জিজ্ঞাসা-১২৪৩৫:
একজন মিশন ফেরত কর্ণেল জানতে চেয়েছেন, তাঁর কাছে মিশনের টাকা পাশ বাবদ ১০% ঘুষ চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমার টাকার দরকার নাই। কিন্তু কোনো টাকা দিবো না। পরবর্তীতে বিল পাশ করে তাকে অনুরোধ
করা হয়, চা পানি খাওয়ার জন্য যেন কিছু টাকা
দেয়া হয়। তিনি জানতে চেয়েছেন, এই বাবদ টাকা দেয়া ঘুষ হবে কিনা? এবং তিনি টাকা দিবেন কিনা?
আমি বলেছি, আপনি যদি বাধ্য না হন এবং তারা যদি আবদার
করে সেক্ষেত্রে সামান্য কিছু টাকা সহানুভূতির দৃষ্টিতে দিলে ঘুষ হবে না ঠিক যেভাবে
আমরা হোটেল বয়দেরকে দিয়ে থাকি। যেহেতু আপনি ঘুষ দিতে শুরুতেই অস্বীকার করেছেন। এফসিতে এভাবে প্রায় সবাইকেই টাকা দিয়ে বিভিন্ন বিল পাস
করাতে হয়। এক্ষেত্রে করণীয় কি এবং বর্ণিত অবস্থায় আমার দেয়া জবাব শরীয়তের আলোকে
ঠিক আছে কিনা? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন। তারিখ: ১৯/০১/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা জিয়া ঢাকা থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, আপনার দেওয়া জবাব শরিয়তের আলোকে সঠিক হয়নি। কারণ উক্ত ব্যক্তি বেতনভুক্ত কর্মচারী। এর বাহিরে অতিরিক্ত এক টাকাও ঘুষের অন্তর্ভুক্ত,যে নামেই নিক না কেন? যেমন,
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেউই এটিকে ঘুষ বলতে চান না। তারা বরং এটিকে ৫%, ১০% অফিস খরচ, বখ্শিশ, চা-মিষ্টি, হাদিয়া এসব নামে অভিহিত করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দলিল:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
অর্থ: ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে-বুঝে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারককে উৎকোচ দিও না। সুরা বাকারা- ১৮৮
আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন,
«لَعَنَ اللهُ الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِيَ فِي الْحُكْمِ» অর্থ: বিচার-ফায়সালায় ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়ের উপরে আল্লাহ তা‘আলা লা‘নত করেছেন। তাখরিজ: মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৯০১১
দ্বিতীয় কথা হলো, কোন রকম চাহিদা ছাড়া, পূর্ব প্রতিশ্রুতি ব্যতিত যদি লেনদেন শেষ হওয়ার পর, কিছু দেয়, তাহলে হাদিয়া হতো( যেমন, আপনি হোটেল বয়ের কথা উল্লেখ করেছেন) আপনার বর্ণিত ছুরুতে হাদিয়া থাকছে না।
বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) যথার্থ বলেছেন, كانة الهدية فى زمن رسول الله هدية، واليوم رشوة. ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে উপঢৌকন হাদিয়া ছিল। আর এখন তা ঘুষ’। সূত্র: বুখারী, ‘হেবা ও তার ফযীলত’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৭
আর নিজের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঘুষ দিতে বাধ্য হলে এর বিধান সম্পর্কে আলহামদুলিল্লাহ ইতোমধ্যে আলবুরহানে জিজ্ঞাসা -২০৮ এবং জিজ্ঞাসা -২৫২ মাসয়ালাটি আলোচিত হয়েছে। প্রয়োজনে সেটা দেখা যেতে পারে।
শেষ কথা হলো, আপনার দেওয়া ফাতওয়া শরিয়তের সঠিক হয়নি, যে নামেই দেওয়া হোক না কেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন