ঊর্ধ্বে তার স্থান।
যে নামাজ কায়েম করল, সে দ্বীন প্রতিষ্ঠিত করল। আর যে নামাজ ধ্বংস করল, সে দ্বীন ধ্বংস করল। অর্থাৎ যার নামাজ ঠিক তার দ্বীন ঠিক। আর
যার নামাজ বরবাদ তার দ্বীন বরবাদ। অতএব, যে ব্যক্তির নামাজ
যত সুন্দর হবে, তার দুনিয়া-আখেরাতের জিন্দেগীও তত সুন্দর ও সফল
হবে।
তবে নামাজের এ অসীম গুরুত্বের পাশাপাশি শরীয়তের
আরেকটি মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। আর তা হচ্ছে, সকল ক্ষেত্রে সহজীকরণ। আল্লাহ পাক সাধ্যাতীত নির্দেশ দেন না, বরং যা সহজ তাই আল্লাহর নিকট প্রিয়।
ইরশাদ হয়েছে, لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا অর্থাৎ- “আল্লাহতাআলা সাধ্যের বাহিরে কোন দায়িত্ব কারও উপর
চাপিয়ে দেন না”। -সূরা বাকারা : ২৮৬
ইরশাদ হয়েছে,
يُرِيدُ اللَّهُ
بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ অর্থাৎ “আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিন করতে
চান না”। -সূরা বাকারা : ১৮৫
অতএব, অবহেলা প্রদর্শন
না করে নামাজের প্রতি পূর্ণ মর্যাদা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করা যেমন আবশ্যক, তার সাথে নামাজকে সাধ্যাতীত না করে, বরং সহজ করে দেখাও আবশ্যক। এ দুয়ের মাঝেই রয়েছে সীরাতে মুস্তাকীম।
এই মৌলিক আলোচনার পর চেয়ারে বসে নামাজ আদায়ের কয়েকটি বিধান নিচে তুলে ধরা হলো—
১. কিয়াম, রুকু ও সিজদা-
নামাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; যা নামাজের রুকন
বা ফরযের অন্তর্ভুক্ত। কেউ যদি এই রুকনগুলো সঠিকভাবে আদায় করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও
অবহেলা করে ছেড়ে দেয় বা চেয়ারে বসে ইশারায় নামাজ আদায় করে, তার নামাজ আদায় হবে না। আর কেউ যদি কোন রুকন প্রকৃতপক্ষেই আদায়
করতে সক্ষম না হয় বরং শরীয়তের দৃষ্টিতে সে মাযুর (অক্ষম) সাব্যস্ত হয়, তাহলে সে এ রুকনটি ইশারার মাধ্যমে আদায় করে নিবে। এতে তার নামাজ
পরিপূর্ণ বলে গণ্য হবে এবং সে পূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে। -রদ্দুল মুহতার : ১/৪৪২
হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বলেন-
كانت بي بواسير
فسألت النبي صلى الله عليه وسلم عن الصلاة فقال صل قائما فإن لم تستطع فقاعدا فإن
لم تستطع فعلى جنب -সহিহ বোখারি; হাদিস নং- ১১১৭)
২. সুতরাং কেউ যদি দাঁড়াতে সক্ষম না হয়, কিন্তু মাটিতে বসে সিজদা করতে সক্ষম, তাহলে তাকে মাটিতে বসে সিজদা করে নামাজ আদায় করতে হবে। চেয়ারে
বসে ইশারা করে রুকু সিজদা করলে তার নামাজ আদায় হবে না।
আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রাহ.) বলেন-
ولايصح الإيماء
بهما – ( الركوع والسجود) – مع القدرة
عليهما، بل شرطه تعذرهما۔
-রদ্দুল মুহতার ২/৯৯, এইচ. এম. সাঈদ
৩. তবে
যে ব্যক্তি দাঁড়াতেও সক্ষম না এবং জায়নামাজে বসে সিজদা করতেও সক্ষম না, চেয়ার বা নীচে বসে ইশারার মাধ্যমে সিজদা করা ছাড়া তার উপায় নেই, এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিধান হল, যথাসম্ভব জায়নামাজে বসেই ইশারা করার চেষ্টা করবে। এটাই উত্তম।
কারণ বৈঠকে অধিক বিনয় প্রকাশ পায় এবং বৈঠক সিজদার নিকটবর্তী অবস্থান। তবে কেউ যদি নীচে
বসতে সক্ষম না হয়, কিংবা এতে তার অধিক কষ্ট হয়, এমন ব্যক্তির জন্যে চেয়ারে বসে ইশারায় নামায আদায় করতে কোনো
বাধা নেই। নিঃসন্দেহে তার নামাজ বিশুদ্ধভাবে আদায় হয়ে যাবে।
ইমাম আল মারগীনানী (রাহ.) বলেন- والأفضل هو الإيماء قاعدا ، لأنه أشبه بالسجود (আল-হিদায়া- ১/১৬২)।
হযরত ইবনে আবী লায়লা (রাহ.) রর্ণনা করেন- عن عطاء قال في صلاة القاعد يقعد
كيف شاء (মুসান্নাফু ইবনি আবী শায়বা ৬/৬৬, হাদীস নং- ৮৮৭৩)।
ইমাম সারাখসী (রাহ.) বলেন-
والمصلى قاعدا
تطوعا أو فريضة بعذر يتربع ويقعد كيف شاء من غير كراهة إن شاء محتبيا وإن شاء
متربعا لأنه لما جاز له ترك أصلالقيام فترك صفة القعود أولى. (جـ 1 صـ 902)
৪. যে ব্যক্তি দাঁড়াতে এবং বসতে সক্ষম কিন্তু সিজদা
করতে সক্ষম না, সিজদা তাকে ইশারায় করতে হয়। এমন ব্যক্তির জন্য কিয়ামের
ফরয আদায়ের লক্ষ্যে দাঁড়ানো আবশ্যক, না বসে নামাজ পড়লেও
নামায আদায় হবে। এতে দু’টি মত রয়েছে।
আমাদের হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত হল, তার জন্য দাঁড়ানো আবশ্যক নয়; বসে পড়লেও তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে। তবে অনেকের অভিমত হচ্ছে, যতটুকু সম্ভব দাঁড়িয়ে কিয়ামের ফরয আদায় করতে হবে। তারপর সম্ভব
হলে রুকু করবে। তারপর তার জন্য দুটি পন্থা রয়েছে, যে কোন একটি অবলম্বন করতে পারবে-
এক. বসে ইশারার মাধ্যমে সিজদা আদায় করা। এটা উত্তম।
দুই. দাঁড়িয়ে ইশারার মাধ্যমে সিজদা আদায় করা। তখন
সিজদার জন্য মাথাকে রুকুর চেয়ে একটু বেশি নিচু করবে।
ইমাম আইনী (রাহ.) উল্লেখ করেন-
وعن أبي جعفر
الطحاوي : ولو قدر على بعض القيام ولو قدر آية أو تكبيرة يقوم ذلك القدر وإن عجز
عن ذلك قعد، وإن لم يفعل ذلك خفتأن تفسد صلاته، هذا هو المذهب، ولا يروى عن
أصحابنا خلافه، وكذا إذا عجز عن القعود وقدر على الاتكاء أو الاستناد إلى إنسان أو
حائطأو وسادة لا يجزئه إلا كذلك. ولو استلقى لا يجزئه
-আল বেনায়া- ২/৬৩৫, মাকতাবা নাঈমিয়া
উভয় মতানুসারে বসার ক্ষেত্রে জায়নামায বা নীচে বসা
আবশ্যক,
নাকি চেয়ারে বসতে পারবে? এ বিধানটি তিন নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে। -রদ্দুল মুহতার- ২/৯৮, ইলাউস সুনান; ৭/১৯৮ দারুল কুতুবিল
ইলমিয়্যা
৫. এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কে সক্ষম, কে অক্ষম, কে মাজুর বা কতটুক মাজুর এবং কে মাজুর না, সে বিষয়টি নির্ণয় করা। এ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত কথা হচ্ছে, বয়স্ক এবং প্রকাশ্যে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের অপারগতা
সম্পর্কে অনেকটা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যদি এ সংক্রান্ত
মাসআলা তাদের জানা থাকে। তবে এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তি খুবই কম রয়েছেন। তাই উত্তম পন্থা হচ্ছে, নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ মুফতি সাহেবদের শরণাপন্ন
হয়ে জেনে নেয়া।
আর যারা বাহ্যিকভাবে সুস্থ, কিন্তু বিশেষ রোগের কারণে বিশেষজ্ঞ বিশ্বস্ত ডাক্তার তাদেরকে
রুকু সিজদা করতে নিষেধ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও মাজুরের
হুকুম প্রযোজ্য হবে। তবে তাদের জন্যও উচিত হবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বিজ্ঞ মুফতিদের
শরণাপন্ন হওয়া।
৬. আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যারা সঠিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার অনুমতি পেয়েছেন
বা চেয়ার ব্যতীত যাদের কোনো বিকল্প নেই, তারা মসজিদে গিয়ে
চেয়ারে বসে নামায পড়বেন, নাকি মসজিদের শোভা নষ্ট হবে এই অজুহাতে মসজিদ ছেড়ে
ঘরে নামায আদায় করবেন?
এ ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিতে সঠিক মত হলো- তারা মসজিদে
গিয়েই জামাতে শরীক হয়ে নামাজ আদায় করবেন, যদিও তারা চেয়ার
ব্যবহার করতে বাধ্য। কারণ, ফরয নামাজ আদায় করার আসল রূপই হচ্ছে, মসজিদে গিয়ে সবাই মিলে জামাত করে নামাজ আদায় করা। সম্মিলিতভাবে
বন্দেগি করা ও দাসত্ব প্রকাশ করা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়। তাই মসজিদের জামাতের
গুরুত্ব অপরিসীম। এ বিষয়ে একাধিক আয়াত ও অসংখ্য হাদীস রয়েছে। যেমন- وَارْكَعوا مَعَ الرَّاكِعِينَ (সূরা
বাকারা: ৪৩) وَتَقَلُّبَكَ فِي
السَّاجِدِينَ -সূরা শুআরা- ২১৯
عن أبي هريرة : أن
رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: والذي نفسي بيده لقد هممت أن آمر بحطب، فيحطب،
ثم آمر بالصلاة، فيؤذن لها،ثم آمر رجلا فيؤم الناس، ثم أخالف إلى رجال، فأحرق
عليهم بيوتهم، والذي نفسي بيده لو يعلم أحدهم، أنه يجد عرقا سمينا، أو
مرماتينحسنتين، لشهد العشاء (সহিহ বোখারি : হাদিস নং-৬৪৪
عن أبي هريرة، قال
: أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل أعمى، فقال: يا رسول الله، إنه ليس لي قائد
يقودني إلى المسجد، فسأل رسول اللهصلى الله عليه وسلم أن يرخص له، فيصلي في بيته،
فرخص له، فلما ولى، دعاه، فقال: هل تسمع النداء بالصلاة؟ قال: نعم، قال: فأجب
সহিহ মুসলিম : হাদিস নং- ৬৫৩
তাই যারা জামাতে উপস্থিত হতে পারে, তাদের জন্য এর বিকল্প নেই। কেননা মসজিদের নামাজে যে প্রাণ থাকে, ঘরের নামাজে সেটা থাকে না। তাছাড়া এ ধরণের বয়োবৃদ্ধ অসুস্থ রোগীর
কষ্ট করে জামাতে উপস্থিত হওয়া, অন্যদেরকে মসজিদে গিয়ে
জামাতে শরীক হতে উৎসাহী করবে এবং গাফেল লোকদের মসজিদমুখী হতে প্রেরণা যোগাবে। তাই এমন
লোকদের মসজিদের জামাতে উপস্থিতি আল্লাহ তাআলা, ফেরেশতা ও সকল
সৃষ্টির কাছে পছন্দনীয়।
তবে যারা আন্তরিকতার সাথে এ ধরনের লোকদের মসজিদে
গিয়ে চেয়ারে বসে নামায পড়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করেন তাদের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, তাদের অপছন্দের উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে, বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্য। যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
এর উত্তরে বলব, অপারগতা ও প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য অবৈধতার কারণ নয়। অর্থাৎ- মানুষ যা করতে
বাধ্য,
যা না হলে মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হবে, এমন বিষয়ে সাদৃশ্যের বিধান প্রযোজ্য নয়। কারণ এ সকল বিষয় কারো
সাদৃশ্য গ্রহণের জন্য করা হয় না, বরং প্রয়োজনে করা হয়।
তাই এগুলোকে সাদৃশ্যের কারণে হারাম বলা যাবে না। তাছাড়া মূল রহস্য বা কারণ না বুঝে
শুধু সাদৃশ্য দেখেই যদি ঢালাওভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলিকে হারাম বলে দেওয়া হয়, তাহলে খাওয়া-দাওয়াসহ জীবন ধারণের অনেক মৌলিক বিষয়ও তার আওতায়
চলে আসবে। কারণ, এসব বিষয় মৌলিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এ সব হারাম
হয়ে গেলে মানব জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই যে সকল বিষয় আবশ্যক, প্রয়োজনীয় ও উপকারী নয় বা যে সকল মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পথ ও
পন্থা একাধিক হতে পারে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সাদৃশ্যপূর্ণ রূপরেখা বর্জন করে
সাদৃশ্যহীন পন্থা অবলম্বনের নির্দেশ করা হয়। আল্লামা ইবনে নুজাইম (রাহ.) বলেন-
و(يكفّر) بوضع
قلنسوة المجوسي على رأسه على الصحيح إلا لضرورة دفع الحر أو البرد، وبِشدّ الزنار
في وسطه إلا إذا فعل ذلك خديعةفي الحرب وطليعة للمسلمين (আল-বাহরুর রায়েক ৫/২০৮)
হযরত থানভী
(রাহ.) বলেন-
كفار كی وضع بلا
ضرورت قويہ حسيہ كدفع الحر والبرد يا شرعيہ كخدع اهل الحرب والتجسس للمسلمين افعال
كفر سے ہے বাওয়াদিরুন নাওয়াদের- ৪৫৪)।
পূর্বের আলোচনায় এ কথা স্পষ্ট হয়েছে যে, নামাজে চেয়ার শুধু প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে পারবে।
আর এটি তখন শরীয়তের দৃষ্টিতে ওজরের অন্তর্ভুক্ত হবে। অতএব, চেয়ারের এই বৈধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারকে শুধু সাদৃশ্যের অজুহাতে
অবৈধ বলা যাবে না।
তবে যারা প্রয়োজন ছাড়া নামাজে চেয়ার ব্যবহার করে
জেনে না-জেনে এটাকে ফ্যাশনে পরিনত করতে চলেছেন, তাদেরকে এ থেকে
বিরত রাখার জন্য এ বিষয়ে সঠিক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ইমাম ও খতিব সাহেবগণ যদি এ বিষয়ে
সঠিক মাসআলা তুলে ধরে সময়ে সময়ে আলোচনা করেন, তাহলে চেয়ারের
অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার আশা করি, বন্ধ হয়ে যাবে। আর যারা
প্রয়োজনে ব্যবহার করেন, তারাও মসজিদে এসে জামাতে শরীক হয়ে আল্লাহর বন্দেগী
করার সুযোগ লাভ করবেন।
والله اعلم بالصواب
আল্লাহপাকই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
ফতোয়া প্রদান, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ, সিনিয়র মুফতি ও মুহাদ্দিস, দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম-হাটহাজারী
|
আসসালামু আলাইকুম।
জিজ্ঞাসা-১৬৩:
কোন কম্পিটিশন যেমন ভলিবল এর
অনুশিলন চলছে, এ ক্ষেত্রে খেলোয়াররা নিজেদের মধ্যে একটা নিয়ম করল
যে, যারা খেলায় হারবে তারা ১ কেজি/২ কেজি মিস্টি খাওয়াবে এবং যারা
বিজয়ী হবে শুধু তারাই খাবে, ইসলামী শরীয়তের দৃস্টিতে এটা জায়েয কিনা????
( আরটি, আবুল কালাম আজাদ, ৫৫ এমপি ইউনিট, যশোর)
জবাব: আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য
নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, তাহলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে
তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ
আদায়ে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না। ’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৯০-৯১)
[8:43 PM, 5/21/2022] Muhammad Abdur Rahman: নবীজির আমলে দুই ব্যক্তি ঘোড়াদৌড়ের প্রতিযোগিতা লাগাত এবং পরস্পরে এ চুক্তিতে
আবদ্ধ হতো, যে পরাজিত হবে সে বিজয়ী ব্যক্তিকে নির্ধারিত পরিমাণ
অর্থ প্রদান করবে। রাসুল (সা.) একেও জুয়ার অন্তর্ভুক্ত করে হারাম ঘোষণা করেছেন। (সুনানে
আবু দাউদ, কিতাবুল জিহাদ)।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন ‘তারা আপনাকে (নবী) মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে
দিন, ‘উভয়ের মধ্যেই রয়েছে মহাপাপ।’ (সূরা বাকারা : ২১৯)।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সূরা বাকারার ২১৯নং
আয়াতে বর্ণিত মাইসিরের ব্যাখ্যায় বলেন মাইসির কিমারকে বলা হয়। জাহেলি যুগে এক ব্যক্তি
অপর ব্যক্তির সঙ্গে পরস্পরে স্বীয় অর্থসম্পদ এবং পরিবার-পরিজনকে বাজির উপকরণ হিসেবে
পেশ করত। দুই ব্যক্তির যে অপরকে জুয়ার দ্বারা পরাজিত করত, সে অপরের ধনসম্পদ ও পরিবার-পরিজনকে নিয়ে যেত।’ (তফসির ইবনে জারীর তারাবী : ২/৩৫৮)
[8:47 PM, 5/21/2022] Muhammad Abdur Rahman: জুয়ার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তাফসিরে মাআরিফুল কোরআনের লেখক মুফতি মুহাম্মদ শফী
(রহ.) বলেন, যে চুক্তিতে কোনো সম্পদের মালিকানায় এমন সব শর্ত
আরোপিত হয়, যাতে মালিক হওয়া না হওয়া উভয় সম্ভাবনাই সমানভাবে বিদ্যমান
থাকে, এর ফলে পূর্ণ লাভ কিংবা লোকসান উভয় দিকেই বজায় থাকে,
এটাই হলো জুয়া। (ফাতাওয়া শামী : ৫/৩৫৫)
[8:50 PM, 5/21/2022] Muhammad Abdur Rahman: আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)বলেছেনঃ
তীর নিক্ষেপ এবং উট ও ঘোড়দৌড় ব্যতীত অন্য কিছুতে প্রতিযোগিতা নেই। রেফারেন্সঃ আল-আদাবুল
মুফরাদ, হাদিস নম্বরঃ ১২৮৯, সূনান
আত তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ১৭০০ হাদিসের মানঃ সহিহ।
ই মুহূর্তে আমার হাতের কাছে যেই ব্যাখ্যা গ্রন্থ
আছে সেই হিসেবে হাদিস নম্বর ২৫৭১
উত্তর দিচ্ছেন, আরটি মোহাম্মাদ আব্দুর রহমান বগুড়া সেনানিবাস।
|
ওজু-গোসলের রহস্য |
আমার একটা প্রশ্নঃ হাজার বার পেশাব করলেও গোসল ফরজ
হয় না,
কিন্তু একবার বির্জ বের হলে গোসল ফরজ হয় কেন? ২। পম্চাতবায়ু বের হলে ওযু নষ্ট হয় অথচ ওযু করার সময় সে স্থান কখনই ধোয়া হয় না।
তার কারণ কি? বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাসহ জানতে চাই?
সম্মানিত শায়েখ আরটি মো. রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরবাদ সেনানিবাস,
বগুড়া
|
জিজ্ঞাসা-১৬৫:
সম্মানিত মুফতি সাহেবের কাছে
আমার জিজ্ঞাসা! দুই ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর গুলো কেন দেওয়া হয়? কারণ কি এ বিষয়ে জানতে চাই!
( সম্মানিত শায়েখ, আরটি আব্দুল হালিম ডিভ হেডকোয়ার্টার, রংপুর
ডিভিশন-এর প্রশ্নের
আলোকে)
জবাব: প্রথমমত কথা হলো,
ঈদুল ফিতরের তাকবীরের
নির্দেশ:
রমযান মাসের সমাপ্তি লগ্নে
আল্লাহ্ তাআলা বান্দার জন্য তাকবীর দেওয়ার বিধান দিয়েছেন। তিনি বলেন:
وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ
عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ" তিনি চান
তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি যে তোমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন সে জন্য তাকবীর
উচ্চারণ কর (আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর) এবং যাতে তোমরা শোকর কর।"[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৮৫] তাকবীর উচ্চারণ কর মানে: তোমাদের অন্তর দিয়ে ও মুখ
দিয়ে আল্লাহ্র মহত্ব ঘোষণা কর। সেটি তাকবীরের শব্দাবলীর মাধ্যমে হতে পারে। যেমন
আপনি এভাবে বলতে পারেন:
الله أكبر ، الله أكبر ، لا إله إلا الله ، والله أكبر
، الله أكبر ، ولله الحمد
(উচ্চারণ:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু,
ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ)(অনুবাদ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ
মহান। আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ্ মহান, আল্লাহ্
মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য।)
ঈদুল আযহারে তাকবীবের
নির্দেশ :
মহান আল্লাহ কোরআনুল
কারিমে নির্দেশ দেন-
وَلِتُكْمِلُواْ
الْعِدَّةَ
وَلِتُكَبِّرُواْ
اللّهَ
عَلَى
مَا
هَدَاكُمْ
وَلَعَلَّكُمْ
تَشْكُرُونَ
'আর তোমাদের আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫
সাহাবায়ে কেরাম এই
দিনগুলোতে সর্বদা আল্লাহু আকবারের ধ্বনি তুলতেন। হযরত ইবনে উমর রা. ও আবদুল্লাহ
ইবনে আব্বাস রা. বাজারে গিয়ে তাকবীরের আওয়াজ তুলতেন। শুনে শুনে লোকেরাও তাদের সাথে
তাকবীরের সুর তুলত। ইবনে ওমর রা. পথে-ঘাটে, হাঁটা-বসায়, বাজারে-ঘরে এবং নামাযের পরে শুধুই তাকবীর
বলতে থাকতেন। মিনার দিনগুলোতো তার তাকবীরের সাথে সমস্বরে মানুষের তাকবীরে মিনার
পুরো অঙ্গন মুখরিত হয়ে উঠত। মহিলারাও (নিচু স্বরে) তাকবীর বলতে
থাকতেন।-বুখারী-ফাতহুল বারী ২/৫৩০-৫৩৬
হযরত ইবনে ওমর রা.
হতে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে যে, নবী করীম (ﷺ)
বলেছেন, আল্লাহর নিকট আমলের দিক থেকে আশরায়ে
যিলহজ্ব হতে শ্রেষ্ঠ ও অধিক প্রিয় কোনো দিন নেই। অতএব তোমরা এতে তাহলীল, তাকবীর, তাহমীদ ও তাসবীহ বেশি বেশি
করো।-মুসনাদে আহমদ ২/৭৫ হাদীস : ৫৪৪৬; তাবারানী মুজামে
কাবীর, হাদীস : ১১১১৬
দ্বিতীয়ত কথা হলো,
প্রিয় নবী (ﷺ) -এর কুরআন অবতীরর্ণ হয়েছেন, তিনি কুরআনের আদেশ-নিষেধ সবচেয়ে ভাল বুঝতেন। দলীল:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে
জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবহ শব্দে বলেন, كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْأَنَ তাঁর চরিত্র ছিল আল-কুরআন।’ তিনি ছিলেন পবিত্র কুরআনি চরিত্রমালার জীবন্ত প্রতীক।
আমার গবেষণায় মনে হয়, এই কারণেই তিনি দুই ঈদে বেশি বেশি তাকবীর বলতেন, আর সেই তাকবীবের অংশ হিসেবে ঈদের
নামাজের মধ্যেও অতিরিক্ত তাকবীর বলেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো আমরা
কেন, ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবীর বললো, এর
জবাব হলো,
لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ
حَسَنَةٞ [الاحزاب: ]
নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ। সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১
وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي
أُصَلِّي،
অর্থ: আবূ সুলাইমান মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস হতে , রসূল (ﷺ) বলেন, যে
ভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক তেমনভাবে সালাত আদায় কর। সালাতের ওয়াক্ত হলে,
তোমাদের একজন আযান দেবে এবং যে তোমাদের মধ্যে বড় সে ইমামাত করবে। বুখারী,
হাদীস নং-৬০০৮; ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭০
সুতরাং রসূল (ﷺ) যেভাবে সালাত আদায় করেছেন,
আমরাও মুসলিম উম্মাহও সেভাবে নামাজ পড়ি।
আসল কথা হলো, الله أكبر
،
الله
أكبر
،
لا
إله
إلا
الله
،
والله
أكبر
،
الله
أكبر
،
ولله
الحمد
বাক্যজুড়ে
রয়েছে তাওহিদ, আল্লাহর
বড়ত্ব ও প্রশংসার কথা; মুসলিম জাতি এ বাক্য/জিকির যা দ্বারা গুঞ্জরিত হয় দুই ঈদে সর্বত্র এটার অংশ হিসেবে নামাজে
অতিরিক্ত তাকবীর বলা হয়।
والله
اعلم بالصواب
আল্লাহপাকই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
সুদি লোকের সঙ্গে কুরবানি প্রসঙ্গে |
|
السلام عليكم ورحمة الله،
জিজ্ঞাসা-১৬৬: কেউ যদি ব্যাংক থেকে লোন নেয় বা অন্য
কোন ভাবে সুদের সাথে জড়িত থাকে কিন্তু বেতনের টাকা থেকেই কুরবানী করে তাহলে তার সাথে
কি ভাগে কুরবানী দেওয়া যাবে?
(সম্মানিত ভাই আরটি মো:মিজানুর রহমান, ৬৬ আর্টিলারি
ব্রিগেড, খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্ট-এর
প্রশ্নে আলোকে)
জবাব: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া
রহমাতুল্লাহ। আপনার বর্ণিত ছুরতে অর্থাৎ সে যেহেতু কুরবানিটা বেতনের টাকা দিয়ে দিবে,
এ ক্ষেত্রে তার সঙ্গে কুরবানি জায়েজ আছে। সূত্র: কুরবানির বিধান, আহসানুল ফাতওয়া, খণ্ড: ৫; মুসনাদে
আহমাদ, ৫/২২৫, হা/২১৯৫৭
আল্লাহ্ বলেন: احل الله
البيع و حرم الربا
আমি ব্যবসায়কে হালাল করেছি এবং সুদকে করেছি হারাম।’ (সূরা বাক্বারাহ: ২৭৫)
তবে ভাল লোক পাওয়া অবস্থায় ঐ
ব্যক্তির সঙ্গে কুরবানি দেওয়া তাকওয়ার খেলাফ।
والله
اعلم بالصواب
আল্লাহপাকই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
শুক্রবার বিশেষ আমলের আহবান |
শুক্রবার বিশেষ আমলের আহবান
আমল নং-০১ (দুআ)
إنَّ في الجُمُعَةِ لَساعَةً، لا يُوافِقُها مُسْلِمٌ، يَسْأَلُ
اللَّهَ فيها خَيْرًا، إلَّا أعْطاهُ إيَّاهُ، قالَ: وهي ساعَةٌ خَفِيفَةٌ. وفي رواية:
ولَمْ يَقُلْ: وهي ساعَةٌ خَفِيفَةٌ.
الراوي
: أبو هريرة |
المحدث : مسلم | المصدر : صحيح مسلم |
الصفحة أو الرقم
: 852 | خلاصة
حكم المحدث
: [صحيح]
অর্থ: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে যে,
তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর নিকট যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। মুসলিম-৮৫২; আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮
عَنْ
أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ "
الْتَمِسُوا السَّاعَةَ الَّتِي تُرْجَى فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ
إِلَى غَيْبُوبَةِ الشَّمْسِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ
غَرِيبٌ
আবদুল্লাহ ইবনুল সাববাহ আল-হাশিমী আল-আত্তার (রহঃ) ..... আনাস
ইবনু মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, জুমাবারের যে মুহূর্তটিতে দুআ কবূলের আশা
করা যায়, তোমার সে মুহূর্তটিকে বাদ আসর সূর্যাস্ত পর্যন্ত
সময়টিতে তালাশ কর। - মিশকাত ১৩৬০, তালীকুর রাগীব ১/২৫১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৯
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই সনদে হাদীসটি গারীব।
সাহাবী এবং পরবর্তী যুগের কতিপয় আলিমের অভিমত হল, এই দুআ করার মুহূর্তটি বাদ আসর
থেকে সূর্যন্ত সময় আশা করা যায়। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত এ-ই। ইমাম আহমদ
(রহঃ) বলেনঃ দুআ করার মুহূর্তটি সম্পর্কে অধিকাংশ হাদীসই বাদ আসর থেকে সূর্যস্ত
পর্যন্ত সময়ের কথা উল্লেখিত হয়েছে। তবে যাওয়াল বা সূর্য পশ্চিমদিকে হেলে পড়ার পর
থেকেও তা আশা করা যায়।
دَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ
الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ
جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي
الْجُمُعَةِ سَاعَةً لاَ يَسْأَلُ اللَّهَ الْعَبْدُ فِيهَا شَيْئًا إِلاَّ آتَاهُ
اللَّهُ إِيَّاهُ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَّةُ سَاعَةٍ هِيَ
قَالَ " حِينَ تُقَامُ الصَّلاَةُ إِلَى الاِنْصِرَافِ مِنْهَا "
. قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي مُوسَى وَأَبِي ذَرٍّ وَسَلْمَانَ وَعَبْدِ
اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ وَأَبِي لُبَابَةَ وَسَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ وَأَبِي
أُمَامَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ
غَرِيبٌ .
যিয়াদ ইবনু আয়্যূব আল-বাগদাদী (রহঃ) ..... আমর ইবনু আওফ
আল-মুযানী থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, জুমুআর দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে। কোন
বান্দা যদি সেই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কিছু দুআ করে, তবে
অবশ্যই তিনি তার দুআ বাস্তবায়িত করেন। সাহাবীগণ আরয করলেন : হে আল্লাহর রাসূল!
কোনটি এই মুহূর্ত? তিনি বললেন, জুমুআর
ইকামতে সালাত (নামায/নামাজ) থেকে নিয়ে তা শেষ হওয়া পর্যন্ত। ইবনু মাজাহ ১৩৮৪, তিরমিজী- ৪৯০
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটির সনদ হাসান-গারীব।
নোট: দুই খুতবার মাঝেও সেই মূহুতের কথা মুহাদ্দিসে কেরামগণ বলেছেন।
আমল নং-০২ (সলাত)
“হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়
আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” সুরা বাকারা : ১৫৩
হজরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (ﷺ) এর অভ্যাস ছিল, যখন গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রয়োজন
সামনে আসত, তিনি সঙ্গে সঙ্গে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। আবু দাউদ
: ১৩২১
রাসুল (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তির আল্লাহর নিকট অথবা কোনো
মানুষের নিকট কোনো প্রয়োজন দেখা দেয় সে যেন উত্তমরূপে অজু করে এবং দুই রাকাত নামাজ
পড়ে নেয়। তারপর যেন সে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবী করিম (সা.) এর প্রতি দরুদ পাঠ করে।
তিরমিজি : ৪৮১
আমল নং-০৩ (এস্তেগফার)
“হে মুমিনগণ তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর কাছে তওবা কর। আশা করা যায়
তোমরা সফলকাম হতে পারবে।” সূরা নূর-৩১
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- :« مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمٍّ
فَرَجًا ، وَمِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُ ».
অর্থ: হজরত আব্দুল্লাহ
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
বলেছেন- যে ব্যক্তি সর্বদা
ক্ষমা চায় (ক্ষমা চাওয়া নিজের প্রতি আবশ্যক করে) আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে একটি পথ বের করে দেন এবং প্রত্যেক
চিন্তা হতে তাকে মুক্তি দেন. আর তাকে রিযিক দান করেন যেখানে হত
সে কখন ও ভাবেনি। মুসনাদে আহমদ-২২৩৪; সুনানে
আবু দাউদ-১৫১৮, কিতাবুস সালাত; ইবনে মাজাহ-৩৮১৯
একটি ঘটনা:
একদিন বিখ্যাত
তাবেয়ি হজরত হাসান বসরি রহ. তার সাথীদের সঙ্গে বসা ছিলেন,
এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বলল; হজুর! আমি গোনাহগার! কি করব? তিনি
বললেন, এস্তেগফার কর (ক্ষমা চাও)
। একটুপর আরেক ব্যক্তি এস বলল, অনাবৃষ্টি চলছে, কি করব ? তিনি বললেন, এস্তেগফার
কর (ক্ষমা চাও)। একটুপর আরেক ব্যক্তি এসে বলল; আমি গরীব-অসহায়, কি করব ? (জবাবে)
তিনি বললেন, এস্তেগফার কর। আবার আরেক ব্যক্তি এসে বলল, আমার সন্তান নাই (হয় না)। তিনি
বললেন, এস্তেগফার
কর।
উপস্থিত সাথী-বর্গ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি
যে সবাইকে একই আমলের (এস্তেগফার কর) কথা বললেন ব্যাপার কি? হাসান বসরি রহ. বললেন, এই
আয়াতে কারিমার আলোকে বলেছি তোমরা তোমাদের পালনকরর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টি ধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বড়িয়ে দিবেন,তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন
করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন। সূরা নূহ,১০-১২ সূত্র:
মুসলিম জীবন সাফল্যে চল্লিশ(৪০)হাদিস-১১৬ পৃষ্ঠা হতে সংকলিত। লেখক, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ধর্মীয় শিক্ষক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
আমল নং-০৪ (দরুদ)
হযরত তোফায়েল ইবন উবাই ইবনে কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত।তিনি বলেন,আমি জিজ্ঞেস করলাম,হে
আল্লাহর রাসূল! আমি আঁপনার প্রতি অধিকহারে দরূদ পড়তে চাই, অতএব
আমার দু‘আর মধ্যে আঁপনার দরূদের জন্য কতটুকু অংশ রাখব?
তিঁনি বললেন : তুমি যতটুকু চাও।কা‘ব (রা:)
বলেন,আমি বললাম,এক চতুর্থাংশ? তিঁনি বললেন : তুমি যতটুকু চাও।তবে যদি তুমি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম
হবে।আমি বললাম, অর্ধেক? তিঁনি বললেন :
তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। কা‘ব (রা:) বলেন,আমি বললাম, তাহলে
দুই তৃতীয়াংশ? তিঁনি বললেন : তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি
বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, আমার দু‘আর পুরোটা জুড়েই শুধু আঁপনার দরূদ রাখব। তিঁনি বললেন : তাহলে তা তোমার
ঝামেলা ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে।
তিরমিযী : ২৬৪৫ ও হাকেম : ৭৬৭৭
আমল নং-০৫ (আল্লাহর গুণবাচক নাম)
আমি আমার ওস্তাদ এর কাছে শুনেটি, যে ব্যক্তি আল্লাহর এই সিফাতি
নাম বেশি বেশি স্মরণ করবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রয়োজন সহজ
করবে এবং তার উর্ধ্বতন তার সাথে ভার ব্যবহার করবে। বিশেষ করে ভাইভার সময় খুবই
উপকারি। আমি নিজেও এর ফল পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ।
নাম চারটি নিম্নে:
ইয়া সুব্বুহু, ইয়া কুদ্দুসু, ইয়া গফুরু ইয়া ওয়াদূদু
আমল নং-০৫ (কুরআন খতম তো চলছেই)
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত আমল শুধু আমরাই (ধর্মশিক্ষক) করবো না, বরং
আমাদের পরিবার-পরিজনও করতে পারবে, এবং
কাঙ্খিত বিষয়ে দুআ করবে। কেউ জানে কার দুআ কবুল হবে।
পরিশিষ্ট: শুক্রবারে বিশেষ
মূহুতে দুআ, দুই রাকাত সালাতুল হাজত, প্রতিদিন
১০০ বার এস্তেগফার, ১০০ বার দরুদ শরিফ , যারা আমল করার চেষ্টা করবেন/রাজি, তারা দয়া করে আমার পারসোনাল আইডিতে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি। যাতে বুঝতে
পারি যে কয়জন লোক আমল করছে, তাছাড়া মনের তাসাল্লি তো আছেই।
সূত্র: মুসলিম জীবন সাফল্যে চল্লিশ(৪০)হাদিস-১১৬ পৃষ্ঠা হতে সংকলিত।
লেখক, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ধর্মীয় শিক্ষক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
|
নিজ আত্মসম্মান রক্ষা করা সম্পর্কে নস |
প্রশ্ন-১৬৭: নিজ আত্ম সম্মান রক্ষার বিষয়ে কোরআন
হাদিসের কোন নির্দেশনা আছে কিনা?
দলিলসহ
জানালে উপকৃত হতাম।
ধর্ম শিক্ষক মোহাম্মাদ আব্দুর রহমান (সাভার) ১৭ ই বেঙ্গল, মাঝিরা
সেনানিবাস; বগুড়া
উত্তর:
মানুষের চারিত্রিক সৌন্দর্য বিকাশ ও ব্যক্তিত্ব গঠনে ইসলাম বিশেষ
গুরুত্ব দিয়েছে। ভালো গুণের চর্চা ও মন্দ স্বভাব পরিহারের মাধ্যমে আদর্শ ব্যক্তিত্ব
গঠন ইসলামী শরিয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানে প্রেরিত হয়েছি।’
(মুয়াত্তায়ে
মালিক, হাদিস : ৮)
আত্মসম্মানবোধ মানুষের ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রধান দিক। আত্মসম্মানহীন
মানুষ মানবীয় অনেক গুণাবলি থেকে বঞ্চিত। ইসলাম মানুষকে আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন হতে
বলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুমিন আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন আর আল্লাহ তাদের বেশি আত্মমর্যাদা
বোধসম্পন্ন।’ (সহিহ
মুসলিম, হাদিস : ২৭৬১)
আল্লাহর আত্মমর্যাদা সবচেয়ে বেশি
ইসলাম ব্যক্তির আত্মমর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তবে মুমিনের
আত্মমর্যাদা সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছে,
‘সব হারাম আত্মমর্যাদার পরিপন্থী।’
রাসুলুল্লাহ
(সা.) বলেন, ‘আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কেউ নেই। এ জন্য তিনি
প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের অশ্লীলতা হারাম করেছেন। প্রশংসা আল্লাহর সবচেয়ে পছন্দের।
তাই নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন।’ (সহিহ
মুসলিম, হাদিস : ১৫৮)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী (সা.) বলেছেন যে, আল্লাহ
তাআলার আত্মমর্যাদাবোধ আছে এবং আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ এই যে যেন কোনো মুমিন বান্দা
হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে না পড়ে।’ (সহিহ
বুখারি, হাদিস : ৫২২৩)
আত্মমর্যাদা মানুষকে সৎ হতে এবং সৎপথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে—তাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করে। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.)
বলেছেন, ‘আত্মমর্যাদা
ঈমানের অংশ আর আচরণে উগ্রতা কপটতার লক্ষণ।’ (সুনানে বায়হাকি : ১০/২২)
মহানবী (সা.) আরো বলেন,
‘এমন কিছু আত্মসম্মানবোধ আছে যা মহান মহিয়ান আল্লাহ
পছন্দ করেন, আবার আত্মসম্মানবোধ এমনো আছে যা মহান আল্লাহ অপছন্দ
করেন। ...আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় আত্মসম্মানবোধ হলো সন্দেহ ও বদনামের ক্ষেত্রে যে আত্মসম্মানবোধ
কাজ করে। আর আল্লাহর অপছন্দনীয় আত্মসম্মানবোধ হলো সন্দেহ ও বদনামের ক্ষেত্র ছাড়া অন্যত্র
যে আত্মসম্মানবোধ কাজ করে। (সুনানে নাসায়ি,
হাদিস
: ২৫৫৮)
আল্লাহ সবচেয়ে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। কোরআনে মুমিনকে আল্লাহর রং
ধারণ করতে বলা হয়েছে। তাই ঈমানের দাবি হলো,
মুমিন
আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন হবে। ইরশাদ হয়েছে,
‘আমরা আল্লাহর রং ধারণ করলাম। রঙে আল্লাহর চেয়ে কে
বেশি সুন্দর? এবং আমরা তাঁরই ইবাদত করি।’
(সুরা
বাকারা, আয়াত : ১৩৮)
নিজের ও পরিবারের সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে কেউ নিহত
হলে ইসলাম তাকে শহীদের মর্যাদা দান করেছে। তবে তা অবশ্যই মিথ্যা ও জাগতিক অহংকারপ্রসূত
সম্মানবোধ নয়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার জন্য নিহত হলো সে শহীদ, যে ব্যক্তি
তার পরিবারের (সম্মান রক্ষার) জন্য নিহত সে শহীদ, যে তার
দ্বিন রক্ষার জন্য নিহত হলো সে শহীদ,
যে আত্মরক্ষার
জন্য নিহত হলো সে শহীদ।’ (সুনানে
নাসায়ি, হাদিস : ৪০৯৫)
কোরআনে আত্মমর্যাদাহীন মানুষের নিন্দা
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ আত্মমর্যাদাহীন নির্লজ্জ মানুষের নিন্দা
করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তারা কোনো অশ্লীল কাজ করে, তারা
বলে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষকে এই কাজ করতে দেখেছি এবং আল্লাহ আমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন।
বলুন! নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেন না।’ (সুরা আরাফ,
আয়াত
: ২৮)
অন্য আয়াতে এসেছে,
‘তাদের পরে এলো অপদার্থ উত্তরসূরিরা, তারা
নামাজ নষ্ট করল এবং লোভের বশবর্তী হলো। সুতরাং তারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি ভোগ করবে।’ (সুরা মারইয়াম, আয়াত
: ৫৯)
আল্লাহ সবাইকে আত্মমর্যাদার দৌলত দান করুন। আমিন।
উত্তর দিচ্ছেন আরটি হেলাল কবির (কক্সবাজার)
প্রশ্ন: নিজ আত্ম সম্মান রক্ষার বিষয়ে কোরআন হাদিসের কোন নির্দেশনা আছে
কিনা? দলিলসহ জানালে উপকৃত হতাম।
ধর্ম শিক্ষক মোহাম্মাদ আব্দুর রহমান (সাভার) ১৭ ই বেঙ্গল, মাঝিরা
সেনানিবাস; বগুড়া
উত্তর: আল-হামদুলি্লাহ এ প্রশ্নের জবাব আমার সম্মানিত, মেধাবী
আলেম হেলাল কবির সাহেব দিয়েছেন, আমি সাথে একটু যুক্ত করতে
চাচ্ছি, প্রথমে
জাযাকাল্লাহু খয়র মুহতারাম আব্দুর রহমান সাহেবকে যিনি সময় উপযোগী একটি সাওয়াল
করেছেন, যখন আমাদের ধর্ম শিক্ষক ভাইগণ! নিজেদের ইজ্জত-আব্রু রক্ষার্থে বিভিন্ন চেষ্টা-আমল-দুআয় লিপ্ত রয়েছেন। কুরআন-হাদিসের
নস পেলে হয়তো আমলের ইসপ্রিট বেড়ে যাবে ইনশাল্লাহ ।--------
আত্মসম্মানের হেফাজত করা, নিজেকে লাঞ্ছিত না করা
وَالَّذِينَ
لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ
وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ
مَرُّوا كِرَامًا অর্থ: এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং অসার ক্রিয়া-কালাপের সম্মুখীন হলে স্বীয় মর্যাদার সাথে তা পরিহার কর চলে। সূরা ফুরকান-৭২
তারা যখন অনর্থক কার্যকলাপের মজলিস দিয়ে অতিক্রম
করে তখন ভদ্রভাবে অতিক্রম করে। তারা
এই ধরণের মজলিসকে তো উদ্দেশ্য করে যোগ দেয়-ইনা উপরুক্ত যদি আকস্মিকভাবে এমন মজলিসের নিকট
দিয়ে অতিক্রম করতে হয় তখনও তারা ইহার প্রতি আকৃষ্ট হয় না। ইব্রাহিম ইবনে মায়সার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)
একটি খেলার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন। কিন্তু তিনি তার প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে সোজা চলে গেলেন। তা জানতে পেরে বললেন, لقد اصبح
ابن مسعود و
امسى كريكا ইবনে
মাসউদ আজ বড়ই ভদ্র প্রমাণিত হয়েছে। সূত্র : তাফসিরে ইবনে কাসির ৮ম খণ্ড;২৫০ পৃষ্ঠা; অধ্যাপক মাওলানা আখতার ফারূক (রহ.) অনূদিত,ই.ফা.
عَنْ
حذيفة بن اليمان
قَالَ: قَالَ رَسُولُ
اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا
يَنْبَغِي لِمُؤْمِنٍ أَنْ
يُذِلَّ نَفْسَهُ؛ يَتَعَرَّضُ
مِنَ البَلَاءِ لِمَا
لَا يُطِيْقُ.
অর্থ: হজরত হুজাইফা (রা.)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ)বলেছেন: মুমিনে কাম্য নয়
সে নিজেকে
লাঞ্ছিত করা।
লোকেরা জিজ্ঞেস
করেো, হে আল্লাহর
রসূল
! নিজেকে
লাঞ্ছিত করে
কিভাবে
? তিনি (নবিজি) বললেন, এমন বিপদাপদ কামনা
করা যা
সহ্য করা
সাধ্যাতীত। তাখরিজ : তিরমিজি-২২৫৪,ইবনে মাজাহ-৪০১৬,আহমদ-২৩৪৪৪
আল্লাহ
তাআলা আপন
বান্দার সাধ্যের
বাহিরে হুকুম
আরোপিত করেননি। যে
আল্লাহ ও তাঁর রসূল মুমিনদেরকে
সমাদৃত দান
করেছেন।
তিনারাই আবার সে শ্রেষ্ঠত্বের
স্বীকৃতিকে সংরক্ষণের
তাকিদ দিয়েছেন।
সুতরাং এমন
কাজ করা
যাবে না
যা অপমানের
কারণ হয়।
সরাসরি অপমানজনক
কাজ থেকে
দূরে থাকা
সবাই জানে, কিন্তু রসূল(ﷺ) আমাদেরকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে, অনুরূপ সম্মানজনক কাজে আত্মনিয়োগ করা যার পরিণতি শুধু অপমান-অপদস্থ তা মুমিনের
শান-কাজ হতে পারে না।
অপবাদের রাস্তা থেকে বেঁচে থাকা : মুমিন শুধু পাপ কাজ থেকে থাকবে না বরং পাপের রাস্তা-জায়গা
অর্থাৎ যেখানে তার উপস্থিতি অপবাদের আশঙ্কা-সংশয় এবং অপরের কুধারণা
জন্ম বা সম্ভবনা থাকে; সেখান থেকেও দূরে-সর্তক থাকবে। নিম্নে একটি হাদিস শরিফ দ্বারা প্রমাণিত হয়। যেমনঃ
أَخْبَرَنِي
عَلِيُّ بْنُ الحُسَيْنِ
رضي الله عنهما
أَنَّ صَفِيَّةَ -زَوْجَ
النَّبِيِّ - صلى الله
عليه وسلم -- أَخْبَرَتْهُ
أَنَّهَا جَاءَتْ رَسُولَ
اللهِ - صلى الله
عليه وسلم - تَزُورُهُ
فِي اعْتِكَافِهِ فِي
المَسْجِدِ فِي العَشْرِ
الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ،
فَتَحَدَّثَتْ عِنْدَهُ سَاعَةً،
ثُمَّ قَامَتْ تَنْقَلِبُ،
فَقَامَ النَّبِيُّ - صلى
الله عليه وسلم
- مَعَهَا يَقْلِبُهَا، حَتَّى
إِذَا بَلَغَتْ بَابَ
المَسْجِدِ عِنْدَ بَابِ
أُمِّ سَلَمَةَ مَرَّ
رَجُلاَنِ مِنَ الأَنْصَارِ،
فَسَلَّمَا عَلَى رَسُولِ
اللهِ - صلى الله
عليه وسلم -،
فَقَالَ لَهُمَا النَّبِيُّ
- صلى الله عليه
وسلم -: "عَلَى رِسْلِكُمَا،
إِنَّمَا هِيَ صَفِيَّةُ
بِنْتُ حُيَيٍّ". فَقَالَا:
سُبْحَانَ اللهِ يَا
رَسُولَ اللهِ! وَكَبُرَ
عَلَيْهِمَا. فَقَالَ النَّبِيُّ
- صلى الله عليه
وسلم -: "إِنَّ الشَّيْطَانَ
يَبْلُغُ مِنَ الإِنْسَانِ
مَبْلَغَ الدَّمِ، وَإِنِّى
خَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ
فِي قُلُوبِكُمَا شَيْئًا".
অর্থ: নবি সহধর্মিণী সাফিয়া (রা.)
থেকে বর্ণিত। একদিন
তিনি রমজানের শেষ দশকে মসজিদে আল্লাহর রসূল (ﷺ) -এর খেদমতে উপস্থিত হন। তখন আল্লাহর রসূল (ﷺ) ইতেকাফরত ছিলেন। সাফিয়া
তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। অতঃপর
ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ান। নবি
(ﷺ) তাঁকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উঠে
দাঁড়ালেন। যখন তিনি উম্মু সালামা(রা.)এর গৃহ
সংলগ্ন মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন দুজন আনসারি সেখান
দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা উভয়ে আল্লাহর রসূল(ﷺ)-কে সালাম করলেন। তাঁদের দুজনকে নবি রসূল(ﷺ)বললেন : তোমরা দুজন থাম। ইনি তো (আমার স্ত্রী)সাফিয়া বিনতে হুয়ায়ি (রা.)। এতে তাঁরা দুজনে সুবহানাল্লাহ হে আল্লাহর রসূল! বলে উঠেন এবং তাঁরা বিব্রত বোধ
করলেন। নবি (ﷺ) বলেন, শয়তান মানুষের রক্তের শিরায় চলাচল করে। আমি ভয়
করলাম যে, সে তোমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে। বুখারি-২০৩৫; মুসলিম-২১৭৫;আবু দাউদ-২৪৭০;ইবনে মাজাহ-১৭৭৯;দারেমি-১৮২১;আহমদ-২৬৮৬৩
প্রিয় পাঠক! নিষ্পাপ নবি যদি এত সতর্কতাবলম্বন করেছেন; তাহলে আমাদের
আরও কত সজাগ হওয়া উচিত তা সহজেই অনুমেয়।
আত্মসম্মান রক্ষার্থে
নবিজি (ﷺ)-এর শিখানো দোআ:
: وعن
بريدة أن رسول
الله صلى الله
عليه وسلم كان
يقول: اللهمَّ اجْعَلْنِي
شَكُوراً واجْعَلْنِي صَبُوراً
واجْعَلْني في عَيْنِي
صَغِيراً وفي أعْيُنِ
النّاسِ كَبِيراً অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে কৃতজ্ঞতা ও সবর করার তাওফিক দাও এবং হে আল্লাহ! আমাকে আমার দৃষ্টিতে খাটো এবং মানুষের দৃষ্টিতে সম্মানিত উন্নত করে দাও। তাখরিজ : মাজমাউল জাওয়ায়েদ-১৭৪১২; মুসনাদে
বাজ্জার; মুসনাদুল ফিরদাউস আদ-দালাইমি-১/১৯১
নোট : হাদিসটির সনদ কেহ হাসান আবার কেহ জয়িফ বলেছেন।
কাফেররা মনে করবে মুসলমান মৃত্যুর ভয় করে, এ জন্য নামাজ সংক্ষেপকরণ :
عَنْ
أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ
اللَّهُ عَنْهُ فَلَمَّا
أَجْمَعُوا عَلَى قَتْلِهِ
قَالَ لَهُمْ دَعُونِى
أُصَلِّى رَكْعَتَيْنِ قَالَتْ
فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ
: لَوْلاَ أَنْ تَحْسَبُوا
أَنَّ بِى جَزَعًا
لَزِدْتُ قَالَ فَكَانَ
خُبَيْبٌ أَوَّلَ مَنْ
سَنَّ الصَّلاَةَ لِمَنْ
قُتِلَ صَبْرًا ثُمَّ
قَالَ اللَّهُمَّ أَحْصِهِمْ
عَدَدًا وَاقْتُلْهُمْ بَدَدًا
وَلاَ تُبْقِ مِنْهُمْ
أَحَدًا وَأَنْشَأَ يَقُولُ
: فَلَسْتُ أُبَالِى حَيْثُ
أُقْتَلُ مُسْلِمًا عَلَى
أَىِّ حَالٍ كَانَ
فِى اللَّهِ مَصْرَعِى
وَذَلِكَ فِى جَنْبِ
الإِلَهِ وَإِنْ يَشَأْ
يُبَارِكْ عَلَى أَوْصَالِ
شِلْوٍ مُمَزَّعِ
অর্থ: হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন। যখন কাফেররা (কুরাইশরা) তাঁকে (হজরত খুবায়েব রা.-কে)
হত্যা করার জন্য হারাম শরিফের বাহিরে হিল নামক স্থানে নিয়ে যায়,
তখন খুবায়েব (রা.) তাদেরকে
বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি দুরাকাত নামাজ পড়ব। তারা তাকে
ছেড়ে দেয় এবং তিনি দুরাকাত নামাজ পড়ে নেন।
তারপর বলেন, আল্লাহর কসম! যদি
তোমাদের একথা ধারণা করার সম্ভাবনা না থাকত যে, আমি ভয় পেয়ে
গেছি,তাহলে আমি আরও বেশি নামাজ পড়তাম। হে আল্লাহ! এদের সংখ্যা
গুণে রাখ। এদের সবাইকে একের পর এক হত্যা কর। আর একজনকেও ছেড়ে দিও না। এরপর তিনি নিম্নের কবিতাটি পড়েন-
মুসলিম হিসেবেই আমি
মরতে চাচ্ছি, তখন আমার নেই কোন পরোয়া নেই।
আল্লাহর পথে কিভাবে আমার প্রাণটি যাবে। আমার মৃত্য হচ্ছে
আল্লাহর পথে।
আর কর্তিত জোড়াগুলির ওপর বরকত নাজিল করেন, যদি তিনি চান।
আর হজরত খুবায়েব (রা.) ছিলেন সর্বপ্রথম
মুসলমান যিনি আল্লাহর পথে গ্রেফতার হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের জন্য নিহত হবার পূর্বে
নামাজ পড়ার সুন্নাত জারি করেন। তাখরিজ : বুখারি- তাখরিজ : বুখারি-৩০৪৫; আবু দাউদ-২৬৬০;আহমদ-৭৮৬৯;৮০৩৫
নোট : হাদিসটির অংশ বিশেষ উল্লেখ করা হয়েছে।
হায়! মুসলিম জাতি মৃত্যুর ভয় করে এমন ধারণা যেন না জন্মে, সে জন্য তিনি নামাজের মত মহতি ইবাদত সংক্ষেপ
করলেন। আজ আমরা হাজারো অপকর্মে লিপ্ত। আমাদের আমল-আখলাকের দরুন পবিত্র ধর্ম আজ কুলষিত, অপমানিত, ধৃকিত ও ঘৃণিত হচ্ছে।
হে আমার মুসলিম জাতি! হজরত খুবায়েব (রা.) তাঁর জীবন সায়াহ্নে এমন ছবক শিক্ষা দিলেন তা থেকে যদি আমরা
শিক্ষা অর্জন করি, তাহলে অমুসলিম জাতি ইসলামের
সৌন্দর্য-মহানুভবতা দেখে ইসলামের
সুশীতল ছায়াতলে দলে দলে আশ্রয় নিত।
হে আল্লাহ! আমাকেসহ সব মুসলমানকে সেই উন্নত-সুউচ্চ
আখলাক নিজ দয়ায় দান করুন। ( সূত্র: ‘মহান আল্লাহর নিকট একজন মুমিন-মুসলমানের মর্যাদা-মূল্য, লেখক- মাওলানা মো: আব্দুর
রাজ্জাক
)
|
কান ও ঘাড় মাসেহ করার প্রসঙ্গে |
প্রশ্ন-১৬৮: আসসালামু আলাইকুম, হজরত অজুতে মাথা মাসেহ করার সাথে কান ও ঘাড় মাসেহ করার বিধান দলীল সহ জানতে
চাই।
(সম্মানিত ভাই সত্যান্বেষণকারী
আলেম আর টি সাইফুল ইসলাম এ এস পি টি এস, ত্রিশাল মোমেনশাহী সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে।)
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আল্লাহ তাআলা আপনাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন। আপনার প্রশ্নকে বুঝার জন্য দুই ভাগে ভাগ করেছি।
প্রশ্ন: ক। কান মাসেহ করা বিধান।
উত্তর: ক। প্রথম কথা হলো, আমাদের
কিছু ভাই কোন দালায়িল যদি বুখারি ও মুসলিমে না থাকে, তখন ঐ
হাদিস বা দলীল মানতে চান না। তাদের কাছে প্রশ্ন, বুখারি-মুসলিমের হাদিসে যে সহিহ/এটাই মানতে হবে এ বিষয়ে কোন নস আছে কি? একমাত্র সহিহ হাদিসই শরিয়তের
দলীল, এ বিষয়ে কোন নস আছে কি? (তাদেরকে
কিয়ামত পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো)
দ্বিতীয় কথা হলো, অযুতে
কান মাসেহ করা সুন্নত। মাথা মাসেহর পর ভেজা হাত দিয়ে কান মাসেহ করে নিবে। এজন্য
নতুন পানি নিবে না। রুবাইয়ি বিনতে মুয়াওয়িয রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অযু করতে দেখেছেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)মাথার
সম্মুখ ভাগ ও পিছন ভাগ এবং মাথার উভয় পার্শ্ব ও কান একবার মাসেহ করেছেন।
জামে তিরমিযী ১/৭)ইমাম
তিরমিযী রাহ. হাদীসটিকে হাসানুন সহীহ বলেছেন। এছাড়া কান যে মাথার অংশ এ সম্পর্কেও
হাদীস-আছার রয়েছে। দেখুন : ইলাউস সুনান ১/৮৫; আসসিআয়াহ ১/১৩৯; মুসান্নাফ
ইবনে আবী শায়বা ১/২৯৫
তৃতীয় কথা হলো, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী অযুর ভিতর কানের লতির বাহ্যিক অংশের গোড়া পর্যন্ত পানি পৌছানো ফরজ।
সূরা মায়েদার ০৬ নং
আয়াতে যে মুখ মণ্ডল ধোয়ার কথা বলা হয়েছে। মুখমন্ডলের সীমানা হলো, কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনীর
নিচ এবং উভয় কানের লতি পর্যন্ত পানি পৌঁছানো। একবার ধোয়া ফরয, তিন বার ধোয়া সুন্নাত।
সূত্র: ইমদাদুল আহকাম ১/৩৬৬
يَا
أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا
إِذَا قُمْتُمْ إِلَى
الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ
وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ
وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى
الْكَعْبَيْنِ
অর্থ : “হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখ মন্ডল ও
দুই হাত কনুই সহ ধৌত করবে, এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করবে,
আর দুই পা গোড়ালীসহ ধৌত করবে।” সূরা মায়িদা-৬
প্রশ্ন: খ। ঘাড়/গর্দান মাসেহ করার বিধান।
উত্তর: খ। ওযুতে ঘাড় মাসাহ করা মুস্তাহাব। কিন্তু সম্প্রতি
সময়ে কিছু ভাই এটাকে বিদআত বলে প্রচার করে মুসলিম
সমাজে ফেতনা ছড়াচ্ছেন। দলীল:
হাদিস নং-০১
عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ
اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَلَمَّا بَلَغَ مَسْحَ رَأْسِهِ وَضَعَ
كَفَّيْهِ عَلَى مُقَدَّمِ رَأْسِهِ فَأَمَرَّهُمَا حَتَّى بَلَغَ الْقَفَا ثُمَّ
رَدَّهُمَا إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ
অর্থাৎ মিকদাদ ইবনু মাদীকারাব রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উযু করতে দেখেছি। উযু
করতে করতে যখন মাথা মাসেহ্ পর্যন্ত পৌছান, তখন তিনি এভাবে
মাথা মাসেহ্ করেন যে, উভয় হাতের তালু মাথার সামনের অংশে
স্থাপন করে তা ক্রমান্বয়ে মাথায় পশ্চাদভাগ ( ঘাড়ের সংযোগস্থান)
পর্যন্ত নেন। অতঃপর তিনি পেছনের দিক হতে সামনের দিকে তা শুরুর
স্থানে ফিরিয়ে আনেন
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ হাদিস: ১২২
হাদিস নং-০২
عن نافع عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال
من توضأ ومسح بيديه على عنقه وقي الغل يوم القيامة
অর্থ: নাফে হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি অজু করে এবং উভয়
হাত দিয়ে গর্দান মাসাহ করে, তাহলে তাকে কিয়ামতের দিন
[আযাবের] বেড়ি থেকে বাঁচানো হবে।
সূত্রঃ- নাইলুল অাওতার খ: ১ পৃষ্টা: ২০৬
নোটা: ইমাম আবুল হাসান ফারেছ রহ. বলেন হাদীসটির সনদ সহীহ। সূত্রঃ- নাইলুল অাওতার খ: ১ পৃষ্টা:
হাদিস নং-০৩
ﻋﻦ ﻣﻮﺳﻰ ﺑﻦ ﻃﻠﺤﺔ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﻣﺴﺢ ﻗﻔﺎﻩ ﻣﻊ ﺭﺃﺳﻪ ﻭﻗﻲ ﺍﻟﻐﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ
অর্থাৎ মুসা ইবনে তালহা থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি মাথার সাথে
গর্দানকেও মাসেহ করবে, ক্বিয়ামতের দিন জান্নামের বেড়ী পড়ানো
থেকে তাকে মুক্ত রাখা হবে।
সূত্র: তালখীসুল হাবীর খ:১ পৃ: ১৬২ নাইলুল আওতার খ: ১ পৃষ্টা: ২০৩
হাদিস নং-০৪
عن طلحة بن مصرف عن أبيه عن جده قال رأيت النبي صلى الله عليه وسلم مسح مقدم رأسه حتى
بلغ القذال ( مؤخر الرأس ) من مقدم عنقه
অর্থ: হযরত তালহা বিন মুসাররিফ রহ. তার পিতা থেকে তিনি তার
দাদা থেকে
বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল্লাহ সা. কে তাঁর
মাথার অগ্রভাগ মাসেহ করতে দেখেছেন। এমন কি গর্দানের উপরিভাগ পর্যন্ত মাসাহ করতে
দেখেছেন। সূ ত্র: শরহে মানিল আছার (ত্বহাবী) হাদীস নং
গ। একটি প্রশ্ন :
অনেকে
ভাইয়েরা বিশেষ করে আহলে হাদিস ভাইয়েরা বলে, উপরোক্ত গুলো যেহেতু জয়িফ সুতরাং এর উপর আমল করা যাবে না;
বরং বিদআত।
গ।
তার উত্তর:
এটা একটি সুপ্রসিদ্ধ মত যে, জয়িফ হাদিস আমল করা জায়েজ।
এসম্পর্কে খোদ আল্লামা নববী রহ. বলেন,
ويجوز عند أهل الحديث وغيرهم
التساهل في الأسانيد ورواية ما سوى الموضوع من الضعيف والعمل به من غير بيان ضعفه
في غير صفات الله تعالى والأحكام
অর্থাৎ
হাদীস বিশারদকারীদের নিকট যঈফ সনদ সমূহে শিথিলতা করা এবং জাল ছাড়া দুর্বল হাদীসের
দুর্বলতা উল্লেখ করা ব্যতীত বর্ণনা করা জায়েয। আর তার উপর আমল করা বৈধ। যখন তা
আহকাম এবং আল্লাহ তায়ালার ছিফাতের ব্যাপারে না হয়।
সূত্র: তাদরীবুর রাবী পৃষ্ঠা ৩৫০
শুধু
তাই নয় তাদের কিতাবেও জায়েজ বলে উল্লেখ আছে,
حدیث ضعیف سے جو موضوع نہ ہو
استحباب و جواز ثابت ہوتا ہے
অর্থাৎ
যেটা জাল নয় এমন যয়ীফ হাদিস দ্বারা (যেকোনো আমল) মুস্তাহাব এবং জায়েয প্রমাণ হয়। সূত্র:
ফাতাওয়ায়ে উলামায়ে হাদিস খ: পৃ: ২১৭
দেখুন আমরা তো বলছি
না যে, ঘাড় মাসেহ
করা ফরজ/সুন্নাত। সুতরাং উপরোক্তগুলো দ্বারা মুস্তাহাব
প্রমাণিত।
والله
اعلم بالصواب
আল্লাহপাকই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
মসজিদ ছাড়া অন্য জায়গায় জুমাআ পড়া জায়েজ কি |
আসসালামু আলাইকুম
প্রশ্ন-১৬৯: জুমুআর নামাজ ,মসজিদ
ব্যতীত কোন মাঠে আদায় করা যাবে কি ?দলীল
সহজানাতে অনুরোধ করছি। আরটি
আখতার হোসেন ২৭ ফিল্ড আর্টিলারি, যশোর সেনানিবাস।
উত্তর : নেট থেকে (জবাব
আব্দুর রহমান সাহেব)
জামে মসজিদ নিয়ে বিবাদ হওয়ায় আমরা এক মহল্লার মুসল্লি একটি
বিল্ডিং এর ২য় তলায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবীহ নামাজ জামাতের সাথে আদায় করতেছি, গত জুমু’আর নামাজ আমাদের মহল্লার সকলে অন্য গ্রামে গিয়ে আদায় করেছেন, এখন
প্রশ্ন হচ্ছে এই বিল্ডিং এর উপরে আমরা জুমু’আর নামাজ
আদায় করলে হবে কি না?
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
জুমার নামাজ সহীহ হওয়ার জন্য মসজিদ হওয়া শর্ত নয় । তাই (জুমার নামাজ সহীহ হওয়ার অন্যান্য শর্ত পাওয়া গেলে) উক্ত
বিল্ডিং এ জুমার নামায আদায় করলে নামাজ সহীহ হয়ে যবে ।
لو صلى الجمعة في قرية بغير مسجد جامع . والقرية كبيرة لها قري.
وفيها وال و حاكم. جازت الجمعة بنوا المسجد او لم يبنوا “) الحلبى الكبير. كتاب
الصلوة . فصل فى صلوة الجمعة. ص :511(
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
আফজাল হুসাইন ফারুকী
শিক্ষক: তালীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
সত্যায়নে
মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক: তালীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার
ঢাকা।
|
কিয়াস কি শরীয়তের দলীল |
জিজ্ঞাসা-১৭০: কিছু লোক শুধু কুরআন ও হাদীসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে অন্য কিছু মানতে চায়
না। বিশেষ করে কিয়াসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে না। কিয়াস শরীয়তের দলিল কিনা, এর পক্ষে
নস আছে কি?
(সম্মানিত ভাই শরিফ ইনসান ধর্ম শিক্ষক মোহাম্মাদ আব্দুর রহমান (সাভার)
১৭ ই বেঙ্গল, মাঝিরা সেনানিবাস; বগুড়া-এর প্রশ্নের আলোকে)
উত্তর: جزاك الله خيرا احسن جزاء । আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন। প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, জবাব দিতে দেরি হলো, গত ০৫.০৫.২২ তারিখে গ্রুপে
প্রশ্নটি এসেছিল। স্নেহের ভাই আব্দুর
রহমান সাহেবকে যিনি সাম্প্রতিক সময়ে সহিহ হাদিসের নামে স্লোগান তুলে কতিপয় মানুষ
মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করছেন। আল্লাহ
তাদেকে সহিহ বুঝ দান করুন।
মুহতারাম, আপনি কিয়াস সম্পর্কে শরীয়তের নস তালাশ করেছেন, ইনশাল্লাহ এর জবাব দিব, তার আগে আমি কিছু প্রশ্ন
ছুড়ে দিলাম/রাখলাম। যারা কিয়াসকে মানেন না। (তাদেরকে প্রশ্ন করা যেতে পারে)
প্রশ্ন: ০১। রোজাবস্থায় ইনজেকশন/করোনার টিকা নিলে, অন্যকে
রক্ত দান করলে রোজা ভঙ্গ হবে কি না?
কুরআন-সহিহ হাদিস থেকে দলিল দিন,
কিয়াস ব্যতিত।
প্রশ্ন: ০২। পুরুষ লোক মারা গেলে কাপড় হলো তিনটি ও মহিলার জন্য পাঁচটি
যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত; কিন্তু খুনসা অর্থাৎ হিজরা মারা গেলে কাপড় কয়টি? কুরআন-সহিহ
হাদিস থেকে দলিল দিন, কিয়াস ব্যতিত।
প্রশ্ন: ০৩। যানবাহনে, বিমানে, জাহাজ-নৌকাতে কিভাবে নামাজ পড়বো/হবে
কিনা, কারণ নবির
যুগে এগুলো ছিল না? কুরআন-সহিহ হাদিস থেকে দলিল দিন, কিয়াস ব্যতিত।
প্রশ্ন: ০৪। ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা জায়েজ কিনা কিংবা এর পদ্ধতি কি? কারণ নবির যুগে এগুলো ছিল না?
কুরআন-সহিহ হাদিস থেকে দলিল দিন,
কিয়াস ব্যতিত।
প্রশ্ন: ০৫। কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দিলে পবিত্রতার পদ্ধতি সাত পাত্রটি ধোয়া কিন্তু শুকুর মুখ দিলে কতবার ধুতে
হবে? কুরআন-সহিহ
হাদিস থেকে দলিল দিন, কিয়াস ব্যতিত।
প্রশ্ন: ০৬। মদ হারাম কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। কিন্তু
হিরোয়িন, আফিম,বাবা আধুনিক বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য এগুলো নামে
সরাসরি হারাম হওয়ার নস নেই। কারণ নবির যুগে এগুলো ছিল না? কুরআন-সহিহ
হাদিস থেকে দলিল দিন, কিয়াস ব্যতিত।
প্রশ্ন: ০৭। মোবাইলে কুরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ কিনা? কারণ নবির যুগে এগুলো ছিল না? কুরআন-সহিহ
হাদিস থেকে দলিল দিন, কিয়াস ব্যতিত।
প্রশ্ন: ০৮। মাইকে আজান দেওয়া যাবে কিনা? কারণ নবির যুগে এগুলো ছিল না?
কুরআন-সহিহ হাদিস থেকে দলিল দিন,
কিয়াস ব্যতিত।
প্রিয় পাঠক! এরকম হাজরো মাসয়ালার ক্ষেত্রে কিয়াস ব্যতিত
আমল করা সম্ভব হবে কি?
যারা মানেন না; তাদেরকে উপরোক্ত প্রশ্নগলোর উত্তর
দেওয়ার জন্য কিয়ামত সময় দিলেও কি এই আসমানের নিচে জমিনের ওপরে কোনো আলেম আছে কি
কিয়াসের সাহায্য ছাড়া জবাব দিতে পারবে?
এখন কিয়াসের পক্ষে নস পেশ করছি। শুরুতে যৎকিঞ্চিৎ কিয়াসের পরিচয় জেনে নেয়। কিয়াসঃ
কিয়াস (قياس) আরবি শব্দ যার
অর্থ হল অনুমান করা, পরিমান করা, তুলনা করা, ওজন
করা, নমুনা, সাদৃশ্য করা ইত্যাদি।
ফিকহের পরিভাষায়- মূল আইন হতে ইল্লাতের যুক্তিভত্তিক
সিদ্বান্ত হল কিয়াস।
v কুরআনুল কারিম থেকে দলিল:
আয়াত নং-০১
وَإِذَا
جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ
إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ
يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ
لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا
আর যখন তাদের কাছে
শান্তি-সংক্রান্ত কিংবা ভয়ের কোন সংবাদ পৌঁছে তখন তারা সেগুলোকে রটিয়ে দেয়। যদি
সেগুলো রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিংবা তাদের দায়িত্বশীলদের নিকটে পৌঁছে দিত
তাহলে তাদের মধ্যে অনুসন্ধানকারীগণ (সংবাদের যথার্থতা) জেনে নিতে পারত। বস্তুত
আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা বিদ্যমান না থাকলে তোমাদের অল্প কিছু লোক ব্যতীত সবাই
শয়তানের অনুসরণ করতে। সূরা নিসা: ৮৩
এ আয়াতের ব্যাখ্যা
وَفِي هَذِهِ الْآيَةِ دَلَالَةٌ عَلَى
وُجُوبِ الْقَوْلِ بِالْقِيَاسِ وَاجْتِهَادِ الرَّأْيِ فِي أَحْكَامِ
الْحَوَادِثِ وَذَلِكَ لِأَنَّهُ أَمْرٌ بِرَدِّ الْحَوَادِثِ إلَى الرَّسُولِ
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَيَاتِهِ إذَا كَانُوا بِحَضْرَتِهِ
وَإِلَى الْعُلَمَاءِ بَعْدَ وَفَاتِهِ وَالْغَيْبَةِ عَنْ حَضْرَتِهِ صَلَّى
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهَذَا لَا مَحَالَةَ فِيمَا لَا نَصَّ فِيهِ لِأَنَّ
الْمَنْصُوصَ عَلَيْهِ لَا يَحْتَاجُ إلَى اسْتِنْبَاطِهِ
অর্থাৎ এ আয়াত দ্বারা
নবসৃষ্ট কোন বিষয়ের বিধান নির্ধারণে ইজতিহাদ ও কিয়াসের আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়। আর
তা এভাবে প্রমাণিত হয় যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ)
যখন জীবিত ছিলেন এবং সাহাবায়ে কিরামের
সামনে থাকতেন তখন নবসৃষ্ট যে কোন বিষয় রসূলুল্লাহ (ﷺ)
-এর নিকটে পেশ করার আদেশ দেয়া হয়েছে আর রসূলুল্লাহ (ﷺ)
-এর মৃত্যুর পরে বা জীবিত থেকেও তাঁর অনুপস্থিতিতে উলামায়ে কিরামের নিকটে পেশ করার
নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এটা অবশ্যই সে সব ক্ষেত্রে, যেখানে কুরআন-হাদীসের কোন স্পষ্ট নির্দেশ
বর্ণিত নেই। কেননা, কুরআন-হাদীসের সিদ্ধান্ত বিদ্যমান থাকতে
গবেষণার কোন প্রয়োজন নেই। সত্র: আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস
وَالِاسْتِنْبَاطُ مَأْخُوذٌ مِنَ
اسْتَنْبَطْتُ الْمَاءَ إِذَا اسْتَخْرَجْتُهُ.وَالنَّبَطُ الْمَاءُ الْمُسْتَنْبَطُ
أَوَّلَ مَا يَخْرُجُ مِنْ مَاءِ الْبِئْرِ أَوَّلَ ما تحفر وسمي النبط نبطا لأنهم
يَسْتَخْرِجُونَ مَا فِي الْأَرْضِ وَالِاسْتِنْبَاطُ فِي اللُّغَةِ
الِاسْتِخْرَاجُ وَهُوَ يَدُلُّ عَلَى الِاجْتِهَادِ إِذَا عُدِمَ النص والإجماع
كما تقدم
অর্থ: لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ এ বাক্যের মধ্যে الِاسْتِنْبَاطُ শব্দটি গ্রহণ করা হয়েছে اسْتَنْبَطْتُ الْمَاءَ
শব্দ থেকে। আর এর ক্রিয়ামূল النَّبَطُ এর অর্থ হলো কূপ খননের পর কূপ
থেকে বের হওয়া প্রথম পানি। আর যমীন থেকে ফসল বের করে আনার কারণে কৃষককে النَّبَطُ বলা হয়। الِاسْتِنْبَاطُ শব্দটির আভিধানিক অর্থ বের করে
আনা। এ আয়াত থেকে কুরআন-হাদীস এবং ইজমার সিদ্ধান্ত না পাওয়া গেলে গবেষণা করা
প্রমাণিত হয়। তাফসীরে কুরতুবী
আয়াত নং-০২
هُوَ
الَّذِي أَخْرَجَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ
لِأَوَّلِ الْحَشْرِ مَا ظَنَنْتُمْ أَنْ يَخْرُجُوا وَظَنُّوا أَنَّهُمْ
مَانِعَتُهُمْ حُصُونُهُمْ مِنَ اللَّهِ فَأَتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ
يَحْتَسِبُوا وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ يُخْرِبُونَ بُيُوتَهُمْ
بِأَيْدِيهِمْ وَأَيْدِي الْمُؤْمِنِينَ فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ
অর্থ: তিনি ওই স্বত্বা যিনি আহলে কিতাবের কাফেরদেরকে
প্রথমবার একত্রিত করার জন্য তাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। তোমরা কল্পনাও
করনি যে, তারা বের হয়ে যাবে। আর তারা ভেবেছিলো তাদের দুর্গ
তাদেরকে আল্লাহর কবল থেকে রক্ষা করবে। অতঃপর তাদের ওপর আল্লাহর আজাব এমন জায়গা
থেকে এসে পড়লো যা তারা কল্পনাও করেনি। আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর ভীতি সৃষ্টি করে
দিলেন। তারা নিজ হাতে এবং মুমিনদের হাতে তাদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করছিলো। অতএব,
হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা হাশর: ২)
আয়াতের ব্যাখ্যা
قوله تعالى فَاعْتَبِرُوا يا أُولِي
الْأَبْصارِ[المسألة الأولى]اعْلَمْ
أَنَّا قَدْ تَمَسَّكْنَا بِهَذِهِ الْآيَةِ فِي كِتَابِ الْمَحْصُولُ مِنْ
أُصُولِ الْفِقْهِ عَلَى أَنَّ القياس حجة…قَالَ الْمُفَسِّرُونَ الِاعْتِبَارُ هُوَ
النَّظَرُ فِي حَقَائِقِ الْأَشْيَاءِ وَجِهَاتِ دَلَالَتِهَا لِيُعْرَفَ
بِالنَّظَرِ فِيهَا شيء آخر من جنسها
অর্থ: আল্লাহর বাণী فَاعْتَبِرُوا يا أُولِي الْأَبْصارِ বাক্য থেকে আহরিত প্রথম মাসআলা।
জেনে রাখ, «الْمَحْصُولُ مِنْ أُصُولِ الْفِقْهِ»নামক কিতাবে আমরা এ আয়াত থেকে
প্রমাণ গ্রহণ করেছি যে, কিয়াস শরীআতের দলীল। মুফাসসিরগণ
বলেন: فَاعْتَبِرُوا শব্দের ক্রিয়ামূল الِاعْتِبَارُ এর অর্থ হলো: কোন বস্তুর মূল উৎস এবং (তার বিধান) প্রমাণের ধরণের
প্রতি লক্ষ্য করে অনুরূপ আরও বিধান বের করা। তাফসীরে কাবীর
খ্যাতনামা মুফাসসিরগণের তাফসীরের ভিত্তিতে বলা যায় যে, সূরা হাশরের ২ নম্বর আয়াত থেকে প্রমাণিত যে,
কুরআন-হাদীস ও ইজমা দ্বারা কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত পাওয়া না গেলে
ইজতিহাদ বা কিয়াসই
তখন শরীআতের দলীল হিসেবে স্বীকৃত।
আয়াত নং-০৩
وَدَاوُودَ
وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ – فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ ۚ وَكُلًّا آتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا
‘(আর স্মরণ করো) দাউদ এবং সুলাইমান (-এর সেই ঘটনার কথা) যখন উভয়ে ক্ষেতের
মামলার ব্যাপারে বিচার করে দিচ্ছিল। সেসময় (ঘটনাটি এই ঘটেছিল যে) রাতের বেলা তাতে
একটি কওমের মেষ ছড়িয়ে পড়েছিল। আর আমি তাদের বিচারকার্য পর্যবেক্ষন করছিলাম (যে
তাঁরা দুজনে কিভাবে বিচার করে)। তখন আমরা সুলায়মানকে তা (অর্থাৎ সঠিক ফয়সালা কী হওয়া উচিৎ তা) বুঝিয়ে দিলাম। আর (তাছাড়া) আমরা
(তাঁদের দুজনের) প্রত্যেককেই দান করেছিলাম হিকমাহ ও ইলম। সূরা আম্বিয়া ৭৮, ৭৯
ইমাম হাসান বাসরী রহ. একবার উপরোক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করে বললেন: فحَمَد
سليمان، ولم يَلُم داود، ولولا ما ذكر الله من أمر هذين، لرأيت أنَّ القضاة هلكوا، فإنَّه أثنى على هذا بعلمه، وعذر هذا باجتهاده এখানে (উত্তম রায়ের জন্য) হযরত সুলায়মান আ.-এর প্রশংসা করা
হয়েছে, কিন্তু হযরত দাউদ আ.-এর
কোনো ক্রুটি ধরা হয়নি। আর আল্লাহ তাআলা যদি এই দুই নবীর উক্ত ঘটনা উল্লেখ না করতেন,
তাহলে আমার মতে বিচারকরা নির্ঘাত ধ্বংস হয়ে যেত। বস্তুতঃ আল্লাহ
তাআলা হযরত সুলায়মান আ.-এর রায়কে তার ইলমের কারণে
প্রশংসা করেছেন, আর হযরত দাউদ আ.কে (ক্রুটি ধরা) থেকে মুক্তি
দিয়েছেন তার ইসতিহাদের (কিয়াসের) কারণে। [সহিহ বুখারী- ৮/১১১; শারহুস সুন্নাহ, ইমাম বাগাভী- ১০/১১৬]
v হাদিসে নবিব
থেকে দলিল:
হাদিস নং-০১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ،
حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرِو ابْنِ
أَخِي الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنْ نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ مِنْ أَهْلِ
حِمْصٍ، عَنْ مُعَاذٍ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ حِينَ بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ، فَقَالَ: ” كَيْفَ
تَصْنَعُ إِنْ عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ؟ ”
قَالَ:
أَقْضِي بِمَا فِي كِتَابِ اللهِ. قَالَ: ” فَإِنْ
لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللهِ؟ ”
قَالَ:
فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ:
” فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ ”
قَالَ:
أَجْتَهِدُ رَأْيِي، لَا آلُو. قَالَ: فَضَرَبَ
رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدْرِي، ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ
لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللهِ.
অর্থ: হযরত মুআজ রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁকে ইয়ামান প্রেরণ করেন তখন বললেন: তোমার সামনে কোন
বিচার এলে তুমি কীভাবে তার সমাধান করবে? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাবে যা আছে আমি সে অনুযায়ী ফায়সালা
করব। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় বললেন: যদি তুমি আল্লাহর কিতাবে তা না
পাও? হযরত মুআজ রা. বললেন:
তাহলে রসূলুল্লাহ (ﷺ)--এর সুন্নাত দ্বারা ফায়সালা করব। তিনি আবার বললেন: যদি তুমি
রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সুন্নাতে না পাও? হযরত মুআজ রা. বললেন: তাহলে আমি আমার বিবেচনা দ্বারা গবেষণা
করব। আর এ ব্যাপারে আমার চেষ্টায় কোন ত্রুটি করব না। হযরত মুআজ রা. বলেন: এ কথা
শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সিনা চাপড়ে বললেন: সব প্রশংসা সেই আল্লাহ তাআলার যিনি
তাঁর রসূলের প্রেরিত দূতকে এমন (বিচারিক যোগ্যতার) তাওফীক দিয়েছেন যে ব্যাপারে
আল্লাহর রসূল সন্তুষ্ট। মুসনাদে আহমাদ: ২২০০৭, আবু দাউদ: ৩৫৫৩, ৩৫৫৪, তিরমিজী: ১৩৩১, ১৩৩২
নোট: হাদিসটি সনদ সম্পর্কে আবু বকর রাযী,
আবু বকর ইবনে আরাবী, খতীবে বাগদাদী ও ইবনুল
কায়্যিম আল জাওযিয়া-এর মতে সহিহ। সূত্র: আল ইলালুল মুতানাহিয়া:
বিচার-ফায়সালা অধ্যায়
হাদিস নং-০২
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، أَخْبَرَنَا
وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، أَخْبَرَنَا أَبِي قَالَ:
سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ يُحَدِّثُ،
عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ
الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ الْمِصْرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: احْتَلَمْتُ
فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ السُّلَاسِلِ فَأَشْفَقْتُ إِنِ
اغْتَسَلْتُ أَنْ أَهْلِكَ فَتَيَمَّمْتُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ بِأَصْحَابِي الصُّبْحَ
فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «يَا
عَمْرُو صَلَّيْتَ بِأَصْحَابِكَ وَأَنْتَ جُنُبٌ؟» فَأَخْبَرْتُهُ
بِالَّذِي مَنَعَنِي مِنَ الِاغْتِسَالِ وَقُلْتُ إِنِّي سَمِعْتُ اللَّهَ يَقُولُ: {وَلَا
تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} فَضَحِكَ
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا قَالَ(رَوَاه
ابُوْ دَاود فِىْ بَابِ إِذَا خَافَ الْجُنُبُ الْبَرْدَ أَيَتَيَمَّمُ)
হযরত আমর ইবনুল আছ রা. বলেন: জাতুস সালাসিল যুদ্ধে শীতের রাতে আমার
সপ্নদোষ হয়ে গেল। আমি আশঙ্কা করলাম যে, গোসল করলে ধ্বংস হয়ে
যেতে পারি। তাই তায়াম্মুম করলাম এবং সাথীদের ফজরের নামায পড়ালাম। সাথীগণ এ ঘটনা
রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানিয়ে দিলে তিনি আমাকে
বললেন: হে আমর! তুমি জুনুবী অবস্থায় সাথীদের নামায পড়িয়েছ? আমি তাঁকে গোসল না করার কারণ বর্ণনা করলাম
এবং আরও বললাম যে, আমি আল্লাহর বাণী শুনেছি: তোমরা নিজেদেরকে
হত্যা করো না, আল্লাহ তোমাদের প্রতি মেহেরবান। (সূরা নিসা:
২৯) রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা শুনে হাসলেন এবং তাঁকে কিছুই বললেন না।
আবু দাউদ: ৩৩৪
নোট: শায়খ শুআইব আরনাউত মুসনাদে আহমাদ ১৭৮১২ নম্বর হাদীসের তাহকীকে বলেন: حديث
صحيح، “হাদীসটির সনদ সহীহ”।
দেখুন, হযরত আমর ইবনুল আছ রা. ফরয গোসলের
স্থলে তায়াম্মুমের আমল কুরআন-হাদীসের কোন দলীলের ভিত্তিতে করেননি এবং এ মর্মে কোন
দলীলও তিনি পেশ করেননি; বরং কুরআনের আয়াতের আলোকে তিনি নিজে
গবেষণা করে এ আমল করেছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর এ গবেষণালব্ধ দলীল শুনে হাসলেন। আর এটা
রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর পক্ষ থেকে গবেষণা নামক দলীলের স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ। ফিকাহের
পলিভাষায় তাকে কিয়াস বলে।
হাদিস নং-০৩
حَدَّثَنَا
عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالَ حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ
عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ لَنَا لَمَّا رَجَعَ مِنَ الأَحْزَابِ«لاَ يُصَلِّيَنَّ أَحَدٌ العَصْرَ إِلَّا فِي
بَنِي قُرَيْظَةَ» فَأَدْرَكَ بَعْضَهُمُ العَصْرُ فِي
الطَّرِيقِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ نُصَلِّي حَتَّى نَأْتِيَهَا وَقَالَ
بَعْضُهُمْ: بَلْ نُصَلِّي، لَمْ يُرَدْ مِنَّا ذَلِكَ،
فَذُكِرَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمْ يُعَنِّفْ وَاحِدًا
مِنْهُمْ (رَوَاه الْبُخَارِىُّ فِىْ بَابُ صَلاَةِ
الطَّالِبِ وَالمَطْلُوبِ رَاكِبًا وَإِيمَاءً)
হযরত ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ)
খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে বললেন: সবাই
আছরের নামায পড়বে বনী কুরাইযায় গিয়ে। পথিমধ্যে কারও কারও আছরের ওয়াক্ত হয়ে গেলো।
কেউ কেউ বললো: আমরা বনী কুরাইযায় না গিয়ে নামায পড়ব না। আবার অন্যরা বললো: আমরা
বরং নামায পড়ব। আমাদের দ্বারা ওটা উদ্দেশ্য নয় (যে, আমরা নামায ছেড়ে দিব)। অতঃপর এ মতবিরোধের
ঘটনা নবী কারীম (ﷺ) -এর নিকটে বলা হলে তিনি তাদের
কাউকে তিরস্কার করলেন না। বুখারী: ৮৯৯
সম্মানিত পাঠক! লক্ষ্য করুন, উনারা কথায় কথায় বুখারি উদ্ধৃতি দেন,
আর সেই বুখারির হাদিসের বৈধতা পাওয়া যাচ্ছে। কেননা, রসূরে নির্দেশ
অমান্য করে সলাত করলেও; এতদসত্ত্বেও রসূলুল্লাহ (ﷺ)
তাদেরকে তিরস্কার না করা বা কিছুই না বলা
এটাই প্রমাণ করে যে, ইজতিহাদ বা গবেষণাও শরীআতের দলীল।
হাদিস নং-০৪
ইমাম ত্বাবরানী (মৃ: ৩৬০ হি:) রহ. উত্তম সনদে হযরত আলী রা. থেকে একটি হাদিস
বর্ণনা করেছেন, হযরত আলী রা. বলেন- قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنْ نَزَلَ بِنَا أَمْرٌ لَيْسَ فِيهِ بَيَانٌ : أَمْرٌ وَلا نَهْيٌ ، فَمَا تَأْمُرُنَا ؟ قَالَ : ” تُشَاوِرُونَ الْفُقَهَاءَ وَالْعَابِدِينَ ، وَلا تُمْضُوا فِيهِ رَأْيَ خَاصَّةٍ – رواه الطبـراني فــي الأوســط:
رقم الحديث ١٦٤٧, قال
الهيثمي فـي مــجمـع الزوائد:١٠/١٧٨ رجاله موثقون من أهل الصحيح, الهندي
في كنز العمال رقم ٤١٨٨، وقال عنه حسن صحيح,
و خليفة بن خياط فـي مسنده, رقم
الحديث ٤٦ – আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমাদের কাছে যদি এমন কোনো ব্যাপার সামনে আসে যে
সম্পর্কে (কুরআন ও সুন্নাহ’র
কোথায়ও পরিষ্কার করে কিছু) বলা নেই, আবার (সে সম্পর্কে) কোনো
নিষেধাজ্ঞাও নেই, সেক্ষেত্রে আপনি আমাদেরকে কি করার নির্দেশ
দেন? রাসুলুল্লাহ (ﷺ) -. এরশাদ
করলেন: تُشَاوِرُونَ الْفُقَهَاءَ وَالْعَابِدِينَ ، وَلا تُمْضُوا فِيهِ رَأْيَ خَاصَّةٍ –(তখন) তোমরা ফকিহ ও আবেদ (আলেম)গণের সাথে
পরামর্শ করো এবং সে ব্যাপারে কোনো একক (ব্যাক্তির) মতামতকে গ্রহন করো না। আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরানী-১৬৪৭; মাজমাউয যাওয়ায়িদ, হাইছামী-১০/১৭৮;
কাঞ্জুল উম্মাল, মুত্তাকী-৪১৮৮; মুসনাদে খালিফাহ- ৪৬
হাদিস নং-০৫
হযরত আমর ইবনুল আস রা.-এর সূত্রে
বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)
- এরশাদ করেন– إذا حكم الحاكم فاجتهد ثم أصاب فله أجران وإذا حكم فاجتهد ثم أخطأ فله أجر – যখন কোনো হাকিম (বিচারক) ইসতিহাদ করে ফয়সালা দেন ও ফয়সালাটি সঠিক হয়,
তখন তিনি (আমলনামায়) দুটি পুরষ্কার পান। আর তিনি যখন ইসতিহাদ করে ফয়সালা দেন কিন্তু ফয়সালাটা ভুল হয়ে যায়, তখন
তিনি একটি পুরষ্কার পান। সহীহ বুখার, হাদিস ৭৩৫২; সহীহ
মুসলীম-১৭১৬; সুনানে আবু দাউদ-৩৫৭৪; মুসনাদে আহমাদ-৪/১৯৮
এই হাদিসটি ইসতিহাদ ও কিয়াসের পক্ষে একটি শক্তিশালী দলিল।
হাদিস নং-০৬
সহীহ হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) - এরশাদ করেন– إني إنما أقضي بينكما برأي فيما لم ينزل علي فيه – ‘যে ব্যাপারে (সরাসরি
কোনো ফয়সালা সহকারে) আমার উপর (কোনো ওহী) নাজিল হয় না, শুধু
সেক্ষেত্রে আমি (আমার উপর বিগত নাজিল হওয়া ওহীর আলোকে ইসতেহাদ করি এবং একটি
সিদ্ধান্তে উপণীত হই এবং) তোমাদের দুজনের মাঝে আমার সিদ্ধান্ত অনুসারে ফয়সালা করে
দেই। সহীহ বুখারী-৫/২১২; সহীহ
মুসলীম-৩/১৩৩৭; সুনানে আবু দাউদ-৩৫৮৫; সুনানে
নাসায়ী-৮/২৩৩; তাফসিরে ইবনে কাসির-৪/২৬০
আকলি দলিল:
ইসলামের শুরু হতে কিয়ামত পর্যন্ত আগম সমস্ত মানুষের নাম উল্লেখ করে, সব সমাধান যদি কুরআনুল কারিমে নাজিল হতো,
তাহলে কুরআন ত্রিশ (৩০) পারা
থাকতো। না কোটি কাটি পাড়া হতো। হাদিসও সেম হতো তাহলে হাদিসও কোটি কোটি হত। সেখান
থেকে বাছাই করে আমর করা কত কঠিন হতো। একথা কি আমরা একবারই ভেবে দেখেছি।
তাছাড়া রসূল (ﷺ) কে جَوَامِعَ الكَلِم জামেউল কালিম (অর্থাৎ কথার সমষ্টি দান) করেছেন। দলিল:
রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন: بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الكَلِمِ، আমাকে বিশদ অর্থবহ
সংক্ষিপ্ত কথা বলার বৈশিষ্ট দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ইমাম বুখারী রহ. এ কথার ব্যাখ্যায় বলেন: وَبَلَغَنِي أَنَّ جَوَامِعَ
الكَلِمِ: أَنَّ اللَّهَ يَجْمَعُ
الأُمُورَ الكَثِيرَةَ، الَّتِي كَانَتْ تُكْتَبُ فِي الكُتُبِ قَبْلَهُ، فِي
الأَمْرِ الوَاحِدِ، وَالأَمْرَيْنِ، أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ ” আমার নিকটে পৌঁছেছে
যে, جَوَامِعَ
الكَلِمِ এর
ব্যাখ্যা হলো: আল্লাহ তাআলা রসূলুল্লাহ স.-এর এক/দুই কথার মধ্যে এত কিছু একত্রিত
করে দিয়েছেন, ইতিপূর্বে যা বর্ণনা করতে কিতাবে লিখতে হতো বা অনুরূপ কোন ব্যবস্থা নিতে
হতো। বুখারী: ৬৫৪১)
যদি রসূলুল্লাহ স.-এর
কিছু কিছু (অনেক) কথা দশটি বিধান বের করা না যায় তাহলে রসূলুল্লাহ
স.-এর এ বৈশিষ্টের সার্থকতা কোথায়?
প্রশ্ন: ক। একটি সংশয়।
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন,
أَفَغَيۡرَ
ٱللَّهِ أَبۡتَغِى حَكَمً۬ا وَهُوَ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ إِلَيۡڪُمُ ٱلۡكِتَـٰبَ
مُفَصَّلاً۬ۚ
অর্থঃ এমতাবস্থায় আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মীমাংসাকারীর সন্ধান করবো? অথচ তিনি পূর্ণ বিস্তারিত বিবরণসহ তোমাদের
কিতাব নাযিল করেছেন। সুরা আনআম-১১৪
এ আয়াত দ্বারা বলেন, কুরআনে সকল বিষয় বিস্তারিত বর্ণিত তার পরও
কি কিয়াস দরকার? ( দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ। সূরা মায়েদা-০৩)
উত্তর: ক। তার জবাব,
কুরআন সকল বিষয়ে বর্ণনা এসেছে অর্থ
সকল বিষয়ে মূলনীতি এসেছে। কুরআনে যে সব কিছুই আছে, এ বিয়য়ে ইমাম শাফিকে প্রশ্ন করা হলে,
তিনি জবাবে এ আয়াত দ্বারা দলিল দেন।
وَ مَاۤ اٰتٰىکُمُ الرَّسُوۡلُ فَخُذُوۡهُ ٭
وَ مَا نَهٰىکُمۡ عَنۡهُ فَانۡتَهُوۡا ۚ
অর্থ: রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্ৰহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ
করে তা থেকে বিরত থাক। সূরা হাশর-০৭
কুরআনে নামাজ কায়েম করতে বলা হয়েছে, কিন্তু বিস্তারিত বলা হয়নি, হাদিস থেকে
আমরা বিস্তারিত পদ্ধতি জানতে পারি।
পবিত্রতা সম্পর্কে কুরআনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা এসেছে, কিন্তু
বিস্তারিত আলোচনা আসেনি। এরকম অগণিত বিষয়। সুতরাং প্রমাণিত হলো, কুরআন সকল বিষয়ে বর্ণনা এসেছে অর্থ সকল বিষয়ে মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে।
والله
اعلم بالصواب
আল্লাহপাকই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
ধণী লোকের সন্তান কি জাকাত গ্রহণ করতে পারেবে |
জিজ্ঞাসা-১৭১: একজন ব্যক্তি যাকাত গ্রহনের মত আর্থিক অসচ্ছল না
কিন্তু তার সন্তান কঠিন রোগে আক্রান্ত। তার
চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ তার নেই। এমন ব্যক্তিকে যাকাতের টাকা দেয়া যাবে কি?
(সম্মানিত ভাই প্রতিভাসম্পন্ন
ব্যক্তি ইব্রাহীম সাহেব। আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন। ২৪ ফিল্ড আর্টিলারি খোলাহাটি-এর প্রশ্নের আলোকে।)
জবাব: সাহেবে নিসাব ব্যক্তি
কখনও যাকাতের টাকা গ্রহণ করতে পারবে না, চাই সে বালেগ হোক আর
নাবালেগ হোক। নাবালেগ সন্তানের পিতা ধনী হলে ঐ নাবালেগকে
যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। তবে বালেগ সন্তান যদি গরীব হয়, তাহলে তার পিতা ধনী হলেও তাকে
যাকাত দেওয়া যাবে।
আপনার বর্ণিত ছুরতে, অসুস্থ ছেলেটি যদি বালেগ ও
সে সাহেবে নিসাব না হয়, তাহলে ঐ ছেলে যাকাতের টাকা গ্রহণ করতে পারবে। ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৮৮, ১৮৯; তাতারখানিয়া : ৩/২০৬; আদদুররুল মুখতার :৩/২৯৪,
২৯৫
والله
اعلم بالصواب
আল্লাহপাকই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
বুকের উপর হাত বাধা প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৭২: ইউটিউবে একজন বক্তার আলোচনা শুনলাম
তিনি বলছেন, নামাজে বুকের উপর হাত বাঁধার পাঁচটি সহীহ হাদীস আছে
আর নাভির নিচে হাত বাঁধার তিনটি জাল ও যয়ীফ হাদীস আছে। এ সম্পর্কে তাহকীক প্রয়োজন।
হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহিল কাফি- মোমেনশাহি থেকে---
জবাব: ১. হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন,
رأيت
النبي صلى الله عليه وسلم وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة. أخرجه ابن أبي شيبة قال: حدثنا وكيع عن موسى بن
عمير عن علقمة بن وائل عن أبيه وإسناده صحيح. قال الحافظ قاسم بن قطلوبغا في تخريج
أحاديث الاختيار شرح المختار : هذا سند جيد وقال الشيخ أبو الطيب السندي في شرحه
على الترمذي : هذا حديث قوي من حيث السند وقال الشيخ عابد السندي في طوالع
الأنوار: رجاله كلهم ثقات أثبات اهـ
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে
নাভির নিচে রাখতে দেখেছি। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৯। এর সনদ সহীহ।
হাফেজ কাসিম ইবনে কুতলূবুগা র., তিরমিযী শরীফের ভাষ্যকার আবুত্ তায়্যিব সিন্ধী র. ও আল্লামা আবেদ
সিন্ধী র. প্রমুখ হাদীসটিকে মজবুত ও শক্তিশালী বলেছেন। এর সনদ এরূপ: ইবনে আবী শায়বা
র. বর্ণনা করেছেন ওয়াকী’ থেকে, তিনি মূসা ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আলকামার সূত্র্রে হযরত
ওয়াইল রা. থেকে। এই সনদে কোন দুর্বল রাবী নেই।
এ হাদীসটি সম্পর্কে কেউ কেউ শুধু এতটুকু আপত্তি উত্থাপন করেছেন যে, মুসান্নাফের কোন কোন পাণ্ডুলিপিতে এটি বিদ্যমান
নেই। কিন্তু এ আপত্তি হাদীসের অনেক কিতাবের ক্ষেত্রেই চলে। তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ, সহীহ ইবনে হিব্বান পভৃতি কিতাব দেখুন,
এক পাণ্ডুলিপিতে এমন কিছু হাদীস পাওয়া যায়, যা
অন্য পাণ্ডুলিপিতে নেই। তিরমিযী শরীফের মুবারকপুরী, আহমাদ শাকের
ও শুআয়ব আরনাউতের তিন কপিতেই এ তারতম্য দেখা যায়। সুত্ররাং এটা কোন আপত্তি হতে পারে
না। যারা নিজের চোখে হাদীসটি মুসান্নাফে দেখেছেন তাদের কথাই গ্রহণযোগ্য হবে।
২. হযরত আলী রা. বলেন,
السُّنَّةُ
وَضْعُ الْكَفِّ عَلَى الْكَفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ. أخرجه أبو داود
(في رواية ابن الأعرابي وابن داسة) ٧٥٦ وأحمد ١/١١٠ (٨٧٥) وابن أبي شيبة (٣٩٦٦)
والدارقطني ١/٢٨٦ والضياء في المختارة ٢/٧٧٢ وفيه عبد الرحمن بن إسحاق الواسطي وهو
ضعيف. ولكن يشهد له الحديث السابق.
অর্থ: নামাজে সুন্নত হলো (এক হাতের) তালু (অন্য হাতের) তালুর উপর রেখে নাভির নিচে
রাখা। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৬; মুসনাদে আহমদ ১খ, ১১০ পৃ, হাদীস নং ৮৭৫; মুসান্নাফে
ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬৬; দারাকুতনী,
১খ, ২৮৬পৃ; যিয়া ফিল মুখতারা,
২খ, ৭৭২পৃ।
এর সনদে আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক রয়েছেন। তিনি দুর্বল। তবে প্রথম হাদীসটি এর সমর্থন
করছে।
৩. হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেছেন,
أَخْذُ
الأَكُفِّ عَلَى الأَكُفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ. أخرجه أبو داود
(٧٥٨) وفيه عبد الرحمن المذكور.
অর্থ: নামাযে হাতের তালু অপর তালুর উপর রেখে নাভির নিচে রাখতে হবে। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৮। এতেও পূর্বোক্ত আব্দুর রহমান
রয়েছেন।
৪. হযরত আনাস রা. বলেছেন,
ثلاث من أخلاق النبوة تعجيل الإفطار وتأخير السحور ووضع البد اليمنى
على اليسرى في الصلاة تحت السرة. أخرجه ابن حزم في المحلى تعليقا ٣/٣٠
অর্থ: তিনটি বিষয় নবীস্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। ইফতারে বিলম্ব না করা, সাহরী শেষ সময়ে খাওয়া, এবং নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর
রেখে নাভির নিচে রাখা। ইবনে হাযম, আল মুহাল্লা, ৩খ, ৩০পৃ। তিনি এর সনদ উল্লেখ করেন নি।
৫. হাজ্জাজ ইবনে হাসসান র. বলেন,
سمعت
أبا مجلز أو سألته قال : قلت كيف يصنع قال : يضع باطن كف يمينه على ظاهر كف شماله
ويجعلها أسفل من السرة . أخرجه ابن أبي شيبة في مصنفه. (٣٩٦٣)
অর্থ: আমি আবূ মিজলায র. (বিশিষ্ট তাবেয়ী)কে বলতে শুনেছি, অথবা হাজ্জাজ বলেছেন, আমি আবূ মিজলায র.কে জিজ্ঞেস করলাম, কিভাবে হাত বাঁধবে?
তিনি বললেন, ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠে
রেখে নাভির নিচে বাঁধবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং
৩৯৬৩। এর সনদ সহীহ।
৬. ইবরাহীম নাখায়ী র. (যিনি তাবেয়ী ছিলেন) বলেন,
يضع
يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة . أخرجه ابن أبي شيبة ٣٩٦٠
অর্থ: নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নিচে বাঁধবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী
শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬০ । এর
সনদ হাসান।
ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইসহাক ইবনে রাহূয়া বলেছেন,
- تحت السرة
أقوى في الحديث وأقرب إلى التواضع.
অর্থাৎ নাভির নিচে হাত বাঁধার হাদীস অধিক শক্তিশালী এবং বিনয়ের নিকটতর। মাসাইলুল
ইমাম আহমদ ওয়া ইসহাক, লি ইসহাক ইবনে মানসুর আলকাওসাজ, মৃত্যু ২৫১, নং ২১৪ ; ইবনুল মুনযির, আলআওসাত,
৩খন্ড,২৪৩ পৃ.
[12:24
PM, 5/29/2022] Robi Rt Jalal: যেসব হাদীস দ্বারা বুকের উপর হাত বাঁধার
প্রমাণ পেশ করা হয়, তার একটিও সহীহ নয়। নিম্নে পর্যালোচনাসহ হাদীসগুলো
তুলে ধরা হলো।
১. হযরত ওয়াইল রা. বলেছেন,
صليت
مع رسول الله صلى الله عليه و سلم ووضع يده اليمنى على يده اليسرى على صدره )أخرجه
ابن خزيمة ১/২৪৩ رقم
: ৪৭৯)
আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে নামায পড়লাম। তিনি তার ডান হাত
বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর রাখলেন।
আলবানী সাহেব হাদীসটি সম্পর্কে সহীহ ইবনে খুযায়মার টীকায় মন্তব্য করেছেন:
إسناده
ضعيف لأن مؤملا وهو ابن اسماعيل سيئ الحفظ لكن
الحديث صحيح جاء من طرق أخرى بمعناه وفي الوضع على الصدر أحاديث تشهد له
অর্থাৎ ‘এর সনদ দুর্বল। কেননা মুয়াম্মাল- তিনি ইসমাঈলের
পুত- দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তবে অন্যান্য সূত্র্রে এর সমার্থক বর্ণনা থাকায়
হাদীসটি সহীহ। আর বুকের উপর হাত রাখার ক্ষেত্রে অনেক হাদীস রয়েছে, যা এর বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দেয়। সহীহ ইবনে খুযায়মা,
১/২৪৩ হাদীস নং ৪৭৯; আবুশ শায়খ, তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বিআসবাহান, ২/২৮৬; বায়হাকী ২/৩০, হাদীস নং ২৩৩৬।’
কিন্তু এ হাদীসটি সহীহ নয়। কারণ-
ক. এর সনদে মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাঈল আছেন। তিনি সুফিয়ান ছাওরী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
মুয়াম্মালকে ইমাম বুখারী মুনকারুল হাদীস বলেছেন। তিনি একথাও বলেছেন, আমি যাকে মুনকারুল হাদীস বলবো, তার সূত্র্রে বর্ণনা করা বৈধ হবে না। তাছাড়া ইবনে সা’দ বলেছেন, ثقة كثير الغلط তিনি বিশ্বস্ত, তবে অনেক ভুল করতেন। আবূ যুরআ রাযী বলেছেন,
في حديثه خطأ كثير তার হাদীসে অনেক
ভুল; আবূ হাতেম রাযী বলেছেন,
صدوق كثير الخطأ يكتب حديثه তিনি সাদূক বা সত্যনিষ্ঠ, তবে
প্রচুর ভুল করতেন, তার হাদীস লিপিবদ্ধ করা যায়। (আল জারহু
ওয়াত তাদীল, ৮/৩৭৪) দারাকুতনী বলেছেন, ثقة كثير الخطأ তিনি বিশ্বস্ত তবে
অত্যধিক ভুলের শিকার। ইবনে মাঈন এক বর্ণনায় বলেছেন, সুফিয়ানের ক্ষেত্রে তিনি প্রমাণযোগ্য হওয়ার
উপযুক্ত নন। (দ. তারীখে ইবনে মুহরিয, ১/১১৪) মুহাম্মদ ইবনে নসর
বলেছেন, তিনি কোন বর্ণনার ক্ষেত্রে নিঃসঙ্গ হলে ভেবে চিন্তে দেখতে
হবে, কেননা তার প্রচুর ভুল হত। (দ. তাহযীবুত তাহযীব) ইয়াকুব ইবনে
সুফিয়ান আল ফাসাবী উল্লেখ করেছেন যে, সুলায়মান ইবনে হারব বলেছেন,
وقد يجب على أهل العلم أن يقفوا عن حديثه
ويتخففوا من الرواية عنه فإنه منكر يروي المناكير عن ثقات شيوخنا وهذا أشد فلو
كانت هذه المناكير عن ضعاف لكنا نجعله له عذرا আলেমগণের উচিৎ, তার হাদীস গ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্ক থাকা ও
কম করে বর্ণনা করা। কারণ তিনি আপত্তিকর হাদীস বর্ণনা করতেন আমাদের বিশ্বস্ত উস্তাদগণ
থেকে। এটা খুবই অন্যায়। কারণ এসব আপত্তিকর বর্ণনা যদি দুর্বলদের থেকে হতো তবে আমরা
তাকে মাযুর বিবেচনা করতাম। (আল মারিফা ওয়াত তারীখ, ৩/৫২) আস সাজী
বলেছেন, صدوق
كثير الخطأ وله أوهام يطول ذكرها
তিনি সাদূক বা সত্যনিষ্ঠ, তবে তার প্রচুর ভুল হত, সেগুলোর পরিমাণ এত বেশী যে,উল্লেখ করলে আলোচনা দীর্ঘ
হয়ে যাবে। (তাহযীবুত তাহযীব)
ইবনে হাজার আসকালানীও ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেছেন, وكذلك
مؤمل بن إسماعيل في حديثه عن الثوري ضعف অর্থাৎ একইভাবে (সুফিয়ান)
ছাওরী হতে মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাঈলের বর্ণনায় দুর্বলতা আছে। (দ, ৯খ, ২৮৮পৃ, ৫১৭২ হাদীসের অধীনে)
তাছাড়া স্বয়ং আলবানী র.ও মুয়াম্মাল কর্তৃক বর্ণিত সহীহ ইবনে খুযায়মার দুটি হাদীসকে
দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। হাদীস দুটির নম্বর হলো ১১০৫ ও ১১৩৬।
খ. মুয়াম্মালের দুজন সঙ্গী মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ফিরয়াবী (আলমুজামুল কাবীর তাবারানী
২২/৩৩) ও আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালিদ (মুসনাদে আহমদ ৪/৩১৮; নাসাঈ, হাদীস নং ৮৮৯)
(দুজনই বিশ্বস্ত রাবী) সুফিয়ান রহ.থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের বর্ণনায়
‘বুকের উপর’ কথাটি
নেই।
গ. আলবানী সাহেব আবুশ শায়খের উদ্ধৃতি তো দিয়েছেন। কিন্তু তার বর্ণনাটি পেশ করেন
নি। অথচ উক্ত বর্ণনায় আছে, رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وضع يده
على شماله عند صدره. অর্থাৎ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে দেখলাম, তিনি ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে বুকের কাছে
রাখলেন।
এ হাদীসের সনদেও মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাঈল আছেন। তাহলে তার বর্ণনায় ইযতিরাব বা অসংগতি
পাওয়া গেল। কখনও বলেছেন বুকের উপর, কখনও বুকের কাছে।
ঘ. এ হাদীসটি মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাঈল সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ সুফিয়ান সাওরী রহ. নিজেই নাভীর নিচে হাত
বাঁধতেন।
মুয়াম্মালের সূত্র ছাড়া এ হাদীসের আরেকটি সুত্র রয়েছে। সেটি হলো:
عن
محمد بن حجر بن عبد الجبار بن وائل الحضرمي حدثني عمي سعيد بن عبد الجبار عن أبيه
عن أمه أم يحيى عن وائل بن حجر وفيه: ثم وضع يمينه على يساره على صدره. أخرجه
الطبراني في الكبير
২২/৪২ (১১৮) والبيهقي (২৩৩৫)
অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে হুজর তার চাচা সাঈদ ইবনে আব্দুল জাব্বার থেকে, তিনি
তার পিতা আব্দুল জাব্বার ইবনে ওয়াইল থেকে, তিনি তার মাত্রার
সুত্রে ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ)
তার ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর রাখলেন। (তাবারানী, মুজামে কাবীর, ২২/৪২ হাদীস
১১৮; বায়হাকী, হাদীস ২৩৩৫)
এ সুত্রটিও দুর্বল। তার কারণ:
ক. মুহাম্মদ ইবনে হুজর দুর্বল। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী র. বলেছেন, فيه نظر অর্থাৎ তার ব্যাপারে
আপত্তি রয়েছে। (তারীখে কাবীর, নং ১৬৪) আবু আহমদ আল হাকেম বলেছেন, ليس بالقوي عندهم
অর্থাৎ তিনি মুহাদ্দিসগণের
দৃষ্টিতে শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন। (লিসান, ৭/৫৮) আর ইবনে হিব্বান তার আলমাজরূহীন (সমালোচিত্র রাবী চরিত)
গ্রন্থে বলেছেন,
يروي
عن عمه سعيد بن عبد الجبار عن أبيه عبد الجبار عن أبيه وائل بن حجر بنسخة منكرة
منها أشياء لها أصول من حديث رسول الله صلى الله عليه و سلم وليست من حديث وائل بن
حجر ومنها أشياء من حديث وائل بن حجر مختصرة جاء بها على التقصي وأفرط فيها ومنها
أشياء موضوعة ليس من كلام رسول الله صلى الله عليه و سلم لا يجوز الاحتجاج به
অর্থাৎ ‘মুহাম্মদ ইবনে হুজর তার চাচা সাঈদ ইবনে আব্দুল
জাব্বার থেকে, তিনি তার পিতা আব্দুল জাব্বার থেকে, তিনি তার পিতা ওয়াইল
ইবনে হুজর রা. থেকে- এই সূত্র্রে বর্ণিত আপত্তিকর একটি হাদীসের কপি থেকে হাদীস বর্ণনা
করে থাকেন। এর মধ্যে কিছু হাদীস এমন আছে, যার মূল তো রাসূলুল্লাহ
(ﷺ) থেকে পাওয়া যায়। কিন্তু তা ওয়াইল রা. কর্তৃক বর্ণিত নয়। আর কিছু হাদীস
এমন আছে, যা হযরত ওয়াইল রা. থেকে সংক্ষিপ্তরূপে বর্ণিত আছে। কিন্তু মুহাম্মদ ইবনে হুজর
তাতে বৃদ্ধি ঘটিয়ে বিস্তারিতরূপে পেশ করেছেন। আবার কিছু হাদীস আছে সম্পূর্ণ জাল। সেগুলো
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে প্রমাণিত নয়। তাকে (মুহাম্মদ
ইবনে হুজরকে) প্রমাণস্বরূপ পেশ করা জায়েয হবে না।’
উকায়লী ও ইবনে আদীও তার ব্যাপারে ইমাম বুখারীর মন্তব্য উল্লেখ করে তা সমর্থন করেছেন।
যাহাবী মীযান ও মুগনী উভয় গ্রন্থে বলেছেন, له مناكير
অর্থাৎ তার কিছু
কিছু আপত্তিকর বর্ণনা রয়েছে। আর আল মুকতানা ফী সারদিল কুনা গ্রন্থে তিনি বলেছেন ليّن অর্থাৎ দুর্বল। হায়সামী
বলেছেন,
وهو ضعيف অর্থাৎ তিনি দুর্বল। (মাজমাউয যাওয়াইদ, ১১৭৮ ও ১৬০০৪)
মুহাম্মদ ইবনে হুজরের চাচা সাঈদ ইবনে আব্দুল জাব্বারও সমালোচিত্র রাবী। তার সম্পর্কে
ইমাম বুখারী বলেছেন, فيه نظر
অর্থাৎ তার ব্যাপারে
আপত্তি রয়েছে। ইবনে মাঈন বলেছেন, لم يكن بثقة
অর্থাৎ তিনি বিশ্বস্ত
ছিলেন না।
খ. সাঈদ ইবনে আব্দুল জাব্বারের তিনজন সঙ্গী আছেন। এক. মুহাম্মদ ইবনে জুহাদা (মুসলিম, নং ৪০১), দুই. আবু ইসহাক
আস সাবিঈ (আহমদ, ৪/৩১৮) তিন. আলমাসউদী (আহমদ, নং ১৮৮৫২; তাবারানী, ২২/৩২-৩৩)। কিন্তু
তাদের কারো বর্ণনাতেও ‘বুকের উপর’ কথাটি
নেই।
সুত্ররাং এটি যে মুহাম্মদ ইবনে হুজরের ভুল বর্ণনা সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তাছাড়া বাযযার র. তার মুসনাদে একই সনদে এই হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। সেখানে বুকের উপর কথাটির
পরিবর্তে আছে- عند صدره অর্থাৎ বুকের কাছে।
(দ, বাযযার, ৪৪৮৮)। সনদের দুর্বলতার পাশাপাশি এটা মতনের ইযতিরাব (অসংগতি)ও বটে।
বোঝা গেল, হাদীসটির কোন সনদই সহীহ নয়। সুত্ররাং ‘তবে অন্যান্য সূত্র্রে এর সমার্থক বর্ণনা থাকায় হাদীসটি সহীহ’ আলবানী সাহেবের একথাও সঠিক নয়। এর সমর্থক বর্ণনাগুলোও দুর্বল,
যেমনটি সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
২. যারা বুকের উপর হাত রাখেন তারা তাউস রহ.এর একটি বর্ণনা দ্বারা দলিল দিয়ে থাকেন।
তাউসের বর্ণনাটি আবূ দাউদ শরীফে (৭৫৯) আছে। হাদীসটি নিম্নরূপ:
عَنْ
طَاوُسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَضَعُ يَدَهُ
الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ
وَهُوَ فِى الصَّلاَةِ.
অর্থাৎ রাসূল (ﷺ) নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন।
অতঃপর উভয় হাত বুকের উপর বাঁধতেন।
প্রকৃতপক্ষে এ হাদীস দ্বারা তাদের দলিল দেওয়ার অবকাশ নেই। কারণ এটি মুরসাল। আর
মুরসাল (সূত্র বিচ্ছিন্ন)কে তারা প্রামাণ্য মনে করেন না। তদুপরি এতে সুলায়মান ইবনে
মূসা নামের একজন বর্ণনাকারী আছেন। তার সম্পর্কে বুখারী র. বলেছেন, عنده
مناكير তার কিছু আপত্তিকর বর্ণনা আছে। ইমাম নাসাঈ
বলেছেন, ليس بالقوي في الحديث
তিনি হাদীসে মজবুত
নন। ( দ, যাহাবীর আল কাশিফ)
আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন, مطعون عليه
তিনি সমালোচিত্র
ও অভিযুক্ত রাবী। আস সাজী রহ. বলেছেন, عنده مناكير
তার কিছু আপত্তিকর
বর্ণনা আছে। হাকেম আবু আহমদ বলেছেন, في حديثه بعض المناكير
তার হাদীসে কিছু
কিছু আপত্তিকর বিষয় আছে। আবু হাতেম রাযী বলেছেন, محله الصدق وفي حديثه بعض الاضطراب তিনি সাদূক বা সত্যনিষ্ঠ মানের, তবে তার হাদীসে কিছু কিছু ইযতিরাব বা অসঙ্গতি
রয়েছে। ইবনুল জারূদ তাকে যুআফা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বোঝা যায়, তার দৃষ্টিতেও তিনি দুর্বল ছিলেন। ইবনে হাজার আসকালানী রহ. তাকরীব গ্রন্থে
লিখেছেন, صدوق فقيه في حديثه بعض لين وخولط قبل موته
بقليل তিনি সাদূক বা সত্যনিষ্ঠ, ফকীহ, তার হাদীসে কিছু
দুর্বলতা রয়েছে। মৃত্যুর কিছু পূর্বে তার স্মৃতিবিভম দেখা দিয়েছিল।
এখন বলুন, এ ধরনের বর্ণনাকারীর হাদীস সহীহ হয় কীভাবে? স্বয়ং আলবানী
সাহেব তার সম্পর্কে আসলু সিফাতিস সালাহ গ্রন্থে (২/৫২৮) লিখেছেন, صدوق في حديثه بعض لين সাদূক, তার হাদীসে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। আর ইরওয়া গ্রন্থে
(৬/২৪৬) একটি হাদীস সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেছেন,
إن
الحديث رجاله كلهم ثقات رجال مسلم إلا أن سليمان بن موسى مع جلالته في الفقه فقد
قال الذهبي في الضعفاء : صدوق )ثم قال بعد ذكر قول البخاري والحافظ في التقريب(
وعلى هذا فالحديث حسن الإسناد وأما الصحة فهي بعيدة عنه.
অর্থাৎ ‘এ হাদীসটির রাবীগণ সকলে বিশ্বস্ত, মুসলিমের রাবী। তবে সুলায়মান ইবনে মূসা ফিকহে
উচ্চ মানসম্পন্ন ব্যক্তি হলেও যাহাবী তার সম্পর্কে স্বীয় যুুআফা গ্রন্থে বলেছেন,
সাদূক।
এরপর আলবানী সাহেব ইমাম বুখারী ও হাফেয ইবনে হাজার এর মন্তব্য উল্লেখপূর্বক বলেছেন, এ হিসাবে হাদীসটি হাসান স্তরের সনদ বিশিষ্ট।
এটি কোনভাবেই সহীহ হতে পারে না।’
সারকথা, অনেক মুহাদ্দিসের দৃষ্টিতে সুলায়মানের দুর্বলতার কারণে হাদীসটি দুর্বল। হ্যাঁ,
কিছু কিছু আলেমের দৃষ্টিতে এটি বড়জোর হাসান মানসম্পন্ন, কিন্তু সহীহ নয় কারও মতেই। তো একে তো হাদীসটি সহীহ নয়। তদুপরি রয়েছে এর নানা
সমস্যা। যেমন (ক) এর মুরসাল হওয়া; (খ) এ অনুযায়ী সালাফ বা পূর্বসূরিগণের
আমল না থাকা এবং (গ) এর আরেকটি বড় সমস্যা হলো, সুলায়মান ইবনে
মূসা মুদাল্লিস রাবী। যেমনটি বলেছেন ইবনে হিব্বান তার মাশাহীরু উলামাইল আমসার গ্রন্থে।
ইবনে হাজার আসকালানীও তা’রীফু আহলিত তাকদীস
বি মারাতিবিল মাওসূফীনা বিত তাদলীস গ্রন্থে তাকে মুদাল্লিস রাবীদের তালিকাভুক্ত করেছেন।
আর স্বীকৃত কথা যে, মুদাল্লিস রাবী যদি عن (হতে বা থেকে) শব্দ যোগে বর্ণনা করেন, তবে সেটি অবিচ্ছিন্ন সূত্র বলে বিবেচিত্র হয়
না। এ হিসাবে সুলায়মান ও তাউসের মাঝে আরেকটি বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হচ্ছে। যার কারণে হাদীসটি
হাসান হওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়ছে। সনদে এতসব ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও এ হাদীস কি দলিল হিসেবে
গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
৩. তাদের আরেকটি দলিল হল হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর একটি হাদীস, যা বায়হাকীতে আছে। হাদীসটি এমন-
عَنِ
ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُمَا فِى قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ (
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ) قَالَ : وَضْعُ الْيَمِينِ عَلَى الشِّمَالِ فِى
الصَّلاَةِ عِنْدَ النَّحْرِ.
অর্থাৎ আল্লাহর বাণী : فصل
لربك وانحر সম্পর্কে ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, নামাযে বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে গলার কাছে
রাখা।
এ হাদীসের সনদে রাওহ্ ইবনুল মুসায়্যাব আছেন, তিনি চরম দুর্বল রাবী। ইবনে হিব্বান তার সম্পর্কে
বলেছেন, তিনি বিশ্বস্ত লোকদের নামে জাল হাদীস বর্ণনা করতেন,
তার থেকে হাদীস গ্রহণ করা বৈধ হবে না। ইবনে আদী বলেছেন, أحاديثه غير محفوظة তার হাদীস সঠিক নয়।
(দ, তাহযীবুত তাহযীব)
তাছাড়া এতে ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব আছেন। তিনি বিতর্কিত বর্ণনাকারী। এসব দুর্বলতার
কারণেই শাওকানী সাহেব লা-মাযহাবী হওয়া সত্ত্বেও তার তাফসীর ফাতহুল কাদীরে আলী রা. ও
ইবনে আব্বাস রা.এর কোন হাদীসই উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় উদ্ধৃত করেন নি। হাফেজ ইবনে কাছীর
রহ. আলী রা.এর ব্যাখ্যাটি উল্লেখপূর্বক বলেছেন, ولا يصح এটি সহীহ নয়। এ মর্মে
আরো কিছু ব্যাখ্যা উদ্ধৃত করে তিনি মন্তব্য করেছেন- وكل هذه الأقوال غريبة جدا والصحيح القول
الأول এসব বক্তব্য অত্যন্ত অপরিচিত্র ও অভিনব। প্রথম ব্যাখ্যাটিই
সহীহ ও সঠিক। আর প্রথম ব্যাখ্যাটি তিনি এভাবে পেশ করেছেন-
قال
ابن عباس، وعطاء، ومجاهد، وعكرمة، والحسن: يعني بذلك نحر البُدْن ونحوها. وكذا قال
قتادة، ومحمد بن كعب القرظي، والضحاك، والربيع، وعطاء الخراساني، والحكم، وإسماعيل
بن أبي خالد، وغير واحد من السلف.
অর্থাৎ ইবনে আব্বাস রা. আতা, মুজাহিদ, ইকরিমা, ও হাসান (বসরী)
বলেছেন, আয়াতের মর্ম হলো, উট বা অন্য পশু
কুরবানী করা। একই কথা বলেছেন কাতাদা মুহাম্মদ ইবনে কাব আলকুরাজী, দাহহাক, আর রাবী’, আতা আলখুরাসানী, হাকাম, ইসমাঈল ইবনে আবু খালিদ ও অনেক পূর্বসূরি। (দ. সূরা কাওছার এর তাফসীর)
আয়াতটির উক্ত সহীহ ব্যাখ্যাই অবলম্বন করেছেন আরবের বিখ্যাত আলেম লা-মাযহাবী ঘরানার
লোক বাক আবু যায়দ। তিনিও হযরত ইবনে আব্বাস রা. কর্তৃক বর্ণিত গলার নিকট হাত বাঁধার
হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। এবং হযরত আলী রা. কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীসটি সম্পর্কে
ইবনে কাছীর রহ.এর পূর্বোক্ত মন্তব্যকেই সমর্থন করেছেন। (দ. মাজমূআ রাসাইল, লা-জাদীদা ফী আহকামিস সালাত, পৃ. ১২, ১৫)
শুধু তাই নয়, লা-মাযহাবী বন্ধুদের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ কুরআনের উর্দু অনুবাদ যা সৌদি সরকারের
উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে সেখানেও আয়াতটির অর্থ লেখা হয়েছে اور قربانى كر এবং কুরবানী কর। এমনিভাবে
ড. মুজিবুর রহমান, সদস্য বাংলাদেশ জামইয়তে আহলে হাদীস, তাঁর বাংলা কুরআন
তরজমায় এর অর্থ লিখেছেন, এবং কুরবানী কর।
হযরত আলী রা. ও ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীস দুটি সহীহ হলে এসব লা-মাযহাবী আলেম আয়াতটির
এমন অনুবাদ করলেন কিভাবে?
৪. তাদের আরেকটি দলিল হল হযরত আলী রা. এর একটি হাদীস, যা বুখারী র. এর তারীখে কাবীরে আছে। হাদীসটি
হলো :
عَنْ
عُقْبَةَ بْنِ ظَبْيَانَ عَنْ عَلِىٍّ (فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ) وَضَعَ
يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى وَسْطِ سَاعِدِهِ عَلَى صَدْرِهِ. (رقم:২৯১১)
উকবা ইবনে জাবয়ান হযরত আলী রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, فصل
لربك وانحر (আয়াতের ইনহার শব্দের অর্থ হলো) ডান হাত বাম হাতের বাহুর মাঝ বরাবর রেখে বুকের
উপর রাখা। (দ. নং ২৯১১)
তিনটি কারণে এ হাদীসটিও সহীহ নয় :
এক, হযরত আলী রা. থেকে যিনি এটি
বর্ণনা করেছেন, তার নাম নিয়ে বর্ণনাকারীগণ বিভিন্ন কথা বলেছেন।
ইয়াযীদ ইবনে যিয়াদ ইবনে আবুল জা’দ তার
নাম বলেছেন উকবা ইবনে যুহায়র (عقبة
بن ظهير), হাম্মাদ
ইবনে সালামা তার নাম বলেছেন উকবা ইবনে যাবয়ান (عقبة بن ظبيان), আর আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী র. বলেছেন, উকবা ইবনে সাহবান(عقبة بن صهبان)। আবার উকবা থেকে এটি কে বর্ণনা করেছেন তা নিয়েও এযতেরাব আছে। ইয়াযীদ
ইবনে যিয়াদ বলেছেন আসিম আল জাহদারীর নাম। কিন্তু হাম্মাদ ইবনে সালামা বলেছেন আসিমের
পিতার নাম। মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এটাকে সনদের এযতেরাব বলা হয়, যা হাদীস দুর্বল প্রমাণিত হওয়ার অন্যতম কারণ।
দ, ইলালে দারাকুতনী, ৪খ, ৯৯পৃ; আল জারহু ওয়াত তা’দীল লি ইবনে আবী হাতিম, ৬খ, ৩১৩পৃ।
দুই, হযরত আলী রা. থেকে এ হাদীসটি একই সনদে ইবনে আবী হাতেম রহ. আল জারহু ওয়াত তা’দীল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেখানে নামাযে ডান হাত বাম হাতের
উপর রাখার কথা আছে, ‘বুকের উপর’ (على الصدر) কথাটি নেই।
একইভাবে ইবনে আবী শায়বাও মুসান্নাফে এটি উল্লেখ করেছেন, সেখানেও
বুকের উপর কথাটি নেই। দ, হাদীস নং ৩৯৬২।
তিন, ইমাম বুখারী র. তার আত তারীখুল কাবীর গ্রন্থে উক্ত হাদীসকে সমর্থন করেননি, বরং সেটি উল্লেখ করার পর বলেছেন,
وقال
قتيبة عن حميد بن عبد الرحمن عن يزيد بن أبي الجعد عن عاصم الجحدري عن عقبة من
أصحاب علي عن علي رضـ : وضعها على الكرسوع. ٦/٤٣٧
অর্থাৎ কুতায়বা র. হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমানের সূত্র্রে ইয়াযীদ ইবনে আবুল জা’দ থেকে, তিনি আসিম জাহদারীর সূত্র্রে হযরত আলী রা. এর ছাত্র উকবা থেকে, তিনি হযরত আলী
রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তার হাত কব্জির উপর রাখলেন। (দ, ৬খ,
৪৩৭পৃ)
এতে বোঝা যায়, তিনি এই দ্বিতীয় বর্ণনাটিকে সঠিক মনে করেছেন। এতে করে এই বর্ণনাটিও হানাফী
ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের দলিলরূপে গণ্য হবে। বুখারী শরীফে বর্ণিত আলী রা.এর আমলও এই দ্বিতীয়
বর্ণনারই সমর্থক।
৫. তাদের পঞ্চম দলিল হযরত হুলব রা. থেকে বর্ণিত হাদীস। তাতে আছে-
... وَرَأَيْتُهُ ، قَالَ ، يَضَعُ هَذِهِ عَلَى صَدْرِهِ وَصَفَ
يَحْيَى : الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى فَوْقَ الْمِفْصَلِ.
অর্থাৎ আর আমি তাঁকে (নবী সা.কে) দেখলাম, এটি বুকের উপর রাখতে। ইয়াহইয়া (ইবনে সাঈদ আল কাত্তান) এর বিবরণ
দিয়েছেন- ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর।
হাদীসটি মুসনাদে আহমদে (২২৩১৩) আছে। সুফিয়ান থেকে শধু ইয়াহয়াই বুকের উপর হাত বাঁধার
কথাটি উল্লেখ করেছেন। মুসনাদে আহমদে ওয়াকী র., দারাকুতনীতে ওয়াকী ও আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী, বায়হাকীতে (৩৬১০) আল হুসাইন ইবনে
হাফস- এই তিনজন সুফিয়ান থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের বর্ণনায় বুকের উপর
হাত বাঁধার কথা নেই। তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদে সুফিয়ানের সঙ্গী আবুল আহওয়াস এবং মুসনাদে আহমদে
৫/২২৬ (নং ২২৩১৬) শরীক ইবনে আব্দুল্লাহ হাদীসটি ‘সিমাক’ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের
বর্ণনাতেও বুকের উপর হাত বাঁধার কথা নেই। সুত্ররাং এটি শায বা দলবিচ্ছিন্ন বর্ণনা, যা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষভাবে আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর বর্ণনাটি এজন্য অগ্রগণ্য
হওয়ার উপযুক্ত যে, ইমাম আহমদ বলেছেন, كان يحب أن يحدث باللفظ অর্থাৎ তিনি উস্তাদের
মূল শব্দে বর্ণনা করা পছন্দ করতেন। আর আবূ হাতেম রাযী বলেছেন, هو
أثبت من يحيى بن سعيد وأتقن من وكيع وكان يعرض حديثه على الثورى
অর্থাৎ তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের তুলনায় সুদৃঢ়, ওয়াকীর চেয়ে মজবুত। তিনি সুফিয়ান ছাওরীর হাদীসগুলো
তাঁর সামনে পেশ করে শোনাতেন।
তাছাড়া সুফিয়ান ছাওরী রহ. যদি এটি এভাবে বর্ণনা করে থাকেন, তবে তার আমলও এ অনুযায়ী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু
তার আমল হলো নাভীর নিচে হাত বাঁধা। (দ. আত তামহীদ, ২০/৭৫) বোঝা
গেল, তিনি হাদীসটি এভাবে বর্ণনা করেন নি।
আল্লামা নিমাবী র. আছারুস সুনান গ্রন্থে লিখেছেন,
ويقع
في قلبي أن هذا تصحيف من الكاتب والصحيح
يضع هذه على هذه فيناسبه قوله: وصف يحيى اليمنى على اليسرى فوق المفصل ويوافقه
سائر الروايات
অর্থাৎ আমার মনে হয়, অনুলেখকের ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে। সঠিক হবেعلى صدره (বুকের উপর) এর স্থলে على هذه (এই হাতের উপর)। (এ হিসেবে হাদীসটির
অর্থ দাঁড়ায়- এই হাতটি এই হাতের উপর রেখেছেন- লেখক)। এতে এটি পরের কথার সঙ্গেও মিলে যায়। কারণ
পরে বলা হয়েছে, ইয়াহইয়া ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রেখে দেখিয়েছেন। আর এটি তখন অন্যান্য
বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথেও সংগতিপূর্ণ হয়। (দ, পৃ ৮৭)
উল্লেখ্য যে, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এ বর্ণনাটি তার শিষ্যদের মধ্যে শুধু ইমাম আহমদই উদ্ধৃত
করেছেন। এতে যদি বুকের উপর হাত রাখার কথা থাকত, তাহলে ইমাম আহমদ
এটাকে মাকরুহ বলতেন না। অথচ হাদীসটি শোনার পর তিনি ঐ মাকরুহ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। তার
প্রমাণ, ইমাম আবু দাউদ জন্ম লাভ করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের মৃত্যুর
পর। আর তিনি ইমাম আহমদ থেকে নিজের শোনা মাসায়েলের যে সংকলন তৈরি করেছেন, তাতে উল্লেখ রয়েছে- وسمعته سئل عن وضعه فقال فوق السرة قليلا،
وإن كان تحت السرة فلا بأس وسمعته يقول يكره أن يكون يعني وضع اليدين عند الصدر
অর্থাৎ আমি শুনেছি, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হাত কোথায় রাখা হবে? তিনি বললেন, নাভির সামান্য উপরে। নাভির নিচে রাখলেও কোন
অসুবিধা নেই। আমি তাকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, এভাবে অর্থাৎ বুকের
কাছে হাত রাখা মাকরুহ।
স্বয়ং লা-মাযহাবী বন্ধুরাও এ হাদীসের উপর আমল করেন না। কারণ এর শেষাংশে বলা হয়েছে-
অতঃপর ইয়াহয়া ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রাখেন। এই ইয়াহয়া হলেন ইবনে সাঈদ আল কাত্তান।
তিনি হাদীসটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রেখে বুঝিয়ে দিয়েছেন, হাত কিভাবে বাঁধতে হয়।
মাম তিরমিযী র. হযরত হুলব রা. এর হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন,
والعمل
على هذا عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين ومن بعدهم
يرون أن يضع الرجل يمينه على شماله في الصلاة ورأى بعضهم أن يضعهما فوق السرة ورأى
بعضهم أن يضعهما تحت السرة وكل ذلك واسع عندهم
অর্থাৎ সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী যুগের আলেমগণের আমল ছিল এ হাদীস অনুযায়ী। তাঁরা
মনে করতেন, নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে। তাঁদের কেউ কেউ মনে করতেন
নাভির উপরে রাখবে, আর কেউ কেউ মনে করতেন
নাভির নিচে রাখবে। তাঁদের দৃষ্টিতে প্রত্যেকটিরই অবকাশ আছে।
লক্ষ করুন, ইমাম তিরমিযী রহ. সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈন থেকে তার নিজের যুগ
পর্যন্ত আলেমগণকে দুভাগ করেছেন। এক ভাগের মত ছিল নাভির নিচে হাত বাঁধা,
আরেক ভাগের মত ছিল
নাভির উপরে হাত বাঁধা। বুকের উপর হাত বাঁধার আমল কোথায়? একইভাবে ইবনুল মুনযির র.ও তাঁর আল আওসাত গ্রন্থে উপরোক্ত দুই ধরনের আমল ও মতের
কথাই উল্লেখ করেছেন।
বুকের উপর হাত বাঁধা যে পূর্বসূরিগণের আমল ছিল না তা আলবানী সাহেবের নিম্নোক্ত
কথা থেকেও স্পষ্ট হয়। ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে তিনি বলেছেন,
وأسعد
الناس بهذه السنة الصحيحة الإمام إسحاق ابن راهويه فقد ذكر المروزي في ( المسائل
): ( كان إسحاق يوتر بنا . . . ويرفع يديه في القنوت ويقنت قبل الركوع ويضع يديه
على ثدييه أو تحت الثديين). )২/৭১)
অর্থাৎ এই সহীহ সুন্নতটির উপর আমল করে সর্বাধিক ধন্য হয়েছিলেন ইমাম ইসহাক ইবনে
রাহূয়া। মারওয়াযী তার মাসাইলে উল্লেখ করেছেন, ইসহাক র. আমাদেরকে নিয়ে বেতের পড়তেন।
...... আর কুনুতে হাত তুলতেন। রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন। এবং উভয় হাত বুকের উপর বা
বুকের নিচে রাখতেন। (ইরওয়া, ২/৭১)
এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, পূর্বসূরিগণের মধ্যে তিনি শুধু ইসহাক র.কেই এর উপর আমলকারী পেয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, এই মারওয়াযী হলেন ইসহাক ইবনে মানসুর আল কাওসাজ। তার রচিত্র ‘মাসাইলুল
ইমাম আহমদ ওয়া ইসহাক’ গ্রন্থ থেকেই আলবানী সাহেব উদ্ধৃত অংশটুকু
সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। (দ. আলমাসাইল, নং ৩৫৪৬, ৩৫৪৭)। এর দ্বারা দৃশ্যত বোঝা যাচ্ছে,
ইসহাক রহ. বুকের
উপরে বা নিচে হাত রাখতেন। অথচ মারওয়াযীর এই গ্রন্থের বরাতেই আমরা ইসহাক র.এর এই বক্তব্য
উল্লেখ করেছি যে, নাভির নিচে হাত বাঁধার হাদীস অধিক শক্তিশালী ও বিনয়ের নিকটতর। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে,
তিনি নাভির নিচেই
হাত বাঁধতেন। আপাতদৃষ্টিতে উভয় বর্ণনা সাংঘর্ষিক। তাহলে কী এর সমাধান?
এর সমাধান পাওয়া
যায় মাসাইলে ইমাম আহমাদ ও ইসহাক গ্রন্থটির টীকাকারের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন,
‘আলবানীর উদ্ধৃত কথাটির অর্থ এই নয় যে,
ইসহাক র. নামাযে
বুকের উপর হাত বাঁধতেন। বরং এর অর্থ হলো, তিনি দোয়ায়ে কুনুত পড়ার সময় যে হাত ওঠাতেন
তা বুক বরাবর বা বুকের নীচ পর্যন্ত ওঠাতেন।’
(দ. ৩৫৪৭ নং এর টীকা)
এ ব্যাখ্যা দ্বারা উভয় বক্তব্যের মধ্যে সুন্দরভাবে সমন্বয় সাধিত হয়। একটি হাদীসে
এই ব্যাখ্যার সমর্থনও পাওয়া গেছে। হাদীসটি ইবনে আবূ শায়বা রহ. তার মুসান্নাফে উদ্ধৃত
করেছেন। হাদীসটিতে হযরত আবূ হুরায়রা রা. তাকবীরে তাহরীমার সময় মানুষের হাত তোলার বিভিন্ন
অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন,
منكم من يقول هكذا ورفع سفيان (بن عيينة) يديه حتى تجاوز بهما رأسه
ومنكم من يقول هكذا ووضع يديه عند بطنه ومنكم من يقول هكذا يعني حذو منكبيه (رقم ২৪২২)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ এমন করে, সুফিয়ান (ইবনে উয়ায়না) হাত তুলে মাথার উপর নিয়ে গিয়ে দেখালেন।
আর কেউ এমন করে, সুফিয়ান পেট পর্যন্ত হাত তুললেন,
আর কেউ এমন করে অর্থাৎ
কাঁধ পর্যন্ত হাত তোলে। (হা. ২৪২২) এখানে وضع يديه عند بطنه
পেট বরাবর হাত তোলার
কথা বলা হয়েছে। হাত বাঁধার কথা বলা হয়নি। তেমনি ইসহাক রহ. সম্পর্কে যে বলা হয়েছে, ويضع يديه على ثدييه أو تحت الثديين এর অর্থ হবে,
তিনি কুনুতের সময়
উভয় হাত বুক বরাবর বা বুকের নীচ পর্যন্ত ওঠাতেন।
তাছাড়া ঐ উদ্ধৃতিতে ‘বুকের উপর রাখতেন’
শুধু এতটুকু বলা
হয়নি। বরং বলা হয়েছে, বুকের উপর বা নিচে রাখতেন। নিচে রাখলে তো আলবানী সাহেবের মতলব
প্রমাণিত হয় না।
এটাও কম আশ্চর্যের নয় যে, আলবানী সাহেব ইসহাক র.এর ঐ স্পষ্ট বক্তব্যটি উল্লেখ না করে কুনুতে
হাত বাঁধার- যা আসলে হাত তোলার সাথে সম্পৃক্ত- একটি অস্পষ্ট বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনেছেন।
উল্লেখ্য, হাত বাঁধার যে সহীহ নিয়ম পূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি,
সে নিয়মে হাত বাঁধলে
বুকের উপর রাখা প্রায় অসম্ভব।
আরেকটি কথা, লা-মাযহাবী ভাইয়েরা যেভাবে হাত বাঁধেন,
তাতে বুকের উপরে
বাঁধা হয় না, হয় বুকের নিচে। আমি তাদের একজনকে বিষয়টি বলেছিলাম। তিনি আমার
সামনে হাত বেঁধে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন। শেষে বললেন,
এটাতো কখনোই চিন্তা
করিনি। আমি বললাম, এবার চিন্তা করুন। হাদীস বলবেন বুকের উপর হাত বাঁধার,
আর আমল করবেন বুকের
নিচে হাত বাঁধার, তা হয় না।
সূত্র: মাসিক আল-কাউসার/আহলে হক
মিডিয়া
সংগ্রহে আরটি মো. জালাল উদ্দিন
|
রফউল ইয়াদাইন |
জিজ্ঞাসা-১৭৩:
রফউল ইয়াদাইন করলে দশ নেকী বক্তব্য নির্ভর হাদীসটি কি সহীহ?
আহলে হাদীসদের শায়েখ শহীদুল্লাহ খান মাদানী রহ সাহেব তার রচিত “মাসনূন
সালাত ও দুআ শিক্ষা” বইয়ের ৮১ নম্বর পৃষ্ঠায় ২৮১ নং টীকার আলোকে
উল্লেখ করা হয়েছে-
হযরত উকবা বিন আমের (রা) হতে বর্ণিত আছে রাফুল ইয়াদাইন এর জন্য অতিরিক্ত ১০ নেকী
আছে।।
[উমদাতুল কারী ৫/২৭২পৃষ্ঠা, সিফাতু সালাতিন্নবী (সঃ) – ১২৮পৃষ্ঠা টীকা নং-৬]
এই হাদিসকি সহিহ?? হানাফীদের জবাব কি??
উত্তর
بسم
الله الرحمن الرحيم
উক্ত হাদীসটি ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রহঃ রফয়ে ইয়াদাইনের আলোচনায় রফয়ে ইয়াদানের দাবিদারদের
পক্ষের দলীল পেশ করতে গিয়ে উপস্থাপন করেছেন।
তিনি লিখেছেন যে,
وَنقل
عَن عبد الْبر عَن ابْن عمر أَنه قَالَ: رفع الْيَدَيْنِ من زِينَة الصَّلَاة،
بِكُل رفع عشر حَسَنَات، بِكُل أصْبع حَسَنَة.
মুহাদ্দিস আব্দুল বার রহঃ হযরত ইবনে উমর রাঃ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে,
ইবনে উমর রাঃ বলেছেন,
রফউল ইয়াদাইন হল
নামাযের মাঝের সৌন্দর্য, প্রতিটি রফউল ইয়াদাইনে রয়েছে দশটি নেকী রয়েছে,
অর্থাৎ প্রতিটি আঙ্গুলের
বদলে একটি করে নেকী রয়েছে। [উমদাতুল কারী, আলমাকতাবুল তাওফিকীয়্যাহ-৫/৮]
এ হাদীসটি জাল হাদীস।
কারণ বর্ণনাটির প্রথম অংশ তথা রফউল ইয়াদাইন নামাযের সৌন্দর্যের অন্তর্ভূক্ত বক্তব্যটি
আব্দুল বার রহঃ তার সংকলিত “আলইসতিযকার” গ্রন্থে এনেছেন, যার সূত্রে রয়েছেন আয়াজ বিন আব্দুল্লাহ আলফিহরী।
যাকে ইমাম বুখারী রহঃ মুনকারুল হাদীস বলে মন্তব্য করেছেন। দেখুন ইমাম বুখারী প্রণীত
“আয যুআফা-৩/৩৫০, রাবী নং-১৩৭২]
আর দ্বিতীয় অংশটি ইবনে আব্দিল বার রহঃ
তার সংকলিত “আততামহীদ”
গ্রন্থে এনেছেন।
আর উক্ত বর্ণনার সূত্রে রয়েছেন “মাশরাহ বিন হাআন”। যিনি উকবা বিন আমের রাঃ এর সূত্রে মুনকার বর্ণনা করেছেন। দেখুন
“আলমাযরূহীন-৩/২৮}
সুতরাং বুঝা গেল, এ বর্ণনাটি সম্পূর্ণ জাল ও বানোয়াট। এর কোন সহীহ ভিত্তি নেই।
আমাদের বুঝে আসে না, সহীহ হাদীসের ধ্বজাধারীরা কি করে এমন একটি জাল ও ভিত্তিহীন বর্ণনা
নিজেদের মতের পক্ষে দলীল হিসেবে উপস্থাপন করলেন! নিজের পক্ষে হলে জাল ও বানোয়াট কথা
ও হাদীস হয়ে যায়, আর বিপক্ষে গেলে সহীহ হাদীস ও জাল হয়ে যায় এমন কেমন দ্বিমুখী
নীতি এ কথিত আহলে হাদীসদের?
والله
اعلم بالصواب
সূত্র: আহলে হক মিডিয়া
|
নামাজে সূরা তারতীব কি জরুরি |
জিজ্ঞাসা-১৭৪: আসসালামু আলাইকুম। নামাজে কেরাত পাঠের (সুরা) তারতীব কতটা জরুরী। দলীল সহ জানালে
উপকৃত হব।
(সম্মানিত ভাই আর টি নুরুল হক। আল্লাহ আপনাকে বিদেশের মাটিতে
নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন। সাউথ সুদান-এর প্রশ্নের আলোকে)
প্রথম রা'কাতে যে সূরা তেলাওয়াত করা হয়েছে,দ্বিতীয়
রা'কাতে এর পূর্বের সূরা তেলাওয়াত করা মাকরুহ।ফরয নফল সকল নামাযের
ক্ষেত্রে বিধান সমান নয়।বরং ফরয নামাযের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব।কিন্তু
নফল নামাযের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব নয়।আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
প্রমাণ
وَيُكْرَهُ الْفَصْلُ بِسُورَةٍ قَصِيرَةٍ وَأَنْ يَقْرَأَ
مَنْكُوسًا إلَّا إذَا خَتَمَ فَيَقْرَأُ مِنْ الْبَقَرَةِ. وَفِي الْقُنْيَةِ
قَرَأَ فِي الْأُولَى الْكَافِرُونَ وَفِي الثَّانِيَةِ – أَلَمْ تَرَ – أَوْ –
تَبَّتْ – ثُمَّ ذَكَرَ يُتِمُّ وَقِيلَ يَقْطَعُ وَيَبْدَأُ،
وقال ابن عابدين الشامى رح: (قَوْلُهُ ثُمَّ ذَكَرَ يُتِمُّ) أَفَادَ
أَنَّ التَّنْكِيسَ أَوْ الْفَصْلَ بِالْقَصِيرَةِ إنَّمَا يُكْرَهُ إذَا كَانَ
عَنْ قَصْدٍ، فَلَوْ سَهْوًا فَلَا كَمَا فِي شَرْحِ الْمُنْيَةِ. (رد المحتار،
كتاب الصلاة، باب صفة الصلاة، فروع يجب الاستماع القراءت مطلقا-2/269)
قَرَأَ فِي الْأُولَى – {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} [الناس: 1]-
أَعَادَهَا فِي الثَّانِيَةِ إنْ لَمْ يَخْتِمْ نَهْرٌ لِأَنَّ التَّكْرَارَ
أَهْوَنُ مِنْ الْقِرَاءَةِ مَنْكُوسًا بَزَّازِيَّةٌ، (رد المحتار، كتاب الصلاة،
باب صفة الصلاة-2/268)
এতটুকু উত্তর দিয়েছেন,
ধর্ম
শিক্ষক মো. ইমরান
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। ইতিপূর্বে
ইমরান ভাই এর জবাব দিয়েছে, আমি তার সাথে একটু যুক্ত করতে চাই,
তাহলো –
ইচ্ছাকৃত ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে ক্বেরাত পড়া মাকরুহ। অনিচ্ছায়
হলে মাকরুহ হবে না। ফাতাওয়ায়ে উসমানি-১/৪৩২ কিতাবুল ফাতাওয়া-২/২০৫
|
সফরের সময় নামাজ কি কসর না পুরোটা পড়তে হবে |
জিজ্ঞাসা-১৭৫: আমরা যখন وطن أصلى (মূল বাড়ি) থেকে কর্মক্ষেত্রে (অপর وطن أصل এক প্রকারের) গমন করি, তখন
যাত্রা পথের দূরত্ব সফরের দূরত্ব হলেও গাড়িতে অবস্থানের সময়টা সফরের দিনের মেয়াদে
(১৫ দিনে) পৌঁছায় না, সেক্ষেত্রে যাত্রা বিরতিতে নামাজ আদায় করলে কসর
আদায় করতে হবে না কি পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হবে?
(সম্মানিত ভাই ধর্ম শিক্ষক মোহাম্মাদ আব্দুর রহমান (সাভার), 17 EB Bogura Cantt-এর প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: বর্ণিত ছুরতে আপনি
সফর অবস্থায়/যাত্রা বিরতিতে সলাতুল কসর আদায় করবেন। কেননা কেউ ৪৮ মাইল বা তার চেয়ে বেশী দুরুত্ব
সফর করে গিয়ে কোন স্থানে (পথে) ১৫
দিনের কম থাকার নিয়ত করলে সেও মুসাফির হিসাবে গন্য হবে, অর্থাৎ
আপনি পথে মধ্যে মুসাফির। সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৫।
উল্লেখ্য যে, মানুষ তিন জায়গায় মুকিম হয়, জন্মস্থান, কর্মস্থল ও নিজের পরিবার বা নিজে যেখানে
স্থায়ীভাবে বসবাস করে। (তবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা জেনে নিতে
হবে) সূত্র: আল বাহরুর রায়েক ৪/৩৪০-৩৪২; আদ্দুরুরল মুখতার ১/১২৩
والله
اعلم بالصواب
আল্লাহপাকই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
সাহু সিজদা করার পদ্ধতি |
জিজ্ঞাসা:১৭৬: সিজদা সাহুর সঠিক নিয়ম নিয়ে একটু আলোচনা করুন। ধন্যবাদ।
মাওলানা হেলাল কবির বগুড়া থেকে--
জবাব:
সাহু সিজদার পদধতি:
ওলামায়ে আহনাফ-এর মতে, সিজদায়ে
সাহু দেওয়া ওয়াজিব হয় এমন কোনভুল করলে, শেষ বৈঠকে শুধু তাশাহুদ পড়ে ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে
তাকবীর বলে, এরপর দুইটা সিজদা করবে। তারপর আবার যথারীতি আত্তাহিয়্যাতু-দরুদ-দুআ মাসুরা
পড়ে দুই দিকে সালাম ফিরাবে। কিতাবুন-নাওয়াযিল-৩/৬০৫
নোট: ডান দিকে সালাম সালাম না ফিরিয়ে সিজদায়ে সাহু করলেও আদায় হবে। তবে মাকরুহ
তানজিহি হবে।
আমাদের দেশে প্রচলিত যে সাহু সিজদার পদ্ধতি যা আমরা করে
থাকি। এটা অনেকে সহিহ বলে না। যদি বুখারির হাদিস আমাদের আমলের সাথে না মেলে তখনেই
বলে এটা সহিহ না, জাল/দুর্বল, কোনো দলিল নেই,
ভিত্তি নেই ইত্যাদি। আমরা এখন প্রমাণ করবো যে, আমাদের কোন দলিল আছে কিনা ইনশাল্লাহ।
আপনার প্রশ্নকে সহজভাবে বুঝার জন্য কয়েকভাবে ভাগ করছি:
প্রশ্ন: ক। সাহু সিজদার সালাম কি শুধু
ডান (এক সালামা) দিকে, না বাম দিকেও (দুই সালাম) ফিরাতে
হবে?
উত্তর: ক। সাহু সিজদার সালাম শুধু ডান দিকে হবে অর্থাৎ
সালাম একটি হবে। দলিল:
ما رواه الترمذي والحاكم من حديث عائشة أن رسول الله صلى الله عليه
وسلم كان يسلم في الصلاة تسليمة واحدة تلقاء وجهه ، يميل إلى الشق الأيمن شيئاً .
قال الحاكم : صحيح على شرط الشيخين ، ووافقه الذهبي .
لتخريج : أخرجه الترمذي (296) واللفظ له، وابن خزيمة (1/360)، والحاكم (1/354) باختلاف يسير.
অর্থাৎ হজরত আয়েশা রা. বলেন, রসূল (ﷺ) এক সালাম ফিরাতেন।
তাখরিজ: তিরমিজি-২৯৬; মুস্তাদরেকে
হাকেম-১/৩৫৪
নোট: ইমাম হাকেম রহ. বলেন, হাদিসটির
সনদ বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ ও ইমাম যাহাবিও রহ. অনুরূপ বলেছেন।
প্রশ্ন: খ। সিজদায়ে
সাহু সালাম ফিরানোর আগে না পরে?
উত্তর: খ। এ বিষয়ে, ইমাম শাফেয়ি রহ.
এর মতে, সালাম ফিরানোর আগে আর ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম আহমদ রহ.
–এর মতে সালাম ফিরানোর পর সাহু সিজদা করতে হবে। দলিল:
হাদিস নং-০১
হজরত আব্দুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত, রসূল (ﷺ) যহোরের সালাত
পাঁচ রাকাত আদায় করলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাত কি কি বৃদ্ধি করা হয়েছে?
তিনি বললেন, এ প্রশ্ন কেন? (প্রশ্ন কারী) বললেন, আপনি তো
পাঁচ রাকাত সালাত আদায় করেছেন্ অত:পর তিনি তিনি সালাম
ফিরানোর পর পর দুটি সিজদা করলেন। বুখারি-১২২৬
হাদিস নং-০২
وَإِذَا
شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ، فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ فَلْيُتِمَّ عَلَيْهِ،
ثُمَّ لِيُسَلِّمْ، ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ»
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ)
ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের মাঝে যখন কারো নামাযের ব্যাপারে সন্দেহ হয়ে যাবে, তখন তার জন্য উচিত এ ব্যাপারে চিন্তা ফিকির
করা, তারপর নামায পূর্ণ করে সালাম ফিরাবে তারপর দুই সিজদা
করবে। সহীহ বুখারী-১/৫৮, হাদীস নং-৪০১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫৭২
প্রশ্ন:
গ। সিজদা সাহুর পর তাশাহুদ , দুরদ
ও দুআ মাসুরা পড়া লাগবে কিনা?
উত্তর: গ। হ্যাঁ,
সালাম ফিরানো ও সিজদায়ে সাহুর যথারীতি সব পড়তে হবে, এটাই পরিপূর্ণ পদ্ধতি। দলিল:
হাদিস নং-০১
ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের নামায
তিন রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে দেন। তারপর ঘরে প্রবেশ করেন। এক ব্যক্তি যাকে খিরবাক
বলা হয় এবং যার উভয় হাত কিছুটা লম্বা ছিল, বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এরপর
সে তিনি যা করেছেন তা উল্লেখ করল। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে চাদর টানতে টানতে
বেরিয়ে লোকদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কি ঠিক
বলেছে? তারা বলল, জ্বী। অতপর
তিনি এক রাকাত পড়লেন। তারপর সালাম ফিরালেন। তারপর দুটি সেজদা করে সালাম ফিরালেন
(অর্থাৎ তাশাহুদ ইত্যাদি পড়ে সালাম ফিরালেন)। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৭৪
হাদিস নং-০২
دثنا
أبو بكر بن أبي شيبة، وزهير بن حرب، جميعاً عن ابن علية، قال زهير: حدثنا
إسماعيل بن إبراهيم، عن خالد، عن أبي قلابة، عن أبي المهلب، عن عمران بن حصين: أن
رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى العصر، فسلم في ثلاث ركعات، ثم دخل منزله، فقام
إليه رجل يقال له الخرباق، وكان في يديه طول، فقال: يا
رسول الله، فذكر له صنيعه، وخرج غضبان يجر رداءه، حتى انتهى إلى الناس، فقال: أصدق
هذا؟ قالوا: نعم.
فصلى ركعة، ثم سلم، ثم سجد سجدتين، ثم سلم.
যিয়াদ ইবনে ইলাকা থেকে বর্ণিত, মুগীরা ইবনে শুবা রা. আমাদের নিয়ে
নামায পড়েন। দুই রাকাত পড়ে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে মুকতাদীরা সুবহানাল্লাহ বলে।
তিনি তাদের দাঁড়াতে ইশারা করলেন। যখন নামায শেষ করলেন তখন সালাম ফিরালেন, দুটি সেজদা করলেন। তারপর আবার সালাম ফিরালেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৬৫
হাদিস নং-০৩
ثنا
عبد الله بن عبد الرحمن، قال: أخبرنا يزيد بن هارون، عن المسعودي، عن زياد
بن علاقة، قال: صلى بنا المغيرة بن شعبة، فلما صلى ركعتين
قام ولم يجلس، فسبح به من خلفه، فأشار إليهم أن قوموا، فلما فرغ من صلاته سلم وسجد
سجدتي السهو وسلم، وقال: هكذا صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ)
তাদের নিয়ে নামায পড়েন এবং এতে তাঁর ভুল হয়। অতপর তিনি দুটি সেজদা করেন। তারপর
তাশাহহুদ পড়েন। তারপর সালাম ফিরান। -জামে তিরমিযী-৩৯৭ ; সুনানে আবু দাউদ-১০৩৯
নোট; ইমাম তিরমিযী বলেন,
هذا حديث حسن صحيح এই হাদীস হাসান সহীহ।
আসার নং-০১
عَنْ
عَبْدِ اللهِ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: «السَّهْوُ
أَنْ يَقُومَ فِي قُعُودٍ , أَوْ يَقْعُدَ فِي قِيَامٍ , أَوْ
يُسَلِّمَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ , فَإِنَّهُ يُسَلِّمُ , ثُمَّ
يَسْجُدُ سَجْدَتَيِ السَّهْوِ ,
وَيَتَشَهَّدُ , وَيُسَلِّمُ»
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ভুল হল এই যে, নামাযী ব্যক্তি বসার বদলে দাঁড়িয়ে যাওয়া।
অথবা দাঁড়ানোর বদলে বসে যাওয়া, বা [তিন বার চার রাকাতওয়ালা
নামাযে] দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে দেয়া। তাহলে এমন ব্যক্তি সালাম ফিরানোর পর দুই
সেজদা করবে,তারপর তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরাবে। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২৫৬৫}
নোট: ইবরাহীম নাখায়ী পর্যন্ত এর সনদ
সহীহ।
আসার-০২
حدثنا
أبو معاوية، عن الأعمش، عن إبراهيم:
أنه سجد سجدتي السهو فتشهد فيهما ثم سلم.
আ‘মাশ থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. সেজদা সাহু করেছেন এবং তাতে তাশাহহুদ পড়েছেন। তারপর
সালাম ফিরিয়েছেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৪৪৯৪
আসার-০৩
عن
معمر، عن قتادة، قال: يتشهد في سجدتي السهو ويسلم.
মামার থেকে বর্ণিত, কাতাদা রাহ. বলেন, সেজদা সাহুতে তাশাহহুদ পড়বে
এবং সালাম ফিরাবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৩৫০১
সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে সাহু সিজদা যার ওপর ওয়াজিব হয়েছে, সে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডান দিকে এক
সালাম ফেরাবে। এরপর তাকবির বলে নামাজের মতো দুইটি সিজদা করে বসে যাবে এবং তাশাহহুদ,
দরুদ, দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবে। সালামের আগে সিজদা করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে তা মাকরুহে
তানজিহি। মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৮১৮৮; বুখারি, হাদিস
: ১১৫০-১১৫৩; তিরমিজি, হাদিস : ৩৬১
بَاب مَنْ لَمْ يَتَشَهَّدْ فِي سَجْدَتَيْ السَّهْوِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ عَلْقَمَةَ، قَالَ قُلْتُ لِمُحَمَّدٍ فِي سَجْدَتَىِ السَّهْوِ تَشَهُّدٌ قَالَ لَيْسَ فِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ.
সালামাহ ইবনু ‘আলকামা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ (ইবনু সীরীন) (রহ.)-কে
জিজ্ঞেস করলাম, সিজদা্ সাহ্উর পর তাশাহ্হুদ আছে কি? তিনি বললেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-এর হাদীসে তা
নেই। বুখারি-১১৫৬ ইসলামিক
ফাউন্ডেশন
একটি সংশয় তার জবাব
প্রশ্ন: ঘ। যারা সাহু সিজদার পর তাশাহুদ পড়া পক্ষে নয়
তাদের একটি দলিল হলো এই হাদিস,
সালামা ইবনে আলকামা বলেন, আমি মুহাম্মদ (ইবনে সীরীন)কে জিজ্ঞাসা করলাম, সেজদা
সাহুতে কি তাশাহহুদ আছে? বললেন,
ليس
في حديث أبي هريرة আবু হুরায়রা রা.-এর হাদীসে তা নেই। -সহীহ
বুখারী, হাদীস ১২২
উত্তর: ঘ। প্রিয় পাঠক! লক্ষ্য করুন,
ইবনে সীরীন রহ. এ কথা বলেননি যে, এ কোনো হাদীসে নেই, শুধু আবু
হুরায়রা রা.-এর হাদীসে না থাকার কথা বলেছেন।
সুতরাং এক সাহাবির থেকে না থাকলে যে উক্ত বিষয়ে হাদিস নেই, একথা কি যুক্তিযুক্ত?
অথচ অন্য হাদিসে ইবনে সীরীন রহ. সিজদায়ে সাহুর পর তাশাহুদ পড়া পছন্দ করেছেন। দলিল:
ইবনে সীরীন বলেন,
وأحب
إلي أن يتشهد তাশাহহুদ পড়া আমার কাছে পছন্দনীয়। -সুনানে
আবু দাউদ, হাদীস ১০
উপসংহার: উপরোক্ত বিষয়গুলোতে ইমামদের
মধ্যে মতভেদ আছে; সুতরাং ইমাম শাফেয়ির মতও সঠিক; তাই সেই মাজহারে লোকেরা তার অনুসরণ করবে।
আর হানাফি মাজহাবের মতের পক্ষেও
সহিহ হাদিস, সাহাবা-তাবেয়িদের আমল রয়েছেন, সুতরাং
তার অনুসারিরা সেই অনুযায়ী আমল করবেন।
সুবিধাবাদী জিন্দাবাদ হওয়ার সুযোগ নেই।
والله اعلم بالصواب
আল্লাহপাকই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
আকিকা প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৭৮: সাত দিনে আকিকার ক্ষেত্রে অষ্টম বা নবম দিনে আকিকার পশু জবাই করলে আকিকা আদায়ের ক্ষেত্রে মাসয়ালাগত কোন সমস্যা আছে
কিনা জানালে কৃতজ্ঞ হবো।
(সম্মানিত ভাই সত্য অন্বেষণকারী আলেম আরটি আশরাফুল ইসলাম,
৬৬ ইবি শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল-এর প্রশ্নের আলোকে)
উত্তর: সন্তানের জন্য আকিকা দেওয়া ওলামায়ে আহনাফের নিকট মুস্তাহাব।
দলিল:
রসূল (ﷺ)
বলেছেন,
যে ব্যক্তি তার সন্তানের আকীকা করতে চায়, সে
যেন উহা পালন করে। আহমাদ
ও আবু দাউদ
প্রশ্ন: ক। কোন দিনে করবে/কোন আকিকা
দেওয়া উত্তম?
উত্তর: ক। আকিকা শিশুর সপ্তম দিনে করাই উত্তম। দলিল:
সুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
الْغُلاَمُ مُرْتَهَنٌ بِعَقِيقَتِهِ يُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ وَيُسَمَّى
وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ
প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সাথে দায়বদ্ধ থাকে। তার জন্মের
সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু যবেহ করতে হয়, তার মাথা কামাতে হয় এবং নাম রাখতে হয়।
তিরমিযী ১৫২২
রাসুলুল্লাহ (সা.) তার দৌহিত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর
আকিকা সপ্তম দিনে করেছেন। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৩৪
প্রশ্ন: খ। সপ্তম দিনে না পারলে আকিকা দেওয়া যাবে কি?
উত্তর: খ। হ্যাঁ, সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪ তম
দিনে বা একুশতম দিনে করা যাবে। দলিল:
উম্মুল মুমিনীন
আয়েশা (রা.) বলেন, আকিকা সপ্তম দিনে হওয়া উচিত। তা সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে। এবং তাও সম্ভব
না হলে একুশতম দিনে। মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৭৬৬৯
মহানবী (ﷺ)
বলেন, ‘আকীকার পশু সপ্তম বা চৌদ্দতম বা একুশতম দিনে
যবাই করা হবে। আলমুজামুল আওসাত ৫/৪৫৭
প্রশ্ন: গ। ৭,১৪,২১ তম দিনেই আকিকা না পরে দেওয়া যাবে কি?
উত্তর: গ। হ্যাঁ, উলেলেখিত দিনে করতে পারলে জীবনে যেকোন সময় করলেও হবে। প্রসঙ্গত, সন্তানের আকিকা
করার দায়িত্ব তার পিতার। অবশ্য অন্য কেউ বা নিজেও নিজের আকিকা করা জায়েজ আছে। দলিল:
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী (সা.) নবুওয়াত পাওয়ার পর নিজের আকিকা নিজে করেছেন।’ বায়হাকি,আকিকা
অধ্যায়
যেমন ইমাম নববী রহ. বলেন,
وَالسُّنَّةُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ فِي الْيَوْمِ السَّابِعِ فَإِنْ
قَدَّمَهُ عَلَى الْيَوْمِ السَّابِعِ أَوْ أَخَّرَهُ أَجْزَأَهُ
সুন্নত হল, সপ্তম দিনে হওয়া। যদি সপ্তম দিনের আগে কিংবা পরে করে তাহলেও
যথেষ্ট হবে। আল মাজমু ৮/৪২৭
আপনার বর্ণিত ছুরতে করলে কোন নাজায়েজ হবে না, তবে যেহেতু ১৪তম দিনের করার
কথা হাদিসে এসেছে, তাই ৮ম, ৯ম তম না
দিয়ে সেই দিলে উত্তম হবে।
والله اعلم بالصواب
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
ননমুসলিমকে কিভাবে মটিভেশন ক্লাস নিব |
জিজ্ঞাসা-১৭৯: আমার প্রশ্ন হলো !
অন্যান্য
ধর্মের লোকদের কিভাবে প্রেষণা দিবেন।
রেফারেন্স
সহ উল্লেখ করলে ভালো হয় ।
মাওলানা মিজানুর রহমান দিনাজপুর থেকে---
উত্তর: মুহতারাম, আপনি উল্লেখ করেননি যে, কি বিষয়ে প্রেষণা দিবেন,
তাওহীদ, না চারিত্রিক, নীতি-নৈতিকতা এবং মটিভেশন ক্লাসে,
না ব্যক্তিগত উদ্যোগে?
যাই হোক, প্রথম কথা হলো,
নন মুসলিম হলেও তাকে সম্মান দিয়ে কথা বলা। কারণ মানুষ হিসেবে সবাই
সম্মানিত। দলিল:
মহান আল্লাহ বলেন,
وَ لَقَدۡ
کَرَّمۡنَا بَنِیۡۤ اٰدَمَ আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি। সূরা আরাফ-৭০
দ্বিতীয়ত
কথা হলো, যদি বিষয়বস্তু তাওহীদের হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও
একত্ববাদের কথা তুলে ধরা। সাথে সাথে তাদের
ধর্মের দেব-দেবতা, খোদাকে গালি-কটূক্তি না দেওয়া। দলিল:
আল্লাহ
বলেন, وَ لَا
تَسُبُّوا الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ فَیَسُبُّوا اللّٰهَ
عَدۡوًۢا بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ
অর্থ:
আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে
তারা ডাকে তোমরা তাদেরকে গালি দিও না, কেননা তারা তাদের অজ্ঞতাপ্রসূত শত্রুতার বশবর্তী হয়ে আল্লাহকে গালি দেবে। সূরা
আনআম-১০৮
নোট: আল্লাহর
একত্ববাদ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরলে খুবই মুফিদ হবে। এ সম্পর্ক আমার লেখা কিতাব ‘তিনিই মহান আল্লাহ’ (কিতাবটি সেনাসদর কর্তৃক অনূমদিত) এর সাহায্য নিতে পারেন। কিতাবটি শেয়ার করা হবে ইনশাল্লাহ।
তৃতীয়ত
কথা হলো, যদি বিষয়বস্তু চারিত্রিক,নীতি-নৈতিকতা (সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার-পরকিয়া, অবৈধ লেনদেন, মিডিয়ার অপব্যাবহার, মাদকতা, অবাধ্যতা ইত্যাদি) হয়। এক্ষেত্রে বিষয়বস্তু সম্পর্কে
ইসলামের সুমহান শিক্ষা,বিধান-হুকুম স্পষ্ট করে দেওয়া, যাতে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
আর বিষয়বস্তুকে
জরালো ও সুস্পষ্ট এবং গুরুত্ব বুঝানোর জন্য অন্যান্য ধর্মেও
যে নিষেধ তা উল্লেখ করা।
নোট: ইসলাম ধর্মের সাথে অন্য ধর্মের সাদৃশ্য-অসাদৃশ্য বিষয়ে আরটি এসি-মুসলিম দর্শন প্রেসিটির সাহায্য
নেওয়া যেতে পারে, ৭৮ পৃষ্ঠা থেকে আলোচনা রয়েছে। প্রেসিটি শেয়ার করা হবে ইনশাল্লাহ।
والله اعلم بالصواب
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
নিষিদ্ধ সময় কতটুকু |
জিজ্ঞাসা-১৮০: নামাজের নিষিদ্ধ সময় কত মিনিট থাকে?
হাফেজ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, রামু কক্সবাজার
জবাব: আমরা জানি 3 সময়
নামাজ পড়া হারাম উক্ত সময়ে সমস্ত নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। তবে হাদীস শরীফে কত সময়,কত মিনিট
তা নির্ধারিত হয়নি, তাই ওলামায়ে কেরামের মধ্যে সময় নির্ণয় গবেষণায়
মতপার্থক্য দেখা যায় তবে আহসানুল ফতোয়া তে এসেছে সূর্যোদয়ের পর থেকে সর্বনিম্ন 11 মিনিট
ও ঢাকা বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে ফতুয়ায় 15 মিনিট
বলা হয়েছে এবং মাগরিবের সূর্য অস্ত যাওয়ার 16
মিনিট
পূর্ব পর্যন্ত নামাজ পড়া মাকরুহ তাহরিমি বা হারাম। তবে আসরের নামাজ সূর্য হলুদ হওয়ার
পরও হলে নামাজ পড়া হলে মাকরুহর সাথে নামায আদায় হবে। সূত্র: আহসানুল ফতোয়া প্রথম
খন্ড 143 পৃষ্ঠা।
নোট: সাধারণত সূর্য
পুরোপুরি উঠতে 10 থেকে 12
মিনিট
সময় লাগে তাই আর আলেমগণ সতর্কতামূলক সূর্যোদয়ের পর থেকে ২৩ মিনিট নির্ধারণ করেছেন!
এটাই সর্বোচ্চ নিরাপদ! সূত্র কিতাবুল ফাতাওয়া দ্বিতীয় খন্ড 125 পৃষ্ঠা,
والله اعلم بالصواب
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
ফজরের ওয়াক্তের সময় নফল পড়ার প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৮১: ফজরের সুন্নাত বাসায়
পড়ে মসজিদে আসলে দুখুলুল মসজিদ পড়া যাবে কিনা?
(সম্মানিত ভাই হাফেজ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ 65 ব্রিগেড
রামু সেনানিবাস এরপ্রশ্নের আলোকে। আল্লাহ আপনাকে শান্তিতে ও নিরাপদে রাখুন)।
উত্তর: সুবহে সাদিক থেকে ফজরের ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত
একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে ফজরের সুন্নত ব্যতীত অন্য কোনো নফল নামাজ পড়া নিষেধ।
এই ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
দলিল:
হাফসা (রা.) বলেন, যখন ফজর উদিত হত, তখন রাসুল (ﷺ)
শুধু ফজরের দুই রাকাত সুন্নত সংক্ষেপে (ছোট সুরা দিয়ে) পড়তেন। সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭২৩
আবদুল্লাহ
ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসুল
(ﷺ)
বলেছেন- ‘সুবহে
সাদিক হওয়ার পর দুই রাকাত সুন্নত ছাড়া কোনো (নফল) নামাজ পড়া যাবে না। (মুসান্নাফে আবদুর
রাজ্জাক, হাদিস
: ৪৭৫৭)
সাঈদ
ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেছেন- ‘(ফজরের)
আজানের পর দুই রাকাত সুন্নত ছাড়া কোনো (নফল) নামাজ নেই।’
(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক,
হাদিস : ৪৭৫৬)
হাসান
বসরি, মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন
ও আতা (রহ.) প্রমুখ তাবেয়িগণও একই কথা বলেছেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা,
হাদিস : ৬৪১০;
মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক,
হাদিস : ৪৭৫৩)
সুতরাং
উক্ত সময়ে দুখুলুল মসজিদ আদায় করা জায়েজ হবে না
والله اعلم بالصواب
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
এক সূরা বাদ অন্য সূরা তেলাওয়াত করা |
প্রশ্ন-১৮২: নামাজের কিরাতে একটি আয়াতের অধেক পড়ার পর মনে না
আসলে অন্য সুরার আয়াত পড়লে সিজদা সাহু দিতে হবে কি,
দলিলসহ জানতে চাই।
(সম্মানিত
ভাই আরটি আশরাফ, আর্মাট সেন্টার,
বগুড়া সেনানিবাস, বর্তমানে সুনানে, আল্লাহ আপনাকে বিদেশের
মাটিতে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন।)
উত্তর: না, সাহু সিজদা লাগবে না। কেননা ভুলে
যাওয়া বিষয়টা মানুষের সাধ্যের বাহিরে। আল্লাহ তাআলা বলেন, لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
"আল্লাহ কাউকেই তার সাধ্যের চেয়ে বেশী দায়িত্ব দেন না।
সূরা বাকারা-২৮৬
فَاقْرَؤُوا
مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ
কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ,ততটুকু পড়ো। সূরা-মুজাম্মেল-২০
তবে, আপনার বর্ণিত ছুরতে, ভুলে যাওয়ার পর যদি তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় দেরি হয়, অন্য
সূরা শুরু করতে (এখন কি সুরা/কোন আয়াত পড়বো এই চিন্তায় যদি ৩ তসবীহ পরিমান সময় চলে যায়),
তখন সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। সূত্র: তিরমিযী,
হাঃ নং ৩০২; বাদায়িউস সানায়ে, ১ : ৬৮৯ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিায়া-১ম খণ্ড; ৭১ পৃ.
নোট: নামাজের কোন রুকন আদায় করতে তিন তাসবিহ পরিমাণ দেরি হলে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়। সূত্র: প্রাগুক্ত
والله اعلم بالصواب
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
গয়াল বা বন্য পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ কি? |
প্রশ্ন-১৮৩: আমার ইউনিটে কয়েকটা গয়াল আছে। যেগুলো বিগত ছয়মাস যাবৎ ইউনিটের তত্ত্ববধানে
লালন পালন করা হচ্ছে। এগুলো দিয়ে কুরবানি জায়েয হবে কি না? দলিলসহ
কালকের মধ্যে অধিনায়ককে জানাতে হবে। বিষয়টি অতীব জরুরী।
(সম্মানিত ভাই আলেমে মাহের ধর্ম শিক্ষক জাফর তৈয়্যব (ময়মনসিংহ) ২৮
বীর, রুমা সেনানিবাস, বান্দরবান।
প্রশ্নের আলোকে) আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন।
উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ ইতিপূর্বে আমার পরম শ্রদ্ধেয় বড় ভাই, মাওলানা আখতারুজ্জামান দা. বা. সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছেন। আমি তার সাথে একটু যুক্ত করছি। আপনার প্রশ্নকে বুঝার জন্য দুই ভাগে ভাগ করেছি।
প্রশ্ন: ক। কুরবানির জন্য কি ধরণের পশু শর্ত?
উত্তর: ক। কুরবানী যোগ্য পশু গৃহপালিত হতে হবে বন্য পশু
দ্বারা কুরবানী দেয়া নাজায়িয : ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে পবিত্র কুরবানী উনার জন্য
পশুকে গৃহপালিত হওয়ার শর্ত বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক
তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لِكُلّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا لِّيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ
عَلٰى مَا رَزَقَهُمْ مِّنْ بَـهِيْمَةِ الْاَنْعَامِ ۗ
অর্থ : “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী এই উদ্দেশ্যে
নির্ধারিত করেছি, যেনো তারা ওই নির্দিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলির
উপর (যবেহ করার সময়) মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করে যা তিনি তাদেরকে
রিযিক হিসেবে দান করেছেন। (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৪)
অর্থাৎ পবিত্র কুরবানী উনার পশু গৃহপালিত হতে হবে। আর এ
ব্যাপারে ফিক্বহের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
وَلَا يَـجُوْزُ فِى الْاَضَاحَىِّ شَيْئٌ مِنَ الْوَحْشِىِّ لِاَنَّ
وُجُوْبَـهَا عُرِفَ بِاشَّرْعِ وَالشَّرْعُ لَـمْ يَرُدُّ بِالْاِيْـجَابِ اِلَّا
فِى الْـمُسْتَأْنِسِ.
অর্থ : “কুরবানীর প্রাণীর বিধান হলো, পশু
গৃহপালিত হতে হবে। বন্য বা জংলী প্রাণী গ্রহণযোগ্য নয়। বাদায়েউস সানায়ে ৪র্থ খ-
২০৫ পৃষ্ঠা, ফতওয়ায়ে আলমগীরী ৫ম খ- ৩৪৩ পৃষ্ঠা
প্রশ্ন: খ। বন্য পশু যদি লালন-পালন করা, তাহলে তা দিয়ে কি কুরবানি জায়েজ হবে?
উত্তর: খ। না, বন্য পশু যদি পোষও
মানে তারপরও উক্ত বন্য পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়িয হবে না। দলিল: যেমন এ প্রসঙ্গে বর্ণিত রয়েছে-
نَدَّتِ الْاَهْلِيَةُ
تَوَحَشَّتْ فَرَمَاهَا عَنِ الْاَضْحِيَّةِ جَازَ.
অর্থ : যদি গৃহপালিত পশু
পালায়ন করে এবং তার মধ্যে বন্য আচরণ প্রকাশ পায়, তারপরও উক্ত পশু দ্বারা
কুরবানী শুদ্ধ হবে।ফতওয়ায়ে আলমগীরী ৫ম খ- ৩৪৩ পৃষ্ঠা
পশুটি গৃহপালিত বা জংলী তা
চেনার জন্য সহজ পন্থা সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে-
فَاِنْ كَانَ مُتَوَلِدًا مِّنَ
الْوَحْشِىِّ وَالْاِنْسِىِّ فَالْعِبْرَةُ لِلْاُمِّ
অর্থ : আর যদি গৃহপালিত ও
বন্য পশুর সংমিশ্রণে বাচ্চার জন্ম হয় তাহলে মায়ের দিক প্রাধান্য পাবে। কারণ পশুর
নছব বা বংশ পরিচিতি হলো মায়ের দ্বারা। ফতওয়ায়ে আলমগীরী ৫ম খ- ৩৪৩ পৃষ্ঠা, ফতওয়ায়ে
শামী ৯ম খ- ৫৩৪ পৃষ্ঠা, বাদায়েউস সানায়ে ৪র্থ খ- ২০৫ পৃষ্ঠা
اعِلُ تَصَدَّقَ (لِمُعَيَّنَةٍ) وَلَوْ فَقِيرًا، وَلَوْ
ذَبَحَهَا تَصَدَّقَ بِلَحْمِهَا، وَلَوْ نَقَصَهَا تَصَدَّقَ بِقِيمَةِ
النُّقْصَانِ أَيْضًا وَلَا يَأْكُلُ النَّاذِرُ مِنْهَا؛ فَإِنْ أَكَلَ تَصَدَّقَ
بِقِيمَةِ مَا أَكَلَ (وَفَقِيرٌ) عُطِفَ عَلَيْهِ (شَرَاهَا لَهَا) لِوُجُوبِهَا عَلَيْهِ بِذَلِكَ
حَتَّى يَمْتَنِعَ عَلَيْهِ بَيْعُهَا (وَ) تَصَدَّقَ (بِقِيمَتِهَا غَنِيٌّ شَرَاهَا
أَوَّلًا) لِتَعَلُّقِهَا بِذِمَّتِهِ بِشِرَائِهَا أَوَّلًا،
فَالْمُرَادُ بِالْقِيمَةِ قِيمَةُ شَاةٍ تُجْزِي فِيهَا. (الدر المختار مع رد المحتار،
كتاب الاضحية-9/463-465
আপনার প্রশ্নে বর্ণিত ছুরতে
উক্ত গয়াল দ্বারা কুরবানি জায়েজ হবে না। আর
তবে আপনার ইউনিটের পোষকৃত গয়াল যদি ক্রোস (গৃহপালিত ও বন্য পশুর সংমিশ্রণে
হয়) হয়, তার মা গৃহপালিত হয়, তাহলে কুরবানি জায়েজ হবে।
والله اعلم بالصواب
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
জিকিরের মধ্যে লাফালাফি করা প্রসঙ্গে |
প্রশ্ন: আরটি সাজ্জাদ, ৫০৬
ডিওসি বগুড়া।
١- واذكر "اسم ربك" بكرة
و أصيلا..
٢- اذكر "الله" ذكرا
كثيرا ....
٣- ألا بذكر الله تطمئن القلوب..
٤- لا تقوم الساعة على أحد يقول
:"الله الله". رواه مسلم
... ইত্যাদি আয়াত ও হাদীস সমূহ আমাদেরকে
যিকিরের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে এবং এর গুরুত্ব বোঝায়। নিঃসন্দেহে এটি একটি সকলের নিকট
গ্রহণযোগ্য একটি নেক আমল।
------ কিন্তু ?
যিকিরের সময় লাফঝাঁপ,
গাছে
ওঠা, নৃত্য করা, ব্যায়াম করা.. ইত্যাদি কুরআন
ও হাদীসের কোথাও রাসূল সা ও সাহাবায়ে কেরামদের থেকে এই পদ্ধতি বর্ণিত নেই বলেই জানি
(জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাও হতে পারে)।
তাই কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম এভাবে যিকির করাকে সুন্নাহ সম্মত
বলেননি।
তবে জোরে বা আস্তে যিকির / আল্লাহর স্মরণ কুরআন ও হাদীসে আছে।
যেমন-
١- دعوا ربكم تضرعا وخفية...
٢- فإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ
ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَأٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَأٍ
خَيْرٍ مِنْهُمْ..
এ পর্যন্ত বিষয়ে অধিকাংশ আলেমগণ একমত।
--- প্রশ্ন হলো ??
যদি কেউ এভাবে লাফিয়ে/ নৃত্য করে যিকির করে , তার
হুকুম কী ?
কেউ বলেন, বিদআত।
আবার কেউ বলছেন,
জায়েজ
কিন্তু সুন্নাহ নয়।
কোনটি সঠিক?
উল্লেখ্য,
১. কেউ ধরুন বিনোদন এর উদ্দেশ্যে ইচ্ছা করে করছে।
২. কেউ আল্লাহর মহব্বত অনুভব করে সরলমনে ইচ্ছা করে করছে এবং
যিকিরের স্বাদ অনুভব করতে চাচ্ছে।
৩. সম্পূর্ণ অনিচ্ছায় এমনটি হয়ে যাচ্ছে।
৪. কেউ আবার তার পীর সাহেবের পক্ষ থেকে আদেশ ও নির্দেশনা রক্ষার্থে
করছে?
সবার জন্যই কি ঐ একই বিধান প্রযোজ্য?
সব সুরতই বিদআত! অথবা সব সুরতই জায়েজ!
নিম্নে প্রদত্ত (স্ক্রিনশর্ট ইমেজ) কুরআন ও হাদীসের বিবেচনা
রেখে এ বিষয়ে সঠিক সমাধান প্রার্থনা করছি।
( সম্মানিত ভাই আলেমে মাহের আরটি সাজ্জাদ, ৫০৬
ডিওসি বগুড়া-এর প্রশ্নের আলোকে। আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন।)
উত্তর: সম্মানিত শায়েখ, আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ে
সওয়াল করেছেন। এ সম্পর্কে হাকিমুল
উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত শাহ আশরাফ আলি থানভি রহ. বলেন,
সে সমস্ত লোক আল্লাহ আল্লাহ জিকির করে (আল্লাহ
তাআলার জিকির করে) তাদের বিরুদ্ধে ফাতওয়া দিতে আমার অন্তর কাঁপে।
সুতরাং এসব ক্ষেত্রে ফাতওয়া যে খুবই সতর্কতা থাকতে হবে, তা
সহজেই অনুমেয়। যাই হোক, আপনি বিষয়টিকে পরিস্কার করার জন্য
কয়েকটি প্রশ্নের অবতারণা করেছেন। (এর মধ্যে দলিলও এসেছে) আপনার প্রশ্নকে বুঝার জন্য কয়েক ভাগে ভাগ করেছি। ونسأل الله
التوفيق وهو الموفق
والمعين
প্রশ্ন: ১. কেউ ধরুন (জিকিরের মধ্যো লাফালাফি-নৃত্য) বিনোদন এর উদ্দেশ্যে ইচ্ছা করে করছে।
উত্তর: ১. ইবাদত
তো কেবল আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্টির জন্য; বিনোদনের জন্য নয়।
দলিল:
قُلْ إِنَّ صَلَاتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
নিশ্চয়ই, আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার জীবন এবং আমার মরণ বিশ্বজগতের
প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সূরা আনআম-১৬২
প্রশ্ন: ২. কেউ আল্লাহর মহব্বত অনুভব করে সরলমনে ইচ্ছা করে করছে এবং যিকিরের
স্বাদ অনুভব করতে চাচ্ছে।
প্রশ্ন: ৩. সম্পূর্ণ অনিচ্ছায় এমনটি হয়ে
যাচ্ছে।
উত্তর: ২ ও ৩ । ইবাদতে তথা আল্লাহ তাআলার নাম মোবারক নিতে
অন্তর প্রকম্পিত হওয়া হওয়ায় স্বাভাবিক এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করতে যাদের অন্তর
কেঁপে ওঠে তাদেরকে খাঁটি মুমিন বলে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন, ইরশাদ হচ্ছে,
اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الَّذِیۡنَ
اِذَا ذُکِرَ اللّٰهُ وَجِلَتۡ قُلُوۡبُهُمۡ وَ اِذَا تُلِیَتۡ عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتُهٗ زَادَتۡهُمۡ
اِیۡمَانًا وَّ عَلٰی رَبِّهِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ
أُولَئِكَ
هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ
وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
অর্থাৎ “বিশ্বাসী (মুমিন) তো তারাই যাদের হৃদয় আল্লাহকে স্মরণ করার
সময় কম্পিত হয় এবং যখন তাঁর আয়াত তাদের নিকট পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের বিশ্বাস (ঈমান)
বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের প্রতিপালকের উপরই ভরসা রাখে।” সূরা
আনফালে-০২
“তারাই হলেন সেই প্রকৃত মোমিন যাদের জন্যে মহান প্রতিপালকের কাছে রয়েছে উচ্চ
মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।” সূরা আনফালে-০৪
সম্পূর্ণ অনিচ্ছায় ( লাফালাফি, বেহুশ,
অচেতন ইত্যাদি) এমনটি হয়ে গেলে মাফ । যেমনটি আল্লাহ বলেন,
لَا یُکَلِّفُ
اللّٰهُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا ؕ لَهَا مَا کَسَبَتۡ وَ عَلَیۡهَا مَا
اکۡتَسَبَتۡ
আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।
সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার উপরই বর্তাবে। সূরা বাকারা-২৮৬
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত,
جَاءَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ
النَّبِيِّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلُوهُ إِنَّا نَجِدُ فِي
أَنْفُسِنَا مَا يَتَعَاظَمُ أَحَدُنَا أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ قَالَ وَقَدْ
وَجَدْتُمُوهُ قَالُوا نَعَمْ قَالَ ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ
সাহাবীদের একদল লোক রাসূল (ﷺ)এর কাছে
আগমন করে জিজ্ঞাসা করল, আমরা আমাদের অন্তরে কখনো কখনো এমন বিষয় অনুভব করি, যা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা আমাদের কাছে খুব কঠিন মনে হয়। রাসূল (ﷺ)বললেন যে, সত্যিই কি তোমরা এরকম পেয়ে থাক? তাঁরা বললেন হ্যাঁ, আমরা এরকম অনুভব করে থাকি। রাসূল
(ﷺ) বললেন, এটি তোমাদের ঈমানের স্পষ্ট প্রমাণ। (সহীহ
মুসলিম)
إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لأُمَّتِي عَمَّا وَسْوَسَتْ أَوْ حَدَّثَتْ
بِهِ أَنْفُسَهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أَوْ تَكَلَّمْ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মাতের সে সমস্ত ওয়াসওয়াসা মাফ করে
দিয়েছেন যা তাদের মনে উদয় হয় বা যে সব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষন না তা কাজে পরিণত করে বা সে সম্পর্কে কারও কাছে কিছু বলে। সহীহ
বুখারী-৬২০৯ অধ্যায়, ৭১/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور ইসলামিক
ফাউন্ডেশন
,
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ
صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إنِّى اُحَدِّثُ نَفْسِى بِالشَّيْءِ
لَأَنْ يَكُونَ حُمَمَةً أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَن ْ يَتَكَلَّمَ بِهِ فَقَالَ
النبي صلى الله عليه وسلم الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ أَمْرَهُ إِلَى الْوَسْوَسَةِ
নবি (ﷺ) এর কাছে একজন লোক আগমন করে বলল, আমার মনে কখনো এমন কথার উদয় হয়,
যা উচ্চারণ করার চেয়ে আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া আমার কাছে বেশী ভাল
মনে হয়। রাসূল (ﷺ) বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এই
বিষয়টিকে নিছক একটি মনের ওয়াস্ওয়াসা (কুমন্ত্রণা) হিসাবে নির্ধারণ করেছেন অর্থাৎ
কোন গুনাহ হবে না। সুনানে আবু দাউদ
উপরোক্ত আয়াত এবং হাদিস শরিফ দ্বারা ইশারাতুন নস প্রমাণিত
হয় যে, অনচ্ছিায়-মনের
অজান্তে-অনিয়ন্ত্রিত আবেগ, অনুভূতি,
গালিবে হাল, অস্বাভাবিক আচরণ মাফ যোগ্য।
প্রশ্ন: ৪। কেউ আবার তার পীর সাহেবের পক্ষ
থেকে আদেশ ও নির্দেশনা রক্ষার্থে করছে?
উত্তর: ৪। পীর-মুরুব্বি-উস্তাদ, বাবা-মা যাই হোক না কেন,
তাদের
আদেশ শরিয়ত বিরোধী
হলে তা মান্য করা যাবে না (জিকিরে লাফালাফি, নৃত্য হারাম সামনে তার আলোচনা আসছে)। দলিল:
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ: «لَا طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةٍ
إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوف»
আলী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নাফরমানির ক্ষেত্রে আনুগত্য নেই। আনুগত্য
শুধু সৎকর্মের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বুখারী
৭২৫৭, মুসলিম ১৮৪০, আবূ দাঊদ ২৬২৫,
নাসায়ী ৪২০৫, আহমাদ ৭২৪
প্রশ্ন: ৫। ইচ্ছা করে জিকিরে লাফালাফি, নাচানাচি-নৃত্য, গানের মত করা কি জাযেজ?
উত্তর: ৫। আমরা পূর্বে প্রমাণ করেছি যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন হাল প্রকাশ
পেলে, তা মাফ যোগ্য।
ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, উক্ত ব্যক্তি মাজূর মনে করা
হবে। তাকে ভর্ৎসনা করা যাবে না। সূত্র: আওয়ারিফুল মাআরিফ-১১৮-১১৯, আলইতিসাম-১/৩৫৬
তবে ইচ্ছাকৃতভাবে উপরোক্ত আচরণ করা হারাম। যেমন,
وَأَمَّا مَا ابْتَدَعَهُ الصُّوفِيَّةُ فِي ذَلِكَ فَمِنْ قَبِيلِ مَا لَا
يُخْتَلَفُ فِي تَحْرِيمِهِ لَكِنَّ النُّفُوسَ الشَّهْوَانِيَّةَ غَلَبَتْ عَلَى
كَثِيرٍ مِمَّنْ يُنْسَبُ إِلَى الْخَيْرِ حَتَّى لَقَدْ ظَهَرَتْ مِنْ كَثِيرٍ
مِنْهُمْ فِعْلَاتُ الْمَجَانِينِ وَالصِّبْيَانِ حَتَّى رَقَصُوا بِحَرَكَاتٍ
مُتَطَابِقَةٍ وَتَقْطِيعَاتٍ مُتَلَاحِقَةٍ وَانْتَهَى التَّوَاقُحُ بِقَوْمٍ
مِنْهُمْ إِلَى أَنْ جَعَلُوهَا مِنْ بَابِ الْقُرَبِ وَصَالِحِ الْأَعْمَالِ
وَأَنَّ ذَلِكَ يُثْمِرُ سِنِيِّ الْأَحْوَالِ وَهَذَا عَلَى التَّحْقِيقِ مِنْ
آثَارِ الزَّنْدَقَةِ وَقَوْلُ أَهْلِ الْمُخَرِّفَةِ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ اه
তথাকথিত সূফীরা উক্ত বিষয়ে এমন সব বিদআত সৃষ্টি করেছে, যেগুলোর হারাম হওয়ার
ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। সঠিক পথের দাবীদারদের অনেকে উপর প্রবৃত্তি প্রাধান্য লাভ
করেছে। সে ফলশ্রুতিতে অনেকেরই পক্ষ থেকে পাগল ও বালকসূলভ আচরণ, যেমন তালে তালে নৃত্য ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে। এর অশুভ পরিণতি এতদূর
পর্যন্ত গড়ায় যে, তাদের কেউ কেউ একে ইবাদতে শামিল করে
এবং আমলে সালেহ তথা পূণ্যকর্ম বলে সাব্যস্ত করে। আরো বলে যে, এটা অবস্থার উন্নতি সাধন করে। অতএব, নিশ্চিতরূপে
বলা যায় যে, এগুলো চরম ইসলামবিদ্বেষী যিন্দিকদের প্রভাব
এবং নির্বোধদের প্রলাপ। ফাতহুল বারী-২/৩৬৮, রিসালাতুল মুসতারশিদীন এর টিকা-১১৩-১১৪
আল্লামা শাতেবী রহ. তার আলইতসাম গ্রন্থে
আল্লামা আবূ বকর আজুররী থেকে উদ্ধৃত এক দীর্ঘ আলোচনার এক স্থানে উল্লেখ করেনঃ
كَمَا يَفْعَلُ كَثِيرٌ مِنَ الْجُهَّالِ؛
يَصْرُخُونَ عِنْدَ الْمَوَاعِظِ وَيَزْعَقُونَ، وَيَتَغَاشَوْنَ ـ قَالَ: وَهَذَا كُلُّهُ مِنَ الشَّيْطَانِ يَلْعَبُ بِهِمْ، وَهَذَا كُلُّهُ
بِدْعَةٌ وَضَلَالَةٌ،
ওয়াজ নসীহতের সময় অধিকাংশ মুর্খরা যে চিৎকার করে উঠে
লাফ-ফাল দেয়, মাতাল মাতাল ভাব করে, এ সবই শয়তানী কর্মকান্ড।
শয়তান ওদের সাথে খেলা করে। এগুলো বিদআত ও ভ্রষ্টতা। আলইতিসাম-১/৩৫৬
ইলমে তাসাওউফের প্রসিদ্ধ ইমাম ইমাম শাইখ সোহরাওয়ার্দী রহঃ
তার “আওয়ারিফুল মাআরিফ” গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোকপাত করে
লিখেনঃ
এ ব্যাপারে গোনাহের ব্যাখ্যা হবে অনেক দীর্ঘ। [জিকিরকারী বা
জিকিরের মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তি] আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে। ইচ্ছেপূর্বক সামান্যও
নড়বে না। [লাফালাফি, নাচানাচি করবে না] তবে যদি তার অবস্থা এমন রোগীর মত হয়, যে তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া ইচ্ছে করলেও বন্ধ করতে পারে না। কিংবা
হাঁচিদাতার মত হয়, যে হাঁচিকে রোধ করতে পারে না, অথবা তার নড়াচড়া যদি শ্বাসের ন্যায় হয়ে যায়, যে
শ্বাস গ্রহণে সে প্রকৃতিগতভাবে বাধ্য [তাহলে ভিন্ন কথা]। আওয়ারিফুল মাআরিফ-১১৮-১১৯
প্রশ্ন: ৬। সবার জন্যই কি ঐ একই বিধান প্রযোজ্য? সব সুরতই বিদআত! অথবা সব সুরতই জায়েজ!
উত্তর: ৬। সুহৃদয় পাঠক! আপনারা
লক্ষ্য করেছেন, ইচ্ছায় আর অনিচ্ছায় জিকিরে মধ্যে
কাইফিয়াত এক নয়। সুতরাং সবার জন্য এক হুকুম নয়। সুতরাং কোন পীর
যদি স্বাভাবিক অবস্থায় নৃত্যের মত করে জিকির তালিম দেয় তা বিদআত ও হারাম।
প্রশ্ন: ৭। বুঝলাম অনিচ্ছায় মাফ/জায়েজ; কিন্তু বুঝবো কি
করে সে ইচ্ছায় করেনি?
উত্তর: ৭। কে ইচ্ছায় করলো আর অনিচ্ছায় করলো সেটা নির্ণয় করা মশকিল, তালাশ করাও নিষেধ। এ ক্ষেত্রে মুমিনের প্রতি সুধারণায় নিরাপদ রাস্তা।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ
إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا
অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা থেকে বেঁচে থাক, কারণ কোন কোন ধারণা পাপ এবং তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান কর না। হুজুরাত-১২
রাসূল (ﷺ)
) বলেন,إِيَّاكُمْ وَ الظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ، لاَ
تَجَسَّسُوا، وَلاَ تَحَسَّسُوا، وَلاَ تَبَاغَضُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ
إِخْوَانًا তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাক।
কারণ, ধারণা
ভিত্তিক কথাই হল সবচেয়ে বড় মিথ্যাকথা। তোমরা একে অপরের দোষ অনুসন্ধান কর না।
পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ কর না এবং পরস্পর দুশমনি কর না, বরং
তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও হে আল্লাহর বান্দারা। বুখারী হা/৪৮৪৯, ৫১৪৩
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
বলেন, حُسْنُ الظَّنِّ مِنْ حُسْنِ
الْعِبَادَةِ সুন্দর ধারণা সুন্দর ইবাদতের অংশ। আহমাদ হা/৮০৩৬; আবুদাঊদ হা/৪৯৯৩, সনদ হাসান
قَالَ
سَمِعْتُ أُسَامَةَ بْنَ
زَيْدٍ رَضِيَ اللهُ
عَنْهُمَا يَقُوْلُ بَعَثَنَا
رَسُوْلُ اللهِ صلى
الله عليه وسلم
إِلَى الْحُرَقَةِ فَصَبَّحْنَا
الْقَوْمَ فَهَزَمْنَاهُمْ وَلَحِقْتُ
أَنَا وَرَجُلٌ مِنَ
الْأَنْصَارِ رَجُلًا مِنْهُمْ
فَلَمَّا غَشِيْنَاهُ قَالَ
لَا إِلَهَ إِلَّا
اللهُ فَكَفَّ الْأَنْصَارِيُّ فَطَعَنْتُهُ
بِرُمْحِيْ حَتَّى --------------.
অর্থ: ওসামা ইবনে জায়েদ রা বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে
হুরকা গোত্রের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। আমরা প্রত্যুষে গোত্রটির উপর আক্রমণ করি এবং
তাদেরকে পরাজিত করি। এ সময়ে আনসারদের এক ব্যক্তি ও আমি তাদের হুরকাদের
একজনের পিছু ধাওয়া করলাম।
আমরা যখন তাকে ঘিরে ফেললাম তখন সে বলে উঠল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। এ বাক্য শুনে আনসারি তার অস্ত্র সামনে নিলেন। কিন্তু আমি
তাকে আমার বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেললাম। আমরা মদিনায় ফিরার পর এ সংবাদ
নবি (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছালে তিনি বললেন, হে ওসামা! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার
পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, সে তো জান বাঁচানোর জন্য কালিমা পড়েছিল।
এর পরেও তিনি এ কথাটি হে ওসামা! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার
পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ বারবার বলতে থাকলেন। এতে আমার মন চাচ্ছিল যে, হায়, যদি
সেই দিনটির পূর্বে আমি ইসলামই গ্রহণ না করতাম। তাখরিজ : বুখারি-৪২৬৯; মুসলিম-৯৬, আহমাদ ২১৭৪৫;
আবু দাউদ-২৬৪৩
অপর এক বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন,লা ইলাহা ইল্লাল্লা বলেছে এবং তাকে
হত্যা করেছো? আমি বললাম হে আল্লাহর রসূল! সে কেবলমাত্র অস্ত্রের ভয়ে এই (কালেমা) বলেছে। তিনি বললেন, তমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিল
যে, সে এ (কালেমা ) অন্তর থেকে বলেছিল কি না ? অতঃপর একথা পুনঃ পুনঃ বলতে
থাকলেন। এমনকি আমি
আকাঙ্ক্ষা করলাম
যে, যদি আমি
আজ মুসলমান হতাম। তাখরিজ
: মুসলিম-৯৭
প্রশ্ন: ৮। আল্লাহর ইবাদতে বিশেষ করে
নামাজ, তেলাওয়াত, জিকির, আল্লাহ
ও আখেরাতের ভয়ে কন্দন করা, বেহুশ হওয়া,
অস্বাভাবিক
আচরণ প্রকাশ করা কুরআন-হাদিস ও
পূর্বসুরি বুজুর্গদের মধ্যে পাওয়া যায়
কি?
উত্তর: ৮। আল্লাহ ও আখেরাতের ভয়ে, ইবাদতে
বিভিন্ন কাইফিয়াত পবিত্র কুরআন-হাদিস পূর্বসুরি সাহাবা-তাবেয়ি-তাবা-তাবেয়ি, আওলিয়া
কেরামের মধ্যে হাজারো ঘটনা পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে মাওলানা রফিকুল ইসলাম রচিত, “প্রিয় নবির (ﷺ) অশ্রু” ও “সাহাবিদের
কান্ন ” কিতাব পড়লে জানা যাবে যে, আমাদের
প্রিয় নবি এবং তার সাহাবারা কখন, কি পরিস্থিতে কেদেছেন তা
বিস্তারিত রয়েছে। তাছাড়া “আওলিয়াদের কান্না” ও “আওলিয়াদের এক হাজার ঘটনা” কিতাব দেখো যেতে পারে।
কুরআন থেকে দলিল,
আল্লাহ তাআলা তিলাওয়াতের সময়
ক্রন্দনরতদের প্রশংসা করে বলেন,
وَ یَخِرُّوۡنَ لِلۡاَذۡقَانِ
یَبۡکُوۡنَ وَ یَزِیۡدُهُمۡ خُشُوۡعًا
আর তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে। সুরাবনি
ইসরাঈল-১০৯
হাদিস থেকে দলিল:
নং-০১
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত,
তিনি
বলেন, নবী করিম (ﷺ) আমাকে বলেছেন, আমাকে তুমি তিলাওয়াত করে
শোনাও। বললাম, আমি আপনাকে তিলাওয়াত শোনাব, অথচ
আপনার ওপরই এটি অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বলেন, আমি
অন্যের তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি। অতঃপর আমি তাঁকে সুরা নিসা পড়ে শোনাতে লাগলাম। যখন
আমি সুরা নিসার ৪১ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করলাম,
তিনি
বললেন, ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে। আমি তাঁর দিকে
তাকিয়ে দেখলাম তাঁর চোখ থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। বুখারি, হাদিস
: ৫০৫০; মুসলিম, হাদিস : ১৯০৩
আয়াতটি হলো, فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيْدٍ
وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيْدًا যখন
আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে উপস্থিত করব তাদের
ওপর সাক্ষীরূপে, তখন কী অবস্থা হবে?
সূরা নিসা-৪১
নং-০২
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ
করেন, ‘কোরআনের
পাঠকদের মধ্যে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ সর্বোত্তম,
যার
তিলাওয়াত কেউ শুনলে মনে হয় যে সে কাঁদছে। ইবনে
মাজাহ, হাদিস : ১৩৩৯
নং-০৩
মুত্বাররিফ ইবনু আব্দুল্লাহ বিন শিখখীর (রহঃ) স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি
বলেন, ‘আমি
নবী করীম (ﷺ) এর নিকট
আসলাম। তখন তিনি ছালাত আদায় করছিলেন এবং তাঁর ভিতর থেকে টগবগে আওয়াজ হচ্ছিল যেমন
ডেগের ফুটন্ত পানির টগবগ আওয়াজ হয়। অর্থাৎ তিনি কান্নাকাটি করছিলেন। অন্য
বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন,
আমি
নবী করীম (ছাঃ)-কে ছালাত আদায় করতে দেখেছি। এমতাবস্থায় তাঁর বুকের মধ্যে চাক্কির
আওয়াজের ন্যায় কান্নার আওয়াজ হ’তে
থাকত। আবূ দাঊদ হা/৯০৪; নাসাঈ হা/১২১৪; ছহীহ
আত-তারগীব হা/৫৪৪; মিশকাত হা/১০০০
নং-০৪
ইরবায বিন সারিয়াহ (রহঃ) বলেন,صَلَّى بِنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ
يَوْمٍ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ
مِنْهَا الْعُيُوْنُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوْبُ، فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُوْلَ اللهِ كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ
مُوَدِّعٍ، فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا؟ فَقَالَ أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللهِ
وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَة...
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন ফজরের ছালাতের পর আমাদেরকে
মর্মস্পর্শী ওয়ায শুনালেন, যাতে (আমাদের) সকলের চোখে পানি এল
এবং অন্তর কেঁপে উঠল। কোন একজন বলল, এটা তো বিদায়ী ব্যক্তির
নছীহতের মত। হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এখন আপনি আমাদেরকে কি উপদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতির ----। তিরমিযী হা/২৬৭৬; আবু দাঊদ হা/৪৬০৭; আহমাদ হা/১৭১৪৪।
আসার থেকে দলিল:
নং-০১
কাসিম (রহ.) একবার আয়েশা (রা.)-এর কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি দেখেন, আয়েশা
(রা.) একটি আয়াত বারবার আবৃত্তি করছেন আর কেঁদে কেঁদে দোয়া করছেন। আয়াতটি হলো, অতঃপর
আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আগুনের আজাব থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন। সুরা তুর-২৭
নং-০২
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) যখন এ আয়াত তিলাওয়াত করেন, ফুঁপিয়ে
ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন। আয়াতটি হলো, আর মৃত্যুর যন্ত্রণা অবশ্যই আসবে, যা
থেকে তুমি পলায়ন করতে চাইতে।সুরা : ক্বফ,
আয়াত
: ১৯
নং-০৩
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) যখন এ আয়াতটি পড়তেন, তখনই
তিনি কান্নাকাটি করতেন। আয়াতটি হলো,
আর
তোমাদের মনে যা আছে, তা যদি তোমরা প্রকাশ করো অথবা গোপন করো, আল্লাহ
সে বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন।
সুরা
: বাকারা -২৮৪
নং-০৪
ওছমান (রাঃ)-এর মুক্ত দাস হানী বলেন,
كَانَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ يَبْكِيْ
حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ، فَقِيلَ لَهُ: تَذْكُرُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَلاَ تَبْكِي، وَتَبْكِيْ مِنْ
هَذَا؟ قَالَ: إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ، فَإِنْ نَجَا مِنْهُ،
فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ، وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ، فَمَا بَعْدَهُ
أَشَدُّ مِنْهُ قَالَ:
وَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ
إِلاَّ وَالْقَبْرُ أَفْظَعُ مِنْهُ-
‘ওছমান (রাঃ) কোন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এত বেশী কাঁদতেন যে, তাঁর দাঁড়ি ভিজে যেত। তাঁকে প্রশ্ন করা হ’ল, জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা করলে তো আপনি কাঁদেন না, অথচ কবর দর্শনে এত বেশী কাঁদেন কেন? তিনি বললেন,
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আখেরাতের মনযিলগুলোর মধ্যে কবর হল প্রথম মনযিল। এখান থেকে কেউ মুক্তি পেয়ে
গেলে তার জন্য পরবর্তী মনযিলগুলোতে মুক্তি পাওয়া খুব সহজ হয়ে যাবে। আর এখান থেকে
মুক্তি না পেলে তার জন্য পরবর্তী মনযিলগুলো আরো বেশী কঠিন হবে। ওছমান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেন, ‘আমি কবরের দৃশ্যের চাইতে অধিক
ভয়ংকর দৃশ্য আর কখনো দেখিনি। ইবনু মাজাহ
হা/৪২৬৭; তিরমিযী হা/২৩০৮; মিশকাত
হা/১৩২।
নং-০৫
কায়েস বিন আবু হাযেম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা
আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা রা. স্বীয় স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে হঠাৎ কাঁদতে লাগলেন,
তার সাথে তার স্ত্রীও কাঁদতে লাগলেন। আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা
জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন কাঁদছ? স্ত্রী
বললেন, তোমাকে কাঁদতে দেখে আমারও কান্না চলে এসেছে। স্বামী
বললেন, (কান্নার কারণ হল) আমার আল্লাহর এ বাণীটি স্মরণ হল যে,
(অর্থ) ‘তোমাদের মধ্যে কেউ এমন নেই,
যে জাহান্নামের উপর দিয়ে অতিক্রম করবে না (মারইয়াম : ৭১) আর আমার
জানা নেই যে, জাহান্নামের উপর স্থাপন করা পুলসিরাত অতিক্রম
করার সময় আমি (দোযখ থেকে) রক্ষা পাব না পাব না।’-মুস্তাদরাকে
হাকিম, হাদীস ৮৭৮৬
নং-০৬
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি একবার দোযখের কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কে তোমাকে কাঁদাল? আয়েশা
রা. বললেন, আমি দোযখের ভয়ে কাঁদছি। আপনি কি কেয়ামতের দিন
আপনার পরিবারের কথা স্মরণ রাখবেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তিনটি স্থানে কেউ কাউকে স্মরণ রাখতে পারবে
না- এক. মীযানের (আমল পরিমাপক যন্ত্র) নিকট যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার নেকীর পাল্লা ভারী হয়েছে না হালকা, দুই.
আমলনামা পেশ করার সময়, যখন বলা হবে আস তোমার আমলনামা পাঠ কর,
যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার আমলনামা ডান
হাতে দেওয়া হচ্ছে না পিঠের পিছন থেকে বাম হাতে। তিন. পুলসিরাতের উপর দিয়ে
অতিক্রম করার সময় যখন তা জাহান্নামের উপর স্থাপন করা হবে।’- সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৭২
নং-০৭
আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত দ্বীনদার-পরহেযগার, খুব বেশী ইবাদতগুজার। তিনি
দিনে রোজা রাখতেন, রাতে তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং প্রচুর কুরআন
তেলাওয়াত করতেন। তিনি ছিলেন আল্লাহ্র ভয়ে কম্পিত ব্যক্তি। (একদিন
সূরা ইয়াসিনের এ আয়াত-
وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا
الْمُجْرِمُونَ
হে অপরাধীরা! আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও। সূরা ইয়াসিন-৫৯
পড়ে কাদতে কাদতে সারারাত কাটিয়ে দেন।) সূত্র: মুহাম্মদ আবু যাহরার ইমাম আবু হানীফা হায়াতুহু
ওয়া আসরুহু আ-রাউহু ওয়া ফিক্হুহু
নং-০৮
আল্লামা শারণি রহ. বলেন, বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত হাসান বসরি রহ. যখন বয়ান করতেন, মজলিস শেষে অনেক লাশ পাওয়া
যেত।অর্থাৎ আল্লাহর মহব্বত ও ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে মারা যেত। সূত্র: সিরাতুল আওলিয়া, হাকিমুল উম্মত প্রকাশনী, বাংলাবাজার ঢাকা।
আসলাফ থেকে দলিল:
নং-০১
আবু হাযেম বললেন, সে আয়াতটি কি? ইবনু মুনকাদির বললেন, আয়াতটি হচ্ছে-وَلَوْ أَنَّ لِلَّذِيْنَ ظَلَمُوْا مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا
وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ مِنْ سُوْءِ الْعَذَابِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
وَبَدَا لَهُمْ مِنَ اللهِ مَا لَمْ يَكُوْنُوْا يَحْتَسِبُوْنَ ‘যদি যালেমদের কাছে
পৃথিবীর সকল সম্পদ থাকে এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও থাকে, তাহ’লে অবশ্যই তারা ক্বিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য মুক্তিপণ
হিসাবে সবই দিয়ে দিবে। অথচ সেদিন আল্লাহর পক্ষ হ’তে তাদের
জন্য এমন শাস্তি প্রকাশ করা হবে, যা তারা কল্পনাও করত না’ (যুমার
৩৯/৪৭)। ইবনু মুনকাদির থেকে উক্ত আয়াত শুনে আবু হাযেম
কেঁদে ফেললেন। অতঃপর তারা উভয়ে কঠিনভাবে কাঁদতে লাগলেন। সূত্র: হাফেয যাহাবী, তারীখুল ইসলাম
নং-০২
ফাতেমা বিনতে আব্দুল মালেক (ওমর বিন আব্দুল আজিজের স্ত্রী) বললেন, আমি গত রাত্রে ওমর
বিন আব্দুল আযীযকে ছালাতরত অবস্থায় দেখেছি। অতঃপর তিনি আল্লাহর বাণী,يَوْمَ يَكُوْنُ النَّاسُ
كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوْثِ، وَتَكُوْنُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوْشِ- ‘যেদিন মানুষ হবে
বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙিন পশমের মত’ (ক্বারি‘আহ ১০১/৪-৫) এই আয়াত পাঠ করে চিৎকার করে উঠলেন এবং মাটিতে পড়ে গেলেন। অতঃপর কঠিনভাবে চিৎকার করতে
থাকলে আমার মনে হ’ল তাঁর রূহ বের হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি থামলে
আমার মনে হ’ল তিনি হয়ত মারা গেছেন। এরপর তিনি চেতনা ফিরে
পেয়ে ফরিয়াদ করে বলতে লাগলেন, হায়! মন্দ সকাল! এরপর তিনি
লাফিয়ে উঠে ঘরের মধ্যে ঘুরতে থাকলেন আর বলতে লাগলেন, ‘হায়!
আমার জন্য দুর্ভোগ। সেদিন কোন লোক হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত এবং পর্বতমালা হবে
ধুনিত রঙিন পশমের মত? সূত্র: জামালুদ্দীন
আল-জাওযী, আল-মুনতাযাম ফী তারীখিল উমাম ওয়াল মুলূক
প্রশ্ন: ৯। أكثروا ذكر الله
عز و جل
حتى يقال إنه مجنون হাদিসটির ব্যাখ্যা/সীমানা কি?
উত্তর:
عن أبي سعيد الخدري عن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : أكثروا ذكر الله عز و جل حتى يقال إنه مجنون(مسند عبد بن حميد، من مسند أبي سعيد الخدري، رقم
الحديث-925
অনুবাদ-হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-তোমরা অধিক পরিমাণ আল্লাহর
জিকির কর যেন লোকেরা তোমাদের পাগল বলে। (মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ-৯২৫, সহীহ
ইবনে হিব্বান-৮১৭, মুসনাদে আহমাদ-১১৬৫৩,
শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৫২৩
অনেকে এ হাদিস দ্বারা লাফালাফি-নৃত্য ইত্যাদি জায়েজ বলতে চান। কোন হাদিসের
ব্যাখ্যা-প্রয়োগ-মাসয়ালা
আমাদেরকে আসলাফ-ফুকাহায়ে
কেরামের মত জানতে হবে, নিজে নিজে ব্যাখ্যা করলে হবে গুমরাহি (তবে ব্যাখ্যাটা যদি তাদের সাথে মিলে, তাহলে
গ্রহণযোগ্য)। যেমন
যাব।
যেমন
ইমাম তিরমিজি রহমতুল্লাহি বলেছেন الفقهاء و هم اعلم يعني الحديث অর্থাৎ ফুকাহায়ে কেরাম হাদিসের অর্থ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত।তিরমিজি-৩/৩১৫পৃ.
১নং মত
ইবনে কাইয়্যিম রাহ বলেন,
"
قيد الأمر بالذكر بالكثرة والشدة
؛ لشدة حاجة العبد إليه ، وعدم استغنائه عنه طرفةَ عين ، فأي لحظة خلا فيها العبد
عن ذكر الله عز وجل كانت عليه لا له ، وكان خسرانه فيها أعظم مما ربح في غفلته عن
الله . وقال بعض العارفين : لو أقبل عبد على الله تعالى كذا وكذا سنة ، ثم أعرض عنه
لحظة ، لكان ما فاته أعظم مما حصله " انتهى."
الوابل الصيب " (ص/89)
অর্থাৎ এই হাদীসে উদ্দেশ্য হল,বেশী বেশী করে আল্লাহর যিকির করা। সর্বদা
আল্লাহর যিকির করা। সূত্র: " انتهى." الوابل الصيب
" (ص/89
২নং-মত
শায়খুল হাদিস মুহিাজিরে মাদানি আল্লামা জাকারিয়া কান্ধলভি রহ. বলেন, মোনাফেক এবং বেওকুফ লোক যদি
জিকিরকারীকে রিয়াকার এবং পাগল বলে তবুও জিকির হইতে বিরত থাকিবে না বরং এত বেশী এবং
গুরুত্ব সহকারে জিকির করিতে থাকিবে যেন বাস্তবিকই লোকে পাগল বলিয়া ছাড়ে। এবং পাগল তখনই
বলা হয় যখন খুব বেশী এবং জোরে জোরে জিকির করা হয়, আস্তে
আস্তে জিকির করিলে কেহ পাগল বলে না। ফাজায়েলে জিকির - ২৯৭ পৃঃ
অর্থাৎ উক্ত দ্বারা জলি বা জোরে জিকির প্রমাণিত হয়।
والله
اعلم بالصواب
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
কুড়ানো জিনিস খাওয়া যাবে কি না? |
প্রশ্ন-১৮৫: সেনানিবাসের ভিতরে বিভিন্ন গাছের ফল যেমন আম, জাম
এগুলো গাছের নিচ থেকে কুড়িয়ে নেওয়া অথবা
গাছ থেকে বিনাঅনুমতিতে নেওয়া জায়েজ
আছে কিনা?
জাজাকাল্লাহ খাইরান।
(সম্মানিত ভাই আরটি শরিফুল ইসলাম 40 রেজিমেন্ট
আর্টিলারি জাহাঙ্গীরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট,
বগুড়া
–এর প্রশ্নের আলোকে।
বারাকাতুহ। আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন।)
উত্তর: প্রথম কথা হলো,
গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল মালিকের অনুমতি ছাড়া কাওয়া বৈধ হবে না। যদি
অনুমতি থাকে তাহলে খাওয়া বৈধ। চাই অনুমতি প্রত্যক্ষভাবে থাকুক বা
পরোক্ষভাবে।-রদ্দুল মুহতার : ৬/৪৪৪, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া
৫/৩৯৩, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া মাজমাউল আনহুর : ২/২৫৬, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ২৩/৩৭৯
গাছের নিচ থেকে কুড়িয়ে নিতে যদি মালিকের পক্ষ থেকে কোনো
প্রকার বাধা বা নিষেধ করা না হয়, তাহলে আপনার জন্য উক্ত গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে
খাওয়া জায়েয হয়েছে। অবশ্য কখনো যদি এ ব্যাপারে মালিকের অসম্মতি বা অসন্তুষ্টি
বুঝা যায় তখন পড়ে থাকা ফলও কুড়িয়ে নেওয়া জায়েয হবে না।
আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৮৪; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৫৪; আননাহরুল ফায়েক ৩/২৮৪
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি উক্ত ফলের মালিকের (কর্তৃপক্ষ/ইউনিটের) অনুমতি প্রত্যক্ষভাবে থাকে বা পরোক্ষভাবে
অনুমতি থাকে,তাহলে আপনার এই ফল গুলো খাওয়া জায়েয আছে।
কোনো সমস্যা নেই।
নোট: আমি আমার পূর্বে ইউনিটে অধিনায়ককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, স্যার, ইউনিটের বিভিন্ন প্রকার ফল ঝড়ে/পেকে পড়ে থাকে, এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত, জবাবে তিনি বললেন, আপনি একটি কথা বলেছেন। আপনি
মসজিদে ঘোষণা দিবেন যে, গাছের নিচে কোন ফল পড়ে থাকলে,
যে পাবে সেটা তার। তবে ছিঁড়ে/গাছ থেকে পাড়তে
পারবে না।
প্রিয় ভাই! এভাবে মালিককে জিজ্ঞেস করে তার ভিউ জানা যায়। আমি আমার গ্রামে
দেখেছি, কিছু লোক গাছের নিচে পড়ে থাকা জিনিসও নিতে দেয়
না।
একটি প্রশ্ন: অনেকে বলে সরকারি জিনিস সবাই মালিক বা
হকদার, সুতরাং ফল ছিড়ে/পেড়ে/কুড়ে নিলে কি অসুবিধা?
উত্তর: ধরুন! আপনি একটি সরকারি বাসায় থাকেন, সেখানে আমাকে কি
থাকতে দিবেন? অবশ্যই
আপনার অনুমিত ব্যতিত থাকা যাবে। অতত্রব, বুঝা গেলে, সরকারি হলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মালিক বা কর্তৃপক্ষ আছে। ঠিক তেমনি
সরকারি গাছ হলেও এর নির্দিষ্ট মালিক বা কর্তৃপক্ষ আছে।
والله اعلم بالصواب
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
বাকিতে মাল ক্রয় করে মূল্য বেশি দেওয়া
প্রসঙ্গে |
প্রশ্ন-১৮৬: কিস্তিতে বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে মোবাইল, ফ্রিজ
ইত্যাদি কিনলে সুদ হবে কি না ? এভাবে কেনা বেচায় তাকওয়ার খেলাফ
নয় কী ?
মাওলানা ইউনুছ আলী হাফিজাহুল্লাহ তাআলা, সুদান
থেকে
উত্তর: প্রথম কথা হলো:
নির্দিষ্ট শর্তাপেক্ষে কিস্তিতে বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে মোবাইল,
ফ্রিজ ইত্যাদি কিনলে জায়েজ হবে, সুদ হবে না।
সূত্র: জামে তিরমিযী, হাদীস ১২৩১;
আলমাবসূত, সারাখসী ১৩/৭; আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ২/৩৭; রদ্দুল
মুহতার ৫/৯৯
عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِىِّ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ قَالَ : الدِّينُ النَّصِيحَةُ
হযরত তামীম আদ-দারী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ
করেন যে, ‘দ্বীন হ’ল নছীহত’। মুসলিম হা/৫৫; মিশকাত
হা/৪৯৬৬। নছীহা অর্থাৎ কল্যাণকামিতা এর উসূলের
ওপর ভিত্তি করে ফুকাহায়ে কেরাম বিশেষ করে ফুকাহায়ে আহনাফ যেখানে সম্ভব উম্মাহর জন্য
জায়েজের রাস্তা করেছেন। এটা ইসলামি দ্বীনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয় কথা, একটি
প্রসিদ্ধ বাণী আছে, حسنات الابرار سيئات المقربين
অর্থাৎ “নেককারদের জন্য পূণ্য হলেও;
নৈকট্যশীলদের
জন্য তা পাপ।”
পবিত্র কুরআনুল কারিমে নবিদের বিষয়ে এ ধরণের বর্ণনা এসেছে।
সাধরণ মানুষের জন্য যা করা জায়েজ, বিশেষ লোকদের জন্য তা করা ঠিক নয়। উপরোক্ত মাসয়ালাটিও ঐ রকম
বলা যায়।
ইমাম আল-গাযালী (র) তাকওয়ার চারটি স্তর বর্ণনা করেছেন।
{এক} শরীআতে যে সকল বস্তুকে হারাম করা হয়েছে,
আল্লাহ্র ভয়ে সকল বস্তু থেকে বিরত থাকা। যেমন, মদ্যপান, ব্যভিচার, জুয়াখেলা
ও সুদ খাওয়া প্রভৃতি হারাম কাজ থেকে আত্মরক্ষা করা। এটি সাধারণ মুমিনের তাকওয়া।
এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে বলা হয় মুমিন।
{দুই} হারাম বস্তুসমূহ হতে বিরত থাকার পর
সন্দেহযু্ক্ত হালাল বস্তুসমূহ হতেও দূরে থাকা। এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে বলা হয়
সালিহ।
তিন. সকল হারাম বস্তু ও সন্দেহযু্ক্ত হালাল বস্তুসমূহ হতে
দূরে থাকার পর আল্লাহ্র ভয়ে অনক সন্দেহবিহীন হালাল বস্তুও পরিত্যাগ করে, এ শ্রেণীকে মুত্তাকী বলা হয় ।
চার. তিন শ্রেণীর
তাকওয়া আয়ত্ত করার পর এমন সকল হালাল বস্তু পরিত্যাগ করা যা ইবাদাতে কোনরূপ
সহায়তা করে না। এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে বলা হয় সিদ্দীক । ইসলামী বিশ্বকোষ, পৃ. ১০৮-১০৯
হাদিস:
হযরত আয়েশা রা. একদিন তাই জানতে চাইলেন- আপনি এত কষ্ট করেন কেন, আল্লাহ কি আপনার আগে-পরের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেননি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরে বললেন,
أَفَلاَ أُحِبُّ أَنْ أَكُونَ عَبْدًا شَكُورًا
আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হতে চাই না? -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৮৩৭
আসলাফের আমল:
শায়খুল আরব ওয়াল
আজাম হাজি এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি রহ. জীবনে কখনও কালো রংয়ের জুতো পরিধান করেননি। কারণ হলো পবিত্র কাবার
গিলাফ হলো কালো। কালো রংয়ের জুতো তো না জায়েজ নয়। কিন্তু তিনি কাবার প্রতি আজমত,
ভক্তির কারণে তিনি এটা করেছেন।
পরিশিষ্ট: উপরোক্ত আলোচনা
দ্বারা এ কথা বুঝাতে চাচ্ছি যে, যেটা ফুকাহায়ে উম্মত বিভিন্ন
উসূল ও দলিলের ভিত্তিতে জায়েজ বলেছেন, সেটা নাজায়েজ বলা যাবে
না (یٰۤاَیُّهَا
النَّبِیُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَاۤ اَحَلَّ اللّٰهُ لَکَ ۚ- হে নবী! আল্লাহ তোমার জন্য
যা বৈধ করেছেন, তুমি তা অবৈধ করছ কেন? সূরা
তাহরিম-০১)। তাকওয়ার যেহেতু
অনেক স্তর আছে; সবার জন্য একই হুকুম প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ যিনি আল্লাহ্র ভয়ে অনক
সন্দেহবিহীন হালাল বস্তুও পরিত্যাগ করে; তাতো অধিক উত্তম।
والله اعلم بالصواب
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
দোকান বা বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে যে advance নেওয়া হয় প্রসঙ্গে |
প্রশ্ন-০১: দোকান বা বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে যে advance নেওয়া হয়, এরপর আবার মাসে মাসে ভাড়াও নেওয়া হয় এর বৈধতা কতটুকু? অগ্রিম
যেটা নেওয়া হয়েছে তাকি দোকান বা বাড়ির মালিক
ভোগ করতে পারবে? সবিনয়ে জানতে চাই।
(সম্মানিত ভাই মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম ৩৩ এসটি সাভার সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। আল্লাহ তাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন। )
উত্তর: আপনি একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন করেছেন। আপনি
শুধু অ্যাডভান্স সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। কিন্তু সিকিউরিটি মানি এর সাথে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক সময়ে
অ্যাডভান্স ও সিকিউরিটি মানি বহুল আলোচিত দুটি মাসয়ালা । আপনা এ সংক্রান্ত
সহজে বুঝার জন্য কয়েক ভাগে ভাগ করেছি-
ونسأل الله التوفيق وهو الموفق والمعين
প্রশ্ন: ক। অ্যাডভান্স
কাকে বলে?
উত্তর: ক।
এককালীন গ্রহণ করা টাকা প্রতি মাসেই কিছু কিছু করে ভাড়া হিসাবে কাটা
হয়, যাকে অ্যাডভান্স বলে।
প্রশ্ন: খ। সিকিউরিটি মানি কাকে বলে?
উত্তর: খ। ভাড়াদাতা জামানত হিসেবে ভাড়াগ্রহিতা থেকে যে টাকাটা গ্রহণ করে থাকে, ভাড়ার চুক্তি শেষে তা আবার ভাড়াগ্রহিতাকে ফেরত দিয়ে দিতে হয়, যাকে সিকিউরিটি মানি বলে।
প্রশ্ন:
গ। দোকান বা বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে যে advance/সিকিউরিটি মানি নেওয়া হয় জায়েজ কি?
উত্তর: গ। হ্যাঁ, দোকান বা বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে
যে advance/সিকিউরিটি মানি দেওয়াকে ইসলামি আইনের পরিভাষায় বন্ধক বলা হয়। আর কোনো কিছু
বন্ধক রাখা শরিয়তে জায়েয আছে। দলিল:
وَ اِنۡ کُنۡتُمۡ عَلٰی سَفَرٍ وَّ لَمۡ تَجِدُوۡا کَاتِبًا فَرِهٰنٌ
مَّقۡبُوۡضَۃٌ ؕ فَاِنۡ اَمِنَ بَعۡضُکُمۡ بَعۡضًا فَلۡیُؤَدِّ الَّذِی اؤۡتُمِنَ
اَمَانَتَهٗ وَ لۡیَتَّقِ اللّٰهَ رَبَّهٗ ؕ وَ لَا تَکۡتُمُوا الشَّهَادَۃَ ؕ وَ
مَنۡ یَّکۡتُمۡهَا فَاِنَّهٗۤ اٰثِمٌ قَلۡبُهٗ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ
عَلِیۡمٌ
অর্থ: আর যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোন লেখক না পাও, তাহলে
হস্তান্তরিত বন্ধক রাখবে। --- - সূরা বাকারা-২৮৩
عَنْ أَنَسٍ ـ
رضى الله عنه ـ قَالَ وَلَقَدْ رَهَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دِرْعَهُ
بِشَعِيرٍ،
নবী করীম (ﷺ) ও তাঁর লোহার বর্মটি একজন ইয়াহুদীর কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। বুখারী-২২০০,মুসলিম
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.),
ইবরাহিম নাখায়ি (রহ.), শাবী (রহ.) প্রমুখ
সাহাবা-তাবেয়ি থেকে বর্ণিত আছে, তারা বলেন, আগাম বিক্রিতে বিক্রেতা থেকে বন্ধক নিলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। মুসান্নাফে
আবদুর রাযযাক, হাদিস: ১৪০৮৬, ১৪০৮৭,
১৪০৯০
প্রশ্ন: ঘ। অগ্রিম যেটা নেওয়া হয়েছে তাকি দোকান
বা বাড়ির মালিক ভোগ করতে পারবে?
উত্তর: ঘ। না, অগ্রিম যেটা নেওয়া হয়েছে তাকি দোকান বা বাড়ির মালিক ভোগ-ব্যবহার
করতে পারবে না। তা হারাম এবং সুদ হিসেবে পরিগিণিত হবে। কারণ বন্ধকী বস্তু থেকে উপকৃত হওয়া জায়েয নয়।
দলিল:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه
ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. " الرَّهْنُ
يُرْكَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا، وَلَبَنُ الدَّرِّ يُشْرَبُ
بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا، وَعَلَى الَّذِي يَرْكَبُ وَيَشْرَبُ
النَّفَقَةُ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বাহনর পশু বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে
তাতে আরোহণ করা যাবে। তদ্রুপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে দুধ পান
করা যাবে (এর অতিরিক্ত যাবে না)। (মোট কথা) আরোহণকারী এবং দুধ পানকারীকেই খরচ বহন করতে হবে।
বুখারি-২৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইবনে সিরিন (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, আমার কাছে এক ব্যক্তি একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছে। আমি এতে আরোহণ করেছি। তখন
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বললেন, তুমি এর পিঠ থেকে (আরোহণ
করে) যে উপকৃত হয়েছ তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস: ১৫০৭১
প্রশ্ন: ঙ। অ্যাডভান্স ও সিকিউরিটি মানি মালিকের ব্যবহার করার বৈধ কোনো বিকল্প পদ্ধতি
আছে কি?
উত্তর: ঙ।
হ্যাঁ, অ্যাডভান্স ও
সিকিউরিটি মানি মালিকের ব্যবহার
করার বৈধ কোনো বিকল্প পদ্ধতি আছে। যেমন,
সিকিউরিটির টাকা ভাড়াগ্রহিতা থেকে ঋণ হিসেবে নিলে তা
ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু তখন এ সিকিউরিটি মানির কারণে ভাড়া কমানো যাবে না। কেননা
ঋণ নিয়ে কোনো সুবিধা দিলে তা সুদ হিসেবে গণ্য হয়। সূত্র:
মুসনাদে আহমদ : ৬৬২৮; শরহুল
মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী : ৩/১৪৫, ১৯৬; মাবসুত, সারাখসি : ১৪/৩৫,
২১/১০৮; কিতাবুল আসল : ৩/১৬৩;
মাজাল্লাতুল
আহকামিল আদলিয়্যাহ মাদ্দাহ : ৪৬৮
প্রশ্ন: চ। অ্যাডভান্স ও সিকিউরিটি
মানি জমা থাকার কারণে প্রতিমাসে টাকা কম
কাটা/ নেওয়া জায়েজ
আছে কি?
উত্তর: চ। সিকিউরিটি মানির কারণে
ভাড়া কম রাখা জায়েজ নয়। অর্থাৎ সিকিউরিটি মানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ভাড়া কমে
যাওয়ার যে প্রচলন আমাদের সমাজে রয়েছে, তা জায়েজ নয়। কেননা সিকিউরিটি মানি
ভাড়াদাতার কাছে ঋণ হিসেবে থাকে। তাই এ টাকার কারণে ভাড়ার পরিমাণ কমিয়ে দিলে তা ঋণ
দিয়ে ঋণগ্রহিতা থেকে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণের অন্তর্ভুক্ত, যা সুদ ও হারাম। দলিল:
ফাযালা বিন উবাইদ (রা.) বলেন, ‘যে ঋণ কোনো মুনাফা নিয়ে
আসে, তা রিবার অন্তর্ভুক্ত।
সুনানে বাইহাকি : ৫/৩৫০
তবে সিকিউরিটি মানি না হয়ে যদি
অ্যাডভান্স তথা অগ্রীম ভাড়া প্রদান করার কারণে ভাড়া কিছুটা কমানো হয়, তবে তাতে সমস্যা নেই।
কেননা অ্যাডভান্সের টাকাটা ভাড়াদাতার কাছে ঋণ হিসেবে থাকে না। ফলে ভাড়া কমানো হলেও
তা ঋণের পরিবর্তে কমানো হয়েছে বলে গণ্য হয় না। সূত্র: আসসুনানুল
কুবরা,
বাইহাকি : ৫/৫৭৩; আলমাবসুত, সারাখসি : ১৪/৩৫; মাজাল্লাতুল আহকামিল
আদলিয়্যাহ,
মাদ্দাহ : ৪৬৮; আলমাআয়িরুশ শরইয়্যাহ : ১৪৮
والله اعلم بالصواب
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله وسلم
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
শুধু কি খাবার-টাকা পয়সাই রিজিক |
প্রশ্ন-০২: রিজিকের সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছেঃ টাকা, পয়সা, অর্থ এবং সম্পদ।
■ রিজিকের এর সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছেঃ শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা।
■ রিজিকের সর্বোত্তম স্তর হচ্ছেঃ পুণ্যবান স্ত্রী এবং পরিশুদ্ধ নেক সন্তান এবং
■ রিজিকের পরিপূর্ণ স্তর হচ্ছে, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।
[2:30 PM, 6/6/2022] RT Shohid 14bg: এই চারটা লাইন সরাসরি কোন হাদিস
কিনা? অথবা এর কোনো রেফারেন্স আছে কি না, থাকলে জানালে উপকৃত হব।
(সম্মানিত ভাই শরিফ ইনসান (ভদ্র প্রকৃতির
মানুষ) আরটি- শহীদ, ১৪বেঙ্গল, যশোর
সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের জীবন দান করুন।)
উত্তর: আমার জানে মতে,
না, এটা
কোনো সরাসরি হাদিস বা আসার নয়। তবে আপনার উল্লেখিত প্রতিটি স্তর যে রিজিকের
অন্তর্ভুক্ত তা পবিত্র কুরআন হাদিসের নস দ্বারা প্রমাণিত। আমার মনে হয় কোনো মনীষী/আলেম
এ গুলোর তারতিব দিয়েছেন (স্তর ভাগ করেছেন)।
(সম্ভবত শাহদাত ফয়সাল (রহ.) নামক একজন আলেম এ স্তর ভাগ করেছেন)
। আসুন আমরা প্রথমে রিজক
শব্দের অর্থ জেনে নেই।
ونسأل الله التوفيق وهو الموفق والمعين
রিজিকের পরিচয়:
ﺭِﺯْﻕﺟﻤﻊ
ﺃَﺭﺯﺍﻕ : 1 - ﺍﺳﻢ ﺍﻟﺸّﻲﺀ ﺍﻟﻤُﻌﻄَﻰ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﻨﺘﻔﻊ ﺑﻪ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﻣﻦ ﺭﺑﺢ ﺃﻭ ﻣﻜﺴﺐ ﺃﻭ ﺛﺮﻭﺓ ﺃﻭ
ﻧﺤﻮ ﺫﻟﻚ -: ﺃﺟﺮﻯ ﻋﻠﻴﻪ ﺭِﺯﻗًﺎ ، -
ﻗﻄﻊ ﺭﺯﻕَ ﻓﻼﻥ : ﻣﻨﻊ ﻋﻨﻪ ﺃﺳﺒﺎﺏ ﺍﻟﻌﻴﺶ ، (ﺍﻟﻤﻌﺠﻢ ﺍﻟﻠﻐﺔ ﺍﻟﻌﺮﺑﻴﺔ ﺍﻟﻤﻌﺎﺻﺮ)
রিযক তার বহুবচন হয় আরযাকুন। রিযক ঐ দানকৃত জিনিষকে বলা
হয়,যাদ্বারা মানুষ উপকৃত হয়।ঐ দানকৃত জিনিষ ব্যবসার মুনাফা
বা নিজ উপার্জন বা ধনসম্পত্তি ইত্যাদি হতে পারে।
ﺃﺟﺮﻯ ﻋﻠﻴﻪ ﺭِﺯﻗًﺎ অর্থ তাকে জীবনোপকরণ দেয়া হয়েছে।
ﻗﻄﻊ ﺭﺯﻕَ ﻓﻼﻥ অর্থ হলো, তার জীবনোপকরণ কে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। সূত্র: আল-লুগাতুল
আরাবিয়্যাতুল মু'আসিরাহ
ﺭِﺯْﻕُ ـ ﺭِﺯْﻕُ : ﻣﺎ ﻳُﻨْﺘَﻔَﻊُ ﺑﻪ ، (ﺍﻟﻤﻌﺠﻢ ﺍﻟﻘﺎﻣﻮﺱ ﺍﻟﻤﺤﻴﻂ) রিযক যা দ্বারা উপকৃত হওয়া
যায়। সূত্র: আল-কামূসুল মুহিত
ﺭﺯﻕ : ﻣﺎ
ﻳﻨﺘﻔﻊ ﺑﻪ ﻣﻦ ﻣﺎﻝ ﺃﻭ ﺯﺭﻉ ﺃﻭ ﻏﻴﺮﻫﻤﺎ (ﺍﻟﻤﻌﺠﻢ ﺍﻟﺮﺍﺋﺪ) ধনসম্পত্তি, শস্যক্ষেত্র ইত্যাদি দ্বারা যে উপকৃত হওয়া যায় তাকেই রিযক বলে। সূত্র:
আল-মু'জামুর রায়িদ
ﻭﺍﻷَﺭﺯﺍﻕُ
ﻧﻮﻋﺎﻥِ : ﻇﺎﻫﺮﺓ ﻟﻸَﺑﺪﺍﻥ ﻛﺎﻷَﻗْﻮﺍﺕ ، ﻭﺑﺎﻃﻨﺔ ﻟﻠﻘﻠﻮﺏ ﻭﺍﻟﻨُّﻔﻮﺱ ﻛﺎﻟﻤَﻌﺎﺭِﻑ ﻭﺍﻟﻌﻠﻮﻡ ؛
রিজিক দুই প্রকার যথাঃ-(১)প্রকাশ্য রিজিক যা শরীরকে
প্রদান করা হয়,যেমন খাদ্য।(২) অপ্রকাশ্য রিজিক যা রুহকে
প্রদান করা হয়, যেমন আল্লাহর মা'রেফত,
জ্ঞানবিজ্ঞান ইত্যাদি। লেসানুল আরব
ক। টাকা, পয়সা, অর্থ এবং সম্পদ রিজিক হওয়ার দলিল:
الَّذِیۡنَ
یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡغَیۡبِ وَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ مِمَّا رَزَقۡنٰهُمۡ
یُنۡفِقُوۡنَ ۙ
অর্থ: গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম
করে এবং আমি তাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। সূরা বাকারা-০৩
یٰۤاَیُّهَا الرُّسُلُ کُلُوۡا مِنَ الطَّیِّبٰتِ وَ اعۡمَلُوۡا صَالِحًا
ؕ اِنِّیۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِیۡمٌ
‘হে রাসুলগণ! তোমরা হালাল পবিত্র উত্তম রিজিক
খাও আর সৎকর্ম করো। সূরা মুমিনুন-৫১
খ। শারীরিক এবং মানসিক
সুস্থতা রিজিক হওয়ার দলিল:
আরবি হাদিস عَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ الله عَنهُمَا، قَالَ : قَالَ رَسُولُ الله ﷺ: «نِعْمَتَانِ مَغبونٌ فِيهِمَا كَثيرٌ مِنَ النَّاسِ : الصِّحَّةُ، وَالفَرَاغُ». رواه البخاري
অর্থ: ইবনে আব্বাস রা. থেকে
বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এমন দুটি নিয়ামত আছে, বহু মানুষ সে দুটির ব্যাপারে ধোঁকায় আছে। (তা হল) সুস্থতা ও অবসর। বুখারি৬৪১২,
তিরমিযি ২৩০৪, ইবন মাজাহ ৪১৭০, আহমদ ২৩৩৬, ৩১৯৭, দারেমি ২৭০৭
নোট: উপরোক্ত হাদিসে সুস্থতাকে নেয়ামত/অনুগ্রহ বলেছেন। আর
পবিত্র কুরআনে আল্লাহর অনুগ্রহকেও রিজক বলা হয়েছে। যেমন,
فَإِذَا
قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ
وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজক) তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। সূরা জুমাআ-১০
মুফাসসিরে কেরামগণ, এখানে অনুগ্রহ বলতে রিজিক বলেছেন।
গ। পুণ্যবান স্ত্রী এবং পরিশুদ্ধ নেক
সন্তান রিজিক হওয়ার দলিল:
الدُّنيا متاعٌ وخيرُ متاعِها المرأةُ الصَّالحةِ
الراوي
: [عبدالله بن عمرو] |
المحدث : الزرقاني | المصدر : مختصر المقاصد | الصفحة أو
الرقم : 466 | خلاصة حكم المحدث
: صحيح | التخريج : أخرجه مسلم (1467)
অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ
(ﷺ) ইরশাদ করেছেন, দুনিয়া পরোটা হলো উপভোগের বস্তু। আর পার্থিব জগতের সর্বোত্তম
সম্পদ (উপভোগের বস্তু) সতী-সাধ্বী নারী। সহিহ মুসলিম, হাদিস
: ১৪৬৭; মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৫৬৭;
সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৪০৩১
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
অর্থ : হে আমার প্রভু! আমাকে এক সৎপুত্র দান করুন। সূরা সাফফাত-১০০
নোট:
نْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنهُ عَمَلُهُ
إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ
بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে
বর্ণিত, আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেন, আদম সন্তান মারা গেলে তার সমস্ত আমল
বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অবশ্য তিনটি আমল বিচ্ছিন্ন হয় না;
সদকাহ জা-রিয়াহ (ইষ্টাপূর্ত কর্ম), উপকারী ইলম,
অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দুআ করে থাকে। মুসলিম ৪৩১০, আবূ দাঊদ ২৮৮২
আমরা রিজকের সংজ্ঞা
জেনেছি যে, যা দ্বারা উপকৃত যায়। মৃত্যুর পরও নেক সন্তানের দুআ দ্বারা পিতা-মাতা উপকৃত হচ্ছে। সুতরাং সন্তান সন্তান (নেককার)
শ্রেষ্ঠ রিজকের অন্তর্ভুক্ত।
ঘ। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি রিজিক
হওয়ার দলিল:
أَنَّ عُمَرَ
رَضِيَ اللَّهُ عنْه قالَ:
اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي شَهَادَةً
في سَبيلِكَ، واجْعَلْ مَوْتي في بَلَدِ رَسولِكَ صَلَّى اللهُ عليه وسلَّمَ.
الراوي
: أسلم مولى عمر
بن الخطاب |
المحدث : البخاري | المصدر : صحيح البخاري | الصفحة أو
الرقم : 1890 | خلاصة حكم المحدث
: [صحيح]
অরথ: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার পথে শাহাদাত নসিব করো। বুখারি-১৮৯০
নোট: এই হাদিস শরিফে রিজিক শব্দটি দান করো অর্থে ব্যবহার হয়েছে অর্থাৎ আল্লাহর
সন্তষ্টি (শহীদি মৃত্যু) কামনা করা
হয়েছে। আর জীবন-মরণ
সবই তো আল্লাহর সমীপে-নিমিত্তে। দলিল:
قُلْ إِنَّ صَلَاتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
অর্থ: নিশ্চয়ই, আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার জীবন এবং আমার মরণ বিশ্বজগতের
প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সূরা আনআম-১৬২
আসলাফের আমল:
হাকিমুল উম্মত
মুজাদ্দিদুল মিল্লাত শাহ আশরাফ থানভি রহ. বলেন, টাকা হলো সবচেয়ে বড় রিজিক। কারণ
টাকা হলে সবই পাওয়া যায়। (সমস্ত খাদ্য, দ্রব্য টাকার বিনিময়ে পাওয়া যায় কিন্তু দ্রব্রের/মালের
বিনিময়ে সব কিছু পাওয়া যায় না)। তাই আমি কখনও টাকা বাম হাতে গ্রহণ (লেনদেন) করি
না।
والله اعلم بالصواب
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله و اصحابه و جميع
المؤمن وسلم
وتسليما
আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো:
আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
|
জিপিএফ ফান্ড এর টাকা কি হারাম কি |
জিজ্ঞাসা-১৯১: আসসালামু আলাইকুম। আমি আরটি মোঃ তাজুল
ইসলাম আলীকদম বান্দরবান। আমার প্রশ্ন হল জিপি ফান্ডের জমাকৃত টাকার যে সুদ দেয় তা ভোগ
করা আমাদের জন্য বৈধ কি না?
(সম্মানিত শায়েখ আরটি মোঃ তাজুল ইসলাম আলীকদম বান্দরবান।–এর প্রশ্নের আলোকে। আল্লাহ তাআলা তাকে নিরাপদে ও শান্তিতে
রাখুন। )
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। এটি একটি বহুল আলোচিত প্রশ্ন। তবুও আপনার সওয়ালের মাধ্যমে নতুন করে জানার সুযোগ হলো। ইতিপর্বে আমার শ্রদ্ধাভাজন
স্যার মুহতারাম ওলিউল্লাহ হাফিজাহুল্লাহু তাআলা এবং আমার সম্মানিত বড় ভাই
মুহাক্কিক আলেম আখতারুজ্জামান হাফিজাহুল্লাহু তাআলা ইজমালি উত্তর দিয়েছেন। যেহেতু
আল বুরহানের সব মাসয়ালায় সংরক্ষণ হচ্ছে এবং ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে, তাই একটু তাফসিলান ও দলিলান হওয়া বাঞ্চনিয়।
প্রথমে আমরা প্রভিডেন্ট ফান্ড-এর প্রকার জানবো।
১। প্রভিডেন্ট ফান্ড-এর প্রকারভেদ: প্রভিডেন্ট ফান্ড দুই ধরনের আছে,
ক। বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ড
খ। সেচ্ছাপ্রনোদিত প্রভিডেন্ট ফান্ড
২। বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ড-এর হুকুম:
বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডে কর্মচারির বেতনের নির্দিষ্ট একটি অংশ
কেটে রাখা হয়; যাতে তার কোন ইখতিয়ার নেই। সরকার বাধ্যতামূলক
ভাবে নিজস্ব রুল বা নিয়ম অনুযায়ীক কর্মচারীর নামে তার তহবিলে জমা রাখে। এ ফান্ডে
তিনটি অংশ থাকে
(ক)মূলবেতন থেকে কর্তিত নির্দিষ্ট অংশ
(খ)সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে বর্ধিত অংশ
(গ) উপরোক্ত অংশ দু’টির উপর বছরান্তে শতকরা হারে বর্ধিত অংশ
এ ক্ষেত্রে এই তিন প্রকার টাকার হুকুম এক। সূদের নামে যা দেয়া হয়,
এগুলো মূলত সূদ নয়। বরং কর্মচারীর বেতনেরই অংশ। সুতরাং এগুলো
গ্রহণকরা ও নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করা সবই বৈধ।
৩। সেচ্ছাপ্রনোদিত প্রভিডেন্ট ফান্ড-এর হুকুম:
আর সেচ্ছায় যে প্রভিদেন্ট ফান্ড গ্রহণ করা হয়; তাতে সূদ হিসেবে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। ( সরকারি চাকরিজীবীদের ১৯৭৯-এর ৯(১) (বি) সংশোধিত ধারায়- মূল বেতনের ৫% বাধ্যতামূলক। সর্বোচ্চ
২৫% পর্যন্ত জমা করা যায়।) ৫% এর বেশি জমা/কাটা যাবে না, তা
হারাম। ইতিপূর্বে কেউ বেশি কেটে থাকে, তাহলে সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া লভ্যাংশ দান করে দিতে হবে।
শরয়ী দলীল
في الدرالمختارمع ردالمحتار: (ج7 ص398-401) باب الربا :هو لغة: مطلق الزيادة، وشرعا:
(فضل)
ولو حكما فدخل ربا
النسيئة والبيوع الفاسدة فكلها من الربا فيجب رد عين الربا قائما لا رد ضمانه،
لانه يملك بالقبض. قنية وبحر (خال عن عوض)خرج مسألة صرف الجنس بخلاف جنسه (بمعيار شرعي)
وهو الكيل والوزن
فليس الذرع والعد بربا(مشروط) ذلك الفضل (لاحد المتعاقدين)
أي بائع أو مشتر
فلو شرط لغيرهما فليس بربا بل بيعا فاسدا (في المعاوضة)
فليس الفضل في
الهبة بربا
وفي فتاوى عثماني: (ج3ص308) جبری اور اختيارى دونوں كا حكم
یہی ہے ۔ البتہ جو رقم اپنے اختيار سے کٹوائی گئی ہو اس پر ملنے والى زيادتى كو
احطياطا صدقہ كردیں تو بہتر ہے۔
প্রামাণ্য গ্রন্থাবলীঃ
১। আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া শামী
সংলগ্ন-৭/৩৯৮-৪০১
২। ফাতাওয়া উসমানী ৩/৩০৮
৩। ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/১৪৮
৪। জাওয়াহিরুল ফিক্বহ ৩/২৫৮
তথ্যসহযোগিতায়: ইমেইল-jamiatulasad@gmail.com
والله اعلم بالصواب
(আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।)
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله و
اصحابه و جميع المؤمن وسلم
وتسليما
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
সুদ থেকে
তওবা করার পদ্ধতি |
১২৫ নং প্রশ্ন: السلام عليكم.
জানার বিষয় : জনৈক ব্যক্তি সুদের উপর
লোন নিয়ে জমি ক্রয় করেছে, এখন পর্যন্ত লোন পরিশোধ করতে পারেনি
তবে জানতে পেরেছে কাজটি অন্যায় হয়েছে এ অবস্থায় তার করনীয় কি? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
(সম্মানিত ভাই তালেবে হক RT
12515 মোঃ মাসুম বিল্লাহ 65 INFBDE Ramu সেনানিবাস-এর প্রশ্নের
আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের জীবন দান
করুন।)
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। প্রখ্যাত আলেমে
দীন, বরিশাল দারুল আবরার মডেল কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন ওস্তাদ মুফতি
মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম (রহ.) বলেন, সমগ্র কুরআন ও হাদিসে মাত্র দুটি
জায়গায় আল্লাহ তাআলা সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা করেছেন- ১.সুদের বিরুদ্ধে যেমন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- فَإِنْ
لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا
بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ
وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ
فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا
تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ অর্থ:
‘অতঃপর যদি তোমরা সুদ পরিত্যাগ
না কর, তবে আল্লাহ ও
তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর,তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি জুলুম করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি জুলুম করবে না। সূরা বাকারা-২৭৯
২. আল্লাহর ওলিদের সঙ্গে শত্রুতা:
عَنْ أَبِي
هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
-: “إِنَّ الله عَزَّ
وَجَلَّ يَقُولُ: مَنْ
عَادَى لِي وَلِيًا
فَقَدْ آذَنتُهُ بِالْحَرْبِ، অর্থ:
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ
করেছেন: আল্লাহ আজ্জা ও জাল্লা বলেন- যে ব্যক্তি আমার
ওলির সাথে
শত্রুতা করে, আমি তার সাথে
যুদ্ধ ঘোষণা
করছি। তাখরিজ : বুখারি-৬৫০২, কিতাবুর রিফাক, বাবুল তাওয়াযু’
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ
(ﷺ) বলেছেন, اَلرِّبَا سَبْعُوْنَ جُزْءًا،
أَيْسَرُهَا أَنْ يَّنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ- সূদের
(পাপের) সত্তুরটি স্তর রয়েছে। যার নিম্নতম স্তর হল মায়ের সাথে যেনা করার পাপ।
ইবনু মাজাহ, হা/২২৭৪, সনদ ছহীহ;
মিশকাত হা/২৮২৬
আলহামদুলিল্লাহ আমাদের এক মুমিন ভাই নিজের ভুল বুঝতে
পেরেছেন। সুদ নেওয়া হারাম ও দেওয়াও হারাম। প্রশ্নের বর্ণিত ছুরতে, যেহেতু তিনি সুদ দিতে বাধ্য,
তাই অত্যন্ত ঘৃণাভরে তা দিবে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা অব্যাহত
রাখবে আর ভবিষতে তা থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবে।
والله اعلم بالصواب
(আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।)
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله و
اصحابه و جميع المؤمن وسلم
وتسليما
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
জীবের ছবি বা কাঠে খোদাই করে ঘরে অথবা ঘরের |
জিজ্ঞাসা: ১২৬- আল-বুরহান সকল সদস্যদের আমার ছালাম।
আসসালামুআলাইকুম আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। পর জরুরি
জানা প্রয়োজন যে কোন জীবের ছবি বা কাঠে খোদাই করে ঘরে অথবা ঘরের যে কোন স্থানে রাখার ব্যাপারটা কুরআন ও সুননার বিধান
কি?
(সম্মানিত শায়েখ, সত্যান্বেষণ আলেম ব্যান এমপি-১৭ আরটি নেছার কঙ্গো -এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে বিদেশের মাটিতে শান্তিতে ও নিরাপদে
রাখুন।)
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। বড় পরিতাপ ও
আফসোস! আজ মুসলিমদের
অনেকে এ ধারণা করে যে, জাহেলিয়াত যমানায় যে সমস্ত
মূর্তি তৈরি করা হত একমাত্র ঐগুলোই হারাম। এতে বর্তমান যামানার আধুনিক প্লাস্টিক/কাঠের মূর্তি ছবি অর্ন্তভুক্ত নয়। নিম্নে ছবির ভয়াবহার কয়েকটি হাদিস তুলে ধরছি:
হাদিস নং-০১
عَنْ أَبِي طَلْحَةَ ـ رضى الله عنهم ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ (ﷺ) " لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ
بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ تَصَاوِيرُ - رواه البخارى
আবু তলহা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি (ﷺ)
বলেছেন, ফিরিশতা ঐ ঘরে প্রবেশ করে না,
যে ঘরে কুকুর থাকে এবং ঐ ঘরেও না, যে ঘরে ছবি
থাকে। বুখারি-৫৯৪৯ কিতাবুল লিবাস; মুসলিম-২১০৬; মিশকাত-৪২৯০
হাদিস নং-০২
«أَنَّهَا اشْتَرَتْ نُمْرُقَةً
فِيهَا تَصَاوِيرُ، فَلَمَّا
رَآهَا رَسُولُ اللَّهِ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ قَامَ عَلَى
البَابِ فَلَمْ يَدْخُلْ،
فَعَرَفَتْ فِي وَجْهِهِ
الكَرَاهِيَةَ، قَالَتْ: يَا
رَسُولَ اللَّهِ، أَتُوبُ
إِلَى اللَّهِ وَإِلَى
رَسُولِهِ، مَاذَا أَذْنَبْتُ؟ قَالَ: «مَا بَالُ
هَذِهِ النُّمْرُقَةِ» فَقَالَتْ: اشْتَرَيْتُهَا لِتَقْعُدَ
عَلَيْهَا وَتَوَسَّدَهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ: " إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ
القِيَامَةِ، وَيُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ " وَقَالَ: «إِنَّ البَيْتَ الَّذِي
فِيهِ الصُّوَرُ لاَ
تَدْخُلُهُ المَلاَئِكَةُ»
“আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা একটি ছোট বালিশ ক্রয়
করেছিলেন। তাতে ছবি আঁকা ছিল। ঘরে প্রবেশের সময় রাসূল (ﷺ)এর দৃষ্টি এতে পতিত হলে তিনি আর
ঘরে প্রবেশ করলেন না। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তাঁর মুখমণ্ডল দেখেই তা বুঝতে পারলেন। তিনি বললেন: আমি
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট তাওবা করছি। আমি কি গোনাহ করেছি? রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন: এ ছোট
বালিশটি কোথায় পেলে? তিনি বললেন: আমি এটা এ জন্য খরিদ করেছি
যাতে আপনি এতে হেলান দিয়ে বিশ্রাম করতে পারেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন: যারা এ সমস্ত ছবি
অংকন করেছে কিয়ামতের মাঠে তাদেরকে ‘আযাব দেওয়া হবে। তাদের বলা হবে: তোমরা যাদের সৃষ্টি করেছিলে
তাদের জীবিত কর। অতঃপর তিনি বললেন: যে ঘরে ছবি আছে সে ঘরে ফিরিশতাগণ প্রবেশ করেন
না।” বুখারী-৫৯৬১
হাদিস নং-০৩
«أشَدُّ النَّاسِ عَذابًا
يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِيْنِ
يُضَاهُوْنَ بِخَلْقِ اللهِ».
“কিয়ামতের মাঠে ঐ সমস্ত লোকেরা (যারা ছবি আঁকে তারা আল্লাহর সৃষ্টির
মতোই কিছু করতে উদ্যত হয়।) সবচেয়ে বেশি ‘আযাব ভোগ করবে যারা আল্লাহর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি
করে।” বুখারী-৫৯৫৪; সহীহ
মুসলিম-২১০৭।
হাদিস নং-০৪
عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
الَّذِينَ يُضَاهُونَ بِخلق الله»
আয়িশা (রা) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন আযাব ভোগ করবে এমন সব লোক যারা আল্লাহর
সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যতা করে। তাখরিজ: বুখারী ৫৯৫৪, ৬১০৯;
মুসলিম (২১০৭)-৯১, নাসায়ী ৫৩৫৬, সহীহুল জামি২২০৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩০৫৩,
মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ১৯৪৮৪, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫২০
হাদিস নং-০৫
«أنَّ النَّبيَّ صلي
الله عليه وسلم
لَمَّا رأي الصُّوَرَ
في البيتِ لَمْ
يَدْخُلْ حتّي مُحِيَتْ».
“রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোনো ঘরে ছবি দেখলে, তা সরিয়ে না ফেলা পর্যন্ত ঐ ঘরে প্রবেশ করতেন না।” বুখারী-৩৩৫২
হাদিস নং-০৬
«نَهَى
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
عَنِ الصُّورَةِ فِي
البَيْتِ، وَنَهَى عَنْ
أَنْ يُصْنَعَ ذَلِكَ»
“রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাড়ীতে ছবি ঝুলাতে নিষেধ
করেছেন আর অন্যদের তা আঁকতে কিংবা তোলতে নিষেধ করেছেন।” তিরমিযী-১৭৪৯
হাদিস নং-০৭
وَعَن ابنِ عبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أصبحَ يَوْمًا واجماً وَقَالَ: «إِنَّ جِبْرِيلَ كَانَ وَعَدَنِي أَنْ يَلْقَانِيَ اللَّيْلَةَ
فَلَمْ يَلْقَنِي أَمَ وَاللَّهِ مَا أَخْلَفَنِي» . ثُمَّ وَقَعَ فِي نَفْسِهِ جِرْوُ كَلْبٍ تَحْتَ فُسْطَاطٍ لَهُ
فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ ثُمَّ أَخَذَ بيدِه مَاء فنضحَ مَكَانَهُ فَلَمَّا
أَمْسَى لقِيه جِبْرِيلَ فَقَالَ: «لَقَدْ كُنْتَ وَعَدْتَنِي أَنْ تَلْقَانِي الْبَارِحَةَ» . قَالَ: أَجَلْ وَلَكِنَّا لَا نَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلَا صُورَةٌ
فَأَصْبَحَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَئِذٍ
فَأَمَرَ بِقَتْلِ الْكلاب حَتَّى إِنه يَأْمر بقتل الْكَلْب الْحَائِطِ
الصَّغِيرِ وَيَتْرُكُ كَلْبَ الْحَائِطِ الْكَبِيرِ. رَوَاهُ مُسلم
’আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) মায়মূনাহ্
(রা.) হতে বর্ণনা করেন। একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) চিন্তিত অবস্থায় ভোর করলেন
এবং বললেনঃ জিবরীল (আ.) এ রাত্রে আমার সাথে সাক্ষাৎ করবেন বলে ওয়া’দা করেছিলেন, কিন্তু সাক্ষাৎ করেননি। আল্লাহর কসম!
তিনি তো কখনো আমার সাথে কথা দিয়ে খেলাফ করেননি। অতঃপর তাঁর মনে পড়ল ঐ কুকুর
ছানাটির কথা, যা তাঁর তাঁবুর নিচে ছিল। তখনই তিনি তাকে ঐখান
থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তাকে বের করে দেয়া হলো। অতঃপর কুকুরটি যে
জায়গায় বসা ছিল, তিনি সে জায়গায় কিছু পানি নিজ হাতে নিয়ে
ছিটিয়ে দিলেন। পরে যখন বিকাল হলো জিবরীল (আ.) তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তখন তিনি (ﷺ) বললেনঃ গত রাত্রে আপনি আমার
সাথে সাক্ষাৎ করার ওয়া’দা করেছিলেন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ,
কিন্তু আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না যে ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে। পরের
দিন সকালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সমস্ত কুকুর মেরে ফেলার জন্য নির্দেশ দিলেন। এমনকি ছোট ছোট বাগানের
কুকুরগুলোকেও মারার হুকুম দিলেন তবে বড় বড় বাগানের কুকুরগুলোকে ছেড়ে দেন। তাখরিজ:
সহীহ : মুসলিম-২১০৫ সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৬৪৯,
আবূ দাঊদ ৪১৫৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিল
বায়হাক্বী ৪৪১৮, আল মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৯৪৭৭,
নাসায়ী ৪২৭৬, ইবনু মাজাহ ৩৬৫১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩১০৩, আহমাদ ২৬৮০০,
মুসনাদে আবূ ইয়ালা ৭০৯৩
আসার নং-০১
باب الصلاة في البيعة
وقال عمر رضي الله عنه: «إنا لا ندخلكنائسكم من أجل التماثيل التي فيها الصور» وكان ابن عباس: «يصلي في البيعة إلا بيعةفيها تماثيل»
'হযরত উমর (রা.)বর্ণনা করেন যে,তিনি
খ্রিস্টানদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন: 'আমি তোমাদের উপাশনালয়ে
ওইসব প্রতিমার কারণে প্রবেশ করি না,যা প্রকৃত অর্থে ফটো।
ইবনে আব্বাস (রা.)বিধর্মীদের উপাশনালয়ে ও নামায পড়তেন,তবে যেখানে ফটো থাকত সেখানে পড়তেন না' সহীহ বুখারী-৪৩৪
আসার
নং-২
عن أسلم : " أن عمر حين قدم الشام صنع له رجل من النصارى طعاما وقال
لعمر : إني أحب أن تجيئني وتكرمني أنت
وأصحابك - وهو رجل من عظماء النصارى - فقال عمر : " إنا لا ندخل كنائسكم من أجل الصور التي فيها يعني التماثيل " صححه الألباني في "آداب الزفاف"
(ص)92
হযরত উমর (রা.)যখন সিরিয়া আগমন করেন, তখন
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি তাঁর জন্য খাবার প্রস্তুত করেন। লোকটি খ্রিস্টান
সম্পদায়ের অভিজাত শ্রেণীর ছিলেন। লোকটি হযরত উমর (রা.)এর কাছে আরজ করলেন,
আমার আশা হল, আপনি আমার এখানে তাশরীফ এনে
কৃতার্থ করবেন।হযরত উমর (রা.) লোকটির উদ্দেশ্যে বললেন, আমি
তোমাদের উপাশনালয়ে ওইসব প্রতিমা অর্থাৎ ফটোর কারণে প্রবেশ করি না, যেগুলো সেখানে স্থাপিত আছে। মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক-1611
আসার-০৩
عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي
ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، أَنَّ عَلِيًّا قَالَ لِأَبِي الهَيَّاجِ
الأَسَدِيِّ: أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي
بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَنْ لَا تَدَعَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ،
وَلَا تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ
হযরত আলী (রা.) আবুল হাইয়্যাজ আসাদী (রা.) কে (কোথাও)প্রেরণের
সময় তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কাজের প্রতি
উৎসাহিত করব না, যে কাজের প্রতি রাসূলে কারীম (ﷺ) আমাকে উৎসাহিত করেছেন? আর তা হল কোনো ফটো না
মিটিয়ে তা হাতছাড়া করবে না। ' তিরমিযী-১০৪৯, আবু-দাউদ-৩২২৮
আসারনং-০৪.
وَرَأَى أَبُو مَسْعُودٍ،
صُورَةً فِي البَيْتِ فَرَجَعَ
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ ( রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে,
তিনি কোনো ঘরে ফটো দেখতে পেয়ে ফেরত চলে আসলেন। '(ঘরের ভেতরে তিনি প্রবেশ করেন নাই।) সহীহ বুখারী শরীফ-৭/২৫
উপরোক্ত হাদিস ও আসারগুলোর সারংশ:
(ক) উপরোল্লিখিত হাদীস এবং সাহাবায়ে কিরাম
ও তাবেয়ীনদের বর্ণনার কারণে জুমহুর ফুকহায়ে কিরাম ফটো বানানো এবং তা ঘরে টানানো
হারাম হিসাবে অাখ্যায়িত করেছন। সেইসব ছবি ভাস্কর্য তা চিএের আকৃতিতে হোক কিংবা
ভাস্কর্যহীন বা চিএহীন যে কোনো আকৃতিতেই হোক না কেন। মুসলিম শরীফের প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাকার
আল্লামা নববী ( রহ.) ১নং হাদীসেরর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন :
قال أصحابنا وغيرهم من العلماء
تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم ----------------ومالاظل له هذا تلخيص مذهبنا في
المسألة وبمعناه قال جماهير العلماء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم وهو مذهب
الثوري ومالك وأبي حنيفة وغيرهم
আমাদের সাথীবর্গ এবং অন্যান্য উলামায়ে কিরামের অভিমত হল যে,প্রাণীর ফটো বানানো চূড়ান্ত পর্যায়ের একটি কঠিন হারাম কাজ। এটি গুনাহের
কবীরার অন্তুর্ভুুক্ত।-----------।
আল্লামা আইনী ( রহ.) ' উমদাতুল কারী' গ্রন্থে
এজাতীয় অভিমতের কথাই উল্লেখ করেছেন।দেখুন উমদাতুল কারী; খণ্ড-১০,
পৃষ্ঠা-৩০৯
(খ) আমাদের প্রিয় নবি (ﷺ) ছবি, মূর্তি ভেঙ্গেছেন আর আমরা তা সংরক্ষণ করছি।
(গ) ৭ নং হাদিস সর্বশ্রেষ্ঠ নবির সাথে সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতার ওয়াদা কখনও খেলাফ
হবার কথা নয়, কিন্তু কুকুর বা ছবির কারণে ওয়াদা রক্ষা হয়নি।
(ঘ) ১ নং ও ৭ নং হাদিস দ্বারা জানা গেল ছবি/মূতি থাকলে
রহমতের ফেরেশতারা ঐ ঘরে প্রবেশ করে না। সুতরাং কোন মুসলিমের প্রাণীর ছবি না রাখা
কি রহমতের কাজ, বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখলাম?
(ঙ) ছবির বিরুদ্ধে এত তায়িদ বা হুশিয়ারি
আসার পরও আমাদের অন্তর কাপলো না? لَمۡ یَاۡنِ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا
اَنۡ تَخۡشَعَ قُلُوۡبُهُمۡ لِذِکۡرِ اللّٰهِ وَ مَا نَزَلَ مِنَ الۡحَقِّ ۙ অর্থ:
যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে (ভয়ে) এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হুদয় বিগলিত/প্রকম্পিত হওয়ার সময় আসেনি?
সূরা হাদিদ-১৬
(ছ) বর্তমানের সহিহ হাদিসের উপর আমলের খুব জোরদার দেওয়া হচ্ছে, সহিহ বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠছে, তাদের কাছে প্রশ্ন
উপরোক্ত সহিহ হাদিসগুলো কি চোখে পড়েনি?
(জ) মুসলিম ভাইদের কাছে আমার অনুরোধ আমরা অনেকে গায়ের জোরে ঢালাওভাবে ছবি তোলা,
সংরক্ষণ করা জায়েজ বলছি, কিয়ামতের মাঠে
আল্লাহর কাছে জায়েজ (ধমকমূলক হাদিস জানার পরও) বলার/জবাব
দিতে সাহস আছে তো?
হে আমার জাতি! আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত নির্ভরযোগ্য দরদী বন্ধু; কল্যাণকামী।(
অতত্রব, বুঝার কিছু থাকল বুঝ! করার কিছু থাকলে কর,শয়তানের ধোঁকায় পরো না।)
প্রশ্ন: ক। কোন
আকা/তোলা/সংরক্ষণ জায়েজ ?
উত্তর: ক। গাছপালা, চন্দ্র, তারকা,
পাহাড় পর্বত, পাথর, সাগর,
নদনদী, সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য, পবিত্র স্থানের ছবি যেমন কাবাঘর মদীনা শরীফ, বাইতুল
মোকাদ্দাস, বা অন্যান্য মসজিদের ছবি ইত্যাদি অর্থাৎ প্রাণহীন বস্তুর ছবি। দলিল:
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন,
যদি তোমাকে একান্তই ছবি তৈরি
করতে হয়, তাহলে গাছ-গাছড়া এবং
এমন জিনিসের ছবি তৈরি কর যার মধ্যে প্রাণ নেই । বুখারি, মুসলিম,
মিশকাত-৪২৯৯
প্রশ্ন: খ। চাকরি, ব্যবসা, হজের জন্য পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য ছবি
উঠানো যাবে কি ?
উত্তর: খ। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ছবি তোলা
জায়েজ নয়। সুতরাং কেউ চাকরি, ব্যবসা, পরিচয় পত্রের জন্য ছবি উঠানো
বাধ্য হলে তার অবকাশ আছে। সূত্র: আল আশবাহ ওয়ান-নাযায়ের-৮৫,কিফায়াতুল মুফতি ৯/২৪৪-২৪৫
বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন- ফাতাওয়ায়ে মাদানিয়া ২য় খণ্ড; ২০৬-২১৫ পৃষ্ঠা, আল্লামা মাহমুদুল হাসান দা.বা. এর কিতাব, ইসলামের আলোকে
ফটোর বিধান মজলিসে এলম, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, ডিজিটাল ছবি ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়া সম্পর্কে
ইসলামের বিধান- মুফতি ইহসানুল্লাহ শায়েক, মাকতাবাতুল আযহার, মোবা.০১৯২৪-০৭৬৩৬৫, ফতোয়ায়ে উসমানি-মুফতি
তকি উসমানি দা.বা.-বইঘর প্রকাশনী-০১৭১১-৭১১৪০৯
প্রশ্ন: গ। ধরুন, আমি
কোন ছবিযুক্ত জিনিস কিনেছি এখন বাঁচার কোন পদ্ধতি আছে কি?
উত্তর: গ। হ্যাঁ, পদ্ধতি হলো, ছবির মাথা যদি কেটে দেয়া হয় তবে
তা ব্যবহার করার অনুমতি আছে। কারণ, ছবির মূল হলো মাথা। তাই
যদি ছেদ করে দেয়া হয় তবে আর রুহ থাকল না। তখন তা জড় পদার্থের পর্যায়ে পড়ে। দলিল:
এ সম্বন্ধে জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলেন:
«مُر برأسِ التِّمْثَالِ
يَقْطَعُ فَيَصِيْرُ عَلي
هَيئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ
بِالسَّتْرِ فلْيَقْطَعْ فليَجْعَلْ
مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ تَوطأنِ».
“আপনি মূর্তির মাথা কেটে দিতে বলেন, ফলে উহা গাছের মত কিছু একটাতে পরিবর্তিত
হবে। আর পর্দার কাপড়কে দু’টুকরা করে তা দ্বারা দু’টি বালিশ বানাতে বলেন।” আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৪১৫৮
নোট: ছবি বিষয়ে আরও অনেক কথা আছে আজকে এখানেই শেষ
করছি। আল্লাহ চাহে তো পরে আরও আলোচনা হবে।
পরিশিষ্ট: আপনার প্রশ্নের বর্ণিত ছুরতে কোন জীবের ছবি বা কাঠে খোদাই করে ঘরে অথবা ঘরের যে কোন স্থানে রাখা জায়েজ হবে না। সূত্র: শরহুল উমদাহ:খণ্ড-১,পৃষ্ঠা-১৭৬
والله اعلم بالصواب
(আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।)
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله و
اصحابه و جميع المؤمن وسلم
وتسليما
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
স্বামী-স্ত্রী
কুরআন দ্বারা কসম করে কেহ কারও কাছে যাবে না |
জিজ্ঞাসা:১২৭- আসসালামু 'আলাইকুম
আমার জানার বিষয় হলো, "স্বামী-স্ত্রী ঝগড়ার একপর্যায়ে
পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে স্বামী বললো, আমি আজ থেকে তোমার সাথে কোনো
সম্পর্ক রাখবো না ; স্ত্রীও অনুরূপ বললো" এখন করনীয় কী দয়া করে
জানালে ভালো হয়।
(সম্মানিত ভাই ও দোস্ত শরিফ ইনসান (ভদ্র
প্রকৃতির মানুষ) আরটি-
১২৪৯৫ মোঃ সাইফুল ইসলাম, ৯১ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্স, সিলেট
সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের জীবন দান করুন।)
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আপনার
প্রশ্নকে বুঝার জন্য কয়েকভাগে ভাগ করেছি।
প্রশ্ন: ক।
কুরআন দ্বারা শপথ করলে শপথ হবে কি না?
উত্তর: ক।
আল্লাহ নাম ছাড়া অন্য কারাও নামে শপথ করলে শপথ ধর্তব্য হবে/কার্যকর হবে না। তবে পবিত্র কুরআন নিয়ে কসম করলে কসম হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্র: আহসানুল
ফাতাওয়া - ৫/৪৮৮
সুতরাং আপনার
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে কসম কার্যকর হবে। আর অন্যায় কিছু শপথ করলে তা ভাঙ্গা
জরুরি অর্থাৎ শপথের চেয়ে উত্তম কাজ হলে, শপথ ভাঙ্গবে। দলিল:
• عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِ الَّذِى هُوَ خَيْرٌ وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ • হযরত আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি
কোন কিছুর কসম খায়, তারপর এর বিপরীত কাজে কল্যাণ দেখে,
তাহলে সে যেন উক্ত কল্যাণধর্মী কাজটি করে এবং স্বীয় কসমের কাফফারা
প্রদান করে। -সহীহ মুসলিম-৪৩৬২, সহীহ
ইবনে হিব্বান-৪৩৫২,৪৩৪৭, মুসনাদে আবী
আওয়ানা-৫৯৩১, মুসনাদে আহমদ-১৮২৫১, মুসনাদুশ
শিহাব-৫১৬, সহীহ
বুখারী-৬২৪৭
এখন স্বামী-স্ত্রী স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখলে কাফফারা
আদায় করা ওয়াজিব।
প্রশ্ন: খ। কাফফারার পদ্ধতি কি?
উত্তর: খ। কাফফারার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُّمُ الْأَيْمَانَ ۖ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ ۖ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ۚ ذَٰلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ ۚ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ • আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন
না তোমাদের অনর্থক শপথের জন্যে; কিন্তু পাকড়াও করেন ঐ শপথের
জন্যে যা তোমরা মজবুত করে বাধ। অতএব, এর কাফফরা এই যে,
দশজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করবে; মধ্যম
শ্রেনীর খাদ্য যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে দিয়ে থাক। অথবা, তাদেরকে
বস্তু প্রদান করবে অথবা, একজন ক্রীতদাস কিংবা দাসী মুক্ত করে
দিবে। যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোযা রাখবে।
এটা কাফফরা তোমাদের শপথের, যখন শপথ করবে। তোমরা স্বীয়
শপথসমূহ রক্ষা কর এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন,
যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। -সূরা
মায়িদা-৮৯
উক্ত আয়াতে কারিমার ভিত্তিতে, কসম ভঙ্গ করার পরই কাফফারা আদায় করতে হবে ( কসম
ভাঙ্গার আগে কাফফারা দিলে হবে না)। কাফফারার দুই পদ্ধতি : (এক) ১০ মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরিয়ে
খানা খাওয়ানো।
(দুই) ১০ মিসকিনকে ১০ সেট পোশাক প্রদান করা। এ দুটির যেকোনোটি
বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে। এর কোনোটিতেই সক্ষম না হলে ধারাবাহিক তিনটি রোজা রেখেও
কাফফারা আদায় করতে পারে। সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮৯, দুররুল মুখতার : ৩/৭২৫
প্রশ্ন: গ। উপরোক্ত শপথদ্বয় দ্বারা তালেকে কিনায়া পতিত
হবে কি না?
উত্তর: গ। ইসলামি শরিয়তে খুলা তালাক ব্যতিত স্ত্রীদের
তালাকের অধিকার নেই। তবে স্বামী শপথ
দ্বারা নির্ভরযোগ্য ফাতাওয়া গ্রন্থ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
قال لها لا نكاح بيني وبينك أو
قال لم يبق بيني وبينك نكاح يقع الطلاق إذا نوى
স্বামী যদি তার স্ত্রীকে বলে তোমার আর আমার মধ্যকার বিয়ের কোনো
সম্পর্ক নেই।অথবা বলে যে, তোমার আর আমার মধ্যকার আর বিয়ে
নেই। তাহলে তালাক পতিত হবে যদি স্বামী তালাকের নিয়ত করে। নতুবা তালাক পতিত হবে না।
ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৭৫কিতাবুন-নাওয়াযিল-৯/৪৪৬
সুতরাং প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী এটা তালাকে কেনায়ার পর্যায়ভুক্ত হবে।
তালাকে কেনায়ার হুকুম হল,স্বামী উক্ত কথা দ্বারা তালাকের
নিয়ত করলে তালাক পতিত হবে।এক তালাকের নিয়ত করে থাকলে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে। আর
তিন তালাকের নিয়ত করে থাকলে, তিন তালাকে বায়েন পতিত হবে।
তালাকে কেনায়ায় দু তালাকের নিয়ত করা যায় না। আর যদি স্বামী তালাকের কোনো নিয়ত না করে থাকে, তাহলে কোনো তালাকই পতিত হবে
না।
নোট: তালেকে কিনায়া পতিত হবে কি
না এ বিষয়ে আরও বিজ্ঞ মুফতি কাছে জেনে
নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
আবেদন: যোহরের পর আমি একটু
শোয়ে ছিলাম, ইচ্ছা ছিল ঘুমানোর, কিন্তু
যখন সওয়ালের ম্যাসেজ দেখলাম। আর ঘুম ধরলো না। চিন্তা করলাম আমাদের সামাধানের উপর
ভাইয়েরা হয়তো অপেক্ষাই আছে। দুটি প্রাণ
মিলনের প্রহর গুনতেছে। এবং মিজান ভাইয়ের
কসর সলাতের কথাও তাড়া দিল। তাই ওঠে লেখা শুরু করলাম। সবার কাছে আবেদন আল্লাহ তাআলা
যেন সুস্থ-নিরাপদে রেখে ইখলাসের সাথে ভাইদের জিজ্ঞাসার জবাব
দিতে পারি।
والله اعلم بالصواب
(আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।)
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله و
اصحابه و جميع المؤمن وسلم
وتسليما
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
মোটিভেশন ক্লাস: সামাজিক
ও ব্যক্তি জীবনে তথ্য ও প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং তা থেকে মুক্তির উপায়।
উত্তর:
তথ্য-প্রযুক্তি কাকে বলে?
উত্তর : কম্পিউটার ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয়
তথ্য সংগ্রহ, একত্রীকরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ
এবং বিনিময়ের ব্যবস্থাকে তথ্য-প্রযুক্তি (Information Technology) বলা হয়।
২। যোগাযোগ প্রযুক্তি কাকে বলে?
উত্তর : যে প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো তথ্য এক স্থান থেকে
অন্য স্থানে কিংবা এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে স্থানান্তর কিংবা একজনের
ডাটা অন্যজনের কাছে স্থানান্তর করা হয় তাকে যোগাযোগ প্রযুক্তি (Communication Technology) বলা
হয়।
বর্তমানে পৃথিবীর ৪২.২ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের
সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। ধারণা করা হয় ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পৃথিবীর প্রায়
অর্ধেক লোক ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আসবে | বিটিআরসির (BTRC) হিসাব
অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৫ সালের আগস্টে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় চার
কোটি আট লাখ। ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি
করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের জন্মহারের চেয়েও বেশি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কুফল
অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অবাধ তথ্য প্রবাহের ফলে মানুষের নৈতিক স্থলন ঘটছে।
এর অপব্যবহারে অনেক ব্যক্তির গোপনীয়তা প্রকাশ পাচ্ছে।
অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
অবাধ তথ্য প্রবাহের ফলে চিন্তা ও গবেষণার ব্যঘাত হচ্ছে।
এর মাধ্যমে অনেক গুজব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এডিট করে ফেসবুকে বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া, ব্যক্তিগত গোপনীয় ছবি ও ভিডিও
শেয়ার, আজেবাজে কমান্ড করে হেনস্থা করা, অসৎ উদ্দেশ্যে নকল আইডি তৈরি করাসহ নানা অপব্যবহার হচ্ছে। এতে অনেকের
সামাজিক সম্মান নষ্ট হচ্ছে। সাইবার অপরাধ হলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬
(সংশোধিত ২০১৩) অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে সর্বোচ্চ
১৪ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। কোনো অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন
রেগুলেটরি কমিশনকে ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও ডাকযোগে জানানোর
সুবিধা আছে। মে মাস থেকে একটি চার ডিজিটের শর্টকোড (২৮৭২) কল সেন্টারের মাধ্যমে
চালু হয়েছে। এখন শুধু মোবাইলে সম্ভব হলেও শিগগিরই ল্যান্ডফোন, পিএসটিএন বা ফিল্ড ফোন নম্বর থেকে অভিযোগ দেওয়া-নেওয়া যাবে। মহিলা ও
শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইন সুবিধা আছে। অনেকে জানে না এসব কথা।
প্রযুক্তি নির্ভরতা এবং অনলাইন আসক্তি শিশুদের জীবনে বড়
ধরনের দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন মনো চিকিৎসকরা। জাতীয়
মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিশু কিশোর ও পারিবারিক বিদ্যা বিভাগের সহকারী
অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখান থেকে নিষিদ্ধ সাইটগুলোর সাথেও যোগাযোগ ঘটে যাচ্ছে
শিশুদের। এ ধরনের আসক্তি শিশুদের সামাজিক দক্ষতা নষ্ট করছে। শিশুদের কল্পনাশক্তি,
চিন্তা শক্তিও কমে যাচ্ছে।
প্রতিকার/মুক্তির উপায়
১। সামাজিক সচেতনতা।
যেমন: আজকাল বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডায় বসলে দেখা যায়, যে যার মতো স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত। বাস বা ট্রেনে চলার সময় অনেককেই দেখা
যায় ফেসবুকিং বা ব্রাউজিং করে দীর্ঘ সময় পার করতে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে একটা ভালো বই
পড়া যেতে পারে।
বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতে ফেসবুক সাংবাদিকতা বেড়ে যাচ্ছে।
ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। অনেকে বিভিন্ন নামে-বেনামে ফেসবুক ফেক
আইডি খুলছে এবং খারাপ তথ্য শেয়ার করছে। এসব বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
ইন্টারনেট আসক্তি থেকে রেহাই দিতে তরুণদের সমাজকল্যাণমূলক
কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া অভিভাবকরা সন্তানদের কাছে ইন্টারনেটের ভালো ও ক্ষতিকর দুটি দিক নিয়ে আলোচনা
করতে পারেন।
২। অভিভাবকদের সতর্কতা । যেমন:
শুধু অ্যান্ড্রয়েড
মোবাইল দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ না করে সন্তানদের সময় দিতে হবে। এতে তরুণ-তরুণীরা
সচেতন হবে। সমাজ, পরিবার, ব্যক্তি তথা
সবার সচেতনতাই পারে এ ধরনের সমস্যা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে।
৩। আল্লাহকে ভয় করা। যেমন:
আল্লাহর ভয়ই মানুষকে দুনিয়ার যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ থেকে
মুক্ত রাখে। আবার আল্লাহর ভয়ে অপরাধমুক্ত জীবন গঠন করা ব্যক্তিরাই সফল। এ কারণেই
মহান আল্লাহ তাআলা এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন-
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَ لَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ
‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলমান হওয়া ছাড়া মারা যেও না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১০২
৪। সম্পদ অপচয় হারামা। সামাজিক যোগাযোগ করতে হলে ইন্টারনেট প্রয়োজন হয়।
আর এর অর্থ অপচয় হয়। ইসলামে অপচয়, অপব্যয় হারাম।
মহান আল্লাহ বলেন,يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا
وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ، ‘হে আদম সন্তান!
তোমরা প্রত্যেক ছালাতের সময় সুন্দর পোষাক পরিধান কর। তোমরা খাও ও পান কর। কিন্তু
অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালবাসেন না’ (আ‘রাফ ৭/৩১)।
আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন-
إِنّ اللهَ كَرِهَ لَكُمْ ثَلاَثًا قِيلَ وَقَالَ وَإِضَاعَةَ
الْمَالِ وَكَثْرَةَ السّؤَالِ.
আল্লাহ তোমাদের জন্যে তিনটি বিষয়কে অপছন্দ করেন- ১.
অপ্রয়োজনীয় প্রসঙ্গে আলোচনা করা/না জেনে আন্দাজে কথা বলা, ২. সম্পদ নষ্ট করা, ৩. অধিক প্রশ্ন করা। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৭৭
বোঝা গেল, সম্পদ নষ্ট করা আল্লাহ তাআলার নিকট একটি ঘৃণ্য বিষয়। এ সম্পদ
যখন তিনি মানুষকে আমানত হিসেবে দিয়েছেন, তা দিয়ে তাদের
প্রয়োজন পূরণ করতে বলেছেন, তা যদি নষ্ট করা হয়, অনর্থক খরচ করা হয়, তাহলে তিনি তা অপছন্দ করবেনই।
মহান আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে সম্পদরূপী এ নিআমতের কদর অবশ্যই করতে হবে।
অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয় যে কোনো বিষয়ই ইসলাম অপছন্দ করে।
অহেতুক কথা, অহেতুক কাজ, অহেতুক ব্যয়-বর্জনীয় সবই। হাদীস শরীফের
ব্যাপক নির্দেশনা-
إِنّ مِنْ حُسْنِ إِسْلاَمِ الْمَرْءِ تَرْكَهُ مَا لاَ يَعْنِيهِ.
ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য-এর অনুসারী অনর্থক সব কিছু বর্জন
করবে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৩১৮
|
মুসাফিরের সলাত প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা: ১২৮- আসসালামু আলাইকুম। আল বুরহান এর বিজ্ঞ শায়খদের কাছে আমার একটি বিষয়
সবিনয়ে জানতে চাই। আমি আরটি ১২৫৩১ ধর্ম শিক্ষক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। আমি ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি ১২/০৫/২০২২ থেকে অদ্যাবধি আমার জানার বিষয়
হলো আমি তো জানি না আমার ডিসচার্জ কবে হবে। আজ ২৮ তম দিবস হাসপাতালে আমি মুসাফির হিসেবে
কত দিন ধর্তব্য হবে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। মাআসসালামাহ।
( সম্মানিত ভাই আরটি ১২৫৩১ ধর্ম শিক্ষক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বর্তমানে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি-এর প্রশ্নের আলোকে। করুণাময় আল্লাহ
তাকে জলদি সুস্থ করে পরিবার ও ইউনিটে যাওয়ার সুযোগ দিন।আমিন)
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আল্লাহ তাআলা তাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন। আপনার প্রশ্নকে বুঝার জন্য দুই ভাগে ভাগ করেছি।
ونسأل الله التوفيق وهو الموفق والمعين
প্রশ্না: ক। শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির কে?
উত্তর: খ। কোন ব্যক্তি ৪৮ মাইল (৭৭.২৪৬৪কিলোমিটার) বা এর বেশি সফর করার নিয়তে কেউ যদি নিজ গ্রাম
বা শহরের সীমানা অতিক্রম করে এবং সফর অবস্থায় কোনো স্থানে একসাথে ১৫ দিন
অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত মুসাফির থাকবে। কোনো স্থানে একসাথে ১৫ দিন
অবস্থানের নিয়ত করলে মুকীম গণ্য হবে এবং পূর্ণ নামায পড়তে হবে। সূত্র: শরহুল মুনয়াহ ৫৩৫, ৫৩৬,
৫৩৯ আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭, ২/৩৮৮-৩৮৯
আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮, ২/১৩১ আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১,
২/১২৪-১২৫
প্রশ্ন: খ। ধরুন, কেউ
৪৮ মাইল দূরে ১৫ কম নিয়ত করল, কাজ শেষ না হওয়া আবার ১০/১৫ দিনের কম নিয়ত করল,
সে মুসাফির না মুকিম?
উত্তর: খ। কেউ বাড়ী থেকে কমপক্ষে ৪৮মাইল
সফরের নিয়তে বের হল। কিন্তু পথিমধ্যে কোন একটি স্থানে প্রয়োজনের কারনে ১৫দিনের কম
থাকার নিয়ত করল। সেখান থেকে আজ যায় কাল যায় করে (টানা ১৫দিন থাকার নিয়ত ব্যতীত)
কয়েক বছর থাকলেও সে মুসাফির গন্য হবে। মোটকথা যতক্ষন সে কোন একটি স্থানে টানা ১৫
থাকার নিয়ত না করবে সে মুকীম গন্য হবে না। সূত্র: হিদায়া
১/১৬৬
আপনার বর্ণিত প্রশ্নের আলোকে, আপনি যদি এক সাথে ১৪ দিনের
বেশি থাকার নিয়ত করেন, তাহলে আপনি মুকিম হিসেবে পুরো নামাজ আদায় করতে হবে। আর আজ যাব, আজ অপারেশন হবে কাল হবে, পরশু হবে এভাবে যদি এক সাথে
১৪ দিনের বেশি অবস্থান করার নিয়ত না করেন, তাহলে আপনি
মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন এবং মুসাফিরের সলাত কসর আদায় করতে হবে।
মূল ব্যাপার হলো আপনার নিয়ত, আর যদি নিশ্চিত জানা থাকে যে
আমার সব কাজ (ডিসচার্জ) শেষ করতে রিলিজ
পেতে ১৪ দিনের বেশি সময় লাগবে, তাহলে তো আপনি মুকিম হবেন।
|
গোয়েন্দাগিরি কি জায়েজ ? |
জিজ্ঞাসা-১২৯: আসসালামু আলাইকুম। সেনাবাহিনীতে আরপির কিছু দায়িত্বকে কি গীবত ও চোগলখোরী হিসেবে গণ্য করা
যায়?
(সম্মানিত ভাই
আরটি শরীফুল ইসলাম ৪০
ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি,
বগুড়া
সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের জীবন দান করুন।)
উত্তর: উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া
রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আলহামদুল্লিাহ ইতোমধ্যে আপনার প্রশ্নের জবাব আমার পরম
শ্রদ্ধেয় আস্থাভাজন মুরুব্বি মাওলানা
আখতারুজ্জান হাফিজাহুল্লাহু তাআলা ইজমালিভাবে দিয়েছেন। আল-বুরহানের ৯নং কলামে বলা
আছে যে, কমন প্রশ্নের জবাবে দালায়েল উল্লেখ না করলেও চলবে;
তবে প্রশ্ন কর্তা এতে সন্তুষ্ট না হলে দলিল দিতে হবে। যাইহোক, আপনার প্রশ্নকে বুঝার জন্য কয়েক ভাগে ভাগ করেছি।
প্রশ্ন: ক। ইসলামে কোন গিবত ও চোগলখুরি হারাম ?
উত্তর: ক। মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত গুনাহ ও দোষত্রুটি অনুসন্ধান
করা, কারও ক্ষতি করা, নিজের ব্যক্তিগত
আক্রশ/স্বার্থ হাসিল ইত্যাদি উদ্দেশ্যে কারও জন্য পিছে লেগে
থাকা ও গিবত করা তথা গোয়েন্দাগিরি করা
ইসলামে নিষিদ্ধ।
দলিল:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا
اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا
تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ, তোমরা
অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা পাপ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো
না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত
ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুত: তোমরা তো একে
ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুল কারী, পরম
দয়ালু। সূরা হুজুরাত-১২
তাফসিরে
ত্ববারিতে এ আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: وَلَا تَجَسَّسُوا “এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান
করো না” এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,
ولا يتتبع بعضكم عورة بعض, ولا يبحث عن سرائره, يبتغي بذلك الظهور على عيوبه ، ولكن اقنعوا بما ظهر لكم من أمره ،
وبه فحمدوا أو ذموا ، لا على ما لا تعلمونه من سرائره
“তোমাদের কেউ
যেন কারও দোষত্রুটি জানার উদ্দেশ্য তার গোপনীয় বিষয়ের পেছনে লেগে না থাকে এবং তার
লুকায়িত বিষয়গুলো অনুসন্ধান না করে। বরং তোমরা তার বাহ্যিক বিষয়ে তুষ্ট থাকবে।
বাহ্যিক অবস্থার উপর ভিত্তি করেই মানুষ প্রশংসা অথবা নিন্দার পাত্র হবে; তোমরা তাদের গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে যা জান তার উপর ভিত্তি করে নয়।
আব্দুল্লাহ্ বিন্আববাস্ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী (ﷺ) ইরশাদ
করেন:
مَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيْثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُوْنَ، أَوْ
يَفِرُّوْنَ مِنْهُ صُبَّ فِيْ أُذُنِهِ الْآنُكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
‘‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা গুপ্তভাবে শুনলো; অথচ সে তাদের কথাগুলো শুনুক তারা তা পছন্দ করছে না অথবা তারা তার অবস্থান
টের পেয়ে তার থেকে দূরে পালিয়ে যাচ্ছে কিয়ামতের দিন এ জন্য তার কানে সিসা ঢেলে
দেয়া হবে’’। বুখারী-৭০৪২
সুতরাং এ আয়াতের উপর ভিত্তি করে বলা যায়, বর্তমানে , ফেসবুক/ইমু/হোয়াটসআপ আইডি
হ্যাক করা, পাসওয়ার্ড চুরি করা, তার
অজান্তে তার ইনবক্স চেক করা, গোপন ক্যামেরার সাহায্যে তার
আভ্যন্তরীণ অবস্থার ভিডিও ধারণ করা, বিভিন্ন ডিভাইসের
সাহায্য কথোপকথন রেকর্ড করা ইত্যাদি সব হারাম।
কোন মুসলমানের দোষ গোপন করার ফায়দা:
যেমন, রাসূল (ﷺ) বলেন,
مَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ গোপন রাখে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন। তাখরিজ: তিরমিজী-১৭/পরিচ্ছেদ:
মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে
প্রশ্ন: খ। চোগলখোর কাকে বলে, এটা কোন অবস্থায় জায়েজ?
উত্তর: খ। ফেতনা-ফাসাদ ও অসন্তষ্টি
সৃষ্টির লক্ষে একজনের কথা অন্যজনের কাছে বলে বেড়ানোই হচ্ছে চোগলখুরি। ইসলামে
চোগলখুরিকে গোনাহের কাজ এবং হারাম। চোখলখোর কোন অবস্থায়ই জায়েজ নেই। দলিল:
বনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَائِطٍ مِنْ حِيطَانِ الْمَدِينَةِ أَوْ مَكَّةَ فَسَمِعَ
صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذَّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى
اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ ثُمَّ
قَالَ بَلَى كَانَ أَحَدُهُمَا لَا يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ وَكَانَ الْآخَرُ
يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ثُمَّ دَعَا بِجَرِيدَةٍ فَكَسَرَهَا كِسْرَتَيْنِ
فَوَضَعَ عَلَى كُلِّ قَبْرٍ مِنْهُمَا كِسْرَةً فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ
لِمَ فَعَلْتَ هَذَا قَالَ لَعَلَّهُ أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ تَيْبَسَا
أَوْ إِلَى أَنْ يَيْبَسَا
একদা রাসূল (ﷺ) মদীনা বা মক্কার কোন একটি বাগানের পাশদিয়ে
অতিক্রম করছিলেন। তথায় তিনি দু'জন এমন মানুষের আওয়াজ শুনতে পেলেন, যাদেরকে
কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। রাসূল (ﷺ) বললেন, তাদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে অথচ বড় কোন
অপরাধের কারণে আজাব দেয়া হচ্ছে না। অতঃপর তিনি বললেন, তাদের
একজন পেশাব করার সময় আড়াল করতনা। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি একজনের কথা অন্যজনের কাছে
লাগাত। এরপর নবী (ﷺ) একটি কাঁচা খেজুরের শাখা আনতে বললেন। অতঃপর
উক্ত খেজুরের শাখাটিকে দু'ভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেক কবরের উপর একটি করে রেখে দিলেন। রাসূল (ﷺ) ) কে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কেন এরকম করলেন? উত্তরে তিনি বললেন, হয়ত খেজুরের শাখা দু'টি জীবিত থাকা পর্যন্ত তাদের কবরের আজাব হালকা করা হবে। তাখরিজ: বুখারী
প্রশ্ন: গ। কোন গিবত/গোয়েন্দাগিরি
জায়েজ ?
উত্তর: গ। কখনও কখনও গীবত করা জরুরি। যেমন- কারও ভ্রান্ত আকিদা দ্বারা যদি সাধারণ মুসলমানের। ঈমান-আমল নষ্ট করে।
দেশ-জাতি, ইসলাম, সমাজ ও মানুষের নিরাপত্তা বিধান, শান্তি-শৃঙ্খলা
প্রতিষ্ঠা, চোর-ডাকাত, খুনি, সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও দুর্নীতিবাজ, প্রতারক ইত্যাদি অপরাধী ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে জড়িত লোকদেরকে খুঁজে বের
করা, সরকারের বিভিন্ন পদে নিযুক্ত অযোগ্য ও ফাঁকিবাজ
লোকদেরকে চিহ্নিত করা, যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুর গতিবিধি
পর্যবেক্ষণ করা, তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা এবং তাদেরকে
নানাভাবে নজরদারিতে রাখা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে সরকারি গোয়েন্দা বিভাগে (National
Security Intelligence) কাজ করা এর আওতাভুক্ত নয়। কেননা এগুলো
রাষ্ট্রের উপর অপরিহার্য দায়িত্ব। সূত্র: তাফসিরে বয়ানুল কুরআন, তাফসিরে রুহুল
মাআনি সূরা হুজুরাতের ১২ নং আয়াত এর তাফসির।
এবং তা সওয়াবের কাজ। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
عَنْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ
أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ :
" إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا
لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ
فَهِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ
অর্থাৎ . আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস্ উমার ইবন খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন,
আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি—
“সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের উপর, আর
প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে, তাই পাবে। ----------। বুখারি শরিফ-০১, মুসলিম
শরিফ: ১৯০৭
সারকথা: যদি কোন লোকের
ব্যক্তিগত পাপাচার ও ত্রুটি-বিচ্যুতি কারও সামনে ধরা পড়ে, তাহলে
প্রথমে তাকে বুঝানো, নছিহত করা, তারপরও
যদি সে না ফিরে,তখন কর্তৃপক্ষেরে নজরে আনা। তবে সতর্কতা হলো
ব্যক্তি স্বার্থ যেন না থাকে।
উপরোক্ত আপনার প্রশ্নের আলোকে বলা যায়, ব্যক্তি স্বার্থ না থাকলে সেনাবাহিনীতে
আরপির কিছু দায়িত্বকে
গীবত
হিসেবে গণ্য করা হবে না। আর চোগলখোরী তো সর্বাবস্থায় হারাম।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
মাতৃভাষায় খুতবা দেওয়া প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৩০:
আসসালামু আলাইকুম, আমার জিজ্ঞাসা হল: জুমুআর নামাজের খুৎবা মাতৃভাষায়
দেওয়া যাবে কি না এবং খুৎবার আগে বয়ান করা শরীয়ত সম্মত কি না ? দলীল
সহ জানালে উপকৃত হব এবং কৃতজ্ঞ থাকব
(সম্মানিত ভাই
আরটি মো. আখতার হোসেন ২৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, যশোর
সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের জীবন দান করুন।)
জবাব: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আল্লাহ তাআলা তাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন। আপনার প্রশ্নকে বুঝার জন্য কয়েকভাগে ভাগ করেছি।
দৃষ্টিআকর্ষণ: আমাদের
সমাজে তথা কথিত সহিহ হাদিসের অনুসারি ভাইগণ নিজেদেরকে সহিহ হাদিদের উপর আমল করার
দাবি করেন। এর বাহিরে কিয়াস মানতে তারা নারাজ।
কিন্তু হায় আফসোস। তারা তাদের দাবির ওপর এস্তেকমাত থাকে। প্রশ্নে উল্লেখিত মাতৃভাষায় খুতবা দানে
কোন সহিহ আছে কি (কিয়াসের আশ্রয় নিবেন না), খুলাফা-সাহাবা-তাবেয়ি-তাবা-তাবেয়ি একজনও কি আরবি ভাষা ব্যতিত অন্য ভাষায় খুতবা দিয়েছেন? থাকলে দলিল পেশ করুন।
সুহৃদয় পাঠক! অনুসরনীয় যুগের সবাই যে আরবি ভায়ায় খুতবা দিয়েছেন, এ
সম্পর্কে জগত শ্রেষ্ঠ আলেম শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী (রহ.) তাঁর
রচিত মুয়াত্তায়ে মালেকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মুসাফফায় উল্লেখ করেন,
لما لا حظنا خطبة النبى صلى الله
عليه وسلم وخلفائه رضى الله عنهم وهلم جرا فنجد فيها وجوذ اشياء، منها الحمد
والشهادتان والصلاة على النبى صلى الله عليه وسلم والامر بالتقوى وتلاوة آية
والدعاء للسملمين والمسلمات وكون الخطبة عربية
অর্থ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুলাফায়ে
রাশেদীন, তাবেঈন, তাবেতাবেঈন এবং পরবর্তী যুগের ফুকাহায়ে
কেরাম ও উলামায়ে দ্বীনের খুতবাসমূহ লক্ষ করলে দেখা যায় যে তাঁদের খুতবায় নিম্মের
বিষয়গুলো ছিল। যথা : আল্লাহ তাআলার হামদ , শাহাদাতাইন
(অর্থাৎ তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা) রাসূল (ﷺ) এর
প্রতি দরূদ, তাকওয়ার আদেশ, পবিত্র কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত,
মুসলমানদের জন্য দুআ। তাঁরা সকলেই আরবী ভাষায় খুতবা দিতেন। গোটা
মুসলিম বিশ্বের বহু অঞ্চলের ভাষা আরবী নয়, তবুও সর্বত্র আরবী
ভাষায়ই খুতবা দেওয়া হতো। সূত্র: মুসাফফা, ১/১৫৪
প্রশ্ন: ক। জুমাআর খুতবা জিকির না
তাজকির ?
উত্তর: খ। পবিত্র কোরআনে খুতবাকে জিকির
বলা হয়েছে, তাজকির (নসিহত) বলা হয়নি। দলিল:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا
إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ
اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
অর্থ : হে মুমিনগণ, যখন জুমুআর
দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের
দিকে ধাবিত হও। সূরা জুমাআ-০৯
এ
আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরীনগণ লিখেছেন, এখানে যিকর দ্বারা উদ্দেশ্য
হলো খুতবা।
এ ব্যাপারে নিম্নে কয়েকটি তাফসীরের উদ্ধৃতি পেশ
করা হলো :
১। তাফসীরে রুহুল মাআনী, খ- ১৩,
পৃষ্ঠা ৭০২-এ উল্লেখ আছে
والمراد بذكر الله الخطبة الصلاة
অর্থ: আল্লাহর যিকর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, খুতবা ও
নামায।
২। আহকামুল কোরআন খ- ৩, পৃষ্ঠা
৫৯৬-এ বর্ণিত আছে
ويدل على ان المراد بالذكر ههنا
الخطبة، ان الخطبة هى اللتى تلى النداء، وقد امر بالسعى اليه
অর্থ : যিকর থেকে যে খুতবাই উদ্দেশ্য, তার প্রমাণ
আল্লাহ তা’আলা বলেন, আযান হলে যিকিরের
দিকে আসো। আর আযানের সাথে সাথে খুতবাই প্রদান করা হয়।
৩। তাফসীরে ইবনে কাসীরে খ- ৯, পৃষ্ঠা
৪৫৬-এ উল্লেখ আছে
فان المراد من ذكر الله الخطبة
অর্থ : আল্লাহর যিকর দ্বারা খুতবাই উদ্দেশ্য।
হাদীস শরীফেও খুতবাকে ‘যিকর বলা হয়েছে।
হাদিস নং-০১
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ
اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
قَالَ:
مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الجُمُعَةِ غُسْلَ الجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ، فَكَأَنَّمَا
قَرَّبَ بَدَنَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ، فَكَأَنَّمَا
قَرَّبَ بَقَرَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ، فَكَأَنَّمَا
قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ،
فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الخَامِسَةِ،
فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً، فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ حَضَرَتِ المَلاَئِكَةُ
يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ
অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা
(রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ
করেন, যে ব্যক্তি জুমু’আর দিন জানাবাতের গোসল করে
সর্বপ্রথম রওনা হলো, সে যেন একটি উট কোরবানী করল। দ্বিতীয়
পর্যায়ে যে ব্যক্তি উপস্থিত হলো, সে যেন একটি গরু কোরবানী
করলো। তৃতীয় নম্বরে যে উপস্থিত হলো, সে যেন একটি বকরি
কোরবানী করল। চতুর্থ নম্বরে যে ব্যক্তি উপস্থিত হলো, সে যেন
একটি মুরগি সদকা করল। পঞ্চম নম্বরে যে উপস্থিত হলো, সে যেন
একটি ডিম সদকা করল। এরপর যখন ইমাম (খুতবার) জন্য বের হয়ে আসেন, ফেরেশতারা উপস্থিত হন, তাঁরা মন দিয়ে যিকর (খুতবা) শ্রবণ করেন। তাখরিজ: বুখারী -৮৩২, মুসলিম-১৪০৩, তিরমিযী -৪৫৯, নাসায়ী-১৩৭১,
আবু দাউদ-২৯৭
হাদিস নং০২
فإذا خرج الإمام حضرت الملائكة يستمعون الذكر
যখন ইমাম খুতবা দিতে বের হন তখন ফেরেশতারা এসে যিকির
শুনে অর্থাৎ খুতবা শোনে । বুখারী-৮৮১, মুসলিম-৮৫০, আবু দাউদ-৩৫১
ফুকাহায়ে কেরামের মত:
শামছুল
আইম্মা সারাখছী (রহ.) বলেন
ولنا ان الخطبة ذكر
অর্থ : আমাদের নিকট খুতবা একটি বিশেষ যিকর।
সূত্র: আল-মাবসুত, ২/৪
অতত্রব, প্রমাণিত হলো, কুরআন
তিলাওয়াত ও জিকির যেমন অন্য ভাষায় দেয়া হয় না। তেমনি খুতবাও অন্য ভাষায় দেয়ার
বিধান নেই।
প্রশ্ন: খ। জুমাআর খুতবা যে দুরাকাতের
স্থলাভিসিক্ত তার কোন দলিল আছে ?
উত্তর।
খ। হ্যাঁ, জুমাআর খুতবা যে দুরাকাতের
স্থলাভিসিক্ত তার কোন দলিল আছে। দলিল:
হাদিস নং-০১
عن عمر بن الخطاب قال: كانت الجمعة اربعا فجعلت ركعتين من أجل الخطبة
হযরত উমর (রা.) বলেন, জুমু’আর নামায চার রাক’আত ছিল। এরপর খুতবার কারণে দুই রাক’আত করা হয়েছে। তাখরিজ: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হাদীস-৫৩৭৪
হাদিস নং-০২
عن عمر بن الخطاب أنه قال: إنما جعلت الخطبة مكان الركعتين
হযরত উমর রা. বলেন, জুমুআর
খুতবাকে দুই রাকআত নামাযের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। তাখরিজ: মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, হাদীস-৫৩৬৭
হাদিস নং-৩
كانت الجمعة اربعا فجعلت الخطبة
مكان الركعتين
অর্থ : জুমুআর নামায চার রাকআত ছিল। খুতবাকে
দুই রাকআতের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। তাখরিজ: আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে ৫৭০৩
উপরোক্ত হাদিস/আসার দ্বারা প্রমাণিত হলো যে,
নামাজ আরবি ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় হয় না, জায়েজ
নেই, আর জুমাআর খুতবা যেহেতু নামাজের স্থলাভিসিক্ত, তাই খুতবাও আরবি ছাড়া অন্য ভাষা চলবে না, জায়েজ নেই।
প্রশ্ন: গ। এখন মতভেদ বিষয়ে আমাদের করনীয়
কি?
উত্তর: গ। মতভেদ
বিষয়ে কি করনীয় তা আমাদের প্রিয় রসূল নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ يَرَى بَعْدِي
اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ
الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ
وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَإِنَّ كُلَّ
بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
হযরত ইরবাস বিন সারিয়া রা. থেকে
বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,তোমাদের মাঝে
আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখবে। তখন তোমাদের
উপর আমার এবং আমার হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত আঁকড়ে ধরবে। সেটিকে
মাড়ির দাত দিয়ে কামড়ে রাখবে। আর সাবধান থাকবে নব উদ্ভাবিত ধর্মীয় বিষয় থেকে। কেননা
ধর্ম বিষয়ে প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই গোমরাহী। তাখরিজ: মুসনাদে আহমাদ-১৭১৪৪
অর্থাৎ মতভেদ বিষয়ে খুলাফায়ে রাশেদার অনুসরণ
করতে হবে। আর উনারা অন্য অন্য ভাষায় খুতবা দেননি।
চূড়ান্ত মতামত/সিদ্ধান্ত: জমহুর ওলামায়ে কেরামের (দুএক জন বিচ্ছিন্ন মত ছাড়া) মতে আরবী ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় খুতবা প্রদান করা
বিদআত ও মাকরূহে তাহরীমি।
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا
هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ
হযরত
আয়শা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ধর্মে নেই এমন বিষয় ধর্মীয় বিষয় বলে আবিস্কার করে তা
পরিত্যাজ্য। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭১৮, বুখারী, হাদীস নং-২৬৯৭
আমরা
উপরে প্রমাণ করেছি যে, নবি,খুলাফা-সাহাবা-তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়ি কেহই আরবি ব্যতিত অন্য
ভাষায় কুতবা দেননি।
আধুনিক
যুক্তিবিদ কাছে প্রশ্ন আজ থেকে ১০০০ বছর আগে কি অন্য ভাষায় খুতবা দেওয়ার জরুরত ছির
না, তৎকালীন ফুকাহা-ওলামা সেটা উপলব্ধি করেনি। অথচ
আজকে গুগোল/অন্যান্য দ্বারা যে কোন ভাষা অনুবাদ করা যাচ্ছে।
এখন শিক্ষিতর হার বেশি না. তখন বেশি?
প্রশ্ন: ঘ। মূল
খুতবার আগে বাংলা ওয়াজ করা কি জায়েজ না বেদআত?
উত্তর: ঘ। জুমআর
মূল খুতবার আগে বয়ান করা সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত। আমরা সাহাবায়ে কেরাম এর অনুসরণে তা করে থাকি। দলিল:
আসার-০১
عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدِ
بْنِ زَيْدٍ، عَنْ
أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ
أَبُو هُرَيْرَةَ يَقُومُ
يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَى
جَانِبِ الْمِنْبَرِ فَيَطْرَحُ
أَعْقَابَ نَعْلَيْهِ فِي
ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ يَقْبِضُ
عَلَى رُمَّانَةِ الْمِنْبَرِ،
يَقُولُ: قَالَ أَبُو
الْقَاسِمِ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ
مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
قَالَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَقُولُ
فِي بَعْضِ ذَلِكَ:
وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ
شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ
فَإِذَا سَمِعَ حَرَكَةَ
بَابِ الْمَقْصُورَةِ بِخُرُوجِ
الْإِمَامِ جَلَسَ. هَذَا
حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى
شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ
আসেম
রহ. তাঁর পিতা
থেকে বর্ণনা করেন, জুমু’আর দিন হযরত
আবু হুরায়রা রাঃ জুতা খুলে মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে মিম্বর ধরে বলতেন, আবুল কাসেম (ﷺ) বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেন, রাসূল
(ﷺ) বলেন, সাদেক মাসদুক (ﷺ)
বলেন, ধ্বংস
আরবদের জন্য, ওই ফিতনার কারণে, যা
নিকটবর্তী। এরপর যখন ইমাম সাহেবের বের হবার আওয়াজ শুনতেন, তখন
তিনি বসে যেতেন। তাখরিজ: মুসতাদরাকে হাকেম-৩৩৮
আসার
নং-০২
عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، قَالَ:
كُنْتُ جَالِسًا مَعَ
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ
بُسْرٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
فَمَا زَالَ يُحَدِّثُنَا
حَتَّى خَرَجَ الْإِمَامُ
হযরত
আবদুল্লাহ বিন বুছর রাঃ জুমু’আর দিন প্রথমে ওয়াজ করতেন। যখন খতীব খুতবার জন্য আগমন করতেন,
তখন তিনি ওয়াজ বন্ধ করতেন। তাখরিজ: মুসতাদরাকে
হাকেম, ১/২৮৮, হাদীস-১০১২
আসার
নং-০৩
হযরত
তামীম দারী রা.. হযরত উমর রা. ও হযরত উসমান রা.-এর
যুগে খুতবার পূর্বে ওয়াজ করতেন। মুসনাদে আহমাদ, ৩১/৩৩১,
হাদীস-১৫১৫৭
অতত্রব, প্রমাণিত হলো আমাদের সমাজে যে
মূল খুতবার পূর্বে ওয়াজ-নছিহত হয় আমলটি বিদআত হবার প্রশ্নই
উঠে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
জিজ্ঞাসা-১৩৬: আসসালামুয়ালাইকুম, আমার জিজ্ঞাসা হলো, ছাত্র জীবনে ছেলে মেয়ে অভিভাবকদের
অজ্ঞাতসারে, নিজেরাই বিবাহ সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে
পারলে তারা তা মেনে নেয়নি। ছেলে তার অভিভাবকের নিকট থাকে অন্যদিকে মেয়ে তার অভিভাবকের
নিকট থাকে। এবং মেয়েটির অন্যত্র বিবাহ হয়ে যায়। ছেলেটির সাথে মেয়েটির যোগাযোগের
সুযোগ না থাকায় তালাক ও দেয় নাই এমতাবস্থায় ছেলের জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে করণীয়
কি?
(সম্মানিত ভাই
আরটি রজিব উদ্দিন ৫ আরই ব্যাটা: পোস্তগোলা সেনানিবাস-এর
প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের
জীবন দান করুন।)
জবাব: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আন্তরিকভাবে
দুঃখিত আপনি একবার প্রশ্ন করে কাংখিত জবাব না পেয়ে আবার প্রশ্নটি গ্রুপে
করেছেন। দেখুন, পবিত্র
কুরাআন ও হাদিসে প্রতিটি মানুষের জন্য
আলাদা করে বিধান নাজিল হয়নি। বরং মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে। তাই কোন মানুষের জন্য, কোন
প্রয়োজনে কোন মূলনীতি প্রয়োগ হবে, এটা কঠিক কাজ। হজরতে
ফুকাহায়ে কেরামগণ যদি আমাদের সেই মূলনীতি
পেশ না করতেন, আমরা অন্ধকাকে ঘুরপাক খেতাম। সুতরাং আমাদের
খুজে বের করতে সময় লাগে আর সময়ের অভাব তো আছেই।
যাই হোক, প্রথম কথা হলো, মেয়েটির প্রথমে যার সাথে
বিবাহ হয়েছিল। সে এখনও তারিই স্ত্রী আছেন। দ্বিতীয় বিবাহটি শুদ্ধ হয়নি। আপনি প্রথম
স্বামীর করণীয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। উনার জন্য তিনটি ছুরুত হবে পারে।
(ক) যদি সে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে
চাই; করতে পারবে; (যদি সুযোগ থাকে)
কেননা দ্বিতীয় বিবাহ শুদ্ধ হয়নি।
(খ) এখন সে যদি তাকে তালাক দিতে চায়, তাহলে সরকারিভাবে
তালাকের নোটিশ পাঠাবে।
(গ) দ্বিতীয় পদ্ধতিও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে সে তার কাছে
যেকোন ভাবে সংবাদ পৌঁছাবে যে, সে তাকে তালাক দিয়েছে। সংবাদটি
স্ত্রীকে জানালে তালাক কার্যকর হবে। উল্লেখ্য যে, তালাক কার্যকর
হওয়ার জন্য কোন সাক্ষী উপস্থিত থাকা শর্ত নয়। তবে দুজন সাক্ষী রাখা
মুস্তাহাব। সূত্র: শাওকানী,
নায়লুল আওতা- ৬খণ্ড, ৩০০
পৃষ্ঠা; সুনানে আবু দাউদ-২১৮৬; ইরওয়া--২০৭৮
প্রশ্ন: আপনার দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাহলে
তো মনে মনে তালাক দিলেও তা বৈধ হবে যদিও তা উত্তম পদ্ধতি হবে না।
উত্তর: প্রথম কথা হল ইসলামের শরীয়ত শুধু
জাহেরী আমলের উপর বর্তাবে, যেমন কোন মুসলিম মুরতাদ হয়ে
গেলে তার ওপর হদ প্রয়োগ হবে কিন্তু মনে মনে করলে, তাহলে
সেটা বিচার ইসলামী শরীয়াতের নয়, আল্লাহ তাআলা করবেন। দ্বিতীয়
কথা হল লোকদের সামনে তালাক দিলে তালাক হবে কিন্তু স্ত্রীর কাছে সংবাদ পৌঁছার পর এই
তালাক কার্যকর শুরু হবে যেমন ইদ্দত পালন করা। আর সাক্ষীর প্রয়োজন নাই তার দলিল হল
আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে ত একা একা তালাক দেন তাহলেও তালাক পতিত হয়ে যাবে এখানে সাক্ষীর
কোন প্রয়োজন নেই। আসলে বিষয়টি হলো আপনার স্ত্রীর সামনে হোক আর যেকোনো লোকের সামনে
হোক তালাক শব্দটি বলতে হবে।
সারাংশ
কথাটিই দাঁড়ালো যদি আপনার স্ত্রীর সামনে যদি তালাক দেন অন্য কোন লোক না থাকে তবুও
তালাক পতিত হবে,আর স্ত্রী যদি উপস্থিত না থাকে লোকদের সামনে তালাক
দেন তাহলেও তালাক হবে স্ত্রী র উপস্থিত থাকা জরুরী নয়। তবে স্ত্রী সংবাদটি জানার পর
তালাকের কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর
রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
কানের মধ্যে আঙ্গুল দিয়ে আজান দেওয়া কি
সুন্নাত ? |
আসসালামু আলাইকুম।
জিজ্ঞাসা-১৩৮: আজানের সময়
কানে আঙ্গুল দেয়া না দেয়ার বিধান কি?
(সম্মানিত ভাই শরিফ ইনসান (ভদ্র প্রকৃতির
মানুষ) আরটি আবুল কালান আজাদ, ৫৫ এমপি, যশোর
সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের জীবন দান করুন।)
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আজানের সময়
দুই শাহাদত আঙ্গুল দুই কানের ছিদ্রে প্রবেশ করানো মোস্তাহাব। দলিল:
-عَنْ عَوْن بْن أَبِيْ جُحَيْفَةَ عَن أَبِيْه قَالَ : رَأَيْتُ
بِلَالً يُؤَذِّنُ وَيَدُوْرُ وَيَتْبَعُ فَاهُ هَاهُنَا وَهَاهُنَا وَإِصْبَعَاهُ
فِى أُذُنَيْهِ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِىْ قُبَّةٍ لَهٗ حَمْرَاءَ আবূ জুহায়ফাহ্ বলেন, আমি
বিলাল (রা.)-কে আযান দেয়ার সময় তার মুখমণ্ডলটি এদিক-ওদিক ফিরাতে দেখেছি। এমতাবস্থায় তার
আঙ্গুল তার কর্ণে ছিল এবং রসূল (ﷺ) তার লাল তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। তাখরিজ: তিরমিজি-১৯৭; ইরওয়া-২৩০, মিশকাত-৬৫৩
নোট: হাদিসটির সনদ সহিহ।
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ
مُؤَذِّنِ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ حَدَّثَنِىْ أَبِىْ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه
أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَمَرَ بِلَالًا أَنْ يَجْعَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ
وَقَالَ إِنَّه أَرْفَعُ لِصَوْتِكَ. رَوَاهُ اِبْنُ مَاجَةَ
আবদুর রহমান ইবনু সা‘দ ইবনু ‘আম্মার ইবনু সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি (দাদা)
ছিলেন মাসজিদে কুবায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুয়ায্যিন। রসূলুল্লাহ ((ﷺ)) বিলালকে (আযানের সময়) তার দুই আঙ্গুল দুই কানের
মধ্যে ঢুকিয়ে রাখার হুকুম দিলেন এবং বললেন, এভাবে (আঙ্গুল) রাখলে তোমার কণ্ঠষ্বর উঁচু হবে। তাখরিজ: ইবনে মাজাহ-৭১০
নোট: হাদিসটির সনদ দুর্বল (অনেকের মতে)।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: আজানের সময় কানে আঙ্গুল দেওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে, তা Sound Poullution শব্দ দূষণ থেকে বাঁচা।
প্রশ্ন। ক।
শব্দ দূষণ (Sound
Poullution ) কাকে বলে ?
উত্তর। ক। শব্দের
প্রভাবে জীবের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয় বলে একে ' শব্দদূষণ '
বলা হয় । শব্দের তীব্রতা
মাপার একককে ডেসিবেল বলে । শব্দদূষণ বলতে মানুষের বা কোনো প্রাণীর শ্রুতিসীমা অতিক্রমকারী
কোনো শব্দ সৃষ্টির কারণে শ্রবণশক্তি
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বোঝায়। সূত্র: উইকিপিডিয়া
প্রশ্ন: খ। শব্দ দূষণের ফলে কোন ক্ষতি হয় কি?
উত্তর: খ। ৯০ ডেসিবেল
মাত্রার কাছাকাছি শব্দ শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের অবসাদ সৃষ্টি করে। শব্দদূষণের কারণে
শ্রবণশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য এবং আচার-আচরণ - উভয়
ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। শব্দদূষণের কারণে দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, উচ্চ রক্তচাপ, টিন্নিটাস,
শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাতসহ অন্যান্য ক্ষতিকর ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটতে
পারে।
তথ্যসূত্র:
S. Rosen and P.
Olin, Hearing Loss and Coronary Heart Disease, Archives
of Otolaryngology, 82:236
(1965)
J.M. Field, Effect of personal and
situational variables upon noise annoyance in residential areas, Journal of the
Acoustical Society of America, 93: 2753-2763 (1993)
↑ "Noise
Pollution"। World
Health Organisation।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
ইট-বালি-সিমেন্ট এর মিম্বর জায়েজ
কিনা ও মিনার জায়েজ কিনা? |
জিজ্ঞাসা-১৮৯:
১। মসজিদের মেম্বার কি ইট সিমেন্ট বালি দ্বারা তৈরি করা জায়েজ? ২। মসজিদের মিনার দেওয়া জায়েজ কিনা কারন অনেকে
বলেন যে রাসুল সাল্লামের যুগে মসজিদের মিনার ছিল না।
(সম্মানিত ভাই আরটি- সাইফুল ইসলাম ত্রিশাল- সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের জীবন দান করুন।)
জবাব: সম্মানিত শায়েখ। আপনি দুটি বিষয় জানতে চেয়েছেন। ইনশাল্লাহ তার
জবাব নিম্নে দেওয়া হলো।
ونسأل الله التوفيق وهو الموفق والمعين
প্রশ্ন: ১। মসজিদের
মেম্বার কি ইট সিমেন্ট বালি দ্বারা তৈরি করা জায়েজ?
উত্তর: ১। হ্যাঁ
জায়েজ। আমাদের আহলে হাদিস ভাইয়েরা এটাকে
বিদআত বলতে চায়/নাজায়েজ মনে করে। তাদের দলিল:
فَعَمِلَ هَذِهِ الثَّلاَثَ الدَّرَجَاتِ مِنْ طَرْفَاءِ الْغَابَةِ অর্থ: অতঃপর সে গাবার ঝাউ গাছ থেকে তিন স্তর
বিশিষ্ট মিম্বর তৈরি করেছিল। ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/১৫২১; ইবনু
মাজাহ হা/১৪১৪, পৃঃ ১০২
এ দ্বারা প্রমাণ হয় রাসূল (ﷺ) এর মিম্বার ছিল কাঠের। এখন
প্রশ্ন হলো, রসূলের যুগে না থাকলেই কি বিদআত। আসুন এখন তাদের মুখেই বিদআতের সংজ্ঞা জানি।
বিদআত বলা হয় দ্বীন ও ইবাদতে নব আবিষ্কৃত কাজকে। অর্থাৎ
দ্বীন বা ইবাদত মনে করে করা এমন কাজকে বিদআত বলা হবে, যে কাজের কুরআন ও সহীহ
সুন্নাহর কোন দলীল নেই। (সংজ্ঞাটি দিয়েছেন আহলে হাদিসের অন্যতম আলেম জবাব আব্দুল হামিদ ফাইযী সাহেব)আবদুল
হামীদ ফাইযী
রাসূল (ﷺ) বলেছেন-
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ
اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا
لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ
‘যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করল যা মূলত
তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা অগ্রাহ্য। সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫০১
অর্থা্ৎ রাসূল (ﷺ) এর মিম্বরটি ইট-বালি-সিমেন্ট ও
টাইলস দ্বারা মিম্বর তৈরি ছিল না। কোনো ব্যক্তিই মিম্বরটি পাকা হওয়া ইবাদত বা দ্বীনের কোনো
বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত মনে করে না।
কাজেই উক্ত ব্যক্তির দাবিটি একটি ভিত্তিহীন দাবি। সুতরাং
মিম্বরটি ইট-বালি-সিমেন্ট ও টাইলস তৈরি করতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই।
যদি তাই হয়, তাহলে কয়েক প্রশ্নের জবাব দিন।
(ক) রাসূল (ﷺ) এর যুগে মাইকে আজান দেওয়া হয়নি; অথচ সারা দুনিয়ায় মাইকে আজান
হচ্ছে। আপনি কি মসজিদের মাইকে/সাউন্ড বক্সে নামাজ পড়ান না?
(খ) রাসূল (ﷺ) এর গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াক করতেন; এখন যে আপনি ব্রাশ ব্যবহার করেন,
এটা কি বিদআত?
(গ) আপনি যে বুখারি/সিয়া
সিত্তার দলিল দেন; রাসূল (ﷺ) এর যুগে কি বুখারি ছিল ? তাহলে
বুখারি কি বিদআত?
(ঘ) আমরা যে দামি জায়নামাজে নামাজ আদায়
করি, রাসূল (ﷺ) জায়নামাজে নামাজ আদায় করেছেন?
প্রশ্ন: ২। মসজিদের মিনার দেওয়া
জায়েজ কিনা কারন অনেকে বলেন যে রাসুল সাল্লামের যুগে মসজিদের মিনার ছিল না।
উত্তর: ২। কথা ঠিক রাসূল (ﷺ) এর যুগে মদিনায় মিনারের ব্যবহার ছিল না। সে সময় ছাদের ওপর থেকে আজান দেওয়া
হতো। রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর মিনারের ব্যবহার শুরু হয়।
তবে ইসলামের প্রথম
যুগে মিনার ছিল না—এ কথা অকাট্যভাবে বলা যাবে
না। তবে হ্যাঁ, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে মিনার সংস্কৃতি না
থাকলেও সাহাবায়ে কিরামের যুগে সেটি ছিল। এ বিষয়ে মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা নামক
হাদিস গ্রন্থে প্রমাণ পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ বিন শাকিক (রহ.) বলেন, সুন্নত হলো, আজান মিনারে হবে এবং ইকামত মসজিদে হবে।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এভাবেই আমল
করতেন । মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ৩৪৫
অনুরূপভাবে ইমাম আহমদ (রহ.) মুসনাদ আহমাদ নামক গ্রন্থে
বিশুদ্ধ সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এ বিষয়ে একটি বর্ণনা এনেছেন। বরং এ বিষয়ে
কয়েকটি হাদিসের কিতাবে আলাদা অধ্যায় আনা হয়েছে। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) সুনানে আবু দাউদে
এ বিষয়ে একটি অধ্যায় এনেছেন। এর শিরোনাম হলো, ‘বাবুল আযান ফাওকাল মানারাতি
(মিনারের ওপর আজান দেওয়া অধ্যায়)। ’ ইমাম বায়হাকি (রহ.) তাঁর গ্রন্থে এ বিষয়ে ‘আল-আযান ফিল মানারাহ’ শিরোনামে একটি অধ্যায় এনেছেন।
আরব-অনারবের ইসলামিক স্কলাররা এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন যে
আজান দেওয়ার জন্য মসজিদে উঁচু মিনার তৈরি করা যাবে। কারণ এতে দূরবর্তী লোকদের আজান
শোনানো সহজ হয়। আর আজানের স্বর যত উচ্চ হয়, ততই উত্তম। সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৯; ইবনু কুদামা, আল-মুগনি
১/৩০৮
তবে মধ্যযুগে তুর্কি শাসকরা খ্রিস্টানদের ক্রুশের বিপরীতে
ইসলামী নিদর্শন হিসেবে চাঁদ-তারা নির্বাচন করেছিলেন এবং এটি তুর্কি সাম্রাজ্যের
প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আধুনিক যুগে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র ও
ইসলামী সংস্থাগুলো তাদের পতাকায় ক্রুশের বিপরীতে ইসলামী নিদর্শন হিসেবে চিহ্নটি
ব্যবহার করে থাকে। এতে উলামায়ে কিরাম কোনো আপত্তি করেননি। কেননা রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা
ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিরোধিতা করো। সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস
: ২১৮৬
তবে কতিপয় বিদ্বান কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বনের সম্ভাবনা
থেকে দূরে থাকতে এমন চিহ্ন ব্যবহার না করাই উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন। ফাতাওয়া
উসাইমিন, মাজমুউল ফাতাওয়া ১৬/১৭৮
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করা প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৮৮: আমার একটি জানার বিষয় হল, ধরুন
ইমাম ঈদুল আযহার দ্বিতীয় জামাত পড়াবেন,
প্রথম
জামাত শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় জামাতের ইমাম তিনি কি পশু কুরবানী করতে পারবেন। উল্লেখ্য
যে উক্ত পশুতে ইমামের অংশ রয়েছে। দলিলসহ জানালে
উপকৃত হতাম।
(সম্মানিত শায়েখ আরটি- রফিকুল ইসলাম, ফিল্ড
এ্যামবুলেন্স, জাহাঙ্গীরবাদ, বগুড়া
সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের জীবন দান করুন।)
জবাব: যেসব এলাকার লোকদের উপর জুমা
ও ঈদের নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য
বৃষ্টিবাদল বা অন্য কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয় তাহলে ঈদের নামাযের
সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিনেও কুরবানী করা জায়েয। সূত্র: কাযীখান ৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮
দলিল:
হাদিস নং-০১
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم
مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَإِنَّمَا ذَبَحَ لِنَفْسِه وَمَنْ ذَبَحَ بَعْدَ
الصَّلاَةِ فَقَدْ تَمَّ نُسُكُه وَأَصَابَ سُنَّةَ الْمُسْلِمِينَ
‘আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল
(ﷺ) বলেছেন: যে
ব্যক্তি নামাজ আদায়ের পূর্বে জবাই করল সে নিজের জন্যই জবাই করল। আর যে ব্যক্তি
নামাজ আদায়ের পর জবাই করল তার কুরবানী পূর্ণ হল এবং সে মুসলিমদের নীতি গ্রহণ করল। সহিহ
বুখারি, হাদিস: ৫৫৪৬
হাদিস নং-০২
عَنِ الْبَرَاءِ ـ رضى الله عنه
ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ
ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ، مَنْ فَعَلَهُ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ
ذَبَحَ قَبْلُ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَهُ لأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنَ النُّسُكِ
فِي شَىْءٍ "
হাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদের এ দিনে আমরা
সর্ব প্রথম যে কাজটি করবো তা হল সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবো। এরপর ফিরে এসে
আমরা কুরবানী করবো। যে ব্যাক্তি এভাবে তা আদায় করল সে আমাদের নীতি অনুসরণ করল। আর
যে ব্যাক্তি আগেই যবাহ করল, তা এমন গোশতরুপে গন্য যা সে তার
পরিবার পরিজনের জন্য আগাম ব্যবস্থা করল। এটা কিছুতেই কুরবানী বলে গন্য নয়। বুখারি- ৫৫৪৫
হাদিস নং-০৩
জুনদুব বিন সুফিয়ান আল-বাজালি (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি নবী (ﷺ) কাছে উপস্থিত ছিলাম; তিনি বলেন: “যে ব্যক্তি নামাযের আগে জবাই করেছে সে
যেন এর বদলে অন্য একটি পশু জবাই করে।
সুতরাং আপনার প্রশ্নের বর্ণিত ছুরতে দ্বিতীয় জামাতের ইমাম
প্রথম জামাত হওয়ার কুরবানি করা সহিহ হবে; কোন সমস্যা নেই। উল্লেখ্য যে নিজের কুরবানি
নিজে করা উত্তম।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত মুনাজাত কি বিদআত |
জিজ্ঞাসা-১৯২: আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আল
বুরহান এর বিজ্ঞ শায়েখদের প্রতি আমার জনার বিষয় হলো ফরজ সালাতের পরে সমমিলিত মোনাজাতের
কোন দলিল আছে কি না জানালে উপকৃত হবো।
(সম্মানিত শায়েখ, আরটি নেছার ব্যানএমপি-১৭ কঙ্গো
থেকে। আল্লাহ তাআলা তাকে বিদেশের মাটিতে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন।)
জবাব: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ। আফওয়ান
ইয়া আখি, দুঃখিত আপনার উত্তর দিতে বেশ দেরি হলো। আপনার প্রশ্নকে বুঝার জন্য কয়েকটি ভাগে ভাগ
করেছি।
ونسأل الله التوفيق وهو الموفق والمعين
এ বিষয়ে সম্মানিত চার ইমামসহ (আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ি, হাম্বলি রহ.) জমহুর উলামা-ফুকাহা এর মত হল, ফরজ নামাজের পর মুনাজাত করা
মুস্তাহাব। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু মত রয়েছে, তাদের মধ্যে ইবনে
তাইমিয়া, তার ছাত্র ইবনে কাইয়্যুম এবং বর্তমানে তাদের
অনুসারি আহলে হাদিসগণ এটাকি বিদআত বলে আখ্যায়িত করেন।
নামাযের পর মুনাজাত
প্রসঙ্গে হাদীসসমূহ ব্যাপকতা সম্পন্ন। এ হাদীস সমূহে মুনাজাতের কোন
ক্ষেত্র-বিশেষের উল্লেখ নেই। অতএব, হাদীস সমূহের ব্যাপকতার
ভিত্তিতে নামাযের পর সর্বক্ষেত্রের মুনাজাতই মুস্তাহাব বলে বিবেচিত হবে। মূল
ভিত্তি সহীহ হাদীসে বিদ্যমান থাকার পর বিদ’আতের তো কোন প্রশ্নই উঠে না।
সূত্র: ফাইযুল বারী : ২/৪৩১
প্রশ্ন: ক। নামাজের পর সম্মিলিত মুনাজাত করা কি বিদআত?
উত্তর: ক। যারা নামাজের পর সম্মিলিত মুনাজাত করাকে বিদআত
বলে, তাদের দলিল হল, রসূল/সাহাবা থেকে উহা প্রমাণিত নয়। {কেননা রাসূল (ﷺ) বলেছেন-
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ
اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا
لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ
যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করল যা
মূলত তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা অগ্রাহ্য। সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫০১} সুতরাং তা পরিত্যজ্য।
প্রিয় পাঠক! সবার উদ্দেশ্য যদি হয় হক তালাশ করা,
তাহলে তো আর দ্বন্দ্ব থাকে না। আমরা যদি প্রমাণ করতে পারি যে,
নামাজের মুনাজাত, সম্মিলিত/হাত তুলে মুনাজাত করার অস্তিত্ব কুরআন মাজিদ, হাদিস
ও আসারে রয়েছে, তাহলে আর দলবাজি কিসের। আসুন দেখা যাক দলিল
আছে কিনা?
প্রশ্ন: খ। ফরজ নামাজের পর দুআর বিষয়ে
কোন নস আছে কি?
উত্তর: খ। হ্যাঁ, আছে। নিম্নে দেওয়া
হলো:
কুরআন থেকে দলিল:
وَ اِلٰی رَبِّکَ فَارۡغَبۡ فَاِذَا فَرَغۡتَ فَانۡصَبۡ ۙ
অরথ: অতএব আপনি যখনই অবসর পান তখনই কঠোর ইবাদাতে রত হোন। আর তোমার রবের প্রতি
আকৃষ্ট হও। সূরা-নাশরাহ-৭,৮
এ আয়াতের ব্যাখ্যা:
عن الضحاک فإذا فرغت قال من
الصلاۃ المکتوبۃ، وإلی ربک فارغب، قال في المسئلۃ والدعاء۰ (الدر المنثور : ۶/۳۶۵)
(১) হযরত যাহ্হাক (রাঃ) সূরা ইনশিরাহ তথা
আলাম নাশরাহ এর উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, যখন তুমি ফরজ
নামায থেকে ফারেগ হবে তখন আল্লাহর দরবারে দু‘আতে মশগুল হবে।
সূত্র: তাফসীরে দূররে মানছূর : ৬/৩৬৫
إذا فرغت من الصلاۃ المکتوبۃ
فانصب في الدعاء۰ (تفسیر ابن عباس : ۵۱۴)
(২) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত,
তিনি উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, “যখন তুমি ফরজ
নামায হতে ফারেগ হও, তখন দু‘আয় মশগুল
হয়ে যাবে। সূত্র: তাফসীরে ইবনে আব্বাস (রাঃ), ৫১৪ পৃঃ
আল্লাহ তা’আলার এ সমস্ত নির্দেশ দ্বারা বুঝা গেল যে, ফরজ নামাযের পর ইমাম ও মুসল্লীদের জন্য দু‘আ ও মুনাজাতে মশগুল হওয়া কর্তব্য, চাই তারা সম্মিলিতভাবে করেন বা
প্রত্যেকে আলাদাভাবে করেন। তবে একই সময় আলাদাভাবে করলেও তা সম্মিলিত মুনাজাতের রূপ
ধারণ করবে, যা অস্বীকার করা যায় না।
সম্মিলিত মুনাজাত প্রমাণিত কি না?
হাদিস নং-০১
عن أبي بکرۃ رض فی قول اللہم إني
أعوذبک من الکفر والفقر وعذاب النار کان النبي صلی اللہ علیہ وسلم یدعو بہن دبر کل
صلاۃ۰
(رواہ النساءي : ۱۵۱ الحدیث ۵۴۶۵)
অর্থ; হযরত আবু বকরা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম (ﷺ) প্রত্যেক নামাযের পর এ দু‘আ করতেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফর, অভাব অনটন এবং দোযখের আযাব থেকে মুক্তি চাই। তাখরিজ: নাসাঈ শরীফ -হাঃ নং ৫৪৬৫
হাদিস নং-০২
ইমাম বুখারী রহঃ স্বীয় কিতাব আততারীখুল কাবীরে এনেছেন-
عَنْ كاتب المغيرة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو في دبر صلاته
হযরত মুগিরা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) নামায শেষে দুআ করতেন। আততারীখুল কাবীর, হাদীস
নং-১৭৭২, ৬/৮০
হাদিস নং-০৩
عن زید بن أرقم سمعت رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم یدعو في دبر کل
صلاۃ اللہم بنا ورب کل شيء۰ (رواہ أبو داود : ۱/۲۱۱ الحدیث ۱۵۰۸)
হযরত যায়েদ বিন আরকাম (রাঃ)
বলেন যে, নবী (ﷺ) কে প্রত্যেক নামাযের পর এ দু‘আ করতে শুনতাম, হে আল্লাহ যিনি আমাদের প্রতিপালক এবং
প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক। তাখরিজ: আবু দাউদ-১৫০৮
v একটি প্রপাগাণ্ডা/সংশয়/মিথ্যাচার:
অনেক ভাই বলে নামাজের পর
মুনাজাত রাসূল (ﷺ) করেনি। সুতরাং তা করা যাবে না।
v তার জবাব: রাসূল (ﷺ) যা করেনি তা কি করা যাবে না, কথাটা কি ঠিক? বিষয়টি পরিস্কার হবে হাদিসের সংজ্ঞা
দ্বারা। যেমন: আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি হলো হাদিস।
এ উম্মতের আমল করার জন্য রসূল (ﷺ) সব কাজ করা জরুরি নয়। বরং তিনি যদি বলে থাকেন, অনুমতি
দিয়েন সেটাও করা যাবে, সেটাও হাদিস। দলিল:
عن أبي أمامۃ الباہلي قال قیل یا رسول اللہ! أي الدعاء أسمع؟ قال : جوف اللیل الأخر ودبر الصلوات المکتوبۃ۰ رواہ الترمذي : ۱/۰۸۷ وکذا۰
( وابن ماجۃ :
۹۳ الحدیث ۳۴۹۹)
হযরত আবু উমামা বাহেলী
(রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হল যে,
কোন দু‘আ কবূল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী? ইরশাদ হলো, শেষ রাত্রে (তাহাজ্জুদের পর)
এবং ফরজ নামায সমূহের পরে। তাখরিজ: তিরমিযী-৩৪৯৯
উপরোক্ত হাদিসে প্রিয় নবি (ﷺ) সংবাদ দিলেন, ফরজ নামাজের পর দুআ কবুল হয়। তাহলে এ
সংবাদ দেওয়ার উদ্দেশ্য কি মুনাজাত করা, না করা। বিবেকবানদের
প্রশ্ন রইল।
অত্রতব উক্ত দ্বারা
ইশারাতুন নস দ্বারা ফরজ নামাজের পর মুনাজাত করা প্রমাণিত হলো এবং দুআ কবুলের
গ্যারান্টি পাওয়া গেল।
প্রশ্ন: গ। বুঝলাম নামাজের রাসূল (ﷺ) দুআ করেছেন; কিন্তু আপনরা হাত তোলেন কেন?
আপনার কোন নস আছে কি হাত তোলার সম্পর্কে?
উত্তর: গ। হ্যাঁ, নস
আছে মুনাজাতে হাত তোলা আদব এবং সর্বত্তম বিনয়। দলিল:
হাদিস নং-০১
عن سلمان رض قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم : إن ربکم حي کریم یستحي أن یرفع العبد یدیہ فیردہما صفرا۰
(رواہ أبو داؤد عن سلمان ۱/۷۰۹ برقم ۱۴۸۸)
অর্থ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভূ অত্যন্ত লাজুক, এবং দয়ালু। কোন বান্দা তার হাত
দুটি উঠিয়ে মুনাজাত করলে তার হাত খালি অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।
আবু দাউদ হাঃ নং ১৪৮৮
হাদিস নং-০২
حدثنا محمد بن یحي الأسلمي قال : رأیت عبد اللہ بن الزبیر ورأي رجلا رافعا یدیہ یدعو قبل
أن یفرغ من صلاتہ فلما فرغ منہ۰ قال لہ إن رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم لم یکن یرفع
یدیہ حتی یفرغ من صلاتہ ۰۰۰ (إعلاء السنن : ۳/۱۶۱)
হযরত মুহাম্মাদ ইবনে
ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, ‘আমি আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর (রাঃ) কে দেখেছি যে, তিনি এক ব্যক্তিকে সালাম
ফিরানোর পূর্বে হাত তুলে মুনাজাত করতে দেখে তার নামায শেষ হওয়ার পর তাকে ডেকে
বললেন, ‘রাসূলে পাক (ﷺ) কেবল নামায শেষ করার পরই হস্তদ্বয় উত্তোলন
করে মুনাজাত করতেন; আগে নয়।’ তাখরিজ: ই’লাউস সুনান, ৩/১৬১
হাদিস নং-০৩
হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু‘আর জন্য উভয় হাত উত্তোলন করেন। যদ্দরুন আমি তাঁর বগলের সাদা
অংশ দেখতে পাই। বুখারী শরীফ -৬৩৪১
হাদিস
নং-০৪
عن السائب بن یزید عن أبیہ أن النبي صلی اللہ علہ وسلم کان إدا دعا
فرفع یدیہ مسح وجہہ بیدیہ۰ (رواہ أبو داود : ۱/۲۰۹الحدیث ۱۴۹۲)
হযরত সায়িব বিন য়াযীদ (রাঃ) স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন নবী কারীম (ﷺ) যখন দু‘আ করতেন তখন উভয় হাত উঠাতেন এবং দু‘আ শেষে হস্তদ্বয়কে চেহারায় মুছতেন। তাখরিজ: আবু দাউদ- ১৪৯২
প্রশ্ন: ঘ। বুঝলাম/মানলাম
হাত তোলে মুনাজাত জায়েজ; তবে সম্মিলিত করেন কেন?
উত্তর: ঘ। আমরা ফরজ
নামাজের পর সম্মিালিত মুনাজাত এ জন্য করি যে, একা একার চেয়ে
সমষ্টিগতভাবে দুআ বেশি কবুল হয়। যা পবিত্র কুরআন, নবিজির
কওলি, ফেলি হাদিস ও সাহাবিদের আমল দ্বারা প্রমাণিত। আর ফরজ নামাজের পর দুআ কবুলের হাদিস রয়েছেই। দলিল:
কুরআনুল
কারিম থেকে-
قَالَ قَدْ اُجِیْبَتْ دَّعْوَتُكُمَا
‘তোমাদের
দুজনের দুআ কবুল করা হয়েছে। সূরা ইউনুস-৮৯
এ
আয়াতে ‘তোমাদের
দুই জনের দুআ’ বলতে মুসা আ. ও হারূন আ. এর দুআ বোঝানো
হয়েছে। হযরত মুসা আ. দুআ করেছেন এবং
হারূন আ. আমীন বলেছেন। একেই আল্লাহ তাআলা ‘দুইজনের দুআ’ বলেছেন।সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাছীর ২/৪৭০; আদ্দুররুল মানছূর ৩/৩১৫
তো এটা তাঁদের দু’জনের সম্মিলিত দুআ ছিল, যা আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন
এবং খোশখবরী শুনিয়েছেন যে- ‘তোমাদের দু’জনের দুআ কবুল করা হয়েছে।’
হাদিস
নং-০১
عن حبیب ابن مسلمۃ ۔۔۔ قال سمعت رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم یقول : لا یجتمع ملأفیدعو بعضہم ویؤمن البعض إلا أجابہم اللہ
۔۔۔
رواہ الحاکم فی مستدرکہ : ۳/۳۴۷ الحدیث ۵۴۷۸
অর্থ: হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা (রাঃ) বর্ণনা করেন,
রাসূলে কারিম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন “যদি কিছু সংখ্যক লোক একত্রিত হয়ে এভাবে দু‘আ করে যে, তাদের একজন দু‘আ
করতে থাকে, আর অপররা ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলতে থাকে, তবে আল্লাহ
তা’আলা তাদের দু‘আ অবশ্যই কবুল করে
থাকেন। তাখরিজ: তালখীসুয যাহাবী, ৩:৩৪৭
পৃঃ, মুস্তাদ্রাকে হাকেম : হাঃ নং ৫৪৭৮
হাদিস নং-০২
عَنْ حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ الْفِهْرِيِّ – وَكَانَ مُسْتَجَابًا -: أَنَّهُ أُمِّرَ عَلَى جَيْشٍ فَدَرِبَ الدُّرُوبِ، فَلَمَّا لَقِيَ
الْعَدُوَّ قَالَ لِلنَّاسِ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – يَقُولُ:
” «لَا يَجْتَمِعُ مَلَأٌ فَيَدْعُو
بَعْضُهُمْ وَيُؤَمِّنُ سَائِرُهُمْ، إِلَّا أَجَابَهُمُ اللَّهُ» “.
ثُمَّ إِنَّهُ حَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ: اللَّهُمَّ احْقِنْ دِمَاءَنَا، وَاجْعَلْ أُجُورَنَا
أُجُورَ الشُّهَدَاءِ،
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ وَقَالَ: الْهَنْبَاطُ بِالرُّومِيَّةِ: صَاحِبُ الْجَيْشِ. وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ غَيْرَ ابْنِ لَهِيعَةَ، وَهُوَ
حَسَنُ الْحَدِيثِ.
হযরত হাবীব বিন মাসলামা আলফিহরী রা:। যিনি মুস্তাজাবুদ
দাওয়া ছিলেন। তাকে একবার একটি বাহিনী প্রধান নিযুক্ত করা হয়। যুদ্ধের প্রয়োজনীয়
প্রস্তুতি গ্রহণের পর তিনি যখন শত্রুর সম্মুখীন হলেন। তখন লোকদের বললেন, আমি রাসূল সা: কে বলতে শুনেছি।
তিনি বলেছেন “যখনি কোন দল একত্র হয়, তারপর
তাদের কথক দুআ করে, আর অপরদল আমীন বলে তখন আল্লাহ তাআলা তা
কবুল করে নেন”।
এ হাদীস বলার তিনি [হাবীব বিন মাসলামা রা:] হামদ ও সানা
পড়লেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রাণ রক্ষা কর। আর আমাদের শহীদের সওয়াব দান কর।
তাখরিজ: মাযমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস
নং-১৭৩৪৭, মুস্তাতাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস
নং-৫৪৭৮, আলমুজামুল কাবীর, হাদীস
নং-৩৫৩৬
নোট: আল্লামা হায়ছামী রহঃ বলেন,
হাদিসটির সনদ হাসান। সূত্র: মাযমাউয যাওয়ায়েদ-১৭৩৪৭
হাদিস নং-০৩
وَقَدْ كَانَ الْعَلَاءُ مِنْ سَادَاتِ الصَّحابة الْعُلَمَاءِ
العبَّاد مُجَابِي الدَّعوة، اتَّفق لَهُ فِي هَذِهِ الْغَزْوَةِ أنَّه نَزَلَ
مَنْزِلًا فَلَمْ يَسْتَقِرَّ النَّاس عَلَى الْأَرْضِ حَتَّى نَفَرَتِ الْإِبِلُ
بِمَا عَلَيْهَا مِنْ زَادِ الْجَيْشِ وَخِيَامِهِمْ وشرابهم----------------
؟
যার সারমর্ম হল,আলা বিন হাযরামী রা:। মুস্তাজাবুদ দাওয়া
সাহাবী ছিলেন। একদা বাহরাইনের জিহাদ থেকে ফেরার পথে এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলে
খাবার দাবার ও তাঁবুর রসদসহ উটগুলো পালিয়ে যায়। তখন গভীর রাত। সবাই পেরেশান। ফজরের
সময় হয়ে গেলে আজান হল। সবাই নামায আদায় করলেন। নামায শেষে আলা বিন হাযরামী রা: সহ
সবাই হাত তুলে সূর্য উদিত হওয়ার সূর্যের কিরণ গায়ে লাগা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দুআ
করতে থাকেন। সূত্র: আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৬/৩২৮-৩২৯ আল্লামা
ইবনে কাসীর রহঃ সনদসহ বর্ণনা করেছেন
হাদিস নং-০৪
عَنْ سَلْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا رَفَعَ قَوْمٌ أَكُفَّهُمْ إِلَى اللهِ عَزَّ
وَجَلَّ يَسْأَلُونَهُ شَيْئًا، إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَضَعَ فِي
أَيْدِيهِمُ الَّذِي سَأَلُوا
হযরত সালমান রা: থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যখন কোন জামাআত তাদের প্রয়োজন
পূর্ণ করার আশায় আল্লাহর দরবারে হাত উঠায়, তখন আল্লাহর উপর
হক হল প্রার্থিত বিষয় উক্ত জামাতকে প্রদান করা। তাখরিজ:
আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী-৬১৪২, আততারগীব ওয়াত তারহীব-১৪৪,
মাযমাউয যাওয়ায়েদ-১৭৩৪১, কানযুল উম্মাল-৩১৪৫
নোট: আল্লামা হায়ছামী রহঃ বলেন,
এ হাদীসের সনদের সকল রাবীগণ সহীহের রাবী।মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৭৩৪১
হাদিস নং-০৫
عن ثوبان عن النبی صلی اللہ علیہ وسلم لا یحل لامرإ أن ینظر فی جوف
بیت امرء حتی یستأذن، فإن نظر فقد دخل ولا یؤم قوما فیخص نفسہ بدعوۃ دونہم فإن فعل
فقد خانہم ولا یقوم إلی الصلاۃ وہو حقن (رواہ الترمذي : ۱/۸۲ الحدیث ۳۵۷)
১২। হযরত ছাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলে
খোদা (ﷺ)
বলেন, ‘কোন ব্যক্তি লোকদের ইমাম হয়ে এমন হবে না যে, সে তাদেরকে বাদ দিয়ে দু‘আতে কেবল নিজেকেই নির্দিষ্ট করে। যদি এরূপ করে, তবে সে তাদের সহিত
বিশ্বাসঘাতকতা করল। তাখরিজ: তিরমিজি ৩৫৭
এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, ইমাম সাহেব সকল
মুসল্লীদের সঙ্গে নিয়ে সকলের জন্য দু‘আ করবেন। নতুবা তিনি খিয়ানতকারী হবেন।
হাদিস নং-০৬
أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: أَتَى رَجُلٌ أَعْرَابِيٌّ مِنْ أَهْلِ البَدْوِ إِلَى رَسُولِ
اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الجُمُعَةِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلَكَتِ المَاشِيَةُ، هَلَكَ العِيَالُ هَلَكَ
النَّاسُ، «فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ، يَدْعُو، وَرَفَعَ النَّاسُ أَيْدِيَهُمْ
مَعَهُ يَدْعُونَ»
হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন গ্রাম্য সাহাবী
রাসূল (ﷺ)
এর কাছে আসলেন জুমআর দিন। এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জিনিস পত্র, পরিবার, মানুষ সবই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একথা শুনে
রাসূল (ﷺ)
তার উভয় হাত উত্তলোন করলেন দুআর উদ্দেশ্যে। উপস্থিত সবাই রাসূল (ﷺ) এর সাথে দুআর জন্য হাত উত্তোলন করলেন। তাখরিজ: বুখারী, হাদীস নং-১০২৯
এ হাদীসে পরিস্কারভাবে সম্মলিত
মুনাজাত রাসূল (ﷺ)
নিজে করেছেন সাহাবীদের নিয়ে, সাহাবায়ে কেরাম সাথিবর্গকে নিয়ে যে সম্মলিত মুনাজাত করেছেন,
তা কী করে বিদআত হতে পারে?
প্রশ্ন: ঙ। ওলামায়ে আহনাফের কিছু আলেমও তো
মুনাজাত করে না, এর কারণ কি?
উত্তর: ঙ। এর
জবাব হলো, মুনাজাত তো ফরজ নয়; মুস্তাহাব
একটি আমল; সুতরাং কেহ যদি না করে অসুবিধা কি? উল্লেখ্য যে, ওলামায়ে আহনাফের সমকালীন দুজন আলেম ফরজ নামাজের পর মুনাজাত করতে নিষেধ
করেছেন/বিদআত বলেছেন, তাদের মধ্যে
অন্যতম হলেন, হাটহাজারি মাদ্রাসার মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ.। অনুসন্ধান করে জানা গেল, তিনি যে মুনাজাত বিরোধিতা
করেছেন, কারণ হলো চট্রগ্রাম এলাকায় বিদআতিদের তাণডব জোরালো ছিল;
এখনও বিদ্যামান, তারা এটা নামাজের অংশ মনে করত,
সুতরাং এমন পরিস্থিতে (জরুরি মনে করা, আমরাও বিদআত বলি) ফরজ নামাজের পর সম্মিালিত বিদআত
বলা যুক্তিযুক্ত।
নোট: ইল্লাত/সবাব –এর কারণে এলাকা ভিত্তিক
কোন কোন মাসয়ালা ভিন্ন হতে পারে।
প্রশ্ন: চ। নামাজের পর মুনাজাত কখন
বিদআত হবে?
উত্তর: চ। হ্যাঁ, কয়েকটি বিষয়ে আবশ্যক মনে করলে ফরজ নামাজের পর
মুনাজাত বিদআত হবে। যেমন:
(১) ফরজ নামাযের পর দুআকে জরুরি মনে করা।
(২) দুআকে নামাযের অংশ মনে করা।
(৩) এ ছাড়া নামায পূর্ণ হয় না আকিদা রাখা।
প্রশ্ন: ছ। ফরজ নামাজের পর মুনাজাতের বিষয়ে
সতর্কতা কি?
উত্তর: ছ।
হ্যাঁ, অবশ্যই কিছু বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। যেমন: ফরজ নামাজের এমন জোরে জোরে মুনাজাত করা যাতে মাসবুক ব্যক্তির নামাজে বাধা
হয়ে দাঁড়ায়। কেননা মুনাজাত মুস্তাহাব আর
আরেক জনের ইবাদতে বাধা হারাম। আর যে নামাজের পর সুন্নাত তখন লম্বা মুনাজাত না করা।
এখান বাঁচার উপায় কি? আমি আমার উস্তাদ-শায়েখকে দেখেছি যে, মুনাজাতের শুরু ও শেষে জোরে বলতে, যাতে বাকি লোকের
অসুবিধা না হয়। যাকে বলে, সাপও মারলো; লাঠি
ঠিক থাকলো। সুতরাং আমাদের এ ক্ষেত্রে সর্তক থাকতে হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে
হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
কুরবানির পশু
ক্রয় করার পর থাতে অন্যকে শরিক করা প্রসঙ্গে |
জিজ্ঞাসা-১৯৩: বিজ্ঞজনদের নিকট নিম্নোক্ত মাসয়ালার সমাধান কামনা করছি।
১, কেউ নিজের পালিত পশু দিয়ে কুরবানির নিয়ত করার পর তাতে দ্বিতীয়
ব্যক্তিকে শরীকী নিতে পারবে কিনা??
২, অথবা উক্ত নিয়তকৃত পশু বিক্রি করে শরীকী হয়ে কুরবানি করলে তার
কুরবানী সহীহ হবে কিনা।
রেফারেন্স সহ উল্লেখ করলে উপকৃত হতাম। জাযাকাল্লাহ খায়রান
জবাব: যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কুরবানী দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা
করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে
সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়, যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে
শরীক করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে শরীক করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের
সময়ই নিয়ত করে নিবে।-কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে
৪/২১০
সুতরাং আপনার উপরোক্ত প্রশ্নের ছুরতে বলা যায়, উক্ত ব্যক্তি যদি ধনি হয়,
তাহলে অন্যকে শরিক করতে পারবে
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
|
মাগরিবের আযান ও সালাতের মাঝখানে যে দুই রাকাত
নফল পড়া হয় তার দলিল কি |
জিজ্ঞাসা-১৯৪: শায়েখদের
কাছে আমার প্রশ্ন মাগরিবের আযান ও সালাতের মাঝখানে যে দুই রাকাত নফল পড়া হয় তার দলিল
কি?
(আমার পরম শ্রদ্ধেয় স্যার (প্রশিক্ষক) আরটি
মো. ওলিউল্লাহ, 24 ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড
জিয়া কলোনি-ঢাকা সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে
দুজাহানে সম্মান ও ইজ্জতের জীবন দান করুন।)
জবাব: ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম হাম্বল রহ. কেহই মাগরিবের আযান ও সালাতের
মাঝখানে যে দুই রাকাত নফল পড়া সুন্নাত বা মুস্তাহাব নির্ণয় করেননি। তবে ইমাম শাফেয়ি (রহ)-এর দুটি মত রয়েছে- এক.মুস্তাহাব,
দুই. জায়েজ।
তাদের দলিল এই হাদিস:
بين كل أذانين صلاة، بين كل أذانين صلاة، ثم قال في الثالثة : لمن شاء
(অর্থ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মাঝে নামায রয়েছে। প্রত্যেক
আযান ও ইকামতের মাঝে নামায রয়েছে। অতপর তৃতীয়বার বললেন, ‘যে ব্যক্তি চায়।’-সহীহ
বুখারী, হাদীস : ৬২৭
প্রশ্ন: ক। বুখারির সহিহ হাদিস পেলেই কি
আমলযোগ্য/করতেই হবে?
উত্তর: ক। হায় আফসোস, ঐ সব ভাইয়ের শুধু বুখারির বর্ণনা নিয়ে লাফালাফি করে, কিন্তু এর বিপরীতে যে হাদিস রয়েছে, সেটা জানার
চেষ্টা করে না। সুতরাং বুখারির সহিহ হাদিস পেলেই
আমলযোগ্য না।
প্রশ্ন: খ। উপরোক্ত বুখারি হাদিস দ্বারা
জানা গেল প্রত্যেক আজান ও একামতের মাঝে নফল নামাজ রয়েছে; কিন্তু
মাগরিবের ব্যতিক্রম তার কোন নস আছে কি?
উত্তর: খ। হ্যাঁ, মাগরিব এবং ফজরের
আজান ও একামতের মাঝে কোন নফল নামাজ নেই। কিন্তু আমার ভাইয়েরা মুস্তাসনা বুঝে না।
উদাহরণটা এ রকম, ধরুন ইউনিটে ঘোষণা হলো, সমস্ত লোক ফলিন। এখন প্রশ্ন হলো যিনি কোয়াটার গার্ডে/কোতে ডিউটিতে আছেন, তিনি ফলিনে মিলবেন না? কেননা বলা হয়েছে, সমস্ত লোক ফলিন। বিষয়টা যেরকম মাগরিব ও ফজরের সময়টাও একি রকম।
দলিল:
হাদিস নং-০১
عَن عَبد اللَّهِ بْنِ بُرَيدة، عَن أَبيهِ، رَضِي اللَّهُ عَنْهُ،
أَنَّ النَّبيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيه وَسَلَّم قَالَ: بين أَذَانَيْنِ صَلاةٌ إلاَّ
الَمْغَرِبَ.
হযরত আব্দুল্লাহ বিন বারিদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-প্রতিটি দুই আজান [আজান ও ইকামত]
এর মাঝে [নফল] নামায আছে মাগরিব নামায ছাড়া। তাখরিজ-মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪৪২২,আলমুজামুল আওসাত,হাদীস নং-৮৩২৮,সুনানে দারা কুতনী-১০৪০, সুনানে কুবরা বায়হাকী-৪১৭২
নোট: মুহাদ্দিস বাজ্জার রহঃ বলেন, এতে হিব্বান বিন
উবায়দুল্লাহ রয়েছেন। যিনি মাশহুর। যার মাঝে কোন সমস্যা নেই। সূত্র: আলবাহরুর যুখার-১০/৩০৩
হাদিস নং-০২
عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ: سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ، عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ،
فَقَالَ: «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا عَلَى عَهْدِ
رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّيهِمَا،
হযরত তাউস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ কে প্রশ্ন করা
হল-মাগরিবের [ফরজের আগে ও আজানের পর] আগে কোন নামায আছে কি? তিনি বললেন-আমি নবীজী (ﷺ) এর
সময় থেকে আজ পর্যন্ত কাউকে এ সময় নামায পড়তে দেখিনি।
তাখরিজ: সুনানে আবু দাউদ-১২৮৪, মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ-৮০৪,
সুনানে কুবরা বায়হাকী-৪১৮৪
নোট: আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহঃ বলেন, হাদীসটির সনদ
সহীহ। সূত্র: উমদাতুল কারী-৭/৩৫৮
হাদিস নং-০৩
عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ لاَ يُصَلِّى إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ
خَفِيفَتَيْنِ وفى رواية إلا ركعتي الفجر
অনুবাদ-হযরত হাফসা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ফজর উদিত হবার পর ফজরের
দুই রাকাত সুন্নাত ছাড়া অন্য কোন নামায পড়তেন না। তাখরিজ: সহীহ মুসলিম-১৭১১,সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৫৮৭,মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৪২২৫,সুনানে নাসায়ী-৪২২৭,সুনানে বায়হাকী,হাদীস নং-৯৭৯,আল মু’জামুল
কাবীর-৩৮৫
হাদিস নং-০৪
فى صحيح البخارى– أبا سعيد الخدري يقول : سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول لا صلاة بعد الصبح حتى ترتفع الشمس ولا صلاة بعد العصر حتى
تغيب الشمس ( صحيح البخارى- كتاب مواقيت الصلاة، باب لا يتحرى الصلاة قبل غروب
الشمس، رقم-1139)
অনুবাদ-হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ বলেন-আমি নবীজি (ﷺ) কে
বলতে শুনেছি যে, ফজরের (ফজরের ওয়াক্ত হবার পর) নামাযের
পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত কোন নামায নেই, এবং আসরের পর
সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত কোন নামায নেই। তাখরিজ: সহীহ
বুখারী-১/৮২, হাদীস নং-১১৩৯
প্রিয় পাঠক! বুখারি এক হাদিসে আজান ও একামতের মাঝে নামাজ পড়ার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু ৩নং ও ৪নং হাদিসে আবার ফজর
পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। এখন কি আমাদের সমন্বয় করতে হবে না?
আসার নং-০১
ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন,আবু বকর, উমর ও উসমান রা. মাগরিবের
পূর্বে দুই রাকাত নামায পড়তেন না।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৩৯৮৫
আসার-০২
হাম্মাদ ইবনে আবী সুলাইমান থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি ইবরাহীম
নাখায়ী রাহ.-কে মাগরিবের পূর্বে নফল নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে
তা পড়তে নিষেধ করলেন এবং বললেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর ও উমর রা. তা পড়েননি। -কিতাবুল আছার ১/১৬৩
আসার নং-০৩
সুফিয়ান ছাওরি (রহ.) বলেন, আমার মতও ইবরাহীম নাখায়ির মতই। সুনানে বায়হাকি : ২/৪৭৬
সুতরাং খোলাফায়ে রাশেদীনসহ সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই যেহেতু এ সময় কোনো নফল
নামায পড়তেন না এবং এ সময়ের নফল নামাযের বিশেষ কোনো ফযীলতও হাদীসে বর্ণিত নেই; অন্যদিকে মাগরিবের নামায
আযানের পর বিলম্ব না করে দ্রুত আদায় করার কথা অন্যান্য হাদীসে এসেছে তাই এসব বিষয়ের
উপর ভিত্তি করে হানাফী,মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহগণ
উক্ত দু’ রাকাত নফল নামাযকে সুন্নত বা মুস্তাহাব
পর্যায়ের আমল হিসেবে গণ্য করেননি।
সারকথা: মাগরিবের আযান ও সালাতের মাঝখানে
যে দুই রাকাত নফল পড়া সম্পর্কে কিছু ফুকাহা মাকরুহ বা নিষেধ করেছেন। তবে নির্ভরযোগ্য
ফতোয়া হল, এটা জায়েজ পর্যায়ের কিন্তু সুন্নাহ নয়।
সুতরাং এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না।
যদি কোন মসজিদে ইমামের মাগরিবের
নামাজের আগে আলোচনা নিয়ম থাকে; সেক্ষেতে এই দুরাকাত নামাজ ত্যাগ করা উচিত। যাতে ইমামের কাজে
বাধা না হয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
|
হজরত আয়েশা রা. বয়স-মানাকিব
সংক্রান্ত |
জিজ্ঞাসা-১৯: আসসলামু
আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। বর্তমানে হজরত আয়েশা (রা.)-এর বয়স নিয়ে বিভিন্ন মতামত দেখা যাচ্ছে। আসলে সঠিক ত্য কি, এ সম্পর্ক পবিত্র হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য সিরাত গ্রন্থ উদ্ধতি দিলে আমরা
উপকৃত হতাম।
ইমাম ইবনে কাসীর রহ. কৃত আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ও ইমাম মিযযী রহ. কৃত
তাহযীবুল কামালে আয়িশা রা. এর হত্যাকাণ্ড বিষয়ক কোনো বক্তব্য নেই। বস্তুত
তাহযীবুল কমালে উদ্ধৃত বর্ণনাটি হলো, বলা হয়, আয়িশা রা.
৫৮ হিজরী ১৭ রমাযান মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁকে রাতের বেলা
দাফন করতে বলে গিয়েছিলেন। ফলে তাঁকে বিতর নামাযের পরে মাকবারাতুল বাকীতে দাফন করা
হয়। আবু হুরায়রা রা. তাঁর জানাযা নামায পড়ান। তাঁর কবরে পাঁচ জন নামেন। তারা
হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা., উরওয়াহ ইবনে যুবাইর রা.,
কাসেম বিন মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকর রা., আব্দুল্লাহ
ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকর রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবুবকর রা.।
তাহযীবুল কামাল ৩৫/২৩৫।
প্রথমত অজ্ঞাত ক্রিয়া সূত্রে বর্ণনাটি উল্লিখিত হয়েছে। এতে সুনিশ্চিত কোনো
তথ্য বা বিধান প্রমাণিত হয় না। বিদায়া নিহায়াতেও এভাবে বর্ণনাটি উল্লিখিত
হয়েছে। সেখানে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয় নি; বরং ঐতিহাসিক বর্ণনার মতো করে সূত্রবিহীন
উল্লেখ করা হয়েছে। উপরন্তু ইমাম ইবনে কাসীর রহ. বলেন, ইমাম
আহমাদ বিন হাম্বাল রহ. বলেন,…আয়িশা রা. এর গোলাম যাকওয়ান
রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ
ইবনে আব্বাস রা. এসে আয়িশা রা. এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আমি আয়িশা রা.
এর কাছে অনুমতি আনতে গেলাম। তখন সেখানে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আব্দুল্লাহ রা. উপস্থিত
ছিলেন। আমি গিয়ে বললাম, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আপনার
কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছে। তখন ভাহিতজা আব্দুল্লাহ রা. আয়িশা রা. এর উপর অধোমুখী
হয়ে বললেন, এই যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আপনার নিকট
আসার অনুমতি চাচ্ছেন। আয়িশা রা. তখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তখন আয়িশা রা. বললেন,
রাখো ইবনে আব্বাসের কথা। তখন আব্দুল্লাহ রা. বললেন, আম্মু! ইবনে আব্বাস রা. আপনার সর্বোত্তম সন্তানদের মধ্যে অন্যতম। তিনি
আপনাকে সালাম বলেছেন এবং আপনাকে বিদায় দিতে এসেছেন। তখন আয়িশা রা. বললেন,
ইচ্ছে হলে আসতে দাও। আব্দুল্লাহ রা. বলেন, আমি
তাকে প্রবেশ করতে দিলাম। তিনি আয়িশা রা. এর কাছে এসে বললেন, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আয়িশা রা. বললেন, কিসের
সুসংবাদ গ্রহণ করবো। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামম এবং আপনার প্রিয়দের সাথে আপনার সাক্ষাতের মাঝে
দেহ থেকে প্রাণ নির্গত হওয়া ছাড়া আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। আপনি রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামম কাছে তাঁর সকল স্ত্রীদের মধ্য থেকে অধিক প্রিয়
ছিলেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম জিনিসকেই ভালোবাসতেন। এবং
সপ্তাকাশের উপর থেকে আপনার দোষমুক্তির বার্তা ঘোষিত হয়েছে। পৃথিবীতে এমন কোনো
মসজিদ নেই যেখানে রাত দিন সে দোষমুক্তি বিষয়ক আয়াত পঠিত হয় না। আবওয়া রজনীতে
আপনার হার পড়ে গিয়েছিলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে
কেরাম ঘরে সে হারের সন্ধান করেছিলেন। সকাল বলে দেখা গেলো পানি নেই। তখন আল্লাহ
তাআলা আয়াত অবতীর্ণ করলেন, তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা
তায়াম্মুম করে নাও। আপনার কারণে এতে সকল মানুষের জন্য অবকাশ তৈরি হয়। তখন আয়িশা
রা. বললেন, হে ইবনে আব্বাস! এসব কথা রাখো। আল্লাহর শপথ! আমি
চাই, যদি আমি এসব কিছু একেবারে ভুলে যেতাম। মুসনাদে আহমাদ,
হাদীস ২৪৯৬। আয়িশা রা. এর এন্তেকাল ৫৮ হিজরী সনে হয়েছিলো। কেউ কেউ
বলেন, এর এক বছর পূর্বে। কেউ কেউ বলেন, এর এক বছর পরে। তবে প্রসিদ্ধ হলো তিনি রমাযান মাসে ইন্তেকাল করেন। কেউ কেউ
বলেন, শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত
হলো আয়িশা রা. ২৭ রমাযান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এন্তেকাল
করেন। তিনি ওয়াসিয়ত করে যান, মাকবারায়ে বাকীতে যেন তাকে
রাতে দাফন করা হয়। বিতর নামাযের পর আবু হুরায়রা রা. তাঁর জানাযা নামায পড়ান।
তাঁর কবরে পাঁচজন নেমেছিলো। তারা হলেন, যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা.
এর দুই ছেলে আব্দুল্লাহ ও উরওয়া রা., তাঁর বোন আসমা বিনতে
আবুবকর রা., তাঁর দুই ভ্রাতুষ্পুত্র কাসেম ও আব্দুল্লাহ এবং
আরেক ভ্রাতুষ্পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবুবকর। তখন আয়িশা রা. এর
বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের
সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো আঠারো বছর। আর হিজরতের বছর তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮ কিংবা ৯
বছর। আলবিদাইয়াহ ওয়ান নিহাইয়াহ ৪/৪৪৫।
মুস্তাদরাকে হাকেমে যে বর্ণনাটি রয়েছে, তা হলো, আয়িশা রা.
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিতর নামাযের পরে ইন্তেকাল করেন। ১৫ রমাযানের সে রাতেই
মাকবারাতুল বাকীতে তাঁকে দাফন করা হয়। আবু হুরায়রা রা. তাঁর জানাযা নামায পড়ান।
তখন মারওয়ান অনুপস্থিত ছিলো। আবু হুরায়রা রা. তার প্রতিনিধি হিসেবে জানাযা
পড়ান। মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নম্বর ৬৭১৫
তাবাকাতে ইবনে সাদে আয়িশা রা. এর মৃত্যু বিষয়ে যেসব বর্ণনা রয়েছে তা হলো, আয়িশা রা. ৫৮ হিজরীর ১৭
রমাযান দিবাগত রাতে বিতর নামাযের পর ইন্তেকাল করেন। তিনি নির্দেশ দিয়ে যান,
তাঁকে যেন রাতে দাফন করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশা রা. এর জানাযায় প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। রাতে এতো মানুষের সমাগম
ইতিপূর্বে আমরা কখনো দেখি নি। মহিলাদের মহা সমাগম দেখে ঈদের দিন বলে ভ্রম হচ্ছিলো।
আবু হুরায়রা রা. আয়িশা রা. এর জানাযা নামায পড়ান। তাঁর ওয়াসিয়ত অনুযায়ী
তাঁকে মাকবারায়ে বাকীতে সমাহিত করা হয়। তাবাকাতে ইবনে সাদ ৮/৭৬,৭৭।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
|
বেনামাজির কারণে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যাবে
কি |
জিজ্ঞেসা-১৯৭: আসসালামু আলাইকুম। স্ত্রী যদি বেনামাজি হয়, তাহলে স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক থাকবে কিনা অথবা বেনামাজি হয়ার কারণে
তাকে তালাক দেয়া যাবে কিনা? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
( সম্মানিত ভাই আরটি আবুল কালাম
আজাদ, ৫৫ এমপি যশোর-এর
প্রশ্নের আলোকে)। জবাব: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া
রহমাতুল্লাহ। আপনার সহজে বুঝার জন্য কয়েক ভাগে ভাগ করছি। প্রশ্ন: ক। স্ত্রী যদি বেনামাজি হয়, তাহলে স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক থাকবে কিনা? উত্তর:
ক। কোন মুমিন কবীরা গুনাহ করলে তার ঈমান থাকে
কিনা? এ মাসয়ালায় খারিজের
সাথে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের বিরোধ রয়েছে।
খারিজিদের মতে কবিরা গুনাহ করলে, কাফের হয়ে যাবে। আর
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মতে, মুমিন যত বড়ই পাপ করুক না কেন
? কাফের হয় না। দলিল:
وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا
بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي
تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا
بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ অর্থ: মুমিনের দুই দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে
মীমাংসা করে দিবে। অতঃপর তাদের একদল অপর দলকে আক্রমণ করলে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে তাদের
মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করবে এবং সুবিচার
করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে
ভালবাসেন। সূরা হুজুরাত-০৯
পরস্পর দ্বন্দ্বরত দুই দলের মাঝে মীমাংসা করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
বলা বাহুল্য যে, দ্বন্দ্ব সংঘাত লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ঈমানদার আখ্যা দিয়েছেন।
তাই এ আয়াতের ওপর ভিত্তি করে আলহে সুন্নাত ওয়াল জামাআত মত পেশ করেছেন যে, যত বড় পাপই করুক, তাতে মুমিন বে-ঈমান হয়ে যায় না। পক্ষান্তরে খারিজি ও মুতাজিলাদের একাংশের মতে কবিরা গুনাহ করলে ঈমান থাকে না।
হজরত আবু বকর(রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবি কারিম (ﷺ) হাসান-কে নিয়ে বের হলেন এবং তাঁকেসহ
মিম্বারে আরোহণ করলেন। অত্ঃপর বললেন, আমার এ ছেলেটি সরদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে বিবাদমান দুদল মুসলমানের
মাঝে সমঝোতা –মীমাংসা করিয়ে দিবেন। তাখরিজ : বুখারি-৩৬২৯;আবু দাউদ-৪৬৬২;তিরমিজি-৩৭৭৩;নাসায়ি-১৪১০;আহমদ-২০৩৯
এ হাদিসেও প্রিয় নবি (ﷺ) বিবাদমান দুদলকে মুসলমানরূপে আখ্যা দিয়েছেন। পরস্পর
সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার পরও মুমিন নামটি মুছে যায়নি; বরং তারা সাংবিধানিক অর্থে মুমিন
ছিলেন। যদি তারা কাফের হয়ে যেত কক্ষনোও তাদের মুমিন নামে ডাকা হত না। আর তাদের মাঝে
সংশোধনের হুকুম করা হত না। অন্য এক হাদিসে
আরও স্পষ্টভাবে এসেছে- আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তিনটি বিষয় ঈমানের বুনিয়াদের অন্তর্ভুক্ত। (১) যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালেমা পড়বে, তার প্রতি আক্রমণ করা হতে বিরত থাকবে; কোন গুনাহর দরুন
তাকে কাফের মনে করবে না এবং কোন আমলের দরুন তাকে ইসলাম হতে খারিজ করে দিবে না। (২)
জিহাদ- যেদিন হতে আল্লাহ আমাকে জিহাদের হুকুম দিয়েছেন সেদিন হতে এই উম্মতের শেষ যামানার
লোকেরা দাজালের সাথে জিহাদ করতে থাকবে, কোন অত্যাচারী শাসকের
অত্যাচার বা কোন সুবিচারকের সুবিচার জিহাদকে বাতিল করতে পারবে না এবং (৩) তাকদীরে বিশ্বাস
করা। তাখরিজ : মিশকাতুল মাছাবিহ-কাবীরা গোনাহ ও মুনাফিকীর নিদর্শন অধ্যায়
সুতরাং প্রমাণিত হল মুমিন যত বড়ই গুনাহ করুক না কে? সে কাফের হয় না।(তবে গুনাহ ঈমানকে
দুর্বল করে এবং কিছু কিছু গুনাহ কুফরির দিকে ধাবিত করে। প্রত্যেক মুসলিমকে এ বিষয়ে
আরও সতর্কতাবলম্বন করা উচিত)
সূত্র: "মহান আল্লাহর নিকট একজন মুমিন-মুসলমানের মর্যাদা-মূল্য" কিতাব
থেকে
লেখক মাওলানা
মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
সুতরাং কোন মুসলমান নামাজ ছেড়ে দিলে সে কাফের হয় না,আপনার বর্ণিত ছুরুতে স্বামী-স্ত্রীর
সম্পর্ক কোন বিঘ্ন বা নষ্ট হবে না।
প্রশ্ন: খ। বেনামাজি
হয়ার কারণে তাকে তালাক দেয়া যাবে কিনা? উত্তর: খ। وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ
فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ
أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا -----إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
অর্থাৎ যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার
কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন
পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।
যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং
স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ,
সবকিছু অবহিত। সূরা নিসা-৩৪,৩৫। উপরোক্ত আয়াত গুলোর আমল করার পর কাজ না
হলে, চূড়ান্ত বিচ্ছেদ তালাক দেয়া যাবে। উল্লেখ্য যে উপরোক্ত আয়াতের উপর আমল না করে শুরুতেই
তালাক দেওয়া যাবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিচ্ছেন, ধর্ম শিক্ষক, মো: আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),
(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব), ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস,
বরিশাল।
|
নফল নামাজে একই রাকাতে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত করা
যাবে কি? |
জিজ্ঞেসা-১৯৮: আসসালামু আলাইকুম, আশা
করি মহান আল্লাহ সকলকে সহিসালামতে রেখেছেন,আমার জানার বিষয় হল :নফল নামাজে
একই রাকাতে কুরআন মাজিদের বিভিন্ন অংশ থেকে
তিলাওয়াত করলে নামাজ শুদ্ধহবে কিনা? (সম্মানিত ভাই আরটি আখতার হোসেন, ২৭ফিল্ড আর্টিলারি,
যশোর
সেনানিবাস,এর প্রশ্নের আলোকে)
জবাব: ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয় রাহমাতুল্লাহ। হ্যাঁ, নফল
নামাজে কোরআনের বিভিন্ন অংশ তেলাওয়াত করা
যাবে, নামাজের কোন সমস্যা নেই। তবে প্রথমবারের তেলাওয়াত কৃত অংশ যেন
তিন আয়াতের সমান হয়। সূত্র:
খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৭; আননাহরুল ফায়েক ১/২৩৭; তাতারখানিয়া
১/৪৫২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭;
রদ্দুল
মুহতার ১/৫৪৬
و الله تعالى أعلم بالصواب
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله وسلم
উত্তর দিচ্ছেন:
ধর্ম শিক্ষক, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, 49 ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বরিশাল।
|
সুদি ব্যাংকে যারা
চাকরি করেন তাদের সাথে কুরবানী হবে কি? |
জিজ্ঞাসা-১৯৯: সুদি ব্যাংকে যারা চাকরি
করেন তাদের সাথে কুরবানী হবে কি? সবিনয়ে জানতে চাই। আরটি রফিক,
৩৩ এসটি জবাব: প্রথম কথা হল, কোন
শরীকের পূরো বা অধিকাংশ উপর্জন যদি হারাম হয়,
অথবা
কেউ হারাম উপার্জন দ্বারা শরীক হয়,
তাহলে
কারো কুরবানী সহীহ হবেনা।
সূত্র: ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৬/৩০৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া ৬/৪৮১ পৃষ্ঠা কিফয়াতুল
মুফতী ৮/২০৫ পৃষ্ঠা৷
দ্বিতীয় কথা হল, সুদখোর ও ঘোষখোরের সঙ্গে কুরবানী সহীহ হবেনা৷ তবে
সে যদি হালাল টাকা দিয়ে শরীক হয়, তবে কুরবানী সহীহ হবে৷ আপনার
প্রশ্ন বর্ণিত সুদী ব্যাংকে চাকরিজীবী ব্যক্তির উপার্জিত সম্পদ হারাম তাই তার সঙ্গে
কুরবানী হবে না। তবে সে যদি হালাল টাকা দিয়ে কুরবানী দেয় তবে তার সঙ্গে কুরবানী জায়েয
হবে। সূত্র: ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৬/৩০৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া ৬/৪৮১ পৃষ্ঠা৷
কিফয়াতুল মুফতী ৮/২০৫ পৃষ্ঠা৷ উল্লেখ্য যে, সুদখোর
যদি হালাল টাকা দ্বারাও কুরবানী করে তবে ভালো শরিক পেলে তার সাথে কোরবানি করা উচিত
হবে না।
و الله تعالى أعلم بالصواب
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله وسلم
উত্তর দিচ্ছেন:
ধর্ম শিক্ষক, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, 49 ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি,
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আল্লাহ তাআলা তাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন। আপনার প্রশ্নকে বুঝার জন্য দুই ভাগে ভাগ করেছি।
(সম্মানিত ভাই শরিফ ইনসান (ভদ্র প্রকৃতির
মানুষ) আরটি- শহীদ, ১৪বেঙ্গল, যশোর
সেনানিবাস-এর প্রশ্নের আলোকে। মহান আল্লাহ তাকে দুজাহানে সম্মান-ইজ্জতের জীবন দান করুন।)
ونسأل الله التوفيق وهو الموفق والمعين
মর্যাদা
ফোনে
মাসআলা জানতে আসর থেকে এশার ভেতর কল দিন এই নাম্বারে +8801923-295995
মুফতি
সাহেবদের আরও কয়েকটি নাম্বার,
* সময় : সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা
মোবাইল : ০১৯১৫-৪৮২৯৩৩
হযরত মাওলানা আনওয়ার হুসাইন সাহেব
সদস্য, দারুল ইফতা
* সময় : বেলা
৩ টা থেকে ৪ টা
মোবাইল : ০১৭২৩-৮৫৪১৮০
হযরত মাওলানা ফয়যুল্লাহ সাহেব
সদস্য, দারুল ইফতা
* সময় : বাদ
আসর থেকে ইশা পর্যন্ত
মোবাইল : ০১৭১১-৯৬১৩৭৪
হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া সাহেব
নায়েবে মুফতী
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন