জিজ্ঞাসা-১২৫২৬:
আসসালামু আলাইকুম
মায়ের সোনা আছে ৫ ভরি৷ নাবালেগা দুই মেয়ের আছে৪ ভরি। যাকাত দিতে হবে? অন্য আর কোন সম্পদ নেই।
তারিখ: ০৮/০৪/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
হাফেজ মাওলানা নুরুল ইসলাম, দিনাজপুর থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, যদি সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩
দ্বিতীয় কথা হলো,কারো কাছে নিসাবের কম সোনা এবং নিসাবের কম রুপা আছে, কিন্তু যে পরিমাণ সোনা আছে তার মূল্য মজুদ রুপার সাথে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য হয় বা তার চেয়ে বেশি হয়। তাহলে সোনা-রুপার মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৯,১০৬৪৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩
তৃতীয় কথা হলো,কারো কাছে কিছু স্বর্ণালংকার আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এর যাকাত দিতে হবে। -রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩
নোট: বর্তমান বাজারে সাড়ে বায়ান্ন তোলার রূপার দাম (১৭১০×৫২.৫=) ৮৯,৭৭৫ টাকা
প্রশ্ন: ক। নাবালক/ নাবালিকা এর ওপর জাকাত ফরজ কিনা?
উত্তর: ক। নাবালকের সম্পদ/স্বর্ণ দুটো সুরত হতে পারে,
প্রথম সুরত: যদি দুটি মেয়েকে পিতা-মাতা শুধু ব্যবহার করার জন্য স্বর্ণ দিয়ে থাকে, তাহলে এর মালিক পিতা-মাতা। পিতা-মাতাকে নিয়ম অনুসারে যাকাত দিতে হবে।
আর কোন সম্পদের মালিক নাবালেগ হলে, তার ওপর যাকাত, হজ্জ ওয়াজিব নয়। দলিল:
وذهب أبو حنيفة رحمه الله إلى أن الزكاة لا تجب في ماله ، كما لا تجب عليه سائر العبادات ؛ كالصلاة والصيام ، غير أنه أوجب عليه زكاة الزروع وزكاة الفطر .
ومن جملة الموانع الصبي والجنون، حتى لا تجب الزكاة في مال الصبي والمجنون عندنا (المحيط البرهانى، كتاب الزكاة، لفصل العاشر في بيان ما يمنع وجوب الزكاة-3/233، 2/297، طحطاوى على مراقى الفلاح-587، النهر الفائق-2/202)
অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফার রহ এর মতে, নাবালেক উপর যাকাত ওয়াজিব নয়, অন্যান্য ইবাদতের মত ওয়াজিব নয়। যেমন নামাজ রোজা ইত্যাদি। সূত্র: মহিতুল বুরহানি-৩/২৩৩
ফিকহি হানাফির দলিল:
হাদিস নং -০১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْقُطَعِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَشِبَّ وَعَنِ الْمَعْتُوهِ حَتَّى يَعْقِلَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَذَكَرَ بَعْضُهُمْ " وَعَنِ الْغُلاَمِ حَتَّى يَحْتَلِمَ " . وَلاَ نَعْرِفُ لِلْحَسَنِ سَمَاعًا عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَرَوَاهُ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عَلِيٍّ مَوْقُوفًا وَلَمْ يَرْفَعْهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى قَدْ كَانَ الْحَسَنُ فِي زَمَانِ عَلِيٍّ وَقَدْ أَدْرَكَهُ وَلَكِنَّا لاَ نَعْرِفُ لَهُ سَمَاعًا مِنْهُ وَأَبُو ظَبْيَانَ اسْمُهُ حُصَيْنُ بْنُ جُنْدَبٍ .
মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া কুতা‘ঈ (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তিন ব্যক্তির উপর থেকে দন্ডবিধি রহিত করে দেওয়া হয়েছে, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, শিশু যতক্ষণ না সাবালক হয়, বেহুশ ব্যক্তি যতক্ষণ না তার হুঁশ ফিরে এসেছে। - ইবনে মাজাহ ২০৪১, ২০৪২
—জামে' তিরমিযী, হাদীস নং ১৪২৩ (আন্তর্জাতিক নং ১৪২৩)
তাহকীক: বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
হাদিস নং -০২
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الْمُبْتَلَى حَتَّى يَبْرَأَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَكْبَرَ " .
উছমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) .... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি হতে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে (অর্থাৎ যাদের ভাল-মন্দ আমল লেখা হয় না)। এরা হলোঃ
(১) নিদ্রিত ব্যক্তি- যতক্ষণ না সে জাগরিত হয়।
(২) পাগল ব্যক্তি- যতক্ষণ না সুস্থ হয় এবং
(৩) নাবালক ছেলে মেয়ে- যতক্ষণ না তারা বয়োঃপ্রাপ্ত হয়।
—সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৪৬ (আন্তর্জাতিক নং ৪৩৯৮)
তাহকীক: বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
সারকথা হলো, উক্ত মহিলার ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এর সাথে কিশোর নগদ টাকা-পয়সা থাকে তাহলে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে, আর যদি কোন নগদ টাকা পয়সা বা রুপা না থাকে, তাহলে তাহলে যাকাত দিতে হবে না।
আর দুই নাবালেগা মেয়ের ৪ ভরি স্বর্ণের উপর উপর যাকাত দিতে হবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ
আব্দুর রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন