জিজ্ঞাসা-১২৫৩১:
আসসালামু আলাইকুম। খিজির আলাইহিস সালাম
এর পরিচয়, বিশেষত তিনি কি নবী ছিলেন?
তিনি কি বর্তমানে জীবিত?
আর কখন তার মৃত্যু হবে
বিস্তারিত না লিখে পয়েন্টোকারে উত্তর দিলেও চলবে। মিসকিনকে দিতে হবে।
তারিখ: ১০/০৪/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
হাফেজ মাওলানা সিরাজুল হক ঢাকা থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, الخَضِرُ: هو العَبدُ الصَّالحُ الذي رحل إليه موسى عليه السَّلامُ ليَطلُبَ منه علمًا، وقد حدَّثنا اللهُ عن خبَرِهما في سورةِ الكَهْفِ.
অর্থাৎ তিনি একজন নেক বান্দা। যার কাছে হজরত মুসা এলেম শিক্ষা করার জন্য সফর করেছিলেন। যা আমরা সূরা কাহাফের মাধ্যমে জানতে পারি।
প্রশ্ন: ক। হজরত খিজির আ. নবি ছিলেন কি?
উত্তর: এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম এর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যেমন,
قال ابنُ الجوزيِّ: (هل كان الخَضِرُ نَبيًّا، أم لا؟ فيه قولان: ذكَرَهما أبو بكرِ بنُ الأنباريِّ، وقال: كثيرٌ مِنَ النَّاسِ يذهَبُ إلى أنَّه كان نبيًّا، وبَعضُهم يقولُ: كان عبدًا صالحًا) .
আল্লামা ইবনে জাওযি রহ. বলেন, খিজির আলাইহিস সালাম নবী ছিলেন কি, ছিলেন না এ বিষয়ে দুইটি মতামত আছে। আবু বকর ইবনুল আনবার রহ. বলেন, অনেক মানুষ এর মাযহাব হল তিনি একজন নবী আর কিছু লোকের মতে তিনি একজন নেক্কার বান্দা। সূত্র: তাফসিরে ইবনে জাওযি-৩/৯৭
وقال ابنُ حزم: (الخَضِرُ عليه السَّلامُ نَبيٌّ... قال اللهُ عَزَّ وجَلَّ حاكِيًا عن الخَضِرِ: وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي [الكهف: 82] ؛ فصَحَّت نُبُوَّتُه) .
অর্থাৎ ইবনে হাযম রহ. বলেন, হজরত খিজির আলাইহিস সালাম নবি ছিলেন। দলিল:
وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ذَٰلِكَ تَأْوِي
আমি নিজ মতে এটা করিনি। সূরা কাহাফ-৮২
وقال القُرطبيُّ: (الخَضِرُ: نَبيٌّ عند الجمهورِ. وقيل: هو عبدٌ صالحٌ غيرُ نَبيٍّ، والآيةُ تَشهَدُ بنُبُوَّتِه لأنَّ بواطِنَ أفعالِه لا تكونُ إلَّا بوَحيٍ. وأيضًا فإنَّ الإنسانَ لا يتعَلَّمُ ولا يتَّبِعُ إلَّا من فَوقَه، وليس يجوزُ أن يَكونَ فوقَ النَّبِيِّ مَن ليس بنبيٍّ. وقيل: كان مَلَكًا أمر اللهُ موسى أن يأخُذَ عنه مِمَّا حمله من عِلمِ الباطِنِ. والأوَّلُ الصَّحيحُ. واللهُ أعلَمُ)
অর্থাৎ ইমাম কুরতুবি রহ. বলেন, জমহুর এর নিকট হজরত খিজির আলাইহিস সালাম একজন নবি ছিলেন। সূত্র: তাফসিরে কুরতুবি -১৬/১১
প্রশ্ন: খ। হজরত খিজির আলাইহিস সালাম কি এখন জীবিত আছেন?
উত্তর: খ। এ বিষয়ে সঠিক, সত্য, চূড়ান্ত কথা হলো, তিনি তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর প্রেরিত হওয়ার পূর্বে। এটাই সত্য যে তিনি মারা গেছেন, জীবিত নেই। দলিল:
আয়াত নং-০১
Surah Al-Anbiya, Verse 34:
وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّن قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِن مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ
আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? সূরা আম্বিয়া-৩৪
আয়াত নং-০২
Surah Al-Ankaboot, Verse 57:
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। সূরা আনকাবুত-৫৭
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَرَأَيْتَكُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ فَإِنَّ رَأْسَ مِائَةٍ لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ الْيَوْمَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَحَدٌ ". فَوَهِلَ النَّاسُ فِي مَقَالَةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ـ إِلَى مَا يَتَحَدَّثُونَ مِنْ هَذِهِ الأَحَادِيثِ عَنْ مِائَةِ سَنَةٍ، وَإِنَّمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ الْيَوْمَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ " يُرِيدُ بِذَلِكَ أَنَّهَا تَخْرِمُ ذَلِكَ الْقَرْنَ. ذلك القرن.
আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার তাঁর শেষ জীবনে ইশার নামায আদায় করে সালাম ফিরাবার পর বললেনঃ আজকের এ রাত সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কি? আজ থেকে নিয়ে একশ’ বছরের মাথায় আজ যারা ভূ-পৃষ্ঠে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৪ (আন্তর্জাতিক নং ৬০১
সারকথা হলো, হযরত খিজির আলাইহিস সালাম আল্লাহর নবী ছিলেন। তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের আগে ইন্তেকাল করেছেন। বর্তমানে জীবিত নেই এটাই কুরআন সুন্নাহ এর সিদ্ধান্ত।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন