*পানাহার/ খাবারের সুন্নত*
“হে বৎস ! ‘বিস্মিল্লাহ’ বল এবং ডান হাত দিয়ে খাও ! আর খাবার পাত্রের
যে অংশ তোমার সাথে লাগানো অংশ থেকে খাও”।–সহীহ, বুখারীঃ ৪৯৫৮
“শয়তান ঐ খাবারকে নিজের জন্য হালাল মনে করে যার শুরুতে ‘বিস্মিল্লাহ
বলা হয়নি”- সহীহ মুসলিমঃ ৩৭৬১
“যদি তোমার খাবারের লোকমা পড়ে যায় তবে তা থেকে ময়লা দূর করে তা খেয়ে ফেলবে; শয়তানের জন্য রেখে বে না”- সহীহ, মুসলিমঃ ৩৭৯৪
“রাসুল (সা) তিন আঙ্গুল দিয়ে খেতেন এবং খাওয়া শেষে আঙ্গুল চেটে খেতেন”-সহীহ মুসলিমঃ
৩৭৯০
“যখন তুমি খাবার খাবে আঙ্গুল চেটে খাও ; কেননা তুমি
জাননা কোন আঙ্গুলে বরকত আছে”-সহীহ মুসলিমঃ ৩৭৯৩
“রাসুল(সা) পান করার মাঝে তিনবার শ্বাস নিতেন”- সহীহ বুখারীঃ ৫২০০
“রাসুল (সা) কখনোই কোন খাবারের দোষ বের করে তা নিয়ে কথা বলতেন না। পছন্দ হলে
খেতেন,পছন্দ না হলে রেখে দিতেন”- বুখারীঃ ৪৯৮
“যে ব্যক্তি খাওয়ার পর ‘আল্লাহ প্রশংসা করে; অনুরূপ পান
করার পর আল্লাহ প্রশংসা করে-আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হন”-সহীহ মুসলিমঃ
২৭৩৪
“রাসুল (সা) দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন এবং দাঁড়িয়ে খাওয়া আরো বেশী
খারাপ ও দুষণীয়”-মুসলিমঃ ৭৭২
খাওয়ার আদব ও সুন্নত
১. জুতা খুলে খাবার খাওয়া। কেননা তার মধ্যে বেশী আরাম
রয়েছে। এমন নয় যে, জুতা পরে খাওয়া যাবেনা এবং গুনাহও নয়।
২. উভয় হাত কব্জী পর্যন্ত ধৌত করে খাওয়া।
৩. কুলি করা সুন্নত, যদি প্রয়োজন হয়।
৪. একজন আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দার মত বসে খাওয়া। হাদীসে
আছে (নবী সঃ) বাম পা উঠিয়ে, ডান পায়ের উপর বসতেন। অপর এক হাদীসে আছে নবী
(সঃ)উভয় পা উঠিয়ে বসার কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া উলামায়ে কেরাম থেকে বসার আরো দুটি
পদ্ধতি বর্ণিত আছে, এক, উভয় পা বিছিয়ে
বসা। দুই, ডান পা উঠিয়ে বাম পায়ের উপর বসা। সারকথা, নম্রতার সাথে বসা।
৫. বিনয়ী অবস্থায় সামনের দিকে ঝুঁকে বসে খাওয়া।
৬. জমিনে বসে খাওয়া উত্তম। চেয়ার টেবিলে বসে খাওয়া উত্তম
নয়।
৭. খাবার সামনে আসলে এ দোয়া পড়তে হয়।
آللهم بآرك لنآ فيمآ رزقتنآ وقنآ عذآب آنآر.
৮. খাওয়ার শুরুতে এ দোয়া আওয়াজের সাথে পড়া।
بسم آلله وعلى بركة آلله.
যাতে অন্যান্য লোকও শুনে পড়তে পারে। যদি শুরুতে এদোয়া পড়তে
ভুলে যায়, তবে যখন মনে পড়বে, তখন এই দোয়া পড়া।
بسم آلله آوله و آخره.
৯. কোনো বস্তুর সাথে হেলান দিয়ে বা ভর করে না খাওয়া। তবে
যদি অসুস্থ হয়, তাহলে খেতে পারবে।
১০. ডান হাত দিয়ে খাওয়া। প্রয়োজন হলে বাম হাত দিয়েও খেতে
পারবে।
১১. শারীরিক উপকার ও আল্লাহর হুকুম পালনের নিয়্যতে খাওয়া।
১২. তিন আংগুলি দ্বারা খাওয়া সুন্নত। প্রয়োজনে তিনের অধিক
ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৩. কয়েকজন একসাথে এক বর্তনে খায়, আর যদি খাবার একধরনের হয় তাহলে নিজের সামনে থেকে খাওয়া।
অন্য জনের সামনে থেকে না খাওয়া। যদি বিভিন্ন ধরনের হয় অথবা ফল হয় তাহলে
প্রত্যেকদিক থেকে খাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
১৪. কতেক আলেম লবন দ্বারা শুরু করা এবং লবনের মাধ্যমে শেষ
করা সুন্নত বলেছেন। কিন্তু যে হাদীসের উপর ভিত্তি করে তাহারা বলেন সে হাদীসটি موضوع.
১৫. খাবার প্লেট অথবা পাত্রের একপাশ থেকে খাওয়া। মাঝখানে
হাত না দেয়া। কেননা মাঝখানে বরকত অবতীর্ণ হয়।
১৬. খেজুর এবং এ জাতীয় খাবার যেমন, বিষ্কুট, মিষ্টি, ইত্যাদি এক সাথে দুটি করে না খাওয়া। বরং একটি করে খাওয়া।
১৭. এক লোকমা শেষ হওয়ার পূর্বে আরেক লোকমা না উঠানো।
১৮. অতিরিক্ত গরম খাবার না খাওয়া।
১৯. গরম খাবার ও গরম পানিতে ফুঁক দিয়ে ঠান্ডা না করা।
২০. যদি লোকমা পড়ে যায় তাহলে উঠাইয়া খাওয়া সুন্নত
২১. খাবারের মধ্যে দোষ না ধরা। যদি রান্নার মধ্যে দোষ ধরে
তবে অসুবিধা নাই, খেয়াল রাখতে হবে কারো মনে যেন কষ্ট না যায়।
২২. খাওয়ার সময় এমন কাজ না করা, যার দ্বারা অন্যের কষ্ট হয়।
২৩. খাওয়ার মাঝে এমন কাজে লিপ্ত হবেনা, যার দ্বারা কষ্ট হয়। এবং জুরুরী জিনিষের জন্য কষ্ট হয়।
২৪. অল্প ক্ষুধা বাকি থাকতে খাবার ছেড়ে দেওয়া। এতে করে হজম
শক্তি বাড়ে।
২৫. অংগুলি এবং পাত্র পরিষ্কার করে খাওয়া। (মানে চেটে
খাওয়া্) কেননা এর দ্বারা আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি শুকরিয়া প্রকাশ পায়।
২৬. শেষ হওয়ার পূর্বে এই দোয়া পড়া।
آلحمد لله آلذى آطعمنآ وسقآنآ وجعلنآ من آلمسلمين.
২৭. দস্তরখানা বিছাইয়া খাওয়া সুন্নত
২৮. দস্তরখানা উঠানোর পূর্বে নিজে না উঠবেনা।
২৯. দস্তরখানা উঠানোর দোয়া পড়া।
آلحمد لله حمدآ كثيرآ طييبآ مبآ ركآ فيه. غير مستغنى و لا مدع عنه
ربنآ.
৩০. খাবার শেষ হলে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়া সাবান
ইত্যাদি দ্বারা।
৩১. খাবার পর কুলি করা সুন্নত
৩২. দাঁত খিলাল করা।
৩৩. খাবার শেষে হাত ধোয়ার পর হুজুর (সঃ) তার হাত, মুখে মুছে নিতেন।
৩৪. খাবার শেষ করার পর কিছু তেলোয়াত ও জিকির করা।
৩৫. খাবার শেষ করার সাথে সাথে শুইবেনা। তাতে অন্তর শক্ত হয়ে
যায়।
৩৬. দাওয়াত বা অন্যের ঘরে খাইলে এই দোয়া পড়া।
آللهم آىطعم من ىطعمنى وآسق من سقآ نى.
৩৭. একই মজলিসে কয়েকজন খেতে বসলে, যার খাওয়া শেষ, সে আগে না
উঠা। এতে করে অপর জনের খেতে সমস্যা হয়।
৩৮. খাওয়ার আগে সামান্য পানি পান করা।
তিরমিজি ছানী ২য়ঃ-প্রথম কয়েক পরিচ্ছেদ থেকে একত্রিত
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন