জিজ্ঞাসা-১২৩৯৫:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,
মুহতারাম, হজ্বের সফরে আমরা কসর পড়বো নাকি পূর্ণ পড়বো?
আর আরাফার ময়দানে তাবুতে অবস্থান কারিদের
জন্যে জোহর-আসর পড়ার নিয়ম দলিলসহ বিস্তারিত জানতে চাই। তারিখ: ২৪/১২/২২ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা শামসুল আলম ঢাকা থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর কথা হলো,
মুহতারাম ভাই,
হজ্বের সফরে হাজ্বী সাহেবগণ মক্কা, মিনা, মমুজদালিফা
ও আরাফায় নামায দুই রাকাত পড়বে নাকি চার রাকাত,
এ মাসআলায়
মতভিন্নতার একটি ক্ষেত্র হলো, মালেকী মাযহাবসহ কারও কারও মত
হলো, হজ্ব নিজেই কসরের কারণ,
যেমনিভাবে
শরয়ী সফর কসরের কারণ। বাস্তবে হাজ্বী মুসাফির হোক বা না হোক, শুধু
হজ্বের কারণেই তাকে কসর নামায পড়তে হবে। সালাফীরাও বর্তমানে এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।
অন্যদিকে এ মাসয়ালায় হানাফী মাযহাবসহ জুমহুরের মত হলো, মিনা-আরাফায়
থাকা কালে হাজ্ববী মুসাফির হলে চার রাকাতের নামায দুই রাকাত পড়বে। আর মুকীম হলে চার
রাকাত নামাজ চার রাকাতই পড়বে। অর্থাৎ আমরা যারা হজ্বে যাই তারা মক্কায় ১৫ দিন বা তার
বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করলে পূর্ন নামায পড়তে হবে। আর যদি ১৫ দিনের কম সময় থাকার নিয়ত করে তাহলে কসর করতে হবে ।
২. যদি এমন হয় যে, সুনির্দিষ্টভাবে
কত দিন অবস্থান করতে হবে তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, আর আজ
যাব বা কাল যাব করতে করতে ১৫ দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তবুও কসরই পড়তে হবে, যেমনটি
হুজুর স. তাবুকের যুদ্ধে ২০ দিন কসর করেছিলেন এবং হযরত
ইবনে ওমর রা. আজরেবাইজানে ৬ মাস করেছিলেন এই কারণেই।
৩. রাসূল্লালাহ (ﷺ)থেকে সফরের বিভিন্ন সময়সীমা বর্নিত হয়েছে।
তবে সাহাবায়ে কিরাম যেহেতু এগুলোর প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও অবগত ছিলেন এবং রাসূল্লালাহ
(ﷺ) এর কর্মপদ্ধতি, বিশেষত
রাসূল্লালাহ (ﷺ) এর
পবিত্র জীবনের শেষ আমল ছিল সাহাবীদের সামনে তাই তারা যখন এ সময়সীমা ১৫ দিন নির্ধারণ
করেন তখন তা সুন্নাহ থেকে আহরিত হওয়ার বিষয়ে কোনই সন্দেহ থাকে না ।
হানাফী মাযহাবের মতটি দলীলের দিক থেকে শক্তিশালীও বটে।
1. আল-মুগনী গ্রন্থে এসেছে-
عن ابن عباس وابن عمر أنهما قالا : إذا قدمت بلدة وأنت مسافر وفي نفسك أن تقيم خمسة عشر يوما فأكمل الصلاة
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)
ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন ,
”যদি তুমি কোন শহরে সফর করে আসো আর সেখানে ১৫ দিন
অবস্থানের পাক্কা নিয়ত কর তাহলে পূর্ন নামায আদায় করবে।
[আল-মুগনী, ২য় খন্ড, ২৮৮ পৃষ্ঠা, অধ্যায়: সালাতুল্ মুসাফির]
2. সুনানে তিরমিজী শরীফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর
(রাঃ) থেকে বর্নিত– তিনি
বলেন,
من اقام خمسة عشر يوما اتم الصلاة
"যে ব্যক্তি ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করল সে পূর্ন নামায আদায় করবে।" [জামে
তিরমিযী : ১/৭১]
3. ত্বাহাবী শরীফে হযরত উমর বিন যর রহ. থেকে বর্ণিত,
عَنْ عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ قَالَ: سَمِعْتُ مُجَاهِدًا يَقُولُ: «كَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا قَدِمَ مَكَّةَ فَأَرَادَ أَنْ يُقِيمَ خَمْسَ عَشْرَةَ لَيْلَةً سَرَّحَ ظَهْرَهُ فَأَتَمَّ الصَّلَاةَ
তিনি বলেন, আমি
মুজাহিদ রহ.কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন,
হযরত
ইবনে উমর রা. যখন মক্কায় আসতেন এবং ১৫ দিন থাকার ইচ্ছা পোষণ
করতেন তখন তিনি সওয়ারীর বাধন খুলে দিতেন এবং পূর্ণ নামাজ আদায় করতেন।
(ত্ববহাবী শরীফ, হাদিস নং ৩৪৭, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং ৪৩৪৩)
4.
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «إِذَا كُنْتَ مُسَافِرًا، فَوَطَّنْتَ نَفْسَكَ عَلَى إِقَامَةِ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا، فَأَتْمِمِ الصَّلَاةَ، وَإِنْ كُنْتَ لَا تَدْرِي مَتَى تَظْعَنُ فَأَقْصِرْ
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রা.
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যখন তুমি মুসাফির অবস্থায়
থাকো অতপর কোনো স্থানে ১৫ দিন থাকার পাক্কা নিয়ত করো তখন তুমি পূর্ণ নামাজ পড়বে
আর যদি তুমি না জানো যে কবে তুমি যাবে তাহলে তুমি নামাজ কসর করো।
(ত্বহাবী শরীফ, হাদিস নং ৩৪৬, কিতাবুল আসার, হাদিস নং ১৮৮)
5.
عن سعيد بن المسيب، قال: " إذا أقام المسافر خمس عشرة ليلة أتم الصلاة، وما دون ذلك فليقصر
হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব রহ.
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
যখন
মুসাফির ১৫ দিন থাকার নিয়ত করবে তখন সে পূর্ণ নামাজ পড়বে আর যদি তার চেয়ে কম থাকার
নিয়ত করে তাহলে কসর করবে।
(ত্বহাবী শরীফ, হাদিস নং ৩৪৯ ; আওসাসুল মাসালেক ৩/১৯৭)
উল্লেখ্য, হুজুর
(ﷺ) বিদায় হজ্বের সময় মক্কা, মিনা, আরাফা, মুজদালিফা
ও মিনা মিলে মোট ১০ দিন ছিলেন, (০৪ জিল হজ্ব সকালে মক্কায় পৌঁছেছেন
এবং ১৪ জিল হজ্ব মক্কা থেকে চলে গিয়েছেন) তাই হানাফি মাযহাব মতে তিনি মুসাফির ছিলেন বিধায় কসর করেছেন।
1.
عن
أَنَسً، يَقُولُ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه
وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ، فَكَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ. قُلْتُ أَقَمْتُمْ بِمَكَّةَ شَيْئًا قَالَ أَقَمْنَا بِهَا عَشْرًا.
হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
তিনি
বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে মদীনা ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি দু’রাক’আত,
দু’রাক’আত সালাত আদায় করেছেন। (রাবী বলেন) আমি (আনাস রা.)-কে
বললাম, আপনারা (হজ্জকালীন সময়) মক্কায় কয় দিন অবস্থান করেছিলেন? তিনি
বললেন, সেখানে আমরা দশ দিন অবস্থান করেছিলাম।
(সহি বুখারী শরীফ, হাদিস নং ১০৮১)
2.
قال الشيخ ابن عثيمين في رسالة
قصر الصلاة (ص50)
إن النبي صلى الله عليه وسلم أقام بمكة في حجة الوداع عشرة أيام
শায়েখ ইবনে উসাইমিন রহ, বলেন, হযরত
নবী করিম স. বিদায় হজ্বের সময় মক্কায় মোট ১০ দিন ছিলেন। (কসরুস সালাত, পৃ. ৫০)
সতরাং যেহেতু রাসুলে কারিম (ﷺ) সব মিলিয়ি ১০ দিন অবস্থান করেছিলেন তাই হানাফি
মাযহাব অনুযায়ী হুজুর (ﷺ) পুরা
সফরে মুসাফির হিসাবে ছিলেন, এই জন্য তিনি কসর করেছিলেন। এবং
আরাফা ও মুজদালিফার ময়দানে জমা বাইনাস সলাতাইনেও কসর করেছিলেন।
আর যারা হজকে স্বতন্ত্র কসরের
কারণ বলেন তাদের দলীল হলো, রাসূল (ﷺ) এবং সাহাবায়ে কেরাম বিদায় হজের সময় মিনা-আফায় কসর নামায পড়েছেন। এমনকি
যারা মক্কার স্থানীয় মুসলমান ছিলেন তারাও কসর করেছেন, অথচ
তারা মুসাফির ছিলেন না! এ ব্যাপারে মালেকী মাযহাবের মতটি এমন-
‘কেননা নবী (ﷺ) আরাফায় কসর নামায পড়ে পেছনের কাউকে ভিন্নভাবে নামায পড়ার কথা বলেননি।
এমনকি মক্কার অধিবাসীদেরকেও বলেননি,
أَتِمُّوا صلاتكم
“তোমরা পূর্ণ নামায পড়”;
অথচ এ জায়গায় বিষয়টি স্পষ্ট করে
বলার প্রয়োজন ছিল!’-(ইলাউস
সুনান ৭/৩৪৯৪, দারুল ফিকর,
বৈরুত)
হযরত ইমাম মালেক রহ.সহ অন্যদের
শুধু এটুকু যুক্তি ছাড়া সরাসরি বর্ণিত কোনো হাদীস নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে হানাফী মাযহাব
কয়েক কারণে শক্তিশালী।
প্রথমত: শরয়ী সফর সাব্যস্ত হওয়ার
জন্য যতটুকু দূরত্বে সফর করা লাগে,
মিনা-আরাফার
দূরত্ব কোনোভাবেই সেই আওতায় পড়ে না। কারণ মক্কা থেকে মিনার দূরত্ব তিন মাইল এবং আরাফাহর
দূরত্ব ১২ মাইল। অথচ জুমহুর উলামায়ে কেরামের মত অনুযায়ী শরয়ী সফর সাব্যস্ত হওয়ার জন্য
কমপক্ষে ৪৮ মাইল হওয়া লাগে। আল্লামা যাফর আহমদ উসমানী রহ. লিখেন-
‘যখন একথা সাব্যস্ত হয়ে গেল- তার দাবী হলো, মক্কার
অধিবাসী এবং যারা মক্কায় মুকীম হিসেবে আছেন তাদের জন্য আরাফায় কসর করা জায়েয হবে না।
কারণ মক্কা এবং আরাফাহর মাঝে দূরত্ব কম। কারণ আরাফাহ ১২ মাইলের বেশি দূরত্বে হবে না।
এমনিভাবে মিনায় কসর করাও জায়েয হবে না। কারণ মিনার দূরত্বও তিন মাইলের বেশি হবে না।
অথচ এতটুকু দূরত্বে নামায কসর করার মতামত কোনো ইমামই দেননি।’-(ইলাউস সুনান ৭/৩৪৯২-৩৪৯৩)
আমাদের দ্বিতীয় দলীল হলো, হযরত
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আহলে মক্কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,
لا تقصروا الصلاة في أقل من أربعة بُرُد من مكة إلى عسفان
‘হে মক্কার অধিবাসীরা! তোমরা চার বুরদের কমে (৪৮ মাইল) মক্কা
থেকে আসফান পর্যন্ত নামায কসর করবে না।’-(তাবরানী ১১/৯৭; বায়হাকী
৩/১৩৩; দারাকুতনী ১/৩৮৭;
ইলাউস
সুনান ৭/৩৪৯৪)
হাদীসটি সনদসূত্রে যয়ীফ হলেও
অন্য সহীহ সনদে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর উক্তি দ্বারা সমর্থিত। আর যখন
কোনো যয়ীফ বর্ণনা সাহাবীর আমল দ্বারা সমর্থিত হয় তা শক্তিশালী হয়ে যায়। এছাড়া এ কথাটি
জমহুরের মত দ্বারাও সমর্থিত। সুতরাং এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, মক্কাবাসীর
জন্য হজ এবং হজের বাইরে সফরের দূরত্বে যাওয়া ব্যতীত কসর করার সুযোগ নেই।
এছাড়া ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত
উসমান রা. তার খেলাফতের প্রথম ছয় বছর কসর পড়লেও পরবর্তীতে তিনি মক্কায় বিবাহ করে মুকিমের
হুকুমে হয়ে যাওয়ার কারণে পূর্ণ নামাজ পড়েছেন।
যথা-
عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ
عنهما، قال: صلَّى رسولُ الله صلَّى اللهُ عليه وسلَّم بمِنًى ركعتينِ، وأبو بكرٍ
بَعْدَه، وعُمَرُ بعد أبي بكرٍ، وعُثمانُ صَدْرًا من خلافِتَه، ثم إنَّ عثمانَ
صَلَّى بعدُ أربعًا
رواه البخاري (1082)، ومسلم
(694) واللفظ له
عن عبد الرحمن بن يزيد، يقول صلى
بنا عثمان بن
عفان رضى الله عنه ـ بمنى أربع
ركعات
البخارى 1084
أنَّ مِن أوجُهِ تفسيرِ سَبَبِ
إتمامِ عثمانَ رَضِيَ اللهُ عنه بمِنًى أنَّه تأهَّلَ بمكَّةَ، فلم يكن مسافرًا،
فصلَّى صلاةَ المقيمِ، فدلَّ على أنَّ أهلَ مكَّةَ يُتِمُّونَ بمِنًى ولا
يَقْصُرون
المغني لابن قُدامة
(3/367)
شرح النووي على مسلم
(5/195)
فتح الباري
لابن حجر
(2/570)
فدل هذا على أن عثمان رضي الله
عنه كان يتم في مكة، وفي منى في حال إقامته فيها.
أما عن عذره رضي الله عنه في هذا
الإتمام، فمن أحسن ما اعتذر به عنه: [إنه كان قد تأهل بـ منى، والمسافر إذا أقام
في موضع وتزوج فيه، أو كان له به زوجة أتم، وقد نصّ أحمد، وابن عباس قبله أن
المسافر إذا تزوج لزمه الإتمام، وهذا قول أبي حنيفة ومالك وأصحابهما
(زاد المعاد لابن القيم (1/470، 471).
এতেও বুঝা যায় কসরের হুকুম হলো
শরয়ী মুসাফির হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত,
শুধু
হজ্বের সাথে সম্পৃক্ত নয় যেমনটু বর্তমান সালাফী আলেমগণ দাবী করে থাকেন।
আর মালেকী মাযহাব ও সালাফী আলেমগণের
পক্ষ থেকে যে দলীল দেয়া হয়েছে যে, 'আল্লাহর নবী আরাফায় কসর করে মক্কাবাসীকে
পুরো পড়তে বলেননি’ এ যুক্তি
দিয়ে হাজীদের ওপর কসর চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। কারণ রাসূল (ﷺ) বিদায় হজের সময় কসরের কথা না বললেও মক্কাবাসীকে
ফাতেহ মক্কার দিন নামায পুরো পড়ার কথা বলে রেখেছেন। আল্লামা যফর আহমদ উসমানী রহ. লিখেন-
‘রাসূল (ﷺ) থেকে
যেহেতু এ বিষয়টি সাব্যস্ত যে, তিনি যখন ফাতেহ মক্কার দিন মক্কায়
নামায কসর করেছিলেন সেদিন মক্কাবাসীকে বলেন,
“তোমরা নামায পুরো পড়ো, কারণ
আমরা মুসাফির”, সেহেতু
বিদায় হজের দিন এ কথা পুনরায় বলার প্রয়োজন ছিল না। কারণ নবীজি জানতেন, তাঁর
সাহাবীরা নামায ও আহকামে নামাযের বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক এবং সচেতন।’-(ইলাউস সুনান ৭/৩৪৯৫; নসবুর
রায়াহ ২/১৮৭; আততারীখুস সগীর, ইমাম
বুখারী ১/২৭)
ولم يقل لأهل مكة أتموا؛ لأن ذلك معلوم في حق المقيمين في مكة.
আর আরাফার ময়দানে যারা মসজিদে
নামিরার জামাতের সাথে শরীক না হয়ে তাবুতে নামাজ পড়বে চাই স্বতন্ত্র জামাতের সহিত অথবা
একাকি, তারা জোহরের সময় জোহর আর আসরের সময় আসর পড়বে। মুসাফির হলে
কসর করবে আর মুকিম হলে পূর্ণ নামাজ পড়বে। জমা বায়নাস সলাতাইন করবে না।
দলিল,
১।
عالمگیري: ج۱ ص۲۲۸
ولو فاتتا مع الإمام أو فاتتہ
واحدة منھما صلی العصر لوقتہ ولا یجوز لہ تقدیم العصر علی قول أبي حنیفة رحمہ اللہ
২।
فتاوى دارالعلوم دیوبند
Fatwa: 1353-1320/L=11/1438
جواب نمبر: 153481
جمع بین الصلاتین کی منجملہ
شرطوں میں سے ایک شرط امام کی اقتداء میں نماز پڑھنا بھی ہے اور چوں کہ عرفات کے میدان
میں خیموں میں ٹھہرنے والے حجاج امام کے پیچھے نماز نہیں پڑھ پاتے؛ لہٰذا وہ خیمہ
میں رہتے ہوئے ظہر کی نماز ظہر کے وقت میں اور عصر کی نماز عصر کے وقت میں پڑھیں
گے....
ولو فقد شرط منہا یصلي کل صلاة في الخیمة علی حدة في وقتہا بجماعة أو غیرہا (غنیة الناسک: ۱۵۳)
دیگر ائمہ کے نزدیک خیمہ میں بھی
جمع بین الصلاتین کی اجازت ہے؛ اس لیے اگر کوئی شخص خیمہ میں جمع بین الصلاتین
کررہا ہو تو اس سے تعرض کرنے کی ضرورت نہیں۔
واللہ تعالیٰ اعلم
دارالافتاء
دارالعلوم دیوبند
৪।
جواب نمبر: 167166
Fatwa:360-371/N=5/1440
احناف کے نزدیک قرآن وسنت کی
روشنی میں صحیح یہ ہے کہ قصر مناسک حج میں سے نہیں ہے، یعنی: جو شخص حج میں شرعاً
مسافر ہو، وہی قصر کرے گا اور جو مسافر نہ ہو، وہ قصر نہیں کرے گا؛ یعنی: محض حج کی
وجہ سے قصر کا حکم نہیں ہوتا.
دار العلوم
دیوبند
৫।
عمدۃ القاری: (119/7)
"وقال اکثر اھل العلم منھم عطاء والزھری والثوری والکوفیون وابو حنیفۃ
واصحابہ والشافعی واحمد و ابو ثور لایقصر الصلوٰۃ اھل مکۃ بمنیٰ وعرفات اذا کانوا
حجاجا اتموا
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতী আব্দুল হাই নাটোরী
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন