জিজ্ঞাসা-১৩৬: আসসালামুয়ালাইকুম, আমার জিজ্ঞাসা হলো, ছাত্র জীবনে ছেলে মেয়ে অভিভাবকদের
অজ্ঞাতসারে, নিজেরাই বিবাহ সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে
পারলে তারা তা মেনে নেয়নি। ছেলে তার অভিভাবকের নিকট থাকে অন্যদিকে মেয়ে তার অভিভাবকের
নিকট থাকে। এবং মেয়েটির অন্যত্র বিবাহ হয়ে যায়। ছেলেটির সাথে মেয়েটির যোগাযোগের
সুযোগ না থাকায় তালাক ও দেয় নাই এমতাবস্থায় ছেলের জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে করণীয়
কি?
জবাব: ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আন্তরিকভাবে
দুঃখিত আপনি একবার প্রশ্ন করে কাংখিত জবাব না পেয়ে আবার প্রশ্নটি গ্রুপে
করেছেন। দেখুন, পবিত্র
কুরাআন ও হাদিসে প্রতিটি মানুষের জন্য
আলাদা করে বিধান নাজিল হয়নি। বরং মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে। তাই কোন মানুষের জন্য, কোন
প্রয়োজনে কোন মূলনীতি প্রয়োগ হবে, এটা কঠিক কাজ। হজরতে
ফুকাহায়ে কেরামগণ যদি আমাদের সেই মূলনীতি
পেশ না করতেন, আমরা অন্ধকাকে ঘুরপাক খেতাম। সুতরাং আমাদের
খুজে বের করতে সময় লাগে আর সময়ের অভাব তো আছেই।
যাই হোক, প্রথম কথা হলো, মেয়েটির প্রথমে যার সাথে
বিবাহ হয়েছিল। সে এখনও তারিই স্ত্রী আছেন। দ্বিতীয় বিবাহটি শুদ্ধ হয়নি। আপনি প্রথম
স্বামীর করণীয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। উনার জন্য তিনটি ছুরুত হবে পারে।
(ক) যদি সে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে
চাই; করতে পারবে; (যদি সুযোগ থাকে)
কেননা দ্বিতীয় বিবাহ শুদ্ধ হয়নি।
(খ) এখন সে যদি তাকে তালাক দিতে চায়, তাহলে সরকারিভাবে
তালাকের নোটিশ পাঠাবে।
(গ) দ্বিতীয় পদ্ধতিও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে সে তার কাছে যেকোন ভাবে সংবাদ পৌঁছাবে যে, সে তাকে তালাক দিয়েছে। সংবাদটি স্ত্রীকে জানালে তালাক কার্যকর হবে। উল্লেখ্য যে, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য কোন সাক্ষী উপস্থিত থাকা শর্ত নয়। তবে দুজন সাক্ষী রাখা মুস্তাহাব। সূত্র: শাওকানী, নায়লুল আওতা- ৬খণ্ড, ৩০০ পৃষ্ঠা; সুনানে আবু দাউদ-২১৮৬; ইরওয়া--২০৭৮
প্রশ্ন: আপনার
দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাহলে তো মনে মনে তালাক দিলেও তা বৈধ হবে যদিও তা উত্তম পদ্ধতি
হবে না।
উত্তর: প্রথম কথা
হল ইসলামের শরীয়ত শুধু জাহেরী আমলের উপর বর্তাবে, যেমন
কোন মুসলিম মুরতাদ হয়ে গেলে তার ওপর হদ প্রয়োগ হবে কিন্তু মনে মনে করলে, তাহলে
সেটা বিচার ইসলামী শরীয়াতের নয়, আল্লাহ তাআলা করবেন। দ্বিতীয়
কথা হল লোকদের সামনে তালাক দিলে তালাক হবে কিন্তু স্ত্রীর কাছে সংবাদ পৌঁছার পর এই
তালাক কার্যকর শুরু হবে যেমন ইদ্দত পালন করা। আর সাক্ষীর প্রয়োজন নাই তার দলিল হল
আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে ত একা একা তালাক দেন তাহলেও তালাক পতিত হয়ে যাবে এখানে সাক্ষীর
কোন প্রয়োজন নেই। আসলে বিষয়টি হলো আপনার স্ত্রীর সামনে হোক আর যেকোনো লোকের সামনে
হোক তালাক শব্দটি বলতে হবে।
সারাংশ
কথাটিই দাঁড়ালো যদি আপনার স্ত্রীর সামনে যদি তালাক দেন অন্য কোন লোক না থাকে তবুও
তালাক পতিত হবে,আর স্ত্রী যদি উপস্থিত না থাকে লোকদের সামনে তালাক
দেন তাহলেও তালাক হবে স্ত্রী র উপস্থিত থাকা জরুরী নয়। তবে স্ত্রী সংবাদটি জানার পর
তালাকের কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।
والله اعلم بالصواب
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন