আসসালামু আলাইকুম।
দীর্ঘদিন হায়েজ চলতে থাকলে - রোজা রাখার বিধান কি? কুরআন ও সুন্নাহ এর আলোকে জানালে খুশি হবো।
তারিখ: ০১/০৪/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা মোঃ মহিববুল্লাহ, ঢাকা থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, হায়েজের সর্ব নিম্ন ও সর্বোচ্চ মেয়াদ নিয়ে ইমামদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যেমন,
لحيض عند الإمام الشافعي أكثره 15 يوماً، ولكنني كنت أحياناً وفي حال خفت الإفرازات حتى تصبح صفراء فاتحة جداً أغتسل عند عشرة أيام اتباعاً للمذهب الحنفي، ومنذ فترة قرأت على موقعكم الكريم: أن حديث: أقل الحيض 3 أيام وأكثره 10 أيام ـ
অর্থাৎ ইমাম শাফিয়ির মতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন আর হানাফি মাজহাবের মতে সর্বনিম্ন ১০ দিন আর সর্বোচ্চ ১০ দিন। সূত্র: হুকমুল আখজি বি মাজহাবিল হানাফিয়া ফিল হায়েজ -৩১৭৫৯৬ (ফতোয়া নং)
ا حدَّ لأكثَرِ مدَّة تحيضُ فيها المرأة؛ وهذا رُوي عن مالك، وحكاه ابنُ المُنذِر عن طائفةٍ مِن السَّلَف، واختاره ابنُ تيميَّة، والشوكانيُّ، والألبانيُّ، وابن عثيمين
قال ابن عبدِ البَرِّ: (رُوي عن مالك أنَّه قال: لا وقتَ لقليلِ الحيض ولا لكثيره... وأكثرُ الحيض عنده خمسة عشر يومًا، إلَّا أن يوجَدَ في النِّساءِ أكثرُ من ذلك، فكأنَّه ترك قوله خمسةَ عشرَ، وردَّه إلى عُرفِ النِّساء في الأكثر). ((التمهيد)) (16/71، 72).
অর্থাৎ ইমাম মালেক, ইবনে তাইমিয়া, শায়েখ আলবানি ও শায়েখ উসাইমিন রহ. এর মতে হায়েজ এর কোন সর্বোচ্চ মেয়াদ নেই। সূত্র: আততামহিদ-১৬/৭১-৭২; সিলসিলাতুল আহাদিস জয়িফা-৩/৬০৯
ফিকহি হানাফির দলিল:
আসার-০১
عن أنس رضي الله عنه قال: أدنى الحيض ثلاثة وأقصاه عشرة.
অর্থ আনাস রা. বলেন, মাসিক ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন সময় হল তিনদিন এবং সর্বোচ্চ সময় দশদিন।
নোট: [সুনান দারাকুতনি, হাদীস-৮০৮; সুনান দারিমি, হাদীস-৮৬৯, ৮৭১; বাইহাকি, আস সুনানুল কুবরা, হাদীস-১৫৪৫]
—ফিকহুস সুনান, হাদীস নং ২২৬
আসার -০২
عن عثمان بن أبي العاص الثقفي رضي الله عنه قال: الحائض إذا جاوزت عشرة أيام فهي بمنزلة المستحاضة تغتسل وتصلي
অর্থ: উসমান ইবন আবুল আস রা. বলেন, মাসিক ঋতুবতী মহিলা দশ দিবস অতিক্রম করলে তাকে অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাবে আক্রান্ত বলে গণ্য করা হবে। সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।
নোট:
(দারাকুতনি ও বাইহাকি। সনদ আপত্তিজনক নয়)। [সুনান দারাকুতনি, হাদীস-৮১৬]
হাদীসের ব্যখ্যা:
উসমান ইবন আবুল আস রা.র মতের অনুরূপ মত আনাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে। দারিমি তা সঙ্কলিত করেছেন।
—ফিকহুস সুনান, হাদীস নং ২২৮
আসার নং -০৩
সারকথা হলো, কোন মহিলার দশ দিনের বেশি হায়েজ চলমান থাকলে, প্রথম দশ দিন হায়েজ হিসেবে গন্য হবে, তারপর ইস্তেহাজা বা রোগ হিসেবে পরিগণিত হবে। সুতরাং দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি যথারীতি সালাত ও সিয়াম পালন করবে।
প্রথম দশ দিনের মধ্যে যে কয়টা রোজা করতে পারবে না, তা পরে কাজা বা আদায় করে নিবে। দলিল:
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
»كَانَ يُصِيْبُنَا ذَلِكَ, تَعْنِيْ الْحَيْضَ فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ وَلاَ نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلاَة»
“আমাদের যখন রক্তস্রাব হতো তখন আমাদেরকে শুধু সাওমের কাযা করার আদেশ দেওয়া হতো। কিন্তু সালাতের কাযা করার আদেশ দেওয়া হতো না।” তাখরিজ: মুসলিম-৩৩৫; বুখারি-৩২১
- والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন