আসসালামু আলাইকুম।
মুহতারাম,আমার একটি মাসআলা জানা প্রয়োজন;শুধুমাত্র বাড়িভিটি থাকা এক পরিবারের বিবাহিতা তিন মেয়ে এবং ১৪ বছর বয়সী ২ জমজ ছেলে রেখে স্বামী মারা গিয়েছে,বর্তমানে পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ নেই।স্বামী ব্যবসায়ের একলাখ টাকা রেখে গিয়েছেন।ঐ বিধবা মহিলা একলাখ টাকা তার ভাইকে ব্যবসার জন্য দিলে,ভাই তাকে প্রতি মাসে ৫/৪/৩ হাজার টাকা আর কোন মাসে টাকা দেয়না।এভাবে ভাইএর কাছ থেকে টাকা নিয়ে সংসার চালানো বৈধ হবে কি- না? এ ছাড়া তার অন্য কোন উপায়ও নেই।
তারিখ: ৩১/০৩/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা শাহজাহান শেখ, কুমিল্লা থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, বাইয়ে মুদারাবা তথা একজনের শ্রম অন্যজনের অর্থ সম্মিলিত ব্যবসা:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ اشْتَرَكْتُ أَنَا وَسَعْدٌ، وَعَمَّارٌ، يَوْمَ بَدْرٍ فِيمَا نُصِيبُ فَلَمْ أَجِئْ أَنَا وَلاَ عَمَّارٌ بِشَىْءٍ وَجَاءَ سَعْدٌ بِرَجُلَيْنِ .
আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন সাদ (রা.), আম্মার (রা.) ও আমি গনীমাতের মালের ব্যাপারে অংশীদার হই (এই মর্মে যে, আমরা যা পাবো তা তিনজনে ভাগ করে নিবো)। আম্মার ও আমি কিছুই আনতে পারিনি। অবশ্য সাদ (রা.) দু’জন যুদ্ধবন্দী নিয়ে আসেন। তাখরিজ: ইবনে মাজাহ-২২৮৮; নাসায়ি-৪৬৯৭
এই হাদিসটি হলো মুদারাবার দলিল। ইসলামের দৃষ্টিতে ’একজনের অর্থ আরেকজনের শ্রম’ ভিত্তিতে ব্যবসা করা জায়েজ আছে। ফিকহের পরিভাষায় এটাকে বলা হয় ’মুদারাবা’। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায় লাভ হলে উভয়ে চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ ভাগাভাগি করে নিবে। আল মাউসুআতুল ফিকহিয়াহ বা ফিকাহ বিশ্বকোষ-৮ খণ্ড, ১১৬ পৃষ্ঠা; বাংলাদেশ ইসলামিক ল রিসার্চ এন্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার; জুন ২০১৬
বাইয়ে মুদারাবা দুটি পদ্ধতি আছে।
এক. জায়েজ পদ্ধতি:
যেমন টাকা প্রদানকারী এ কথা বলল যে, লাভের ৫০/৬০/৭০ পার্সেন্ট আমাকে দিতে হবে। এতে উভয় চুক্তিকারী সম্মত হল। তাহলে চুক্তিকৃত মুনাফা অর্থদাতা পাবে আর বাকিটা পাবে মুদারিব (শ্রমদাতা)। এ পদ্ধতিতে ব্যবসা করায় ইসলামে কোনো বাধা নেই।
দুই. নাজায়েজ পদ্ধতি:
টাকা বিনিয়োগকারী বলল আমাকে প্রতি মাসে ৩/৪/৫ টাকা দিতে হবে। লাভ-ক্ষতি যাই হোক না কেন। এ পদ্ধতি নাজায়েজ। সূত্র: বাদায়েউস সনায়ে ৫/৮৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১১/১৫৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৭৪
সারকথা হলো, আপনার প্রশ্ন বর্ণিত সুরতে প্রতি মাসে ৩/৪/৫ টাকা দেয় অথবা কোন মাসে না দেয়। এটা নাজায়েজ পদ্ধতি। বরং উভয়ে একটি লভ্যাংশ নির্ধারণ করে নিবে, অর্থাৎ কে কত পারসেন্ট লাভ পাবে এবং সেই অনুপাতে টাকা দিবে, তাহলে জায়েজ হবে।
- والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন