জিজ্ঞাসা-১২৫১৩:
আসসালামু আলাইকুম ভাই। মৃত্যু ব্যক্তির পূর্বের নামাজ ২০ ওয়াক্ত ছুটে যায়। তা সন্তানগন কীভাবে আদায় করবে। দয়া করে সঠিক মাসয়ালাটি দিবেন। জাযাকাল্লাহ খয়রান।
তারিখ: ৩০/০৩/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা লুৎফর রহমান বাগেরহাট থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, রোজার মত নামাজের ফিদিয়া কুরআন-হাদিসে আসেনি, তবে (রোজার ফিদিয়া) কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে,
وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ
আর যাদের রোযা রাখার সামর্থ্য নেই তারা একজন মিসকীনের খানা সমপরিমাণ ফিদিয়া দিবে। সূরা বাকারা-১৮৪
এ আয়াতের উপর কিয়াস করে ওলামায়ে আহনাফ একই পরিমাণ বলেছেন,
( يُعْطَى لِكُلِّ صَلَاةٍ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ) كَالْفِطْرَةِ (وَكَذَا حُكْمُ الْوِتْرِ) وَالصَّوْمِ، وَإِنَّمَا يُعْطِي (مِنْ ثُلُثِ مَالِهِ) (الدر المختار-2/72
অর্থাৎ বিতরসহ (মোট ৬ ওয়াক্ত একদিনে) প্রতি ওয়াক্ত নামায হিসেব করে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য পৌনে দুই সের গম বা আটা অথবা এর বাজার মূল্য গরীব মিসকিনকে মালিক বানিয়ে দান করে দিতে হবে। অথবা প্রতি ওয়াক্তের বদলে একজন গরীবকে দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়াতে হবে। যা সদকায়ে ফিতির এর টাকা পরিমাণ হয়। সূত্র: ফতাওয়া শামী-২/৭২; মারাক্বিল ফালাহ-১/১৬৯ হবে।
সহজ কথায়, প্রতিটি নামায ও রোজার জন্য সদকায়ে ফিতর পরিমাণ টাকা গরীবকে দান করে দিতে হবে।
নোট: বর্তমানে একটি ফিতরার পরিমাণ হলো, ১০০টাকা।
সুতরাং আপনার প্রশ্নের আলোকে বিশ ওয়াক্তের জন্য (২০*১০০)=২০০০ টাকা যাকাত পাওয়ার হকদার (গরিব-মিসকিন) ব্যক্তিকে দিতে হবে।
- والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন