জিজ্ঞাসা-১২৫৪৯:
আসসালামু আলাইকুম।
মুহতারাম, বারো বছরের ছেলে তারাবিহর নামাজের ইমামতি করতে পারবে কি? দলিল সহ জানালে খুশি হব।
তারিখ: ১৮/০৪/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
মাওলানা সাব্বির হোসাইন, সিলেট থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো,
اختلف الفقهاء في إمامة الصبي الذي لم يبلغ : فجاء في "الموسوعة الفقهية" (6/203-204(:
" جُمْهُورُ الْفُقَهَاءِ ( الْحَنَفِيَّةُ وَالْمَالِكِيَّةُ وَالْحَنَابِلَةُ ) عَلَى أَنَّهُ يُشْتَرَطُ لِصِحَّةِ الإْمَامَةِ فِي صَلاَةِ الْفَرْضِ أَنْ يَكُونَ الإِمَامُ بَالِغًا ، فَلاَ تَصِحُّ إِمَامَةُ مُمَيِّزٍ لِبَالِغٍ فِي فَرْضٍ عِنْدَهُمْ ؛ لأِنّها حَال كَمَالٍ وَالصَّبِيُّ لَيْسَ مِنْ أَهْلِهَا ، وَلأِنَّ الإِمَامَ ضَامِنٌ وَلَيْسَ هُوَ مِنْ أَهْل الضَّمَانِ
বালকের ইমামতি নিয়ে ফোকাহায়ে কেরামগণ মতভেদ রয়েছে যিনি এখনো বালেগ হয়নি।
জমহুর ফোকাহা অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ এর মতে, ফরজ নামাজের ইমামতির জন্য শর্ত হলো বালেগ হওয়া। তাদের নিকট ফরজ নামাজে বালেগ ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হবে না। কেননা ইমাম দায়িত্বশীল, নাবালেক দায়িত্বশীল নয়। সূত্র: আলমাউসুআতুল ফিকহিয়া-৬/২০৩,২০৪
দ্বিতীয় কথা হলো, ইমাম মালেক, ইমাম শাফি ও হাম্বল রহ এর মতে, ফরজ সালাত ব্যতীত অন্য সুন্নাত বা নফল নামাজে বুঝমান নাবালিকের ইমামতি জায়েজ আছে।
কিন্তু ফিকহি হানাফির এর মতে, নফল নামাজেও নাবালকের ইমামতি জায়েজ নেই। দলিল:
আসার নং-০১
رواه عبد الرزاق من حديث ابن عباس مرفوعا لا يؤم الغلام حتى يحتلم ، وقد أخرج المصنف في غزوة الفتح حديث
أخرجه عبد الرزاق 2/398 3847.
অর্থাৎ হজরত ইবনে আব্বাস রা হতে মারফু বর্ণনা। বালেগ হওয়া পর্যন্ত বালক ইমামতি করবে না। তাখরিজ: মুসান্নেফে আব্দুর রাজ্জাক-২/৩৯৮,৩৮৪৭
তাবেয়িদের মতামত-০২
لاَ يَؤُمُّ الْغُلاَمُ قَبْلَ أَنْ يَحْتَلِمَ فِي الْفَرِيضَةِ وَلاَ غَيْرِهَا
হযরত আতা ও উমর ইবনে আবদুল আযীয রাহ. থেকে বর্ণিত, তারা বলেন- নাবালক বাচ্চা ফরজ-নফল কোনো নামাজেই ইমামতি করবে না। তাখরিজ: মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ৩৫২৪
সারকথা হলো, আপনার প্রশ্নের আলোকে, ফিকহি হানাফির চূড়ান্ত মতে, ১২ বছরের ছেলে যদি বালক হয়ে থাকে, তাহলে নামাজ সহিহ হবে। আর যদি বালেগ না হয়ে থাকে হয়ে, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। সূত্র: হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৭৫; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৩৩১; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭৬
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন