জিজ্ঞাসা-১২৫৫০:
আসসালামু আলাইকুম।
মুহতারাম! আমরা বিভিন্ন সময়ে নিজের/ নিজেদের চাওয়া পাওয়া পাওয়ার ব্যাপারে দরবারে অনেক অনেক দোয়া -মোনাজাত- কান্নাকাটি করে থাকি কিন্তু দোয়া কবুল হয় না কেন। যদি কবুল হয়, তাহলে দেখি না কেন? কুরআন সুন্নাহ আলোকে সমাধান দিলে উপকৃত হতাম।
তারিখ: ১৭/০৪/২৩ ঈসায়ি/ইংরেজি
জনৈক মাওলানা বরিশাল থেকে।
জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
نحمده ونصل على رسوله الكريم اما بعد بسم الله الرحمن الرحيم
তাসলিম ও হামদ-সানার পর প্রথম কথা হলো, মুমিনের কোন দোয়ায় বৃথা যায় না, বিফলে যায় না। প্রতিটি দোয়ায় কবুল হয় যদি তা গুনাহর বিষয়ে না হয়।
দলিল:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ إِلَّا أَعْطَاهُ اللهُ بِهَا إِحْدَى ثَلَاثٍ: إِمَّا أَنْ يُعَجِّلَ لَهُ دَعْوَتَهُ وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفَ عنهُ من السُّوءِ مثلَها قَالُوا: إِذنْ نُكثرُ قَالَ: الله أَكثر-
‘কোন মুসলিম দো‘আ করার সময় কোন গুনাহের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দো‘আ না করলে অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা তাকে এ তিনটির একটি দান করেন। (১) হয়তো তাকে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় দুনিয়ায় দান করেন, (২) অথবা তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন (৩) অথবা তার মতো কোন অকল্যাণ বা বিপদাপদকে তার থেকে দূরে করে দেন। ছাহাবীগণ বললেন, তবে তো আমরা অনেক বেশী লাভবান হব। তিনি বললেন, আল্লাহ এর চেয়েও বেশী দেন’।তাখরিজ: বুখারি আদাবুল মুফরাদ-৭১০; আততারগিব-১৬৩৩; মুসনাদে আহমদ -১১১৩৩
দ্বিতীয় কথা হলো, মুমিন ভালো-খারাপ দুই অবস্থায় কল্যাণকর। সুতরাং রব যেটা করেন এটা আমাদের জন্য মঙ্গল। দলিল:
Surah Al-Baqara, Verse 216:
وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না। সূরা বাকারা-২১৬
عَنْ صُهَيْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ " .
সুহায়ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের অবস্থা ভারি অদ্ভুত। তাঁর সমস্ত কাজই তাঁর জন্য কল্যাণকর। মু’মিন ব্যাতিত অন্য কারো জন্য এ কল্যাণ লাভের ব্যাবস্থা নেই। তাঁরা আনন্দ (সুখ শান্তি) লাভ করলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, তা তাঁর জন্য কল্যাণকর হয়, আর দুঃখকষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্যধারন করে, এও তাঁর জন্য কল্যাণকর হয়। তাখরিজ: মুসলিম -৭২২৯
তৃতীয় কথা হলো, দোয়া কবুল না হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে যেমন হালাল খাবার না খাওয়া, সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজে নিষেধ না করা ইত্যাদি কারণে।
দলিল:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘একজন মানুষ লম্বা পথ সফর করেছে, ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। এরপর সে না ঘুমিয়ে রাতে নামাজ পড়ে এবং আল্লাহকে ডেকে ডেকে দোয়া করেন হে আল্লাহ! তুমি আমার গোনাহ মাফ কর। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, কাপড়চোপড় হারাম। তার সবকিছুই হারাম। সুতরাং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীরে, না ঘুমিয়ে সে যত মনোযোগ সহকারেই দোয়া করুক না কেন, আল্লাহর দরবারে তা কবুল হবে না।’ (মেশকাত : ২৭৬০)
عَن حُذَيفَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ وَالَّذِي نَفْسي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنْ المُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللهُ أنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَاباً مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُوْنَهُ فَلا يُسْتَجَابُ لَكُمْ رواه الترمذي، وَقالَ حديث حسن
হুযাইফাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ আছে! তোমরা অবশ্যই ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে, তা না হলে শীঘ্রই আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের উপর আযাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দু’আ করবে; কিন্তু তা কবুল করা। আহমাদ, তিরমিযী ২১৬৯
সারকথা হলো, মুনিনের কোনো দুআয় বিফলে যায় না, সুতরাং
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادْعُوا اللهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالإِجَابَةِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ لاَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ غَافِلٍ لاَهٍ
আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা আল্লাহর নিকট দু’আ কর কবুল হবে এই দৃঢ় প্রত্যয় রেখে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ উদাসীন ও অন্যমনস্কের হৃদয় থেকে দু’আ মঞ্জুর করেন না। তাখরিজ: তিরমিযী ৩৪৭৯, হাকেম ১৮১৭
তাই আসুন দৃঢ়চিত্তে মহান রবের নিকট নিজেদের আকুতিগুলো পেশ করি।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন